Home অবাধ্য হৃদয় অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৮

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৮

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৮
নুরিয়া ইসলাম

ডিনার ডেট,
“সমুদ্রের ধারে নীলাভ অন্ধকারে জোনাকির মতো আলোয় জ্বলে ওঠা ছোট্ট রেস্টুরেন্টটা আজ জমকালো হয়ে উঠেছে।চাঁদের মায়াবী আলো মিশে গেছে ঢেউয়ের গভীরে, বাতাসে ভেসে আসে সাগরের নোনা ঘ্রাণ আর ভালোবাসার মৃদু সুবাস।চারপাশের সব শব্দ হারিয়ে গেছে, শুধু দুজনের হৃদয়ের স্পন্দন শুনা যাচ্ছে , নিঃশব্দে।টেবিলের ওপর মোমবাতির নরম আলোয় দু’জনে মুখোমুখি বসে, চোখে চোখ রেখে কথা না বলেও যেন হাজারটা কথা বলে ফেলে তারা। ইনায়ার মুখে চাঁদের আলো এসে পড়ছে, তার চোখে-মুখে মিশে আছে এক অপার্থিব মায়া।

এরিক মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে, গোলাপি ফর্সা বর্ণের মেয়েটার দিকে যে সাদা হিজাব আর নীল গাউনে নিজেকে আবৃত করে রেখেছে।এরিকের কাছে ইনায়াকে কোন পরীর থেলে কম লাগছে না। এরিক ধীর পায়ে টেবিল থেকে উঠে আসে, ইনায়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে একগুচ্ছ তাজা লাল গোলাপ এগিয়ে দেয় ইনায়ার দিকে। ইনায়ার চোখে চোখ রেখে বলে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“ আমার মুনলাইট। আমি জানি, তোমার গল্পের রাজপুত্র আমি নই, বরং হয়তো এক নিষিদ্ধ অধ্যায়। তবুও, আমার পাগলাটে হৃদয়টা শুধু তোমার জন্যই ধুকপুক করে। তুমি আমার কাছে ঠিক সেই ফুল, যাকে ছোঁয়ার অধিকার হয়তো আমার নেই, তবুও আমি প্রতিদিন তোমার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যাই।তুমি কি আমার এই অগোছালো, অসম্পূর্ণ, অথচ নিঃস্বার্থ ভালোবাসার রাজ্যে রানি হবে?”
এরিকের কথা শুনে ইনায়ার ঠোঁটে লাজুক হাসি ফুটে ওঠে, গোলাপের পাপড়ির মতো তার ঠোঁট কেঁপে ওঠে মৃদু উত্তেজনায়। চোখের কোণে জমে থাকা জলরাশি শিশিরবিন্দুর মতো গড়িয়ে পড়ে, গাল দু’টো লাল হয়ে ওঠে টকটকে গোলাপের মতো। সে একটু লজ্জা পেয়ে আঙুল দিয়ে নখ খুঁটরাতে খুঁটরাতে নিচু গলায় বলে,
“হ্যাঁ, এরিক। আমি আপনার হতে চাই।”

ইনায়ার একটু আশকারাই যথেষ্ট ছিল এরিকের মতো উন্মাদ প্রেমিককের জন্য। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে ইনায়ার দিকে, ঠিক অস্থির সমুদ্রের ঢেউ যেমন তীরে এসে আছড়ে পড়ে। সে এক হাতে ইনায়ার গাল ছুঁয়ে, মুখটা আলতোভাবে নিজের দিকে তুলে আনে, আরেক হাত রাখে ইনায়ার কাঁধে ভালোবাসার উষ্ণ স্পর্শে ইনায়ার সমস্ত জড়তা গলে যায়।
কোনো দ্বিধা নেই, কোনো বিলম্ব নেই,এরিকের ঠোঁট ছুঁয়ে যায় ইনায়ার ঠোঁটে। চুমুর নরম উষ্ণতায় ইনায়া হারিয়ে যায় এক উন্মাদনার সাগরে, নিঃশ্বাসে মিশে যায় ভালোবাসার নেশা। এরিকের গভীর উন্মাদনায় ইনায়া একসময় হাঁপিয়ে ওঠে, যেন ভালোবাসার জোয়ারে ডুবে যাচ্ছে সে।
এরিক ভ্রমরের মতো ইনায়ার ঠোঁটের সবটুকু মধু শুষে নেয়, ভালোবাসার প্রতিটি মুহূর্তে দু’জনেই হারিয়ে যায় একে অন্যের মাঝে। একপর্যায়ে দু’জনেই হাঁপাতে হাঁপাতে থেমে যায়, এরিক ইনায়াকে ছেড়ে দিয়ে নেশাভরা চোখে তাকিয়ে বলে,

