Home অবাধ্য হৃদয় অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪
নুরিয়া ইসলাম

আকাশে তখন সদ্য সন্ধ্যা নেমেছে, লালচে আভার রেশ মিশে আছে তারায় ভরা অন্ধকারে। ইনায়ার বাড়ির চারপাশ সেজে উঠেছে রঙিন আলোয়, সেই আলোর ছটায় যেন হলুদিয়া রঙ আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে। l উঠোনের মাঝখানে, ফুলের সাজে, উজ্জ্বল হলুদ শাড়িতে বধূ বেশে বসেছিল ইনায়া। তার হাতে সামান্য মেহেদির ছোঁয়া, চোখ-মুখ ছিল একেবারে শান্ত। যেন সে প্রতিক্রিয়া করতেই ভুলে গেছে। একটু পরেই শুরু হবে গায়ে হলুদের মূল পর্ব।
​প্রথমেই ইনায়ার ভাবি এগিয়ে এলেন। তিনি ইনায়ার ডান গালে পবিত্র হলুদ ছুঁইয়ে দেবেন ঠিক তখনই ঘটল এক কান্ড। হলুদের তীব্র, মিষ্টি গন্ধটা হঠাৎই যেন অসহ্য হয়ে উঠলো ইনায়ার কাছে। পেটটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো, একটা অস্বস্তিকর ঢেউ পাক খেয়ে উঠলো তার পাকস্থলীতে।

​সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিল, কিন্তু শারীরিক কষ্ট আর চাপা থাকল না। হলুদের অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে, সবাই যখন শেষ বারের মতো আশীর্বাদ স্বরূপ হলুদ ছোঁয়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ইনায়ার গা গুলিয়ে উঠলো। পেট মোচড়াচ্ছে, বমি পেতে চাইছে। সে আর এক মুহূর্ত সেখানে থাকতে পারল না। দ্রুত উঠে সে ভিড়ের মাঝ দিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইল।
​সে যেই না সবাইকে এড়িয়ে বেড়িয়ে যাবে ঠিক তখনি তার ভাবি তার হাত ধরে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞেসা করে,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

— “কোথায় যাচ্ছো, ননদীনি? এই সময় এভাবে উঠে যাওয়াটা ঠিক হবে না? সবাই দেখছে!
​ইনায়া যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তার ভাবিকে বলে উঠলো,
— আমার খুব অসুস্থ লাগছে,ভাবি।মাথা ঘুরছে, আর কেমন বমি বমি পাচ্ছে। আমি আর পারছি না, একটু রুমে যাব।
​ইনায়ার কথা শুনে মারিয়া চিন্তত হয়ে বলে উঠে,
— “হঠাৎ কী হলো তোমার? সব ঠিক আছে তো? এত গুরুত্বপূর্ণ দিনে…”
​ইনায়া তার ভাবিকে শান্ত করে বলে উঠলো,
—হ্যাঁ, ঠিক আছে। মনে হয় পেটের গোলমাল। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি একটু শুয়ে থাকলেই ঠিক হয়ে যাবে। তাহলে আমি যায় ভাবি।

ইনায়া কোনোমতে বুঝিয়ে মারিয়ার হাত ছাড়িয়ে দ্রুত নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
​ইনায়ার এই হন্তদন্ত হয়ে চলে যাওয়াটা তীক্ষ্ণ চোখে লক্ষ্য করলেন অনেকেই। বিশেষত,রুখসানা বেগম, যিনি অনুষ্ঠানের প্রায় প্রথম থেকেই খুঁটিয়ে সবকিছু দেখছেন। তার পাশে বসা ছিলেন পাড়ার আরও দুই বর্ষীয়সী মহিলা, সাহেদা ফুফু আর জরিনা খালা।
​রুখসানা বেগম সকলের উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
—দেখেছো! দেখলে তো এই মেয়ের কাণ্ডটা!বিয়ের কোনো নিয়ম -কানুনকে এখন এই মেয়ে তোয়াক্কা করে না।এতদিন বিদেশে থেকে নিজের সংস্কৃতি ভুলে এসেছে।
পাড়ার কিছু মহিলা বলাবলি শুরু করে দিলো,
—গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ করে চলে যাওয়া এ তো কোন ভালো লক্ষ্মণ নয়, বউ!
​জরিনা খালা সবার সামনেই বলে উঠলেন,
— সেইদিন ওই খ্রিষ্টান ছেলেকে নিয়ে যা কান্ড হলো,দেখ গিয়ে এই মেয়ের ভাবভঙ্গি তো ভালো ঠেকছে না।

