Home কালকুঠুরি কালকুঠুরি পর্ব ৫৬

কালকুঠুরি পর্ব ৫৬

কালকুঠুরি পর্ব ৫৬
sumona khatun mollika

মাহা সকাল থেকে ফাইল পত্র নিয়ে কাজে লেগে পরেছে। সেতুর ভিষণ রাগ হচ্ছে মাহার ওপরে। একটা শিক্ষিত মহিলা যার বাবু হারিয়ে গেছে সেকিনা এতটা নিশ্চিন্তে নিজের কাজ করছে। বাবুর ওপর নাকি তার রাগ! কেন বাবু একাই চলে গেল! সেতু নিজের গভীরভাবে চিন্তা করে এটা কি করে হতে পারে! সামহা অনেক স্মার্ট একটা বাচ্চা। বাহিরের কেও কিছু দিলে খায় না। কেও ডাকলে কাছে যায় না । সে কিনা নিজে নিজেই জামা কাপড়, খেলনা, বিড়াল, বিস্কুট, পানি সব পুটলি বেধে কিডন্যাপারের কাছে চলে গেছে কিডন্যাপ হতে । ১ মাস পার হয়ে গেল ,শীত গিয়ে বসন্ত চলে এলো৷ ও কি একটুও মায়ের জন্য কান্না করে না? নাকি সত্যি সামির সিকান্দার ওর কোনো ক্ষতি করে দিল। না না। ক্ষতিও তো করেনি। করলে মাহবুব উদ্দিন খবর পেত।

মাহা কাগজপত্র গুছিয়ে ভেতরে গিয়ে বোরখা পরে আসলো। কিছুসময় ড্রেসিং টেবিলের আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখলো। অতঃপর গায়ের ওপরে চড়ালো তার স্বপ্নের পোশাক।
যেই পোশাক নিজের বাবাকে দেখাতে চেয়ছিল। ভেতরটা কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে । কালো কোর্টের ওপরে ইংরেজি তে লেখা মাহাদিবা নামটা চকচক করছে। টুপ করে চোখের কোনা দিয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে পরে কালো পোশাকটার ওপরে। বুক ভরা নিঃশ্বাস নিয়ে মুখের নিকাবটা বেঁধে নেয় । হাতে একটা অফিসিয়াল ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যায় ।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সিকান্দার বাড়িতে,,
রাহা সিভানকে খেতে ডাকছে। সিভান জোরে চেচিয়ে জবাব দিল সিয়েরা আর নাজিয়া কে ডেকে আসছি। সিয়েরার ঘরে গেলেই দেখতে পায় নাজিয়া আর সিয়েরা দুজনেই ঘুমিয়ে আছে। ফেরত আসবে তখন নাজিযার ফোনে টিং করে নোটিফিকেশন আসে। সিভান কখনো এমন করেনা তবে কি মনে করে নাজিয়ার ফোনটা ঘেটে দেখল যা সন্দেহ করেছে তাই। নাজিয়ার ফোনের পাসওয়ার্ড সামির বাঙ্গি!
গ্যালারি ভর্তি সামির সিকান্দার এর ছবি। কতগুলো এঙ্গেল থেকেই যে তুলেছে! তবে বোঝা যায় সব লুকিয়ে তোলা।

সিভান দুদিকে ঘাড় নেড়ে টুকটাক করে নুসরাতের কাছে গিয়ে বসে। সে সিয়াম আর সিয়েরার জামা কাপড় গোছাচ্ছে। সিভানকে দেখতে পেয়ে নিজেই শুধালো,,
” কিরে সিভু কিছু বলবি? ”
” নুসু মা,, নাজিয়াটাকে কি বাড়ি ফেরত পাঠানো যায় না? ”
” আমি বোধহয় একটু বুঝতে পারলাম তুই কি বলতে চাস। ও যেতে চায়না। তাছাড়া কাওকে মনে ধরলে তার আশেপাশে না থাকলেও তার প্রতি অবসেশনটা কমেনা। ”
” কাকার কোনো আপডেট নাই। চাইনা নাজিয়ার হালাত ইনুর মতো হোক। ইনু যত খারাপই হোক, ও কিন্তু আমার দ্বিতীয় মা ছিল। আমায় বড্ড যত্ন করেছে। জানো। ”
” খারাপের সাজা হওয়া উচিৎ ”
” জানি। কিন্তু …. ”
” কিন্তু?? ”
” কিছুনা খেতে চলো। মা ডাকছে। ”
” যা, আসছি। ”

