Home ছায়াস্পর্শ ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৪

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৪

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৪
জান্নাত চৌধুরী

একের পর এক ঝামেলা যেনো লেগেই আছে এই গ্রামে। তবে কোনো সুরহা নেই ,কি হচ্ছে ? কি ভাবে ঘটছে? সবকিছু‌ই মাঝে মাঝে গোলমাল পাকিয়ে ফেলছে কাব্য। একের পর এক অপরাধ হয়ে চলছে অথচ অপরাধীর খোঁজ নেই। চেয়ারে হেলান দিয়ে কাপল চেপে সব কিছু ভাবছে ছেলেটা‌। বড্ড হাঁপিয়ে উঠেছে ,সে এটা আন্দাজে পাচ্ছে না আপরাধী একজন নয় আরো বেশি।
কনস্টেবল তিতাস দ্রুত ছুটে এলো কানে কানে কিছু একটা বলল কাব্যের। কাব্য চোখ মেলে কনস্টেবল কে দেখে নিলো। কনস্টেবল তিতাস আঁটোসাঁটো হয়ে দাড়ানো।‌ কাব্য বিরক্তিতে বলল –

-”একি তিতাস সাহেব আপনি দেখি ভয় পাচ্ছেন?
তিতাস ঢোক গিললো, “ ইয়ে মানে স্যা..
কথা শেষ হলো না। তার আগেই আযান খন্দকার এসে চেয়ারে বসল। কাব্য ভ্রু জোড়া কুঁচকে দেখলো লোকটাকে , পড়নে সাদা পাঞ্জাবির উপর মুজিব কোট। হাতে কালো ব্লেটের এক ঘড়ি, সিমসাম দেখতে। আযান সালাম দিলাম –
-“আসসালামুয়ালাইকুম অফিসার, সব ভালো তো?’
কাব্য একবার তিতাস কে দেখে নিয়ে চেয়ারে আবার হেলান দিলো। আযান কিছুটা মেকি হাসল-
-“এলাকার খোঁজ খবর কি পুলিশের কাছে কিছু আছে নাকি …নতুন পুলিশ নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে।”
-“কাজ করি বলে যে ঘুমাতো পারবো না এমন নয় খন্দকার সাহেব!”
আযান মাথা ঝাঁকালো , “তা তো বটেই। তবে পুলিশ কতটুকু সতর্ক তা নিশ্চিত হবো আমার চাচার খবরাখবর পেলে তবে।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আবাক অবাক হলো কাব্য।চট করে সোজা হয়ে বসে বলল, -“ কি বলছেন ?
-“আমার চাচা নিখোঁজ , থানায় জিডি করা হয়েছে। তবুও খোঁজ নেই কেনো অফিসার?”
কাব্য যেন চমকালো , “চোখে মুখে রাগ নিয়ে তাকালো তিতাসের দিকে। তিতাস শুষ্ক ঢোক গিললো। কাব্য ডাকল-
-“তিতাস সাহেব?”
-”জ্বি ..জ্বি স্যার।
আযান নিজেও তিতাসের দিকে তাকিয়ে চেয়ারে আরাম করে বসল। কাব্য ধমকে বলল-
-“খন্দকার সাহেব যা বলছেন তা সত্যিই?”
-”জ্বি.. জ্বি স্যার।”

কাব্য রাগে দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। তিতাস ভয়ে থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে। এদিকে আযানের যেন বেশ মজা লাগছে ব্যাপার খানা। সে বুঝি ইচ্ছে করেই ব্যতিব্যস্ত করতে এসছে থানায়। নয়তো বাজিয়ে দেখতে এসেছে।
কাব্য মাথা ন‌ইয়ে থাকলো। ব্যাপারটা কিন্তু বেশ মজার , হঠাৎ উচ্চস্বরে হেসে উঠলো আযান। কাব্য তিতাসের দিকে ইশারা দিতেই স্থান ত্যাগ করলো সে। আযান ডাকল-
-”অফিসার ;
কাব্য তাকাতে টেবিলের দিকে কিছুটা ঝুঁকে বসল আযান ;
-”একটু মুলাকাত করতে বড্ড স্বাদ জাগলো মনে। চলে এলাম;
কাব্য তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল, “ খুব যদি ভুল না হ‌ই চাচার খবর নেওয়া আপনার মূখ্য বিষয় নয়। ঠিক তো?”

