Home কাজলরেখা কাজলরেখা পর্ব ৩৮

কাজলরেখা পর্ব ৩৮

কাজলরেখা পর্ব ৩৮
তানজিনা ইসলাম

আঁধার বিছানার উপর হাঁটুতে থুঁতনি ঠেকিয়ে বসে আছে। চাদনী ওঁকে নিজের কক্ষে গিয়ে রেস্ট নিতে বলছে। আঁধার শুনছে না, ও চাদনীর রুমেই নিজের আসন গেঁড়ে বসেছে। ওরা দু’জন একরুমে বসে আছে ঠিকই, তবে নিজেদের মধ্যে কোনো কথা বলছে না। দু’জন কক্ষের দু’প্রান্তে বসে আছে। আঁধার কিছুক্ষণ পরপর হামি তুলছে। চাদনী কিছুক্ষণ পাখিদের দেখছে কিছুক্ষণ আঁধারকে। ছেলেটাকে একটুও ঠিক মনে হচ্ছে না ওর,অসুস্থ লাগছে। অথচ কালকেও দিব্যি সুস্থ দেখে এসেছিলো। মানুষকে কষ্ট দিতেই তো ভালোবাসে ও, নিজের মধ্যে এতোটা কষ্ট পুষে রাখলো কখন! চাদনী তিক্ত স্বরে বললো

-“কী অবস্থা করেছো নিজের?”
-“হু, কী করেছি? তোর কি আমার অবস্থা দেখার সময় আছে!”
-“কেন এমন করছো তুমি? কী হয়েছে তোমার? এভাবে কেন রিয়েক্ট করছো?”
-“নিজের কাজ কর।”
-“রুমে যাও আঁধার ভাই। একটু রেস্ট নাও। অসুস্থ লাগছে তোমাকে।”
-“ঘুম হয়নি তাই এমন মনে হচ্ছে। আর আমি এখানেই থাকবো।”
-“এখানে কেন থাকবে? এটাতো আমার রুম!”
-“এখন তোর আর আমার কী! আমার যেটা সেটা তোর,তোর যেটা সেটা আমার। তুই আমার রুমে যাবি বললে আমি ওই রুমে যেতে পারি, সমস্যা নেই।”
-“তুমি ঢাকায় যেভাবে রিয়েক্ট করতে, এখানেও এভাবে চাপাচাপি করবে আমার সাথে। এখানে কিন্তু সবাই আছে!”
-“ভালোই তো।সবার সামনে তোর সাথে টানাটানি করলে তোরই লজ্জা লাগবে। এমনিতেই তো আমার কাছে লজ্জার ল ও নেই। বিপদটা তোরই।”
মিষ্টি করে হাসলো আঁধার। চাদনী দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
আঁধার ঢোক গিলে বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“একটু ভাত নিয়ে আয় আমার জন্য। খিদে লেগেছে অনেক।”
-“এই সন্ধ্যায় ভাত খাবে? বড় আম্মু নাস্তা বানাচ্ছে তোমার জন্য।”
-“হু, ভাতের খিদে তো অন্য কিছু দিয়ে মেটে না। নাস্তা পরে খাবো।”
-“নিচে আসো।”
-“যেতে ইচ্ছে করছে না। আমার একটু ঘুম দরকার। পেটটাকেও শান্ত করা দরকার। নিয়ে আয় না কষ্ট করে।এটুকু সেবা কর। খারাপ লাগছে অনেক। কাল থেকে খাওয়া, ঘুম কিচ্ছু হয়নি আমার।
-“কাল থেকে কিছু খাওনি তুমি?”
-“নাহ।ইচ্ছে করেনি।ভালো লাগছিলো না কিছু।”
চাদনী উঠে দাড়ালো।আঁধারের দিকে অসম্ভব দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বেরিয়ে গেলো কক্ষ থেকে।
চাদনী নিচে গিয়ে দেখলো বর্ষা বেগম কিচেনে কাজ করছেন। কিচেনের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ডেকে বললো

