এমপি তামিম সরকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯৩
কায়নাত খান কবিতা
” তাম…!”
” ইসস! নো মোর ওর্ডার পরী! ”
তামিম সুবহার উন্মুক্ত গলায় মুখ গুঁজে দেয়! এ যেনো এক মহোনীয় নে’শায় ডুবে যেতে থাকে তামিম! যেখানে মানুষ বিয়ের কিছু দিন পরই আর ঘরের বউকে তেমন একটা পাত্তা দেয় না, নিজের বউ ছাড়া বাকি সকল নারী আর্কষণীয় লাগে, সেখানে এক বউকে দুই-বার বিয়ে করার পর ও তার প্রতি যেনো অবসেশনই কমছে না তামিমের! বার বার বাহানা খুঁজতে থাকে সুবহার কাছে যাওয়ার! ঘনিষ্ঠ হওয়ার! তামিম বিন্দু পরিমাণে সুযোগ ও হাত ছাড়া করে না সুবহার কাছে যাওয়ার!! যেখানে সুবহা সেখানে তামিম আর সেখানেই ১৯/২০!
তামিম যখন সুবহার মাঝে সুখ খুঁজতে ব্যস্ত ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ে কেউ! বিরক্তিতে দরজার পাবনে তাকায় তামিম!
” শা’লার জিন্দেগী!!! “
মোটামুটি বিরক্তি নিয়ে দরজার সামনে যায় তামিম! আর সুবহা ঠোঁটে ঠোঁট চিপে হাসি থামায়! এখন আসলেই বিপদ! কানের নিচে পড়বে তার!
দরজা খুলতেই আয়েশা সরকারকে বাইরে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তামিম! আয়েশা সরকার তামিমের টিশার্টের বেহাল দশা দেখে ভ্রু কুঁচকায়!সাথে সাথে তামিম নিজের টিশার্ট ঠিক করে ফেলে!
” বেয়াদবি নিয়েন না আম্মা! একটু এক্সোসাইজ করতাছিলাম! ”
” এখন?”
” জ্বি!”
আয়েশা সরকার আর কথা বাড়ায় না! তামিম সরকার কখনো কী করবে, সেটা একমাত্র সেই ভালো জানে!
” সুবহা মা আছে?”
” সুবহা..!”
তামিম কিছু বলার আগেই পিছন থেকে সুবহার কন্ঠ ভেসে আসে! সে রীতিমতো তামিমকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে পরে!
” জ্বি মা!”
” ফ্রী আছোস ছেমড়ি? একটু নিচে আয় তো!”
” জ্বি মা, আমি একদম ফ্রী! চলেন!”
তামিম পাশ থেকে বেশ বড় বড় চোখ করে তাকায় সুবহার দিকে! সবে মাত্র তামিম ১৯/২০ করার প্রিপারেশন নিচ্ছিল ঠিক তখনই তার মা এসে বাঁধা সৃষ্টি করলো, তার উপরে বউ ও এক পিস! মায়ের সাথে নাচতে নাচতে চলে গেলো!
প্রচন্ড ক্ষেপে যায় তামিম! সুবহার এই রোমান্সে বার বার বাঁধা দেওয়া তার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না! তামিম ঠিক করে কিছু একটা করতে হবে! না-হলে এই জন্মে আর বাপ ডাক শোনা হবে না তার! বউ ছোটো বলে অনেক ছাড় দিয়ে ফেলেছে!
—- সকাল পেরিয়ে দুপুর এবং দূপুর পেরিয়ে রাত বিকেল হয়ে যায়! কিন্তু তামিমের কোনো দেখা পাওয়া যায় না! সুবহা বার বার কল দিয়ে ও তামিমকে ফোনে পায় না! এক গাদা টেক্সট দিয়ে রাখে, কিন্তু তামিম সিন করে না! নিজেই নিজের কাজে খুব অনুতপ্ত হয় সুবহা! এভাবে তামিমকে রাগানো ঠিক হয়নি তার! সুবহা আবার ও কল দেয় তামিমকে যদি ধরে!
” কী সমস্যা? বার বার কল দিয়ে ডিস্টার্ব করছো কেন?”
খুব রেগেই সুবহাকে কথা গুলো বলে তামিম! ঠিক সেদিন রাতের মতো! যেদিন তামিম তাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেছিলো! চোখ ভিজে আসে সুবহার!