মাহবুব উদ্দিন অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে টেবিলে বসে আছে। লামু দৌড়ে দৌড়ে খাবার রেডি করতে গিয়ে হাতে গরম ডাল পরে যায়। “উহ” করে আর্তনাদ করে ওঠে। মাহবুব উদ্দিন ঝড়ের বেগে উঠে হাতটা বেসিনে ধরে, নলের পানি ছেড়ে দিয়ে রুষ্ট কণ্ঠে বলে,,
“ইশশ একটু স্হির হয়ে কাজ করতে পারোনা?? এত দৌড়নোর কিছু নেই। হাতটা পুড়ালো তো! এহহেরে, এত সুন্দর হাতটায় এখন ফোস্কার দাগ রয়ে যাবে! ”

লামু তো হাতের ব্যাথা ভুলেই গেছে মাহবুব উদ্দিন কে এত উদগ্রীব হতে দেখে। এখনি সে কি যেন একটা বোম ফাটালো না? ফাটালোইতো। বললো এত সুন্দর হাত! লামুর হাত যে সুন্দর সেটা মাহবুব উদ্দিন তবে খেয়াল করে? লামু এলোমেলো চুল গুলো কানের পিছে গুজে মাথা নামিয়ে নতমুখী হয়ে দাড়ায়।
ছলছল নয়নে মাহবুব উদ্দিন এর চোখের দিকে তাকায় । মাহবুব উদ্দিন কেমন যেন কেঁপে ওঠে । নারীর অশ্রুডোবা চক্ষু বুঝি এতই মায়াবী হয়! এরকম একটা ধাক্কা মাহবুব উদ্দিন সেদিনও খেয়েছিল যেদিন দক্ষিণ পাড়ার গোরস্থানে পর্দাশীল এক মেয়েে ডোবাডোবা চোখ দেখেছিল।

” কাঁদছো কেন? বেশি জ্বলছে? ”
লামু মাহবুব উদ্দিন এর চোখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে , আপনি যদি জানতেন আপনার একটু মনোযোগ এর আশা আমাকে কতটা পোড়ায়! তবে বুঝতেন এই পোড়ার জ্বালা ওই দহনের চেয়ে অনেক কম৷ ‘
মাহবুব উদ্দিন লামুর হাতটা টেনে ঘরে নিয়ে গেল। বিছানায় বসিয়ে সযত্নে হাতে মলম লাগিয়ে দিল। এই বিছানাতেও দুজন একসাথে ঘুমায়না। রুমে আরেকটা বেড সোফা আছে। ড্রয়ার এর মতো টান দিলে খুলে বেড হয়ে যায় । লামু সেখানে ঘুমায় । এই ধারণা মূলত সে টিভির সিরিয়াল দেখে পেয়েছে।
দুজনের বনিবনা ভিষণ সুন্দর। বোঝাই যায় না দুজনের ভেতরে সব উল্টোপাল্টা। শুধু মাঝখানের এই দূরত্বের কারণ মাহবুব উদ্দিন । সে চায়না লামুর প্রতি জোর করে কোনো অনুভূতি টেনে ধরে দেখাতে। মাহা শুধু লামুকে একটা কথাই বলেছিল, “জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে সকলকিছুর সঙ্গী তকদির এ লেখা থাকে । অবশ্যই তোমাকে মাহবুব উদ্দিন এর বুকের হাড় দিয়েই বানানো হয়েছে লামু। নতুবা তোমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেনা। ”

