এমপি তামিম সরকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯২
কায়নাত খান কবিতা
” সবাই বিয়ের পর হানিমুনে যায়, পরিবার পরিকল্পনা করে, স্বামী_স্ত্রী পাশাপাশি ঘুড়ে, আর আমি??!”
খুব জোড়ে বই বন্ধ করে পঞ্চ পান্ডবের দিকে তাকায় সুবহা!!
”এডমিশনের প্রিপারেশন নিচ্ছি, তাও বউ ভাতের দিন! এখনো রেজাল্টের খবর নেই! আর এই শয়তান সরকার, জীবনটা তেজ পাতা করে দিলো!”
” সহমত ভাবি!”
জোড়ে জোড়ে চেঁচিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে সুবহা! কাল বিয়ে হলো, আর আজকে সকাল থেকে তামিম তাকে এবং পঞ্চ পান্ডবকে পড়াতে বসিয়েছে, তাও চারজন শিক্ষক দ্বারা! হিসেব অনুযায়ী আজকে সুবহার রিসেপশন হওয়ার কথা! কত স্বপ্ন তার! সুন্দর করে সাজবে, শয়তান সরকারের সাথে ম্যাচিং করে ড্রেস পড়বে, কিন্তু না!! সারা রাত ডিস্টার্ব করে, ভোর বেলা থেকে সুবহাকে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রেখেছে, তামিম! সাথে পঞ্চ পান্ডবকে ও!!
” কই ভাইয়ের বিয়াতে নাইচ্চা নাইচ্চা কোমর ব্যাথা করমু, সেখানে চেয়ারে বইসা বইসা মানজার হাড্ডি ক্ষয় করতাছি! বা*লের জীবন!”
” সহমত সাকিব্বাহ!! বুকে আয়!”
” ধুর বেডা! তোর শরীর দিয়ে ঘামের গন্ধ বের হয়! ভাগ এনতে!”
” বোমমমমা!”
কালা মানিক নিজের স্কেল নিয়ে সাকিবকে মারতে যাবে এমন সময় সুবহা চোখ বড় বড় করে তাদের দিকে তাকায়!!
সাথে সাথে সাকিব এবং মানিক ঠান্ডা হয়ে বসে! আর বাকি তিনজন চুপচাপ বসে তাদের কান্ড দেখতে থাকে!! চারজন শিক্ষক ও চুপচাপ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে! সাকিব আগেই ওয়ার্নিং দিয়েছে, যদি তাদের বেশি ডিস্টার্ব করা হয়, তাহলে নিজের হাতের স্পেশাল বো’ম দিয়ে উড়িয়ে দিবে! তাই শিক্ষকরা ও চুপচাপ থাকে! আরশিনগরে তামিমের গোল্ডেন চাপাতির পাশাপাশি সাকিবের বো’ম ও বিখ্যাত খুব!
ছয় শয়তান একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকায়! তারপর কিছু একটা ইশারা করে!! তাদের মতিগতি দেখে যে কেউ বলে দিবে মাথায় শয়তানী বুদ্ধি চলছে!!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
” আমি ওয়াশরুমে যাবো মিস!”
সুবহা হঠাৎ করে তার শিক্ষকে জানায় সে ওয়াশরুমে যাবে! কিন্তু শিক্ষক তাকে অনুমতি না দিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে! কারণ তামিম বলে গেছে মর’লে ও যেনো কেউ জায়গা থেকে উঠতে না পারে!! শিক্ষক সুবহাকে অনুমতি দিচ্ছে না দেখে সাকিব উঠে দাড়ায়!!
”’ এ মাহির আমার বো’মডা দে তো রে!”
” না! না! আপনি যান ম্যাডাম!”
সাকিবের কথায় কাজ হয়!! ম্যাডাম যেতে দেয় সুবহাকে!! সুবহা ও উঠে সুন্দর মতো সোজা তামিমের স্টাডি রুমে চলে যায়!! যেখানে বেশ কয়েকজন নেতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছিলো তামিম!!
সুবহা গিয়েই সোজা তার রুমে ঢুকে পড়ে! সুবহা আসাতেই সবাই চোখ অন্য দিকে করে ফেলে! কারণ তামিমের কড়া নির্দেশ সুবহার দিকে কেউ তাকাবে না!! সুবহাকে এভাবে আসতে দেখে তামিম ও একটু বিচলিত হয়! কারণ সুবহা তো সচারাচর এভাবে আসে না!
” শামসু ভাই?”
” জে ভাবি-মা!”
” সবাইকে বাইরে যেতে বলেন! আপনার ভাইয়ের সাথে কথা আছে!”
শামসু তামিমের দিকে তাকায়! শামসু তাকাতেই তামিম হাতের ইশারা করে সবাইকে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, এক এক করে সবাই বাইরে চলে যায়!!
সবাই বাইরে যেতেই সুবহা দরজা লাগিয়ে দেয়! তারপর সোজা তামিমের কোলে গিয়ে বসে!! তামিম বুঝতে পারে না সুবহার হলো-টা কী?
” তামিম..!”
” জ্বি পরী!”
