Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২২

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২২

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২২
আরাফাত আদনান সামি

কৌশিক মায়ার কথা শুনে মুচকি হেসে নিজের বুক থেকে ধীরে ধীরে মায়ার মুখ সামান্য তুলে, আলতো করে দু’হাত দিয়ে তার দুই গাল টেনে বলল,
“ওলে, আমার কিউট বেগম রেহ্..!”
মায়া কিঞ্চিত লজ্জা পেল অতঃপর মায়া কৌশিককে চমকে দিয়ে তার দু’হাত কৌশিকের গালগুলোতে আলতো রাখল, তারপর কৌশিককে নিজের দিকে হলকা টেনে এনে কপালের উপর একটা মৃদু চুমু একে দিয়ে দুষ্টু’ই ভরা স্বরে বলল,
“ওলে, আমার অসভ্য জনাব রেহ্..!”

কৌশিক মায়ার এমন আচরণে রীতিমতো থমকে গেল। বিস্ময়ের রেখা মুখে ছড়িয়ে পড়তেই সে ধীরে ধীরে নিজের মুখটা মায়ার দিকে ঝুঁকিয়ে এনে ঠোঁটের ওপর আঙুল রেখে ঠোঁটের দিকে ইশারা করে নরম স্বরে বলল,
“চুমু যখন দিলিই,তাহলে এখানে আরেকটা কড়াহ্ করে চুমু খা।”
মায়া ভ্রুকুচকালো।
“ইশ্… শখ কত।”
কৌশিক মায়ার দিকে চোখ সরু করে তাকাল।
“খা না।”
মায়া মাথা নেড়ে বলল,
“পারবো না।”
“কেনো পারবি না?”
মায়া চোখ নামিয়ে নরম গলায় বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“না, তার আগে আপনি এটা বলুন যে পারবেন তো আপনার এই কিউট বেগমকে ঠিক এইভাবেই অনন্তকাল নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে আগলে ধরে রাখতে?”
মায়ার কথায় কৌশিকের চোখে মায়ার জন্য অদ্ভুত এক কোমলতা নেমে এল। সে গভীর নিশ্বাস ফেলে বলল,
“সেটা আর বলতে? একদম বুকের সাথে শক্ত করে ঝাপটে ধরে রাখবো। এত ধরার পরেও যদি তুই কুইচা মাছের মতো পিছলে বেরিয়ে যেতে চাস তাহলে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখবো। তাও ধরে রাখবো।এক কথায়,নো ছাড়ি ছাড়ি অনলি বাঁধা বাঁধা।”
কৌশিকের কথাটা শেষ হতেই মায়ার পুরো শরীর শিউরে উঠল কিছুটা লজ্জাও পেল। লোম খাড়া হয়ে গেল তার।কিন্তু মুখটা কুঁচকে বিরক্ত স্বরে বলল,
“ওয়াক থু! কীসব বলেন আপনি! আর আমি কী কুইচা মাছ নাকি, যে পিছলে যামু?”
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে বলল,

“ওয়াক থু মারাস কেন! মেয়ে মানুষ বলে কথা যেতেও তো পারিস, বলা তো আর যায় না।”
মায়া কৌশিকের দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলল,
“থাকেন আপনি আপনার কথা নিয়ে। আমি এখনই গেলাম এখান থেকে।”
এই বলে মায়া উঠে দাঁড়াল। ঠিক যখন চলে যাবার জন্য পা বাড়ালো, তখনই কৌশিক দ্রুত হাত বাড়িয়ে তার এক হাত ধরল। হালকা কিন্তু দৃঢ় এক টানে মায়াকে কাছে টেনে নিজের বাহুর সঙ্গে মিশিয়ে জড়িয়ে ধরে ফেলল।মায়াকে জরিয়ে ধরে দুষ্টু এক হাঁসি হেঁসে বলল,

