Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫২

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫২

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫২
আরোবা চৌধুরী আরু

ঢাকা শহরের অলিগলি, মোড়, রাস্তা যেদিকেই তাকানো যায়, নাফিসাকে খোঁজার হুলস্থুল চলছে। মাহবুব রশিদ নিজের সমস্ত পাওয়ার ব্যবহার করছে তাকে খুঁজে বের করার জন্য। পুলিশ, লোকজন, ইনফর্মার সবাইকে নামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তবুও কোনো হদিস নেই।
এই বিশাল শহরের ভিড়ে যেন নাফিসা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
“রাশিদ ভিল্লাতে “এদিকে নীরবতা সবার মুখে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা। আফিয়া বেগম তো পুরোপুরি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সারাদিন ধরে কপালে হাত দিয়ে বসে থাকা, চোখ লাল, খাবার নেই, ঘুম নেই। একটাই চিন্তা, “নাফু কোথায়?”নিজের মেয়ের মত করে আগলে রেখেছিল এতদিন, সেই মেয়ের উপর এক ফোটা বিশ্বাস করতে পারল না? তার কথাটা ভালোভাবে শুনতে পারলো না? কোন সময় দিল না? নিজের প্রতি এই আফসোস, এই অপরাধবোধ তাকে ভিতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কথা, কেউই ভাবতে পারেনি যে নাফিসা আসলে সায়মানের বউ। দুজনের বয়সের এত তফাৎ… আর তাদের সম্পর্ক কখনোই কারো সামনে আসেনি। একসাথে থাকার দৃশ্য কেউ দেখেনি, প্রকাশ্যে কিছুই ছিল না। তাই হয়তো এই সত্যটা কারো মাথায় ঠিকমতো আসেনি।
এদিকে সায়ফান অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে নাফিসাকে খুঁজে বের করার।
সাথে সাথে সে মরিয়া হয়ে সায়মান ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক নেই, লাইন দিচ্ছে না, দূরে কোথাও মিশনে থাকলে সাধারণত এমনটাই হয়।
অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে সে তাহমিদ ইকবালের কেবিনে।
পরিস্থিতি কী হচ্ছে, কখন সায়মান ফিরছে, সবই তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত আর চেপে রাখতে না পেরে সায়ফান সব কিছু খুলে বলে তাহমিদ ইকবালকে। তাহমিদ ইকবাল কথা শুনে গভীর চিন্তায় পড়ে যায়। সে নিজেও জানে আজই সায়মানের ফিরে আসার কথা। মিশন শেষ হয়েছে।
আর তার নিজের অপরাধবোধও কম নয়।
সে-ই তো কিছুটা জোর করে, চাপ দিয়ে সায়মানকে মিশনে পাঠিয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে, ভুল করেছে। খুব বড় ভুল।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

সায়মান যখন ফিরে এসে নিজের বউকে খুঁজে পাবে না… তখন সে কী জবাব দেবে? কোথায় লুকাবে মুখ?
ওদিকে সায়ফান মাথায় হাত দিয়ে চুপ করে বসে আছে। তার ভাই তাকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিল, নাফিসাকে দেখে রাখার দায়িত্ব।
কিন্তু সে সেটা রাখতে পারেনি। নিজেকেই ক্ষমা করতে পারবে না, যদি নাফিসার কিছু হয়৷
কেবিনের ভেতরে দুজনেই নিস্তব্ধ। টেবিলের ঘড়ির টিকটিক শব্দও যেন খুব স্পষ্ট শোনা যায়।
হঠাৎ,
টক টক।
দরজায় নক।
একটু পরেই কেবিনে ঢোকে রাজীব। ভিতরে ঢুকেই স্যালুট দিয়ে সালাম জানায় তাহমিদ ইকবালকে।

“স্যার, কেমন আছেন? মিশন আমরা সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। কংগ্রাচুলেশন।”
তারপরই চোখ পড়ে পাশে বসা সায়ফানের দিকে।
“আরে সায়ফান! তুই এখানে? কোন জরুরি কাজ নাকি?”
সায়ফান আস্তে উঠে দাঁড়ায়। মুখটা গম্ভীর,
“বড় ভাইয়া কই, রাজিব ভাই?”
রাজিব একটু অবাক হয়ে উত্তর দেয়,
“সায়মান স্যার তো সোজা বাসার দিকে গেছে। ভাবির সাথে দেখা করার জন্য খুব এক্সাইটেড ছিল। তাই আমাকে শুধু বলে গেল স্যারকে জানাতে ওনি বাসায় যাচ্ছে পরে এসে দেখা করবে।”