-”একদম ঠিক ;
কাব্য চট করে হেসে ফেলল। গায়ের সাথে লেপ্টে থাকা শার্টের বুকে অংশের বোতাম খুলে দিলো।
-“তবে বলুন বিষয়টা।”
-“আপনাকে সাহায্য করতে এলাম অফিসার। বলতে পারেন, নিজ স্বার্থেই এলাম।”
-“বাহ! আমার কপাল খুলেছে বলছেন! খন্দকার সাহেবের বড় পুত্র আমার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে।’
আযান মাথা নাড়ালো দু’দিকে,“উহু”
-“তবে?”
-“আমি সাহায্য করবো বলেছি তবে , তা কতটুকু গ্রহনযোগ্য ওটা কেবল আপনার উপরেই নির্ভরযোগ্য অফিসার।”
কাব্য কপাল কুঁচকে খানিক বিভ্রান্ত মুখে তাকিয়ে থাকলো। একটু পরেই আযানের পাশের চেয়ারে এসে বসলো উজান।
কাব্য বলল-

-“বনিতা ছাড়া মুল কথায় আসুন আপনারা।”
উজান ফাইলের মতো কিছু একটা ছুঁড়ে ফেলার মতো করে টেবিলে রাখলো। কাব্য একবার ফাইল তো একবার উজানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল –
-“কি এটা”
উজান শার্টের বোতাম খুলে , কলার টা পিঠে দিকে নামিয়ে দিলো। তারপর চেয়ারের উপর উপর হাত রেখে একটু ভাব ধরে বলল-
-“খুলে দেখুন !”

বহুদিন পরে আবারো চেয়ারম্যান বাড়িতে পা ফেলেছে মাতব্বর , সকালের দিকে বাগানে হাঁটেন চেয়ারম্যান‌। নয়তো, দেখা যাবে কোনো এক গাছে পানি ঢালছে। মাতব্বর জানে কোথায় গেলে চেয়ারম্যানের দেখা মিলবে।
তাই তো সজা বাগানের দিকে এলো।
নিয়ম মাফিক আজো পাইচারি করছে চেয়ারম্যান। পাশেই এক টেবিলের ওপর চায়ের কাপ আর পত্রিকা। মাতব্বর একবার আশপাশে দেখে নিয়ে ডাকল-
চেয়ারম্যান সাহেব-
চেয়ারম্যান ঘুরে দেখলো। মাতব্বর কে দেখেই মুখে এক হাসি ফুটে উঠল তার। হাত ইশারায় কাছে ডাকলো –

-“এসো শরীফ এদিকে এসো।”
শরীফ এগিয়ে গেলো। চেয়ারম্যান বলল-
-”শরীর স্বাস্থ্য ভালো শরীফ ?”
-“চলছে চেয়ারম্যান সাহেব।”
-“তা কি দরকার বলো? তোমার ছুটি ফুরাতে তো বহুত দেরি, হঠাৎ এলে।”
মাতব্বর মাথা নত করে দাঁড়িয়ে র‌ইল। চেয়ারম্যান ভ্রু কুঁচকে নিয়ে আবার ডাকল –
-“ শরীফ”
মাতব্বর হু হু করে কেঁদে উঠলো। চেয়ারম্যান কিছুটা চমকালো বটে , তিনি হয়তো এমনটা আশা করেনি।‌ সান্ত্বনা স্বরূপ মাতব্বরের কাঁধে হাতে রাখল , “আমি জানি শরীফ , একমাত্র ছেলে হারানো ক্ষত এত সহজে মিটবার নয়। তবুও বিধাতার বিধান আমাদের মানতে হবে।”

মাতব্বর হাতের তালুতে চোখের পানি মুছলো। কিছু সময় চুপ থাকলো লোকটা। চেয়ারম্যান টেবিলে কাছে গিয়ে বসে হাক ছাড়তেই হাফেজ মিয়া এসে হাজির হলো। চেয়ারম্যান পত্রিকা খুলে বলল-
-”দুই কাপ চা, লগে দুইজনের সকালে খাওন এইখানে দিয়া যাও হাফেজ। আইজ বরং এইখানেই খাই ,
হাফেজ মাথা নাড়িয়ে বিদায় নিলো। চেয়ারম্যান পত্রিকা দৃষ্টি রেখে ডাকল –
-“এইখানে বসো শরীফ। নাস্তা আনলে খাইয়া যাবা;
মাতব্বরের মুখর ভঙ্গিমা ঠিক বুঝা গেলো না। তবুও চেয়ারম্যানের কথা মতো গিয়ে টেবিলের চেয়ার টেনে বসল।
চেয়ারম্যান মনোযোগ দিয়ে পত্রিকা পড়ছিলেন। ২০০৮ এর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী হিসাবে পঞ্চগড়- ২ আসনে নরুল ইসলাম সুজন দাঁড়িয়েছেন। চেয়ারম্যান বেশ মনোযোগ সহকারে , হেডলাইন পড়ে নিলেন যেথায় বেশ বড় অক্ষরে লিখা রয়েছে –
“ সব ঠিকঠাক থাকলেডিসেম্বরের মাঝ নাগাদ নির্বাচনের দিন ঠিক করা হতে পারে।”
চেয়ারম্যান পত্রিকা রাখলেন, সবে মাত্র‌ই সেপ্টেম্বরের শুরু। হাতে আরো অঢেল সময় রয়েছে ভেবেই চেয়ারম্যান বললেন –

