Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১২

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১২

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১২
আরোবা চৌধুরী আরু

নাফিসা বিকেলের পুরো সময়টা কাটিয়েছিল রিশা আর জারিনের সঙ্গে।
জারিন বাসায় চলে গিয়েছিল। ওকে বিদায় দেওয়ার পর রিশার সাথে আরো কিছুক্ষণ ছিল ওর রুমে ছিল।
মাগরিবের আযানের পর নিজের রুমে গিয়ে ওযু করে নামাজ আদায় করল। নামাজ শেষে বুকের কাছে নিজের প্রিয় বইটা নিয়ে বসে পড়তে লাগল। একটু একটু করে সন্ধ্যা মিশে আসছিল ঘরের মাঝে। দূরে দূরে পাখিদের বিদায়ের ডাক, আর সারা দিনে যতটা গরম ছিল, তার মাঝেই হঠাৎ এসে পড়া ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শ, মনে হচ্ছিল প্রকৃতিই যেন তার পাশে বসে আছে।

রিশা ওকে বলেছে , কাল থেকে নাকি তাকে রিশার টিচারের কাছে ওকেও পড়তে হবে। ওর স্যারের নাম নাকি আকাশ , তার সম্পর্কে অনেক কিছু ইতিমধ্যে শুনিয়ে দিয়েছে ও। নাফিসা অবাক হয়ে যায় শুধু এই মেয়েটাকে দেখে এত কথা বলে কিভাবে এই মেয়ে।
এতকিছুর মধ্যে ওর মন একজনকে খুঁজছিল, সেই স্কুলে ভর্তি করানোর পর থেকে সায়মানকে আর দেখেনি নাফিসা। মনটা একটু খটখট করছিল, কিন্তু পড়ার বইয়ের পাতায় চোখ আটকে রাখতে চেষ্টা করল।
রাত নেমে এশার নামাজ আদায় করল। তারপর বেলকনিতে একটু দাঁড়িয়ে ঠান্ডা বাতাস অনুভব করছিল, ঠিক সেই সময়ে ওর রুমে রিশা এসে ডাকল, “নাফু, চল খেতে।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রিশার সাথে নিচে গেল খাওয়ার টেবিলে সবাই একসাথে বসেছিল,।
খাওয়ার টেবিলে সবাই উপস্থিত থাকলেও ওর চোখ যাকে খুঁজছিল তার দেখা মিলল না,
চেয়ার টেনে মাহবুব রাশিদ এসে বসার পর চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিল, সায়মানকে টেবিলে না দেখে আফিয়া বেগমের দিকে চোখ দিয়ে বলল, “তোমার বড় পুত্র কোথায়?”
সাবাই মাহবুব রাশিদ ও আফিয়া বেগমের দিকে তাকালো,।
আফিয়া বেগম স্বামীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে, মুখে স্নিগ্ধ এক হাসি নিয়ে বলল, “সায়মানের নাকি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে, ফোনে জানিয়েছে আজকে আসবে না।”
মাহবুব রাশিদের গম্ভীর মুখে একটু ক্ষুন্ন ভঙ্গিতে বলল, “হ্যাঁ, অনেক বড় চাকরি করে তো সেজন্য সময় পায় না, কিছুটা খোঁচা মেরে ।”

বড় ভাইয়ের কথা শুনে মঈন রাশিদ বললো, ও মনে হয় কোন কাজে ব্যস্ত আছে ভাইয়া ।
থাক তোমাদের আর ওর হয়ে সাফাই দিতে হবে না।
মঈন রাশিদের মুখটা চুপসে গেল, সে সবসময় সায়মানকে সব বিষয়ের সাপোর্ট করেছে। ওর চাকরি করার নিয়েও সব থেকে বড় সাপোর্ট উনি বিলকিস আরা, আফিয়া বেগম করেছে।
আফিয়া বেগম বরাবরের মতো হতাশ, তিনি আর কোন উত্তর দিলেন না, নিজের কাজে মনোযোগ দিলেন।
বাকি সবাই ও ওদের থেকে চোখ সরিয়ে খাওয়াই ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
এতক্ষণ ধরে নাফিসা মগ্ন চোখে তাদের কথোপকথন শুনছিল।
ছোট্ট মাথায় সে বোঝে না এদের বাবা-ছেলের মধ্যে এমন কী রহস্য লুকিয়ে আছে। কিছু বুঝতে না পেরে সে চুপচাপ নিজের প্লেটে নজর রাখল, হালকা হতাশার মতো একটা মায়া মেখে।

