তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৯
তাবাস্সুম খাতুন
রাত এগারোটা বেজে চার মিনিট। রাতের ডিনার করে সবে মাত্র ড্রইং রুমে বসলো সবাই। টুকটাক গল্প করছে। সিমি যত সম্ভব তাঁদের সাথে তাল মেলানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পরোক্ষনে আবারো কুঁকড়ে যাচ্ছে। তাকে নিয়েই আবাল তাবাল কথা বার্তা বলা হচ্ছে হাসাহাসি করছে যেন একটু হলেও হাসে। সিমি ছোট বেলায় যেইসব কান্ড করতো সবকিছু বলছে। জারা মুখ খুললো,
“সবথেকে হাস্যকর কাহিনী হচ্ছে। সিমি যেইদিন হয়েছে তার পরের দিন ভাইয়ের রুমে গিয়ে ভাইয়ার কোলে প্রসাব করে দিসে। ইসসস ঘটনা টা কিন্তু খুবই সুন্দর স্মরণীয়।”
জারার কথা শুনে হাসির রোল পড়লো সবার মাঝে। এইদিকে সিমি ভ্রু নাচিয়ে বললো,
“আমার একদিন বয়স তোর ছয় মাস। তাহলে কিভাবে মনে আছে তোর?”
জারা এটিটিউট এর সাথে বললো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“আমি বেবি ছিলাম। কিন্তু বড়ো হয়েছি শুনেছি জেনেছি। তুই প্রসাব করেছিস ভাইয়ার কোলে এইটাই বাস্তব।”
জারার কথা শুনে আবারো হাসির রোল পড়লো। সিমির এইবার লজ্জা লাগলো। যেন মাটির নিচে ঢুকে যেতে ইচ্ছা হলো। সবার হাসাহাসির মধ্যে দ্রুত ভারী জুতোর শব্দ তুলে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো নিশান। তার সাথে জিহান। নিশান একটা ব্ল্যাক ডায়মন্ড প্যান্ট। কালো শার্ট পড়েছে শার্টএর উপরে দুইটা বোতল খোলা। হাতা ফোল্ট করা। চোখ দুটো লাল টুকটুক করছে, কপালে ঘাম জমে আছে।চুলগুলো হাল্কা এলোমেলো হয়ে আছে। তারা দুইজনেই এসে থামলো ড্রইং রুমে।সবাই হাসাহাসি বন্ধ করে তাঁদের দিকে তাকালো। নিশান কটাক্ষ কণ্ঠে বললো,
“মিসেস সেলিনা চৌধুরী কে ধরে আমার টর্চার সেলে নিয়ে চল জিহান।”
নিজের মাকে নাম ধরে সম্মোধন সাথে টর্চার সেল কোথায় সেইটা? এইসব শুনে তাজউদ্দিন রেগে বললো,
“সমস্যা কি তোমার? দিনদিন নাটক দেখতে হচ্ছে শুধু তোমার জন্য এখন নিজের মাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? আর সাহস কিকরে হই নিজের মাকে নাম ধরে ডাকার!”
নিশান রক্ত চক্ষু নিয়ে নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“বারবার ওই মহিলা কে আমার মা বলে দাবি করবেন না আপনি।আমি আমার জন্মধারিণী বলতে শুধু আপনাকে বুঝি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভালো হবে না কোন কিছু বাঁধা না দিয়ে দেখতে থাকেন।”
বলে নিশান সোফায় বসে থাকা সিমির হাত খপ করে চেপে ধরে তাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো। সিমি বলে উঠলো,
“আমাকে কই নিয়ে যাচ্ছেন?”
নিশান একটা বাক্য বললো,
“আমাদের বাচ্চাকে যারা খুন করেছে তাঁদের দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি।”
নিশানের বাক্য সিমির কানে যেতেই সে একদম বরফ এর মতো ঠান্ডা হয়ে গেলো। কোন কথা না। মুখটা গম্ভীর করে নিশানের সাথে যেতে লাগলো।এইদিকে জিহান তার মামীর হাত চেপে ধরতেই তাজউদ্দিন তেরে এসে বললো,
“জিহান তোমার মাথার বুদ্ধি শুদ্ধি ও কি লোপ পেয়েছে কি করেছো?”