এই কথা শেষ হতেই তাহমিদ ইকবাল আর সায়ফানের মুখ একদম ফ্যাকাসে হয়ে যায়। কারণ তারা দুজনেই জানে, সায়মান এখন বাসায় গিয়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে।
সায়ফান নিজের জায়গা থেকে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায়। কথা গুলিয়ে যায় তার মুখে।
“আঙ্কেল, আমি যাই। দেরি হলে চলবে না। আপনি প্লিজ আরও ফোর্স লাগান। নাফুর খোঁজ করুন প্লিজ… আমি যাই…”

একটুও সময় নষ্ট করেলো না । দৌড়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে।
রাজীব পুরো ঘটনাটা বুঝতে না পেরে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
তার চোখে-মুখে জিজ্ঞাসার ছাপ স্পষ্ট। ও ধীরে ধীরে তাকায় তাহমিদ ইকবালের দিকে।
“স্যার… নাফিসা ভাবির কী হয়েছে? সায়ফান তো প্রায় দৌড়ে চলে গেল। আপনার মুখও এমন কেন?”
তাহমিদ ইকবাল গভীর শ্বাস নেয়। সে সংক্ষেপে, ধীরে ধীরে রাজীবকে পুরো পরিস্থিতি বলে দেয়,
নাফিসার নিখোঁজ হওয়া, পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি।
রাজীব বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তার মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাশিদ ভিল্লার বড় গেটটা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সায়মানের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক স্বস্তি-উচ্ছ্বাসের ঢেউ উঠছে। হলরুমে ঢোকার সাথে সাথেই চোখে পড়ে, ইমা বেগম আর বিলকিসারা বেগম সোফায় বসে আছে। মুখ দুটো অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে।
চোখে লালভাব। মুখের রেখায় গভীর টেনশন।
সায়মান থমকে দাঁড়াল। তারপর শান্ত স্বরে সালাম দিল,
“আসসালামু আলাইকুম।”
দু’জনই সায়মানকে দেখে আবাক আর ভয়ে কেমন যান্ত্রিকভাবে সালামের জবাব দিল।
তাও সায়মান বিষয়টা হালকাভাবে নিল প্রথমে।
“কেমন আছো তোমরা ?”

কোনো উত্তর নেই। এক ফোঁটা শব্দ নেই। বরফের মত নীরবতা।
পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলেও সায়মান চাপা হাসি দিল,
“আচ্ছা ঠিক আছে, তোমরা বসো। আমি আগে ফ্রেশ হয়ে আসি। আম্মু কই?”
কেউ কোনো কথা বলল না। বিলকিসারা শুধু মাথা নিচু করে থাকল। ইমা বেগম ঠোঁট কামড়ালেন।
সায়মান আর কিছু না বলে সোজা সিঁড়ির দিকে হাঁটা দিল।
উঠতে উঠতে তার বুকের ভেতর ধীরে ধীরে একটা অজানা অস্বস্তি জন্ম নিচ্ছে। উপরের ফ্লোরে গিয়ে সে নিজের রুমের দিকে না গিয়ে সোজা বাঁ দিকে ঘুরে নাফিসার রুমের সামনে দাঁড়াল। ডোরনবটা ছুঁতেই দরজা কিঞ্চিৎ খোলা অবস্থায় হালকা ঠেলাতেই খুলে গেল।
দরজা খোলার সাথে সাথে যে দৃশ্যটা সামনে দেখা গেল, তা দেখে সায়মানের শ্বাস আটকে গেল।
মেঝেতে বসে আছেন আফিয়া বেগম। বিছানার পাশে মাথা হেলিয়ে রাখা, চোখ-মুখ ফুলে আছে। চুল এলোমেলো। চেহারায় কান্নার দাগ।
সায়মানের শরীর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

