অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৭
নুরিয়া ইসলাম
USC ক্যাম্পাসে বিকেলের নরম আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আদিলের হাতে দুইটা বই, কাঁধে ব্যাগ, চোখে চশমা, চেহারায় নিরীহ কৌতূহল। ”
“লাইব্রেরির দিকে হাঁটছে সে। হাতে রিজার্ভ করা বইয়ের লিস্ট, মুখে হালকা টেনশন,আজ বই না আনলে প্রফেসর সত্যিই তাকে গিলে ফেলবে!”
ওদিকে জুলি আসছে ক্যানটিন থেকে, হালকা নীল টপে, মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট । ফোনে কারো সাথে রাগান্বিত গলায় কথা বলতে বলতে আনমনে হাঁটছে সে। হঠাৎ তার হিল আটকে যায় পাথরে, পা মচকে সামনের দিকে ঢলে পড়ে যেতে থাকে।জুলি অসহায়ভাবে বলে ওঠে, “উফ্!”
“ঠিক সেই মুহূর্তে আদিল চোখ দুটো ফোন থেকে সরিয়ে , দৌড়ে এগিয়ে এসে জুলির কোমর জড়িয়ে ধরল। “সময় যেন সেখানেই স্থির হয়ে রইল।” জুলির চুল উড়ে এসে আদিলের মুখ ছুঁয়ে যায়। এক সেকেন্ডের জন্য চারপাশ স্তব্ধ হয়ে যায় ।
আদিলঃ “ঠিক আছেন আপনি?”
জুলি, তৎক্ষণাৎ আদিলের হাত ছুঁড়ে ছাড়িয়ে বলে উঠে,
” কি সমস্যা তোমার, আমায় ধরলে কেন? আমি নিজেকে ঠিক সামলে নিতে পারতাম!”
আদিলঃ “বাট… আপনি তো পড়েই যাচ্ছিলেন!”
জুলি আদিলের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলে,
“তাই বলে ছুঁয়ে ধরার মানে কী? ছেলেরা “না…” সব এক রকম! সুযোগ পেলেই ছুঁতে চায়!”
জুলির কথা শুনে আদিল রেগে বলে উঠে,
“সব ছেলেকে এক পাল্লায় মাপবেন না, প্লিজ! সাহায্য না করলে তো এখন মাটিতে পড়ে থাকতেন!”
জুলিঃ “কে বলেছে, তোমায় সাহায্য করতে? আমি কী বলেছি, এসো আমাকে সাহায্য কর। আমার তোমার সাহায্যের প্রয়োজন।দেখে তো মনে হচ্ছে তুমি আমার ছোট, মাই গড, তুমি তো ফার্স্ট ইয়ার? তুমি জানো আমি কে?”
আদিলঃ “হ্যাঁ, জানি। আপনি হলেন মিস জুলি মার্টিন, ওই বেপরোয়া, অভদ্র এরিক অ্যাসফোর্ডের ফ্রেন্ড। আর আপনি যে rude সেটা এখন জানলাম।”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
জুলিঃ “Stay out of my way, okay?”
আদিল: “Sure ম্যাডাম! But next time যদি আবার পড়ে যান, আমি আর ধরবো না। Promise!”
জুলি কিছুক্ষণ রাগী দৃষ্টিতে আদিলের দিকে তাকিয়ে সেইখান থেকে চলে গেল। “জুলি চলে যেতেই আদিল একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠলো,”
“বাবরে বাব, কী ভয়ংকর মুড? ”
“এমন attitude নিয়ে কেমনে চলে সবাই! ”
লাইব্রেরির বইগুলোও মনে হয় এত rude না।”
ইনায়া ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, বিকেলের নরম আলোয় তার মুখটা শান্ত আর অপেক্ষারত লাগছিলো। আদিল লাইব্রেরিতে, সে ফিরবে, এই আশায় ইনায়া রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ, নিস্তরঙ্গ বিকেলকে চিরে, কালো রঙের এক রোলস্ রোয়েস এসে থামে ইনায়ার সামনে। ইনায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই,গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসে এক অজানা হাত তীব্র, দৃঢ়, অথচ অদ্ভুত কোমলতায় ইনায়াকে টেনে নেয় গাড়ির ভেতরে। চারপাশের পরিচিত পৃথিবী মুহূর্তেই হারিয়ে যায়, নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরে সবকিছু। শুধু ইনায়ার হৃদয়ের ধুকপুক শব্দ আর গাড়ির ইঞ্জিনের গর্জন শুনা যায়।
রোলস্ রোয়েসটা ঝড়ের বেগে ছুটে চলে অজানা কোনো গন্তব্যের দিকে।
