Home My Husband My Husband part 11+12

My Husband part 11+12

My Husband part 11+12
সামহা সামি

বেলা গড়িয়ে প্রান্ত বিকাল ৫:৩০ একটু পড়ে হয়তো সন্ধ্যা নেমে আসবে ধরনির বুকে কালো হুডি কালো সু পড়ে মুখে মাস্ক পড়ে আনেয়াকে নিয়ে রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে আসে প্রহেল, আনেয়ার পড়নে সাদা চুরিদার হাতে কাঁচের পিং কালারের মুট চুরি কমর প্রজন্ত ডেই খেলানো চুল গুলো হাঁটার সাথে সাথে হেলেদুলে পড়ছে, প্রহেল আনেয়ার এক হাত নিচজের খসখসে হাতে নরম হাতটা ধরে সামনে এগোছে, প্রহেল আনেয়া হাঁটতে হাঁটতে কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্র সৈকতে কিছু টা কাছে আসতে আনেয়া প্রহেলের হাত ছাড়িয়ে সামনে দৌড়ে চোখ বন্ধ করে দুই হাত মেলে দিয়ে নিজের মতো করে বলতে থাকে।

” জায়গায় টা অনেক সুন্দর ট্যাটুওয়ালা ,।
আনেয়ার এই সামান্যতে এতো খুশি হতে দেখে প্রহেল কিছু টা অবাক হয়েও আবার গোলাপি অধর জোরা প্রসারিত করে ঠোঁট কামড়ে হাসে, কিছু টা এগিয়ে এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলে।
” আমার থেকেও বেশী সুন্দর মাই লেডি।
আনেয়া প্রহেলের কথায় কিছু টা ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় কি বলবে এখন এই লোক কে, কিছু বল্লে যদি আবার ফ্রায়ার হয়ে যায় তাই আমতা আমতা করে বলে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” আ’আসলে তা নয় আপনিও ভীষণ সুন্দর ঠিক এই সমুদ্র সৈকতের মতো,
প্রহেল হাসে মেয়েটা যে মিথ্যা বলছে তা,তো প্রহেল এক সেকেন্ডেই পড়ে ফেলছে, রিহান, সাগর দূপুরে প্রহেল কে বলেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিছে, সব হানিমুন করবে সেখানে তাদের মাঝে কাবাবের হাড্ডি হয়ে চ্যাপ্টা হওয়ার ইচ্ছা নেই রিহান ফোনের স্কিনে চোখ রেখে সাগর কে বলে।
“হানিমুনে কেন বস একাই আসবে আমরাও আসবো সবাই খাই মধু আমরা খাবো মধুমালা ?
রিহানের কথা সব বুঝলেও এই মধুমালা টা আবার কি, না বুঝে চোখ ছোট ছোট করে বলে,

” সবি বুঝলাম কিন্তু এই মধুমালা কি?
” রিহান ফোনের স্কিন থেকে চোখ সরিয়ে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বলে।
_ বসের বা*সর দেখে নিজের বা*সরের মূর্ছনায় দিন দুপুরে নাচো আর এখন মধুমালা চিনো না?
রিহানের রাগ মিশ্রত কথায় সাগর রিহানের দিকে তাকিয়ে কেবলা মার্কা হাঁসি দিয়ে বলে।
” ডান্ডা ভাই ডান্ডা এতো হাইফার হলে মধু চরে কষ্ট হবে।

বলেই চোখ টিপ মারে, রনি ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেট পেচে মুখ থেকে বেড়িয়ে আসা বিষাক্ত ধোঁয়া টা ছেড়ে ইজি চেয়ারে মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে বলে।
_ সব সময়ই তুর পছন্দ করা জিনিস টা আমার পছন্দের তালিকায় আগে থাকে ছোট পাখি আমারি হবে তুকে আমি হাঁসতে দিবো না কখনোই না।
রনির ভাবলে হাঁসি পায় এখন এই ছেলেটাই তো বন্ধের দাবিতে তার করা পছন্দের জিনিস টাও তাকে দিয়ে দিছে বোকা প্রহেল সে তো কখনো তাঁকে বন্ধুই মনে করেনি,
সন্ধ্যা ৬:১০ প্রহেল আনেয়া এখনো খুলা সমুদ্রে খালি পায়ে হাঁটছে মুল্যত আনেয়ার তখন প্রহেল কে কথা ভুলানোর জন্য বায়না ধরে বলে।
ট্যাটুওয়ালা আমরা খালি পায়ে হাটবো জুতা খুলেন,