অন্ধকারে ডুবে থাকা নাফিসা বিছানায় শুয়ে আছে। চারপাশ নিস্তব্ধ, শুধু দেওয়ালের ঘড়ির টিকটিক শব্দ ধীরে ধীরে শোনা যাচ্ছে। হঠাৎ নিজের গায়ে অদ্ভুত এক স্পর্শ অনুভব করল সে। গা গুলিয়ে উঠছে, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে, কিন্তু হাত-পা নড়াতে পারছে না। যেন শরীরের সব শক্তি কোথাও গলে গেছে।
স্পর্শটা ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠতে লাগল। ও কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু কেউ ওর কথা চেপে ধরে আছে। চোখ খুলতে পারছে না। মন চিৎকার করছে—“প্লিজ… আমাকে ছুঁয়ো না… ছুঁয়ো না…” কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। আতঙ্কে বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তারপর হঠাৎ ঘুমের ভেতর থেকেই যেন ভয়ঙ্কর এক চিৎকার ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো—

“শাহিন মামা… প্লিজ… আমাকে স্পর্শ করো না… না-আ-আ…!”
চোখ বুজেই সে অনবরত চিৎকার করে যেতে লাগল। সেই চিৎকারে কণ্ঠ কেঁপে যাচ্ছে, শ্বাস ছোট ছোট হয়ে আসছে—স্প্যানিক অ্যাটাকের মতো।
এদিকে, গভীর রাত। ঘড়ির কাঁটা ঠিক দুইটায় এসে থেমেছে। সারা বাড়ি নিস্তব্ধ, শুধু দূরে কোথাও বৃষ্টির আগাম হাওয়া জানালার কাঁচে ঠুকঠুক শব্দ করছে।
সায়মান দরজার নক করার পর, একজন স্টাফ এসে দরজা খুলে দিল, সে তার কাজ শেষ করে, কেবল বাড়িতে ফিরেছে, তাহমিদ ইকবাল তাকে কয়েকদিনের জন্য রেস্ট নিতে বলেছিল। কিন্তু সায়মান শোনেনি।
করিডোরের হালকা অন্ধকারে সায়মান হাঁটছিলেন নিজের ঘরের দিকে, যা নাফিসার ঘরের ঠিক পরেই। হঠাৎ কানে এল অস্পষ্ট এক শব্দ—কেউ যেন ভয়ে কাঁপা কণ্ঠে চিৎকার করছে।

সায়মান থমকে দাঁড়ালেন। ভ্রু কুঁচকে চারপাশে তাকালেন—এত রাতে শব্দ আসছে কোন দিক থেকে? পায়ের শব্দ থামিয়ে মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করলো। এবার স্পষ্ট বোঝা গেল, শব্দটা নাফিসার ঘর থেকে আসছে।
ওর বুকের ভিতর মনে হলো কেউ খামছে ধরলো, এক অদ্ভুত ভাবনা মাথায় এসে ধরা দিতেই এক মুহূর্তও দেরি করলো না। দ্রুত পা বাড়িয়ে এগিয়ে গেল, কিন্তু দরজার কাছে এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো। বুকের ভিতর কেমন এক অজানা শঙ্কা ধাক্কা দিল। ঘরের ভেতর থেকে ভয়ে ভাঙা, অসহায় কণ্ঠে বারবার চিৎকার শোনা যাচ্ছে। তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ ফুটে উঠল—এত রাতের এই নিস্তব্ধতায়, এই চিৎকার যেন ভয়কে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দরজার কাছে হাত দিয়ে চুপচাপ দরজাটার হ্যান্ডলটা ধরল। হঠাৎ জানতে পারল, দরজাটা লক করা নেই—শুধু হালকাভাবে ভেঁড়ানো। অজানা আশঙ্কা আরো কারো হতে থাকলো দরজা লক করা না দেখে অনবরত ভাবতে শুরু করছে ও, একটু ধীর গতি নিয়ে হাত কাঁপা কাঁপা হাতে সরিয়ে দরজাটা ধীরে ধীরে ঠেলে দিল।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের সেই নরম, ম্লান ডিম লাইটের আলোর মধ্যে খাটের ওপর শুয়ে থাকা নাফিসার মুখটাই চোখে পড়ল। অন্ধকার ঘরে আলোর সেই নরম স্নিগ্ধতা যেন নাফিসার চিন্তায় ভরা দুঃস্বপ্নের আঁধারকে সামান্য আলোকিত করেছিল। ভিতরে নাফিসাকে বাদে কাউকে না দেখতে পেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। কিন্তু ওর কথাগুলো, শুনে রাগে হাত মুঠো করে ফেলল, তার ভাবতেই রাগ উঠে যাচ্ছে এইটুকু পিচ্চি মেয়ের গায়ে কেউ বাজে স্পর্শ করেছে ওটাকে ছাড়বেনা সে যেই হোক, আবার ওর দিকে তাকানো,
, নাফিসার শরীর কাঁপছে। মুখ থেকে ঝরছে চিৎকারের ধ্বনি, স্বপ্নের অভিশাপ যেন তার গলায় বন্ধন জড়িয়ে রেখেছে। সেই অস্থিরতা, সেই ভয়ের চাপ তাকে মেরে ফেলতে চাচ্ছে।