জিহান ও একই ভঙ্গিতে বললো,
“লোপ পাই নি বড়ো মামা। পাপীদের শাস্তি দিচ্ছি।”
বলে নিয়ে যেতে নিলেই। মেহেরিমা পথ আটকিয়ে বললো,
“কিসের পাপি? কিসের শাস্তি? থাম জিহান!ভুলে যেও না উনি তোমার বড়ো মামী।”
জিহান নিঃশব্দে হেসে বললো,
“ভাগ্গিস মামী, মা নয়। সরে দাঁড়ান।”
এরপর তিহানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার রুমে ল্যাপটপ আছে। ভিডিও ফাইল এ ঢুকেই দেখবি প্রথমে একটা ভিডিও আছে। সেইটা প্লে করে সবার সামনে এনে দেখা।”
বলে জিহান ও চলে গেলো। সবার মুখে একটা প্রশ্ন কিসের ভিডিও? তিহান দ্রুত উপরে গেলো। ল্যাপটপ টা এনে ড্রইং রুমের। টি টেবিলের উপরে রাখলো, সবার দৃষ্টি তখন ল্যাপটপ এর স্কিনে। জিহানের বলা মতো তিহান ভিডিও অন করলো। কয়েক সেকেন্ড পরে সবার মুখে ভাবমূর্তি পাল্টিয়ে গেলো। ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ভিডিও শেষ হলো। ভিডিও শেষ হতেই রোজিনা ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লো। সালাউদ্দিন দ্রুত তাকে ধরলো। রোজিনা ফুঁফিয়ে উঠে বললো,
“বড়ো আফা কেন আমার মেয়েটাকে এত কষ্ট দেই? সে কি দোষ করেছিল? ঐযে ছোট বাচ্চাটা সে তো নিষ্পাপ তার পরেও তাকেও কেন চলে যেতে হলো। এতটা জঘন্য হয়ে গেলেন বড়ো আফা। সইতে পারছিনা তো আপনার এই শয়তানি রূপ। আমার মেয়েটার অবস্থা আজ আপনার জন্য এইরকম। আল্লাহর গজব পড়বে আপনার উপরে দেখবেন গজব পড়বে।”
রোজিনা এক নাগাড়ে কথা বলে থামলো। সবার মুখে মনে সেলিনার জন্য ঘৃণা। তাজউদ্দিন কোন কিছু বলার ভাষাr মধ্যে নেই। তবুও সে ভাই আর তার ভাইয়ের বউ এর কাছে হাঁটু মুড়ে বসলো। শান্ত কণ্ঠে বললো,
“পারলে আমাকে মাফ করিস। জানিনা কি শয়তানি নিয়ে এসেছিলাম নিজের অর্ধাঙ্গিনী হিসাবে। যার জন্য আমার মেয়েটা একদম নিঃস হয়ে গেছে। আমার ছেলে টাও কত কষ্ট বুকে নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে। পুরো পরিবার তার জন্য কষ্ট পাচ্ছে। মাফ করিস আমাকে।”
সালাউদ্দিন ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বললো,
“ভাইজান তুমি কেন মাফ চাইছো? ভাবি শয়তানি করেছে আল্লাহ উপর থেকে সব দেখেছে দেখবে সে থেমে যাবে। সত্যি আল্লাহর গজব পড়বে তার উপরে। তোমার এইখানে কোন দোষ নেই। নিজেকে দোষী বলে আমাদের ছোট কর না।”
তাজউদ্দিন উঠে দাঁড়ালো। চোখের কোনে আসা পানি টুকু সপ্তপর্ণে মুছে নিলো কেউ দেখার আগেই। এইদিকে জারা ফুঁফিয়ে কাঁদচ্ছে। সিমরান ওকে ধরে আছে। রাত্রি আর অভি বিকালে বাসায় চলে গেছে। সিমরান ছিলো। সামিয়াও একপাশে দাঁড়িয়ে কান্না করছে। তাজউদ্দিন জারার কাছে আসলো। মেয়ের মাথায় হাত বুলাতেই জারা কান্না করতে করতে তার বাবা কে জড়িয়ে ধরে বললো,
“আব্বু আমার আম্মু এত নিকৃষ্ট হয়ে গেলো কেন? সে তো খুব ভালো ছিলো। কিন্তু আমাদের সিমিকে কি অবস্থা করলো? তার অনাগত সন্তান কেড়ে নিলো!এমন কেন হলো আব্বু?”
