তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৬
জান্নাতি আক্তার জারা
“আংকেল আমার শশুর বাড়িটা কোন দিকে গো?
কথাটা কানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাহমুদ ইসলাম পিছনে ঘুড়িয়ে দাঁড়ালেন। আরাত কে একটা চিরকুট হাতে নিয়ে নিজের সামনে দাঁড়াতে দেখে বুঝে গেলেন,কিছুক্ষণ আগের বাক্যটা আরাতের মুখের বাক্য ছিলো। আরাত’ও নিজের সামনে মাহমুদ ইসলাম কে দেখে যেন বেকুব বুনে গেলো। মাহমুদ ইসলামের সঙ্গে আরাতের যতবার দেখা হইছে কোনো’না কোনো অঘটন ঘটেছে, কিন্তু আজকের ঘটনা তো অঘটন বলে না, এক কথায় আরাত বাধ্যতামূলক অচেনা ব্যক্তির কাছে অপমান হতে এসেছে। সেই অচেনা ব্যাক্তি যে মাহমুদ ইসলাম হবে আরাত কল্পনাও করে নাই।
আরাত কলেজে এসে স্কুটি টা পার্কিং করে মাঠের একপাশে সন্ধ্যা’র জন্য অপেক্ষা করছিলো, অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি নিয়ে সন্ধ্যা কে ফোন লাগাতে যাবে, ঠিক সেসময় হটাৎ কারো কন্ঠ পেয়ে ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে সামনে তাকালো, নিজের সামনে রাব্বি নামের ছেলেটা সয়তানি হাসি দিয়ে আরাত কে ডাকে,
” এই মেয়ে তোমাকে মাহির ভাই ডেকেছে, আমার সঙ্গে চলো।
আরাত রাব্বির দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন করলো,
“সে ডেকে পাঠালেই, আমাকে যেতে হবে কেনো?
” তুমি যেতে বাধ্য!
রাব্বি ছেলেটার কথায় আরাত দুহাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে বলল,
“ও রিয়েলি?
” শুনো মেয়ে, তুমি হয়তো তোমার চ্যালেঞ্জের কথা ভুলে গেছো, প্রবলেম নেই আমি মনে করে দিতেছি।
রাব্বি কথায় আরাত ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকালো, আরাতের মনে পরছে না কখন কার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করলো ও। রাব্বি পুনরায় বলতে শুরু করলো,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“গতকালের কথা মনে পড়ে? মাহির ভাইয়ের সাজা এখন তোমার উপর রিপ্লাই করা হবে চলো আমার সঙ্গে।
“শুনেন ভাইয়া , আপনি এমন ভাবে বলছেন মনে হইতাছে, আমাকে মজা কিনে নিয়ে দিতে যাচ্ছেন হুউউ। আমি এখন যেতে পারবো না আমার অলস লাগছে।
আরাত কথাটা বলে রাব্বি ছেলেটা কে পাওা না দিয়ে নিজের মতো করে সময় দেখতে দেখতে দুএক-পা এদিকে ওদিকে হাঁটতে শুরু করলো। আরাতের চালচলন দেখে রাব্বি ছেলেটা অবাকের ন্যায় চেয়ে একটু ধমকের শহিদ পুনরায় বলল,
“এই মেয়ে এই? তোমার থেকে পারমিশন জানতে আসি নাই তোমাকে মাহির ভাইয়ের সামনে হাজির হতে হবে চলো।
” চলেন আপনার মাহির ভাই দেখতে কিউট আছে, আমার সমস্যা নেই তার সামনে যেতে, চলেন!
