Home প্রেমের নীলকাব্য প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৪

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৪

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৪
নওরিন কবির তিশা

দেখতে দেখতে কেটে গেলো প্রায় পনেরো টি দিন, সবার নির্ভরতা ছাড়িয়ে আজ পথ সেই দিঘ্য, কিছু বাস্তব সত্য কে যেনো না চাইতেও মেনে নিতে হয়! কলির অকাল মৃত্যু রিফাত এর ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা সব টাই বেশ দুঃখ জনক! কলির মৃত্যুর প্রায় বিশ দিন হতে চললো!
অন্যদিকে ইরার ইন্টার ফাইনাল এক্সাম চলছে, সে পরীক্ষা নিয়ে বেশ ব্যাস্ত! আদিব নিজের চেম্বার সহ কড়া ভাবে রোগীর দেখা শোনা করে! আশরাফ সিকদার আজকাল খুব বেশি বের হন না বাসা থেকে প্রয়োজন ছাড়া! আদিল কলির মৃত্যু পর থেকে বেশ অস্বাভাবিক হয়ে গেছে! না ইরা কে সময় দেয়, আর না ঠিক ভাবে কথা বলে! ইরা খুবি চিন্তিত আদিল এর এই বিষয় গুলো নিয়ে!

পরীক্ষা শেষ করে ইরা এবং জুথী বের হয়েছে বেশ অনেক খন! ইরার মুড একদম ভালো নেই, সে খুবি চিন্তিত আদিল কে নিয়ে! জুথীর সাথে কখনো ডিটেইলসে এসসব কিছু শেয়ার করে নি! জুথী অনেক বার ইরার মন খারাপ এর কথা জিজ্ঞেস করলে, এড়িয়ে গেছে ইরা বার বার বিষয় টি নিজেদের প্যারসোনাল ভেবে! কিন্তু আদিল এর ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে না সব কিছু প্যারসোনাল রাখা ঠিক হবে! তাই ইরা জুথী কে আদিল এর বিষয়ে সব টা জানায়! এবং কঠুর ভাবে নিষেধ করে ঈশান কে কোনো কিছু না জানাতে! আদিল ঈশান দুইজন খুব ভালো বন্ধু, ঈশান কোনো কিছুর আন্দাজ করলে ও সেটা আদিল এর সাথে নিশ্চয় শেয়ার করবে, কিন্তু ইরা এইটা মুটেও চাচ্ছে না! সব কিছু লুকিয়ে আদিল এর বিষয়ে জানতে আগ্রহী!
ইরা কে উদ্দেশ্য করে একজন যুবক লম্বা সালাম দিয়ে বললেন!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

___ধন্যবাদ ম্যাডাম,আমাকে সাহায্য করার জন্য!
ইরা অল্প হেসে আবদুল মামুন এর সালাম এর উওর ফিরিয়ে বিনোয়ের সাথে বললো!!
___জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি! আপনি এই খানে কেনো আমি তো আপনাকে বলেছিলাম গ্রামে চলে যেতে!
আবদুল মামুন নিশব্দে হাসলেন এবং বললেন!!
___কি আশ্চর্য তাই না, স্বামী থানার ভেতরে ডুকিয়ে দেয়, এবং ওয়াইফ ছাড়িয়ে নিয়ে আসে! হাহা
ইরা কপাল কুঁচকে, কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলে!

____আমি আপনাকে থানা থেকে বের না করলে, কারোর সাহস ছিলো না আপনাকে বের করে আনবে থানা থেকে! আমি জানতাম আপনি কোনো ভুল করেন নি “আপনাকে ফাঁসানো হয়েছে! তাই আমি চাইবো অনেক দূরে চলে যান! ঠিক আদিল সিকদার এর দৈঘ্য সীমানার বাইরে!এতে আপনার ভালো হবে বলে আমি মনে করি,
আর যদি আপনি ভেবে থাকেন, আদিল সিকদার এর পেছনে পরে থাকবেন, প্রতিশোধ নিবেন!তাহলে জেনে রাখুন আপনার মৃত্যু নিশ্চিত!
আবদুল মামুন বেশ কিছু টা অবাক হয়, ইরা কে এই ভাবে কথা বলতে দেখে, আগে কখনো ইরা এই ভাবে কথা বলেনি! বরং অধিক সম্মানের সাথে কথা বলেছে! আবদুল মামুন গম্ভীর গলাই বললেন!!

