The Silent Manor part 48
Dayna Imrose lucky
বন্দিশালার চারপাশ হঠাৎ এক অচেনা নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেছে।দেওয়াল গুলোর গোঁড়ালি যেন নিঃশব্দে শ্বাস ফেলছে।কোণের আঁধারগুলো যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছে। সুফিয়ান ফারদিনার মৃত দেহটাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে, চোখ বন্ধ, হৃদয় যেন থেমে গেছে তাঁর।
তার মনে শুধুই কষ্ট আর অপরাধবোধ। ফারদিনার ঠাণ্ডা দেহ তার কাছে ছিল কখনো জীবনের অংশ।আজ সে নিজেই সেই জীবনের বিশেষ অংশটুকু ছিনিয়ে নিয়েছে। চোখের কোণে অজান্তেই জল জমেছে, কিন্তু সে মুছে ফেলতে পারছে না।
তাঁর প্রতিটি নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে।বন্দিশালার দেয়ালগুলো তার নীরব কান্নার প্রতিধ্বনি তুলে ধরছে,আর বলছে, কেউ নেই শোনার,কেউ নেই বোঝার। সুফিয়ান জানে, এই নিস্তব্ধতার ভেতর তার সমস্ত জীবন এখন অন্ধকারে ডুবে গেছে।
তার মন আজ এক অচেনা জায়গায়, যেখানে আর সুখ নেই, শুধু নীরবতা, অনুশোচনা, এবং ফারদিনার স্মৃতির এক গভীর দাগ।সে বুঝতে পারছে, কিছু ভুল কখনো মুছা যায় না।শুধু নিস্তব্ধতা তার একমাত্র সঙ্গী হয়।
আদিব এগিয়ে এল।ফারদিনার নিথর দেহের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে। রায়ান বলল “ ও সত্যিই মরেছে কি-না যাচাই কর।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আদিব ফারদিনার নাড়ি পর্যবেক্ষণ করে বলল “হুঁ, আর বেঁচে নেই ও।এতক্ষণ শ্বাস প্রশ্বাস আটকে রাখলে কে বাঁচবে,মরে গেছে। ভালো হয়েছে। এখন আর আমাদের বংশ ধ্বং’স এর ভয় নেই।”
সুফিয়ান এর কানে গেল কথাগুলো। ফারদিনা ম’রে গেছে, ভালো হয়েছে।’ ভালোর দিকটা সুফিয়ান খুঁজে পেল না।সে তো নিজের জীবনকে শেষ করে ফেলেছে। অন্ধকার হয়ে গেছে তাঁর জীবন। সুফিয়ান এর খুব করে ইচ্ছে করছে নিজেকে তাৎক্ষণিক ক্ষতবিক্ষত করে শেষ করতে।ফারদিনা যতটুকু কষ্ট পেয়ে দুনিয়া ত্যাগ করেছে,এর চেয়ে বেশি আ’ঘাত পেয়ে সে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে চায়। কিভাবে? কাউকে বলবে আমাকে মেরে ফেল, আমার দেহটাকে টুকরো টুকরো করে ফেল,যে হাত দিয়ে ফারদিনাকে মে’রেছি সে হাত পুড়ে ফেল-।
পৃথিবীর সবটুকু ভার সুফিয়ান এর ঠিক বুকের মাঝখানটায় জমেছে।ভারটা সহ্য করার মত নয়। তীব্র যন্ত্রণা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার মত শক্তি টুকুও তাঁর নেই।সে চাইছেও না তাঁর শক্তি ফিরে আসুক।সে বেঁচে থাকুক। কিন্তু যারা আজ তাঁর ভালোবাসাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে বাধ্য করেছে, তাঁর হৃদয়টাকে জ্বা’লিয়ে পু’ড়িয়ে দিয়েছে, তাঁদের শেষ না করে সুফিয়ান দুনিয়া ছাড়বে না।
ফারদিনার মায়াভরা মুখটির দিকে তাকাল। তাঁর চোখের জল টুকু এখনো শুকায়নি।অথচ মানুষটা হারিয়ে গেছে অচিন দেশে।অচিন পাখি হয়ে।সে আর কখনো বলবে না ‘আর এক দফা সুর তোলো, তোমার সুর শুনি না কতদিন।’ কষ্ট হচ্ছে। সুফিয়ান এর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের মতন বুকটা বারবার কেঁপে উঠছে। আবার থেমে যায়। আবার কেঁপে উঠে।কখন যেন তাঁর হৃদয়টা একেবারে থেমে যায়!