-“বড় আম্মু ভাত আছে?”
-“ভাত কার জন্য! ভাত তো এখনো রান্না হয়নি।”
-“আঁধার ভাই খাবে বলছে।
-“এই সন্ধ্যায় ভাত খাবে!ওর জন্য নাস্তা বানাচ্ছি৷ ও যা যা খেতে পছন্দ করে সব।”
-“নাস্তা পরে খাবে বলছে।দুপুরে খায়নি, খিদে পেয়েছে।”
দুপুরে বেঁচে যাওয়া তরকারি ছিলো। চুলার উপর থেকে ফ্রাই প্যান সরিয়ে, বর্ষা বেগম ভাতের পাতিল বসালেন। ফ্রিজ থেকে বের করে তরকারিও গরম করে নিলেন। চাদনী হাতে হাতে সাহায্য করে দিলো।
ভাত রান্না শেষে, ভাত-তরকারি সবকিছু ট্রেতে নিয়ে দোতলায় গেলেন। চাদনী গেলো তার পিছু পিছু।
আঁধার বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে কিউব মেলাচ্ছিলো। অলস টাইমে বসে বসে এ কাজটা করে ও।
বর্ষা বেগম আর চাদনীকে কক্ষে ঢুকতে দেখে সোজা হয়ে বসলো ও।
আঁধারের ডান হাত কেটে গেছে।ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে রেখেছে হাতে। কাটা হাত নিয়ে খাওয়া যাবে না। ও বাচ্চাদের মতো আবদার করলো

-“খাইয়ে দাও আম্মু!”
বর্ষা বেগম ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। মুচকি হেসে বললেন
-“তুই না বললেও খাইয়ে দিতাম।হাত কেটেছে কী করে? মারামারি করেছিস কারো সাথে?”
-“না তো। অসাবধানতাবশত কেটে গেছে।”
বর্ষা বেগম আঁধারকে খাওয়াতে বসবেন তার আগেই,নিচ থেকে রাফিয়া বেগম ডাকাডাকি শুরু করলেন। একটু পর বাড়ির সবাই নাস্তা করবে, চা খাবে। উনি সেসব না করে কোথায় গিয়ে বসে আছে। আঁধার বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালো বর্ষা বেগমের দিকে। বললো
-“বাড়িতে আর কেও নেই কাজ করার জন্য? সব কাজ তোমাকেই করতে হবে? সব দায়িত্ব তোমার?”
-“দাঁড়া আমি বলে আসছি। আচ্ছা, চাঁদ বলে আসুক। চাদনী, একটু বলে আসোতো আমি যে আঁধার কে খাইয়ে দিচ্ছি। বেশিক্ষণ লাগবে না, আমি বানিয়ে দেবো সবকিছু।”
চাদনী বলতে গেলো, তবে ওর কথা না শুনে রাফিয়া বেগম ওঁকেই ঝেড়ে দিলো। এমনিতেই চাদনী ওনার চোখের বালি। দুচক্ষে সহ্য করতে পারেন না। চাদনী মুখ কালো করে এসে বর্ষা বেগমের পাশে দাঁড়ালো।

-“গালি খেয়েছো?”
-“তোমাকে ডাকছে বড় আম্মু, যাও।”
-“হ্যাঁ,যাও যাও।বিনা পয়সায় কাজের লোক পেয়েছে তো সবাই তোমাকে। সেই কাজটাই না-হয় করো।”
শ্লেষাত্মক স্বরে বললো আঁধার। বর্ষা বেগম মলিন হেঁসে বললেন
-“যাকে তার স্বামীই কোনো দাম দেয় না। উঠতে বসতে কথা শোনায়। সে বাড়িতে আর কি মর্যাদা পাবে বল তুই!”
রাফিয়া বেগম আরো জোরে ডাকাডাকি শুরু করলেন। আঁধার বিরক্ত হয়ে বললো
-“যাও। তোমার শ্বাশুরি ডাকছে।”
-“খাইয়ে দি তোকে।”
-“সমস্যা নেই, চাদনী আছে তো। ও খাইয়ে দেবে।”
চাদনী বড় বড় চোখ করে তাকালো৷ ইশারায় নাকচ করলো ওর প্রস্তাব। আঁধার ঠোঁট টিপে হাসলো। বর্ষা বেগম চিন্তিত স্বরে বললেন