ইনায়ার চোখ খুলতেই তার দৃষ্টি পড়ে অচেনা এক ঘরের দেয়ালে। ঘরের বাতাসে ভাসে অজানা আতঙ্ক, জানালার ফাঁক গলে ঢুকে পড়া আলোও আজ ক্লান্ত। মাথাটা ভারী, কপালে ঘাম জমে আছে,সবকিছু কেমন যেন ঘোলাটে, অস্পষ্ট লাগছে তার কাছে। হঠাৎই সে ছুটে যায় দরজার দিকে, মুক্ত আকাশের খোঁজে ছটফট করা পাখিদের মতো। দরজায় বারবার করাঘাত করতে করতে তার কণ্ঠটা কেঁপে ওঠে,
“কেউ আছেন? আমাকে বের করুন প্লিজ!” চারপাশে কেবল নীরবতা, কোনো সাড়া নেই, দেয়ালের ওপারে যেন সময় থেমে আছে।
শেষে ক্লান্ত ইনায়া হাঁটু ভাঁজ করে মেঝেতে বসে পড়ে, মাথা গুঁজে দেয় হাঁটুর ওপর। তার গোঙানির শব্দ ছড়িয়ে পড়ে ঘরময়, নিঃসঙ্গতার ভার আরও বেড়ে যায়।
ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা ভেঙে কারো পায়ের শব্দ ভেসে আসে ইনায়ার কানে। ইনায়া মুখ তুলে দেখে, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে এরিক, ঠোঁটে রহস্যময় হাসি, চোখে অদ্ভুত এক শীতলতা। সে শিস্ বাজাতে বাজাতে এগিয়ে এসে বলে ওঠে,
“অবশেষে ঘুম ভাঙালো প্রিন্সেসের।”
ইনায়া বিস্ময়ে এরিকের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে ওঠে,
“এরিক, আপনি? কেন আমাকে এই অচেনা চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে রেখেছেন?”
এরিকের চোখে শীতল অথচ গভীর দৃষ্টি। সে ধীরে ধীরে বলে,
“তুমি আমার কাছে বন্দি নও, মুনলাইট। তুমি আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এই দুর্বলতার জন্য আমি গোটা দুনিয়ার বিরুদ্ধে যেতে পারি। তোমাকে ধরে এনেছি, শুধু দেখানোর জন্য, তুমি কেবল আমার, এই এরিক অ্যাসফোর্ডের। তোমাকে শুধু আমার সাথেই মানায়, অন্য কারো সাথে নয়।”
ইনায়া তার চোখে শান্ত অথচ দৃঢ় দৃষ্টি রেখে বলে,
“সত্যি করে বলুন তো, কী চান আপনি? আপনার
প্রতিটি রূপ আমাকে আরও বিভ্রান্ত করে তোলে।”
এরিক ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“তুমি বুঝি বোঝো না, আমি কী চাই?”
ইনায়া দৃঢ় কন্ঠে বলে,
“না, বুঝি না আমি। আর বুঝতেও চাই না!”
এরিক রাগে ইনায়ার থুতনি ধরে উপরের দিকে তুলে বলে,
“কেন বোঝো না তুমি? আমার চোখের ভাষা কী এতটাই কঠিন? আমার চোখে তাকিয়ে দেখো, কতটা তোমাকে চাই আমি!”
ইনায়া চোখ সরিয়ে নেয় এরিকের চোখ থেকে, সে কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে বলে উঠে,
“এসব পাপ, এরিক। আপনি কেন বুঝতে চান না?
আপনি আমার জন্য নিষিদ্ধ। আমার ধর্মে স্পষ্ট বলা আছে~নিষিদ্ধকে ভালোবাসা পাপ। আপনি কেন বারবার আমাকে সেই পাপের পথে ঠেলে দিচ্ছেন?”
এরিকঃ তুমি খুব ভালো করে জানো, আমি কোন কিছুর পরোয়া করি না। তাছাড়া আমার ধর্মে তো তুমি নিষিদ্ধ নও! তাহলে,আমার ধর্মে চলে এসো। এখানে কোনো বাধা নেই, কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
এরিকের কথা শুনে ইনায়া এবার রাগে ফেটে পড়ে,
চুপ করুন, নাস্তিক লোক! ধর্মের গভীরতা আপনি কীই-বা বুঝবেন? সারাজীবন তো উগ্রভাবে নিজের মতো চলেছেন, তাই এমন কথা বলছেন।আপনি কখনো অনুভব করেননি,আমার বিশ্বাসের দেয়াল কতটা অটুট। আমার কাছে ধর্ম শুধু নিয়ম নয়, আত্মার আশ্রয়স্থল। আপনি কেন বারবার সেই আশ্রয়টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন?আপনার কাছে ভালোবাসা হয়তো কেবল আকাঙ্ক্ষা, কিন্তু আমার কাছে ধর্ম মানে আত্মার পবিত্রতা। আপনি কেন বুঝতে চান না, আমার বিশ্বাসের ওপর আঘাত মানে আমার অস্তিত্বকে আঘাত করা?”
