Home My Husband My Husband part 17+18

My Husband part 17+18

My Husband part 17+18
সামহা সামি

প্রহেল তখন রুম থেকে বেরিয়ে সোজা অফিসে চলে যায়, এই মুহূর্তে আনেয়ার সামনে গেলে রাগের বসে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে কিছু করে ফেলবে , অতিরিক্ত রাগের কারণে কপালের শিরা ফুলে উঠেছে মনে হচ্ছে এখনি ছিঁড়ে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম, টেবিলে থাকা ফাইল কিউব বল এঁকে এঁকে যা ছিল সব নিয়ে টেবিল উল্টে ফেলে। পুড়ো কেবিন কাঁচের টুকর নাজেহাল অবস্থা, তবুও রাগটা সংযত হচ্ছে না চেয়ারে লাথি মেরে বলে।

___” তোকে এতো ভালোবাসার পরেও বলছ আমি নষ্ট পুরুষ শালি নিমু’খারাম আমি অন্য নারীর শরীরের ঘ্রাণ নিয়ে থাকি না, বাস্টার্ড তোকে ভালবাসি বলে ছেঁড়ে দিলাম না হলে গলার রগ ছিঁড়ে নিতাম।
অতিরিক্ত রাগের বরশে কি বলছে না বলছে নিজেও যানে না মুল কথা হচ্ছে প্রহেল এই মুহূর্তে নিজের মাঝে নেই, অফিসে দাড়োয়ান, প্রহেলের রেগে অফিসে আসার কথা বলতে সাগর, পর্ণে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পড়েই খালি গাঁয়ে, দৌড়ে যেতে যেতে রিহান কে বলে?
” ‘ রিহু বেবি গো ফাস্ট বসের ফুল কারেন্ট ছলে তুমি আমি পুড়ে মুডে চলে যাবো।
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় রিহান ঘুম ঘুম কন্ঠে বিরক্ত মুখে বলে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

___’ মুরগীর বাপ তুই যা শালা বাই***চ?
রিহানের কথায় সাগর কমরে হাত রেখে কিছু একটা ভেবে পাশে রাখা জগ থেকে পানি ঢেলে দেয়।
” – কুত্তার বাচ্চা পিছনে না লাগলে ভালো হবি না, তোর কি এখন ডেলিভারি হওয়ার টাইপ আসছে যে এমন করে ব্যাথায় চিল্লাস ।
রিহানের রাগে রি রি করে কথা বলতে দেখে সাগর শুখনো ঢুক গিলে বলে।
___ রিহু বেবি বস অফিসে ভাঙচুর করছে সেটার অভিনন্দন আপনাকে জানাতে আসছি।
সাগরের কথা শেষ করার আগে রিহান রুম থেকে দৌড়ে যেতে যেতে বলে।
___মুরগীর বাপ আরো আগে বলবি না?
সাগর রিহান দুই জনি দৌড়ে গাড়িতে গিয়ে বসে, গাড়ি চলতে শুরু করে অফিসে উদ্দেশ্যে।

“___ তা মিস ফ্রান্সিকা আপনার কাজ কতো দূর।
সাত সকালে এমন কথায় বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বলে ফান্সিকা।
___” ও হ্যালো মিস্টার ইয়াং এন্ড রনি আমার চিন্তা না করে আপনাদের চিন্তা করেন,
ফ্রান্সিকার কথায় মুহূর্তেই তেতে উঠলেন ইয়াং, তার আসল কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই , পরে আপদ নামের বিরক্তিকর মেয়েটা কে শরিয়ে দিবে। রনি একটু চিন্তা গলায় সুধায়।
আমরা এখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না আমাদের অন্য কোথাও যেতে হবে প্রহেল যে কোন টাইমে চলে আসবে।
___” ইয়াং ও ফ্রান্সকি তীক্ষ্ণ চাহনিতে পর্যবেক্ষণ করে বলে।