-”শহরের হ‌ওয়া বাতাসের খবর কি কিছু জানো নাকি শরীফ?
মাতব্বর আনমনে কিছু একটা ভাবছে। চেয়ারম্যান বেশ কিছুসময় ধরেই খেয়ার করলো ব্যাপার টা। এর মাঝেই খাবার প্লেট হাতে রেণুর মা আর , হাফেজ মিয়া এলো। খাবার দিয়ে চলে গেলে হুস আসে মাতব্বরের। মাতব্বর বেশ দুনোমনো করল-
-“ একখান কথা ক‌ইবার চাই চেয়ারম্যান সাহেব।”
-“হুম”
চেয়ারম্যান চায়ের কাপে চুমুক দিলো। মাতব্বর বলল,

-“আমি একখান জবাব চাই ?”
-“কি জবাব শরীফ ?”
-“আমার পোলারে গুম করার পিছনে ছোট নবাবের হাত নাই তো চেয়ারম্যান সাহেব?”
চেয়ারম্যানের শান্ত মস্তিষ্ক মূহুর্তে জ্বলে উঠলো‌,
তিনি ধমকে উঠলেন ,- “ শরীফ জবান সামলে”!
-“মাফ করবেন সাহেব তয় আমি জানবার চাই ? ছোট নবাব নাই তো এই কাজে।”
চেয়ারম্যান কাপ রাখলেন , “ তোমার কেন মনে হ‌ইলো ফারহান তোমার পোলারে মারবো ? ফরহান যথেষ্ট স্নেহ করতো তারে।”

মাতব্বর দৃষ্টি নত করলো। চেয়ারম্যান আবার জিজ্ঞেস করল,“ কী হ‌ইলো ক‌ও ?”
-“কাহিনী ছোট নবাব ভালোই জানে সাহেব। ছোট নবাব ন্যায়-নিষ্ঠা পরায়াণ। এইডা আমি ও জানি আপনেও জানে। তার দ্বারে অপরাধ মানান স‌ই না;
-“তার মানে তোমার পোলা অপরাধী ছিলো ?”
শুনেন চেয়ারম্যান সাহেব, “ জুয়ান পোলাগো মাইয়া দোষ থাকে , এইডা সবাই জানে। আপানারো আছিলো ভুইলা যাবেন না -এই দোষের কারণেই কিন্তু আইজ গ্রামের এই ভাগাভাগি।”
-”শরীফ …

চেয়ারম্যান অতিশয় রাগান্বিত। তার রাগান্বিত কন্ঠ যেন বজ্রের ন্যায় শুনালো। মাতব্বর টললো না কন্ঠে আরো খানিকটা গাম্ভীর্য এনে বলল-
-“আমারে থামাইয়া লাভ নাই সাহেব। আমার পোলা গেছে , আমার হারাইবার কিছুই নাই‌। তয় আপনাগো পাপের ঘর পূর্ণ হ‌ইতাছে।”
-“কি বলতে চাও তুমি শরীফ?”
শরীফ বসা ছেড়ে দাড়ালো , “ অতীত ভুলি নাই, অতিতের সাক্ষী আমি। আইজ যেই মাইয়ার লাগি আপনার পোলা আমার ছাওয়াল মারছে। সেই মাইয়া কি জানে? তার মায়ের খুনি আপনি। “
এক মূহুর্তে থমকে গেলো চেয়ারম্যান। মাতব্বর হাসল ;
কিছুটা সরে দাড়িয়ে আবার বলল –
-“কি হ‌ইলো সাহেব জানে ? ইসমাইলের শেখের প্রথম ব‌উরে আপনে আর খন্দকার সাহেব কতখানি কষ্ট দিয়া মারছেন।