কুদ্দুস কাঁদছে।এখন ওঁর কান্নাটা শব্দহীন। মুখে গামছা চেপে ধরে নীরবে কাঁদছে।রশীদ ফিরে এসে দেখবে তাঁর একমাত্র কন্যা আর দুনিয়ার বুকে নেই,তখন উনার মনের অবস্থাটা ঠিক কি হবে, ভেবে কুদ্দুস আরো কষ্ট পাচ্ছে।
আদিব সুফিয়ান কে লক্ষ্য করে বলল “মৃ’ত লা’শটা চেপে ধরে বসে আছিস কেন,ওটা এখন বাঘকে খেতে দে। মানুষ ম’রে গেলে তাঁর আর দুনিয়াতে মূল্য থাকে না।তখন তাঁর ঠিকানা হয় মাটির ঘর। কিন্তু ও না হয় বাঘের পেটেই যাবে।বাঘের পেট ওঁর ঠিকানা হবে।”
সুফিয়ান কান্ধের সাথে ভ্রু উঁচিয়ে ফেলল। শরীরের সমস্ত র’ক্তের উন্মোচন যেন ভেসে উঠল।ভ’য়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকাল আদিবের দিকে।আদিব কিঞ্চিত ভয় পেল সুফিয়ান এর চাহনি দেখে। একবার ঢোক গিলল। সুফিয়ান এর রুপটা যেন হঠাৎ পাল্টে গেল।
সুফিয়ান তাৎক্ষণিক নিজেকে দমিয়ে নিল।ফারদিনার দেহটা মেঝেতে শুইয়ে দিল। কুদ্দুস তখন দৌড়ে আসল ফারদিনার কাছে। আওয়াজে কেঁদে উঠল। কিছু বলতে চাইছে সুফিয়ান কে, কিন্তু ওঁর কন্ঠনালিতে যেন কথাগুলো এসেই থেমে যাচ্ছে।
সুফিয়ান কুদ্দুস কে বলল “তুই ওর কাছে বোস।” বলে উঠে দাঁড়াল সুফিয়ান।বন্দি গ্রাম বাসীদের দিকে তাকাল।ঘরটির সামনে মশাল হাতে অনুচর এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ঘুরে তাকাল আদিবের দিকে।বলল “এখন গ্রাম বাসীদের ছেড়ে দে।অনুচর কে মশাল হাতে সরে যেতে বল। কাঁটার দরজা সরিয়ে দিতে বল।”
আদিব হেসে বলল “তুই আমাদের পাপ থেকে মুক্ত করেছিস,তোর গ্রাম বাসীদেরও এখন মুক্ত করে দেব।যা, ওঁদের নিয়ে এখান থেকে চলে যা। গিয়ে তোর গ্রামকে মুক্ত কর।”
সুফিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে আপাতত ধৈর্য ধরল।আদিবের বা হাতের ইশারায় অনুচর মশাল নিয়ে বন্দি ঘরের সামনে থেকে সরে গেল। কাঁটার দরজাটি বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ক’জন অনুচারী মিলে সরিয়ে ফেলল।এরপর ঘরটি থেকে বন্দি গ্রাম বাসীরা বেরিয়ে আসল।আজমাত এসে সুফিয়ান এর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। আজমাত কে বড্ড ক্লান্ত দেখাচ্ছে। অস্পষ্ট ভাবে বলল “তুমি আমাদের জন্য কেন ফারদিনাকে মারলে? আমার ফারদিনার কথা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে,বোকা ফারদিনা জীবনে কিছুই পেল না।হারতে হারতে শেষ পর্যন্ত যাকে ভালোবাসল তাঁর হাতেই মৃ’ত্যু বরণ করল।”
সুফিয়ান গলা থেকে কোন শব্দ বের করতে পারছে না।যখনি কেউ বলে ফারদিনা ম’রে গেছে, তুমি ওকে মে’রে ফেলেছো’ বাক্যটি সুফিয়ান এর চারপাশে গোলাকার হয়ে ঘুরতে থাকে।সে স্তব্ধ হয়ে যায়। আজমাত একবার ফারদিনার দিকে তাকাল। পুনরায় সুফিয়ান এর দিকে ঘুরে বলল “কি করলে তুমি এটা?”
