Home তুই আমার ৭ মিনিট তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩০

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩০

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩০
ঐশী আফরিন

পরন্ত বিকেল। সূর্য মামা হেলে পরে পৃথিবীর নানান ব্যাস্ততাকে বিদায় জানাচ্ছে। পাখিরা তাদের নিজস্ব নিঁড়ে ফিরছে। গোধূলির শেষ আলোকে সাক্ষী রেখে দাঁড়িয়ে আছে দুই কপত কপতি। কেউ আকাশে উঁড়ে চলা মেঘকুন্জ দেখছে আবার কেউ বা তার নিজস্ব মেঘের দিকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দখিনা হাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে উঁরছে রূপসীর হালকা সবুজ রঙের শাড়ির আচঁল। পেজা তুলোর মত মেঘের সাথে তার ব্যাক্তিগত শ্রেয়সীর কোমলতা মিশে গিয়ে এক অভাবনীয় সুন্দর করে তুলছে বিকেলটাকে।

মাধবী ছাঁদে থাকা ছোট্ট খাঁচায় বন্দী পেঁচাটাকে নীরক্ষণ করছে তীক্ষ্ণ চোখে। আর আরিয়ান রেলিংয়ে কনুই ঠেকিয়ে গালে হাত দিয়ে অপলোক তাকিয়ে আছে তার দিকে। মাধবী সেদিন রাতে রাজবাড়ি থেকে আসার পর থেকে লক্ষ্য করছে সে যেখানেই যায় পেঁচাটি গোপনে তার সাথে থাকে। পেঁচাটি তাকে গোপনে অনুসরন করলেও তার তীক্ষ্ণ নজর তা এরায়নি। সেদিন গ্রাম থেকে আসার সময় মাধবী তার বুদ্ধি ও তীক্ষ্ণতা দিয়ে ধরে ফেলেছিলো এটাকে। আজ ৪দিন ধরে এটাকে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছে। অনেক চেষ্টা করেছে পেঁচার রহস্য জানার। কিন্ত কোন রাস্তা পায়নি। তাই আজ আরিয়ান কে হুমকি দিয়ে সাথে সাথে নিয়ে এসেছে। আরিয়ান আসতে চাইছিলো না বলে বলেছিলো

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আপনি যদি এখন না আসেন আমার সাথে তাহলে কালই কিন্ত শুক্রবার। বুঝিয়েন কিন্ত, আমি কোন বিয়ে টিয়ে করবো না”
যদিও মাধবীর হুমকিকে সে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না কিন্ত বউয়ের কথা মেনে চলারও তো একটা ব্যাপার আছে । সে কথা ভেবেই সে আর কথা না বারিয়ে সুর সুর করে ভালো মানুষদের মত পিছু পিছু এসেছে। এসেছে পর থেকে মাধবী পেঁচাটাকে খুঁচিয়েই যাচ্ছে। তার এসব পাগলামি আবার আরিয়ান মনোযোগ সহকারে দেখছে। একটা সময় যখন মাধবী কোনভাবেই কিছু জানতে পারে না তখন আরিয়ান কে বলে “এই পাঞ্জাবিওয়ালা….?”
আরিয়ান মাধবীর মায়াবী আদলে বিভোর নয়নে তাকিয়ে থেকেই উত্তর দিলো “হুম?”
“দয়া করে এটার ব্যাপারে কিছু বলুন। নয়তো এক্ষুণি আমি হার্ট এটাক করবো”
এবার আরিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বিরক্তির শ্বাস ফেলে বলে “শান্তি কি দিবি না?”
“কেন আমি কিছু বললেই অশান্তি হয়ে যায় বুঝি?”

আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এই কয়েকদিন মাধবী একটু বেশিই যেন অধিকার দেখাচ্ছে। সেটা আরিয়ানের কাছে সবচেয়ে খুশির সংবাদ হলেও মাধবীর খোঁচা মারা কথায় তার মেজাজ খারাপ হয়। যেমন, সে ইচ্ছে আর আরশির ব্যাপারে ভালো মন্দ যাই বলছে তাতেই মাধবী হুটহাট হিঃসে করছে। তবে এই মেয়ের হিংসে আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মত না যে , স্বামীকে অন্য কারো সাথে দেখে ফ্যাচফ্যাচ করে কান্না করবে। ন্যাকামি করে অবলার মত থাকবে। সে সোজা পাঞ্জাবির কলারে ধরে বলবে “এই বজ্জাত পুরুষ আমি বীনা কোন মেয়ের দিকে ভূলক্রমেও চোখ পরে গেলে সেই চোখ তুলে দাবার গুটি বানাবো”

যদিও এখনো বলেনি। তবে এ মেয়ের বলতে কতক্ষণ? ছোট থেকেই সে এরকম। যেটা তার সেটা একান্তই তার। এই রোগের জন্য সে তার বাপ ভাইকেও অন্য বাচ্চাদের আদর করতে দেখলে রেগে যেত। ছোট থেকেই ভীষণ জেদী যদিও গম্ভীর্যতা বা কাঠখোট্টা স্বভাব তার মাঝে নেই। সে এসব পছন্দও করে না। তার মতে এসব ট্যাগ ছেলেদের নামের পাশে বসবে। সেই ভাবনাতেই সে আরিয়ান কে গম্ভীর ও কাঠখোট্টা ভাবতো। কারণ সে পুরুষ সমাজ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি তার বাবার জন্য। যদিও সে বাপের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাত বিরাতে তার কাজ সারতে যেত। অপুর সাথে দেখা করাটা ছিলো নেহাতই একটা অযুহাত। সে যেত তার নিজস্ব কাজে। নিজস্ব জগতে।
“যার জন্য সমস্ত অশান্তি আমার চারদিকে নিজেদের অশুভ ছাঁয়াও ফেলতে পারে না তার কথা শুনেই কিনা অশান্তি লাগবে…! হাসি পাচ্ছে রে”

বলে আরিয়ান সত্যিই গা দুলিয়ে নিজস্ব ভঙ্গীতে হাসে। এভাবে আরিয়ান কে হাসতে মাধবী খুব কমই দেখেছে। সবসময় লোকটাকে মুচকি হাসতেই দেখেছে। সে নিজের মুগ্ধ দৃষ্টি লুকিয়ে বলে “হাসার হলে পরে হাসবেন। এখন একটু এদিকে আসেন। আমি জানি আপনি এই মা*লে*র ব্যাপারে সব জানেন। তাই ধামাচাপা না দিয়ে বলুন না?”
আরিয়ান এগিয়ে গিয়ে পেঁচাটাকে খাঁচা থেকে বের করে। তখনি মাধবী মৃদু চিৎকার করে বলে “আরে বের করলেন কেন। উঁড়ে গেলে?”

“তোর মত বোকা যে নিজের নিরাপদ স্থান রেখে অনিশ্চয়তার দিকে উঁড়ে যাবে!”
“বুঝলাম না?”
“বুঝতে হবে না। কবে থেকে দেখছিস এটাকে?”
“বেশ কয়কদিন ধরেই আমাকে অনুসরণ করে”
“কোন ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে?”
“না”
“তাহলে সমস্যা কি? একটা সুন্দরী কন্যাকে সব সময় চোখের সামনে দেখতেও ভাগ্য লাগে। তো পেঁচাটাকে সেই ভাগ্য পেতে দিয়ে গোয়েন্দাগিরী বাদ দে”
“এখনও মজা করছেন?”

আরিয়ান হেসে বলে “আরে মনচুন্নি মেয়ে। আমাকে বিশ্বাস করতে বলবো না কারণ বিশ্বাস নিজ থেকে আসতে হয়। বললেই হয় না। তবে তোর পাঞ্জাবিওয়ালার দেহে প্রাণ থাকা অবধি তোর কিচ্ছু হতে দেবে না। আর নিজের রুহের ক্ষতি হলে কেউ কি বেঁচে থাকে? ক্ষতি তোর হলেও ব্যাথাটা আমারই লাগবে। আর নিজেকে ব্যাথা দিতে বরাবরের মতই আমি উদাসীন, ছন্নছাড়া, ব্যাপরোয়া। তাই এসব না ভেবে একটু আমাকেও তো সময় দিতে পারিস”

আরিয়ান কথাগুলো হেসে বললেও মাধবী হাসে না। তার স্থানে অন্য মেয়ে হলে হয়তো খুশিতে কেঁদেই দিতো। এই ৯০ দশকের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়ে নিজেকে কতই না ভাগ্যবতী মনে করতো! কারণ মেয়েরা বরাবরের মতই ভালোবাসার কাঙাল। একটু যত্ন একজন এক নারীতে আশক্ত পুরুষের কাঙাল। তবে মাধবীর ক্ষেত্রটা সম্পূর্ণই ভিন্ন। সে এসব শুনেও খুশি হতে পারলো না। তাচ্ছিল্য হেসে বললো “জানেন তো বেশি পিরিতে বেশি জ্বালা? ভালো দিন যত থাকবে জীবনে তত খারাপ দিন সন্নিকটে থাকে।
এসব বলে আমাকে মায়ায় ফেলে পরে ঠকিয়ে গেলে এই কঠোর মেয়েটা কিন্তু এবার সত্যিই ভেঙে যাবে”