“আম্মু…?”
একটু থমকে সায়মান এগিয়ে গেল, হাঁটু গেড়ে মায়ের সামনে বসে গেল,
“আম্মু, কি হয়েছে? এভাবে মেঝেতে বসে আছো কেন? এই অবস্থা তোমার…!”
আফিয়া বেগম প্রথমে চমকে তাকালেন। তারপর এক সেকেন্ডও দেরি না করে ছেলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন।
“আব্বু… আব্বু আমার… নাফু… আমার মেয়েটা…”
কথাগুলো বারবার গলায় আটকে যাচ্ছে। কান্না এত বেশি যে শব্দও ঠিকমতো বেরোচ্ছে না।
সায়মান মা’কে শক্ত করে জাপটে ধরল।
“আম্মু, প্লিজ কথা বলো! নাফিসার কি হয়েছে?”
আফিয়া বেগম শুধু কাঁদছে। অস্ফুট কিছু শব্দ,
“নাফু… খুঁজে… পাইনা…”

কথাটা বুঝে সায়মানের বুকের ভিতরে যেন কেউ কুড়াল চালিয়ে দিল। শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল এক নিমিষে। ঠিক তখনই দরজার কাছে একজন স্টাফ হাজির হলো।
“স্যার… বড় স্যার আপনাকে নিচে যেতে বলেছেন।”
সায়মান তাকালও না। স্টাফ আবার বলল,
“স্যার, এখনই যেতে বলেছেন।”
সায়মান শুধু ঠান্ডা স্বরে বলল,
“হুম।”
মাকে আলতো করে উঠিয়ে বসাল। নিজেও দাঁড়াল। কিন্তু মাথায় কিছুই ঢুকছে না। আফিয়া বেগম মাথা নিচু করেই দাঁড়িয়ে রইলেন।
সায়মান শব্দ না করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো।
ড্রয়িং রুমে পৌঁছাতেই দেখে সবাই বসে আছে। ঘরের বাতাস ভারি হয়ে আছে।
আফিয়া বেগম ধীরে ধীরে ছেলের পেছনে নিচে এসে দাঁড়ালেন।
মাহবুব রশিদ ছেলের দিকে তাকিয়ে গিলল এক ঢোক । তারপর কঠিন, ভারি গলায় বলল,
“বসো। তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে হবে। আর কিছু জানাতেও হবে।”
সায়মান দাঁড়িয়েই রইল। চোখ দুটো তীক্ষ্ণ, ভয়াল।

“মানে কি? কি জানাতে হবে? আম্মু কেন কাঁদছিল? আমার পিচ্চি পুতুলের কি হয়েছে?
কেউ কিছু বলছে না। চারিপাশে যেন পাথর নীরবতা। শেষ পর্যন্ত সাবিহা খালেদ মুখ খুললেন,
“ওই মেয়েটাকে… ভাবি গতকাল বের করে দিয়েছেন। এবং এখন… খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না… কোথায় গেছে।”
কথাটা শেষ হতেই,
সায়মানের মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ হলো। কান ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল। শরীর কাঁপতে লাগল। এক মুহূর্তের জন্য দুনিয়া অন্ধকার হয়ে এল।
বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে? … নিখোঁজ?সায়মানের ভাবনার
ভিতরে ঠিক তখনই দৌড়াতে দৌড়াতে সায়ফান প্রবেশ করলো।
তার মুখ দেখে বুঝা যায় সে ভয়, অপরাধবোধ, টেনশনে প্রায় ভেঙে পড়ছে। সায়মান তাকে দেখামাত্রই ঝাঁপিয়ে পড়ে,

“আমার বউ কই? নাফিসা কই? তোর কাছে দায়িত্ব দিয়ে গেছিলাম! তুই বল— কোথায় আমার বউ?”
সায়ফান মাথা নিচু করে। ঠোঁট কাঁপছে। চুপ। একদম চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে
সায়মান হুংকার দিল,
“চুপ কেন?! কথা কানে যাচ্ছে না? উত্তর দে!”
সায়ফান গিলে গিলে বলল,
“ভাইয়া… নাফিসাকে খুঁজে পাচ্ছি না…”
বাকিটা বলা হয়নি, সায়মানের হাত বজ্রপাতে মতো সায়ফানের গালে গিয়ে পড়ল।
ঠাস!
ঘর নিস্তব্ধ। সবাই হতবাক। সায়মান চিৎকার করে উঠল,
“বাজে কথা না বলে বল— আমার বউ কই!”
সায়ফান কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“ভাইয়া… সত্যি… আমি জানিনা… মাফ করে দে… আমি দায়িত্ব রাখতে পারিনি…”
এরপরই,