“২ ইঞ্চি মেয়ের আবার রাগ কিনা ১০ ইঞ্চির মতো!”
কথাটা শুনে মায়া ভ্রু কুঁচকালো। তারপর হালকা রাগে কৌশিকের বুকে আলতো একটা পাঞ্চ মেরে বলল,
“আমি ২ ইঞ্চি?”
কৌশিক মুচকি হেঁসে মাথা নেড়ে জবাব দিল,
“হ্যাঁ।”
মায়া ভ্রকুচকে কুচকে বলল,
“মোটেও না! আমি ৫ ফুট ২ ইঞ্চি।”
মায়ার কথায় কৌশিক খিলখিল করে হেসে উঠল।
“ইশ্! খুব বড় হয়ে গেছিস বুঝি?”
এই কথায় মায়া আর কিছু বলল না শুধু আড়চোখে কৌশিকের দিকে তাকিয়ে দুষ্টু একটা ভেংচি কাটল। কৌশিক হাসিটা থামিয়ে আবার বলল,

“ফুফা–ফুপি তো বেশ লম্বা। কিন্তু তুই এত খাটো কেন, মায়া?”
কথাটা শুনে মায়ার কপাল কুঁচকে গেল। একটু রাগী স্বরে বলল,
“আমি মোটেও খাটো না! আপনিই বেশিই লম্বা।”
কৌশিক মুচকি হেসে সামনে থেকে একটু ঘুরে মায়াকে পেছন থেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল।
“তাই?”
মায়া একটু ভেবে, ঠোঁট কামড়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল,
“এত লম্বা হয়ে লাভ কী? সেই তো ওঠবস করতে হবে এই পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি বউয়ের কথাতেই।”
কৌশিক হেসে মায়ার কাঁধে মাথা রেখে বলল,
“ওরে আমার পাকনা বুড়ি,তুই তো দেখছি দিনে দিনে আরো পেকে যাচ্ছিস।”
মায়া মুখে নাটকীয় ভাব এনে দুষ্টু স্বরে বলল,

“আমার কী দোষ?আপনি যে হাড়ে প্রতিদিন ফরমালিন লাগান, না পেকে আর যাবো কোথায়? এখন আর করার কিছু নেই,আপনার ডোজের ফল, এখন আপনিই ভোগ করেন।”
কৌশিক এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মায়ার কথায় তার মুখে বিস্ময় আর দুষ্টু আনন্দ একসাথে ফুটে উঠল। পরক্ষণেই সে মায়াকে পেছন থেকে সামনে ঘুরিয়ে আনল। দু’হাত দিয়ে মায়ার পে*ট বেয়ে কোমর শক্ত করে ধরে টেনে নিল নিজের দিকে। তারপর মুখটা মায়ার মুখের কাছে এনে গভীর, ঘোর-লাগা কণ্ঠে বলল,
“না সুইটহার্ট, ঠিক আছে। এইভাবেই চালিয়ে যা। রোমান্সের সময় দারুণ কাজে লাগবে।”
মায়া একটু নড়েচড়ে উঠল, কৌশিকের চোখের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটল,

“অসভ্য।”
মায়া এ কথা বলেই হঠাৎ থেমে গিয়ে মুখটা কুঁচকে আবার বলল,
“আউচহ্…”
কৌশিকের মুখের ভাব সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল।
“কী হয়েছে মায়া? কী হয়েছে কোনো সমস্যা?”
মায়া বিরক্ত মুখে গলা চড়িয়ে বলল,
“এখনকার মশারা কি মুখে সুচ লাগিয়ে কামড়ায় নাকি?”
“কী হয়েছে সেটাও তো বলবি নাকি!”
মায়া বিরক্ত মুখে গুঙিয়ে উঠল,
“দেখতে পাচ্ছেন না? এখানে কতগুলো মশা! আপনি থাকেন এখানে, আমি নিচে গেলাম। মশার কামড় খাওয়ার এত শখ নাই আমার।”

এ কথা বলে মায়া একটু থামল, তারপর আবার মুখ কুঁচকে বলল,
“এই ছাড়ুন তো! আমি নিচে যাবো। কয়টা বাজে খেয়াল আছে?”
কৌশিক এবার তার কোমরটা আরও শক্ত করে টেনে কাছে আনল।
“যয়টা মন চায় বাজুক কিন্তু তুই এখান থেকে এখনি কোথাও যাবি না।”
মায়া কোনো উত্তর দিল না। বদলে সে হাত বাড়িয়ে পিঠের সেই জায়গাটায় চুলকাতে গেল, যেখানে কিছুক্ষণ আগে মশা কামড় বসিয়েছিল। কিন্তু হাত সেখানে পৌঁছালো না। কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় বিরক্তি তার মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠল।কৌশিক সেটা লক্ষ্য করেই হালকা হাসি চাপা স্বরে বলল,