তাজউদ্দিন কি বলবে মেয়েকে? এর জবাব তো তার কাছেও নেই।তবুও মেয়েকে শান্তনার বাণী ছুড়ে দিলো,
“চুপ কর আম্মু। আল্লাহ সব ঠিক করে দেবে। সে যা করেছে তার পাপের শাস্তি পেয়ে যাবে। এই ছাড়া আমার বলার কিছু নেই। নিজেকে শান্ত কর কান্না করে কোন লাভ নেই।”
বলে তাজউদ্দিন নিজের কক্ষের দিকে পা বাড়ালো। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধতাই ছেয়ে গেলো।
জঙ্গলের ভিতরে মাটির নিচে থাকা সেই টর্চার সেলের দরজা খুলে নিশান সিমির হাত ধরে ভিতরে প্রবেশ করলো। সিমির গা ছমছম করে উঠলো। ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর আওয়াজ শুনতে পেলো। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই দেখলো খাঁচায় থাকা হিংস্র শেয়াল আর কুকুর গুলো ভয়ঙ্কর ভাবে ডাকছে। সিমি ভয়ে নিশানের হাত খামচে ধরলো।নিশান সিমির হাত শক্ত করে নিচে নেমে আসলো। নিশানকে দেখে যেন তারা আরো ভয়ঙ্কর আওয়াজ তুলছে। নিশান সিমিকে নিয়ে কক্ষে ঢুকলো। কক্ষে ঢুকতেই বিচ্ছিরি গন্ধ সিমির নাকে আসতেই সিমির পেটের ভিতরে গুলিয়ে উঠলো। সাথে সাথে নাক চেপে ধরলো। নিশান হাত বাড়িয়ে লাইট অন করলো।কক্ষ জুড়ে হলদেতে আলো ছেয়ে গেলো।
সিমি কক্ষে তাকাতেই দেখতে পেলো ভয়ঙ্কর চিত্র এই রুমের। ছুড়ি, বেলেট, চাপাতি, দা, কুড়ুল, বিভিন্ন ধরনের বোতলে কি সব রাখা। দেওয়াল ফ্লোর জুড়ে রক্তের ছাপ। সবকিছু দেখে সিমি ভয় পেলো নিশানকে আরো শক্ত ভাবে আঁকড়ে ধরলো। সিমির চোখ আটকে যাই রুমের মাঝখানে একটা রমণী কে বন্ধী দেখে। হাত দুটো শিকল দিয়ে বাঁধা দুইপাশে পায়েও শিকল। মুখেও কাপড় বাঁধা। সাথে চোখেও।সিমি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এমন সময় সেলিনা কে নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো জিহান। সিমি অবাকের উপরে অবাক হচ্ছে। বড়ো আম্মুকে কেন এখানে আনা হয়েছে? জিহানের নিশানের দিকে তাকাতেই নিশান চোখের ইশারায় কিছু বোঝাতেই জিহান সেলিনাকেও একই ভাবে বেঁধে দিলো। সেলিনা পাশে ফিরে মহিলাটা কে দেখে আঁতকে উঠলো নিশানের দিকে তাকিয়ে গর্জিয়ে বললো,
“নিশান তুমি শার্লিন কে কেন বন্ধী করেছো? ওকে ছেড়ে দাও যা শাস্তি আমাকে দাও।”
সিমি অবাকের উপরে অবাক হচ্ছে। জিহান দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। নিশান সিমির হাত ধরে তাকে টেনে একটা চেয়ারে বসালো। সিমি তাকিয়ে আছে সেলিনা আর শার্লিনের দিকে। সেলিনা নিশানের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আবারো একই ভঙ্গিতে বললো,
“আমি তোমাকে কিছু বলেছি। ওকে ছেড়ে দাও। আমি মেরেছি তোমার সন্তান কে আমাকে মারো ওকে যেতে দাও।”
“আমি মেরেছি তোমার সন্তান কে।” এই কথাটা যেন ঝংকার তুললো সিমির কানে। সিমির চক্ষু দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। সে অবাক দৃষ্টিতে তার বড়ো আম্মুর দিকে তাকিয়ে আছে। এর মধ্যে শুনতে পেলো নিশানের ধারালো বাণী,
“তবে শিকার করলেন আমার সন্তানকে হত্যা করলেন নিজ হাতে!আর কি? শার্লিন ওকে ছেড়ে দেবো ভাবলে কিভাবে? যার খুশির কারন আমার বাচ্চার মৃত্যুর খবর তাকে আমি কিভাবে ছাড়বো বলে মনে করলেন আপনি?”