____এই না হলে আদিল সিকদার এর বউ! যাই হোক অনেক ধন্যবাদ আমাকে সাহায্য করার জন্য!আসি ম্যাডাম!
আবদুল মামুন নিজের ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশ করে চলে গেলেন! আবদুল মামুন এর মতোন জুথী ও বেশ অবাক হয়ে ছিলো! ইরা কে এমন ভাবে কথা বলতে দেখে, জুথী ইরার বাহু চেপে শক্ত গলাই বললো!
____খুব প্রয়োজন ছিলো, ওনার সাথে এমন ব্যবহার করার! ওনি আইনের লোক সম্মান টা ওনার প্রাপ্ত ছিলো! তাই নয় কি???
ইরা দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললো!!

____হুম আমি জানি! আমি শুধু ওনাকে না প্রতিটা আইনের লোক কেই সম্মান করি! আমার মনে হলো আমার সম্মান এর থেকে ওনার বেঁচে থাকাটা বেশি প্রয়োজন! তাই আমি বাজে ব্যবহার টা করলাম!
জুথীঅবাক হয়ে বললো!!
___মানে???
মানে এইটাই, আমি ওনার সাথে খারাপ ব্যবহার টা না করলে, ওনি আবার জয়েন্ট করতো এই এলাকায়! এবং আদিল কে ফলো করার চেষ্টা করতো! আদিল সম্পর্কে তেমন কোনো কিছুই পেতো না!পেতো শুধু নির্মম মৃত্যু, ওনার টান্সফার করে দেয়া হয়েছে! ওনি অন্য যেকোনো জায়গায় আবার জয়েন করতে পারবেন!
ইরার কথা শুনে জুথীর মুখে হাসি ফুটে উঠলো,ইরা হাত ছেড়ে সামনের দিকে চলতে চলতে বললো!!

____অনেক চালাক হয়ে গেছিস! যাই হোক আবদুল মামুন ছেলে টা কিন্তু সেই!
ইরা রাগে কটমট করে উঠলো, কান মুলে দিয়ে বললো!!
___আমার ভাই এর বউ হয়ে পর পুরুষ এর দিকে নজর দিতে লজ্জা লাগে না তাই না! দাড়া ভাইয়া কে বলছি!
কামাল সাহেব এবং ওনার ছেলে হাজির হয়েছেন সিকদার বাড়িতে!হঠাৎ ওনাদের উপস্থিতি মুটেও ভালো ঠেকছে না সবার কাছে! আশরাফ সিকদার ওনাদের কে নিয়ে বসেছেন ড্রয়িং রুমে! কামল সাহেব এর চোখে মুখে দুসচিন্তার ভাজ! দেখে মনে হচ্ছে বিগত কিছুসময়ে তিনি ভিষণ চিন্তিত এবং রাতে হয়তো ঘুমান না ঠিক মতোন! ওনাদের কে বাড়িতে আসতে দেখে অহনা সিকদার সারবেন্ট দিয়ে নাস্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন!
কামাল সাহেব কে এমন ডিস্টার্ব দেখে আশরাফ সিকদার বললেন!!

____আপনি ঠিক আছেন! না মানে কোনো সমস্যা হয়েছে কি???
কামাল সাহেব অসহায় কন্ঠে বললেন!
____আদিব কে প্লিজ একবার ডাকুন!
আশরাফ সিকদার আর কথা না বাড়িয়ে আদিব কে ডাকলেন, দুপুরে আদিব প্রায় প্রতিদিন আসে খাবার খাওয়ার জন্য! বাইরের খাবার একদম পছন্দ না আদিব এর! আদিব কেবল গোছল শেষ করে নিচে আসছিলো খাবার খেতে, ঠিক তখন কামাল সাহেব কে দেখে কিছুটা অবাক হয়! আদিব সামনে এগিয়ে সালাম দিয়ে, এরপর পাশের সোফায় গিয়ে বসলো!
রিমঝিম এর বড় ভাইয়া মো.লিয়ম আদিব এর কাছে বেশ কিছুটা আবদার করে বললো!!