সুফিয়ান ভেজা গলায় বলল “ভাগ্যে এটাই ছিল বোধহয়।এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। তুমি গ্রাম বাসীদের নিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে যাও। আমি কিছু কাজ সেরে আসছি।”
আজমাত আর কথা বাড়াল না।সুফিয়ান এর কথা মত বন্দিশালা থেকে গ্রামবাসীদের নিয়ে বেরিয়ে যায়।একজন অনুচর তাঁদের পথ দেখিয়ে দিল।
সুফিয়ান তাকাল ফারদিনার দিকে। নিষ্প্রাণ দেখাচ্ছে তাঁকে।কতটা অসহায় হয়ে আজ শুয়ে আছে ফারদিনা। সে-ই চঞ্চল মেয়েটি আর চঞ্চল নেই, সারাজীবন এর জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল সে। সুফিয়ান বা হাতটি দিয়ে চোখ মুছল নিজের।
আদিব বলল “কি হল,তুই যাচ্ছিস না কেন?চলে যা এখন,পথ খুলে দিয়েছি।”
সুফিয়ান কিছু বলল না।এক পা দু পা করে মূল দরজার কাছে গেল।সবাই ভাবছে সুফিয়ান বোধহয় চলে যাচ্ছে। কিন্তু না। সুফিয়ান গেল না। বরং দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করল। ঘুরে তাকাল সবার দিকে।বলল “গ্রাম বাসীদের বের করার জন্য এতক্ষণ আমার আসল রুপটা দেখিসনি।এখন না হয় দেখবি।”
সুফিয়ান এর ভ’য়াবহ বার্তার সাথে সাথে ঘরটি থমকে গেল।অন্ধকারের গভীরে।যেখানে আলো পৌঁছানোর সাহস করে না,সেই বিরাট গোপন ঘরে স্তব্ধতা তৈরি হল।একমূর্ত আ’তঙ্ক। পরিবেশটা এতোই ঘন ও শীতল যে, মনে হচ্ছে সময়ের স্রোত যেন এখানে থমকে গেছে। ঘরের উঁচু ছাদে ঝোলানো কয়েকটি মরিচা-পড়া শিকল আবছা আলোয় চিকচিক করছিল। দেয়ালের গায়ে অদ্ভুত সব ছায়া কাঁপছিল যেন, কোনো প্রেতাত্মার নৃত্য, যা আসন্ন ভয়াল ঘটনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।
এই জমাট বাঁধা স্তব্ধতার বুক চিরে হঠাৎই সুফিয়ান একটি তলো’য়ার দেয়ালমুক্ত করল। বিদ্যুতের ঝলকের মতো সেই ধারালো ইস্পাত অন্ধকারে এক চিলতে ভয়ংকর আলো ছড়িয়ে দিল। সুফিয়ান-যাকে এতদিন সায়েম, আদিব, আরিব, এবং রায়ান শুধু তাদের অনুগত বন্ধু বলেই জানত, সে মুহূর্তে যেন এক অন্য সত্তায় আবির্ভূত হলো। তার শান্ত চোখের গভীরে লুকিয়ে থাকা হিং’স্রতা যেন হঠাৎ করেই বাঁধনহারা হয়ে উঠল। সেই চোখে এখন ক্রোধের আগু’ন, এক জমাট বাঁধা প্রতিশো’ধের উন্মত্ততা। বহুদিনের সঞ্চিত ক্ষোভ আজ তার সমস্ত চেতনাকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছে। তার হৃদপিণ্ড এখন প্রচণ্ড দ্রুতিতে স্পন্দিত হচ্ছে, যেন প্রতিটি স্পন্দন বলছে,আর দেরি নয়, আজই চূড়ান্ত বিচার। “তোদের দম্ভের দিন শেষ” সুফিয়ানের কণ্ঠস্বর সেই বিশাল ঘরে প্রতিধ্বনিত হলো, প্রতিটি শব্দ যেন ইস্পাতের মতো কঠিন ও তীক্ষ্ণ। “আজ আমি তোদের সেই পাপের মূল্যে বিচার করব, যে পাপ তোরা আমার নিরপরাধ ভাইয়ের সাথে করেছিস। তোদের মিথ্যা, তোদের ক্ষমতা আর তোদের অহংকার,সবকিছুর সমাপ্তি ঘটবে আজ।এই র’ক্তভেজা মেঝের ওপর।”
