Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১
আরাফাত আদনান সামি

দরজার বাইরে থেকে ভেসে আসা সেই ডাকে যেন হঠাৎই ছুরির মতো কেটে গেল মুহূর্তটার জাদু। মায়ার চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে গেল সমস্ত স্বপ্নের কুয়াশা, নিমিষের মধ্যেই ভেঙে পড়ল সেই মোহের আবরণ। নিজেকে এই অবস্থায় দেখে সে বেশ ঘাবড়ে গেল। বুকের ভেতর ভয় আর লজ্জার ঢেউ একসাথে আছড়ে পড়তে লাগল। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

“কী করছেন কৌশিক ভাই,ছাড়ুন আমাকে মনে হয় আম্মু আসছে।”
কিন্তু তার কথা যেন কৌশিকের কানে পর্যন্ত পৌঁছালই না। হয়তো পৌঁছানোর কথাও নয় কারণ এই মুহূর্তে কৌশিক নিজের হুঁশ-বুদ্ধির মধ্যেই নেই। যেন সে এক অন্য জগতে হারিয়ে গেছে, যেখানে কেবল আছে মায়া আর মায়ার অস্তিত্ব। পাগলের মতো তার ঠোঁট খুঁজে বেড়াচ্ছে মায়ার চুলের ভেতর, একের পর এক চুমু খাচ্ছে, যেন প্রতিটা শ্বাসে সে নিজের সমস্ত আকুলতা ঢেলে দিতে চাইছে। মায়া বারবার তাকে ঠেলতে চেষ্টা করছে, বারবার নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু কৌশিকের সেই শক্ত বাহু থেকে মুক্ত হওয়া যেন অসম্ভব হয়ে উঠেছে।ঠিক তখনই, দরজার ওপাশ থেকে আবারও সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো এবার আরও স্পষ্ট, আরও জোরে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“দেখো কান্ড! সকাল সাতটা বেজে গেছে, আর এ এখনো মহারাণীর মতো পরে পরে ঘুমাচ্ছে! মায়া, এই মায়া! ঘুম থেকে ওঠ মা, ওঠ! উঠে আমাকে একটু রান্নায় সাহায্য করো…”
মায়ের গলা আরও কাছে থেকে ভেসে আসতেই মায়ার বুকের ভেতরটা যেন কেঁপে উঠল। ভয়ে কাঁপা হাতে সে কৌশিকের কাঁধে চাপ দিল, কাঁপা গলায় বলল,
“কৌশিক ভাই, ছাড়ুন আমাকে,শুনতে পাচ্ছেন না? আম্মু ডাকছে। আপনি এখনই এখান থেকে চলে যান। আমাদের এইভাবে একসাথে একি রুমে দেখে ফেললে সমস্যা হবে।”
কৌশিক তখনো যেন অন্য জগতে। ধীরে ধীরে মুখটা তুলে মায়ার চোখের দিকে তাকাল, চোখে নেশার ঘোর, ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি নিযে বলল,

“দেখলে ভালোই হবে।”
মায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। ভয়, রাগ আর অবিশ্বাসে তার গলা কেঁপে উঠল।বলল,
“মাথা ঠিক আছে আপনার?”
কৌশিক হালকা হেসে ফিসফিস করে বলল,
“জান, দেখতে পাচ্ছিস না একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছি আমাকে জ্বালাস না তো।”
“গুরুত্বপূর্ণ না ছাই! ছাড়ুন তো!”
“না, ছাড়বো না।”
কৌশিকের এই জেদি স্বর শুনে মায়ার গলা শুকিয়ে এল। বাইরে থেকে এবার মায়ের কণ্ঠ আরও তীক্ষ্ণ, আরও রাগান্বিত হয়ে ভেসে এল,

“কী হলো মায়া? কথা বলছিস না কেন? আর দরজা খোলতে এত সময় লাগছে কেন? তারাতারি খোল।”
মায়ার গাল বেয়ে ঠান্ডা ঘাম গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে বুঝতে পারছে, আর এক মুহূর্ত দেরি হলেই সব শেষ। হৃদস্পন্দন এতটাই বেড়ে গেছে যে মনে হচ্ছিল মা বাইরে থেকেও শুনে ফেলবেন। গিলতে কষ্ট হতে থাকা লালা গিলে, সে আমতা আমতা করে উত্তর দিল,
“একটু দাড়াও আসছি,আসছি আম্মু…”
“তারাতাড়ি খোল!”
মায়া এবার কৌশিকের চোখে চোখ রেখে দৃঢ় অথচ কাঁপা গলায় বলল,
“শুনতে পাচ্ছেন না? ছাড়ুন আমায়, আর এখনই এখান থেকে চলে যান। না হলে পরে বড় একটা সমস্যা হয়ে যাবে।”

কৌশিকের মুখের হাসি হঠাৎ মিলিয়ে গেল। সে ভ্রূ কুঁচকে গভীরভাবে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তাড়িয়ে দিচ্ছিস আমায়?”
মায়া তাড়াতাড়ি মাথা নাড়িয়ে বলল,
“না, তাড়াচ্ছি না। আপাতত এখন যেতে বলছি। আপনি একটু বুঝার চেষ্টা করুন না।এখন যদি এইভাবে আম্মু আমাদের একসাথে দেখে ফেলেন, তাহলে খুব বড় বিপদ হবে। প্লিজ, বুঝার চেষ্টা করুন।”
কৌশিক এবার বিরক্ত মুখে দরজার দিকে তাকাল। বাইরের ডাক যেন তার মেজাজ পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে।
“এই সাত সকালে শাশুড়ি মায়ের এখনই এন্ট্রি দিতে হলো নাকি? একটু পরে এলে কী এমন ক্ষতি হতো! রোমান্টিক সিনের আসল শুরুটার সময় এসে হাজির হয়ে আমার মুডের পুরো বারোটা বাজিয়ে দিল। দূর… বাল… ভল্লাগে না আর।”

বিরক্ত গলায় গজগজ করতে করতে সে পাশে রাখা শার্টটা তুলে নিল, কাঁধে ঝুলিয়ে মায়ার শরীর ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। কৌশিক উঠতেই মায়া যেন হুঁশ ফিরে পেল। দ্রুত শুয়ে থাকা অবস্থায় নিজের আধখোলা নাইটড্রেসটা ঠিক করতে শুরু করল।ওই দৃশ্যটা চোখে পড়তেই কৌশিকের চোখ প্রায় কপালে উঠে গেল। গালে হাত রেখে সে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল মায়ার দিকে, তারপর ঠোঁটের কোণে এক দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল,
“উফ্ জান,তোকে এইভাবে কত হ*ট আর সে*ক্সি দেখতে লাগছে রে জান, মনে হচ্ছে সব আওয়াজ, সব বাঁধা ভুলে তোকে এখনই…”
মায়া বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে তাকাল তার দিকে।

“চুপ, যদি আর একটা বাজে কথা বলেন, তাহলে এখনই বালিশ চাপা দিয়ে মারব আপনাকে।সব সময় মুখে খালি বাজে কথা অসভ্য লোক একটা!”
কৌশিক হাসতে হাসতে বলল,
“মার না তোর ওই কোমল হাতে এখনি আমাকে মেরে ফেল না হলে একবার পুরোপুরি ভাবে কন্ট্রোল হারালে পরে এই কৌশিকের হাত থেকে তোর আর রক্ষা নেই জান। তাই এখনি মেরে ফেল আমাকে।”
“ডায়লগ বাজি বাদ দিয়েন এখন থেকে ফুটেন তারাতাড়ি।”
“যাচ্ছি তো… এত পাগল হচ্ছিস কেনো? তোকে এই অবস্থায় একটু মন ভরে দেখতে দে আগে।”
মায়া গাল ফুলিয়ে চোখ বড় করে তাকাল তার দিকে।বলল,
“বিয়ের পর মন ভরে দেখবেন, এখন যান তো।”
“সে তো দেখবোই সাথে আরো অনেক কিছুও করবো…”
“হো এখন এখান থেকে যান আগে।”

এই কথা বলেই মায়া খাট থেকে নেমে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু তার পরের মুহূর্তটুকু যেন স্বপ্নের মতো ঘটে গেল। মায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই কৌশিক এগিয়ে এসে তার কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, আর এক নিমেষে মায়ার ঠোঁটে রেখে দিল এক অপ্রত্যাশিত, উষ্ণ চুমু।৷ হঠাৎ ঘটনার অভিঘাতে মায়ার চোখ বড় হয়ে গেল। সে কিছু বলার আগেই কৌশিক পেছনে সরে গেল, দরজার দিকে পা বাড়াল। যেতে যেতে একবার ফিরে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
“সুইটহার্ট, নিজের খেয়াল রাখিস। আর দরজাটা খোলার আগে আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিস তোর জন্য মঙ্গল হবে।”
এই বলেই কৌশিক রুমের পেছনের জানালা টপকে বেরিয়ে গেল।
এদিকে মায়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেন সময়টাই থেমে গেছে। তার মুখে এখনো কৌশিকের চুমুর উষ্ণতা, হৃদস্পন্দনটা যেন একটু দ্রুত চলছে। কিছুক্ষণ পর নিজের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