-“ও ছোট মানুষ।তোকে কী খাইয়ে দেবে?”
-“এটা কী খুব কঠিন কাজ? অবশ্যই পারবে? পারবি না চাঁদ?”
চাদনী মুখ বাকালো। বর্ষা বেগম চাদনীকে দায়িত্ব দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। চাদনী কোমড়ে হাত দিয়ে বললো
-“এটা কী হলো?”
-“অসুস্থ মানুষকে খাইয়ে দিলে সওয়াব পাওয়া যায়।”
-“সওয়াব লাগবে না আমার।পারবো না আমি।”
বিছানার হেডবোর্ডের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসলো আঁধার। উদাস কন্ঠে বললো
-“ঠিক আছে তাহলে, রেখে আয়।”
-“খাবে না?”
-“বেন্ডেজ পেঁচানো হাতে কি করে খাবো? ঘুমাবো আমি, নিয়ে যা এসব।”
চাদনী হাত ধুয়ে এসে প্লেট হাতে নিলো। লোকমা ধরে বললো

-“মানুষকে খুব সুন্দর করে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতে পারো!”
-“লাভ কী? তুই তো ইমোশনাল হোস না৷তোর জন্য অন্য ট্রিকস এপ্লাই করতে হবে!”
-“কী?”
-“বলে দিলে তোর উপর প্রয়োগ করবো কি করে!চুপচাপ খাওয়াতো।”
চাদনী খুব ছোট লোকমা তুলে খাওয়াচ্ছে আঁধার কে। ও নিজেই খায় খুব কম। এক চামচ ভাত নেয় শুধু। সেভাবেই খায়। কিন্তু আঁধারের পোষালো না এতে, তপ্তস্বরে বললো
-“এভাবে কে খাওয়ায় ভাই। তুই পাখির আহার করিস বলে, আমার ব্যাপার তো এমন না। পেট ভরবে না এতে আমার।”
চাদনী মুখ লটকে বললো
-“আমি কাওকে কোনোদিন খাইয়ে দিয়েছি? আমি কী করে জানবো?”
-“এবার থেকে প্রতিদিন আমাকে খাইয়ে দিয়ে অভ্যাস করবি তুই। বলদ একটা! খাওয়াতে পর্যন্ত জানে না।”

আঁধারের খাওয়া শেষ হয়েছে। চাদনী ট্রে রেখে আসতে গিয়েছে নিচে।ও কক্ষে এসে বিছানায় বসতেই আঁধার একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলো ওর হাতে। বললো
-“এটা তোর!”
-“কী এটা?”
-“খুলেই দেখ।”
প্যাকেট থেকে একটা সাদা প্রিন্সেস গাউন বের করলো চাদনী। খুব সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াছ একটা লং গাউন। আঁধারের চয়েস আছে বলতে হবে। চাদনী অবাক হয়ে বললো
-“তুমি আমার জন্য সাদা গাউন এনেছো? এটা আমার?”
-“নাহ। অর্পিতার জন্য এনেছি। ওঁকে দিয়ে আসি কী বলিস? বলদ একটা!”
চাদনী পাংশুটে মুখে বললো
-“আমি সাদা ড্রেস পরি না আঁধার ভাই।”
-“পরবি এখন থেকে। কিউট লাগবে এটাতে তোকে! চাচ্চু কি যেন বলে, হুম ডিজনি প্রিন্সেস টিয়ানার মতো।”
চাদনী মলিন হেঁসে বললো