সায়মান আর শুনল না। ক্ষোভ, দুঃখ, ভয়—সব মিলিয়ে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। সে সায়ফানের কলার ধরে টেনে সামনে নিয়ে উরাধুরা ঘুষি মারতে লাগল
“বল! কোথায় আমার বউ? কোথায় আমার নাফিসা? আমার সাথে এসব চালাতে আসবি না!”
সায়ফান পড়ে যাচ্ছিল, তবুও থামল না সায়মান।মুখে রাগে বিকৃত অভিব্যক্তি।
কিছুক্ষণ পর, সায়মান হঠাৎ থেমে গেল।

দাঁড়িয়ে রইল স্থির হয়ে। তারপর দু’হাতে মাথা চেপে ধরল। শ্বাস নিতে পারছে না। মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ড থেমে যাবে।
তারপর আফিয়া বেগমের দিকে এগিয়ে গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে দুইহাতে ওনার গাল আগলে নিয়ে,,
“আম্মু… আমার বউ কই? চুপ কেন বলো! আমি জানতে চাই… নাফিসা কই?”
আফিয়া বেগমের ঠোঁট কাঁপল, কিন্তু কথা বের হলো না।
চোখের ভেতর পানি চিকচিক করছে, যেন অপরাধবোধে গলা আটকে গেছে তাঁর। সায়মান চেয়ে রইল কিছুক্ষণ।
তারপর মাথা চুলকে, চুল এলোমেলো করে ফেলে বলল,
“কেউ কিছু বলে না কেন… কেউ না! আমি পাগল হয়ে যাবো এবার!”
“কি হয়েছে সব খুলে বলবে প্লিজ তোমরা ”

সাবিহা খালেদ সবার মুখের দিকে তাকিয়ে,, তারপর সায়মানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললো আমি বলছি….
সমস্ত ঘটনা শোনার পর সায়মান নিস্তব্ধ হয়ে গেলো,, তাদের ভালোবাসার চিহ্ন পৃথিবীতে আসতে চলেছে। বাচ্চা মানে সে বাবা হতে চলেছে কথাটা কিছু শোনার কিছু মুহূর্ত খুশি হলেও পরের মুহুর্তে নাফিসাকে অপমান করা তার বাচ্চাকে কলঙ্ক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। নিজের বউকে নিখোঁজ তবু এই সময়ে যে সময়ের সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা দরকার। নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করছে। সব দোষ তার নিজের পুলিশ হওয়ার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এত কিছু হলো তার পারছে ভাবতে তার এখনি চাই নিজের বউকে,,,,
এক মুহূর্তে হঠাৎ পা থামিয়ে মাহাবুব রাশিদের দিকে এগিয়ে গেল সে। গিয়ে সরাসরি সামনে বসে পড়ল। দুই হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে পড়েই দুই হাতে বাবার পা জড়িয়ে ধরল।

“আব্বু… আমি আর পারছি না!”
তার গলা যেন ভেঙে যাচ্ছে কান্নায়।
“আমি ভুল করেছি, বড় ভুল… তোমার কথা শুনিনি। তুমি বলেছিলে রাজনীতি কর, আমি করিনি। এখন করব আব্বু! করব রাজনীতি,
চাকরি থাক, ওই বালের পুলিশ হয়ে কি লাভ? নিজের ঘর রক্ষা করতে পারি না, নিজের বউয়ের খবর নিতে পারি না!”
কান্নার ফাঁকে হঠাৎ হাসল, একরাশ পাগলামির মতো হাসি,

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫১

“দেখো না আব্বু, আমি কেমন পুলিশ? নিজের বউ হারিয়ে বসে আছি!”
তারপর আবার ভেঙে পড়ল,
“আব্বু, এনে দাও ওরে… তুমি তো পারো, তোমার ক্ষমতা আছে!
তুমি বললে ওকে ফিরিয়ে আনবে না? একবার শুধু… একবার!”
সে এবার মাটিতে বসে পড়ে দু’হাতে মাথা ধরে দুলতে লাগল।
কখনো নিজের চুল টানছে,
“আম্মু, প্লিজ বলো ও ঠিক আছে…ওআম্মু, ওর ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার…ও ছাড়া আমার শ্বাসও চলে না। ও ছাড়া আমি বাঁচবো না … মরে যাবো আম্মু !”

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫২ (২)