Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৫

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৫

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৫
কায়নাত খান কবিতা

” তোরে আমি হারাইতে দিবো না সকাল! সারাজীবন লুকিয়ে রাখবো!”
” আপনি যেই ভয়ংকর লোক! হারিয়ে তো শান্তি পাবো না!”
” শা’লার জিন্দেগী! তোরে আমি মানুষ করতে পারলাম না!””
সুবহা উঠে তামিমের চুল ধরে খুব শক্ত করে!
” আহহ! কিছু কইলেই মা’রে! ”
” শয়তান সরকার! আপনার সাত জন্মের ভাগ্য আমার মতো মেয়ে পেয়েছেন!”
তামিম সুবহার কোমর ধরে তাকে নিজের কাছে নিয়ে নেয়
” কথাটা সত্যি! আই লাভ ইউ সকাল!”
” আই হেট ইউ! ”
” চলবে!”

তামিম পুরো সকাল বাসাতেই থাকে সুবহার সাথে! একদম আঠার মতো চিপকে থাকা যাকে বলে! সুবহা যেখানে যেখানে যায় তামিম ও তার পিছু নেয়! একদম কড়া নজর যাকে বলে! শেষমেষ বাধ্য হয়ে সুবহা তামিমকে তার চেম্বারে পাঠায়! কিন্তু তামিম ও কম কিসে! ফুল বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ অন করে রাখে! একটু করে কাজ করে আর সুবহাকে চোখে চোখে রাখে! অপর প্রান্তে তামিম চলে যাওয়ার পর সুবহার বাদরামি বেড়ে যায়! সে পড়াশোনা বাদ দিয়ে নিজের মন মতো সারা সরকার বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” কী করো মা!”
কিচেনে গিয়ে আয়েশা সরকারকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে সুবহা!
” থাই স্যুপ বানায়! তোকে বিকেলে খেতে হবে! ”
” আচ্ছা মা, উনার কি পছন্দ খেতে? মানে সব থেকে বেশি কি পছন্দ করে?”
” হাঁসের মাংস! তামিমের খুব পছন্দ! ‘
আয়েশা সরকার বলার সাথে সাথে সুবহা ফ্রিজের সামনে চলে যায়! এক এক করে সব গুলো ফ্রিজে হাঁসের মাংস খুজতে থাকে! কিন্তু সব কিছু থাকার পর ও হাঁসের মাংস খুজে পায় না!
” মা, নেই তো মাংস এখানে! ”
” আইয়ুব কে বলছি দ্বারা, এনে দিবে!”
” নাহ! আমি উনাকেই বলছি! সন্ধ্যার সময়ই তো চলে আসবে জানি!”
” তামিম আনবে মাংস! দেখ বলে আনে কি-না! ”

সুবহা সোজা নিজের রুমে চলে যায়! তামিমকে ফোন দিয়ে হাঁসের মাংস আনতে বলবে! যেহেতু তার পছন্দের, সেহেতু সে নিজেই আনুক! সংসার করা তো শিখতে হবে! সুবহা কল করে তামিমকে! কিন্তু প্রথমবার কল ধরে না তামিম! তারপর আবার ও কল দেয় সুবহা!
” বউ সরি, জীপে আছি প্রথমবার তোমার কল ধরতে পারিনি!”
তামিমের কথা শুনে একটু আবেগি হয়ে পড়ে সুবহা! জীপে থাকলে তো কলের সাউন্ড ও শোনা যায় না! সেখানে তার কল ধরতে না পারায় তামিম সরি বলছে! আসলেই স্বামী তামিম সরকার মারাত্মক সুন্দর! ভয়ংকর রমকের সুন্দর!
” শোনেন, আসার সময় হাসঁ আইনেন তো!”’
” কীহহ? শুনতে পায় নি!”
” হাস আইনেন স্বামী! ”
” আচ্ছা বউ!”

সুবহা কল কেটে দেয়! আর তামিম মফিসকে গাড়ি দাড় করাতে বলে!
” কী হয়ছে ভাই? হঠাৎ দাড় করায়তে কইলেন ক্যালা?”
” তোর ভাবি প্রথম বার কিছু চাইছে রে সাকিব! জীপ ঘোরা! ”
তামিম তার পঞ্চ পান্ডবদের নিয়ে বেরিয়ে পরে! আর অন্য দিকে সুবহা অপেক্ষা করতে থাকে, তামিম হাস নিয়ে আসলে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াবে তাকে!
এভাবে প্রায় সন্ধ্যার ধার ধার হয়ে যায়! কিন্তু তামিমের আসার কোনো খবর নেই! সুবহা কয়েকবার কল করে ঠিকই কিন্তু তামিম সেটা ধরে না! তাই কোনো উপায় না পেয়ে সুবহা আইয়ুবকে দিয়ে হাঁস আনিয়ে রান্না করে ফেলে! এবং রান্না শেষে হল রুমে আয়েশা সরকারের সাথে বসে গল্প করতে থাকে! পাশে তানভীর সরকার ও থাকে! সে ও সুবহার সাথে গল্প করতে থাকে! কালকের সমস্ত ঘটনা তাকে বলতে থাকে! তামিম কীভাবে পুরো দেশ অচল করে দিয়েছিল শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যায় সুবহা! মাঝে মাঝে তার এই পাগল স্বামীটাকে সে চিনতে পারে না!
সময় তখন ৬:২৩ মিনিট! তামিমের জীপ সরকার বাড়ির ভিতরে ঢুকে! জীপ থেকে নেমেই সে সুবহাকে জোরে জোরে ডাকতে থাকে!