____ভাই তোমরা বড়লোক মানুষ, তোমাদের তুললায় আমরা অতি সামান্য, বরং পিঁপড়া সমতুল্য তোমাদের সাথে আমরা কখনোই পেরে উঠবো না!
মো.লিয়ম এর এমন কথা বেশ বিরক্ত আশরাফ সিকদার এবং আদিব, হঠাৎ এসব কেন বলছে! তাদের আর্থিক অবস্থা কেমন তারা কেমন পরিবারের এসব তো মেটার করছে না, যেখানে আংটি পরানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে! আদিব কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বললো!!
___ভাইয়া আপনার মাথা ঠিক আছে, ঠিক বলছেন এসব উল্টা পাল্টা! আমরা কখনো আপনাদের কে ওই রকম নজরে দেখি নি!
মো.লিয়ম মূহুর্তেই মেজাজ ঝাঁঝিয়ে বলে উঠলো!!

___তাহলে আমার বোন কে কোথায় লুকিয়ে রেখছো বলো, আমরা তোমার কাছে বোন বিয়ে দিবো না আমরা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাবো!
আদিব সহ আশরাফ সিকদার বসা থেকে ওঠে দাড়ালেন, তারা শুধু অবাক নয় বরং তাদের মনে হচ্ছে কিছু একটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে! আদিব রাগে রিরিরি করে বলে উঠলো!!
____পাগল হয়ে গেছেন , রিমঝিম তো ওর নানুর বাসায়! ওর ফোন টাও বন্ধ আমি ভাবতেছি হয়তো চার্জ শেষ নয়তো বেজি ফ্রী হলে কল দিবে?
মো.লিয়ম কে থামিয়ে দিয়ে কামাল সাহেব বললেন!

___রিমঝিম বলেছিলো ওর নানুর বাসায় যাবে তখন আমি বলেছিলাম পৌঁছে দেয়, ও নিষেধ করলো বললো যে তুমি যাবে ওর সাথে।
হুম আমি যেতে চেয়ে ছিলাম, তবে আমার ইমারজেন্সি একটা পেসেন্ট এসেছিলো বলে, আমার আর যাওয়া হয় নি বরং রিমঝিম কে বলেছিলাম আপনার সাথে বা ভাইয়ার সাথে যাওয়া জন্য!
__কি বলছো এসব, রিমঝিম তোমার কাছে নেই???
আদিব মূহুর্তেই রেগে উঠলো, দাঁতে দাঁত পিসে রিরি করে বললো!!
___পাগল আপনারা, আপনাদের মনে হচ্ছে এই রকম সিরিয়াস বিষয় নিয়ে আমি ফাজলামো করবো! রিমঝিম বাড়িতে নাই আপনারা সেই খবর আমাকে ২৪ ঘন্টা পর দিচ্ছেন!কেমন ফ্যামিলির লোক আপনারা??
মো.লিয়ম অসহায় কন্ঠে বললো!!

___আমরা তো ভেবে ছিলাম হয়তো তোমার সাথে এই বাড়িতে এসেছে! ও তো মাঝে মাঝেই আসে কলির কবর দেখতে বরাবরের মতোন তাই আমরা ভেবে….
আদিব হুংকার দিয়ে বলে উঠলো!!
_____ফা…কিং ইউর ভাবনা, রিমঝিম কই ওরে আমার এখনি চাই ইমিডেটলি কোথায় পাবেন জানি না! আমার রিমঝিম এর কিছু হইলে আমি দেখে নিবো আপনাদের! মাইন্ড ডিট!

