mad for you part 44
তানিয়া খাতুন
খান ম্যানশন, রাত একটা।
চারিদিক নিস্তব্ধ, বাতাসও যেন থম মেরে আছে।
রাতের আধারে পুরো শহৱটা ঘুমে ঢলে পড়েছে।
কিছুক্ষণ আগেই রুহি আর ক্রিশ বাড়ি ফিরেছে।
দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি দুজনের গায়ে জমে আছে।
ক্রিশ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে, মুখে পানির ফোঁটা এখনও লেগে আছে।
ফ্রেশ হয়ে ৱুমে ঢুকতেই তার চোঁখে পড়ে—
রুহি সোফায় গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে।
চুলগুলো এলোমেলো, শাড়ির আচলটা গড়িয়ে পড়েছে মেঝের দিকে,
শ্বাসের সাথে তার বুকটা ধীরে ধীরে উঠছে-নামছে।
আজ সারাদিন এত চাপে, এত ব্যস্ততায়
ক্রিশের চোঁখ রুহির দিকে যায়নি।
এখন তাঁকাতেই মনে হলো—
তার বউ টা নিঃশব্দে কতটা বদলে গেছে।
আগের সেই লেদা মাৱকা বউটা—
যে একটু কিছু বললেই গাল ফুলিয়ে বসে যেত,
সেই রুহি আর নেই।
এখন তার মধ্যে এক ধরনের পরিণত শান্তি,
একটা আলাদা নরম সৌন্দর্য তৈরি হয়েছে।
ক্রিশ গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে।
কত বছর কেটে গেছে!
তাৱ বাটারফ্লাই তার জন্য অপেক্ষা করেছে,
তার চোখে দীর্ঘদিনের অভিমান জমে থেকেও
কখনো তাঁকে ছেড়ে যায়নি।
একসময় এই মেয়েটা তাকে সহ্য করতে পারত না,
আর এখন?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তার পুরো পৃথিবীটা যেন এই মেয়ের চারপাশে আবর্তিত হচ্ছে।
মুখে নরম হাঁসি নিয়ে সে ধীরে ধীরে সোফার দিকে এগিয়ে যায়।
আজ রুহি হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি পরেছে,
সামান্য মেকআপ, ঠোঁটে নরম গোলাপি লিপস্টিক।
সব মিলিয়ে সে এতটাই সুন্দর লাগছে
যেন আলোহীন রাতেও তার চারপাশে আলো ছড়িয়ে আছে।
ক্রিশ সোফার সামনে এসে একটু ঝুঁকে পড়ে।
তাকে কাছ থেকে দেখতেই মনে হয়—
রুহির ক্লান্তি, তার নরম শ্বাস, তার ঘুমন্ত মুখ—
সবকিছুই তাকে অদ্ভুত শান্তি দিচ্ছে।
তার দৃষ্টি পড়ে—
রুহির শাড়ির আচলটা গড়িয়ে গেছে,
যার ফলে তার ফর্সা কোমল উদরটা উম্মুক্ত প্রায়।
ক্রিশের বুকটা কেমন ধক করে ওঠে।
সে এগিয়ে গিয়ে আস্তে করে রুহির ওপর হাত রাখে, তারপর খুব ধীরে, খুব নরম করে
রুহির উদরে একটা চুম্বন রাখে—
চুম্বনটা এত গভীর, এত ভালোবাসায় ভরা
যেন সে তার সব ক্লান্তি মুছে দিতে চাইছে।
চুম্বনের স্পর্শে ঘুমের মধ্যেই রুহির শরীরটা হালকা কেঁপে ওঠে।
সে একটু নড়ে ওঠে, শ্বাসটা দ্রুত হয়,
তার কপালের ভাঁজ খুলে যায়।
অর্ধঘুমে, আধা চেতনায়
রুহি খুব আস্তে ফিসফিস করে বলে—
“…ক্রিশ?”
আর সেই একটি ডাকেই
ক্রিশের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল—
এমন স্বরে রুহি তাকে অনেক বছৱ আগে ডেকেছে।
ক্রিশ একটু ঝুঁকে রুহির কান বরাবর মুখ নিয়ে আসে।
তার নিঃশ্বাস রুহির কানে লাগতেই রুহির শরীরটা কেঁপে ওঠে।
ক্ৰিশঃ “Butterfly… উঠে পৱো fresh হয়ে নাও।”
ঘুমে ঝাপসা চোঁখে রুহি নড়েচড়ে উঠে, গলার স্বরটা ভাঙা—
“ওমম… আমার ঘুম পাচ্ছে… একটু ঘুমাই।”
ক্রিশ মাথা নাড়িয়ে হালকা স্বরে বলে—
“সারা দিন এমনই ছিলে, ফ্ৰেশ না হলে শরীর খারাপ করবে।”
তারপর কোনো কথা না বলে,
রুহিকে তার এলোমেলো অবস্থাতেই
দু’হাতে কোলে তুলে নেয়।
রুহি অবাক হয়ে বলে—
“কি করছেন?”