” সকাল…এই সকাল…বাইরে আসো! ”
তামিম ষাঁড়ের মতো গলা ফাটিয়ে ডাকে সুবহাকে! হল রুল থেকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল তার ডাক! সুবহা উঠে বাইরে চলে যায়! তামিমের এমন ভাবে চেঁচানো দেখে আয়েশা সরকার এবং তানভীর সরকার ও বাইরে যেতে থাকে!
সুবহা বাইরে যেতেই তামিম খুশি মনে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়!
” দেখো বউ তিন ট্রাক ভর্তি বাঁশ আনছি তোমার জন্য! ”
সুবহা ঘাড় বাঁকিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে! তার শয়তান সরকার তিন ট্রাক ভর্তি বাঁশ এনেছে তার জন্য! কিন্তু সে তো হাস আনতে বলেছিল, তাহলে বাঁশ কেন?
সুবহা কিছু না বলে হতভম্বের মতো চুপচাপ তামিমের দিকে তাকিয়ে থাকে!
” কিন্তু এতো গুলো বাঁশ তুমি কী করবা বউ?”
চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে সুবহা! কি বলবে কিছু খুঁজে পায় না!
” ভাই ভাবির ভালোবাসা দেখছোস রে শা’লার ভাই রা? ”
সাকিবের কথা শুনে সকলে তার দিকে তাকায়!

” ভাবি বাঁশ চাইছে বইলা, ভাই আরশিনগরে সব বাঁশ কেটে ছাপা করে দিলো! আহা কী প্রেরেম!”
” কথাডা ঠিকই কইছোস তুই! মাগার, ভাবি মা এতো বাঁশ দিয়া করবো ডা কী?”
মাহিরের লজিক পূর্ণ কথা শুনে সকলে একটু চিন্তায় পরে যায়! আসলেই তো এতো বাঁশ দিয়ে সুবহা করবে টা?
” যেখানে আমাগো গল্পই লজিক ছাড়া, সেখানে এতো লজিক দিয়া কথা কইসনা! মান সম্মানে লাগে!”
” হো, সাকিব ঠিক কইছোস, বাদ দে!”
পঞ্চ পান্ডব চুপচাপ সুবহা তামিমের দিকে তাকিয়ে থাকে! আয়েশা সরকার এবং তানভীর সরকার ও এসে দাড়ায় তাদের পিছনে! সুবহা তখন ও চুপ! কিন্তু তার গাল দুটো মোটামুটি লাল!
” কী হলো বউ কইলা না তো?”
” কীহহ?”
” এতো বাঁশ দিয়া কী করবা?”
” আপনার পিছনে ভরবো! ”

একদম মুখে তালা পড়ে যায় তামিমের! ভাগ্যিস কেউ কাছে নেই তাদের! না-হলে লজ্জায় মাথা কেটে যেতো তার!
সুবহা রাগ করে হনহনিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে যায়! তামিম এখনো বুঝলো না তার বউ রাগ কেন করলো?
” কামডা কী হইলো? ভাবি রাইগা গেলো কেন?”
” মনে হয় আরেক ট্রাক বাঁশ লাগতো!”
সাকিব এবং মাহির তামিমের কাছে চলে যায়! তারা কেউ বুঝলো না সুবহার রাগের কারণ কী? তামিম আয়েশা সরকারের কাছে চলে আসে!
” কাহিনি কী হইলো আম্মাজান? আপনার মেয়ে রেগে গেলো কেন? বাঁশ কী কম পড়লো?”
তামিমের কথা শুনে আয়েশা সরকার একটু জোরে হেঁসে উঠে! আর তানভীর সরকার খুব কষ্ট করে নিজের হাসি নিয়ন্ত্রণ করে! তামিমের বোকামির উপরে সবাই হাসলে ও তার হাসা যাবে না! আব্বাজান হাসলে সে খুবই লজ্জা পাবে!
আয়েশা সরকার তামিমের হাত ধরে!