” আই লাভ ইউ! ”
তামিম একটু ভ্রু কুঁচকে তাকায় সুবহার দিকে! সকাল সকাল তার বউ এতো প্রেম দেখাচ্ছে! বিষয়টা আসলেই সন্দেহের!! ।।।
তামিম কোনো কথা বলছে না দেখে সুবহা তার দিকে বেচারির মতো মুখ করে তাকায়!!
” ডোন্ট ইউ লাভ মি অ্যানিমোর? ”
তামিম সুবহাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে!!
” তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা পরিমাপ করা যাবে না সকাল!”
” আপনি আমাকে এতো ভালোবাসেন? ”
” খুবব!”
” তাহলে বিয়ের পরের দিন এভাবে পড়াচ্ছেন কেন?”
তামিম বুঝতে পারে এতো সকালে সুবহার ভালোবাসা দেখানোর আসল কারণটা কী!!
” ফাঁকিবাজ রে!””
সুবহা নিজের হাত শক্ত করে ফেলে তামিমের পি’ঠে কিল ঘু’ষি মা’রার জন্য, কিন্তু পরক্ষণেই রাগ নিয়ন্ত্রণে করে ফেলে! এখন রাগলে চলবে না! তামিমকে পটাতে হবে!!
” ফাঁকিবাজ হই, আর যায় হই, আপনারই তো!”
তামিম বুঝতে পারে আজকে তার বউ তাকে ফাসিয়েই ছাড়বে! দিন দিন ফাঁকিবাজ তো হচ্ছেই, সাথে মহা বদজাত ও!
” মুডে আছো না-কি বউ? করবো ১৯/২০? রাতে মন ভরেনি?!””
তামিমের কোল থেকে উঠে দূরে দাঁড়ায় সুবহা! তামিম এমনকি রাতে তাকে ঘুমাতে দেয়নি! তার উপরে যদি এখন মুডে চলে আসে, আজকে আর স্টাডি রুম থেকে বের হওয়া যাবে না!
” মাথায় সারাদিন কী ১৯/২০ ঘোড়ে?”
” শুধু ঘোড়ে না সকাল! যদি জানতে পারতা, আমার মাথায় তোমাকে নিয়ে সারাদিন কী কী চলে, লজ্জায় সামনে আসতে পারতা না!”
” লুচ্চু সরকার!”
” কীহহহ!”
সুবহা তামিমের স্টাডি রুম থেকে দৌড়ে বাইরে চলে আসে! আর তামিম হাসতে থাকে! একটা মেয়েই আছে যখন তখন তামিমকে হাসাতে পারে! তার মুখ দেখলে তামিমের মন ভালো হয়ে যায়!
তামিম নিজের ল্যাপটপে মন দিতেই সুবহার টেক্সট আসে তার ফোনে!
” যোগ্য পাত্রী হারালে, কাঁদতে হবে আড়ালে!”
তামিম বুঝে যায় এই মেয়ে এতো সহজে দমে যাওয়ার পাত্রী নয়! তার উপরে তারই তো বউ! একটু আকটু গুন তো তার ট্রান্সফার হবেই! তামিম ফোন নিয়ে সুবহার টেক্সটের রিপ্লাই পাঠিয়ে দেয়! এবং আবার ও মনোযোগ সহকারে কাজ করতে থাকে!
তামিমের টেক্সট আসার সাথে সাথে সুবহা খুশি মনে টেক্সট দেখতে থাকে!
” কানের নিচে চ’ড় পড়লে, বদমাইশি বের হয়ে যাবে!”
প্রচন্ড রাগে ফুলতে থাকে সুবহা! শয়তান সরকার তাকে পাত্তা দিচ্ছে না! কাল এতো আয়োজন করে বিয়ে হলো আর আজকে থেকে অবহেলা!! সুবহা ঠিক করে তামিমকে এর উচিত শিক্ষা দিতেই হবে!
গুনে গুনে ঠিক দেড় ঘন্টা পর আবার ও তামিমের ফোনে টেক্সট আসে! টেক্সট আসার সাথে সাথে তামিম বুঝে যায় এটা সুবহার টেক্সট! পরপর তিন -চারটা টেক্সট আসতেই থাকে!
তামিম অপেন করার সাথে সাথে দেখে সুবহা লাল পাতলা শাড়ি পড়ে আয়নাতে পোজ দিয়ে দাড়িয়ে কয়েকটি ছবি তুলে তামিমকে পাঠিয়ে দিয়েছে!
” মাথা নষ্ট, মনে কষ্ঠ, বউ ছাড়া ভালো লাগে না!”
” বুঝি নাই ভাই!”
শামসুর কথা শুনে তামিম সামনে তাকায়! তার সাথে যে দলের এতো জন রয়েছে সেটা প্রায় সে ভুলেই গিয়েছিল! ল্যাপ্টপ অফ করে তামিম উঠে দাড়ায়,
” ভিষণ বউsick, বউsick লাগছে আমার! সবাই বাড়ি যান!”