নিশানের কথা থামতেই। সেলিনা আবারো বললো,
“বেশ করেছে। তোর সন্তান মরেছে আমি অনেক খুশি। কেন জানিস? কারন আমার চোখের সামনে তুই মিষ্টিকে অন্যের দ্বারা রেপ করিয়ে মারছিস। আমাকে এসিড দিয়ে পুড়িয়েছিস আমি সেইদিন থেকে ছক কোষে আছি সুযোগ বুঝে ছক্কা মারবো। আর তারপর শুনি তোর বউ প্রেগনেন্ট। আমি চাইলে তখনি মারতাম। কিন্তু এইভাবে তিলে তিলে কষ্ট তোদের হতো না। তাই ধীরে ধীরে প্ল্যান সাজালাম পাঁচ মাসের বাচ্চাকে মারলাম। যখন বাচ্চার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিলো সবাই আর আমি ছক করতে লাগলাম কিভাবে মারবো। ব্যাস আমি সফল হলাম তোদের এইভাবে দেখে আমার শান্তি লাগছে সত্যি মিষ্টির আত্মা এখন শান্তি পাবে।”
সেলিনার কথা শেষ হতেই শোনা গেলো ফুঁফানির আওয়াজ। নিশান পিছে ফিরে দেখতেই দেখতে পেলো সিমি মুখে হাত চেপে ফুঁফিয়ে উঠছে। নিশান সেইদিকে আর দেখলো না। সোজা হেঁটে নিজের মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,
“এতটা নিষ্ঠুর!আমি আপনার গর্ভের সন্তান। ছিঃ এইটা পরিচয় দিতেও আমার ঘৃণা হচ্ছে। জন্ম দিলেই না হওয়া যাই না। সেইটা আপনি বাস্তব প্রমান।”
নিশানের কথা শুনে সেলিনা উপহাস করে বললো,
“মিষ্টির মৃত্যুর পর থেকে আমিও তোকে নিজের সন্তান মনে করি না নিশান।”
এত হৈচৈ এর মধ্যে শার্লিন অধচেতনা থেকে বেড়িয়ে চেতনা তে আসলো। সবকিছু ঝাঁপসা। চোখ বন্ধ করে আবারো তাকালো। সামনে নিশানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শার্লিন বলে উঠলো,
“নিশান বাবা তুমি এইখানে? আমাকে এইখানে বাঁধা হয়েছে কেন? আমি কোথায়?”নিশান নিজের প্যান্টের পিছনে গুঁজে রাখা ছুড়িটা বাহির করে শার্লিন এর গলায় চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো,
“নিশান বাবা না। নিশান আজরাইল এসে দাঁড়িয়েছে তোর সামনে। তুই জাহান্নাম আর দুনিয়ার মাটি। দুইটাতে পচে মরছিস। আমি জম হয়ে দাঁড়িয়ে আছি তোর সামনে।তোকে কোন টু শব্দ ছাড়াই জানে মেরে কবর দেবো কবর।”
নিশানের প্রতিটা কথাই। শুধু শার্লিন না সেলিনা সিমি সহ যেন পুরো কক্ষ টাই কেঁপে উঠলো। সিমি ভয় পাচ্ছে খুব নিশান করছে কি? নিশান তার মায়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে রুমের পাশে থাকা কুড়াল নিয়ে আসলো সে। সিমি নিশানের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে কি করতে যাচ্ছে সে? নিশান শার্লিন এর সামনে দাঁড়িয়ে সেলিনার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে কুড়াল উঁচু করে সোজা কোপ বসালো শার্লিন এর গলায়। ফচ করে শব্দ তুলে শার্লিনের মাথাটা গড়িয়ে গিয়ে পড়লো সিমির পায়ের কাছে সিমি ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো। তার চিৎকার এই রুমে আরো ভয়ঙ্কর করে তুলছে। সেলিনা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিশানের দিকে। রক্তের ছিটা নিশানের মুখে সহ সেলিনার মুখেও পড়েছে। নিথর হয়ে আছে শার্লিনের মুন্ডু বিহীন দেহটা। সেলিনা অবাক চেতনা কাটিয়ে নিশানকে বললো,
“এইটা কি করলে তুমি? মেয়েকে যেইভাবে মেরেছো সেইভাবে তার মাকেও মারলে?”