আপনি ভয় পাচ্ছেন লাইক সিরিয়াসলি মিস্টার রনি আপনি ভয় পান।
___”জাস্ট শাট আপ ফ্রান্সিকা অহেতুক মজা আমার পছন্দ না।
রনিকে রাগতে দেখে ফ্রান্সিকা চুপ হয়ে যায়, বাসা থেকে বেরিয়ে আনেয়া ভাবছে এখন কোথায় যাবে এই সহর তাঁর চেনা না অপরিচিত এক সহর, আজ নিজেকে প্রথিবীর অসহায় একজন মানুষ মনে হচ্ছে, হাঁটছে নাম না যানা এক রাস্তা, পথ দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর গাড়ি শাই শাই করে যাচ্ছে নিজেদের গন্তব্যে, আনেয়া এক পলক চারো’দিক পর্যবেক্ষণ করে , চোখ দিয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পরছে, আজ তাঁর খুব করে একটা গান মনে পরছে, হাঁটতে হাঁটতে খোলা আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে গেয়ে উঠে।

___” বলো কিভাবে।
___”রবো এভাবে…!
“___ আমায় গোছাবে?
” কে দু’হাতে?
__” ফিরে আসো না ?
___” আর তও পারি না?
__” বাঁচি চলো না?
“__ আবার এক সাথে।
গান শেষ হতেই আনেয়ার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরে, ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলে।

“__ আমি কি ভাবে থাকবো আপনাকে ছাড়া বিশ্বাস করেন আমার কষ্ট হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে, আপনাকে অন্য কারো বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেখার আগে আমার মৃত্যু আমাকে আবদ্ধ করুক?
আনেয়া মুখে হাত চেপে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।সে চেয়েও নিজের মন কে শক্ত করতে পারচ্ছে না। রিহান সাগর প্রহেলের কেবিনের সামনে এসে হাঁপাতে শুরু করে, লিফ্ট বন্ধ থাকায় সিরি দিয়ে উপরে আসছে, সাগর পুড়ো কেবিনে চোখ বুলাতে চোখ বড়ো বড়ো করে বলে উঠে?
__” রিহু বেবি বস মনে হয় মনের সুখে মাথার স্কুটি লুজ হয়ে গেছে।
রিহান বিরক্ত হয় এই সময় এমন আজাইরা কথায় মজা করার একটা লিমিট আছে, তেতে কিছু বলবে তাঁর আগে আবার মুখ খুলে সাগর একটু ফিসফিসিয়ে বলে।
__” রিহু বেবি আমার একটা গান মনে পরছে বলি কেমন,
রিহান কিছু বলবে তাঁর আগে সাগর হাত দিয়ে মুখ চেপে গেয়ে উঠে।

” জীবনে ধইরা গেছে জং ।
” মেম চু*dলিং পং,
” মনে লাইগা গেছে রং।
” বস চু*dলিং পং।
” বসের আছে যতো ঢং।
” সব চু*dলিং পং।
” বসের ঝগড়ার পৃষ্ঠা কত নং ।
, ৪২০।
” মেম চু*dলিং পং।
রিহান সাগরের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে রেগে বলে।
“” মুরগীর বাপ যেখানে শেখানে, এই সব, বস কে বলবো, এই অখাদ্য গান কোথায় পাস তুই।
না ভাই না তুই তো আমার সোনা মনা উম, উম, ভাই।
রিহান ভেবে পাচ্ছে না এই উম উম আবার কি এক দিকে প্রহেলের চিন্তা অন্য দিকে এই মুরগীর বাপের জালা, সোপাতে পড়ে থাকা ফোনটি বেজে ওঠে প্রহেল রাগ খুব নিয়ে ফোন হাতে নিয়ে কর্কশ কন্ঠে বলে।