ক্রিশ উত্তর দেয় না,
শুধু বুকের কাছে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে—
“ফ্ৰেশ করাবো তোমাকে… তুমি ঘুমাও।”
রুহি হেঁসে ফেলে।
হেঁসে মুখটা ক্রিশের বুকে লুকিয়ে ফেলে—
এমনভাবে লুকায় যেন ইচ্ছে করলেই পুরোপুরি
ক্রিশের ভেতরে ঢুকে যেতে পারত।
ক্রিশের গা দিয়ে শিহরণ নেমে যায়।
সে রুহিকে কোলে নিয়েই ওয়াশরুমে ঢোকে।
তারপর খুব ধীরে, পরম যত্নে
রুহির প্রত্যেকটা অলংকার, শাড়ি, পিন—
সব খুলে দেয়।
তার গায়ে তোয়ালে জড়িয়ে দেয়।
রুহির গাল লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে,
কিন্তু সে কিছু বলে না—
শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, চোঁখ নামিয়ে।
ক্রিশ তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়,
হাত-মুখ ধুয়ে দেয়, চুল ঠিক করে দেয়।
এভাবে যত্ন পেয়ে রুহির বুকের ভেতরটা কেমন নরম হয়ে যায়।
সে আবার কিছু বলতে চায়,
কিন্তু লজ্জায় শব্দ বের হয় না।
সবকিছু শেষ হলে ক্রিশ আবার তাকে কোলে তুলে নেয়—
এইবার আরও শক্ত করে।
রুহির হৃদস্পন্দন তার বুকের সাথে লেগে থাকে।
রুমে ঢুকে, বিছানায় খুব কোমলভাবে তাকে শুইয়ে দেয়।
রুহি ভ্রু কুঁচকে বলে—
“আমি ড্ৰেস পরবো তো… এভাবে শুইয়ে দিচ্ছেন কেন?”
ক্রিশ নিচু হয়ে রুহির মুখের ওপর পড়ে থাকা চুলটা সরিয়ে দেয়,
তার চোঁখে চোঁখ রেখে বলে—
“ড্ৰেস পরা লাগবে না…সেই তো কষ্ট’ কৱে আমাকেই খুলতে হবে।”
রুহি হকচকিয়ে বলে—
“ধ্যাত… এখন না… আমি ঘুমাবো।”
ক্রিশ হেঁসে বলে—
“কাল তো মুসু শোনা মামাবাড়ি দিয়ে চলে আসবে…
আজকে একটু বেশি করে আদর করেনি, তোমাকে…
প্লিজ, butterfly…”
রুহি জানে—
ক্রিশের এই আবদার সে কখনোই ফেলতে পারে না।
তার বুকটা কেমন নরম হয়ে আসে।
ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ক্রিশের শার্টের বোতাম খুলে দেয় সে।
নরম স্বরে বলে—
“লাইট টা নিভিয়ে দিন প্লিজ…”
ক্রিশ ফিসফিস করে—
“উম্মম… থাক…
আজ আমি মন ভৱে সব দেখবো।
রুহির গাল লজ্জায় আরও লাল হয়ে যায়।
তার শ্বাস দ্রুত হয়ে আসে।
ক্রিশ এগিয়ে এসে,
রুহির গলার কাছে মুখ ঘষে—
রুহির সারা শরীরে কাঁপন নেমে যায়…
ক্রিশ মুখ তুলে রুহির দিকে তাকায়।
রুহির চোঁখ বন্ধ—চোঁখের পাতায় হালকা কাঁপুনি।
ওই দৃশ্য তাকে পুরোপুরি টেনে নেয়।
সে ধীরে ঝুঁকে এসে
রুহির চোখের পাতায়
একটা নরম, গভীর চুম্বন এঁকে দেয়।
রুহির ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে ওঠে।
ক্রিশ আরও কাছে আসে,
তার নরম গোলাপি ঠোঁটে
আয়ত্তহীন, আবেগমাখা চুম্বন রাখে।
রুহির হাত উঠে যায়
ক্রিশের খোলা পিঠের ওপর—
আঙুলের আদরে তার শ্বাস থমকে যায়।
ক্রিশ ধীরে নিজের ভর নামিয়ে দেয়
রুহির ওপর, একটা নিঃশব্দ, উষ্ণ নিশ্চিন্ততায় ভর করে।
রুহির শেষ বস্ত্রটুকুও
আস্তে, কোমল স্পর্শে সরিয়ে ফেলে সে—
যেন মাঝের সব দূরত্ব
আজ অবশেষে ভেঙে দিচ্ছে।
রুহি নিজেই ক্রিশকে আরও কাছে টেনে নেয়,
নিজের দিকে জড়িয়ে নেয়।
কোনো লাজ ছাড়াই—
যেন আজ সে তাকে পুরোপুরি নিজের করে পেতে চায়।
ক্রিশ হেঁসে ওঠে, তার দু’হাত ধরে
বিছানায় আলতো চাপ দেয়—
রুহির সারা শরীর তার তীব্র, তৃষ্ণার্ত চোখের সামনে।
ক্ৰিশঃ “You look so hauntingly beautiful… it’s driving me wild.”