আদিব রাগে রিরি করে দাঁতে দাঁত পিসে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে! অন্যদিকে অসহায় কামাল সাহেব ফ্লোরে বসে পরলেন! কান্না করতে লাগলেন মেয়ে কে হারিয়ে! আশরাফ সিকদার শান্তনা দেয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করতে লাগলেন! কামাল সাহেব কে লিয়ম ফ্লোর হতে তুলে বেশ অভিমান নিয়ে বেরিয়ে যায় সিকদার মহল থেকে! পুরো সিকদার পরিবারের সবাই চিন্তিত রিমঝিম কে নিয়ে, এবং সে কোথায় যেতে পারে!
ঈশান ইরা এবং জুথীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছে, প্রথমে ইরা কে সিকদার মহলে ছেড়ে তারপর জুথী কে নিয়ে নিজেদের বাড়ি চলে যাবে! ঈশান গাড়ি চালাতে চালাতে ইরা এবং জুথী কে উদ্দেশ্য করে বললো!!

___পরীক্ষা কেমন হচ্ছে??
ইরা এবং জুথী একে অপরের দিকে তাকাতাকি করে কিছু সময়, তারপর দুইজন এক সাথে বলে উঠলো !!
____ভালোই! তবে বাকিটা আল্লাহ ভরসা!
ঈশান কপাল কুঁচকে ফেললো, কিছুটা গম্ভীর গলাই সুদরালো,,
_পরীক্ষা খাতাই না লিখে শুধু আল্লাহ ভরসা বললেই তোমরা পাশ হয়ে যাবে???
জুথী রাগী কন্ঠে বললো!!

____আপনি একটু বেশি বুঝেন! আগে তো রেজাল্ট দেখেন,তারপর বলিয়েন! আমরা ঠিক পাশ হয়ে যাবো!
___ওহহহহ, শুধুই পাশ! ভালো রেজাল্ট করার কোনো ইচ্ছে নেই তাই না??
___পরের টা পরে দেখা যাবে! চলুন তো!
ঈশান কপাল হাত গুজে গাড়ি চালাতে লাগলো, কাকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে, শুধু পাশ করলেই হয়ে গেলো!ছি কি চিন্তা ভাবনা! এদের পড়াশোনা করিয়ে আর নাক ডুবানো যাবে না!
প্রায় এিশ মিনিট পর, পৌঁছে গেলো সিকদার মহলে ইরা গাড়ি ছেড়ে নেমে বেরিয়ে গেলো বাড়ির দিকে, ইশান গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো নিজের বাড়ির দিকে!
ইরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখে ড্রয়িংরুমে সবাই এক সাথে বসে আছে! এক সাথে জড়োসড়ো হয়ে! ইরা হাতের কাগজ পএ টেবিল এর উপর রেখে আশরাফ সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললো!

___কি হয়েছে আব্বু??
আশরাফ সিকদার কে দেখেও বেশ চিন্তিত লাগছে, হয়তো কোনো কিছু নিয়ে টেনশন করছেন! আশরাফ সিকদার গলার স্বর কিছুটা নামিয়ে বললেন!!
____রিমঝিম এর বাবা এসেছিলো, রিমঝিম কে নাকি গত ২৪ ঘন্টা দরে পাওয়া যাচ্ছে না!
ইরা বেশ অবাক হয়ে যায়, রিমঝিম কোথায় যাবো একা একা, ইরা আশে পাশে আদিব কে খুজতে লাগলো, কি আশ্চর্য আদিব নেই! ইরা বললো!!

____কোথাও যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলো কি???
হুম, রিমঝিম এর নানুর বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো, আদিব নাকি দিয়ে আসবে রিমঝিম কে! কিন্তু ব্যস্ততার জন্য আদিব যেতে পারেনি!এই দিকে রিমঝিম এর পরিবার ভেবে ছিলো নানুর বাড়ি চলে গেছে তো, অন্যদিকে রিমঝিম এর নানুর পরিবার ভেবে ছিলো হয়তো আজ কে রিমঝিম আসবে না!এই ভাবে চলতে থাকে একদিন তারপর খোজ করে যখন রিমঝিম কে পায় না তখন আদিব এর সাথে যোগাযোগ করতে এসেছিলো! এদিকে আদিব ও রিমঝিম এর কোনো খোঁজ খবর জানে না!
ইরার কাছে এখন সব টাই পরিষ্কার! জলশান্ত একটা মানুষ কোথায় যেতে পারে! ইরা আশরাফ সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!

