Home চারুবৃত্ত চারুবৃত্ত পর্ব ৪

চারুবৃত্ত পর্ব ৪

চারুবৃত্ত পর্ব ৪
জুলি জোনাকি

” ডা ডাকলেন কেন ?”
বৃত্ত একটু এগিয়ে মুখোমুখি হলো বলল ,
“আজ কলেজ যাওনি কেন ?”
চারু বাড়ির চারপাশে তাকালো , তার পর রয়েসয়ে ধীরে জবাব দিল,
“একটু কাজ ছিল জন্য যেতে পাড়ি নি ।”
“সামনে পরীক্ষা না তোমার ?”
“হুমম ।”
“মন দিয়ে পড়বে না পরলে আমি হেল্প করতে পাড়ি ।”
চারু নিচের দিক তাকিয়ে মুখে হাসি টেনে বলল,

“ঠিক আছে ধন্যবাদ । আর কিছু না বললে আমি এখন যাই ?”
“চলো ।”
“আ আপনি ক কোথায় যাচ্ছেন ?”
বৃত্ত মিথ্যা কথা বলল,
“আমার ও বাইরে কাজ আছে । তাই এক সাথেই যাওয়া যাক ।”
“আপনার সাথে যেতে পারবো না ।”
“কেন ?”
“আ আসলে ……”
বৃত্ত বুঝলো । তারপর বুকে হাত গুজে বলল,
“ঠিক আছে তুমি আগে যাও ।”
চারু একটুও দেরি করলো না ছুটে পালালো । বৃত্ত ভ্রু কুঁচকে হাসলো । পকেটে হাত ঢুকিয়ে সে ও পেছন পেছন গেল ।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“বৃত্ত ভাই কোথায় গেল ?”
রুহি সেই কখন থেকে বৃত্তের অপেক্ষায় বসে আছে । সাথে বিন্দু আর বিন্তি দুজন একসাথেই বসে রুহির তামাশা দেখছে । বিন্তি ফোন টিপছে টিপছে বলল,
” এতো বৃত্ত বৃত্ত করিস কেন ? ভাইয়া তো তোকে পাত্তাই দেয় না ।”
“চুপ থাক , আমায় দেখে তোর ভাই লজ্জা পায় তাই আমার থেকে সবসময়ই পালায় । ”
বিন্দু গলা কেশে বলল,
“আমরা যতদূর জানি বৃত্ত ভাইয়ার লজ্জা বলতে কিছুই নেই । ”
“তোদের সাথে না আমার কথা বলতেই মন চায় না । অসহ্য ।”
বিন্তি মুখ বাকিয়ে বলল,
“সেম ।”
রুহি ঝগড়া করে উঠে চলে গেল । বিন্দু হাসলো , বিন্তি বলল,
“মাঝে মধ্যে এই মেয়েকে আমার সহ্য হয় না ।”

“আ আপনি এখানে ?”
” এই সন্ধ্যায় একা একা বাড়ি ফিরছো ?”
চারু টিউশন পড়িয়ে ফিরছিল , সামনে বৃত্তকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে চমকালো । চারু কে দেখতেই বৃত্ত ঠোঁট এলিয়ে হাসলো । চারু বলল,
“হ্যাঁ , অভ্যাস হয়ে গেছে ।”
বৃত্ত চারুর জন্যই অপেক্ষা করছিল , কিন্ত ফের মিথ্যা কথা বলল,
” এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম দেখলাম তুমিও আসছো তাই দাড়িয়ে গেল । চলো যাওয়া যাক? ”
বৃত্তর সামনে চারু বেশ অসস্থি বোধ করে । তা কি করে বলবে ? কিছু না বলে পা বাড়াল দুজন । বৃত্ত বলল,

” গাড়ি ডাকি ?”
” আমি হেটেই বাড়ি যাই , আপনি গাড়িতে করে যেতে পারেন ।”
বৃত্ত মনে মনে আওরাল, “পাগলা নাকি যে একা একা ফেলে যাব ।”
“ঠিক আছে হেটেই যাওয়া যাক ।”
নিরব একটা পরিবেশ তৈরি হলো । বৃত্ত প্যান্টের পকেটে হাত গুজে পাশাপাশি হাটছিল হঠাৎ নিরবতা কাটিয়ে বলে উঠলো ,
” কাল তো ছূটির দিন তোমার প্ল্যান কি ?”
চারু জড়সর হয়ে হাটছে । বৃত্তের প্রশ্নের ধীরে আওরাল,
“কোনো প্ল্যান নেই ।”
বৃত্ত আড় চোখে চারুর দিক তাকিয়ে হাসলো । মেয়েটা ভয় পাচ্ছে? বৃত্ত আর কিছুই বললো না পুরো রাস্তা নিরবে আর চারুকে দেখতে দেখতে বাড়ি পৌছালো ।