“উল্টো ঘুর।”
কৌশিকের কথায় মায়া হঠাৎ চমকে উঠল।
“কেনো?”
কৌশিকের গলায় আধা বিরক্তি, আধা আদেশের মিশেলে বলে উঠল,
“এত কথা বলিস কেন? ঘুরতে বলেছি ঘুর।”
মায়া ভ্রু কুঁচকে বলল,
“না, আমি পারবো ন…”
মায়া কথাটা শেষ করার আগেই কৌশিক হঠাৎই তাকে ঘুরিয়ে দিল উল্টো দিকে। অপ্রস্তুত হয়ে মায়া হতচকিত স্বরে বলে উঠল,
“কী করছেন কৌশিক ভাই?”
কৌশিক দুষ্টু হাসি চেপে রেখে বলল,
“যেমন শরীর,তার তেমন হাত। কোথায় চু*ল*কি*য়ে দিতে হবে বল।”
মায়া লজ্জায় ঠোঁট কামড়ে বলল,

“জানি না…”
কৌশিক এবার গলা নিচু করে ঘোর লাগা স্বরে বলল,
“কী হলো বল, না হলে কিন্তু তোর সারা পি…”
কৌশিকের কথাটা অর্ধেকেই থেমে থাকা অবস্থায় মায়া তড়াক করে বলে উঠল,
“এই না না! পি*ঠে*র বাম সাইডে একটু মাঝামাঝিতে। কিন্তু তার বেশি কিছুর দরকার নেই, প্লিজ।”
কৌশিক মুচকি হেসে, গলার স্বর আরও নরম করে বলল,
“কেনো? কাকুকুতু লাগে?”
কৌশিকের কথায় মায়ার গাল লাল হয়ে গেল। লজ্জায় যেন গোটা মুখটাই ঢেকে ফেলল সে। হালকা নরম স্বরে বলল,
“ইশ্, মুখে একটু লাগাম লাগান তো।”
কৌশিক ভ্রু তুলে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“কেনো? ভুল কিছু বললাম?”
মায়া মুখ ফিরিয়ে নিচু গলায় বলল,
“জানেনই যখন, তাহলে বলার কী দরকার ছিল!”
কৌশিক হাসল।

“ঠিক আছে, আর বলবো না তুই সোজা হয়ে বস।”
সৌশিকের কথা মতো মায়া সোজা হয়ে বসে পড়ল।কৌশিক কথাটা বলে সে ধীরে ধীরে মায়ার পিঠের ওপর নেমে থাকা চুলগুলো এক হাতে সরিয়ে দিল। চুল সরে যেতেই কৌশিকের আঙুল পিঠে আলতো ছোঁয়া দিতেই,মায়ার পুরো শরীর যেন কেঁপে উঠল। আবেশে দু’চোখ বন্ধ হয়ে গেল তার।কৌশিকের উত্তাল, জ্বালাময়ী আঙুলের স্পর্শে মায়ার শরীরের প্রতিটি লোম খাড়া হয়ে উঠল।সে সহ্য করতে না পেরে সরে যেতে চাইলো,কিন্তু কৌশিকের শক্ত, নিশ্চল বাহুর বাঁধনে আটকে গেল। কৌশিক ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে ফিসফিস করে বলল,
“এখন আরাম পাচ্ছিস, সুইটহার্ট?”
মায়া কী বলবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তার শরীর বারবার শিরশির করে উঠছে, নিঃশ্বাস কেঁপে কেঁপে যাচ্ছে।চোখ বুজে, লজ্জা আর আবেশের মিশ্রণে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সে অনুনয় করল,