সায়েম, দীর্ঘদেহী এবং শক্তিশালী, প্রথমে হকচকিত হলেও পরক্ষণেই তার মুখে ভেসে এলো তাচ্ছিল্যের হাসি। সে তার উচ্চতা ও পেশী শক্তির অহংকারে অন্ধ। “সুফিয়ান? তুই একা? আমাদের এত অনুচরের সামনে এত সাহস দেখাচ্ছিস? তুই কি মরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিস?”থেমে সে হাতের ইশারায় তার অনুচরদের সুফিয়ানের দিকে এগিয়ে আসার নির্দেশ দিল। অনুচররা ধীরে ধীরে সুফিয়ানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল, তাদের চোখে উপহাস এবং সামান্য কৌতূহল। কিন্তু সুফিয়ান যেন এসব দেখেইনি। তার চোখ স্থির, দৃষ্টি লক্ষ্যভেদী। তার ডান হাতে ধরা তলো’য়ারটি সামান্য কাঁপছে, যেন সে কারো আদেশের অপেক্ষায়। শুরু হলো সেই ডান্ডব লীলা। এক ভয়াল সুন্দর ধ্বং’সযজ্ঞ, যা ন্যায় আর অন্যায়ের এক চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ।
সুফিয়ান কোনো কথা না বলে আচমকা ঝড়ের গতিতে অনুচরদের ধ্যান এড়িয়ে সায়েমের দিকে এগিয়ে গেল, তার গতি ছিল অবিশ্বাস্য। তার এই গতির জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না, বিশেষত সায়েম, যে কিনা সুফিয়ানকে একজন সাধারণ জমিদারই ভেবেছিল। তাঁর ভেতরে এত তেজ জেগে উঠতে পারে তা যেন ধারণার বাইরে ছিল। সায়েম আত্মরক্ষার সুযোগ পাওয়ার আগেই সুফিয়ান তার তলো’য়ারের বাঁকা প্রান্ত দিয়ে সায়েমের হাতে সজোরে আঘাত করল। ‘ক্র্যাক!’ এক তীক্ষ্ণ শব্দে সায়েমের হাতের ঢাল মেঝেতে পড়ে গেল, ইস্পাতের আ’ঘাত তার কব্জির হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল। সায়েম যন্ত্র’ণায় কুঁকড়ে যাওয়ার আগেই সুফিয়ান তার শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে তলো’য়ারটিকে শূন্যে তুলে এক নিমিষে সায়েমের বাম কাঁধ লক্ষ্য করে আঘাত করল। এই আঘা’তটি ছিল এক ক্রোধের প্রকাশ। তলো’য়ারটি সায়েমের কাঁধের বর্ম ভেদ করে গভীরে প্রবেশ করল। র’ক্তের উষ্ণ স্রোত সায়েমের দেহ বেয়ে নামতে শুরু করল, তার সাদা পোশাক নিমেষে র’ক্তে ভিজে গেল। সায়েম হাঁটু গেড়ে বসল, তার চোখে এখন অবিশ্বাস, তীব্র যন্ত্রণার মিশ্রণ। তার সমস্ত অহংকার যেন এক মুহূর্তে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। অনুচররা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল, তাদের এক নেতা এভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে,প্রথম আক্রমণেই ধরাশায়ী হবে তা তারা কল্পনাও করেনি। সুফিয়ান যেন এক মুহূর্তে তাদের কাছে দেবদূত থেকে দানবে পরিণত হলো।
আদিব,আরিব ও রায়ান একত্রিত হয়ে দাঁড়াল। তাঁরা বিমর্ষ চোখে একে অপরের সাথে চাওয়াচাওয়ি করল।কি থেকে হঠাৎ ঝড়ের গতিতে কি হয়ে গেল তাঁরা বুঝে উঠতে পারল না।
সায়েমকে সাময়িকভাবে কাবু করার পর, সুফিয়ান পিছু হেটে নিজের অবস্থান নিল, তলো’য়ারের ডগা থেকে র’ক্ত টপটপ করে মেঝেতে পড়ছে। এই দৃশ্য দেখে তিন ভাইয়ের মধ্যে প্রথম আদিব সাহস করে এগিয়ে এল। আদিব তুলনামূলক-ভাবে দ্রুত এবং হালকা-পাতলা গড়নের, সে যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষিপ্রতা এবং কৌশল প্রয়োগে বিশ্বাসী। সে হাতে তলো’য়ার নিয়ে ঝট করে সুফিয়ানের দিকে ছুটে গেল। তার লক্ষ্য ছিল সুফিয়ানের উন্মুক্ত গলা। আদিবের তলো’য়ার সুফিয়ানের দিকে আসতেই, সুফিয়ান অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় শুধু মাথা নিচু করল। তলো’য়ার তার মাথার ঠিক উপর দিয়ে সপাং করে বেরিয়ে গেল, সুফিয়ানের কানের কাছে বাতাসের শব্দ শোনা গেল। এই এক সেকেন্ডের সুযোগ কাজে লাগাল সুফিয়ান। তার