“ফুপি বৃত্ত ভাই কই ?খাবে না ?”
“তোরা খেতে শুরু কর আমি ডেকে আনছি ।”
রাত তখন নয়টা, খাবার টেবিলে অনেক আইটেম, টেবিল ভরা মানুষ । চারু রান্না করছে আর তার মা খাবার গুলো টেবিলে সাজাচ্ছে । চারুর মা গিয়ে বলল,
” চারু ভাল লাগতাছে না আমার ।”
“তুমি ঘরে যাও মা । কাল সময় করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব । আমি খাবারটা ঘরে দিয়ে আসছি যাও ।”
“তুই একা হাতে পারবি ?”
” তোমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে , একাই সব সামলাতে পারে ।”
চারুর মায়ের মাথায় সমস্যা, মাঝে মধ্যে সব ভুলে বসে ।
চারু খাবার গুলো টেবিলে দিল । বৃত্তের মা এলো একা ,তা দেখে রুহি বলল,

“বৃত্ত ভাই কই ?”
“পরে খাবে এখন ক্ষিদে নেই । শোন চারু ও যখন খাবার চায় বের করে গরম করে দিস ।”
“আচ্ছা ।”
“তাহলে আমিও পরে খাবো ।”
রুহির মা ছোট মেয়েকে খাওয়াতে বলল,
“শোন রুহি বেশি কথা না বলে খেয়ে ঘরে যা ।”
“বললাম তো খেলে বৃত্ত ভাইয়ের সাথেই খাবো ।”
বলে উঠে চলে গেল । রুহির বাবা বাড়ি চলে গেছে , বৃত্তের বাবা সকালে ঢাকা গেছেন কিছু কাজে ,তাই বৃত্তরে মা মামি আর বিন্তি বিন্দু একসাথে খেতে বসলো ।
চারু খাবার এগিয়ে দিল । খাওয়া শেষে তার মায়ের জন্য খাবার বেরে ঘরে দিয়ে আসতে বৃত্ত এসে ডাকলো ,
“চারু ।”

চারু রান্না ঘরটা গোছাচ্ছিল, বৃত্ত ডাকতেই সামনে তাকাল ।
“আপনি বসুন আমি খাবার দিচ্ছি ।”
“তুমি খেয়েছ? ”
চারু চুল বাঁধতে বাঁধতে বলল,
” কাজ শেষ হলেই খেতে বসবো । আপনি বসুন ।”
“চলো এক সাথে খাই ?”
চারু কিছু বললো না খাবার টেবিলে রেখে চলে আসতেই বৃত্ত ফের ডাকলো ,
“কোথায় যাচ্ছ? খাবে না ?”
বৃত্ত যে চারুর সাথে বসে খাবে সে জন্যই তখন খেলো না । অথচ চারু বুজলো না ।
” আ আসছি ।”
বৃত্ত হেসে অপেক্ষা করলো । তারপর একসাথে খেতে বসতেই রুহি এলো ,বৃত্তের কাছ ঘেঁষে বসলো ।বলল,

“আমি তোমার জন্য না খেয়ে বসে আছি আর তুমি এখন একা একা এসে খাচ্ছ? ”
” সরে বয় । শান্তি করে খেতে দে ।”
একটা প্লেট নিয়ে বলল,
“আমায় একটু খাবার তুলে দাওনা বৃত্ত ভাই ।”
বৃত্ত চারুর দিক তাকালো , বড্ড অসুবিধা নিয়ে খাচ্ছে । বৃত্ত তা নজরে আসতেই রুহিকে বলল,
” চুপচাপ নিজ হাতে তুলে খা , বিরক্তি করিস না । ”
মুখ বাকিয়ে রুহি খাবার নিজ হাতে তুলে খেতে লাগলো । চারুর খাওয়া শেষ দেখে বৃত্ত বলল ,
“খাবার নাও প্লেটে ।”
“আমার খাওয়া শেষ ।”
“এই টুকুতেই ?”
চারু কেবল তাকাল । কথা ঘুরিয়ে বলল,
“আপনাদের খাওয়া শেষ হলে এখানেই রেখে যাবেন আমি গুছিয়ে রাখবো ।”
বলে চারু চলে গেল ।
রাত তখন তিনটা , চারু পড়ছিল ,পানি পিপাসা লাগতেই রান্না ঘরে খেতে এলো বৃত্ত ও পানি খেতেই এসেছিল । দুজনের দেখা হতেই বৃত্ত আগে বলল,