” বাস্টার্ড ডোন্ট ডিস্টার্ব।
ওপাশের লোকটি তাড়াহুড়ো করে বলে উঠে।
” সরি স্যার বাট খুব জরুরি ভিত্তিতে কল দিছি।
এমনেতেই প্রহেলের রাগ সপ্তম আকাশে তাঁর উপর আবার এমন হেলিপনা, বিরক্ত মুখে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে।
” এতো নমুনা না করে বলো কি হয়েছে
” স্যার, রনি ও ইয়াং নামে এক লোক মিলে লন্ডনের ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়েছে।
প্রহেল মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত বাঘের মত গর্জন করে উঠে।
” ওই রনির বাচ্চা, কে সাথে ওই ইয়াং কেও ধরে নিয়ে আয় আমার আস্তানায় ওঁদের মান চিত্র না বানানো পর্যন্ত আমি ঠিক থাকবো না।
বলেই ফোন কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা হয়েও কি-না নিজের কাছের বন্ধু তাঁর সাথে এই জঘন্য কাজ টা করতে পারলো অবশ্য পারবে না কেনো সে কি কখনো তাঁকে বন্ধু ভেবেছে, প্রহেল একটু চেঁচিয়ে উঠে।

” আমি একবার ছাড় দিবো বার-বার না তোর কলিজা আমি বের করে দেখবো, কোন কলিজা নিয়ে আমার জিনিসের দিকে হাত বাড়াছ, ।
আবার একি শব্দ করে ফোন বেজে ওঠে প্রহেল হাতে নিয়ে দেখে বাড়ির মেড কল দিয়েছে, সাথে সাথে প্রহেলের মুখের আদল পাল্টে যায়, তারাতাড়ি করে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভয়ে ভয়ে তুতলিয়ে বলে।
” স্যার মেম বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় যেনো চলে গেছে আমরা আটকাতে আসলে, আমাদের ভয় দেখিয়ে বেরিয়েকুত্তার বাচ্চারা তুদের আমি দেখে নিবো সামান্য কাউকে দেখে রাকতে পাড়ো না আমার রিভলবারের প্রথম গুলিটা তোদের মাথায় উঠবে হারামি’বাচ্চারা,

প্রহেলের গর্জে উঠা কন্ঠ শুনে আর কিছু বলার সাহস পায়না মেড ভয়ে কাঁপতে থাকে প্রহেল যা বলে তাই করে, আনেয়া আশেপাশে চোখ বুলায় অনেকক্ষণ হাঁটার কারনে ক্লান্ত লাগছে দূর্বল শরীরে এতো দূর হেঁটে আসা কারো পক্ষে সম্ভব নয়, এক পা এগোতে মাথাটা কেমন ঘুরছে চার’পাশ গোলা গোলা হয়ে আসছে , আনেয়া মাথা ধরে জিম মেরে দাঁড়িয়ে আছে সামনে তাকাতেই ভয়ে আত্মা বেরিয়ে আসার উপক্রম , আনেয়ার দিকে একটি কালো গাড়ি তীব্র গতিতে রিতিমত ছুটে আসছে, আনেয়া যেনো নড়ার শক্তি অবশিষ্ট নেই, চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে আসছে গাড়িটির তীব্র ধাক্কায় রাস্তা এক পাশে ছিটকে পড়ে আনেয়া, গাড়িতে থাকা লোকটা হয় তো ভয় পেয়ে পিছনে না ফিরে শাই শাই করে ধুলাবালি উরিয়ে চলে গেল, আশে’পাশের মানুষ সব চিৎকার চেঁচামেচি করে এক জায়গায় জড়ো হয়ে গেছে আনেয়ার নিস্থল দেহ টা রক্তে মাখামাখি হয়ে পরে রইলো?

জোরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে নেতানো শরীরে একটার প্রহেলের মুখটা ভেসে উঠে, দিরে দিরে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, ।
” ছাড়েদে আমাদের একবার ছাড়া ফেলে তোদের লাইফ হেল করে দিবো।
ফ্রান্সিকা ও রনির চিৎকার করা কথা ভেসে আসে, কিছুক্ষণ আগে, রনি, ফ্রান্সিকা, রনি, নিজেদের প্লান মোতাবেক অন্য জায়গায় নিজেদের গন্তব্যে রাখবে, কিন্তু এতে ঘটে বিপরীত ওঁরা, তিনজন বের হওয়ার আগে প্রহেলের লোকরা গিরে ধরে, সবাইকে ধরতে পারলেও ইয়াং কে ধরতে পারে না, গার্ডের বুকে গুলি করে, পালিয়ে যায়, এতোক্ষণ ধরে ওঁদের রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে কথার গর্জন শুনে হাসে প্রহেল, হাসিতে এমন কিছু ছিল যা, যে কেউ একবার দেখলে, ভয়ে জান বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম, দুই হাত মুষ্টবিদ্ধ করে প্রহেল ক্ষীপ্ত কন্ঠে আওরায়।