তলো’য়ারের তীক্ষ্ণ প্রান্ত বিদ্যুৎ-গতিতে ঘুরল এবং আদিবের পা লক্ষ্য করে আঘাত হানল। আদিবের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেল, সে যন্ত্রণায় চিৎকার করে মেঝেতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে সুফিয়ান এক বিশাল লাফ দিয়ে তার উপরে উঠে এলো। সুফিয়ান এবার আদিবের হাতে থাকা তলো’য়ারটিকে আঘাত করে দূরে ছিটকে দিল, যেন একটি খেলনা। এরপর আরিব ও রায়ান একসঙ্গে চিৎকার করে ছুটে আসার আগেই সুফিয়ান আদিবের গলায় তলো’য়ারের হাতল দিয়ে আঘাত করল। সুফিয়ানের এই কৌশলটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত।সে আদিবকে হ’ত্যা না করে শুধু অচেতন করল, যাতে বাকিদের মনে ভয় আরও গভীরভাবে গেঁথে যায়। আদিব সঙ্গে সঙ্গে চেতনা হারালো এবং স্তূপের মতো মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।
আদিবের পতন দেখে আরিব ও রায়ানের মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট হলো, কিন্তু পিছু হটার সুযোগ তাদের ছিল না। তারা বুঝল, সুফিয়ানকে সাধারণ ভাবাটা ছিল তাদের চরম ভুল, সে ছিল এক ভ’য়ংকর তলো’য়ারবাজ। তারা দু’জন দু’দিক থেকে সুফিয়ানকে আক্রমণ করার কৌশল নিল। আরিবের আক্রমণ ছিল ডানদিক থেকে, একটি ভারী গদা হাতে। সে চেয়েছিল তার গদার প্রচণ্ড আঘাতে সুফিয়ানের তলো’য়ারকে অকেজো করে দিতে এবং তাকে নিরস্ত্র করতে। রায়ানের আক্রমণ ছিল বাম দিক থেকে, দ্রুতগতির, একটি কুঠার হাতে। সে চেয়েছিল আরিবের গদার আঘাতের পর সুফিয়ানের প্রতিরক্ষার সুযোগ না দিতে। এই দ্বৈত আক্রমণ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যে কোনো সাধারণ যোদ্ধাকে পরাস্ত করার জন্য যথেষ্ট। সুফিয়ান সেই মুহূর্তে এক অভাবনীয় কৌশল নিল। সে আরিবের ভারী গদার আঘাতকে সরাসরি প্রতিহত না করে, গদাটির দিক পরিবর্তন করে দিল। সুফিয়ান তার তলোয়া’রের ব্লেডটি সামান্য কাত করে আরিবের গদাটি এমনভাবে ঠেকালো যে গদাটি সপাং করে পাশে সরে গেল এবং গতির অভাবে মেঝেতে গেঁথে গেল। আরিবের হাত থেকে গদাটি প্রায় ফসকে যাওয়ার উপক্রম হলো। একই মুহূর্তে রায়ানের কুঠার সুফিয়ানের শরীরের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছিল। সুফিয়ান বিদ্যুৎ-গতিতে পিছন দিকে এক কদম সরে গিয়ে কুঠারের লক্ষ্যপথ থেকে সরে গেল। কুঠারটি সপাং করে দেওয়ালে আঘাত হানল।
দেওয়ালে গভীর ফাটল সৃষ্টি হলো।সুফিয়ানের এই দুটি দ্রুত চালের পর আরিব এবং রায়ানের শরীরের ভারসাম্য এখনো ঠিক হয়নি, তারা তাদের অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আগেই সুফিয়ান তার তলো’য়ারটিকে একটি ঘূর্ণায়মান চক্রের মতো ব্যবহার করল। আরিবের উন্মুক্ত কোমরে প্রথম আঘাতটি হানা হলো, যার ফলে তার বর্ম ভেদ করে গভীর ক্ষ’ত সৃষ্টি হলো। আরিব যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠতেই, সুফিয়ান পিছন ঘুরে এসে রায়ানের দিকে তাকাল। রায়ানের কুঠার তখনো দেওয়ালে গেঁথে। এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল সুফিয়ান। “আজ আর নিস্তার নেই, রায়ান!” এক তীব্র হুঙ্কার ছেড়ে সুফিয়ান রায়ানের বুক লক্ষ্য করে তলো’য়ার চালাল। রায়ান নিজের হাতে সুফিয়ানের তলো’য়ারকে থামানোর বৃথা চেষ্টা করল, কিন্তু ইস্পাতের ধার তার হাতের হাড় মাংস ভেদ করে সপাং করে তার বক্ষঃদেশে আঘাত করল। রায়ানের দেহ থেকে জীবনের শেষ শক্তিটুকু নিস্তেজ হয়ে গেল। সে লুটিয়ে পড়ল আদিবের দেহের পাশে।