রাব্বি ছেলেটা যেনো এবার আরাতের সাহস দেখে অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে রইলো, তারপর আর কথা না বাড়াইয়া পিছন ঘুরে মাহিরের কাছে চললো, আরাত একবার কলেজ গেটের দিকে তাকিয়ে দেখলো সন্ধ্যা আরছে কি-না, সন্ধ্যা কে দেখতে না পেয়ে রাব্বি নামের ছেলেটার পিছনে পিছনে চলে গেলো ক্যান্টিনে। আরাত ক্যান্টিনে প্রবেশ করতেই সামনে তাকিয়ে আবার যেন পা দুটো থেমে গেলো। আরশ ফোনে কথা বলছে। রুপা নামের মেয়ে টা আরাত যে পথ দিয়ে আসবে সেদিকে উঁকি দিচ্ছে বারংবার,মনে হচ্ছে আরাত আসাটা তার জন্য অনেক টা ইম্পরট্যান্ট।
তাদের পাশে মাহির বসে থেকে দু-হাত হাঁটুর উপরে ভর দিয়ে মুখে সেন্টার ফুট চিবাতে চিবাতে ফোন চালাচ্ছে। কারো পায়ে শব্দ পেয়ে ফোন থেকে মাথাটা উপরে ওঠালো, সামনে তাকিয়ে আরাত কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুখে বাঁকা হেসে পুনরায় ফোনে ব্যস্ত হয়ে গেলো। রুপা নামের মেয়েটা বসা থেকে ওঠে এসে আরাতের হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে হাতের ইশারায় দেখিয়ে বলল,
“ওই যে বকুল গাছের নিচে, একজন কে বসে থাকতে দেখছো না, ওনার কাছে গিয়ে চিরকুটের মধ্যে লেখা টা, ওনাকে বলবে ওকে?
রুপার কথায় আনাস ফোনে কথা বলতে বলতে একবার সবাইকে দেখে নিয়ে পুনরায় কথা বলায় মনোযোগী হয়ে গেলো। আরাত রুপা নামের মেয়েটার চোখে চোখ রেখে একটু ত্যাড়ামি করে বলে,
” আপনাদের কথা আমাকে শুনতে হবে কেনো?
“কারণ আমরা তোমার সিনিয়র!
” আপনারা সিনিয়র হয়ে যদি এখন বলেন এই ভার্সিটির সবচেয়ে হ্যান্ডসাম বয় কে তোমার বিয়ে করতে হবে। এটাও কী আমাকে বাধ্যতামূলক পালন করতে হবে?
“অফকোর্স।
রুপা নামে মেয়েটা আরাতের কথায় তাল মিলিয়ে কথা বলতেই কিছুক্ষণ ভেবে চোখ বড়ো বড়ো করে আরাতের দিকে তাকালো, এদিকে আরাতের কথায় মাহিরের কাশি ওঠে গেলো। কাশতে কাশতে আরাতের দিকে আরচোখে তাকালো মাহির।আরাত নিজের কথায় সবাইকে জব্দ করতে পড়ে মুখে দুষ্টু হাসি খেলা করছে যেন। আরশ ফোনটা কেটে দিয়ে পকেটে রেখে দুষ্টু হেঁসে মাহিরের পিঠে হাত বুলে দিতে দিতে ফিসফিস করে বলে,
” দোস্ত মেয়ে টা কিন্তু দারুণ চতুর আছে, দেখনা এক কথায় তোদের হাওয়া ফুস করে দিলো।
আরশ দুষ্টু হেসে কথাটা বলেতেই মাহির হাতের কনুই দিয়ে আরশের বুকে ছোট্ট করে ধাক্কা দিলো, আরশ নিজের বুকে হাত বুলাতে বুলাতে সোজা হয়ে দাড়ালো। মাহির এবার বসা থেকে ওঠে এসে আরাতের সামনে চোখে চোখ রেখে দাড়ালো। আরাত মাহিরের দিকে আগে থেকে তাকিয়ে ছিলো। মাহির আরাত কে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে মুখে বাঁকা হাসি টেনে বলল,
“মিস, হুউউ কী যেন নামটা?
মাহির আরাতের নামটা মনে করার মতো করে কথাটা বলতেই রুপা নামে মেয়েটা বলে উঠলো, আরাত ।
” রাত না চাঁদ হোয়াটেভার! শুনো অদ্ভুত মেয়ে, তুমি ভার্সিটির প্রথম দিন এসেই বেয়াদবি করেছো,এই কারণে তোমাকে হালকা করে সাজা দিয়ে ছেড়ে দিবো ভাবছিলাম বাট এখন আর সম্ভব না।
“কেনো নিজের কাছে রেখে দিতে চাইছেন বুঝি?