” না আমি জুতা খুলবো আর না তুমি গট ইট,
:-(প্রহেলের কথায় অভিমানে এক প্রকার হাত ঝারা মেরে নিজের মতো করে সামনে হাঁটতে থাকে,আনেয়া কে ইদানিং নিজের সাথে রাগ অভিমান করতে দেখে প্রহেল হাসে আনেয়াকে মানানোর জন্য বলে।
_ তুমি রেগে গেলে আমি কুল থাকতে পারবো না জান রিলাক্স আমরা খালি পায়েই হাটবো,
বলেই নিচু হয়ে আনেয়ার পা থেকে জুতা খুলে হাতে নিয়ে হাঁটতে থাকে, প্রহেল হাঁটলেও আনেয়া হাঁটতে বললে ভুল হবে এক প্রকার এদিক ওদিক ঘুরছে তো আবার দাঁড়িয়ে দৌড় দিচ্ছে , প্রহেল আজ নিজেকে সর্বশিষ্ট সুখি মানুষের কাতারে রাখতে ইচ্ছে হলো, দৌড়ানো আনেয়ার পানে তাকিয়ে বলে।
আমি ভালোবাসি এই ছোট মেয়েটাকে আমি একা না আমার ঘরে সব থেকে মূল্যবান সম্পদ আছে আমার এই ছোট একটা ফুল আছে,?

কথা গুলো ভাবতেই কেমন মন টা দিগন্ত আলোর রশ্মির মতো জল’জল করে উঠছে আচ্ছা তাঁর কি এতো সুখ সহিবে নাকি সুখ দড়া দিয়েও পালিয়ে যাবে, কথা গুলো ভাবতে ভাবতে এদিক ওদিকে ছোটাছুটি করতে থাকা আনেয়ার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে আনেয়াকে বলে।
_ ছোট ফ্লাওয়ার চলো সন্ধ্যা হয়ে আসছে।
_ চলে যাওয়ার কথা শুনে আনেয়া প্রহেল কে উদ্দেশ্য করে চিল্লাচিল্লিয়ে বলতে থাকে।
” আমার এখানে ভালো লাগছে শুনছেন আপনি আমি আরো কিছুক্ষণ থাকবো।
প্রহেল পড়েছে মুসিবতে এই মেয়ে ভালো কথা শুনার মেয়ে না আবার ধমক দিয়ে কথা বলবে আনেয়ার প্রজাপতির ন্যায় উড়নচণ্ডী মুখাবয়ব দেখেও ইচ্ছে হলো না তাই আস্তে করেই নিচু শব্দে বলে।
“ছোট্ট ফ্লাওয়ার ঠান্ডা লেগে যাবে চলো আমরা আবার আসবো তো প্রমিস।
_ সত্যি প্রমিস।
_ হ্যাঁ, চলো।

আবার আসবে বলে খুশিতে আত্মহারা হয়ে প্রহেলের দিকে এগিয়ে আসে, প্রহেল স্মৃত হাসে, তার উঁচু শব্দে হাসার অভ্যেস নেই , অভ্যেস নেই বলতে ভুল সে তো কখনো ঠিক মতো কারো সাথে হেঁসে হেঁসে কথাই বলেনি প্রহেল আনেয়া হাত ধরে রিসোর্টের দিকে হাঁটতে থাকে, কিছু দূর যেতে হঠাৎ করে হাতে টান পড়ায় ভ্রু যুগল কুঁচকে পিছনে ফিরে তাকায় আনেয়া অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে, কপালের শিরা গুলো ফুলিয়ে জিজ্ঞেস করে।
“- কি হয়েছে দাঁড়িয়ে গেলে,
আনেয়া মাথা নিচু করে একি ভাবে দাঁড়িয়ে আছে প্রহেল রাগান্বিত শব্দ বের করতে চেও শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে।
_ কথা বলছো না কেন এনি প্রবলেম।
আনেয়া মাথা নিচু করে উত্তর দেয়।
_উঁহু।
” আহলে –

ধনোমনো শুরে মিন’মিনে কন্ঠে বলে।
” আমার পা ব্যথা করছে ‌?
” প্রহেল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আনেয়াকে কোলে তুলে হাঁটতে থাকে, আনেয়া প্রহেলের প্রস্তুত তো বুকে মুখ গুঁজে গলা জড়িয়ে ধরে আছে, চারো’দিকে ঠান্ডা আবহাওয়া কিছুক্ষণ পর পর হালকা বাতাস সব মিলিয়ে পরিবেশটা সুন্দরতম বলেই চলে,বেশ কিছুক্ষণ পর রিসোর্টের ভেতরে চলে আসে প্রহেল আনেয়া নিজেদের রুমে আসতেই প্রহেল আনেয়া কে বিছানায় বসতে চেয়ে বলে।

_ এখানে বসো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
এক কথা বার বার করে বলার পড়েও যখন আনেয়ার নড়াচড়া দেখে না প্রহেল বিরক্ত হয়ে বলে।
কি হলো বিছানায় বসবে নাকি আমার হাতে ফ্রেশ হবে ইউর চয়েস,
তবুও আনেয়া একি ভাবে প্রহেলের প্রস্তুত বুকে মুখ লুকিয়ে বসে আছে প্রহেলের শরীর থেকে ভেসে আসা ঘ্রাণ তাঁর নাকে তীব্র নিন্দা ধরাচ্ছে মনে হচ্ছে নেশা কেও হার মানাবে এই লোকের শরীরের ঘ্রাণ মারাত্মক মাদকতা সৃষ্টি করছে আনেয়া নিজের চিন্তা ভাবনায় এতো টা প্রখর ছিল যে অনাকাঙ্ক্ষিত কথা টা মুখে চলে আসলো।
_ আচ্ছা আমি যখন ছিলাম না তখন কি এই লোকের বুকে অন্য কেউ মুখ লুকিয়ে বসে থাকতো নাকি এই লোকের শরীরের ঘ্রাণে মেয়েরা তার পাশে ঘুরঘুর করতো।

_ আহ্ কি করছো ছোট ফ্লাওয়ার।
_ প্রহেলের ডাকে নিজের ধ্যান থেকে বেরিয়ে আসে নিজের চিন্তা ভাবনা এতোটাই মোড়র ছিল যে রাগের বসে প্রহেলের বুকের কিছু অংশ কামড়িয়ে ধরেছে আনেয়া কাঁদো কাঁদো গলায় বলে।
” আপনার বুকে অন্য মেয়ে মানুষ মুখ লুকিয়ে বসে ছিল আপনি কিছু বলেনি কেনো।
আনেয়ার কথা সম্পুর্ণ না বুঝে কপালে ভাঁজ ফেলে প্রহেল উত্তর দেয়।
“হোয়াট হ্যাপেন্ড কোন মেয়ে ।
প্রহেল আনেয়ার কথার আগা’মাথা না বুঝে বিরক্ত হয়ে বলে।
” আরে বা’বা কাঁদছো কেন আমি মেরেছি আর কোন মেয়ে কার কথা বলছো ?
আনেয়া ভেজা চোখ জোরা প্রহেলের বিরক্ত করে রাখা মুখয়ব দেখে বলে।

__ আমার আগেও কি কেউ আপনার কোলে উঠেছে আপনি কি তাকে চুমু খেয়েছেন।
_ আশ্চর্য আমি কেন অন্য মেয়েকে চুমু খাবো আমার একটা ছোট ফ্লাওয়ারের মতো বউ থাকতে।
“‘ না আমার বিশ্বাস হচ্ছে না আপনি আমার আগেও অন্য কাউকে চুমু খেয়েছেন।
বলেই প্রহেলের বুকে মুখ গুঁজে কান্না করে দেয় প্রহেল পড়েছে মহা বিপদে, কোন কিছু না ভেবে দুই হাতের মাঝে আনেয়ার মুখটা তুলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দিরে দিরে ঠোঁটের কাছে এগোতে থাকে, প্রহেল নিজের ঠোটের সাথে আনেয়ার ঠোঁট চেপে ধরে কিস করতে থাকে।

দিরে দিরে প্রহেলের হাতের স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে আনেয়া বুক দরফর করছে, দুই হাতের সাহায্যে খামচে ধরে প্রহেলের পিঠের অংশ, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, প্রহেল বুঝতে পেরে ঠোঁট ছেড়ে বেডে বসিয়ে হাতের তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট মুছে দিয়ে ডিপলি কিস করে বলে।
_ হয়েছে এবার আমি শুধু তোমাকেই চুমু খেয়েছি ইডিয়েট অন্য কাউকে না তুমি চাইলে আরো কিছুক্ষণ কিস করে প্রমাণ দিতে পারি আমি মাইন্ড করবো না?

বলেই আনেয়াকে নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়, রিহান, সাগর প্রায় ৮থেকে ৮ ঘন্টা গাড়ি জার্নি করে ক্লান্ত হয়ে দুই’জনি বাসায় এসে সুপার উপরে গাঁয়ের ঘামন্ত ব্লেজার খুলে বসে পড়ে বেশি গরম না পড়লেও এই দুই জনের গা থেকে ঘাম ঝরছে, একজন মেড এগিয়ে এসে দুই জনের হাতে শরবত ধরিয়ে দেয় লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিয়ে পুড়ো গ্লাস খালি করে উপরে নিজের রুমে চলে যায়, হাইওয়ের রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে একটি কালো গাড়ি দেখে মনে হচ্ছে যে’কোন সময় একটা দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তবুও তার কোন হুঁশ নেই আজ রাস্তা ঘাটে যানবাহন চলাচল কম দেখে বেঁচেও যেতে পাড়ে, অনেক টা পথ অতিক্রম করে কাঙ্খিত জায়গায় আসতেই গাড়ি থামিয়ে দেয় রনি ঠোঁটের কোনে বাঁকা এক বিশ্রী হাসি এনে সামনের দিকে এগিয়ে আসা লোকটার সাথে হাত মিলিয়ে, অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে বলে।

“_ ওয়েলকাম মিস্টার ইয়াং আমার এরিয়াতে আপাকে?
ইয়াং তীক্ষ্ণ চাহনিতে রনি কে এক নজর দেখে মুখায়ব গম্ভীর কন্ঠে বলে।
” __থ্যাঙ্ক ইউ মিস্টার রনি?
বলেই দু’জন কালো গাড়িতে উঠে বসে নিজেদের গন্তব্যে, খট করে ওয়াশ রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে প্রহেল আনেয়াকে বিছানায় বসিয়ে হাতে তাওয়াল দিয়ে বলে!
“__ আমি বের হবো কিছুক্ষণ পর আসবো মেড এসে তোমাকে কিছু বলবে চুপচাপ তার সাথে চলে আসবে।
____আনেয়া ইস্তবধ করে আমতা আমতা করে উত্তর দেয়
” আমি আপনার সাথে যাবো।

প্রহেল তীক্ষ্ণ চাহনিতে পর্যবেক্ষণ করে শান্ত চোখে ভেজা চুল হাত দিয়ে সেট করতে করতে উত্তর দেয়।
” আসো আমি পকেট নিয়ে ঘুড়ি তো এখন তোমাকে নিয়ে ঘুড়ি চুপচাপ রেডি হয়ে নিচে আসবে।
কথা গুলো বলে প্রহেল আনেয়ার কপালে ঠোঁটে চুমু খেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়,আনেয়া মুখ বাঁকিয়ে বলে।
” উনি পকেট নিয়ে ঘুড়ে না মনে হয় আমাকে নিয়ে ঘুড়ে অসভ্য লোক।

মুখ বাঁকিয়ে কথা গুলো বলে আবার নিজেই আনমনে হেঁসে দেয়, রাত ১০:১০ দুইজন মেয়ে এসে আনেয়াকে সুন্দর করে রেডি করিয়ে দিছে আনেয়ার পড়নে সাদা রঙের মাঝে এসি এসি একটা গাউন যা তৈরি করতে মুট ৬ কোটি ৫৩ হাজার ৯৯৯ টা হীরা বসানো হয়েছে মাথার মুকুট যা সম্পূর্ণ ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি, হাল্কা মেকআপ ও গলায় সিম্পল জুয়েলারি সব মিলিয়ে চোখ ধাঁধানো সুন্দরজো দুইজন গার্ড এসে আনেয়ার সামনে মাথা নত করে দাঁড়ায় আনেয়া ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে আসতে থাকে, তার মনে হচ্ছে সে কোন রাজ’কন্যা অদ্ভুত এক শিহরণ বইয়ে গেল শরীর দিয়ে আচ্ছা এই লুকে প্রহেল আনেয়াকে দেখলে তার রিঅ্যাকশন কেমন হবে, বড্ড যানতে ইচ্ছে হলো আনেয়ার রিসোর্টের বাহিরে আসতে ফুলে ফুলে সাজানো কালো গাড়ির উপরে সাদা গোলাম দিয়ে সুন্দর করে সাজানো গাড়ি টির দরজা একজন গার্ড খুলে দিতেই আনেয়া ভারি গাউন দুই হাত দিয়ে ধরে এগিয়ে গিয়ে বসে পড়ে, বুকের ভেতর কেমন দুপ’দুপ করছে মনে হচ্ছে এখনি হার্টবিট বেড়িয়ে আসবে, রিহান সাগর গাড়ি রেখে বাইক নিয়ে বের হয়েছে বসুন্ধরার উদ্দেশ্য ফ্রি টাইমে ঘুড়া ঘুড়ি না করলেই নয়, আর কথা যদি হয় নিরিবিলি জায়গায় এসে বাইক থামিয়ে দেয়,দুইজনি বাইকের উপড়ে বসে পাশের ছোট একটা চার দোকান থেকে দুই কাপ চা নিয়ে বসে কথা বলতে থাকে?
” প্রম হলো লুডু খেলার মতো জিতলে জয়ি , হার্লে মানসম্মান নিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি করতে দেয় ?

রিহান হাসে কিছু বলবে তাঁর আগেই ফোনে কল আসে তার গার্লফ্রেন্ড কল দিয়েছে, এই সময় রিহানের কল আসায় বিরক্ত হয় সাগর, বিরবির করে বলে।
” মেয়ে মানুষের কাজ নাই ফোন টিপা ছাড়া আখাম্বা বেডি মানুষ,
সাগরকে বিরবির করতে দেখে রিহান কপট রাগ দেখিয়ে বলে‌

খবর ধার সাগর আমার গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে কিছু বলবি না।
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মুখ বাকায় সাগর খুলা জায়গাকোন রকমের চিল্লাচিল্লি নেই শান্ত পরিবেশ শীতল হাওয়ায় বাতাস বইছে, ঠোঁট নাড়াতে নাড়াতে রিহানের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠে।