চার প্রধান প্রতিপক্ষ- কেউ আহত,কেউ নিহত।সায়েম আহত। আদিব অচেতন। আরিব গুরুতর আহত। রায়ান নিহত। সরদার এর ছেলেরা প্রায় অক্ষম,তখন বাকি অনুচরদের মধ্যে চরম আ’তঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। তাদের সংখ্যা এখন ছয়জন।কিন্তু তাদের চোখে এখন মৃ’ত্যুভয়। ঝিলমিল দেয়ালঘেঁষে ভয়ে আধমরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সুফিয়ানের চোখের সেই ভয়াল আগুন, তার হাতে তলোয়া’রের প্রতিটা ঝলকানি যেন অনুচরদের হৃদয়ে মৃ’ত্যুভয় জাগিয়ে তুলেছিল। সুফিয়ান তার তলোয়ারের ধার মেঝেতে ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে অনুচরদের দিকে এগিয়ে গেল। তার হাতে এবং পোশাকে তখন সায়েম ও রায়ানের র’ক্ত লেগে, সেই র’ক্ত যেন তার উন্মত্ততাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
“তোরা সবাই ওঁদের পাপের অংশীদার”
সুফিয়ান চাপা গলায় বলল। “তোদের হাতে নিরীহ মানুষদের র’ক্ত এখনো লেগে আছে। আজ আমি তোদের সেই র’ক্তের মূল্যে বিচার করব। তোদের দলনেতা যখন অন্যায় করেছে, তখন তোরা চোখ বুজে ছিলিস। আজ তোদের সেই নির্বাক থাকার মূল্য দিতে হবে।”
অনুচররা তখন পালানোর পথ খুঁজছিল, কিন্তু গোপন ঘরের দরজা ছিল সুফিয়ানের পিছনে। তাদের মধ্যে একজন,তখন সাহস করে পিছন দিকে সরে গিয়ে একটি কাঠের টুকরো হাতে তুলে নিল। কিন্তু তাঁর কাঠের টুকরো তোলার আগেই সুফিয়ানের তলো’য়ারের ঘূর্ণন শুরু হলো। প্রথম অনুচরকে লক্ষ্য করে সুফিয়ানের তলোয়া’র তার হাতের কাঠের টুকরোর সাথে আঘাত করে টুকরোটিকে দু’ভাগ করে দিল। এরপর এক পলকের মধ্যে তার ঘাড় লক্ষ্য করে সুফিয়ান তীব্র আঘাত হানল,অনুচর মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। দ্বিতীয় অনুচর,পালানোর জন্য দরজার দিকে ছুটছিল। সুফিয়ান তাকে ধাওয়া না করে, সপাং করে তলো’য়ারের ডগা দিয়ে একটি শিকল লক্ষ্য করে আঘাত করল। শিকলটি ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়ে তীব্র গতিতে ওঁর পিঠের দিকে ছিটকে গেল।অনুচর যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। বাকি অনুচররা তখন পালানোর সব আশা ছেড়ে দিয়ে একসঙ্গে সুফিয়ানের দিকে তাদের ভাঙা অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সুফিয়ান ওঁদের আ’ক্রমণকে এক ভয়ানক কৌশলে প্রতিহত করল। প্রথমে সে দ্রুতগতিতে একজনের তলো’য়ারকে অন্যদিকে সরিয়ে দিল, তারপর সেই মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয়জনের পেটে তার তলো’য়ারের বাঁকা অংশ দিয়ে আঘাত করল, এরপর তৃতীয়জনের দিকে তার শরীরের সমস্ত ভর দিয়ে ধাক্কা মারল। তারা তিনজনই আঘাত পেয়ে বা ধাক্কায় দেওয়ালে আঘাত খেয়ে অচেতন হয়ে গেল। ঘরের কেন্দ্রে তখন শুধু সুফিয়ান দাঁড়িয়ে। তার চারপাশে পড়ে আছে আদিব-দের,অনুচরদের অর্ধ-নিষ্প্রাণ দেহ।
