প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১০
আরাফাত আদনান সামি
মায়া কথাটা শেষ করতে না করতেই কৌশিক খুশিতে মায়াকে শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জাপ্টে জরিয়ে ধরল। মায়া কী করবে কী করবে বুঝে উঠার আগেই সেও কৌশিক কে তার বুকের মাঝে আগলে নিল।”
এভাবে বেশ অনেকক্ষণ কেটে গেলো।তাদের মধ্যে নিরবতা বিরাজ করছিল। তারা এখনো একে অপরকে জরিয়ে ধরে আছে। কিন্তু কৌশিক?সে পুরোপুরি ভাবে মায়াময় মায়াতে মগ্ন হয়ে গেছে।হঠাৎ সব নিরবতা ভেঙে কৌশিক বলল,
“উম্ সুইটহার্ট কী মিষ্টি ঘ্রাণ তোর…।”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া বলল,
“আমার ঘ্রাণ মানে?কিসের ঘ্রাণ?”
“কিসের আবার তোর চুলের।”
“আমার চুলের?”
“হুম জান তোর চুলের ঘ্রাণ। তোর চুল থেকে খুব মিষ্টি একটা ঘ্রাণ বের হচ্ছে।”
“তাই নাকি?”
“হ্যাঁ রে জান তোর চুলের ঘ্রাণ আমাকে দিবানা বানিয়ে দিলো রে।”
“ইয়েহ্ মিথ্যা কথা কম বলেন।”
“না সত্যি বলছি পুরো দিবানা বানিয়ে ছাড়ল আমাকে। আচ্ছা তুই চুলে কী শ্যাম্পু ব্যবহার করিস?”
মায়া একটু মুচকি হেঁসে বলল,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“কেনো আপনি ব্যবহার করবেন নাকি?”
“এত কথা বলিস কেন তুই?”
“না মানে আপনি….”
মায়ার কথাটা টান দিয়ে কৌশিক বলল,
“যাই হোক আজকে যেই শ্যাম্পু চুলে দিয়েছিস এখন থেকে আমার কাছে আসলে এই শ্যাম্পু ব্যবহার করে তারপর আমার কাছে আসবি কেমন।”
“কেনো কেনো?”
মায়া কথাটা শেষ করতেই কৌশিক মায়ার ঘাড়ে মুখ ঘুঝে দিল। মায়া মৃদু কেঁপে উঠল। আমতা আমতা করে বলল,
“ক..কী করছেন কৌশিক ভাই?আমার লাগছে ছাড়ুন আমাকে।”
কৌশিক মায়ার কোন কথা শুনলো না। মায়ার চুল গুলো এক হাতে সরিয়ে ঘাড় থেকে চুল পর্যন্ত গন্ধ শুকে পিটে আলতো করে একটা চুমু একে দিয়ে বলল,
“কেনো এর উত্তর পাইছিস?”
মায়া কৌশিকের এমন ছোয়াতে চোখ বন্ধ করে কৌশিকে মগ্ন ছিলো। কৌশিক আবার বলল,
“আর চোখ বন্ধ করে রাখতে হবে না চোখ খোল।তোর কেনো এর উত্তর দিলাম পাইছিস? নাকি আবার প্রাকটিকালে দেখাবো?”
কৌশিকের এমন কথায় মাথা মৃদু নড়ে উঠল।মায়া এক ধেনে কৌশিকের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
“কী হলো?চোখ দিয়েই গিলে খাবি নাকি আমাকে? ওই হ্যালো..”
মায়া ভ্রুকুচকে বলল,
“হ্যাঁ খাবো আপনার কোন সমস্যা?”
“কী সাংঘাতিক মেয়েরে তুই?”
“মানে?”
“আমি আমার পুরো শরীর লাগিয়েও তোকে খে*য়ে শেষ করতে পারবো না আর তুই আমাকে তোর চোখ দিয়ে খে*য়ে নিবি? হে আল্লাহ এবার তুমিই আমাকে এই রাক্ষসীর হাত থেকে বাচাও।”
“কী বললেন আমাকে?আমি রাক্ষসী?”