___” আই উইশ তোদের লাইফ হেল না করে আমার থেকে মুক্তি নেই তোদের এই জঘন্য প্লানের জন্য আমার ছোট ফ্লাওয়ার কে কষ্ট পেতে হয়েছে, ।
প্রহেল রাগে বৈশ্বেরিত হয়ে ফেটে পড়ছে, এতক্ষণে আনেয়ার বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি মনে পরতেই তারওহরা করে ফোন নিতে নিতে বলে উঠে।
___” ও শিট আমি এতো টা কেয়ারলেস হলাম কি করে, ।
মাথা ফেটে যাচ্ছে আনেয়ার চিন্তায় এই জায়গা তাঁর জন্য অপরিচিত, আজ কাল, লোক ও ভালো না, একদিকে চিন্তা অন্য দিকে রাগ সব মিলিয়ে ডেস্পারেট হয়ে যাচ্ছে প্রহেল তাঁর একটু শান্তি চাই, এই মেয়েকে কাছে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর নিঃশ্বাস তাঁর সাথে বেইমানি করবে। ফোন রিসিভ হতে প্রহেল তারোওহরা করে বলে উঠে।

___আনেয়াদের বাড়ির চারপাশে গার্ড লাগিয়ে দেও, তোমাদের মেম পৌঁছাতেই আমাকে ইনফর্মেশন দিবে ওকে।
ফোন কেটে প্রহেল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, তবুও কেমন অস্থির অস্থির লাগছে ভাঙাচোরা নাজেহাল অবস্থা কেবিনের এক নজর দেখে কি বলবে, তার আগে, রিহান, সাগর হুরমুর করে কেবিনে প্রবেশ করে। প্রহেল ভ্রু যুগল কুঁচকে ঘড়ির দিকে তাকায় এই সময় এই দুটুকে দেখে মুখ খুলে।
—- : কি চাই এখানে আর তোরা এখানে কেনো।
প্রহেলের কথায় রিহান আমতা আমতা করে উত্তর দেয়।

” ইয়ে আসলে বস আপনি রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে অফিসে আসছেন তাই।
এতো টুকু বলেই মুখ চেপে ধরে ইন্নালিল্লাহ এই মাত্র সেই কি বললো এটা, প্রহেলের দিকে তাকাতে, দেখতে পায় প্রহেল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে, প্রহেল রাগান্বিত হয়ে কিরমির করে উঠে বলে।
” মুখ চলে বেশি না ইডিয়েটের দল ৫ মিনিটে রেডি হয়ে আসবি দুইজন?
প্রহেলের রাগান্বিত কন্ঠ শুরে রিহান সাগর, কেবিনের এক সাইডে ম্যাথিরিং সপ যেখানে প্রহেলের বেশ কিছু বার্তি কাপড় থাকে, রিহান সাগর হুরমুর করে ম্যাথিরিংসপে প্রবেশ করতেই সাগর হাঁপাতে হাঁপাতে কিছু বলবে তখন রিহান বলে।
__ দেখ মুরগীর বাপ তুই আর এই অখাদ্য গান কবিতা ওশ্বর্য করে কিছু বলবি না?

সাগর মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে বাঁকায় আসছে সে কেনো আরেক জনের কথায় নিজের মুখে তালা ঝুলিয়ে রাখবে, উঁহু কখনোই না, সামনের মিররে নিজেকে দেখতে দেখতে মুখে ক্লিন সেভ করা দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে বলে?
” : পুড়ো দুনিয়ার মানচিত্র করে?
– তুমি যাকে ভালোবাসবে সে তোমাকে ল্টকিয়ে?
__” জুতা খুলে মুজা দিয়ে পিঠিয়ে চলে যাবে?
রিহান এই মাত্র মুখে পানি নিয়েছে, সাগরের কথা শুনে মুখ থেকে পানি ছিটকে বেরিয়ে আসে, সাগর তৎক্ষণা দু কদম পিছিয়ে যায়, শরীরের উপর পানি পড়ায়, মুখ ছিটকে বলে।
” ছ্যা, ছ্যা তুই আমাকে অপবিত্র করে দিলি এখন আমার কি হবে, হায় আল্লাহ আমি এখন কোই যাবো, ও মা গো মা।

রিহান কি বলবে এখন এমনিতেই লেট তার উপর আবার এই মুরগীর জাওরা বাপ। হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে আনেয়া দির গতিতে নিঃশ্বাস উঠা নামা করছে।কিছুক্ষণ আগে রাস্তার কিছু লোক মিলে হসপিটালে এডমিশন করে গেছে ঠিক সময় অটিতে না নিলে হয়তো বাঁচানো খুব কষ্ট হয়ে যেতে, সময়টা দেখত দেখতে, পার হয়ে গেল, আনেয়া দিরে দিরে চোখ খুলে মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে, উঠে বসার চেষ্টা করতে এখজন নার্স এগিয়ে এসে চিন্তিত সুরে সুধায়।

” প্লিজ মেম আপনি উঠবেন না এই মুহূর্তে আপনার শরীর খুব উইক?
আনেয়া কিছু বলবে কিন্তু কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে, শে তো ভেবেছিল এই বুঝি তাঁর নিঃশ্বাস তাঁর সাথে ত্যাগ করবে, খুলে রাখা চোখটা বুজে নেয়, শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেছে, তখনি একজন, অপরিচিত লোক কেবিনে প্রবেশ করে চোখে সানগ্লাস দেখতে উঁচা’লম্বা সিল্কি চুল গুলো কপালের উপর পড়ে আছে, ছেলেটি মৃতু হাসি দিয়ে আনেয়ার পাশে চেয়ার টেনে বসে , ধীরস্ত কমল সুরে বলে।

” মিস অপরিচিতা এখন কেমন লাগছে, কিছু টা সুস্থবোধ করছেন, ডাক্তার ডাকবো।
কারো কন্ঠ সুর কানে আসতে চোখ খুলে আনেয়া, অপরিচিত ছেলেকে নিজের পাশে দেখে আঁতকে উঠে। যা চোখে মুখে প্রকাশ করছে, ছেলেটি আনেয়ার উত্তেজিত মুখাবয়ব পর্যবেক্ষণ করে তার ঠোঁটে খেলে গেলো দারুন এক হাসি, সৌজন্যমূলক আচরণ করে ধীরস্তে জিজ্ঞেস করে।
__” নাম কি মিস অপরিচিতা,
আনেয়া চমকে তাকায় অপরিচিত ছেলেটি তাঁকে কি বলে সম্মোধন করছে, আনেয়াকে চমকাতে দেখে ছেলেটি সেই, মিষ্টি হাসিটি মুখে এঁটে বলে।

“_ ভয় পাবেন না মিস অপরিচিতা আমি আপনার নাম জানি না তাই এই নামে সম্বোধন করেছি, আপনার বাড়ির এড্রেস দিন আমি আপনার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করছি।
আনেয়া ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে, ধীরস্থতে দরজা খুলে প্রবেশ করে প্রহেল, এটা তার নিজস্ব সিক্রেট রুম, যে কেউ প্রবেশ করতে পারে না এই রুমে, কালো লং হুডিতে পুড়ো শরীর ঢেকে আছেপ্রহেল হাতে রিভালবার নিয়ে ফ্রান্সিকা রনি এর সামনে রাখা চেয়ারে উরুর উপরে পা তুলে আয়েসি ভঙ্গিতে বসে, মুখ থেকে কালো কাপড় টি শরিয়ে, রক্ত লাল চোখে তাকায় বাঁকা হাসি ঠোঁটে এঁটে সাগর কে বলে।