___আব্বু আপনি সোশাল মিডিয়া পএিকা যা আছে সব কিছুর মধ্যে হারানোর বিঘপ্তি প্রচার করে দেন! সেই সাথে যারা সন্ধান দিতে পারবে তাকে নগদ ৫ লক্ষ্য টাকা পুরষ্কার দেয়া হবে!
আশরাফ সিকদার বিষয় টা বুঝলেন!এবং বললেন!! ___তোমার আইডিয়া খারাপ নয়!তবে আমি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার নিজের একটা সম্মান আছে! সেই সম্মান বাইরে প্রকাশ করা বোকামি সবার হাসির পাএ হয়ে যাবো! আমরা কিনা একটা মেয়ে কে সেভ করতে পারছি না!সেই খানে বাবা ছেলে রাজনীতিতে! লোকে আঙ্গুল তুলবে আমাদের দিকে!
ইরা বেশ বিরক্তি প্রকাশ করে বললো!!

____আমার মনে হয় সম্মান এর আগে মেয়ে টির জীবন বাঁচানো ফরজ হবে আমাদের জন্য!তাই প্লিজ অতিদ্রুত সব কিছুর ব্যবস্থা করুন!
আশরাফ সিকদার সম্মতি জানান, হুম এখন এইটাই সব থেকে উওম হবে! এর মাঝে আদিব বাসায় প্রবেশ করে সারা মুখে ক্লান্তির ছাপ, অহনা সিকদার ছুটে যান ছেলের কাছে! আদিব কোনো রকম বাড়িতে প্রবেশ করে হুমড়ি খেয়ে বসে পরে ফ্লোরে! অহনা সিকদার দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে দরেন ছেলে কে! আদিব ঝরঝর করে কেদে উঠলো!ক্লান্ত শরীর টা নিয়ে বসে পরেছে! পুরো পরিবারের সবাই তাকিয়ে আছে আদিব এর দিকে, তাকে কি শান্তনা দিবে তারা বুঝে উঠতে পারছেন না! তবে আশরাফ সিকদার বললেন!!

____প্লিজ বয় আমাকে কিছু মিনিট সময়,দাও আমি মেয়ে টিকে ফিরিয়ে আনার সম্পূর্ণ চেষ্টা করবো!
আদিব টুকরে কেঁদে উঠলো, এবং বললো!!
____সবাই বেইমান, কেন বেইমানি করলি আমার সাথে, আমি তো তোকে ভালোবেসে ছিলাম! প্লিজ ড্যাড মেয়ে টিকে এনে দাও!
অহনা সিকদার ঝাপটে দরলেন ছেলে কে, ছেলে কে মানানোর জন্য বললেন!!
___বাবা তুমি একটু শান্ত হয়, সব জায়গায় খোজ লাগানো হচ্ছে! কিছু সময়ের ব্যাপার!
না মম, ও আর আসবে না ও যেনো কোথায় চলে গেছে, বেইমানি করলো আমার সাথে!
আদিব বলতে বলতে আরও জোরে কেঁদে উঠলো! এর পর আদিব এক ছুটে রুমে চলে গেলো! অন্যদিকে আশরাফ সিকদার জুরুরি ভাবে ঘোষণা করে দিলেন “সেই সাথে মেয়ে টির ছবি ও! সন্ধান দিতে পারলে নগদ ৫ লাখ টাকা পুরষ্কার!

দুপুর ঘরিয়ে বিকেল, কেটে গেছে প্রায় কয়েক ঘন্টা এর মাঝে রিমঝিম এর কোনো খবর পাওয়া যায় নি! আদিব সেই যে বের হয়েছে বাসা থেকে আর আসে নি! সে এখন মূলত রিমঝিম এর বন্ধু মহল থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন দের বাসায় গিয়ে রিমঝিম এর খবর নিয়ে আসবে! এমন ও হতে পারে রিমঝিম আদিব এর সাথে লুকোচুরি খেলছে! তাই আদিব কোথা দ্বিধা ছাড়াই পাগল এর মতোন হন্য হয়ে খুজছে রিমঝিম কে! তাকে পেতে তো হবেই! তাতে দিন থেকে রাত হোক বা রাত থেকে দিন হোক!