“ইম্পসিবল আমি এটাকে সামলাতে পারবো না তুই সামলা।
রুপা নামের মেয়েটাকে কথাটা বলেই মাহির নিজের জায়গায় পুনরায় বসে বরলো,আর রুপা মেয়েটা আরাত কে পুনরায় চিরকুট টা দিয়ে একটু শাসিয়ে বলল,
” শুনো মেয়ে আমাদের কথা না মানলে তোমাকে এর চাইতেও বড় সাজা দেওয়া হবে, এখন তোমার ইচ্ছা তুমি কী করবে।
আরাত কথা না বাড়ায়া বিরক্তি হয়ে রুপার হাত থেকে চিরকুট টা নিয়ে, মাহিরের দিকে একবার তাকিয়ে খুলতে লাগলো। চিরকুট খুলার সঙ্গে সঙ্গে চোখদুটো বড়ো বড়ো করে রুপার দিকে তাকালো, রুপা মেয়েটা দুষ্টু হাসতেসে। আরশ মাহির চিরকুটে কী লেখা আছে জানে না। আরাতের দিকে অবাক হয়ে ভাবান্তর চোখে চেয়ে রইলো। চিরকুটে কি লেখা থাকতে পারে যা দেখে মেয়েটার রিয়েকশন এমন দেখাচ্ছে। সবাই আরাতের দিকে তাকিয়ে আছে। আরাত সবাইকে একবার লক্ষ করে নিয়ে সবাইকে আশ্চর্য বানিয়ে, মুখে সয়তানি হাসি দিয়ে ওঠলো।আরাতের কাছে এই কাজটা কিছুই না। আরাত কে হাসতে দেখে সবাই যেনো অবাকের শেষ সীমান্ত পৌঁছে গেলো, বিশেষ করে রুপা মেয়েটা।
আরাত হাসতে হাসতে স্বাভাবিক হয়ে রুপা মেয়েটা কে বলছে,
“ওকে ডান!
কথাটা বলে আরাত পিছন ঘুরে কেন্টিন থেকে কলেজের মাঠে চলে গেলো। আরাত কে যেতে দেখে আরশ রুপা কে জিজ্ঞেস করে, চিরকুট কী লেখে রাখছিস। রুপা মেয়েটা আরাতের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সবকিছু খুলে বললো, রুপার কথায় মাহির আরশ কথা না বলে আরাতের দিকে তাকিয়ে রইলো সামনের রিয়েকশন দেখার জন্য।
কলেজে মাঠে বড়ো একটা বকুল ফুলের গাছ রয়েছে। বসার জন্য গাছের সঙ্গে গোল করে পাকা ব্রেঞ্চ বানানো। মাহমুদ ইসলাম সেখানে বসে নিজের মেয়ে আর আরাতের আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মিরা গতকাল বাড়িতে গিয়ে আরাতের ব্যাপারে অনেক কিছু বলছে, ইনভ্যাট ওরা যে এখন বন্ধু এটাও বলছে।মূলত মিরা তার বাবাকে আরাতের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়ে ভুল বুঝা-বুঝি গুলো ঠিক করতো। মিরা মাহমুদ ইসলাম কে এখানে থাকতে বলে আরাত কে খুঁজতে ক্লাসে গিয়েছে। মাহমুদ ইসলাম বসে থাকা আবস্থায় কারো উদ্ভট কথা গুলো কানে এলো। সঙ্গে সঙ্গে বসা থেকে দাড়িয়ে মাথাটা পিছন ঘুরতেই আরাত কে চিরকুট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন, এদিকে দূর থেকে মাহির, আরাত আর মাহমুদ ইসলাম কে লক্ষ করে বসা থেকে লাফ মেরে দাঁড়িয়ে গেলো,
“ওউ শিট এটা তো আম্মু!