তলো’য়ারের ধার থেকে র’ক্ত চুঁইয়ে পড়ছে মেঝেতে। এই দৃশ্য ছিল র’ক্তক্ষয়ী ধ্বং’সের এক করুণ পরিণতি। সুফিয়ান তখন তার শেষ লক্ষ্যবস্তু গুরুতর আ’হত সায়েমের দিকে তাকাল। সায়েম দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে, তার চোখ দিয়ে অবিশ্বাসের অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে, তার দম্ভ এখন চরম হতাশা ও ভয়ে পরিণত।
“কেন সুফিয়ান? কেন মারলি?” সায়েম ক্ষীণ কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল। সুফিয়ান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে গেল। তার চেহারা পাথরের মতো কঠিন। “কারণ, আমার ভাইয়েরা নিরপরাধ ছিল।আমার ভালোবাসার মানুষটির সাথে চরম অন্যায় করেছিস।তোরা তোদের ক্ষমতার জন্য আমার পরিবারকে ধ্বং’স করেছিস, আর তার বিনিময়ে তোরা আমার কাছ থেকে কী আশা করিস? দয়া? না, সায়েম, আজ শুধু বিচার। প্রকৃতির বিচার হবে।”
সুফিয়ান তার তলোয়া’রটিকে উঁচু করল। সেই ধারালো ইস্পাতে ঘরের আবছা আলো প্রতিফলিত হলো, ঠিক যেন মৃত্যুর দেবদূতের শেষ আহ্বান। “ডান্ডব লীলা শেষ,সায়েম। এবার বিচার।মৃ’ত্যু কতটা কঠিন, এখন অনূভুব করবি”
এরপর এক তীক্ষ্ণ শব্দ সেই গোপন ঘরের সব নীরবতাকে চূর্ণ করে দিল। সুফিয়ান তার তলো’য়ারটি সায়েমের হৃদপিণ্ড লক্ষ্য করে সপাং করে গেঁথে দিল। সায়েমের চোখ দুটি বিস্ফারিত হলো, তার মুখ দিয়ে একটা শেষ চিৎকার বেরিয়ে আসার আগেই সে চিরতরে নীরব হয়ে গেল। সুফিয়ান তার তলো’য়ারটি সায়েমের দেহ থেকে বের করে আনল।
আদিব আধমরা অবস্থায় পড়ে আছে।চোখে মৃ’ত্যুভয় থাকলেও কোথাও যেন তাঁর পাপের অনুশোচনা দেখা গেল না।সুফিয়ান তাঁর সামনে গিয়ে বসে কঠিন গলায় বলল “ফারদিনা নিষ্পাপ ছিল। ওঁর কোন দোষ ছিল না।খুব ইচ্ছে ছিল আমার সাথে সংসার বাঁধার। একজন সাধারণ কৃষক কে ভালোবেসেছিল।আর তোরা কি করলি,ওকে শেষ করতে বাধ্য করলি, মস্ত বড় অন্যায় করেছিস তোরা।তোদের পন্ডিত বলেছে না,ফারদিনার মৃ’ত্যু হলে তোদের জমিদারি টিকবে, বংশ বিস্তার লাভ করবে,দেখ,আমি সবকিছু শেষ করে দিয়েছি।পরকালে গিয়ে তোদের পন্ডিতকে ডাকিস।”
থেমে সুফিয়ান এক রহস্যময় হাঁসি দিয়ে আবার বলল “ মৃ’ত্যুর আগে শেষ একটা সত্য কথা জেনে যা, নূরজাহান এর বিয়েটা যোদ্ধার সাথে আমিই দিয়েছিলাম।তুই পিয়াশার সাথে যা করেছিস,সেই সত্য নূরজাহান কে, এবং ওঁর বাবাকে আমিই জানিয়ে দেই। এরপর ওঁর বাবা এবং আমি মিলেই নূরজাহান এর বিয়ে দেই। ওঁর ইচ্ছে ছিল না বিয়ে করার, কিন্তু..!আর যাই হোক,তোর জীবন থেকে অন্তত ওকে সরিয়ে তো দিয়েছি। নিজের প্রিয় মানুষটি বেইমানি করলে ঠিক কতটা কষ্ট হয়,সেটা তো তোকে বুঝিয়েছি।”
আদিব কিছু বলতে চাইল সুফিয়ান কে।সুফিয়ান তাঁকে শেষ কথা বলার সুযোগটুকু না দিয়ে তলো’য়ারটি আদিবের পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল।আদিব এর চোখ দুটো শূন্যে উঠে গেল। এরপর জায়গায় লুটিয়ে পড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।একই সঙ্গে শেষ আঘা’ত করল আরিব কে।আরিব সহজেই শরীরের বলশক্তি ছেড়ে মৃ’ত্যুর জন্য ছটফটানি শুরু করল।