“হ্যাঁ ভুল কিছু বললাম নাকি?”
মায়া একটু রাগান্বিত স্বরে বলল,
“এই আমাকে ছাড়ুন তো অনেক হইছে ছাড়ুন।যদি না ছাড়ে তো….”
কৌশিক মায়ার কথা টান দিয়ে বলল,
“যদি না ছাড়ি তো?”
“তো আপনি অসভ্য।”
“হ্যাঁ এটা তো তোর কাছ থেকে প্রতিদিনই শুনি নতুন কিছু বল।”
“বনমানুষ আপনি।”
“এই নামের সাথে তো আমার কোন মিল নেই।”
“কে বলেছে নেই? আছে তো।”
“কিভাবে শুনি?”
“এই যে বনমানুষের মতো বুক ভরা লোম,মুখে দাঁড়ি, হাতে কত বড় বড় লোম। আর আমাকে দেখুন আমার শরীর কোন লোম নেই যাও আছে তাও ছোট ছোট আবার সোনালী কালারের। আবার আপনি এই লোমের মাঝে বনমানুষের মতো মোটা আর কত লম্বা আপনি। সব বিষয় বিবেচনা করেই আপনি বনমানুষ প্রমানিত।”
“কিন্তু আপসোস এই বনমানুষের সাথেই সারাটা জীবন কাটানো লাগবেতোর।”
“কে বলছে? আপনাকে কে বিয়ে করবে শুনি?আমি বিয়ে করবো একজন স্মার্ট, হ্যান্ডসাম, কিউট দেখতে একটা ছেলেকে আপনার মতো বনমানুষকে না, বুঝছেন?”
মায়ার কথা শুনে মুহুর্তের মাঝেই কৌশিকের শরীর রাগে গদগদ করে উঠল সাথে সাথেই মায়ার কোমর আরো শক্ত করে চেপে ধরে মাযাকে আরেকটু উচু করে তার মুখ বরাবর এনে পকেট থেকে ছুরির মতো দেখতে ধাড়াল একটা জিনিস মায়ার গলায় ঠেকিয়ে ধরে রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,
“কী এটা দেখছিস? একদম জানে মেরে ফেলবো।তুই শুধু আমার?কী বললাম শুনছিস? তুই শুধুই আমার, আমার মানে আমার আর কারো এক বিন্দু পরিমাণও না। আর আমি বেঁচে থাকতে তোকে কখনো কারো হতেও দিবো না।”
এই প্রথম কৌশিকের এমন রূপ দেখে মায়া ভিষণ ভাবে ভয় পেয়ে গেলো। ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছে মেয়েটা। আমতা আমতা বলল,
“এ..এটা ক.. কী করছেন কৌশিক ভাই সরান এটা সরান প্লিজ।আরে আমি তো মজা করছিলাম।”
কৌশিক যথাযথ ভাবে নিজেকে শান্ত রেখে বলল,
“এমন মজা আর কখনো করবি না জান,না এমন কিছু করবি।”
“আচ্ছা আর এমন মজা করবো না তবে..”
“তবে কী?”