কথাটা বলেই মাহির জায়গায় থেকে মাঠের দিকে দৌড়াতে থাকলো,মাহিরের পিছনে পিছনে আরশ রুপা রাব্বি তিনজন দৌড় দিলো, পুরো ভার্সিটির ছেলেমেয়ে শুধু অবাক হয়ে তাদের দৌড়ে যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো। মাহির আরশ রুপা রাব্বি কেউ কল্পনায় করে নাই বকুল গাছের নিচে মাহমুদ ইসলাম বসা থাকবে। সময় মতো না পৌছালে আরাত যদি মাহমুদ ইসলামের কাছে তাদের নাম বলে দেয় তাহলে মাহির শেষ, কথায় আছে না অন্যর ঘরে ইট মারলে নিজের চালে পাটকেল হয়ে পড়ে।
” এই মেয়ে তুমি কলেজে পড়াশোনা করতে আসো, নাকি শশুর বাড়ি খুজতে আছো, আমাকে দেখে কী তোমার ঘটক মনে হয় হ্যাঁ?
“সরি আংকেল আজকে আপনাকে আমি কিছু বলবো না, কারণ দোষ টা আমার। আমার এভাবে বলা উচিত হয়নাই।
” চাচা থেকে আংকেল, মানে অভদ্র থেকে ভদ্র গুড, তুমি এইমাত্র অভদ্র মতো কীসব উদ্ভট বাক্য বলে, এখন বলছো তোমার দোষ নেই? তাহলে দোষটা কার শুনি ?
আরাত এবার মুখে সয়তানি হাসি দিলো, কালকে মাহমুদ ইসলামের সঙ্গে তর্ক করার কারণে আজকে ব্যাপারটা এতদূর তারমানে মাহমুদ ইসলাম এই কলেজের সঙ্গে হয়তো হাত রয়েছে, কথা গুলো ভেবেই আরাত মুখে হাসি যেন আরো গারো হয়ে উঠলো। এই আরিবা তালুকদার আরাত কে রেগিং, এবার বুঝবে মজা, এগুলো ভাবতে ভাবতেই মাহমুদ ইসলাম কে, আরাত মাহির দের দিকে হাতের ইশারায় দেখালো,
“এই যে আংকেল দেখছেন না কয়েকজন এদিকে দৌড়ে আরছে, ওনারা হচ্ছেন আমার সিনিয়র। সামনের ছেলেটা কে দেখছেন না, ওনি আমাকে এই চিরকুট টা হাতে ধরিয়ে দিয়ে হুমকি বার্তা দিয়ে বলল,
এই চিরকুটে যা লেখা আছে এটা যদি আমি পূরণ না করি তাহলে ওনি আমাকে হুু হুু হুু……
হটাৎ আরাত কান্না শুরু করে দিলো, আরাতের কান্নায় মাহমুদ ইসলাম ভেবাচেকা খেয়ে গেলেন, আর মাহিরের দৌড়ে আসা পা দুটো জায়গায় থেমে গেলো,মাহির কে দাঁড়াতে দেখে আরাত আরচোখে সেদিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে পুনরায় শব্দ করে কান্না শুরু করলো, মাহির এবার দু-এক পা করে সেদিকে হাঁটা ধরলো, মাহমুদ ইসলাম আরাত কে শান্ত করতে বললেন,
” এই মেয়ে কান্না করছো কেনো, একদম কান্না করবে না আমি তো এখানেই আছি, তুমি ওদের ভয় পেও না।
এতক্ষণে মিরা এসে পড়েছে,মাহির রা ওদের কাছে আসতেই মাহমুদ ইসলাম মাহিরের উপর রেগে গেলেন।
“আমি তোমাকে এই শিক্ষা দিয়েছি, কলেজে আছো মেয়েদের রেগিং দিতে হ্যাঁ?
বাবার কথায় মাহির তব্দা খেয়ে দাঁড়িয়ে পরলো। ওরা আরাত কে রেগিং কখন দিলো। সামান্য দু-এক লাইন কথা বলতেই, মেয়েটা মাহিরের কথা অন্য মিনিং বের করতে শুরু করছিলো বেধায় মাহির তো কথা বলায় বন্ধ করে দিয়ে বসে পরছিলো। এখন এই অদ্ভুত মেয়েটা কান্নার অভিনয় করে মাহমুদ ইসলাম কে, যে কী কী বলছে কে জানে, মাহিরের ভাবনার মধ্যেই মিরা মাহির কে বলে,
” ভাইয়া তোমরা আরাতের সঙ্গে কী করছো, ও কান্না করছে কেনো?
“আজব আমি কেনো তাকে কিছু করতে যাবো! সে কী আমার বউ লাগে?