নেতারা যে যার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো! বউsick আবার কোন রোগ? আগে কখনো তো এ রোগের কথা শুনে নি! নেতারা যে যার মতো যেতে থাকে! আর তামিম রোমান্টিক মুড নিয়ে নিজেদের রুমের দিকে যেতে থাকে! এতো শক্ত হওয়া ঠিক হয়নি তার! হাজার হলে ও কাল বিয়ে হলো, আজ সুবহাকে এতো প্রেসার দিচ্ছে! মন খারাপ তো হবেই!
তামিম রোমান্টিক মুড নিয়ে তাদের দরজার সামনে দাড়িয়ে পিন টাইপ করতে থাকে! দরজা খোলার সাথে সাথে শাহরুখ খানের মতো দু-হাত বাড়িয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সুবহার নাম নিতে নিতে!
” সুবহহহহহা, মাই ডারলিং…..কীরে?”
চোয়াল শক্ত করে সোজা হয়ে দাড়িয়ে পড়ে তামিম! কারণ তার বেডে সুবহা নয়! বরং তার পঞ্চ পান্ডব যে যার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে-বসে আছে! আর তামিম হাত বাড়িয়ে ঢুকতেই বেআক্কেলের মতো তার দিকে সকলে তাকিয়ে থাকে!
” আমার বউ কই?”
পঞ্চ পান্ডব একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকায়! তারপর যে যার মতো বই মুখের সামনে ধরে মনোযোগী ছাত্রের মতো পড়তে থাকে!
তামিম বুঝতে পারে কুছ তো গরবর হে! সুবহা ছবি পাঠিয়ে গায়েব! আর পঞ্চ পান্ডব তার বিছানায়! পুরোটাই সুপরিকল্পিত প্ল্যান!
তামিম রাগে ফুলতে থাকে! তার পর পাঞ্জাবির হাতা উপরে উঠিয়ে জুতো খুলে জাতে নেয়!
” ভাই ক্ষেপেছে রে! পালা শা’লার ভাইরা!”
মাহিরের চিৎকারে পাঁচ জন উঠে যে যার মতো রুমের এখানে ওখানে চলে যায়! তামিমের রুম বিশাল বড় হওয়াতে খুব সহজেই দৌড়ে এপাশ থেকে ওপাশে যাওয়া যায়! তামিম জুতা নিয়ে সামনে যেতেই সকলে ছোটাছুটি শুরু করে দেয়!
” আজকে হাতের কাছে পেয়ে নেই তোগো!”
” ভাই আমাগো কোনো দোষ নাই! সব দোষ ভাবি মার! ‘
” মিথ্যে কথায়য়য়য়য়য়য়!”
সাকিবের কথাতে দ্বিমত পোষণ করে চেচিয়ে উঠে সুবহা! সকলে মিলে প্ল্যান করে শেষ মেষ তাকে ফাঁসানো হচ্ছে?
কাবাট থেকে বের হয়ে এসে সোজা দাড়িয়ে পড়ে সুবহা! একদম তামিমের গা ঘেঁসে দাড়ায় সে!
” ওরা আমার মাথায় বদবুদ্ধি দিয়েছে বেবি! আমার কোনো দোষ নেই! ”
তামিম সুবহার মাথা থেকে পা অব্দি সুক্ষ্ম নজরে পরখ করে! এভাবে সেজে সুবহা কীভাবে সবার সামনে আসলো?
” সব কয়টা রুম থেকে বাইর হো!”
তামিম বলতে দেরি, কিন্তু সকলের বের হতে দেরি নেই! এক এক করে সকলে তামিমকে সালাম দিয়ে যেতে থাকে! সকলে যাওয়ার সাথে সাথে সুবহা ও পিছনের দিকে পা বাড়ায়! তামিম যেহেতু বলেছে সকলকে বের হতে সেহেতু হয়তো তাকে ও বলেছে বের হতে! তাই সুবহা ও চলে যেতে নেয়!
কিন্তু তার একদম পিছনে পড়তেই হাতে টান পড়ে সুবহার!
” তুই থাক! বাকিরা যাক!”
পঞ্চ পান্ডব বুঝে যায় আজকে তাদের ভাবি-মার কপালে শনি আছে! কোনো কথা না বলেই সকলে বেরিয়ে পরে! আর সুবহা ভয়ে ঘামতে থাকে!
সকলে বেরিয়ে যেতেই তামিম দরজা অফ করে দেয়! আর সুবহার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে! সুবহার ভয়ে কদম পিছিয়ে যেতে থাকে!
” তা…!”
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই সুবহার কোমর জাপ্টে ধরে তামিম!
” তামিম!”
” কোনো কথা বলো না সকাল!”
এমপি তামিম সরকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯১
সুবহা চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে, তামিম সুবহার শাড়ির আঁচল কাঁধ থেকে নিচে ফেলে দেয়! ! তারপর নিজের মুখ গুঁজে দেয় সুবহার উন্মুক্ত গলাতে! চোখ বন্ধ করে ফেলে সুবহা!
” পাগলকে আর কত পাগল বানাবি পরী?”
” তাম…!”
” নো মোর ওর্ডার পরী! ফিল মাই লাভ!”