ইউর লিপ্স আর সো টেস্টি, জাস্ট লাইক এ ডেজার্ট।
মাই পার্সোনাল ডেজার্ট!
আই ওয়ান্ট টু বাইট ইট, ওয়েন আই’এম ওয়াল্ড।
এরিকের কথায় ইনায়া হেসে বলে,
“আপনি সত্যিই পাগল!”
এরিক ইনায়ার কথায় মুচকি হাসে, চোখে অদ্ভুত মাদকতা নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“আই লাভ ইউ, বেবি।”
স্বপ্নের ঘোরে এরিক ইনায়ার মুখটা কল্পনা করে, আবেগে এরেনকে ইনায়া ভেবে কিস করতে যায়।
এরেন হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠে,

“ওই, এরিক! ছাড় আমাকে। ভাই, আমি তোর ইনায়া না, ছাড়!”
এ্যারেনের চিৎকারে এরিকের ঘুম ভেঙে যায়। সে রাগে এ্যারেনের কলার চেপে ধরে বলে,
“ওহ শিট, তুই এখানে কেন? আমার মুনলাইট কই!”
এ্যারেন নিজের কলার এরিকের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,
“শালা হিটলার, ছাড় বলছি! তোর মুনলাইট তোর স্বপ্নেই আছে।”
এরিক এ্যারেনের কথায়,স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি রেখে বলে,
“It’s just a dream, but this dream is fucking addictive. I kinda like it!”

ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন মিস্টার রিচার্ড, সামনে কফির কাপ, মুখে তার গম্ভীর ভাব ফুটে উঠেছে । এরিক ঢিলেঢালা ভঙ্গিতে এসে চেয়ারে বসে, ফোনটা টেবিলে রেখে দেয়।তার চোখে ক্লান্তি, মুখে একরাশ উদাসীনতা।
মিস্টার রিচার্ড কড়া গলায় প্রশ্ন করেন,
“এরিক, সারাদিন কোথায় ছিলে? রাত করে বাড়ি ফেরা, ক্লাস মিস করা, এইভাবে চললে তোমার ভবিষ্যৎ কী হবে ভেবেছো?”
এরিক চোখ নামিয়ে, শান্ত অথচ বিদ্রুপে ভরা কণ্ঠে বলে ,
“ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার টাইম নেই, ড্যাড। আপাতত নিজের মতো বাঁচতে চাই, জীবনটা একটু উপভোগ করছি।”
রিচার্ডের মুখ আরও কঠিন হয়ে ওঠে এরিকের কথা শুনে ,
“এটা কী উপভোগ করার সময়? কোনো ডিসিপ্লিন নেই, কোনো লক্ষ্য নেই। আমি চাই না আমার ছেলে হয়ে তুমি এভাবে চলো।”

এরিক হালকা হাসি দিয়ে, একটু বিদ্রুপের সুরে বলে,
“সরি ড্যাড,তোমার কথাটা রাখতে পারলাম না। তোমার চাওয়া অনুযায়ী আমি নিজেকে বদলাতে পারবো না। আমি তোমার মতো হতে চাই না, নিজের মতো থাকতে চাই।”
মিস্টার রিচার্ড এবার নিজের রাগ চেপে ধরে, চোখে মুখে কাঠিন্যে এনে বলে,
তোমার বয়সে আমি পরিবারের ব্যবসার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম? তখন থেকেই কঠিন পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ আর সম্মানের সাথে এত দূর এসেছি ।
আর তুমি? আমার ছেলে হয়েও আজ অবধি কোনো দায়িত্ব নাওনি, বড়দের সাথে কথা বলারও সৌজন্য শেখোনি। দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছ ”
এরিক এবার ঠাণ্ডা গলায়, চোখ না তুলে বলে,