এরিক নিজের অন্তাতেই ইনায়াকে এমন প্রশ্ন করে, সে নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত। কীভাবে পারলো সে, যাকে ভালোবাসে, তাকে কষ্ট দিতে?
ভালোবাসা মানে তো কারও সবকিছুকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা, অথচ এরিক নিজের ইগো আর জেদের কাছে হেরে গিয়েছিল।
সব অহংকার, সব জেদ ছুঁড়ে ফেলে, এরিক গভীর দৃষ্টি মেলে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে নরম কণ্ঠে বলল,
“সরি, ইনায়া। আমি স্বার্থপর হয়ে গেছিলাম, তোমাকে কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না। তুমি যদি হাজারবার জিজ্ঞেস করো, আমি কী চাই, আমার অবাধ্য হৃদয় হাজারবার বলবে, শুধু তোমাকে চাই।”
ইনায়া কাঁপা কণ্ঠে বলে,
“আপনি যা করছেন, এটা পাগলামি ছাড়া কিছুই না!”
এরিক মুচকি হেসে বলে,
“পাগলামির সীমা তো আমি অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছি। তোমার জন্য না হয় পাগল হয়েই থাকলাম। এই পাগলামি যদি অপরাধ হয়, তবে আমি আজীবন দোষী থাকতে রাজি।”
এরিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে, কণ্ঠে কোমলতা এনে বলে,
“জানো, ইনায়া, আমি কখনো কারো জন্য বদলাইনি। কিন্তু তোমার জন্য বদলাতে ইচ্ছে করে। তোমার কঠোরতা, বিশ্বাস সবকিছুই আমার কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগে। আমি কখনো ভাবিনি, আমার মতো বেপরোয়া, ছন্নছাড়া ছেলেও কারো প্রতি এতটা গভীরভাবে আশক্ত হয়ে পড়বে। আমি সবসময় মেয়েদের টাইমপাসের জিনিস মনে করেছি। কিন্তু কোনদিন ভাবিনি, কোন মেয়েকে আমি নিজের আশক্তি বানিয়ে ফেলবো।
কথাটি বলেই, এরিক গটগট করে বেরিয়ে যায়, দরজা বন্ধ হয়ে যায় ধীরে ধীরে । ইনায়া মেঝেতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে। দরজার ওপারে এরিক সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের কষ্টে আকাশও যেন বিষণ্ণ হয়ে আসে। তাদের ভালোবাসা, কষ্ট আর বিশ্বাসের দ্বন্দ্বে সময়টা আরও গভীর হয়ে যায়।এরিকের বিষন্ন মনের গভীরতা অনুভব করে নিস্তব্ধ ধরনী গেয়ে উঠে,
কইও কইওরে ভ্রমর, রাধারে বুঝাইয়া,
মুই কৃষ্ণ মইরা যাইমু, রাধা হারা হইয়া।
ভ্রমর কইও গিয়া, কইও তার কানে রে ভ্রমর
বুকের ভেতর জ্বলে আগুন, চোখে শুধু পানি।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে অ্যানজেলা (এরিকের মা) রুমে ঢোকে, মুখে তার মায়া মিশ্রিত বিস্ময়।
অ্যানজেলা ইনায়ার দিকে এগিয়ে নরম গলায় জিজ্ঞেসা করে,
“তুমি কে,মা? আমার ছেলে আজ পর্যন্ত কোনো মেয়েকে বাড়িতে আনেনি, তুমিই প্রথম। তোমার নাম কী?”
ইনায়াঃ ” জ্বী, আমি ইনায়া।”
অ্যানজেলা মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলে উঠে,
“ইনায়া, সুন্দর নাম। তুমি মাথায় এটা কী পড়েছো?
ইনায়া নরম স্বরে জবাব দেয়,
“আসলে আন্টি, আমি মুসলিম।তাই হিজাব পড়েছি।”
অ্যানজেলাঃ”ওহ… তুমি খুব মিষ্টি মেয়ে, তোমার ব্যবহার খুব ভালো লাগছে আমার ।”
ইনায়া কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে বলে উঠে,
“আমি আসলে এখানে আসতে চাইনি, আমি খুব ভয় পাচ্ছি এখানে।”
অ্যানজেলা সান্ত্বনা দিয়ে বলে উঠে,
“তুমি ভয় পেয়ো না মা, আমার ছেলেটার মাথা গরম, কিন্তু খারাপ না।”
ইনায়া কান্না করতে করতে বলে উঠে,
“আমি এখানে থাকতে চাই না, আন্টি। আমার পরিবার জানে না আমি কোথায়!”