​ইনায়া নিজের ঘরে ঢুকে দরজা লক করে দিলো। ধপ করে বিছানায় বসে সে নিজের কপাল টিপে ধরল।
—”হঠাৎ আমার কী হলো? এই ক’দিন ধরেই শরীরটা এমন করছে! মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা—আজ তো বমিই আসছিল প্রায়।”
​সে নিজের পেটের ওপর হাত রাখল। বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। ইনায়া চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নিলো। একটা অদ্ভুত অনুভূতি যেন তার ভেতর থেকে উঠে আসছে। সে নিশ্চিতভাবে, তার শরীরের মধ্যে কারো অস্তিত্ব অনুভব করতে পাচ্ছে। একটা জীবন তার নিজের ভেতর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। এই অনুভবটা তাকে অস্থির করে তুলছে। সে যেন সেই অজানা প্রাণের স্পন্দন অনুভব করতে পারছে।
​—”এটা কি হতে পারে? আমি… আমি কি তবে…” তার মুখের কথাটা আপাতত মুখেই রেখে দিলো, বলা তো যায় না কে কোন দিকে কান পেতে রেখেছে।
ভয় আর এক ধরণের তীব্র উত্তেজনা তার শিরায় শিরায় বইতে লাগল।
​সে সিদ্ধান্ত নিলো, কাল সকালে আর দেরি করবে না সে। কাল সকালেই সে নিশ্চিত হবে এই বিষয়ে।

রাত প্রায় সাড়ে বারোটা। এরিকের ব্যক্তিগত ঘরের পরিবেশ শান্ত হলেও তার অভ্যন্তরে বয়ে চলছে ঝড়। সে ফ্লোরে দ্রুত ও শক্ত পদক্ষেপে পায়চারি করছে, তার প্রতিটি পদক্ষেপ তার ভিতরের অস্থিরতার জানান দিচ্ছে। হাতে ধরা কালো ফোনটি সে বারবার কানে ধরছে, স্ক্রিনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
​প্রতিবার ডায়াল করা মাত্রই একই হতাশাজনক পরিণতি – অপর প্রান্তে কোনো সাড়া নেই, কেবল রিং বেজে চলেছে। ফোনটি কানে থাকা অবস্থায় তার কপাল কুঁচকে যায়, চেহারায় ফুটে ওঠে এক কঠিন, রুক্ষ বিরক্তি। এরিকের স্বাভাবিক গুরুগম্ভীর কঠোরতা এই মুহূর্তে ইনায়ার নীরবতার কারণে ভেঙে পড়ছে অসহনীয় অস্থিরতায়।
​ফোনটা নামিয়ে এনে শক্ত করে মুঠি দিয়ে চেপে ধরে সে, যেন সেটি আছড়ে ফেলতে পারলে তার ভিতরের এই অস্থিরতা কমবে। চাপা গলায় সে এক প্রকার গর্জন করে ওঠে, যার প্রতিটি শব্দে ইনায়ার প্রতি তীব্র উদ্বেগ ও রাগ প্রকাশ পাচ্ছে।

​—ড্যামেট!ফোনটা তোল মুনলাইট।আমি শ্বাস নিতে পারছি না।এইভাবে আমায় শাস্তি দিও না, তোমার এই নীরবতা আমার কাছে মৃত্যুর সমান। এক্ষুণি ফোন ধর, নয়তো আমি নিজেই আসছি তোমাকে খুঁজতে।
​”না সে আর পারছে এইভাবে চুপচাপ বসে থাকতে। তার ইনায়ার কাছে যেতে হবে নাহলে সে কিছুতেই শান্তি পাবে না।