“ড্যাড, I’m not fucking interested in being your copy.আমি কারও ছায়া হয়ে বাঁচতে চাই না, আমি নিজের মতোই থাকবো।আপনি সেটা পছন্দ করেন কি না, honestly I don’t care!”
মিস্টার রিচার্ড রাগে হুংকার দিয়ে বলে,
“তুমি আমায় অসম্মান করছো, এরিক?”
এরিক ঠোঁটে বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বলে,
“সম্মান তো তখনই পাওয়া যায়, যখন সেটা পাওয়ার মতো কিছু করা হয়। আপনি সেটা বুঝবেন, যখন কাউকে কন্ট্রোল করা ছেড়ে দেবেন।”
রিচার্ড ধমক দিয়ে বলে,
“Enough! তুমি যখন ঠিক করে নিয়েছো, নিজের ইচ্ছামতো চলবে, তাহলে আমার কাছ থেকে কিছু আশা কোরো না।”
এরিক শান্ত অথচ গভীর কণ্ঠে বলে,

“Relax, ড্যাড।তোমার কাছ থেকে আমি কোনকিছুর আশাই করি না। আমি নিজের মতোই ভালো আছি।”
বাবা-ছেলের তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মাঝেই অ্যানজেলা এসে কড়া গলায় বলে ওঠেন,
“কি শুরু করেছো তোমরা? বাড়িটা কি যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলবে বাব-ছেলে মিলে? নিজেদের ইগো নিয়ে লড়াই বন্ধ করো,এই ঘরে আমি শান্তি চাই,কোন নাটক চাই না!”
মিস্টার রিচার্ড রাগে খাবার ফেলে উঠে যেতে যেতে,নিজের ওয়াইফের উদ্দেশ্য বলে উঠে,
“ছেলেকে বোঝাও। সারাজীবন এভাবে বেপরোয়া আর ছন্নছাড়া চললে শেষ পর্যন্ত শুধু আফসোসই থাকবে!”
তার চলে যাওয়ার পর পুরো ডাইনিং জুরে নীরবতা নেমে আসে।
অ্যানজেলা ধীরে এসে এরিকের পাশে বসে, ছেলের মাথায় হাত রেখে বলে,
“বাবা তোমার ভালো চায়, তাই একটু বেশি কড়া। কিন্তু তুমি যদি নিজের কথা শান্তভাবে বলো, ওনিও বুঝবে। পরিবার মানে শুধু নিয়ম না, বোঝাপড়াও।”
এরিক মুখ নিচু করে, একটু নরম হয়ে বলে,

“মম, উনিও তো বুঝতে চায় না,আমি বড় হয়েছি। সবসময় নিয়মের বেড়াজালে আমাকে আটকে রাখা যাবে না। আমি শুধু চাই, উনি আমাকে আমার মতো থাকতে দিক।”
অ্যানজেলা এরিককে স্নেহভরা কণ্ঠে বলে,
“তুমি নিজের মতো থাকতে পারো, কিন্তু বাবার কথাও একটু শুনবে? পরিবারে মান-অভিমান থাকবেই, কিন্তু ভালোবাসাটাই সবচেয়ে বড়।”
এরিক ধীরে বলে,
“সরি মম,তুমি চাইলে উনার মতো করে চলতে পারো, কিন্তু আমি পারবো না।”
বলেই এরিক খাবার ফেলে উঠে যায়। এরিক চলে যেতেই অ্যানজেলা একটা,দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“বাব-ছেলে একই রকম জেদি। কাউকে বোঝানো যায় না।”

বিকেলের নরম আলো লাইব্রেরির জানালার ফাঁক গলে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝের টেবিলে বসে আছে সোফিয়া, এক হাতে ব্লুবেরি মাফিন চিবোচ্ছে, আরেক হাতে পুরোনো দার্শনিকদের বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে। তার হালকা ব্রাউন কার্লি চুলে আলো পড়ে সোনালি ঝিলিক ছড়িয়ে যাচ্ছে।
বুকশেলফের পাশে দাঁড়িয়ে আদিল, এক হাতে বই, আরেক হাতে চশমার ফ্রেম ঠিক করছে কিন্তু তার দৃষ্টি আটকে আছে সোফিয়ার মুখে। মনে মনে বারবার ভাবছে,
“কেউ এতটা মায়াবী কীভাবে হতে পারে?”
হঠাৎ আনমনে বুকশেলফের একটা বইয়ের দিকে হাত বাড়ায় আদিল, আর ঠিক তখনই টান অনুভব পড়ে বইটায়। তাকিয়ে দেখে, জুলি বইটার অপর প্রান্ত ধরে আছে। তার দিকে কেমন রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। জুলির এই রকম দৃষ্টি দেখে আদিল মনে মনে বলে উঠে,