” সুবহা মা, তোকে হাঁস আনতে বলেছিল বাপ! হাঁস! বাঁশ নয়!”
আয়েশা সরকারের কথা শুনে পঞ্চ পান্ডব নিজের হাসি থামাতে পারে না! সেই ছোটোবেলা একটা বিজ্ঞাপন দেখেছিল তারা! যেখানে স্বামীকে হাঁস আনতে বলার পর সে বাঁশ নিয়ে হাজির হই! তামিমের সাথে ও ঠিক তাই হলো! সুবহা হাঁস আনতে বলেছিল আর সে তিন ট্রাক বাঁশ নিয়ে হাজির হয়!
” শা’লার ভাই রা!”‘
” ভাই ক্ষেপেছে রে পালা শা’লার ভাইরা!”
তামিম নিজের জুতো খুলতে থাকে! আর তার জুতো খুলতে দেখে পঞ্চ পান্ডব পাঁচ দিকে দৌড় লাগায়! আজকে আর কারো রক্ষা নেই! এতো বড় লজ্জা তামিম সুবহার সামনে যাবে কীভাবে বুঝতে পারে না!
” বাবা জান, আপনি যান, বউয়ের রাগ ভাঙ্গান! ”
” কিছু কইলেই তো মারে আব্বাজান!”

তামিমের কথা শুনে তার বাবা-মা এবার না হেসে থাকতে পারে না! যার ভয়ে সকলে কাপে! সে কিনা একটা এক রত্নি মেয়ের ভয়ে আতঙ্কে থাকে! বিয়ের পর যে বাঘ ও বিড়ালে পরিনত হয় সেটার সব থেকে বড় প্রমাণ চা-পাতি সরকার!
তামিম চুপচাপ ভিতরে চলে যায়! সুবহার রাগ ভাঙাতে হবে! বউ তার ৫’৪ হলে কী হবে রাগ ১০’৫! তামিমের মতো মানুষ ও নিরুপায় তার বউয়ের সামনে!
” কর্তা!”
” জ্বি গিন্নি!”
” আপনে আর তামিম সেদিন রাতে গেছিলেন কই?”
তানভির সরকার কিছু একটা চিন্তা করতে থাকে! তারপর আয়েশা সরকারের হাত চেপে ধরে!
” ভালো স্বামী হওয়ার ট্রেনিং দিচ্ছিলাম তাকে গিন্নি!”
আয়েশা সরকার খুব অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে তানভীর সরকারের দিকে!
” আমার এখন ও বিশ্বাস হয় না কর্তা! আপনার মতো মানুষ এতো নিরহ হয়ে গেলো!”
আয়েশা সরকারের কথা শুনে তানভীর সরকার মুচকি হাসে!
” আপনার জন্য শুধু নিরহ! ভেজা বেড়াল ও হয়ে যেতে পারি গিন্নি!”

খুশি মনে আয়েশা সরকার বাড়ির ভিতরে চলে আসে! আর তানভীর সরকার তখন ও বাইরে দাড়িয়ে থাকে!
” আপনাকে কাছে রাখার জন্য যদি সারাজীবন মিথ্যা ও বলতে হয়, আমি তাতে ও রাজি আয়েশা! ”
তানভির সরকার নিজের চোশমা খুলে ফুঁ দিয়ে আবার ও পড়ে ফেলে!
” আয়েশা রে আয়েশা! তোরে কাছে রাখার জন্য তানভীর শুধু একটা না, একশোটা মিথ্যা কথা ও কইতে পারে! সংসার সুখি হয় মিথ্যার গুনে! যদি সে স্বামী বউয়ের কথা শুনে! ”
— নিজের ঘরে চুপচাপ বসে থাকে সুবহা! আজকে যা হলো এরপর তামিমের খবর আছে খুব! সুবহা গাল ফুলিয়ে চুপচাপ বসে থাকে! পিছন থেকে তামিম এসে সুবহাকে জড়িয়ে ধরে!
” ও বউ!”
সুবহা কোনো কথা বলে চুপচাপ মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে! কোনো কথা নেই তার সাথে!

” আমার বউ কেন কথা কই না? বউয়ের কী জামাই পছন্দ হয় না? আমার বউ কেন কথা কয় না?”
” বইরা জামাই একটা!”
তামিম সুবহাকে খুব শক্ত করে ধরে নিজের কোলে বসায়!
” আসলেই সোনা তোমার প্রেমে, আমি কালা, লুলা, লেংড়া সব হয়ে গেছি!”
সুবহা ফিক করে হেঁসে দেয়! তামিমের দু’সেকেণ্ড ও সময় লাগে না সুবহাকে হাসাতে! যতই রাগ করুক! তামিম নিজের কথার জালে ফেলে সুবহাকে হাসিয়েই ছাড়ে!

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৪

” আলাবু শয়তান সরকার! ”
” আই লাভ ইউ টু শয়তান ছেমড়ি!”
” তামিম পাবজি খেলে কীভাবে? ”
” এ বড়ই কঠিন গেম সোনা, তুমি খেলতে পারবা!”
” আপনার জীবন নিয়েই খেলে দিছি, এ আর এমন কী জিনিস! ”
তামিম সুবহার কথা শুনে ভ্যাবা চেকা খেয়ে বসে! দিন দিন তার বউ তার বউ হয়ে যাচ্ছে! একদম তার ফিমেল ভার্সন!
” শা’লার জিন্দেগী! ”

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৬