গভীর নিশীথ, চারপাশের নেওয়াস ভবনটি তখন এক ঘুমন্ত দৈত্যের মতোন নিস্তব্ধ। সমস্ত আলো নিভে আছে, যেন অন্ধকার তার কালো চাদর দিয়ে মুড়ে নিয়েছে সবকিছুকে। এরিক-এর চোখে তখন এক শীতল, শাণিত দীপ্তি জ্বল-জ্বল করছে। তাঁর ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক রহস্যময় হাসি।
​—”আমি আসছি তোমার কাছে, মুনলাইট, ফিসফিস করে বলল সে।
​অন্ধকারকে সঙ্গী করে, কারো অলক্ষ্যে বাতাসের ফিসফিসের মতোন নিঃশব্দে এরিক বিশাল করিডোরের ভেতরে প্রবেশ করলো। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল পরিমাপ করা, যেন কোনো শিকারী শিকারের কাছে পৌঁছাচ্ছে। সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে ইনায়া-র কক্ষের দিকে এগিয়ে চলল। নিস্তব্ধতার মধ্যে একমাত্র তাঁর শ্বাসের শব্দই ছিল জীবন্ত।
​ইনায়ার দরজার সামনে পৌঁছে হঠাৎ সে থমকে দাঁড়ালো।সে এরপর দরজার হাতলটি আলতো করে ঘোরাতে বুঝতে পারলো ভিতর থেকে তালাবদ্ধ !
​এটা দেখে তার ঠোঁটে একটা ডেভিল হাসি ফুটে উঠলো।
​—”আমার নিজস্ব রাস্তা আছে, মুনলাইট। পৃথিবীর কোনো দেওয়াল, কোনো তালা, কোনো কিছুই তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না।

দরজা তালাবদ্ধ দেখে এরিক এক মুহুর্তও সময় নষ্ট করল না। বিশাল ভবনটির পেরিয়ে আসা তাঁর কাছে ছিল এক তুচ্ছ কাজ।এর আগেও সে অগণিতবার ইনায়ার ঘরে এসেছে। লোহার কারুকাজ করা রেলিং টপকে এক মুহূর্তের মধ্যে সে ঝট করে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করলো। একটা চাপা শ্বাস ফেলে সে বললো,
—ফাইনালি, আই’এম হিয়ার!
ভিতরে ঢুকে সে দেখতে পেল ঘরটি পুরো অন্ধকারে ডুবে আছে।​জানালা ভেদ করে আসা আবছা চাঁদনীও যেন সেখানে পথ হারাচ্ছিল। এরিক-এর কণ্ঠস্বর আর তখনকার মতো কঠোর নয়, বরং কিছুটা নরম হলো।
​—”এখানে এত অন্ধকার কেন? তুমি কোথায়, মুনলাইট?”
বলতে, বলতে হঠাৎই, তার দৃষ্টি স্থির হলো সোফার উপর।
এরিক দেখললো,

—”ইনায়া গুটিশুটি মেড়ে সোফায় শুয়ে রয়েছে।
ইনায়ার এই অবস্থা দেখে কিছুক্ষণ আগে তার মনে যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল তা মুহুর্তেই ভালোবাসায় রূপ নিলো।
তাঁর পা দুটো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে গেল সেই দিকে। এরিক অত্যন্ত নিচু স্বরে ইনায়াকে ডাকলো,
— “মুনলাইট।”
​চারিপাশে শুধু নীরবতা ঘিরে ধরলো। কোনো উত্তর এল না ইনায়ার কাছ থেকে। ইনায়া ঠিক আগের মতোই নিথর হয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছিল।

নীরবতা আর উত্তরহীনতা এরিককে আর অপেক্ষা করতে দিল না। ইনায়ার দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল সে।সে কাছে এসে ইনায়াকে আলতো করে ধাক্কা দিলো—একটু নড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু মুহূর্তেই তাঁর সমস্ত বিরক্তি উবে গেল। সেই নিথর দেহটি সামান্যও নড়ল না। এরিক বুঝলো সে জেগে নেই। সে সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছে!
​— যদি ঘুমাতেই হয়, তবে বিছানায় ঘুমাও না কেন? এমন অদ্ভুত ভঙ্গিতে সোফাতে কেন?” এই জিজ্ঞাসা যেন নিজের কাছেই করলো এরিক।
​সে আর দেরি করলো না। যত্নশীল হাত দুটো বাড়িয়ে সে ইনায়াকে আলতো করে কোলে তুলে নিলো। তাঁর ‘মুনলাইট’ যেন ছিল পালকের মতো হালকা। এরপর সাবধানে তাকে তার বিছানায় শুইয়ে দিল।
​বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার পর এরিক ঝুঁকে পড়ল তার দিকে। গভীর উদ্বেগে সে ইনায়ার কপাল স্পর্শ করলো। মুহূর্তের মধ্যে অসহ্য উষ্ণতা অনুভব করে তাঁর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