জানে কি , তার মায়ে লাশ এখনো এই বাগানে পচে।
জানে কি , আপনার রানী গোলাপ পছন্দের কাহিনী।
মাতব্বর উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো , “ জানে না , জানে না। কিছু জানে না।” অতিতে পূনরাবৃত্তি হবে- তার কারিগর হবো আমি। আমার ছাওয়ালের রক্তের ঋণ র‌ইছে সাহেব।
চেয়ারম্যান ঘেমে উঠেছে, তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখেই বলল-
-“তুমি নিশ্চিত কি করে ফারহান এইসব করেছে ? তোমার ছেলে ধর্ষক আছিলো শরীফ। দক্ষিণ গ্রামের কত মাইয়া সে নষ্ট করেছে। তাদের মাঝেও তো কেউ করতে পারে?
-“খুন যেই করুক আমি পুলিশে কমু্। তয় যদি ছোট নবাব হয় তবে ,
কেমন করে একটা তাকালো মাতব্বর, তারপর কথা শেষ না করেই চলে গেলো।

কাব্য ফাইল খুলে দেখলো। গত কয়েক মাসে , লোক গুম
ও খুনের সব হিসাব সাথে , চোরাই পথে এদেশে ঢোকা সকল অস্ত্রের হিসাব। কাব‌্য ভীষণ রকমের অবাক হলো –
এই ফাইলে যা আছে , তার এক তৃতীয়াংশ হিসাব থানায় নেই। ওই যে হাতে গোনা কয়েকটা কাজের হিসাব। কাব্য আনমনে বলল –

-”এই জেলা কি শালার অপরাধীর আস্তানা নাকি মামার বাড়ি। অথচ এত সবের মাঝেই থানায় রিপোর্ট নেই কেন?
-“ভয়ে”
কাব্য নিজের দৃষ্টি স্থীর রাখলো আযানের উপর। আযান আবার বলল, “ ক্ষমতাবান অপরাধীকে সকলেই ভয় পায়। এইটা জানেন নিশ্চয়ই ? ওই ব্যপার তেমনি-
-“এতো সব কিছু আপানাদের হাতে অথচ এতদিন থানায় জমা না দেওয়ার কারণ ?”
উড়ান মুখে বাবলগাম চিবোতে চিবোতে বলল- “ আপনার পোস্টিং এ এলাকায় দেবার কারণ কি জানেন ?
কাব্য মাথা নাড়ালো ,“উহু”
উড়ান উচ্চ শব্দে হাসলো। আযান উড়ানের হাসি পাত্তা না দিয়ে বলল- “ উপর মহলে আর্জি জানিয়ে এ এলাকায় পোস্টিং করানো হয়েছে আপনাকে।”

কাব্যের সত্যি জানা নেই এই কথা। তার পোস্টিং ছিলো সিরাজগঞ্জে তবে ,ৎহঠাৎ করেই পঞ্চগড়ের পোস্টিং পাঠানো হয় তাকে। বেশ ভাবনায় পড়লো ছেলেটা। পঞ্চগড় আসা হয়না তার বহুদিন মায়ের আদেশেই এই এলাকা ছাড়তে হয়েছিলো তাকে। তখন বয়স বেশি না হবে ১০ এর মতো , বাহিরের এক দূরসম্পর্কের খালার বাড়িতে থেকে তার বড় হ‌ওয়া। কাব্য ভাবনায় পড়লো , আম্মার সাথে এখনো মুলাকাত হয়নি তার। তবে কতকাল গোপনে থাকবে সে জানা নেই। আযান ঘড়িতে সময় দেখে নিয়ে বলল-

-“আজ উঠছি অফিসার। পড়ে আবার হবে?”
আযানে উঠলো , সাথে উড়ানের দিকেও ইশরা দিতে উড়ান এক অভিনব স্টাইলে সালাম ঠুকলো। দুই ভাই উল্টো ঘুরে যাবার জন্য পা বাড়াতেই কাব্য বলল-
-“খন্দকার বাড়ি আর মীর বাড়ির সম্পর্ক কি ?”
আযানের পা থমকে গেলো ,সে উল্টো না ঘুরেই বলল, “কোনো সম্পর্ক নেই যা আছে সব কেবল শত্রুতা।”
-“তবে সব ইঙ্গিত মীর বাড়ির দুয়ারে ?”
-“অপরাধ আর অপরাধী খোঁজার দায়িত্ব আপনাদের আমরা কেবল সাধারণ জনগণ অফিসার।”
কথাটুকু বলেই উল্টো ঘুরে চোখ টিপে দিলো উড়ান,

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৩

– “ আসছি”
কাব্যের মুখে এক হাসির রেখা দেখা দিলো। দুই ভাই বেড়িয়ে গেলো। কাব্য চেয়ারে গা এলিয়ে চোখে বুজে ডাকল-
-“তিতাস সাহেব , তিতাস সাহেব”
তিতাস এসে হাজির হলো। কাব্য আদেশ দিলো , “ গাড়ি বের করতে বলুন তিতাস সাহেব” ! বেড়োতে হবে –

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৫