রুহি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে নেয়,
কিন্তু তার শ্বাসে উত্তাপ ছড়িয়ে দেয়।
ক্রিশ ধীরে এগিয়ে এসে—
রুহির সারাংশজুড়ে,
তার ঠোঁটের কোমল স্পর্শ ছড়িয়ে দেয়,
যা রুহিকে পুরোপুরি দিশেহারা করে তোলে।
ক্রিশের পরিপূর্ণ, শক্ত হাতের উষ্ণ সন্ধানী স্পর্শ
রুহির সর্বাঙ্গে ঘুরে বেড়ায়—
সে যেন আজ চাইছে রুহিকে গভীরতম ভাবে
নিজের ভেতর ভরে নিতে,
গভীরে আরও গভীরে ডুবে যেতে।
রুহির সারা দেহ কেঁপে ওঠে— তাদের নিঃশ্বাস, হৃদস্পন্দন, স্পর্শ—
সব মিলিয়ে একটা নীরব, উষ্ণ, ঘনিষ্ঠ রাত
দু’জনকে একসাথে টেনে নেয়।
রুহির বুক ওঠানামা করছে দ্রুত,
তার আঙুলগুলো আঁকড়ে ধরেছে চাদর।
ক্রিশ আৱো কাছে আসতেই,
রুহির শ্বাস আরও অগোছালো হয়ে যায়—
লাজ, ভয়, উত্তেজনা সব মিলেমিশে
তার চোঁখ জ্বলজ্বল করছে।
ক্রিশ দু’হাত দিয়ে রুহির মুখটা নিজের দুহাতেৱ মাঝে নিয়ে বলে—
“আজকে আমি একদমি কন্ট্রোলে নেই্ বাটারফ্লাই বেশি কষ্ট’ হলে বলবি।”
রুহি উত্তর দিতে পারে না,
শুধু চোখ বন্ধ করে মাথা নেড়ে দেয়—
একটা নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ।
পরের মুহূর্তে তাদের দু’জনের মাঝে থাকা
শেষ সীমাটুকুও ভেঙে যায়।
ঘরটা নিস্তব্ধ, কিন্তু বিছানা শিউরে উঠতে থাকে
তাদের সাথে তাল মিলিয়ে।
ক্রিশ রুহিকে বুকে জড়িয়ে
গভীর এক ছন্দে হারিয়ে যায়।
তার নিঃশ্বাস রুহির গোছালো চুলের ভেতর গরম হয়ে লাগে।
রুহি শ্বাস নিতে ভুলে যায়—
ক্রিশে কে সামলাতে নাজেহাল হয়ে পড়ে,
তবুও হাত দু’টি আরও শক্ত করে
তার কাঁধে গেঁথে ধরে।
রাতের মধ্যে তাদের শরীর, শ্বাস, আর অনুভূতি
একটাই স্রোতে মিলেমিশে যায়—
যেখানে সময় থেমে থাকে
শুধু তাদের দু’জনের জন্য।
ক্রিশ যেন থামতেই জানে না।
তার প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি ছন্দ
রুহির ভেতরের সব সুরকে জাগিয়ে তোলে।
রুহির ঠোঁট কাঁপে, চোঁখ বুজে তীব্র শ্বাস ফেলে—
ও যেন অর্ধেক লজ্জায়,
অর্ধেক আবেগে ভেঙে পড়ে।
ক্রিশ নরম কণ্ঠে ফিসফিস করে—
“Hold on a little more… for me.”