” এসিড ছুলে আকাশ পোড়ে ছিটে পড়ে পৃথিবীতে?
“আত্মার হাঁটে চারিপাশে বিবেক নির্বিকার ?
” বিদ্যুৎ চমকায় মাটি কাপে , রাতের রূপে দিন ফিরে আসে ?
” মানব দানব সবাই হয় এসিড এর শিকার?
” এসিড ধরে জ্বীনের মত , ভুতরা ও ভয়ে মন্ত্র পড়তো ?
” যন্ত্রণা তো কথা বলত , গণস্তন্য হারিয়েতো?
” যন্ত্র ধইরা উল্টা কইরা মুখটা ছিলা বুক টা কাট ?,
সাগরের এই পরিস্থিতিতে এমন গান নির্ঘাত বেমানান, ফুলে ফুলে সাজানো গাড়িটি একটা নিস্তব্ধ অন্ধকার জায়গায় থামে আনেয়া ভয়ে শিউরে উঠে, ঠিক বুঝা যাচ্ছে না কোন জায়গা পানির গর্জন শুনা যাচ্ছে, হঠাৎ অন্ধকারের মাঝে একটি হাত এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয় আনেয়া বেড়িয়ে আসে, প্রহেল ঠোঁট প্রসারিত করে হাল্কা হেঁসে হাত বাড়িয়ে দেয়, আনেয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আজ প্রহেলের পর্নে সাদা সার্ট কালো ব্লেজার হাতে দামি ব্র্যান্ডের ঘরি ও শরীর থেকে ভেসে আসা মিষ্টি ঘ্রাণ, সেট করা চুলগুলো বাতাসে একটু নড়েচড়ে উঠছে, প্রহেল আনেয়ার হাত ধরে শব্দ করে বলে।

” 123″
বলাল সাথে সাথে লাইট জ্বলে উঠে, আনেয়া অবাকের পর অবাক,এতো সুন্দর সারপ্রাইজ তার জন্য যেনো বিশ্বাস হচ্ছে না, প্রহেল আনেয়ার কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলে।
” ওয়েলকাম মিসেস,মাই ছোট ফ্লাওয়ার আমার জিবনে আসার আমন্ত্রণ জানাই আপনিময় রানীকে।
বলেই সামনের দিকে আনেয়া এক পা দিতেই লাল গোলাপের পাপড়ি গুলো লাইটিং করে উঠে, চারো পাশে মানুষ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কেউ কেউ তো ক্যামেরা বন্দী করে রেখে দিচ্ছে , আনেয়া যত সামনে এগোচ্ছে তাঁর ততো মনে হচ্ছে সে কোন স্বপ্নের রাজ্যে পা বাড়িয়েছে, চারো’পাশে হাজারো রঙের আতশবাজি ফুটছে, প্রহেল আনেয়ার হাত ধরে সামনে বানো হার্ট শেপে আঁকা লাভের ভেতরে পা দিতে বলে,আনেয়া এক পা দিতেই আকাশে দ্বিগুণ আতশবাজ ফুটে ওঠে, প্রহেল লাভ শেপের ভেতর ঢুকতেই পুড়ো লাভ শেপ আগুনের সূত্রপাত হয়ে ফুলকি বের হতে থাকে যার ধরুন আরো আবেদিনম লাগছে, প্রহেল আনেয়ার দিকে তাকিয়ে বলে?

My Husband part 9+10

” প্রহেলের ছোট ফুল”
আনেয়া সব কিছু অবাক হয়ে দেখছে প্রহেল আনেয়ার হাত নিজের হাতে নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে আনেয়ার সামনে একটা ডায়মন্ডের আংটি ধরে বলে।
” আমার ছোট ফ্লাওয়ার আমার জিবনের এক অসমাপ্ত গল্পের প্রাপ্তি হয়ে আসছে ভালোবাসা আমি জানি না কি তবে আমার নিজস্ব ফ্লাওয়ারের মাঝে আমি আমার ভালোবাসা পেয়েছি হ্যাঁ আমি ভালোবাসি ভিষন ভালোবাসি এই ছোট মেয়েকে আমার ছোট ফ্লাওয়ার কে, ইউ মেরি মি ছোট ফ্লাওয়ার?

My Husband part 13+14