মায়া লজ্জায় হালকা মাথা কৌশিকের বুকের দিকে রেখে বলল,
“তবে মাঝে মাঝে করবো আপনাকে এমন মুখে দেখার জন্য। এমন মুখে আপনাকে দেখতে ভালোই লাগে।”
“তবে রে।”
এই বলে কৌশিক মায়ার ঠোঁটের দিকে এগোতে লাগল। কৌশিকে কাছে আসাতে মায়া কেপে উঠল।নিজেকে ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলো কিন্তু পাড়ল না। কৌশিক মায়াকে আরেকটু উচু করে নিল। এবার মায়ার পা মেঝে থেকে ২-৩ ইঞ্চি উপরে উঠে গেল।মায়া ছটফট করতে করতে বলল,
“এই এই কী করছেন ছাড়ুন আমাকে।”
তার কথার কোন রেসপন্স না পেলো না কৌশিকে কাছ তাই নিজেই নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল। কৌশিক গম্ভীর স্বরে বলল,
“এত নড়ছিস কেন?নড়িস না জান মুডে আছি।”
“এই না.. ছাড়ুন আমাকে।”
“চল না জান আজকেই খাট ভেঙে ফেলি? কিন্তু তার আগে একটা ডিপ কিসি হয়ে যাক।”
“হ্যাঁ…এই না না না এইসব কী বলছেন আপনি ছাড়ুন আমাকে।”
কৌশিক নিভু নিভু চোখে ক্রমশ মায়ার ঠোঁটের দিকে তার মুখ এগোতে থাকে। মায়া কৌশিকের বুকে দুই হাত দিয়ে কৌশিককে দূরে ঠেলার অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।মায়া মনে মনে বলল,
“যে করেই হোক কৌশিক ভাইকে অন্য মনস্ক করে ছুটতে হবে। কিন্তু কীভাবে? কিভাবে করি।”
ওমনি মায়ার মনে একটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেলো। লজ্জায় ভরা মুখ নিয়ে কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এইসব ছোট খাটো জিনিস বাদ দেন কৌশিক ভাই চলেন আগে খাট ভাঙার কাজ টা সেরে ফেলি।”
মায়া এমন কথাতে কৌশিকের ঘোর কেটে গেলো নিমিষেই মায়াকে হালকা নামিয়ে দিল কিন্তু এখনো কৌশিকের কবলে মায়া। কৌশিক উজ্জ্বল মুখে নরম স্বরে বলল,
“সত্যি জান?”
কৌশিক কথাটা বলতে না বলতেই মায়া তার ডান পা সোজা কৌশিকের দুই পায়ের ফাকে উচু করে মেরে দিল। কৌশিক তার নিজের মাঝ দেহে তীব্র ব্যথা অনুভব করতেই মায়াকে সাথে সাথে ছেড়ে দিল। কৌশিক ব্যথায় দু’হাত দিয়ে তার মাঝ বরাবর শক্ত করে চেপে ধরল। ব্যথার ধাক্কায় সে ধপাস করে মেঝেতে দুইহাটু ফেলে বসে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রণার চাপে তার পুরো মুখমণ্ডল লালচে হয়ে উঠল। ব্যথায় ভরা কণ্ঠে, ফুপাতে ফুপাতে কৌশিক বলল,
“উফ্..আআআ…উফ্…উফ্…উফ্,জানএটা তুই কী করলি? কোন কথা ছাড়া সোজা আমার আ*ন্ডা বরাবর মেরে দিলি? একসাথে খাট ভাঙার স্বপ্ন দেখিয়ে আমার আ*ন্ডা*টা ভেঙে দিলি তুই?”
মায়া ভুরু কুঁচকে মিটি মিটি হেঁসে বলল,
“খাট ভাঙতে পারবেন না বললেই হয় এত নমুনা করার কী আছে? এই সামান্য ব্যথা সহ্য করতে পারেন না আবার খাট ভাঙার স্বপ্ন দেখেন।”
“কাটা গায়ে নুনের ছিটা?”