অ্যানজেলা ইনায়ার হাত ধরে বলে উঠে,
“আমি কথা দিচ্ছি, তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেবো না।আমি এরিককে বলবো তোমায় দিয়ে আসতে। ”
এরিক ছাদ থেকে নিজের রুমের দিকে যেতে নিলে অ্যানজেলা একটা নিঃশ্বাস ফেলে পেছন থেকে এরিককে ডেকে বলে উঠে,
“এরিক, আমি আজ অনেকক্ষণ তোমার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম… আমি ইনায়ার সাথে কথা বলেছি। সে খুব ভয় পেয়েছে, খুব কাঁদছিল। তুমি এটা কী করছো, বলো তো?”
এরিকঃ “আমি ওকে শুধু এখানে নিয়ে এসেছি মা কারণ আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না, ওর থেকে দূরে থাকা। আমি ওকে ভালোবাসি, মা।”
অ্যানজেলা আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিল ছেলের মনের অবস্থা, তাইতো তিনি অবাক না হয়ে বলে উঠে,
“তুমি কী বললে? ভালোবাসো? এইভাবে কাউকে অপহরণ করে এনে কি ভালোবাসা প্রমাণ হয়?”
এরিকঃ “আমি ভয় পাই, মা… যদি ও চলে যায়, যদি আর কখনো না আসে আমার কাছে? আমি জানি এটা পাগলামি… কিন্তু আমার ভালোবাসাটাও তো পাগলামির মতোই গভীর।”
অ্যানজেলাঃ “এরিক, আমি কখনো তোমার ভালোবাসাকে অবজ্ঞা করিনি। কিন্তু তুমি যাকে ভালোবাসো, সে এক ভিন্ন জগতের মেয়ে, সে মুসলিম। সে অন্য সংস্কৃতির, অন্য রীতিতে বড় হয়েছে। এটা তুমি বোঝো?”
এরিক উত্তেজিত হয়ে বলে উঠে,
“আর সেটা কোথায় লেখা যে দুই ধর্মের মানুষ একসাথে থাকতে পারে না? ভালোবাসা কি ধর্ম দেখে আসে?”
অ্যানজেলাঃ “ভালোবাসা হয়তো ধর্ম দেখে আসে না, কিন্তু জীবন চালাতে হয় বাস্তবতা দিয়ে, এরিক। আমাদের পরিবার, তোমার বাবা… তারা এটা মেনে নেবে না। তুমি জানো তোমার বাবা কতোটা গোঁড়া, কতোটা নিয়ন্ত্রণকারী। ও যদি জানে তুমি একজন মুসলিম মেয়েকে নিজের জীবনে এনেছো, সে পুরো বাড়ি তছনছ করে ফেলবে!”
এরিকঃ “তাহলে সব তছনছ হক মা। আমি কি আমার ভালোবাসার জন্যও লড়তেও পারবো না? আমি কি নিজের জীবন নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারি না?”
অ্যানজেলাঃ “তুমি লড়তে পারো, কিন্তু তার আগে ভেবো, ইনায়ার জন্য এই যুদ্ধের মূল্য কী হবে? সে যে সমাজ থেকে এসেছে, সেখানে তার সুনাম, তার বিশ্বাস সব কিছু একটা জায়গায় বাঁধা। তুমি তাকে ভালোবাসো, তাই বলে তার পৃথিবীটা ছিন্নভিন্ন করে দিতে চাও?”
এরিক: “না মা, আমি শুধু চাই সে জানুক আমি ওর জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারি… এমনকি নিজের পরিবারও।”
অ্যানজেলা: “তোমার অনুভূতি আমি বুঝি, এরিক। কিন্তু ভালোবাসা মানে শুধু নেওয়া না, দেয়াও। তুমি যদি সত্যিই ওকে ভালোবাসো, তাহলে ওর স্বাধীনতাটাকেও সম্মান করতে হবে। এখন তুমি গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করো, সে কি তোমার সাথে এখানে থাকতে চায়? আর যদি না চায়, তাহলে ওকে নিজ হাতে নিরাপদে ওর বাড়ি পৌঁছে দিও।”
এরিকঃ “আর যদি সে কখনো আর না আসে?”
অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৬
অ্যানজেলা: “তাহলে, তুমি জানবে, তুমি একবারের জন্য হলেও কাউকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলে। সেটাই অনেকের জীবনের চেয়ে বেশি দামী।”
এরিকঃ সরি মা, আমি এতো উদার নই, আমি কিছুতেই কারো খুশির জন্য নিজের ভালোবাসাকে ত্যাগ করতে পারবো না । ”