আর তারপর— রাতটা বয়ে নিয়ে যায়
তাদের দু’জনের সবটুকু ভালবাসা, তীব্রতা,
সব কান্না, সব কম্পন—
একটানা, গভীর, বন্ধ না হওয়া মিলনের মতো।
ঘর, বাতাস, বিছানা—
সব তাদের দু’জনের অনুভূতিতে ডুবে যায়,
যতক্ষণ না রাত নিভে আসে ধীরে ধীরে,
নিঃশব্দে।
রাতের মিলনের পর পুরো ঘরটা ছিল শান্ত আর ভারী নিঃশ্বাসে ভরা।
সকালের প্রথম আলোটা জানালা দিয়ে ঢুকে ধীরে ধীরে বিছানার দু’জনকে ছুঁয়ে যায়।
রুহি প্রথমে নড়ে ওঠে। তার ক্লান্ত শরীরটা এখনো উষ্ণ।
তাৱ বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে ক্রিশ এখনো গভীর ঘুমে।
রুহি চোঁখ খুলে ক্রিশের দিকে তাঁকাতেই দেখে—লোকটা ঠিক শিশুদের মতো শান্ত হয়ে আছে, এক হাত এখনো শক্ত করে তার কোমরের ওপর রাখা।
রুহির গাল লাল হয়ে ওঠে। আগের রাতের প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি নিশ্বাস, প্রতিটি কাঁপুনি মনে পড়তেই তার বুকটা ধীরে ধীরে ঢেউ তোলে।
একটু নড়তেই ক্রিশের ভুরু কুঁচকে যায়।
সেকেন্ড খানেক পরেই সে আধো ঘুমের স্বরে বলে—
“বাটাৱফ্লাই , আৱ একটু ঘুমাতে দে।”
রুহি লজ্জায় হেঁসে আবার তার বুকে লেগে যায়।
“আপনাৱ মেয়ে চলে আসবে, উঠুন।”
ক্রিশ আধো চোঁখ খুলে তার কপালে চুমু রাখে।
রুহি চোখ বন্ধ করে।
ক্ৰিশঃ কালকেৱ ম্যাচ টা কেমন লেগেছে বাটারফ্লাই?
রুহি লজ্জা ক্রিশের বুকে হাত রেখে বলে—
“আপনি একটা অসভ্য, আমি এখনো হাঁফিয়ে যায় আপনাকে সামলাতে…”
ক্রিশ হালকা টান দিয়ে তাকে আবার কাছে টেনে নেয়।
ক্ৰিশঃ I know butterfly “Mine’s a bit too big… for you.”
ক্ৰিশেৱ কথায় ৱুহিৱ কান দিয়ে গৱম ধোঁয়া বেৱোয় মনে হয়।
ৱুহিঃ ওফফ অসভ্য লোক চুপ কৱুন।
ক্ৰিশঃ ওকে বাটারফ্লাই কিন্তু আমাৱ এখনি এ্কটা morning kiss চাই
রুহি চোখ পাকালেও কয়েক সেকেন্ড পরে নরমভাবে তার ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়ায়—
“ঠিক আছে ,একটা।”
রুহি লজ্জায় গাল লাল করে ফেলে।
এর আগেই ক্রিশ তার চিবুকটা হালকা আঙুলে তুলে ধরে।
তাদের চোখ দু’টো মুহূর্তের জন্য আটকে যায়।
রুহির চোঁখের পাতা কাঁপে, শ্বাসটা থেমে আসে।
ধীরে… খুব ধীরে… রুহি এগিয়ে আসে।
রুহি প্রথমে খুব নরম একটা চুমু রাখে তার ঠোঁটের কোণায়।
ক্রিশ চোখ বন্ধ করে নিশ্বাস ছাড়ে।
তার হাত টেনে নেয় রুহির কোমর।
রুহি আরও লজ্জা পায়, কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরে আবার এগিয়ে এসে—
এবার সরাসরি তার ঠোঁটে
একটা উষ্ণ, কোমল, চুমু রেখে দেয়।
ক্রিশের ঠোঁটের কোনে হাঁসি খেলে যায়।
সে ধীরে বলে—
“এৱাকম ভিটামিন A ৱোজ হওয়া দৱকাৱ ”
রুহি মুখ লুকিয়ে ফেলে তার বুকে, আর ক্রিশ তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরও একটু কাছাকাছি টেনে নেয়।
পুষ্প সারা রাত কেঁদে কেঁদে চোখ লাল করে ফেলেছে।
ৱাতে এক মুহূর্তের জন্যও ঘুম চোঁখে আসেনি তাৱ।
আর আয়ান তার পাশে বসে—চেষ্টা করেছে তাকে সামলানোর।
এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যায়।
যার ভালোবাসার মানুষ অন্য কারো জন্য কাঁদছে,
তবুও সে সান্ত্বনা দিচ্ছে, মন থেকে।
ভোরের দিকে কান্না করতে করতে
শেষমেশ পুষ্পো ঘুমিয়ে পড়ে।
আয়ান আস্তে করে তাকে কোলে তুলে খাটে শুইয়ে দেয়, চাদর টেনে দেয় যেন ঠান্ডা না লাগে।
তারপর রান্নাঘরে ঢুকে যায়—
যদিও রান্নায় তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
তবুও YouTube দেখে-দেখে
পুষ্পোৱ জন্য লুডেন্স বানানোর চেষ্টা শুরু করে।
অবশেষে বানিয়েও ফেলে।
ঠিক তখনই—
পুষ্পো: “কি করছেন আপনি?”