“না না এখন বাহানা দিলে মানবো না, আসেন না একসাথে খাটের উপর উঠে লাফিয়ে লাফিয়ে খাটটা ভাঙি। আমার খাট না অনেক পুরোনো হয়ে গেছে নতুন খাট কিনে দিতে আব্বুকে অনেকবার বলেছি কিন্তু কিনে দেয় না। আব্বু বলছে এই খাট ভাঙবে তারপর কিনে দিবে। একা অনেকবার লাফিয়েছি কিন্তু ভাঙে না। ভেবেছিলাম আপনাকে দিয়ে খাটের উপর লাফ পারিয়ে খাট টা ভাঙাবো তাহলে আব্বু আমাকে নতুন খাট কিনে দিবে।”
“চুপ একদম চুপ।তোকে পরে দেখে নিচ্ছি। মাগো মা বাচাও তুমার ছেলেকে। এই রাক্ষসী তুমার ছেলেটাকে মেরে ফেললো গো।”
“কী বাচ্চাদের মতো করছেন।চলেন তো খাট টা ভাঙতে সাহায্য করেন আমাকে।আসলেই ছেলেরা অর্কমন্ন। কাজ এরোতে কত কী যে করে কিন্তু আপনার বাহানাটা সেই সেই কৌশিক ভাই সেই।কাজ এরোনোর জন্য আমার কৌশিক ভাই সেরা রেহ্হ্…”
কৌশিক তার মাঝ বরাবর ফু দিতে দিতে আবার বলল,
“চুপ থাক শালি একদম চুপ। ইচ্ছা করে এইসব করে এখন মজা করা হচ্ছে? আরেকটু হলেই তো আমার আ*ন্ডা দুইটা ফেটে যেতো। তখন কী হতো জানিস? কেউ নিজের পায়ে নিজে কেউ কুড়াল মারে নাকি?তুই কী করে বুঝবি কোনটার ব্যথা কেমন ব্যথা।এই বয়সে রোমান্স করতে করতে খাট ভাঙে পরে যাওয়ার ব্যথা আর মন ভাঙার ব্যথা তো মাইনা নেওয়া যায়… কিন্তু আ*ন্ডা*র ব্যথা?এটা তো আমার জন্য আউট অফ সিলেবাস রে জান, একেবারে আউট অফ সিলেবাস। আ’আ’আ’আ….”
কৌশিক ব্যথার ঠেলায় মেঝেতে হাঁটু গেরে বসে আছে। আর মায়া এক পাশে বসে কৌশিক কে দেখে মিটি মিটি হাঁসছে। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। কৌশিক আর একটা কথাও বলল না। চুপ চাপ মাথাটা নিচু করে মেঝেতে বসে ব্যথায় কুফাচ্ছে।
কী হলো কৌশিক ভাই কোন কথা বলছে না কেনো?বেশি ব্যথা পেলো নাকি?এবার মায়ার বেশ চিন্তা হতে লাগল।কাছে যাবো? না না কাছে গেলে যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে বসে তখন কী করব?মায়া এগুলো ভাবতে ভাবতে একপর্যায়ে এক হাতে ব্যথার বড়ি আর আরেকহাতে এক গ্লাস পানি নিয়ে কৌশিকের সামনে এসে হাঁটু কেরে বসে পড়ল।
“এই নিন এগুলো খেয়ে নিন ব্যথা কমে যাবে।”
কৌশিক কোন কথা বলল না চুপ করে রইল। কৌশিক কে চুপ থাকতে দেখে মায়া ভয়ে ভয়ে আরেকটু কাছে গেল কৌশিকের। আবার বলল,
“সরি আসলে তখন আপনার হাত থেকে ছুটার জন্য….”