মাহিরের কথায় মাহমুদ ইসলাম কেশে উঠলো, আর মিরা যেনো অবাক চোখে নিজের ভাইকে দেখছে, শুধু মিরা কেনো আরশ রুপা রাব্বি এমন কী পুরো ভার্সিটির ছেলেমেয়ে মাহির কে অবাক চোখে দেখছে। আরাত তো কান্নার অভিনয় বাদ দিয়ে চোখ বড়ো বড়ো করে মাহির কে দেখছে, মাহির এবার আরাত কে এক নজর দেখে আরাতের চোখে চোখ রেখেই বলল,
” শেষ? আপনার অভিনয় শেষ হয়ছে, যদি শেষ হয়ে থাকে তাহলে আশা করবো আব্বু কে নিজ দায়িত্বে সত্যিটা বলবেন।
কথাটা বলেই মাহির জায়গায় থেকে প্রস্তান করলো, মাহমুদ ইসলাম ছেলের কথায় যা বুঝার বুঝে গেলেন, আরাত তো এবার আরো বেশি অবাক হইলো মাহমুদ ইসলামের ছেলে মাহির, এটা ভেবে। আরাত এবার কাচুমাচু করে মাহমুদ ইসলাম কে কিছু বলতে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে মাহমুদ ইসলাম নিজের এক হাত উপরে তুলে আরাত কে থামিয়ে দিলেন।আরাতের মনের মধ্যে এক ধরনের খারাপ লাগা কাজ করলো, না জেনে-বুঝে মজার ছলে বাবা ছেলের মধ্যে দন্ড লাগানোর জন্য। আরাত কে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রুপা নামে মেয়েটা মাহমুদ ইসলাম কে পূর্বথেকে সবকিছু খুলে বললো, আর নিজেও এতকিছুর জন্য সরি বললো। মিরা হাসি মুখে আরাতের এক হাত টেনে মাহমুদ ইসলামের সামনে নিয়ে গেলো, তারপর হাসি মুখে নতুন ভাবে বন্ধু হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিলো। এতক্ষণে সন্ধ্যা-ও এসে পড়েছে, আরাত পূর্বের ফাজলামোর জন্য মাহমুদ ইসলাম কে সরি বলছে। এই গমগমে পরিবেশ টা স্বাভাবিক করতে আগমন ঘটলো, রাফি মির্জার, বাইক নিয়ে কলেজে ঢুকে বাইক টা পার্কিং করে মাহির কে ফোন করতে যাবে ঠিক তখনই চোখ পরলো বকুল গাছের নিচে। সেদিকে তাকিয়ে কয়েকজন কে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দুই-এক পা করে সেদিকে এগিয়ে গেলো, বকুল গাছের নিচে এসে আরশের পাশে দাঁড়াতেই আরাত কে ডেকে চিল্লিয়ে উঠলো রাফি ,
” আরে বেয়াইনসাব না?
রাফির বেয়াইনসাব বলায় যেন পুনরায় সবাই অবাক হয়ে গেলো, আরাত চোখ তুলে সেদিকে তাকাতেই রাফি কে দেখে মুচকি হাসে হুম বুঝায়, রাফি মাহমুদ ইসলাম কে দেখে সালাম দিলো মাহমুদ ইসলাম সালামের উত্তর করে এখান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য বের হইলেন। মাহমুদ ইসলাম কে যেতে দেখে আরশ রাফি’কে বলল
“ব্যাপার কী দোস্ত, এই মেয়ে তোর আবার কবে থেকে বেয়াইন হইলো?
রাফি আরশের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমান ভাইয়ার শালিকা!
রাফির পুরো কথা শেষ হওয়ার আগে রুপা মেয়েটা রাফির কথা কেরে নিয়ে বলল,
” এটাই কি সেই মেয়ে? কিন্তু আমার জানা মতো এর নাম তো আরাত, আর তুই তো বলিস আইরা, তাহলে কেমনে কী?