সায়মানের মন ভারী হয়ে উঠল। নাফিসার এতটাই ভাঙা, এতটাই অস্থির অবস্থা দেখে সে থামিয়ে দিতে পারল না। ধীরে ধীরে সে তার পা বাড়িয়ে নাফিসার দিকে এগিয়ে গেল। বেডের উপর বসে, এক হাতের কুনুই দিয়ে ভর দিয়ে ওর দিকে ঝুঁকে কাঁপা কাঁপা হাতে ওর গাল স্পর্শ করল, এই পিচ্চি আর ইউ ওকে। শুনতে পাচ্ছ, গালে হাত দিয়ে আলতো থাবরাতে থাকলো, দেখো চোখ খোলো এখানে কেউ নেই তোমাকে কেউ বাজে ভাবে স্পর্শ করবে না।
হঠাৎ সে অনুভব করল, তার স্পর্শেই নাফিসার শরীরে একটা অজানা সাড়া বয়ে গেল—অস্থিরতা কিছুটা কমতে শুরু করল। সায়মান কোন কিছু না ভেবে ওর পাশে আধ শোয়া হয়ে দুহাত দিয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল পিচ্চি পুতুল তাকে, নাফিসার মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল,

নাফিসার চিৎকার থামছিল না, কিন্তু সায়মান গলা খোলার আগে তার কণ্ঠে কথা বলতে শুরু করল, শান্ত স্বরে—
এই পিচ্চি , থামো… থামো, কেউ নেই। এখানে কেউ নেই… সব ঠিক আছে।”
কথাগুলো বললেও নাফিসার বুকের ভেতর থেকে ওঠা উত্তেজনা আর ভয় সরে যাচ্ছিল না। সে কাঁপছিল, নিঃশ্বাস দ্রুত ও অগোছালো হয়ে যাচ্ছিল। সায়মান বুঝল তাকে একা ছেড়ে দিলে হবে না।
সে তার হাত নিয়ে নাফিসার মাথার দিকে নিয়ে গেল, বুলিয়ে দিতে লাগল। মাথায় হাত বুলানোর সেই আলতো ছোঁয়া নাফিসার জন্য যেন ছিল সান্ত্বনার এক আলোকরশ্মি।

“শান্ত হও, পিচ্চি পুতুল,”—সায়মান মৃদু আওয়াজে বলল, “আমি আছি এখানে। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।”
নাফিসার চোখ থেকে অজানা এক ধরনের জল ঝরে পড়ল। সে এখন চিৎকার থেকে ধীরে ধীরে থেমে আসছিল, শরীর কাঁপা থেকে একটু একটু করে প্রশমিত হতে লাগল। সায়মানের বুকের সাথে ওর শরীর টেনে নিয়ে তার কণ্ঠে নতুন এক নিঃশ্বাসের ছন্দ বেজে উঠল—একটু ধীরে আর গভীর।
ঘরটা এতটাই নিস্তব্ধ, যেন চারপাশের আওয়াজগুলো থেমে গিয়েছিল। শুধু তাদের নিঃশ্বাসের তাল মিলেছিল—নাফিসার থেমে আসা আতঙ্ক আর সায়মানের ধীর শ্বাস।
সায়মান বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে নাফিসাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, যেন তাকে আর কখনো এই অন্ধকারের দুঃস্বপ্নে হারাতে দিতে চাই না।