মায়া কথাটা শেষ হবার আগেই কৌশিক মায়ার দুই কাঁধে হাত রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ল মায়ার উপর। মায়া আর কৌশিক ধপাস করে মেঝে পরে গেলো।মায়ার হাত থেকে কাচের ক্লাসটা সিটকে এক সাইটে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। হাত থেকে ঔষধ গুলো কোন দিকে সিটকে গেছে কে জানে।কৌশিক মায়াকে ঝাঁপটে ধরে মেঝে শুইয়ে দিল। কৌশিক তার শরীর প্রায় পুরোটা ভর মায়ার উপরে দিযে দির। কিছুটা রাগ তবে যথাযথ ভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“ব্যথা তো পেয়েছি বটে তবে সেটন সাময়িক ছিল।তোর না খাট ভাঙা লাগবে? চল এখন তোর খাট তোকে দিয়েই ভাঙবো।”
বলেই মায়ার উপর থেকে উঠে দুইহাত দিয়ে মেঝে থেকে মায়াকে কোলে তুলে নিল। খাট পাশে থাকায় ধপাস করে খাটে ফেলে দিল মায়াকে। ফেলে দিয়ে কৌশিক তার বেল্ট খুলতে লাগল। এগুলো দেখে মায়া অনেক ভয় পেয়ে গেল। ভয়ের চোটে মায়ার মুখ থেকে একটা কথাও বের হচ্ছে না।বের হবে কীভাবে?একে এই ছেলেটাকে আটকানো যায় না তার উপর একটু আগে একটা মরণ কান্ড যে ঘটালো এখন তো এর শাস্তি মনে হয় দিয়েই ছাড়বে। ভয়ের ঠেলায় আমার মাথা বেয়ে ঘাম পড়তে লাগল।
“ব.বে’ল্ট ক.. কে’নো খ..খু’ল’ছে’ন? আ..আ’মা’র ভু’ল হ’য়ে গেছে কৌশিক ভাই। প্লিজ আমাকে মাফ করে দিন কথা দিচ্ছি আর এই রকম দুষ্টুমি ভুলেও করবো না।”
“যা করার করে ফেলছিস।”
বলেই কৌশিক এক টানে পুরোটা বেল্ট খুলে ফেলল। খুলে আস্তে আস্তে বিছায় উঠে মায়ার দিকে এগোতে লাগল। মায়া ভয়ে কাঁপতে কাপতে বলল,
“স..সরি ব’ল’লা’ম তো আর করবো না।”
বলতেই মায়া কাঁদতে শুরু করে দিল। মায়াকে দেখে কৌশিক বলল,
“চোকে দেখছি অনেক পানি।এখন কান্না করছিস ভয়ের কারণে করে নে কান্না। একটু পর এই চোখের পানি সুখের কারণে বের হবে।”
মায়া কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“কৌশিক ভাই ভুল হয়ে গেছে আর করবো না কখনো প্রমিজ। প্লিজ এমনটা করবেন না আমার সাথে। প্লিজ এবারের মতো মাফ করে দেন। আমি জানি আপনি রাগ করে আছেন তাই রাগের বসে এইস…”
“চুপ একদম চুপ।”
বলেই কৌশিক মায়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। মায়ার দুই হাত একসাথে করে বেল্ট দিয়ে বেধে দিয়ে বলল,
“রাগ করেছিলাম কিন্তু কেউ কী তার জানের উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে?আমি কোন রাগের বসে টসে নেই বুঝলি আমি এখন ফুল ফিল ভাবে খাট ভাঙার মুডে আছি রে জান।”
“তো খাট ভাঙবেন ভালো কথা ভাঙেন কিন্তু আমার উপরে উঠে আমাকে বাঁধছেন কেন।”
“তো?তোকে ছাড়া ভাঙবো কীভাবে?”
“মানে?”
“মানে তোকে ছাড়া খাট ভাঙবে কীভাবে?একদম আমার মুড নষ্ট করার চেষ্টা করবি না বলে দিলাম। করলেও আজকে আর লাভ হবে না।”
বলেই কৌশিক মায়ার ঠোঁটের দিকে ঝুঁকতে লাগল।
“এই না এগোবেন না আমার দিকে। সরুন বলছি। বললাম তো আর করবো না সরি সরি সরি আর কতবার বলল?”