“এসব ভেঙে যাওয়া টাওয়া নামক শব্দগুলো তোর সাথে ঠিক যায় না রে”
“আপনার সাথে যায়?”
” সাথে তুই জড়িত থাকলে ভাঙণের চেয়ে নিকৃষ্ট শব্দও পাশে বসানো যায়”
“এসব বলে কেন আমাকে মায়ায় ফেলতে চাইছেন? বললাম তো আমার অনেক কাজ আছে। অনেক স্বপ্ন আছে। স্বাভাবিক সংসার করা আমার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়”
“সম্ভব আমার পক্ষেও নয়। তবে যেহেতু এক ঘাটেরই মাঝী। তাহলে তড়ীও একসাথে ছাড়ি। একজনেরটা ডুবে গেলে না হয় আরেকজন আপন করে নিলাম। দিন শেষে দুজন দুজনেরই থাকলাম”

“আপনার আমার পথচলা ভিন্ন আরিয়ান ভাই। আপনি কেন এসেছেন এই পথে তা আমি জানি না কিন্ত আমারটা তো আপনি জানেন। এক সময় আমার মাঝে শুধু হিংস্রতা থাকলেও এখন নরপিষাচে পরিণত হয়েছি। আমার বাপের খুনি আর ভাইয়ের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত আমি কমলতায় ফিরবো না। আপনার কোন কিছুই আজও আমার চোখে পরছে না কেন বলুনতো?”
“প্রকাশ্যে কোন কিছু করাই আমার পছন্দ নয়। আমি গোপনে…। থাক বলবো না এসব। একদিন নিজ থেকেই জানতে পারবি”

কথা বলতে বলতে আরিয়ান একটা পুরনো জং ধরা রেডিও বের করে। সেটা ছাদের ইটপাথরের রেলিং এর উপর রেখে চেপে দিলো তার সবুজ বোতাম। পুরনো ভাঙা রেডিও টা চলতে শুরু করলো নিজ তালে। রেডিওতে সেই গানের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে আরিয়ানও গলা ছেড়ে গাইতে লাগলো,
“তোমার রক্তে আছে স্বপ্ন যত
তারা ছুটছে রাত্রি দিন
নিজের মত…
কখনো সময় পেলে একটু ভেবো
আঙুলের ফাঁকে আমি কই”

এটুকু বলেই সে থেমে যায়। তবে রেডিও টা তার নিজ গতিতে বেজে চলেছে। এই গানের একেকটা কলি প্রায়ই আরিয়ান কে গাইতে শোনা যায়। বলা বাহুল্য এটা তার সবচেয়ে প্রীয় একটা গান। একদম যেন তার যেকোন পরিস্থির সাথে খাঁপে খাঁপ মিলে যায়। যখন মিলে যায় তখনই সে গলা ছেড়ে গানটি গায়। মাধবীর বুঝতে বাকি রইল না যে গানটি তাকে উদ্দেশ্য করেই গেয়েছিলো। সেও বলে “অতীতে যেই থাকুক বর্তমানে আপনিই আমার ভরশার স্থল। একটা নারী যতই সাহসী আর বীর হোক না কেন তার জীবনে একটা সমর্থন করার মত আপন পুরুষ না থাকলে জীবন যুদ্ধে সে তখনই হেরে যাবে। তাহলে আপনাকে ভাবনাতে না রেখে কীভাবে সফল হবো”
“ভাবনাতে তো রাখিস। কখন যানি আমি গিয়ে আবার তোকে বাঁধা দেই। সেই ভয়ে। আচ্ছা বাদ। এই পেঁচাকে এখানেই এভাবে রেখে দে। এটাকে আমি পালবো”

“এহহ। মামার বাড়ির আবদার। আমি ধরেছি মানে আমি পালবো”
“পালিস ছেমরি। এখন নাম ছাঁদ থেকে। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে”
কথা বলতে বলতে দুজনেই ছাঁদ বেয়ে নেমে পরে। নিজেদের রুমে যাওয়ার সময় শুনতে পায় পাশের রুম থেকে কথা কাটাকাটির আওয়াজ। বুঝতে আর বাকি নেই ইচ্ছের সাথে আবারো ঝগড়া হচ্ছে আয়াজের। আয়াজ ইদানিং বড্ড খিটখিটে মেজাজের হয়ে গেছে। কিছু বললেই হুটহাট রেগে যায়। ঝগড়া করে ইচ্ছের সাথে। ইচ্ছে কিছু না বলে শুধু শুনে যায়। যখন ধৈর্য হারা হয় তখন দু একটা কথা বলে। যেমন সেদিন আয়াজ বলেছিলো “এসব বিয়ে কোন আবালে করে? দরকার নেই আমার এসব বিয়ের। চলে যা তুই”