সেই সাথে কামাল সাহেব এবং ওনার ছেলে পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনরা খুজছেন রিমঝিম কে! কোথায় যেতে পারে মেয়ে টা, রিমঝিম কে পাওয়া যাচ্ছে না! তার কিছু খন পর থেকে রিমঝিম এর মা জ্ঞান হারিয়ে শয্যা শয়ী! আশরাফ সিকদার চারপাশে পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে সবাই কে রিমঝিম খোঁজার কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন! পুরো শহর জুড়ে খোঁজা খুঁজির ধুম পরে গেছে! মেয়ে টিকে কোনো ভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না! সবার চোখে মুখে হতাশা, মেয়ে টিকে না পাওয়ার ব্যার্থতা!

অহনা সিকদার বেশ চিন্তিত নিজের ছেলেকে নিয়ে, আদিব কে কত বার কল করা হয়েছে তার ঠিক নেই, আদিব কোনো ভাবে কল তুলছে না, শান্ত ছেলে টা কেমন বদমেজাজি হয়ে উঠলো!
অন্যদিকে ইরার কালকে আরেকটা এক্সাম আছে, সে আপাতত পড়াশোনা করার ব্যার্থ চেষ্টা করছে! কোনো ভাবেই যেনো পড়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারছে না!তখন থেকে শুধু রিমঝিম এর কথাই ভাবছে! তাছাড়া আজকে শরীর টাও বেশ খারাপ করছে, মাথা ব্যাথা সেই সাথে অল্প অল্প বমি তো আছেই!
ইরা পরছে ভেবে অহনা সিকদার এক গ্লাস গরম দুধ নিয়ে আসেন ইরার জন্য!আজকাল কেউ মেয়ে টার ঠিক ভাবে খেয়াল রাখতে পারেন না! অহনা সিকদার ইরা কে দুধ টা খাইয়ে দিলে গেলে, ইরা গড়গড় করে বমি করে দেই! সেই সাথে মাথা ব্যাথা অহনা সিকদার দ্রুত দরে ইরাকে বিছানায় নিয়ে সুয়ে দেন! অহনা সিকদার কিছুটা রেগে গিয়ে বললেন!!

____কি খেয়ে ছিলে উল্টা পাল্টা! এমন যে বমি করছো???
ইরা ভাবলো সে তো তেমন কিছু খায়নি, শুধু আজকাল খাবার টাই ঠিক মতোন খেতে পারে না গন্ধ লাগে! খাবার দেখলেই বমি আসে তার মধ্যে এই দুধ টাও!” ছ্যা কি বাজে গন্ধ! ইরা স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____আমি কিছু খায়নি আম্মু, এই দুধ টাই বাজে গন্ধ আসে! ওয়াক….
অহনা সিকদার গম্ভীর গলাই বললেন!!
__আর কি কি গন্ধ আসে??
ইরা ভাবতে শুরু করলো তারপর এক এক করে বললো!!

____ভাত, সবজি, মাছ,মাংস,দুধ মানে সব কিছুই মুটামুটি গন্ধ লাগে! কিন্তু এই দুধ টা বেশি গন্ধ!
অহনা সিকদার ইরার ব্যাখা অনুযায়ী অনেক কিছুর আন্দাজ করতে পারলেও তা প্রকাশ করলেন না! বরং নিজের রুমে চলে গেলেন!ইরা একদম বুঝলো না কি হলো এমন, আম্মু চলে গেলো কেনো আমি কি ভুল কিছু বললাম! আম্মু কি হার্ট হলো!
প্রায় ঘন্টা খানেক পর অহনা সিকদার একটা প্যাকেট থেকে প্রেগন্যান্সি টেস্ট স্ট্রিপ ইরার হাতে দরিয়ে দিয়ে বললো!