সুফিয়ান তলো’য়ারটিকে রেখে দিল না। বরং সে সেটিকে হাতে ধরেই রইল। বিরাট গোপন ঘরটি এখন র’ক্ত আর মৃ’ত্যুর গন্ধে ভারাক্রান্ত। মেঝেতে ছড়ানো অনুচরদের দেহ, তাদের ভাঙা অ’স্ত্রশস্ত্র, আর দেয়ালের গায়ে র’ক্তের ছোপ।এই দৃশ্য এক পাপীদের শেষ যাত্রার সমাপ্তির মতো। সুফিয়ান হেঁটে ঝিলমিল এর দিকে গেল।ঝিলমিল মিনতি কন্ঠে বলল “সুফিয়ান ভাই,আমারে ছাইড়া দেন,আমি ভুল করছি, অর্থের লোভে নিজের বন্ধুর লগে বেইমানি করছি।”
সুফিয়ান ঝিলমিল এর চোখে মৃ’ত্যুর দেখছে। তাঁর বেশ আনন্দ হচ্ছে। প্রচুর আনন্দ হচ্ছে।বলল “ভয় নেই, তোকে আমি আমার হাতে মা’রব না। তোকে বাঘের খাদ্য বানাব।” বলে বাঘের খাঁচায় ঝিলমিল কে ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দিল খাঁচাটি।বা’ঘটি ঝিলমিল এর শরীর এর গন্ধ নিতে শুরু করে। ঝিলমিল বাড়ে বাড়ে সুফিয়ান কে ডাকতে শুরু করল।কাজ হল না।আজ যেন ওঁর ডাক আর কেউ শুনবে না।কেউ না। ক্ষুধার্ত বা’ঘটি সময় না নিয়ে ঝিলমিল কে নিজের খাদ্য বানিয়ে ফেলল।ওর প্রথম ধাবার সাথে সাথে ঝিলমিল এর র’ক্ত ছিটকে সুফিয়ান এর গলার কাছে এল। সুফিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে পরিতৃপ্তের হাঁসি দিল।
এই র’ক্তক্ষয়ী ডান্ডব লীলাও সুফিয়ান কে কোনো শান্তি দেয়নি, বরং এক গভীর শূন্যতা তাকে গ্রাস করে ফেলল নতুন ভাবে। সে জানে, এই প্রতিশো’ধের মূল্য তাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দিতে হবে।এ যেন ভয়া’বহ এক প্রতিশো’ধ ছিল। যেখানে সুফিয়ান তাঁর বেঁচে থাকার অংশটি নিজের হাতে কো’রবান করেছে।
জেগে ওঠা তেজ পরক্ষণেই মিশিয়ে গেল তাঁর। সুফিয়ান বসল ফারদিনার মৃ’ত দেহের কাছে।মন ভরে দেখছে দেহটি। তাঁর চোখের জল গড়িয়ে পড়ল ফারদিনার কপালে। কুদ্দুস এতক্ষণ সুফিয়ান এর তেজ দেখেছিল। এখন দেখছে তাঁর হাহা’কার। আর্তনাদ।
স্বপ্ন। সবকিছু একটা দুঃস্বপ্নের মত হয়ে যেত!ঘুম ভেঙ্গে সুফিয়ান দেখত সবকিছু ঠিকঠাক আছে।ফারদিনা বেঁচে আছে। তাঁর সঙ্গেই আছে।আজ সুফিয়ান নিজেকে একটি স্বপ্নের জগতে দেখতে চাইছে। কিন্তু তা যেন আর সম্ভব নয়। নেই!তাঁর প্রিয় মানুষটি আর বেঁচে নেই। তাঁর জীবন হতে অনেক দূরে চলে গেছে।যতটা দূরে গেলে আর ফিরে আসা যায় না।
সুফিয়ান ফারদিনার মুখমণ্ডল এর দিকে চেয়ে এক বিষাদ ভরা কন্ঠে বলল _“চেয়েছিলাম তোমাকে লাল শাড়িতে বিয়ের সাজে দেখব।কিন্তু দেখো,কি করুণ ভাগ্য আমার, আজ তোমাকে সাদা কাফনে শেষ বিদায়ের সাজে দেখতে হবে।_”
কুদ্দুস কেঁদে কেঁদে বলল “ভাই আজকের এই দিন দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।ওই হা’য়না গুলোর ধ্বং’স হোক,সেটা সবসময় চাইতাম। কিন্তু ফারদিনা এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, কখনো ভাবতে পারিনি।”
সুফিয়ান শীতল কন্ঠে বলল “তোরা যখন ওঁর কবর খুঁড়বি,তখন একসাথে দুটো ক’বর খুড়বি।যেই জগতে ফারদিনা নেই, সে-ই জগতে আমি থাকতে চাই না।”
“এটা অসম্ভব!’ কুদ্দুস বলল।
The Silent Manor part 47
সুফিয়ান অদ্ভুত হেসে বলল “আমার বেঁচে থাকা অসম্ভব।যদি বেঁচে থাকি তবে, প্রতিনিয়ত ফারদিনার শূন্যতা আমায় ঠুকরে ঠুকরে খাবে।আমি নিজে’র হাতে ফারদিনাকে মে’রে ফেলেছি।এই পাপের অনুশোচনায়, যন্ত্র’ণায় আমি ধীরে ধীরে মরব। তারচেয়ে ভালো একেবারে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব।”

Atota voyaboho na holew parto