“এটা আমান ভাইয়ের মামাতো শালি ।
গতকাল রাফি ভার্সিটিতে আসে নাই, এজন্য আরাত যে তাদের ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ছে, এটা জানা ছিলো না। আজকে দেখা হওয়ার পর একে একে আরশের সঙ্গে রুপার সঙ্গে ওদের পুরো টিমের সঙ্গে আরাত কে পরিচয় করিয়ে দিলো। আর ছোট্ট বোনের যেভাবে খেয়াল রাখে ঠিক সেভাবেই রাফি পুরো ভার্সিটির সবাইকে উদ্দেশ্য করে শাসিয়ে বলল,
“এটা আমার ছোট্ট বোন কেউ ডিস্টার্ব করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আমার সামনে হাজির চাই।
রাফির কথায় জুনিয়র সিনিয়র যত ছেলে মাঠে উপস্থিত ছিলো সবাই একসঙ্গে ঠিক আছে ভাই বলে যে যার ক্লাসে চলে গেলো। আরাতের ব্যাপারটা একদম পছন্দ হইলো না, আরাত চাইলে প্রথম দিন আনাস কে সঙ্গে নিয়ে এসে পুরো ভার্সিটিকে এভাবে বলে নিজের জায়গায় টা আটর বা সবাইকে শাসিয়ে রাখতে পারতো। এই ক্ষমতা রয়েছে তালুকদার বাড়ির। আরাতের এইধরনের নিজের ক্ষমতা দেখানো একদম পছন্দ না এজন্য প্রথম দিন আনাস কে সঙ্গে নিয়ে আসে নাই। আর এখন আরাত না চাইতেও রাফি কে কিছু বলতে পারলো না, শুধু হুম হা বলে যাচ্ছে এতক্ষণ, আরাত রাফি’কে বলে সন্ধ্যা আর মিরা কে সঙ্গে নিয়ে ক্লাস রুমে চলে গেলো এদিকে আরশ দুষ্টু হাসি দিয়ে রাফি কে বলে,
” তোর বেয়াইনসাব মানে আমাদেরও বেয়াইনসাব,তুই বেয়াইন কে ছোট্ট বোন মানলেও আমি মানতে পারবো না বলে দিলাম।
সঙ্গে সঙ্গে রাফি আরশের পিঠে কয়েকটা কিল বসাতে বসাতে চারজন একসঙ্গে হাসতে হাসতে চলল মাহিরের কাছে।
বিকাল পাঁচটা ছুঁই ছুঁই, তাকবীর এতক্ষণে বাড়িতে এলো, ইম্পরট্যান্ট মিটিং ছিলো বিধায় মায়ের কথা রাখতে পারে নাই, তাকবীর ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে কোনো দিকে না তাকিয়ে সিড়ি বেয়ে নিজের রুমে যেতে লাগলো, রাবেয়া তালুকদার তাকবীর কে সিড়ি বেয়ে নিজের রুমে যেতে দেখে তাকবীর কে ডাকলেন,
“এত দেরি করলে কেনো বাসাতে আসতে, তোমার জন্য হানিয়া অপেক্ষা করতে করতে দুপুরে খাবার মাএ খেয়ে ওঠলো মেয়েটা,
” মিটিং ছিলো।
” যাও ফ্রেশ হয়ে এসো, সবার ডিনার শেষ শুধু তুমি বাকি আছো,
“বাহিরে থেকে ডিনার করে এসেছি আম্মু, আপনি একটা কফি পাঠিয়ে দিন।
তাকবীর সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে কথা টা বললো, রাবেয়া তালুকদারের পাশে হানিয়া এসে দাঁড়িয়ে বলল,
” আন্টি তাকবীরের কফি আমি বানিয়ে নিয়ে যায়?