নিশান বাঁকা হেসে বললো,
“কষ্ট হচ্ছে আপনার? সত্যি কষ্ট হচ্ছে!তাও পর এক নারীর জন্য? অথচ এইদিকে নিজের গর্ভের সন্তান কে নিঃস করলেন বুক কাঁপলো না!এই বুক কাঁপি নি একবারও?”
শেষের কথাটা নিশান একটু জোরেই বলেছে সেলিনা কেঁপে উঠলো।সেলিনা কিছু বলবে তার আগে নিশান শার্লিন এর বাম পাশের বুক বরাবর ছুড়ি দিয়ে বারবার আঘাত করলো। রক্ত গলগল করে পড়ছে। নিশান হাত ঢুকিয়ে এক টানে কলিজা টেনে আনলো জিহানের উদ্দেশ্য বললো,
“এই কলিজা বাইরের কুকুর দের দিয়ে খাওয়া।”
বলে ছুড়ে দিলো জিহান হাতে নিলো বাইরে চলে গেলো। সিমি স্তব্ধ হয়ে গেছে এইসব দেখে।নিশান এইবার একটা বড়ো ছুড়ি এনে শার্লিন এর দেহ নিমিষেই টুকরো টুকরো করে দিলো। ইতি মধ্যে জিহান উপস্থিত। নিশান আবারো জিহানের উদ্দেশ্য বললো,
“এই পিসপিস করে রাখা মাংস গুলো আমার পালিত কুকুর শেয়ালদের খেতে দে। আজ তাদের ভোজ।”
জিহান নিশানের কথা মতো কাজ করলো। সিমি বাকশূন্য হীন এক প্রাণী হয়ে গেলো। সে চোখের সামনে খুন করতে দেখে মুখের ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছে কি নিষ্ঠুর ভাবে খুন করলো নিশান!নিশান এইবার ছুড়ি টা হাতে নিয়ে সেলিনার সামনে দাঁড়ালো। এক হাত দিয়ে ছুড়ির রক্ত পরিষ্কার করলো। সেলিনা টা দেখে বললো,
“এখন আমার বুকে ছুড়ি বাঁধতে আসছিস? দে ঢুকিয়ে দে ছুড়ি।”
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৮
নিশান চোখ উঁচিয়ে তাকালো। বড়ো ছুরিটা এনে ধরলো সেলিনার গলায়। চিৎকার দিয়ে বললো,
“আমি পাষান তবে আপনার মতো না। আমার সেই সাধ্য নেই আপনার বুকে ছুড়ি বাঁধিয়ে হত্যা করা।আমি নিঃসৃঙ্গস ভাবে হত্যা করলেও আপনাকে ক্ষত বিক্ষত করে মেরে দাফন দেওয়ার মতো শক্তি আমার নেই। আমার গায়ে সবথেকে বড়ো কলঙ্ক আপনি মা। আপনার গর্ভে আমি জন্ম নিয়েছিলাম।”
নিশানের কথা থামতেই হঠাৎ..