কৌশিক নিভু নিভু চোখে মায়ার দিকে ঝুকে হাঁলকা থেমে হেঁসে বলল,
“তোর জন্য এই কৌশিকের মনের ডিকশিনারিতে ভুল মানেই শুধু শাস্তি। তোর জন্য এই কৌশিকের মনের ডিকশনারিতে কোন ক্ষমা লেখা নেই আছে শুধু ভুল মানে ডার্ক ভালোবাসার শাস্তি।”
মায়া যেই কিছু বলতে যাবে এমনি কৌশিক মায়ার ঠোঁটের উপর আঙুল রেখে দিয়ে বলল,
“আজ আর কোন কথা না জান আজ শুধু ভালোবাসারা কথা বলবে।”
বলেই কৌশিক মায়ার ঠোঁটের উপর থেকে হাত সরিয়ের মায়ার ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নিল। মায়া নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু বেল্ট দিয়ে হাত বাধাতে কিছুই করতে পারল না। কৌশিক পুরো পুরি ভাবে মায়ার নেশায় মগ্ন হয়ে গেলো। মায়ার দু’হাত ছেড়ে কৌশিক তার এক হাত দিয়ে মায়ার চুল মুঠি বন্ধ করে ধরল আরেক’হাত দিয়ে বিছানার চাদর ভেদ করে মায়ার কোমরে হাত দিয়ে ঝাপটে ধরল মায়াকে। মায়া অনেক কষ্টে নিজের হাত দু’টো বেল্ট থেকে ছুটিয়ে নিল।কৌশিকের হাত থেকে বাচার জন্য তার ধারালো নোখ দিয়ে একের পর এক কৌশিকের কাধে, পিঠে একের পর এক আছোড় কাটতে লাগল কিন্তু কোন কাজ হলো না। এভাবে বেশ অনেকক্ষণ কেটে গেল।
মায়া আর নিজেকে আটকে রাখতে পারছে না।মায়ার সব জেদ কৌশিকের আদরে গলে গেল। নিজেকে আস্তে আস্তে বিলিয়ে দিতে লাগল কৌশিকের কাছে। কৌশিক কিস করতে করতে এক হাতে মায়ার পড়নে নাইট ড্রেসটা আস্তে আস্তে খুলতে লাগল। পিঠের উপরি ভাগ অংশই প্রায় খুলে ফেলল।কৌশিক মায়ার ঠোঁট জোরা ছেড়ে মায়ার ঘাড়ে মুখ গুজে দিল। ঘার থেকে বুকের পাশে একের পর এক মৃদু ভাবে চুমু খেতে লাগল। মায়া চোখ বন্ধ করে কৌশিকে ঝাপটে ধরে সুখ পাওয়ার আশায় ছটফট করতে লাগল। মায়ার রেসপন্স পেয়ে কৌশিক আরো উন্মাদনা হয়ে গেল। মায়াকে আস্তে করে উল্টো ঘুরিয়ে দিল। পিঠ থেকে সবকিছু পুরো পুরি ভাবে উন্মুক্ত করে দিয়ে পিঠে গম্ভীর ভাবে একের পর এক চুমু একে দিতে লাগল। কৌশিকের এমন গম্বীর চুমু তে মায়া মৃদু আর্তনাত করে উঠল,
“আহ্…”
মায়ার ছটফটি করো বেরে গেল। মায়া এবার পুরো পুরি ভাবে কৌশিকের ঘোরে পড়ে গেলো। সে সোজা হয়ে কৌশিকের মুখ সোজা করে ধরল তার দু’হাত দিযে।তারপর তার মুখ ধরে রেখে তার কাছে এনে ঠোঁটের সাথে তার ঠোঁট মিলিয়ে দিল।কৌশিক এক হাতে তার শার্ট টা খুলে পুরো পুরি তার বুক উন্মুক্ত করে দিল। এইভাবে প্রায় ঘন্টা খানিক কেটে গেল। সকাল হয়ে গেল।হালকা হালকা পাখিদের কিচিরমিচির শোনা গেল।
প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৯
সকালের ঠান্ডা মৃদু হাওয়া জানাল ভেদ করে রুমে প্রবেশ করছে। কিন্তু কৌশিক আর মায়ার সেদিকে কোন নজর নেই তারা একে অপরে ঘোরে আটকে আছে। কিস করতে করতে কৌশিক মায়ার পড়নের নাইট ড্রেসটা যতটুকু খুলা বাকি ছিল তা আস্তে আস্তে খুলতে লাগল।
ঠিক এমন সময় হঠাৎ কারো আওয়াজ বাহির থেকে ভেসে এল,
“মায়া…এই মায়া….”