___টেস্ট করো, আই আম সিউর পজেটিব আসবে! তাছাড়া তুমি আগে নিজে সিউর হও! তারপর আমাকে জানিও!
ইরা অবাক হয়ে যায়, অহনা সিকদার এর এমন কাজ দেখে, সে কিভাবে এত তাড়াতাড়ি প্রেগনেন্স হবে! আল্লাহ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!
অহনা সিকদার ইরার মাথায় হাত রেখে বললেন!!

____চিন্তা করো না দুখের পররি সুখ আসে! আমাদের এত কষ্টের মাঝে হয়তো এক চিলটে খুশির আলো হয়ে আসবে তোমার সন্তান! দোয়া করি মা যেনো সুসংবাদ টা আমরা পাই!
ইরা মনে মনে হাসলো, সে কখনো এত তাড়াতাড়ি প্রেগনেন্স হবে না! আম্মু শুধু শুধু এত খুশি হচ্ছে!
টিংটিং আওয়াজে ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে মধ্যে রাতের আবির্ভাবের উপমা! রাত প্রায় বারো টার কাটায়, চারদিকে অন্ধকার শুনশান নীরবতা ভয়ে চলছে! ইরা বিছানার এক পাশে কাচুমাচু হয়ে সুয়ে আছে! কিছু সময় আদিল এর অপেক্ষা করলেও শরীরের ক্লান্তির জন্য আর বেশি অপেক্ষা করতে পারে নি! বরং ঘুমিয়ে গেছে অতল গহীনে,বরাবরের মতোন আদিল আজকেও বেশ পরে এসেছে বাড়িতে! যার কারনে জাগ্রত আদিল এর সাথে দেখা হলো না ইরার! আদিল রুমে এসে বেশ সময় নিয়ে সাওয়ার নিলো! প্রতিদিন সে ডিনার বাইরের থেকে করে আসে! তাই ইরা এখন আর রুমে কোনো খাবার আনে না৷ আদিল এর জন্য!

আদিল সাওয়ার শেষ করে কিছু সময় নিয়ে ল্যাপটপে কাজ করতে লাগলো! হয়তো কাউকে টেক্সট পাঠাচ্ছে! আদিল এই ভাবে বেশ কিছু সময় নিয়ে নিজের কাজ শেষ করলো!
তারপর বিছানার এক পাশে সুয়ে পরলো, আদিল হাত মেলতেই দেখে ইরা বেশ দূরে, তাই আদিল ইরার কোমর টেনে নিজের বুকের কাছে ঠেকায় ইরার মাথা! কপালে একটা শব্দ করে চুমু খেয়ে বললো!!
____সরি বউ, এত বেশি ব্যাস্ত তার জন্য ঠিক ভাবে কথা টাও বলতে পারছি না! আর না সময় দিতে পারছি! আমি সত্যি সরি বউ!আমি বড্ড ভালোবাসি তোমাকে!
আদিল এর চোখ যেনো মূহুর্তেই ভিজে উঠলো, ছলছল নয়নে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো ইরার দিকে! এই ভাবে কেটে গেলো কিছু সময়! আদিল কেবল অল্প ঘুম আসছিলো, ঠিক তখন ইরা বলে উঠলো!!

____আমি না আপনাকেও ভালোবাসি!
জানেন, আমি না অনেক অসুস্থ মাথা ব্যাথা করে বমি পাই, গন্ধ আসে ছ্যা আপনার থেকেও আসছে দূরে যান!
কি…
আদিল রেগে উঠলো,তার শরীর থেকে গন্ধ কোথা থেকে আসে! সে কেবল সাওয়ার নিয়ে আসলো গন্ধ কোথা থেকে ! আদিল ইরার গাল চেপে দরে বললো!!

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৩

___এই কি বললা! এই.???
এইভাবে আদিল ডাকলো ইরা কে বেশ কয়েক বার, ইরা সে তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, হয়তো ঘুমের মাঝে বলে উঠেছে! আদিল কয়েক বার ডাকার পর ও যখন ইরা শুনে না তখন আদিল ভাবলো! অতিরিক্ত ঘুমের ফলে হয়তো বলছে এসব! আদিল ইরা কে শক্ত করে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পরে!

প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৩৫