অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১০
নুরিয়া ইসলাম
বর্তমানে,
হাসপাতালের চারপাশে গভীর নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। সেই নিস্তব্ধতার মাঝে ইনায়ার মনের আকাশে জমে উঠেছে অজানা শঙ্কা আর বিষণ্ণতার ঘন মেঘ। অপারেশন থিয়েটারের সামনে বসে সে বারবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে।আশা আর আতঙ্কে তার হৃদয় ভারাক্রান্ত।
কিছুক্ষণ পর এরিকের মা-বাবা তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে এসে পৌঁছালো। ইনায়াকে দেখে মিস্টার রিচার্ডের চোখে আগুন জ্বলে উঠলো।
তিনি ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে সব দোষ তার কাঁধে চাপিয়ে দেন।
ভাবেন, “এই মেয়েটা যদি এরিকের জীবনে না আসত, তাহলে আজ আমার ছেলের এমন দুর্দশা হতো না।
একজন বাইরের, বিধর্মী মেয়ে এসে আমার ছেলের মন-মানসিকতা সবকিছুই এলোমেলো করে দিয়েছে।”
রাগে-ক্ষোভে এগিয়ে গিয়ে ইনায়াকে তিনি কিছু তিক্ত কথা শুনান,
এই মেয়ে, তুমি আমার ছেলের সর্বনাশ করেছো! আমার ছেলে তোমার মতো একজন বিধর্মী মেয়ের জন্য আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“তোমার জন্যই এরিক আজ এই অবস্থায়! তুমি আমার ছেলের জীবনে না এলে আমার ছেলের জীবন নষ্ট হতো না।”
“তুমি কি বুঝতে পারছো, তোমার মতো একজন মুসলিম মেয়ে আমাদের পরিবারে ঢুকে কী সর্বনাশ করেছো?”
তিনি রাগে এতটাই অন্ধ হয়ে যান যে, এক মুহূর্তও কোন কিছু না ভেবে হাসপাতালের সবার সামনে ইনায়ার গালে কষিয়ে চড় মারেন। দাঁতে দাঁত পিষে তিনি বলেন,
“এই চড়ও তোমার জন্য কম! আমার ছেলের জীবন নষ্ট করার জন্য এর চেয়েও বেশি প্রাপ্য তোমার।”
“তুমি যদি এরিকের কাছ থেকে দূরে থাকতে, আজ আমার ছেলে সুস্থ থাকত। তুমি অভিশাপ হয়ে এসেছো আমার ছেলের জীবনে!”
“তুমি কী ভেবেছো , সানরাইজ ইমপায়ারের দরজায় দাঁড়ানোর যোগ্যতাও কী তোমার মতো মেয়ের আছে। আমার ছেলের জীবনে তোমার মতো লো ক্লাস মেয়ের জায়গা কখনো ছিল না, আর কখনো হবেও না।”
“আমার ছেলের জীবন, আমার পরিবারের সম্মান সবকিছু তোমার মতো সাধারণ মেয়ের ছোঁয়ায় কলুষিত হোক, আমি তা কখনোই মেনে নেব না।”
মিস্টার রিচার্ডের চেঁচামেচি দেখে ইনায়ার ভাই আর চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।
তিনি এগিয়ে এসে ইনায়ার হাত শক্ত করে ধরে মিস্টার রিচার্ডের সামনে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“মাফ করবেন স্যার, আমাদের হয়তো টাকার জোর কম, কিন্তু আত্মসম্মানের জোর অনেক বেশি।
আপনার ছেলেই প্রতিদিন আমার বোনের পেছনে ছুটেছে, আমার বোন কখনো কারও পেছনে ছোটেনি।
সম্মানের জায়গায় আঘাত করলে, জবাব দিতেও আমরাও জানি।”
মিস্টার রিচার্ডঃ “তোমার মতো একজন সাধারণ কর্মচারীর এতটা সাহস হলো কীভাবে আমার সামনে কথা বলার? মনে রেখো, এই শহরে তোমার চাকরি, সম্মান সবকিছু আমার ইশারায় চলে।”
“আর তুমি আত্মসম্মানের কথা বলছো? আত্মসম্মান তো তখনই থাকে, যখন কারও নিজের কোনো পরিচয় থাকে। আমার অফিসে কাজ করো বলে নিজেকে বড় ভেবো না।”
“তোমাদের মতো ছোটলোক পরিবার শুধু টাকার জন্য বড়লোকদের পেছনে ঘুরে বেড়ায়!তোমার বোনকেও টাকার জন্য আমার ছেলের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছো।
মিস্টার রিচার্ডের প্রতিটি কথায় মিস্টার তানভীরের আত্মসম্মান ক্ষতবিক্ষত হয়।
রাগে চোখ লাল করে তিনি সামনে এগিয়ে এসে মিস্টার রিচার্ডকে শাসিয়ে বলেন,
“অনেক হয়েছে,মিস্টার রিচার্ড অ্যাসফোর্ড! আপনি অনেক বলেছেন,এইবার আমি বলবো আপনি শুনবেন।
“আজকের পর যদি আপনার ছেলেকে আমার বোনের আশেপাশে দেখি, সেটাই হবে তার শেষ দিন, এটা মনে রাখবেন!”
তিনি মিস্টার রিচার্ডের দিকে আরো একধাপ এগিয়ে চোখে চোখ রেখে বললেন,
” আপনারা টাকার জোরে সবাইকে কিনে নিতে পারবেন, কিন্তু আমার বোনের সম্মান নিয়ে খেলতে পারবেন না।”
আপনার ছেলেকে সাবধান করে দিবেন, আমার বোনের কাছে আর একবারও আসার চেষ্টা করলে, আমি যা করব, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।”
এই কথা বলে মিস্টার তানভীর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইনায়ার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন।
ইনায়া বারবার পিছন ফিরে অপারেশন থিয়েটারের দিকে তাকায়। চোখে ছিল তার অজানা শঙ্কা আর অশ্রু ভেজা অপেক্ষা। তার প্রতিটি পা যেন ভারী হয়ে যাচ্ছিল, মন পড়ে ছিল অপারেশন থিয়েটারের দরজার ওপারে।
দিনের শেষ আলো ফিকে হয়ে সান ফ্রান্সিসকোর আকাশে নেমে এসেছে রক্তিম সন্ধ্যা।
ইনায়াদের গাড়িটা শহরের ঘুরপাক খাওয়া পথ পেরিয়ে চুপচাপ এসে থামে সেই চেনা, ছোট্ট দুইতলা বাড়ির সামনে।
মিস্টার তানভীর রাগে গর্জে উঠে ইনায়ার হাত ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে বাড়ির ভেতর নিয়ে যান।
ইনায়াকে এভাবে টেনে আনতে দেখে ভাবী মারিয়া উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চান, “কী হয়েছে, এভাবে কেন তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
কোনো উত্তর না দিয়ে তানভীর ইনায়াকে টেনে হিচড়ে সোজা উপরের ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা লক করে দেন।
ইনায়া ভেতর থেকে বারবার দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে কাঁদো কণ্ঠে বলতে থাকে,
“ভাইয়া, প্লিজ এমনটা করো না! আমাকে এরিকের কাছে যেতে দাও, ওনার আমাকে খুব দরকার, ভাইয়া!”
বোনের হাজার আহাজারি শুনেও তানভীরের মন একটুও গললো না, বরং কঠিন গলায় তার ওয়াইফকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন,
“এই ঘরের দরজাকেউ খুলবে না। কেউ খুললে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।
আজ থেকে ওর বাড়ির বাইরে পা দেওয়া একদম বন্ধ!”
মিস্টার তানভীর কড়া পায়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান।
তাঁর চলে যাওয়া মাত্রই মারিয়া দরজার কাছে দাঁড়িয়ে, ভেতর থেকে ইনায়ার কান্নার শব্দ শুনে বুকটা তার মোচড় দিয়ে উঠে।
নিজের সন্তানের মতো আদরে বড় করা মেয়েটার চোখে এমন অসহায় অশ্রু, তার সহ্য হচ্ছিল না।
চোখের কোণে পানি জমে আসে, কাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে তিনি ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে যান মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
বন্দী ঘরের নিঃসঙ্গতায় ইনায়ার দিনগুলো কাটতে থাকে। গভীর রাতে মারিয়া যখন দরজা খুলে খাবার দিতে আসে, তখন ইনায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে তার বুকটা কেঁপে ওঠে,
কয়েক দিনের মধ্যেই মেয়েটা যেন কতটা শুকিয়ে গেছে, চেহারায় ক্লান্তি আর বিষণ্ণতার ছাপ স্পষ্ট।
চোখের নিচে গাঢ় কালসিটে, মুখটা ফোলা, চোখে অশ্রু জমে আছে।
মারিয়ার মনে হচ্ছে , তার আদরের মেয়েটা ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে।
ইনায়ার চোখের নিস্তেজ দৃষ্টি, নিঃশব্দ কান্না আর মুখের অসহায়তা সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে এক গভীর বিষণ্ণতার আবহ ছড়িয়ে রয়েছে।মারিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন, মনে হয় তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে। নিজের সন্তানের মতো আদরে বড় করা ইনায়ার এমন অবস্থা দেখে, তার চোখেও পানি এসে যায়।
ইনায়া চোখ তুলে ভাবিকে দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠে জড়িয়ে ধরে।
কান্নায় ভেজা কণ্ঠে বলে,
“ভাবি, আমি আর পারছি না… প্লিজ, শুধু একবার এরিকের খবর এনে দাও।মানুষটা কেমন আছে, জানার অধিকার কি আমার নেই?
ভাবি, আমি কথা দিচ্ছি, তোমরা যা বলবে তাই করব, এরিকের থেকে দূরে থাকব। শুধু তার একটু খবর এনে দাও, সে সুস্থ আছে কিনা।
আমি তার খবর না পেয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছি, ভাবি! একবার, শুধু একবার তার মুখটা দেখতে চাই।
তুমি ভাইয়াকে বোলো না, ভাবি।আমি আর কিছু চাই না, শুধু একটু খবর।”
ইনায়ার আকুল মিনতি শুনে মারিয়ার বুকটা ভেতর থেকে ভেঙে যায়, চোখের কোণে জল জমে ওঠে।
তবুও নিজেকে কঠিন করে, কাঁপা গলায় ইনায়াকে বলল,
“তোমার ভাইয়া কখনোই পারমিশন দেবে না, ননদীনি।
পৃথিবীতে কি মুসলিম ছেলের অভাব ছিল? কেন তুমি এক বিধর্মী ছেলের প্রেমে পড়লে?
এই ভালোবাসা তো অভিশপ্ত, পাপ জেনে শুনে কেন তুমি এমন বিষ পান করলে, ননদীনি?”
ভাবির এমন কথায় ইনায়ার চোখ দিয়ে নীরবে দু’ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
ভেজা চোখে, কাঁপা কণ্ঠে সে ভাবির দিকে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
কী জবাব দেব তোমায়,ভাবি? অনেক প্রশ্নের মতো এই প্রশ্নেরও উত্তর ও আমার জানা নেই।
যার ভালোবাসা থেকে নিজেকে শতবার সরিয়ে রাখতে চেয়েছি, সেই অনুভবই আজ আমার অস্তিত্বকে গ্রাস করেছে।
হৃদয়ের দরজা বারবার বন্ধ করেছি, তবুও সেই ভালোবাসা নিঃশব্দে আমার অবাধ্য হৃদয়কে আচ্ছন্ন করেছে।
“ভাবি,আমার এই অবাধ্য হৃদয় যে আমার নিয়ন্ত্রণে নেই সেইখানে যে শুধু ওই বিধর্মী এরিক অ্যাসফোর্ডের রাজত্ব চলে। ”
জানি না, এ ভালোবাসা পাপ কিনা, শুধু জানি, ওর জন্য আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস কম্পিত হয়… আমি শত চেষ্টার পরও এই ভালোবাসার বন্ধন ছিঁড়তে পারিনি।”
ইনায়ার কথা শুনে মারিয়া তার কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে,
“কী বলবে সে, তার ননদিনী যে সেই বিধর্মী পুরুষের নিষিদ্ধ ভালোবাসায় আশক্ত হয়ে পড়েছে।
কী নাম দিবে সে এই নিষিদ্ধ ভালোবাসার……. অবাধ্য হৃদয়ের অন্তহীন প্রণয়াশক্তি।
ভেবেই এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
ওই বিধর্মী পুরুষের অন্তহীন আশক্তিতে, খুব বাজেভাবে আশক্ত হয়েছো তুমি ননদীনি।এই আশক্তি যে কাটবার নয় তা ভালোভাবেই বুজতে পারছি।
ইনায়া ভাবির কথায় একটু মুচকি হেসে কাঁদতে কাঁদতে ভাবিকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“ভাবি, প্লিজ, উনার খবর এনে দাও। উনি বেঁচে আছেন কিনা জানি না… আমি ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
মারিয়া স্নেহভরা কণ্ঠে বলল,
“আনবো, খুব তাড়াতাড়ি আনবো ননদীনি। একটু ধৈর্য ধরো।”
এই বলে মারিয়া আদর করে ইনায়ার কপালে চুমু দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
চারদিকে সন্ধ্যার নেমে এসেছে।
ইনায়া চুপচাপ ওয়াশরুমে গিয়ে ওযু করে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়ায়।
শেষ মোনাজাতে সে চোখ ভেজা হাতে আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে শুধু একটাই প্রার্থনা করে,
ইয়া আল্লাহ,
আমি তাকে আপনার জন্য ভালোবেসেছি
আমি তার সাথে আপনার ইবাদত করতে চাই,
তাকে আমার নসিব করে দিন যদিও সে আমার না হয় তবুও তাকে আমার করে দিন!
ইনায়া জায়নামাজে বসে এরিকের জন্য চোখের পানি ফেলতে থাকে, আর ভাবতে থাকে অতীতের কিছু তিক্ত কিছু মধুর মুহূর্তে,
ইনায়ার আজ লাইব্রেরির কাজ সামলাতে সামলাতে বেশ দেরি করে ফেলে।
আকাশে কালো মেঘ জমেছে, মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে। আল্লাহর নাম নিয়ে আধাঘণ্টা ধরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে, ক্যাবের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়,সব ক্যাব বুকিং, কোনোভাবেই বাড়ি ফেরার উপায় পাচ্ছে না।
মনে মনে ভাবে, “এতগুলো ক্যাব বুকিং হয়ে গেল, এবার আমি বাড়ি যাবো কীভাবে?”
ঠিক তখনই দূর থেকে ইনায়ার অসহায় অবস্থা দেখে এরিকের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে ওঠে।
নতুন বাইক নিয়ে সে ইনায়ার সামনে এসে দাঁড়ায়, পকেটে এক হাত ঢুকিয়ে ভ্রু উঁচিয়ে মজা করে বলে,
Still waiting,babygirl….. huh?”
ইনায়া কোনো পাত্তা না দিয়ে চুপচাপ সামনে এগিয়ে যেতে থাকে।
এরিক হাল ছাড়ে না বরং বাইকটা আবার ইনায়ার সামনে এনে দাঁড় করিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে,
“If you want, I can give you a ride. Doesn’t matter to me.”
ইনায়া সরাসরি মুখের ওপর না বলে দেয়, এরিকের চোখে রাগের ঝিলিক ফুটে ওঠে।
ইগনোরেন্স তার একদম সহ্য হয় না, আর এই মেয়েটা তো তাকে সরাসরি রিজেক্টই করে দিল!
মনে মনে ভাবে, “একবার বাইকে উঠুক, তখন বুঝবে আমাকে রিজেক্ট করার মজা কাকে বলে!”
এরিক নিজেকে কষ্টে শান্ত রেখে চোখ সরু করে ঠান্ডা গলায় বলে,
“তুমি কি এখানে দাঁড়িয়ে ভিজে যাওয়ার প্ল্যান করছো নাকি? Suit yourself. Don’t come running when you regret it.”
এই বলে সে বাইক স্টার্ট দেয়, ইনায়া মনে মনে ভাবে,
“উনি তো ঠিকই বলেছে, এত দেরি হয়ে গেছে, আকাশের অবস্থাও খারাপ, ক্যাবও নেই। হে আল্লাহ তুমি রক্ষা করো, আজ এই অসভ্যের সঙ্গেই যেতে হচ্ছে!”
শেষমেশ সে একটু হেসে, একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পিছন থেকে ডাকে,
“এক মিনিট… আমি যাবো।”
এরিক ঠোঁটে এক চিলতে বাঁকা হাসি নিয়ে মনে মনে বলে,
“Finally, she gets it. Told you, babygirl, nobody says no to me.”
ইনায়া ধীরে ধীরে উঠে এরিকের বাইকের পেছনে বসে।
এরিক আয়নায় তাকিয়ে হালকা মজা করে বলে,
“ধরে বসো, না হলে পড়ে যাবে।”
ইনায়া কাট কাট গলায় জবাব দেয়,
“Relax, Mr. Eric Ashford, পড়বো না আমি। এইটুকু আত্মবিশ্বাস তো নিজের উপর আছে।”
এরিক চোখ না তুলে বলে,
“Are you sure?”
ইনায়া হেসে বলে,
“Definitely!”
এরিক মুগ্ধ হয়ে বলে,
“Confidence suits you. Just don’t let it get you hurt.”
এই বলে সে বাইক জোরে স্টার্ট দেয়
হাওয়ার বেগে বাইক ছুটে চলে ক্যালিফোর্নিয়ার আঁকাবাঁকা রাস্তায়।
এরিক মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে হঠাৎ ব্রেক কষে, যেন ইনায়া বাধ্য হয়ে তাকে আঁকড়ে ধরে।
অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৯
কিন্তু ইনায়া তার চাল আগেই ধরে ফেলেছে।সে শক্ত হয়ে বসে, কোনোভাবেই সে এরিকের ফাঁদে পা দিচ্ছে না।
ইনায়ার এই আত্মবিশ্বাস এরিককে বরাবরের মতো মুগ্ধ করে। এই মেয়ে কোন পরিস্থিতিতেই এরিকের কাছে নিজের হার স্বীকার করবে না। এই ভেবে এরিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