__” তোর না অন্যর টুনটুনি দেখার খুব ইচ্ছে সাগর এই বাস্টার্ডের টুনটুনি টুকরো টুকরো করে কেটে পাশের নদীতে থাকা ক্ষুধার্ত মাছের খাবার দিবি, কি পারবি না।
খুশিতে আত্মহারা হয়ে এগিয়ে আসে সাগর ইস্ তাঁর কতো দিনের ইচ্ছে ছিল কারো, টুনটুনি নিজ হাতে কাটবে, খুশিতে গদগদ হয়ে বলে।
“_ জি বস পারবো আপনি বললে আমি ও টুনটুনির ছবি তোলে পুড়ো লন্ডন শহরে ছাপিয়ে সার্টিফিকেট বানিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রাখবো।
” প্রহেল হাসে কটাক্ষ কর সুরে রনি এর দিকে তাকিয়ে বলে।
“_ আমার ডাউট হচ্ছে তোর এই জং ধরা টুনটুনি বুঝি কেউ ইচ্ছে করে তার সার্পনারের ভেতর প্রবেশ করাতো ।
“_ রনি চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় রাখে কিরমির করে উঠে, দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দেয়।

___” তাই তো এই জং ধরা টুনটুনি তোর বউয়ের সার্পনারের ভেতর প্রবেশ করাতে চেয়েছিলাম।
মুহূর্তেই প্রহেলের মুখাবয়ব পরিবর্তন হয়ে যায়, ক্ষ্যাপা বাঘের মত গর্জন করে উঠে দাঁড়ালো ছুরির নেয় আঁখি তাক করে হেঁয়ালি শুরে বলে।
“_ ইস্ নট পসিবল ব্রো তোমার জং ধরা টুনটুনি থেকে আমার তাজা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পেন্সিল আমার বউয়ের সার্পনারের ভেতর প্রবেশ করতে সক্ষম ব্রো?
রনি খেপে উঠে, বাঁধা না থাকলে বুঝিয়ে দিত কার সাথে লাগতে এসেছে,।
, আনেয়ার বাবা আমার আনেয়া।
নাজমা বেগমের চিৎকারে ছুটে আসে আনেয়ার আব্বু ও আনেয়ার ছোট ভাই ইয়ান, আনেয়ার আব্বু নাজমা বেগম কে ধরে জিজ্ঞেস করে, ।
কি হয়েছে আনেয়ার আম্মু এই ভাবে চিৎকার করছো কেন, আর কাঁপছো কেন।
, আনেয়ার আম্মু কাঁদতে কাঁদতে বলে।

___” আনেয়ার আব্বু আমার আনেয়া এক্সিডেন্ট করছে, হসপিটালে ভর্তি আছে এখন, আমাকে নিয়ে চলো।
সাথে সাথে আনেয়ার আব্বুর চোখ ছলছল করে ওঠে তাঁর এক মাত্র মেয়ের এই অবস্থা কি ভাবে মুহূর্তে চোখ রক্ত’ব্রন ধারন করে রেগে বলে।
আমি আগেই বলছি আমার ফুলের মত মেয়েটা কখনোই ওই বাজে ছেলেটার সাথে ভালো থাকবে না।
কথা শেষ করে সবাই মিলে হসপিটালের উদ্দেশ্য বেরিয়ে যায়, তাদের এমন তারোওহরা করে যেতে দেখে প্রহেলের গার্ডা প্রহেল কে কল করে। , রিহান ফোন আসায় প্রহেল কে বলে।
বস আপনার ফোন আসছে।