-“নাহ। বাবা তো আমাকে মিথ্যা স্বান্তনা দেয়। এটা পরলে নির্ঘাত আমাকে কালির ড্রামের মতো লাগবে। আমার কালো রং আরো ফুটে উঠবে। তখন সবাই লজ্জা দেবে আমাকে, তোমাকেও!”
আঁধার অতিষ্ঠ হয়ে তাকালো। চাদনী বারংবার খালি অতীত নিয়ে খচা দেয়। আঁধারের ভালো লাগে না। এই দুনিয়ার কারোরই নুজের দোষের কথা শুনতে ভালো লাগে না। তেমন আঁধারের বেলায়ও, ও যতবারই এসব ভুলতে চায় চাদনী মনে করিয়ে দেয়। আঁধারের খারাপ লাগে। মেয়েটা কে ও যা তা শুনিয়েছে। বন্দুকের গুলি আর কথার আঘাত কখনো ফিরিয়ে আনা যায় না। আঁধারও ফিরিয়ে নিতে পারে না। তবে আত্মসংযম তো করা যায়। ভুল করলে কী তার মাফ পাওয়া যায় না। কেন চাদনী সে সুযোগ দেয় না ওঁকে!
-“আর বলিস না চাদনী। বারবার খালি এসব বলতেই থাকিস! প্লিজ, আমি আর শুনতে পারছি না। আমার দোষগুলো আর কতবার দেখিয়ে দিবি আমাকে! রাগ করে বলেছি ভাই,মন থেকে কিছুই বলিনি।”

-“আমি কী করে শুনেছি!”
-“আর কতোবার মাফ চাইবো বল? সরি বলেছি না। হিসাব করেছিস,কতোবার ক্ষমা চেয়েছি তোর থেকে। এখন পায়ে ধরতে হবে?”
-“বললেই পায়ে ধরবা? তোমার ইগো তোমাকে আমার পা ধরতে দেবে?”
-“পায়ে ধরলেই তুই আমাকে ছেড়ে যাবি না? ডিভোর্স চাবি না? কথা দে।”
-“সেটা কখনোই হবে না। তোমার ইগো জানি না আমি! তোমাকে ছোটবেলা থেকে দেখছি না! আমার অবশ্যই ডিভোর্স লাগবে। এতো অপমানের দাগ নিয়ে আমি তোমার সাথে থাকতে পারবো না।
আঁধার দূরত্ব নিয়ে বসে ছিলো চাদনীর থেকে। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকলো চাদনীর দিকে। তারপর ধীরে এক হাত বাড়িয়ে চাদনীর পায়ের পাতা মুঠো করে চেপে ধরলো। অথচ ও এতটাই ধীরে পায়ে হাত দিলো যে চাদনী পা সরানোর সুযোগ পেলো না।
আঁধার শক্ত করে চেপে ধরলো। চাদনী টলমলে দৃষ্টিতে তাকালো আঁধারের দিকে। আঁধার ওর চোখে চোখ রেখে গভীর স্বরে বললো

-“আই এম সরি চাদনী।সরি ফর এভরিথিং। আমি জানি হাজারবার সরি বললেও তোর হৃদয়ের দাগ মুছবে না কোনোভাবেই। এতোটাই কষ্ট দিয়েছি আমি তোকে। তোর ক্ষমা করতে হবে না। আমি তোকে মহান হতে বলছি না। মানুষের এতো মহত্ত্ব মানায় না!এতো অপমান ভোলা সহজ না। ভুলিস না তুই। শুধু তুই আমার সাথে থাক। আমাকে ছেড়ে যাস না। আমি থাকতে পারবো না রে। তোর কাছে কিসের ইগো!”
-“আ আঁধার ভাই। আর ইউ ওঁকে! ”
তুতলে বললো চাদনী। ওর নিজের চোখ দু’টোকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এ বড়ই অবিশ্বাস্য ঘটনা। আঁধার মলিন হাসলো। জিন্সের পকেট থেকে একটা রূপালি পায়েল বের করলো। চাদনীর পা টেনে ওর কোলে নিলো। চাদনীর পায়ের গোড়ালিতে নুপুরটা পরিয়ে দিয়ে, এটিটিউড নিয়ে বললো
-“তুই কী মনে করেছিস,তোর পা ধরবো আমি? হাহ! এতো সোজা? পায়েল পরানোর জন্য পা টেনেছিলাম। আকাশ পাতাল ভেবে নেওয়ার দরকার নেই।”
আঁধার মুখে বললো ঠিকই।কিন্তু চাদনীর মনে হলো আসলেই আঁধার ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্যেই ওর পা ধরেছে। আঁধার ছেড়ে দিলো ওর পা, চাদনী নিজের কাছে টেনে আনলো। নুপুরে হাত দিয়ে বললো