“এই মেয়ের সমস্যাটা কী?সবসময় মুখ গম্ভীর করে থাকে কেন?”
জুলির বলা কথায় আদিল নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে,
“এই বইটা আমার লাগবে, তুমি অন্যটা নাও!”
আদিল হালকা হাসি দিয়ে বলে,
“এত বই থাকতে, আপনার এইটাই কেন দরকার,ম্যাডাম? আপনি অন্যটা নিন।”
জুলি দাঁত কটমট করে বলে,
“আমি তোমার সিনিয়র, এটা ভুলে যেও না! বইটা আমার দরকার, দিয়ে দাও।”
আদিল কড়া গলায় বলে ,
“সিনিয়র হলে কি বইয়ের ওপর মালিকানা চলে আসে নাকি? লাইব্রেরি তো সবার।”
জুলি বিরক্ত হয়ে বলে,
“এই বইটা আমার প্রেজেন্টেশনের জন্য দরকার।”
আদিল বলে,

“প্রেজেন্টেশন তো আমারও আছে, বইটা ভাগাভাগি করে নেওয়া যায় না?”
জুলি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,
“অসম্ভব, আমি কারো সাথে কিছু শেয়ার করি না।”
জুলির এইরকম অ্যারোগ্রেন্ট কথা শুনে আদিল বলে, “সরি, ম্যাডাম, তাহলে আমিও বইটা দিতে পারবো না।”
জুলিঃ “তুমি কিন্তু আমার সাথে বেয়াদবি করছো! সিনিয়রদের সম্মান করতে শেখো,বুঝেছো।”
আদিল চশমা ঠিক করতে করতে মজা করে বলে ,
“সম্মান তো দিচ্ছি, তাই তো ভাগাভাগির অফার দিলাম! কিন্তু আপনি বেশ অ্যারোগ্রেন্ট!”
জুলি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে ,
“How dare you! তুমি আমায় অ্যারোগ্রেন্ট বললে? Stay away, kid! আমার সাথে লাগতে এলে ফলকিন্তু ভালো হবে না।”

আদিল হাসতে হাসতে বলে,
“আমি আপনাকে ভয় পাই না, ম্যাডাম!”
তাদের এই ঝগড়ার মাঝে সোফিয়া টেবিল থেকে উঠে এসে নিজের বইটা জুলিকে বাড়িয়ে দেয়,
“মিস জুলি, আপনি এই বইটা নিন।”
জুলি বইটা নিয়ে সোফিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যায়।
জুলি চলে যেতেই সোফিয়া আদিলকে সাবধান করে বলে,
“উনার থেকে একটু দূরে থেকো, আদিল। উনি কিন্তু এরিকের গ্যাংয়ের মেম্বার, অনেক রাগি মেয়ে।”
সোফিয়ার কথায় আদিল কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।

এরিক শেডো রাইডারটার ওপর আধশোয়া হয়ে রয়েছে, বিকেলের আলো তার চোখে এসে লাগছে। সে বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে নেয়। তখনি তার সামনে ক্লেরা নামের একটা মেয়ে এসে বলে,
“এরিক, তুমি যে কাজটা করতে বলেছিলে, আমি করেছি।”
এরিক বাঁকা হেসে বলে,
“গুড জব, ক্লেরা!”
বলেই, এক ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করে,
“তা কী জানতে পারলে?”
ক্লেরা একটু সংকোচে করে বলে,
“আসলে, তুমি যেটা ভাবছো, ঠিক তা নয়! আদিল আসলে ইনায়ার কাজিন।”
ক্লেরার কথা শুনে, এরিক ঠোঁটের কোনে সেই চেনা বাঁকা হাসি রেখে ধীরে বলে,

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৭

“ও কাজিন? ভাগ্য ভালো ছেলেটার———এই এরিক অ্যাসফোর্ডের হাত থেকে আজ বেঁচে গেল। আমি তো ভেবেছিলাম, ওর জন্য স্পেশাল সারপ্রাইজ রাখবো!”
কথাটি বলেই এরিকের ঠোঁটে ডেভিল হাসি ফুটে ওঠে, সে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বলে,
আমার মুনলাইটের আশেপাশে কাউকে দেখলে, তাকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে আমার দুই সেকেন্ডও লাগবে না।

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১৯