” আপনি কী রাগ করেছে তামিম?”
” সেটা জেনে তুমি কী করবা! এনজয় ইউর ফ্রীডম! ”
লাইন কেটে দেয় তামিম! সুবহার কোনো কথায় শুনে না সে! সুবহা বার বার কল দেয় তামিমকে, কিন্তু সে ধরে না! পরক্ষণেই সুবহা মাহিরকে কল দেয়! দিয়ে জানতে পারে তামিমের মুড আজকে সাত আসমানে! কেউ কথা বলার মতো সুযোগ পাচ্ছে না! সাকিব ও ঝাড়ি খেয়ে দৌড়ে নিজের জীবন বাচিয়েছে, এতোটাই রেগে আছে তামিম!
মানিকের কথা শুনে সুবহা বুঝতে পারে, সম্পূর্ণ দোষ তার! স্বামী তো একটু ভালোবাসায় চেয়েছিলো! এটা তো দোষের কিছু না! সব সময় সব কিছু ঠিক নয়! মাঝে মাঝে হালকা বাড়াবাড়ি ও একটা সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে!
সুবহা প্রচন্ড হীনমন্যতায় ভোগে! তামিম কখনো তার সাথে এভাবে কথা বলে না! পরী, সকাল ছাড়া কখনো ডাকে না! চোখ দিয়ে অশ্রু গাড়িয়ে পরে সুবহার! সে ঠিক করে আবার ও কল করবে তামিমকে! সব কিছু ঠিক করবে!
” বাড়ি কখন আসবেন?”
” আসবো না!”
” কেন?”
” আমার ইচ্ছা! বার বার কল দিয়া ডিস্টার্ব করিস না তো ছেমড়ি!”
আবার ও সুবহার কল কেটে দেয় তামিম! সুবহার সাথে যেনো কথা বলার ইচ্ছে টুকু নেই তার! সুবহা ও ফোন রেখে দেয়! তামিম তো তার সাথে কথায় বলতে চায়, কী করবে সে?
” পার্টি অফিস”
নিজের চেম্বারে চুপচাপ বসে থাকে তামিম! একটার পর একটা সিগা’র খেতেই থাকে! একটা শেষ হচ্ছে তো আরেকটা ধরাচ্ছে! ভয়ে তার সাথে কেউ কথা বলার মতো সুযোগ পাচ্ছে না! সাকিব নিজের মুখের বেভাস কথার ফলে একটুর জন্য মা’র খেতে খেতে খাইনি! দৌড়ে পালিয়েছে! কিন্তু বাকিরা পারেনি! চুপচাপ সোফাতে বসে থাকে! যে যার মুখের দিকে বার বার দেখে, আর চুপচাপ বসে থাকে!
তামিম ও একটার পর একটা সিগা’র খেতেই থাকে! মন যখন অশান্ত, তখন সিগা’রই একমাত্র ভরসা! সিগা’র খেতে খেতে তামিম টেবিলে থাকার তার আর সুবহার ছবির দিকে তাকায়! একজন আরেকজনের দিকে কতটা আবেগ নিয়ে তাকিয়ে আছে! যে কেউ দেখে বলে দিবে ভালোবাসা ভরপুর!!
তামিমের পুরো মনোযোগ অন্য দিকে চলে যায়! সুবহা কেন তাকে বুঝে চায় না? কেন তার ভালোবাসায় ভেসে যেতে পারে না! নিজের প্রতি এক আকাশ সমান আক্ষেপ হয় তামিমের! তাকে কী একটু মন থেকে ভালো বাসতে পারে না সুবহা? কেন বার বার পালিয়ে যায়! কেন পুরোপুরি ধরা দিতে চায় না তার কাছে?
হঠাৎ পার্টি অফিস কেঁপে উঠাতে তামিমের ধ্যানের ১২ টা বাজে! বেশ জোড়েই কেঁপে উঠে পার্টি অফিস! তামিমের চেয়ার ও নড়ে উঠে! তার চার পান্ডব এবং শামসু ও মাটিতে পড়ে যায়!!
” মানজার হাড্ডি শেষ রে! বা’লের ভুমিকম্প! ”
সকলে এক এক করে উঠে মানিককে ও উঠায়! সাইডে বসে থাকার ফলে বেশ জোড়েই কোমরে লাগে তার! সকলে উঠে দাড়াতেই আবার ও বিল্ডিং কেঁপে উঠে! আবার ও তারা নিচে পড়ে যায়! তামিম কোনো রকম নিজের ঝোল সামলে নেয়!