“যা’বাবা এটা কী হলো?”
সে এখনো দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে, নিজের অনুভূতিগুলোকে সামলানোর চেষ্টা করছে। লজ্জা, অবাক হওয়া, আর কোথায় যেন একটুখানি আনন্দের ঢেউ মিশে গেছে তার মনে। ঠিক তখনই রুমের বাইরে থেকে ভেসে এল রাগান্বিত স্বরে ভরা পরিচিত কারো কণ্ঠ,
“এই মায়া……”
হঠাৎ এমন ডাকে মায়া চমকে উঠল। বুকের ভেতরটা যেন ধক করে উঠল তার। কারও উপস্থিতি যেন আচমকাই টের পেয়ে দ্রুত নড়ে দাঁড়াল সে। তাড়াতাড়ি হাত দিয়ে এলোমেলো হয়ে যাওয়া চুলগুলো গুছিয়ে নিল, নাইটড্রেসটাও ঠিক করে পরল শরীরে। তারপর একটু দ্বিধায় পা টিপে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে সাবধানে কপাট খুলল। দরজা খুলতেই হনহন করে ভেতরে ঢুকে এলেন রুবিনা পাটোয়ারী। চোখেমুখে রাগ যেন আগুনের মতো জ্বলছে, কপালের ভাঁজ গাঢ় হয়ে উঠেছে। মায়ার দিকে তাকিয়ে কটমট করে বলে উঠলেন,

“কী রে, এত সময় নিলি কেন দরজা খুলতে?”
মায়ার মুখ শুকিয়ে গেল। হঠাৎ এই ঝড়ো প্রশ্নে সে যেন প্রস্তুতই ছিল না। গলা কাঁপতে কাঁপতে কিছু একটা বলার চেষ্টা করল,
“আ… আসলে ম…”
রুবিনা ততক্ষণে আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেছেন। গলা একটু উঁচু করে বললেন,
“কী আসলে মা আসলে মা করছিস? দরজা খুলতে এত দেরি হল কেন, সেটা আগে বল।”
মায়া আরও বেশি গুলিয়ে গেল। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে, তবু তোতলাতে তোতলাতে বলল,
“ও… ওই আসলে মা, হয়েছেটা ক…”
রুবিনা তার কথা শেষ হতে দিলেন না, যেন কথার মাঝখানেই কেটে দিলেন ধারালো স্বরে,
“ওই আসলে মা কী? ঠিক করে বল!”

মায়ের এমন রাগান্বিত রূপ দেখে মায়া বেশ ভয় পেয়ে গেল। সে কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই রুবিনা পাটোয়ারী হঠাৎ আরও কাছে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর কড়া চোখে যেন আগুন জ্বলছে। ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে মায়ার ঘাড় থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“এগুলো কীসের দাগ, মায়া?”
মায়া হতভম্ব হয়ে গেল। তোতলাতে তোতলাতে বলল,
“কো..কোনগুলো, আম্মু?”
রুবিনা পাটোয়ারী এবার মায়ার এক হাত শক্ত করে ধরে টেনে আয়নার সামনে দাঁড় করালেন। আঙুল দিয়ে ঘাড়ের দিকে ইশারা করে বললেন,

“এই যে এগুলো… সত্যি করে বল, কীসের দাগ এগুলো?”
আয়নায় নিজের এমন প্রতিচ্ছবি দেখে মায়া যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। ঘাড়ে স্পষ্ট লালচে দাগ যা সে আগে খেয়ালই করেনি। এক পলকে তার চোখের সামনে ভেসে উঠল কৌশিকের মুখ, আর ঠিক তখনই মনে পড়ল কৌশিকের বলা সেই কথা। বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল তার। মনে মনে নিঃশব্দে ফিসফিস করে বলল,
“ইশ্… এটা আমি কী করে ফেললাম?”
পুরো পিঠ থেকে শুরু করে ঘাড়, গলা সব জায়গাজুড়ে লাল ছোপ ছোপ দাগ বসে আছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মায়া নিজের শরীরটা একবার ডান থেকে বাঁ, আবার বাঁ থেকে ডান দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। প্রতিটি দাগ যেন তার বুকের ভেতরটা কাঁপিয়ে দিচ্ছে। রুবিনা পাটোয়ারীর চোখ রক্তলাল। তিনি এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি রাগান্বিত স্বরে বললেন,