সেদিন কথাগুলো বলার পরে মাহা নিজেও খুবই চিন্তা করে খুঁজে পায়নি তবে আমাকে কেন ওই সামিরের বুকের পাজর থেকে বানানো হলো? “।।
মাহবুব উদ্দিন লামুর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল ” তুমি আমারচে বয়সে অনেক ছোট৷ তোমাকে খুব একটা সময় দিতে পারিনা। যার জন্য তোমার দরকার অদরকারের কথা মাথায় থাকেনা। আমি তোমাকে অনুরোধ করছি যদি তোমার কখনো কিছুর দরকার পরে, আমাকে জানাবে। কেমন? ”
লামু কোনো জবাব দিল না। মাহাবুব উদ্দিন উঠে চলেই যাচ্ছে হুট করে লামু ছুটে এসে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে,,, ” আপনার কাছে অঢেল টাকা পয়সা থাকতে পারে। তবে আমার যেটা চাই সেটা আপনি আমাকে দিতে পারবেন না স্যার। পাঁচ বছর কেটে গেছে আর চুপ থাকতে পারছি না৷ “”

মাহবুব উদ্দিন কোনো কথা বললনা। চুপচাপ শুনে গেল৷ লামু ফুপিয়ে কেঁদে ধীর কণ্ঠে আওড়ালো,,
” আমায় একটু ভালোবাসবেন স্যার? বিশ্বাস করুন, ওই কালকুঠুরি তে কোনো পুরুষ আমাকে কখনো ছোয়নি। আমাকে রাখাই হয়েছিল বেচার জন্য৷৷ আমি অপবিত্র নারী নই স্যার ”

মাহবুব উদ্দিন এবার একটু ভরকে গেল হুড়োহুড়ি করে পেছনে ফিরে লামুর গানদুটো নিজের দুই হাতে জড়ো করে,,
” ছিঃ ছিঃ লামু, তুমি মনে করো কালকুঠুরির মেয়ে হওয়ায় আমি তোমাকে সময় দেইনা? কিভাবে এসব চিন্তা করতে পারলে? আমার কাছে তোমার সতিত্বের কৈফিয়ত দিতে হবে না। আল্লাহর রহমতে যতদিন বেঁচে থাকবো, কোনোদিন তোমাকে কালকুঠুরির মেয়ে বিবেচনা করতে পারিনা লামু৷ আমি শুধু চাই তোমার প্রতি আমার কোনো নকল অনুভূতি না থাকুক৷ যেটুকুই থাকুক , আসলটুকুই থাকুক৷ ”

লামু তবুও কান্না থামাচ্ছেনা৷ এই পাঁচ বছরের প্রথমবার মাহবুব উদ্দিন তাকে নিজের বক্ষপিঞ্জরের সাথে জড়িয়ে ধরল। মাথার পিছে হাত বুলিয়ে আদর করে বলল৷,
” কে বলেছে তোমায় ভালোবাসিনা? রক্তের না হলেও তুমি আমার দেহেরই তো অংশ লামু। আমার বুকের পাজরের হাড় তুমি৷ তিন কবুল তার প্রমাণ৷ এসব কথা ভেবে কখনো কষ্ট পাবেনা। ”

লামু মাথা নেড়ে হ্যা জানালো। মাহবুব উদ্দিন বেরিয়ে যেতে যেতে আবারো ফিরে এসে তড়িৎ গতিতে লামুর সামনে দাড়ালো৷ দুই সেকেন্ড কি যেন ভেবে আচমকা ঠুস করে লামুর গালে একটা চুমু বসিয়ে দৌড়ে চলে গেল। লামু কিছুক্ষণ থম মেরে দাড়িয়ে রইল । তার খুশি দেখে কে!
মাহাবুব উদ্দিন দড়জার বাইরে দাড়িয়ে চোখমুখ নেড়ে নিজেই নিজেকে বররো,,” কিরে ভাই জ্বর এলো নাকি! মুখ চোখ এমন গরম হয়ে গেল কেন! ”