রাবেয়া তালুকদার হাসি মুখে হ্যাঁ বলে নিজের সঙ্গে হানিয়া কে কিচেন রুমে নিয়ে গেলেন, তারপর হানিয়া কে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে রাবেয়া তালুকদার একপাশে দাঁড়ালেন। হানিয়া মুচকি হেসে তাকবীরের জন্য ব্ল্যাককফি বানাতে লাগলো। রাবেয়া তালুকদার সাইট থেকে হানিয়া কে লক্ষ করলেন। এই যে কালো কাজ করা থ্রি-পিসে দুধের মতো ফর্সা শরীর টায় দারুণ মানিয়ে সে, পিঠ পর্যন্ত ছিলকে চুলগুলো কাঁকড়া দিয়ে বেঁধে রাখার কারণে মেয়েটার মুখের মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। রাবেয়া তালুকদার হানিয়া কে তাকবীরের পাশে কল্পনা করলেন, দারুণ জুটি হবে ভেবে একা একা মুচকি হাসলেন ভদ্রমহিলা। মনে মনে স্থির করে নিলেন আদনান তালুকদারের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি কথা বলবেন হানিয়া আর তাকবীরের বিষয়ে।
তাকবীর রুমে ধুকতেই নিজের বেলকনিতে কয়েকজনের কন্ঠে ভেসে এলো, কারো রুমে প্রবেশ করতে রুমের মালিকের পারমিশন নিতে হয়। কিন্তু এরা, এরা তো তাকবীরের রুম নিজের রুম মনে করে যখন তখন রুমে ডুকে যায়,কথাটা ভেবেই ব্যাপারটা তে কিছুটা বিরক্তি লাগলো তাকবীরের। বিরক্তি লেগেই বা কী করবে, ব্যক্তিগুলো কথা শুনলে তো তাদের বলা যায়। তাকবীর কোট খুলে বিছানার এক পাশে রেখে দিয়ে পায়ের কেস মুজা খুলে রেখে, আলমারি থেকে ব্ল্যাক টি-শার্ট আর হোয়াইট টাওজার নিয়ে শরিলের একহাত দিয়ে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে ওয়াশ রুমে ঢুকলো,
হানিয়া কফি নিয়ে রুমে ঢুকে রুমের এদিকে ওদিকে চোখ বুলিয়ে কোথাও তাকবীর কে দেখলো না, পাঁচ সেকেন্ড পর ওয়াশ রুম থেকে পানির আওয়াজ পেয়ে, কফিটা বেডসাইডের উপরে রেখে দিলো। বিছানায় তাকবীরের কোট টা দেখতে পেয়ে তুলে রাখার জন্য হাত বাড়াতেই হাতটা পুনরায় গুটিয়ে নিলো, তাকবীরের জিনিস হয়তে আসবাবপত্র অন্য কারো ছোঁয়া একদম পছন্দ না। হানিয়া কিছুক্ষণ রুমে অপেক্ষা করলো তাকবীরের বের হওয়ার, হানিয়া বেলকনির দিকে তাকাতেই খট করে ওয়াশ রুমের দরজা খুলার শব্দে সেদিকে তাকালো, তাকবীর ব্ল্যাক টি-শার্ট তের সঙ্গে হোয়াইট টাওজার পড়ে ঘাড়ে তোয়ালে ঝুলিয়ে একহাত দিয়ে মাথার ছোট্ট ছোট্ট সিল্ক চুলগুলো মুছতে মুছতে বের হইলো। বের হয়ে হানিয়া কে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকবীর আলমারির দিকে এগিয়ে গেলো,
“কেমন আছো তাকবীর?
তাকবীর গম্ভীর গলায়,
“আলহামদুলিল্লাহ।
” আমি কেমন আছি জিজ্ঞেস করবে না?
তাকবীর আলমারির একপাশ থেকে মারসিটিজ কেপ বের করে বেডসাইডে রেখে দিতে দিতে গম্ভীর গলায় বলল,
” তুমি বেলকনিতে গিয়ে ওদের সঙ্গে বসতে পারো। আমার আনইজি লাগছে।
“তোমার কফি?
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৫
তাকবীর হানিয়া দিকে গম্ভীর চোখে তাকাতেই হানিয়া
কফিটা বেডসাইড পুনরায় রেখে দিয়ে আর কথা বারালো না তাকবীর কে এক নজর দেখে নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলো ,
তাকবীর আয়নায় সামনে এসে মাথার ভেজা চুলগুলো হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নিলো, তারপর বেডসাইড থেকে মারসিটিজ কেপ টা সুন্দর করে মাথায় দিয়ে এক হাতে কফি তুলে নিয়ে অন্য হাত দিয়ে বিছানায় উপর থেকে কোট টা হাতে নিয়ে দড়ি তে বিছে দেওয়া উদ্দেশ্যে চললো বেলকনিতে ।

Apu plz rosni er sate anas er joti ta dio