“কী হলো, বলছিস না কেন? এগুলো কিসের দাগ বল?”
মায়ার গলা শুকিয়ে গেল। তার বুক ধড়ফড় করছে। এখন সে কী বলবে তার আম্মুকে? কাঁদো কাঁদো চোখে নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে আস্তে করে বলল,
“আসলে…”
“দেখ মায়া,আমাকে কোনো মিথ্যে বলবি না। সত্যি করে বল, এগুলো কিসের দাগ?”
এমন সময় হঠাৎ জোরে জোরে চিক্কার করেই দরজা ঠেলে জোরে জোরে পা ফেলে মায়ার ঘরে ঢুকলেন অমিতাভ পাটোয়ারী, মায়ার বাবা। তাঁর আগমনে ঘরের নীরবতা মুহূর্তেই ভেঙে গেল। রুবিনা পাটোয়ারী কপাল কুঁচকে বিরক্ত স্বরে বললেন,

“কী হয়েছে, এত জোরে জোরে চেঁচাচ্ছেন কেনো?”
অমিতাভ হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,
“কালকে রাতে খিচুড়িতে বেগুন দিয়েছিলে তুমি তাই না?”
“হ্যাঁ, দিয়েছিলাম। কেন, কী হয়েছে?”
“কী হয়নি সেটা বলো।”
বলেই তিনি এক টানে শরীর থেকে পাঞ্জাবিটা খুলে মেঝেতে ফেলে দিলেন। নিচের ত্বকে লালচে ছোপ ছোপ দাগ ছড়িয়ে আছে। রুবিনা পাটোয়ারী অবাক হয়ে বলে উঠলেন,
“সেকি! আপনার পুরো শরীরে এমন লাল লাল দাগ কিসের?”
“তুমি জানতে না, বেগুনে আমার এলার্জি আছে?”
রুবিনার মুখটা বিবর্ণ হয়ে গেল।
“উফ্… মনেই ছিল না আমার।”

ঠিক তখনই অমিতাভ পাটোয়ারীর দৃষ্টি পড়ল মায়ার দিকে। কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি এগিয়ে এসে বললেন,
“এ কী মা! তোর কী হয়েছে?”
মায়া যেন এমন একটা প্রশ্নেরই অপেক্ষায় ছিল। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সে তড়িঘড়ি করে বলল,
“কী আর হবে বাবা! তোমার মতো আমারও তো বেগুনে এলার্জি আছে, ভুলে গেছো? এই জন্যই তো বলি, খিচুড়িটা খাওয়ার পর থেকেই শরীরটা অদ্ভুত লাগছিল। সকালে উঠে দেখি পুরো শরীরজুড়ে দাগে ভরে গেছে। আম্মু না দেখালে তো আমি বুঝতেই পারতাম না। ধন্যবাদ আম্মু।”
মায়ার কথা শুনে রুবিনা পাটোয়ারী ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“তাহলে এই কথাটা বলতে তোমার এত সময় লাগছিল কেন?”
“তুমি বলার সুযোগ কখন দিলে, আম্মু? এসেই তো ধমকাতে শুরু করে দিলে আমাকে।”

মেয়ের মুখ থেকে এমন উত্তর শুনে অমিতাভ পাটোয়ারী রুবিনার পাটোয়ারীর দিকে তাকিয়ে গলা উঁচু করে বললেন,
“আমার দশটা না, পাঁচটা না একটা মাত্র মেয়ে। আর তুমি তাকেই বকেছো? কেন বকেছো মায়াকে?”
“আসলে…”
“কী আসলে আসলে করছো? কেন বকেছো আমার চাঁদের টুকরো মেয়েকে? বলো!”
রুবিনার চোখে রাগ আর অভিমান জমে উঠল।

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১০

“হ্যাঁ, আপনারই তো একমাত্র মেয়ে। আমার তো আর কিছুই লাগে না, তাই না?”
এই বলে তিনি হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
অমিতাভ মায়ার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন,
“তোর তো দেখছি আমার থেকেও বেশি হয়েছে এলার্জি। যা মা, আগে ফ্রেশ হয়ে নে। তারপর খাবার খেয়ে ঔষধ খেয়ে নিস। তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবি।”
এ কথা বলে অমিতাভ পাটোয়ারীও ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১১ (২)