নাফিসার শরীর এখন আর কাঁপছিল না, বরং সেই শান্তি, সেই আস্থা ছিল তার চোখে মাখানো আলোর মতো।
সায়মান চুপচাপ বসে থেকে নাফিসার কাঁপা শরীর আর অবসন্ন মুখের দিকে চোখ রাখলো। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারল, তারা দুজনই একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে — তার বুকের স্পন্দন, নাফিসার দুঃস্থ নিঃশ্বাস, একরাশ অনুভূতির মিলনে ঘরটা যেন মগ্ন হয়ে উঠল।
হঠাৎ, তার মনে এলো এই ঘনিষ্ঠতা একটু বেশি হচ্ছে। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছিল, মনে হচ্ছিল বাতাস ভারী, ঠাণ্ডা, আর গভীর কোনো আবেগ ঘিরে ফেলছে সবকিছু।
সায়মান লাজুকভাবে একটু সরাতে চাইল, নাফিসার শরীর থেকে একটু দূরে সরে যেতে চাইল।
কিন্তু সে যতই সরানোর চেষ্টা করল, নাফিসার হাত আরো শক্ত করে তার শরীর আঁকড়ে ধরল। চোখ বন্ধ রেখেই ওর ছোট্ট শব্দ বের হলো, “না… আমাকে ছেড়ে দিও না… আমি তোমার কাছে থাকতে চাই…”
সায়মান মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।

তার হৃদয় বেজে উঠল অজানা এক সুরে, এক অন্যরকম টানে। বাতাস যেন তাদের মধ্যে ঘন হয়ে উঠল, আর নিঃশ্বাসগুলো মিলেমিশে এক গভীর আবেগের গল্প বলতে শুরু করল।
তবু সে ধীরে ধীরে বলল, “পিচ্চি পুতুল , আমি তোমার পাশে আছি,!
নাফিসার চোখে সেই অস্থিরতার চেয়ে বেশি ছিল আস্থা আর বিশ্বাস। সে আরো আঁকড়ে ধরল সায়মানকে, যেন একমাত্র সেই স্পর্শ তার কাছে জীবনের আশ্রয়।
ঘরটা এখন নিস্তব্ধ, শুধু তাদের মিলিত নিঃশ্বাস আর হৃদয়ের গতি স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে—যেন সময় যেন থেমে গেছে এক অবর্ণনীয় মুহূর্তে।

নিজের অজান্তেই, সায়মানের হাত অবলীলায় এগিয়ে গেল। সে কপালে পড়ে থাকা এলোমেলো কিছু চুল আলতো করে ছুঁয়ে নিল। এক আঙ্গুল দিয়ে সাবধানে চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিল। সেই ক্ষণিকের স্পর্শে যেন নাফিসার শরীর একটু সেঁকড়ে গেল, নিঃশ্বাস খানিকটা থেমে গেল।
সেই স্পর্শে সায়মানের মনে এক অদ্ভুত টান জন্ম নিল। হঠাৎ নিজের প্রতি নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিল না—একদিকে বিরক্তি, অন্যদিকে এক অবর্ণনীয় কোমলতার উষ্ণতা। মনে হচ্ছিল, এই মেয়েটার প্রতি এভাবে আকৃষ্ট হওয়া যেন একটা ভুল, কিন্তু বুকের গভীরে সেই অনুভূতি তাকে জড়িয়ে ধরে ছেড়ে দিচ্ছে না।

বিচলিত হৃদয় নিয়ে সে ভাবল—“এটা ঠিক না, এটা ঠিক না।” তবু সেই মধুর মুহূর্তে মেয়েটাকে বুকের কাছে নিয়ে রাখতে যেন চাইল, তাকে রক্ষা করতে, তার পাশে থাকতে।
এমন সময়ই নাফিসা স্লো ঘুমের মধ্যে নরম হাত বাড়িয়ে সায়মানের হাত ধরে ধরে সে পাশে শুয়ে পড়ল। তাদের শরীরের মধ্যে এক অনাবিল স্পর্শ, এক অদ্ভুত সংযোগ তৈরি হলো, যেন আলোর সেই নরম ঝিলিক তাদের চারপাশকে ঘিরে ধরল।

বাইরে চাঁদের আলোকছটা নরমভাবে জানালার কাচে এসে পড়ছিল, যেন আল্লাহর রহমতের স্পর্শ তাদের ওপর নেমে এসেছে। নিস্তব্ধ ঘরের মধ্যে এই দুই মন যেন একে অপরকে অনুভব করার অদ্ভুত ভাষায় কথা বলছিল।
এটা যেন কোনো স্বপ্ন নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অপরিহার্য বার্তা—যতই তারা নিজেদের মধ্যে দূরত্ব রাখুক না কেন, আল্লাহ সঠিক সময়ে তাদের কাছে এনে মিলিয়ে দেবে।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১১

তাদের নিঃশ্বাসগুলো একে অপরের সাথে মিশে যাচ্ছিল, হৃদয়ের গতি যেন এক নতুন ধ্বনিতে পরিণত হচ্ছিল। এভাবেই, চাঁদের আলো আর রাতের নীরবতা সাক্ষী হয়ে থেকে গেল তাদের সেই স্পর্শময় মুহূর্তের।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ১২ (২)