আয়ান চমকে পিছনে তাঁকায়।
দেখে অবাক হয়ে যায়—
দরজার সামনে লাল টুকটুকে থ্রি-পিস পরে দাঁড়িয়ে আছে পুষ্পো।
চোখ ফুলে আছে, মুখ ক্লান্ত,
তবু তাকে আজ অদ্ভুত শান্ত লাগছে।
আয়ান কয়েক সেকেন্ড তাঁকিয়ে থাকে।
পুষ্পো লজ্জা পেয়ে হাত নাড়ে—
— “শুনছেন? ”
আয়ান একটু হেঁসে বলে—
— “হা হ্যাঁ বলো, কী হয়েছে?”
পুষ্পো আস্তে এগিয়ে এসে বলে—
— “আমরা কি… অন্য কোথাও থাকতে পারি না?
আমি এখানে থাকতে চাই না।”
আয়ান নরম গলায়—
— “আগে খেয়ে নাও। তারপর কথা বলি।”
সে পুষ্পো কে হাত ধৱে চেয়ারে বসায়।
টেবিলে লুডেন্স রেখে বলে—
— “নিন ম্যাডাম, খেয়ে বলুন কেমন হয়েছে।
খাৱাপ লাগলে বাইরে থেকে আনাবো।”
পুষ্পো অবাক হয়ে তাঁকিয়ে থাকে।
এ মানুষটা এত কিছু করছে কেন?
শুধু তাকে বিয়ে করেছে বলে?
নাকি… তার কষ্টটা সত্যিই এত গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে চায়?
তবু সে চামচে লুডেন্স তুলে মুখে দেয়—
আর সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় হয়ে যায়।
ঝাল! প্রচণ্ড ঝাল!
সে পানি খেতে খেতে শ্বাস নেয়।
আয়ান তাড়াতাড়ি কাছে আসে—
— “কি হল? অনেক ঝাল হয়েছে? দাঁড়াও, চকোলেট এনে দিচ্ছি!”
পুষ্পো তাকে থামিয়ে দেয়—
— “না, কিছু লাগবে না।
আপনি শুধু আমার কথা শুনুন।”
আয়ান শান্ত স্বরে—
— “বলো।”
পুষ্পো চোঁখ নামিয়ে বলে—
— “আমি… এই বাড়িতে থাকতে পারব না।
এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।
এক মুহূর্তও আর থাকতে চাই না।”
আয়ান কিছুক্ষণ চুপচাপ তাঁকিয়ে থাকে।
তারপর বলে—
“আমার নিজের একটা ছোট বাড়ি আছে।
সব গুছাতে দুই দিন লাগবে।
দুই দিন পর তোমাকে নিয়ে যাবো।”
পুষ্পো মাথা নাড়ে চোঁখ ভিজে ওঠে গলা কাঁপিয়ে বলে—
“না… আপনি এখনই আমাকে নিয়ে যান।
mad for you part 43
কিছু গুছানোর দরকার নেই।
এই বাড়িতে আমি আর থাকতে পারব না… প্লিজ।”
আয়ান ধীরে মাথা নাড়ে—
একটা নরম, ভরসা দেওয়া হাঁসি দেয়—
— “ঠিক আছে।
তুমি যা বলবে তাই হবে।
চলো… আমরা এখনই বের হয়ে যাই।”