-“এটা…
-“সুন্দর না।কিউট! গাউন কিনতে গিয়েছিলাম, তখন এটা দেখে মনে হলো তোর পায়ে ভালো মানাবে। উমমমম,,তোর গোল্ড লাগবে চাদনী?”
-“না, আমি গোল্ড পরিনা। ভালো লাগে না আমার।”
আঁধার ওর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো
-“তোর মোবাইল দে।”
-“কেন?”
-“কী কী করেছিস দেখবো!চব্বিশ ঘন্টা আমার নজরের বাইরে ছিলি তুই।ব্লক মেরেছিলি আমাকে, বেয়াদব।”
-“তোমার আমাকে সন্দেহ হয়?”
-“তোরে আমি বিশ্বাস করেছি কোনদিন! বলেছিলাম না তোকে, আমার কাছে তোর কোনো প্রাইভেসি নাই।”
চাদনী বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো

-“এক্ষুনি না সরি বললা!”
-“তো? সরির সাথে মোবাইলের কানেকশন কী?আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি তোর মোবাইল নিবো না, তুই ব্লক খোল। কোথায় আমার নাম তুই তোর পাসওয়ার্ডে দিবি, তা না করে ব্লক লিস্টে রেখেছিস!”
-“শখের তো আর কমতি নাই আধার ভাই।”
চাদনী নিজের মোবাইল নিয়ে ব্লক খুলতে খুলতে বললো। সব জায়গা থেকে ব্লক মেরেছে ও আঁধারকে। আনব্লক করতে সময় লাগলো কিছুটা। আঁধার টান টান হয়ে শুয়ে পরলো বিছানায়। আদেশ ছুঁড়ে বললো
-“এসিটা ছেড়ে দে।”
চাদনী এসি ছেড়ে দিলো। পরপরই আঁধার আবার আদেশ করলো
-“ব্ল্যাঙ্কেট পরিয়ে দে। এটাও বলতে হয়।”
ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে ব্ল্যাঙ্কেট পরিয়ে দিলো চাদনী। কক্ষের বাইরে বেরোতে যাবে তার আগেই আঁধার আবার চিল্লিয়ে বললো

-“এই তুই কই যাচ্ছিস? তোর কাজ শেষ হয়নি। মাথা ব্যাথা করছে আমার। মাথা টিপে দে।”
-“গলাটা টিপে দি তোমার?”
-“পা টিপে দিলে কিছু মনে করবো না। পুরো গায়ে ব্যাথা আমার।”
চাদনী ধুপধাপ পা ফেলে আঁধারের শিয়রে এসে বসলো। মাথায় হাত রাখতেই আঁধার ঘুমঘুম স্বরে বললো
-“মাথা ব্যাথার দোয়া পড়ে ফু দে। অসম্ভব ব্যাথা করতেছে!”

কাজলরেখা পর্ব ৩৭

চাদনী দোয়া পড়ে ফু দিলো। আঁধার ঘুমিয়ে গেলো। ঘুমন্ত আঁধারকে পৃথিবীর সবচেয়ে ইনোসেন্ট মানুষ মনে হয় চাদনীর। একদম শান্তশিষ্ট, কোমল। কোনো রাগ, ইগো, এটিটিউড,চিল্লাপাল্লা কিচ্ছু নেই। চাদনী মায়াময় দৃষ্টিতে তাকালো। আচ্ছা, ছেলেটা যে একমাস ধরে এতো সিরাম মাখলো গ্লাস স্কিনের জন্য, একদিনেই তো তার দফারফা করে ছেড়েছে। সেটার জন্য আফসোস হচ্ছে না এখন ওর? কতটা মলিন হয়ে গেছে ওর মুখটা। দুনিয়ার ক্লান্তি জেঁকে বসেছে যেন! চাদনী হাত বুলিয়ে দিলো ওর মুখে।

কাজলরেখা পর্ব ৩৯