​—”তোমার শরীর তো ভীষণ গরম লাগছে… তোমার কি জ্বর এসেছে?”
এরপর সে নিজের অজান্তেই নিচু স্বরে, ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো,
— “তুমি এত দায়িত্বজ্ঞানহীন,কেন মুনলাইট।”
সেই বিরক্তিপূর্ণ বিড়বিড়ানির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর ভালোবাসা, যা কেবলই তার অসুস্থ মুনলাইটের জন্য জেগে উঠেছিল। এরিক একমুহূর্তের জন্য তার সেই দায়িত্বজ্ঞানহীনা প্রিয়তমার পাশে বসে রইল,সে এই নিশীথেই তার সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে চাইছিল।

বিছানায় শুয়ে থাকা ইনায়া হঠাৎ কেঁপে উঠল। জ্বরের বিকারের মধ্যে তার চোখ দুটো আধা খোলা, দৃষ্টিতে ভয় আর গভীর বিভ্রান্তি ফুটে উঠলো। অস্ফুটে ফিসফিস করে সে বলল,
—”আমি কলঙ্কিনী নয়!তোমরা আমাকে কেন কলঙ্কিনী বলছো?”
পরক্ষণেই তার স্বর বদলে গেল, সেই স্বরে মিশে ছিল গভীর যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি।
—”এরিক, আমার সাথে এমন কেন করলেন?কেন আমায় সমাজের সামনে কলঙ্কিতা বানালেন।”
​এই দৃশ্য দেখে এরিকের বুকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হলো। সে মুহূর্তে তার সমস্ত জেদ, সমস্ত অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

— “হায় আল্লাহ…” এরিক নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বললো,
—”আমি কি সত্যিই তাকে নিজের করে পেতে,কোন ভুল পথ অবলম্বন করেছি।”
অনুশোচনায় তাঁর মন ভরে গেল।কিন্তু নিজেকে ধমকে সে বললো, অনুশোচনা করার এখন সময় নেই।
— “আগে তোমাকে সুস্থ হতে হবে।কিন্তু তার আগে আমাকে তোমার যত্ন নিতে দাও।”
​সে তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুমে গেল এবং একটি বাটিতে ঠান্ডা জল নিয়ে এল। ফিরে এসে সে ইনায়া-র পোশাক কিছুটা উপরে উঠিয়ে দিল। কাপড়টি ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে চিপে নিয়ে সে সেই শীতল পট্টি ইনায়ার কপাল, হাত এবং পেটে আলতো করে দিতে শুরু করলো। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এরিক নিরলসভাবে এই সেবা চালিয়ে গেল।এই গভীর অন্ধকারে, নীরবে শুধু দুজনের গভীর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনা গেল।

​অবশেষে, ধীরে ধীরে ইনায়ার শরীরের উত্তাপ স্বাভাবিক হলো। জ্বর কমে গেল।
​এরিক যখন পুরোপুরি নিশ্চিত হলো যে ইনায়া এখন শান্তিতে গভীর ঘুমে ডুবে আছে তখন এরিক নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল। কিন্তু নড়ার আগেই সে খেয়াল করল,
—”ইনায়া তার একটি হাত খুব শক্ত করে ধরে রেখেছে। তার অবচেতন মন যেন এরিককে এক মুহূর্তের জন্যেও দূরে যেতে দিতে চাইছে না।”

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৩

​সেই দৃশ্য দেখে এরিকের ভিতর থেকে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললো।সে ধীরে ধীরে ইনায়ার কাছে এগিয়ে গেল। বিছানায় মাথা দিয়ে ইনায়াকে দেখতে লাগলো। সে ইনায়ার গালে একটা টোকা দিয়ে বলে উঠলো,
—প্রথমবার এসেছিলাম বলে, কলঙ্কিত হয়েছেন ম্যাডাম। এইবার ধরা পড়লে কিন্তু তার পুরো দায়ভার আপনার।পরে কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবেন না। ”

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪ (২)