” ভাই এমনে তো ভূমিকম্প হয় না! তাইলে কী কেউ? ”
মাহিরের কথাতে তামিম একটু নড়েচড়ে উঠে! এভাবে তো ভূমিকম্প হয় না! নিশ্চয়ই কেউ বো’ম ব্লা’স্ট করেছে! রাগে ক্ষেপতে থাকে তামিম! উঠে নিজের ব্রেসলেট উপরে উঠায়!
” মাহিরররর… চা-পাতি দে!”
তামিম বলার সাথে সাথে মাহির তার হাতে চাপা’তি দিয়ে দেয়! তামিম যেহেতু তার গোল্ডেন চাপা’তি হাতে নিয়েছে সেহেতু আজকে আর কারো রক্ষা নেই!
হাতে চাপা’তি নিয়ে রেগে নিচে নামতে থাকে তামিম! পাশে তার লোকরা ও থাকে! যে যার মতো হকিস্টিক হাতে নিয়ে নেয়! আজকে একটা ফাটাফাটি হবেই!
প্রচন্ড রেগে রাস্তায় নামতেই তামিম সহ সকলের মুখ হা হয়ে যায়! প্রত্যেকে যেনো ভূত দেখেছে!কারেন্টের শক লেগেছে তাদের মনে হয়! একদম ভূত দেখার মতো দাড়িয়ে পড়ে!
তামিমের পার্টি অফিসের নিচের রাস্তায় তার খোলা জীপের সামনে হেলায় দিয়ে দাড়িয়ে আছে সুবহা! সাথে বো’মা সাকিব! লাল জামদানী পড়ে, চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে চোখে তামিমেরই কালো চশমা, একদম অ্যাকশন মুখির হিরোইনদের মতো লাগছিলো সুবহাকে! পাশে সম্পূর্ণ কালো পোশাক ধারি সাকিব! একদম বডিগার্ডের মতো! তাদের দেখে মনে হচ্ছে, সুবহা হিরোইন এবং সাকিব তার এসিস্ট্যান্ট!!
তামিম নিচে আসতেই সুবহা সাকিবের দিকে তাকিয়ে হাত বাড়ায়! আর সাকিব তার হাতে একটা বো’ম দিয়ে দেয়!
” ছেমড়ি, করস কী?”
” তোকে যমদুয়ারে পাঠাবো তামিম সরকার! ”
” আরে ছেমড়ি… আহহহহহহ!”
তামিম তার পুরো কথা শেষ করার আগেই সুবহা তামিমের পায়ের কাছে একটা সিম্পল বো’ম নিক্ষেপ করে! যার কালো ধোঁয়ার ফলে মাটিতে পড়ে যায় তামিম সহ বাকি পাঁচ জন! সকলের মুখ শরীর কালি দিয়ে ধরে যায়, এবং তামিমের চুল গুলো সামনে দাড়িয়ে পড়ে! একদম বাঁদরের মতো লাগছিলো তামিমকে! আর বাকিদের চোরের মতো!
সুবহা চুপচাপ তামিমের দিকে তাকিয়ে থাকে! আর তামিম মাটিতে বসে সুবহার দিকে! কেউ কিছু বলে না! কিছু ক্ষণ পর সুবহা তামিমের সামনে গিয়ে দাড়ায়! এবং তার দিকে হাত পেতে দেয়!
” বাড়ি যাবেন তো এবার?”
তামিম বাঁধ্য ছেলের মতো উঠে দাড়ায় সুবহার হাত ধরে! তারপর নিজের দিকে তাকায়! একদম জঙ্গল থেকে উঠে আসা আদি মানব লাগছিলে তাকে!
” তুই তো আমাকে ফকির বানাইয়া ছাড়বি ছেমড়ি! শেষ মেষ বো’ম দিয়ে স্বামীর অফিস উড়িয়ে দিতে গেলি!”
” আপনার যা ব্যাংক ব্যালেন্স আছে, ১৪ গোষ্ঠী বসে খেলে ও শেষ হবে তামিম সরকার! নাটক বাদ দিয়ে বাসায় চলেন! কাজ আছে!”
তামিম একটু শক্ত মুখে তাকায় সুবহার দিকে!
” কী কাজ?”
” খেলা হবে!”