টিভির সামনে পা ছড়িয়ে বসে সামহা আর কাশেম। সামির চেচামেচি শুনে নিচে এসে দেখে কাশেম আর সামহা আবারো ঝগড়া করছে। কাশেম মাথা হেলিয়ে বলছে মিশা সওদাগর জিতবে। সামহা চেচিয়ে বলছে,
” চৌধুরী সাহেব,,,, আমি ছোট হতে পারি কিন্তু বলদ নই! “”
“সিকান্দারনী সাহেবা,, আমিও বড় হতে পারি, পাগল নই ”
” মূলা! শাকিপ খান জিতবে। ”
” দেখিস মিশা ডাকু জিতবে ”
” চোপ বাঙ্গি ক্ষেতের মূলা , শাকিপ খান জিতবে
জয়য় বাংলা জিতবে আমার শাকিপ খান
জয় বাংলা জিতবে আমার শাকিপ খান
জয় বাংলা হারবে মিশা বাঙ্গি!
জয় বাংলা কাইশসা মিশা ভাই ভাই!
জয় বাংলা জিতবে আমার শাকিপ খান!! “”””
” ও…. বাপ, সোফাডা ভাইঙ্গা যাইবো! আস্তে লাফা ”
” ও… বাপ, তুই জোরে লাফা ভাঙড়ি মামা, ভাঙড়ি মামার ভাঙড়ি সোফা! ”

সামির বা হাত না ঢুকিয়ে ধিরে ধিরে সামনে এগিয়ে যায়। পেছনে দাড়িয়ে দেখে কি হয়। মিশা সওদাগর আর শাকিব খান এর মধ্যে ডাব্লিউ ফাইট হচ্ছে । কাশেম আগেও একবার মুভিটা দেখেছে তাই সে জানতো মিশা সওদাগরই জিতবে। কিন্তু সামহা নিজের মতো লাফালাফি করছে। একটু পরে যখন মিশা সওদাগর জিতে গেল সামহা দুই হাতে চেহারা ঢেকে টেবিলে মুখ নিচু করে বসে পরলো ।
” ছালা শাকিপ বাঙ্গির মুভি আর দেখবই না। শাকিপ ইউ কোপ মাই মানইজ্জত । ”
তার কথা শুনে কাশেম হাসতে হাসতে পেটে খিল লাগা অবস্থা । বাপ কা বেটি। হুট করে রেগে যাওয়ার রক্তগত স্বভাব। পাশের থেকে কুশন বালিশ টা নিয়ে গিয়ে কাশেম কে মারতে শুরু করে সে।
” ছালা কাইশসা বাঙ্গি! ভাঙড়ি কোথাকার! তুই হাসছিস! ”
সামির তাকে পাঁজা কোলে তুলে বলে,,
” বেবি, তোমার এত রাগ কেন? ”
কাশেম ঝট করে উঠে বলে,, ” বাপের একটু রাগ হলে বেটির তার দুই ডাবল হয়। আপনেই যে জিনিস! ”
সামির গার টেনে একটু হাসে। সামহা সামিরের কোল থেকেই তাকে বকাবকি করছে।
দুপুরে গোসলের পরে,,,

সামির সামহার চুল আচড়ে দিচ্ছিল।এই একমাসে সে ভিষণ সুন করে চুল আঁচড়ানো শিখেছে। বেনি গাঁথা, রান্না, বাথরুম পরিষ্কার সব শিখেছে। সামহা বসে বসে কাশেমের ফোন ঘাটাঘাটি করছে। আর একটু নিচে গেলেই হয়তো মাহা আর সামিরের বিয়ের ছবি পেয়ে যেত। কিন্তু গ্যালারি ভর্তি একটা মেয়ের ছবি দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে ফোনটা ছুড়ে বিছানার ওপরে রেখে দিল। সামির জিজ্ঞেস করল,,
“কি হলো? ”
” এই দামড়া বেটার মোবাইলে দেখার মতোন কিছুই নেই। কালো করে একটা মেয়ের ছবি শুধু। কে ওটা? কাইশসা মামার কাইলানী? ”
“হুউম৷৷ ওর নাম মেধা। তবে মাথায় গোবর ঠাসা। ওর জন্যইতো কাইশসা দেওয়ানা আশিকি তারপর আরো কি যেন? ও,, সাইয়্যারা সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে । “।
” এ, কি মরে গেছে আব্বু? ”
” চার বছর হয় বিদেশ চলে গেছে৷ পড়াশোনার জন্য । “।
” যে চলে গেছে তার জন্য এত দুঃখে মইরা যাই লজ্জায় মইরা যাই করলে হয় নাকি? ”
“ও যে ওকে ভালোবাসে।”
” ভলোবাসা কি আব্বু? ”