___’ কেটে দেও।
প্রহেলের কথায় কল কেটে দিতে পুনরায় আবার কল আসে এবার প্রহেল বিরক্ত মুখে ফোন হাতে নেয় কাজের সময় ফোন আসাতে সে প্রচন্ড তিক্ততা ফুটে উঠেছে, ফোন রিসিভ করে কানে ধরতে, গার্ড উত্তেজিত কন্ঠে বলে।
“_ সরি স্যার এই মুহূর্তে কল দেওয়ার জন্য আসলে মেমদের বাসা থেকে চিৎকার ভেসে আসছে, তাঁরা কোথাও যাচ্ছে তাড়াহরা করে।
প্রহেল বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় হঠাৎ আনেয়ার মুখটা ভেসে উঠে, চিন্তা কন্ঠে বলে।
“”_ তোমাদের মেম বাসায় পৌঁচ্ছে,
“_ না স্যার মেম এখনো আসেনি,

প্রহেল ঘেমে যাচ্ছে সরু কপাল থেকে ঘাম ঝরছে, নিজেকে শান্ত করতে করতে বলে।
উনাদের গাড়ি ফলো করো কুইক আমি আসছি সব ইনফর্মেশন দিবে।
গার্ড হ্যাঁ বলে দ্রুত গাড়ি নিয়ে ফলো করতে থাকে, সিটি হসপিটালছর সামনে গাড়ি থামতে একজন গার্ড প্রহেলকে বলে, প্রহেল আমি আসছি বলে, বেরিয়ে যেতে রনির বুক বড়া বড় শুট করে বলে।
সাগর তুই এই নর্দমার কীটের টুনটুনি সাইজ মত কেটে নদীতে ছেড়ে আসবি।
বলেই বেরিয়ে যায়, হঠাৎ হাতে কারো ছুঁয়া পেয়ে নড়েচড়ে উঠে আনেয়া, তীব্র কান্না ভেসে আসছে আনেয়া চোখ খুলতেই নাজমা বেগম নিজের বুকের মাঝে আগলিয়ে নেয়, কান্না মাখা কন্ঠে বলে।
কি হয়েছে আমার আম্মুর এই অবস্থা কেনো প্রহেল বাবা কোথায় আম্মু।
নাজমা বেগমের কথায় আনেয়া কিছু বলে না চুপচাপ নাজমা বেগমের বুকে টেপটে মুখ গুঁজে দেয়, এখন একটু শান্তি লাগছে, হয় তো মা বলেই এতো শান্তি লাগছে, প্রহেল হসপিটালের সামনে, গাড়ি দাঁড় করিয়ে দৌড়ে রিসিপশনে গিয়ে জিজ্ঞেস করে।

“_একটু আগে তিন জন লোক ভেতরে গেছে, কোন কেবিনে একটু বলুন কুইক ‌.
রিসিপশনে থাকা। মেয়েটি ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছে, লোকটা কে তাঁর সুবিধার মনে হচ্ছে না আবার কিছু বলতেও পারছে না মেয়েটি কে চুপচাপ থাকতে দেখে প্রহেল রাগ দাউ,দাউ করে উঠে, একি সুরে চেঁচিয়ে উঠে ‌
“”_ ব্লাডি গার্লস ওই লোক গুলো কোন কেবিনে গিয়েছে উইকলি বল।
মেয়েটি ভয়ে এক নাগাড়ে বলে দেয় এতোক্ষণ আশেপাশে থাকা লোকজন এই দিকে তাকিয়ে ছিল, এক টানে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে আনেয়া কে প্রহেল সাঁড়া মুখে পাগলের মত কিস করছে, ভাঙ্গা কন্ঠে বলে।

My Husband part 15+16

___” জান এই জান তোর এই অবস্থা কি করে হলো বল আমাকে ছেড়ে কেন চলে গেলি বাড়ি ছেড়ে,
হঠাৎ টানে কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড গতিতে কেউ নিজের সাথে জরিয়ে ধরায়, আনেয়া হত বঙ্গ হয়ে তাকলেও প্রহেলের কন্ঠ কানে আসতে শান্ত হয়ে যায়, নাজমা বেগম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে কি হচ্ছে এখানে, । উনাকে আরো অবাক করে দিয়ে প্রহেল অসুস্থ আনেয়ার নেতিয়ে পড়া শরীর টা নিজের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়?

My Husband part 19+20