“হ্… হ্… হ্যাঁ…”
মায়ার এই স্বীকারোক্তির শুনে কৌশিকের ঘোরলাগা কণ্ঠস্বরে উষ্ণতা নেমে এল মায়ার ঠিক কানের গোড়ায়। নিঃশ্বাসের ছোঁয়ায় মায়ার কাঁধে হালকা কম্পন ছড়িয়ে পড়ল।
“সুইটহার্ট, আর একটু জোরে দেই তাহলে?”
মায়া তৎক্ষণাৎ মাথা নাড়ল। ভয়, লজ্জা আর আবেশ মিশে তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল,
“না-হ্…আর জোরে দিয়েন না ব্যথা পাবো।”
কৌশিক সাথে সাথে থেমে নরম স্বরে বলল,
“ঠিক আছে।”

সে আবার ধীরে, কোমল ছন্দে আঙুল চালাতে লাগল মায়ার পিঠজুড়ে।আঙুলের নরম, উষ্ণ চাপায় মায়ার শ্বাস ক্রমেই ভারী হয়ে উঠছিল, পিঠের ত্বক যেন উত্তাপে দপদপ করছিল।ঠিক তখনই মায়া আচমকা বলে উঠল,
“ছাড়ুন, কৌশিক ভাই আমার হয়ে গেছে। আর করতে হবে না আপনাকে।”
মায়ার কণ্ঠে অভিমান নেই, রাগ নেই শুধু লাজুক অনুরোধ আর হালকা কাঁপুনি। কৌশিক থেমে গেল। তার চোখে যেন মায়ার এই ভঙ্গিটুকু আরও কোমল কিছু রঙ নিয়ে ফুটে উঠল। কৌশিক ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,
“কিন্তু সুইটহার্ট আমার তো এখনো হয় নি!”
“মানা?”
মায়ার একথা যেন পৌঁছালই না কৌশিকের কানে।

হঠাৎই সে পিঠে চলা নিজের আঙুল থামিয়ে মায়াকে উল্টো দিক থেকে শক্ত এক টানে টেনে নিল আরও কাছে। মায়া বিস্ময়ে কিছু বলার আগেই কৌশিক মুখ গুঁজে দিল তার উন্মুক্ত ঘাড় আর কাঁধে। অপ্রস্তুত মায়ার পুরো শরীর কেঁপে উঠল। ঠোঁটের হালকা, উষ্ণ স্পর্শে তার নিঃশ্বাস যেন থমকে গেল। কিছু বলতে চাইল, কিন্তু শব্দ বের হলো না। কৌশিক ধীরে ধীরে মায়ার ঘাড়জুড়ে ছড়িয়ে দিল নিঃশ্বাসের ছোঁয়া। মায়া কাঁপা গলায় অবশেষে বলতে পারল,
“ক-ক-কী করছেন কৌ… কৌশিক ভাই… ছাড়ুন… আমাদের এই অবস্থায় কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে!”
কৌশিক তার কথা উপেক্ষা করে মুখটা নিয়ে গেল মায়ার কানের কাছে। ঘোরলাগা গভীর কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
“দেখো আমার কী? আমার বউকে আমি আদর করছি তাতে কার বা*লে*র কী?”
মায়া চোখ বড় করে অবাক হয়ে বলল,

“আমি আপনার বউ হয়েছি এখনো?”
কৌশিক হেসে উঠল,
“না, কিন্তু পরীক্ষার পরে হবি তো নাকি!”
মায়া ঠোঁট কামড়ে বলল,
“যখন হবো তখন দেখা যাবে। এখন আমাকে ছাড়েন।”
কৌশিক দুষ্টু হাসি টেনে বলল,
“উম্’ম্ সুইটহার্ট আরেকটু প্লিজ…”
মায়া বিরক্ত হয়ে ধমক দিল,
“অনেক হইছে, ছাড়েন তো।”
অবশেষে অনেক চেষ্টার পর মায়া নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলো। মায়াকে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই কৌশিক মুখ ভার করে বলল,

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২১

“ধ্যাৎ! সবসময় তুই এমন করিস।মুডের পুরো ১৩টা বাজিয়ে দিস আমার।”
মায়া ছোট্ট একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে জবাব দিল,
“ভালো করি।”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২৩