সামির সামহাকে কোলের ওপর বসিয়েই বলে,,
” ভালোবাসা? সে আসে, জীবন রঙিন করে দেয় আবার রঙগুলো ছিনিয়ে সব সাদা কালো করে সে চলে যায় । ভালোবাসা মানে কাওকে আঘাত করার মোক্ষম অস্ত্র “”
“ছুড়ির মতো ধারালো? ”
” তার চেয়ে বেশি.. ”
সামহা এবার চুপ করে রইল । সামির চিরুনি অভিযান শেষ করে তাকে নিয়ে গিয়ে খাবার টেবিলের ওপরে বসে খাসির মাংস দেখে দুজনেরই চরম মেজাজ চটে গেল সামহাতো চেচিয়েই বললো,

” কাইশসা মামা! এসব কি! তুমি কি আমারে মারতে চাও? ”
” কেন রে? ”
” ইশশহ কি গন্ধ উমমহ, যাও এটা ফেলে এসো ”
” তোর জন্যইতো এনেছি। ”
” আমি এসব খাসি পাঠা খাইনা৷ কি গন্ধ ধুরুহ! ”

সামির চেয়ে চেয়ে দেখলো কি আজব, সামিরও খাসির গোশত খায়না৷ অগত্যা কাশেম বেচারাও খেতে পারলোনা। ফেলে না দিয়ে বাড়ির বাইরে এক ফকিন্নি কে দিয়ে দিল।
চার দেয়ালের ঘেরা বিশাল একটা কক্ষ ! সামনে বসে আছে হাজার হাজার মানুষ ! পাহাড়ায় অগন্য পুলিশ । সকলকে তাক লাগিয়ে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পর্দায় ঘেরা এক নারী নিজের শপথ গ্রহণ করল আজ । ফার্স্ট ক্লাস বিসিএস ক্যাডার,

**জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট মাহাদিবা ফারনাজ **
গোটা রাজশাহী শহরের কোর্টের বিচার বিভাগ পরিচালনার মুখ্য একজন হয়ে উঠলো সে। সবার চোখে একটাই বিস্ময় , সামনে দাড়ানো তুখর মেধাবী নারীটি ঠিক কতটা ধর্মভীরু! ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বোরখায় ঢাকা। হাতটুকুও বাদ নেই।
সবার সাথে কথা শেষে মাহা যখন বািরে গিয়ে দাড়ালো,, ওসি মাহাবুব উদ্দিন সহ সকলে তাকে স্যালুট করে সন্মান জানালো। নিকাবের আড়ালে থাকা চেহারাটা একটু হাসলো ।

উক্ত দিন থেকে মাহাদিবা ফারনাজ , রাজশাহী হাই কোর্টের জুডিশিয়াল প্রশাসন ক্যাডার। পজিশন অনুযায়ী অনেক বয়স্ক ব্যক্তিদের ও বহিষ্কার করার ক্ষমতা আছে তার।
আজ তার প্রথম দিন। সকলে অভিবাদন জানালেন। এক বেলা পার হতেই বিভাগীয় ডিআইজি এবং চারজন ব্যারিস্টারের কাছে বহিষ্কার এর ওয়ার্নিং চলে গেল। তারা এমপি আবু সাফিন সিকান্দার এর কেনা গোলাম প্রমাণ সহিত।
মাহাদিবা নিজের এসিস্ট্যান্ট কে জানালো,, যুদ্ধের ডঙ্কা বাজিয়ে দিন…. এই শহরে কোনো অপরাধীর ঠাই হবেনা। শেকড় থেকে উপড়ে ফেলব সব নর্দমার কীটদেরকে।
মাহা দক্ষিণ পাড়ার গোরস্থানের সামনে গিয়ে দাড়ালো । তার পাশে গিয়ে দাড়ালো সেই প্রৌঢ় নারী । মাথার কাপড় নামিয়ে দিয়ে মাহার নেমপ্লেট টা ঠিক করে দিয়ে বলল,,,

কালকুঠুরি পর্ব ৫৫

” সাবাশ! আমার বাঘিনী ! ”
” কেমন আছো চাচি? ”
উত্তরে মাহার চাচি ঠোঁটে মিষ্টি একখানা হাসি দিলেন।

কালকুঠুরি পর্ব ৫৭