” ঘুমাও নি এখনো ?”
” পানি খেতে আসছিলাম ।”
“ওহ আমিও ।”
বলে বৃত্তের হাতে থাকা পানির বোতল টা এগিয়ে দিল । চারু নিল না । বলল,
” আমি ওখান থেকে খেয়ে নিব । ”
পানি খেয়ে দ্রুত ঘরে এলো চারু বৃত্ত কেবল দেখলো । চারু কি ভয় পাচ্ছে বৃত্ত কে । বৃত্ত কে বড্ড কাছে টানছে চারু । এটা কিসের আভাস?

সকাল টা আজ ভীষণ সুন্দর, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে । চারু খিচুড়ি রান্না করছে । রুহির বোন টেবিলে বসে খেলছিল । বয়স হবে হয়তো তিন বছর ।
একে একে সবাই খেল । বৃষ্টির মাত্রা বাড়লো, চারু ছাতা নিয়ে বাড়ি বাইরে গিয়ে দোকাল থেকে মসলা কিনে আনতে বাড়ির পাশে পুকুরে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ পেতে দৌড়ে সে দিকে গেল । রুহির ছোট বোন পানিতে পড়ে গেছে । চমকাল চারু । কি করবে সে বাচ্চা তো ডুবে যাচ্ছে । ছাতা ফেলে পুকুরে ঝাঁপ দিল । চারুর মা বাড়ি থেকে দেখতে পেয়ে সবাইকে ডেকে আনলো । রুহির মা কান্না করতে করতে এসে মেয়েকে ধরলেন । বৃষ্টি জোরে আসতে মেয়ে কে নিয়ে ঘরে চলে গেলো সবাই ।তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো সবাই । চারুর মা পুকুর থেকে মেয়ে কে টেনে তুলে বসালো । পানি খেয়ে ফেলেছে সে জন্য । কাশতে কাশতে বাড়ির দিকে আচমকা তাকালো বৃত্ত দৌড়ে আসছিল চারুর কাছে । ভিজে গেল বৃত্ত । দৌড়া এসে চারুর কাছে বসে বলল ,

“ঠিক আছো তুমি ?” বলে গায়ে থাকা শার্ট খুলে চারুর গায়ে জড়িয়ে দিল ।
চারু কাশতে কাশতে জবাব দেওয়া আগে চারুর মা বলল,
“ওরে ঘরে নিয়ে যাইতে হইবো নাইলে ঠান্ডা লাইগা যাইবো ।”
বৃত্ত উতলা হয়ে হুট করেই পাজা কোলে তুলে ঘরে নিয়ে গেল । চারু কেবল চমকাল ,থমকাল, অবাক হয়ে দেখলো । দু-চোখ লাল হয়ে গেছে । চারুকে ঘরে নিয়ে যেতেই চারুর মা গামছা নিয়ে মেয়ের মাথা মুছতে হাত বাড়াতেই বৃত্ত কেরে নিয়ে চারুর মাথা মুছে দিল । চারু ভেবলার মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে কেবল দেখলো । চারু বলল,
” আ আমি ঠিক আছি । আপনি ভিজে গেছেন ঘ…..।”
“নিজের চিন্তা করো , অন্যের চিন্তা বাদ দাও ”
বৃত্ত চারুর মাকে বলল,

চারুবৃত্ত পর্ব ৩

“আন্টি ওর ভেজা কাপড়টা চেন্জ করে দিন ।”
“আইচ্ছা বাবা তুমিও যাও ভিইজা গেছো ।”
বৃত্ত বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলা এমন ঘটনার জন্য । সে ঘরে কাজ করছিল । চেঁচানো আওয়াজ শুনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই এমন পরিস্থিতি দেখে দৌড়ে সেখানে গেল ।

চারুবৃত্ত পর্ব ৫