তখন আরশি কান্না মাখা হাসি উপহার দিয়ে বলেছিলো “বিয়ে তো তুমিই করলে। এখন বললেও এই বাড়ি ছেড়ে আমি যাচ্ছি না। তোমার মত তুমি থাকো আর আমার মত আমি”
সেদিন থেকে দুজনের মাঝে কথা হয় না বললেই চলে। আজ হঠাত করে কি নিয়ে লেগেছে কে জানে। আর ইচ্ছেকেও বা বলার পরেও কেন চলে যাচ্ছে না? এভাবে কি সংসার করা যায়? না আছে এই সম্পর্কের ভবিষ্যত না আছে বর্তমান।

সন্ধ্যার আজান পরতেই মাধবী আরিয়ান দুজনে আর এখানে দাঁড়ায় না। গিয়ে নামায পরে নেয়। টুকটাক ঝগড়া এসব তাদের মধ্যেও লেগে থাকে। কোন গুরুত্বপূর্ণ ঝগড়া না আবার। শুধু শুধু আজে বাজে বিষয় নিয়ে বকবক চলে। মাধবী জানে এখনই আরিয়ান তাকে বলবে চা নিয়ে আসার জন্য। সত্যি সত্যিই আরিয়ান নামাজ শেষে মাথর টুপি খুলতে খুলতে বলে “যা তো মধু। কড়া করে এক কাপ চা করে আন”
“আমি আপনার চাকর নই। নিজের কাজ নিজে করা সুন্নত”
“আমার ডায়লগ আমাকেই মারিস? ঘোর অন্যায় এসব”
“আপনি যে কীসের রাজনীতিবিদ আমি বুঝি না। কোথায় সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে জনগনের সেবা করবেন তা না। সারাক্ষণ বউয়ের পেছন পেছন ঘোরেন ফকিন্নিদের মত”
“ছ্যাহ মধু। তোর স্বামী ফকিন্নি? তুই ফকিন্নিকে বিয়ে করেছিস। ছ্যাহ জাতি এসব মেনে নেবে না। তাদের এমপির বউ কিনা এক ফকিন্নিকে বিয়ে করেছে”

“ওহ দুঃখের ব্যাপার আজ জানতে পারলাম যে এমপির বউ আরেকটা বিয়ে করেছে। আচ্ছা আপনি থাকুন আমি জাতি কে নিয়ে সেই ফকিন্নিকে দেখে আসি”
“বের হ শুধু ঘর থেকে। যেই জাতি এসব বলবে সেই জাতির শশুর আব্বারে বিবাহ বিচ্ছেদের শুভেচ্ছা”
“আপনি যে কি পরিমানে জাওরা। তা কি আপনি জানেন?”
“জানতে হবে না ছেমরি। আগে গিয়ে চা টা করে আন”

প্রতিদিনই সন্ধ্যায় এই চা খাওয়া নিয়ে একদফা তাদের কথা পেঁচাপেঁচি হয়। পরে আবার ঠিকই মাধবী চা করে আনে। আবার প্রতিদিন মাধবী গোসল করে আসলে তাকে বলে “এই রঙে তোকে অপ্সরার মত লাগছে”। আবার প্রতিদিন সকালে কুয়াশার মাঝে মাধবীকে নিয়ে ধান ক্ষেতে যায়। শিশির জমা ঘাসের উপর দুজনে বসে থেকে সূর্য উঠার দেখে। আবার রাত বিরাতে ঘোড়া নিয়ে রাস্তার পর রাস্তা পারি দেয়। এভাবে নানান কাজে দিনগুলো তাদের কাটছে। মাধবীর বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছে নেই এখন সব ঠিক হওয়ার পরেও নাটক করে আবার বিয়ে করার। আয়াজ আর ইচ্ছেরটা করুক কিন্ত তাদের করার কি দরকার। কিন্ত এ বাড়ির কেউ শুনবে না। অগত্যা কাল একটু নাটক তাকে করতেই হবে। আরিয়ান কাল তার জন্য এক গাড় লাল রঙের বেনারসি নিয়ে এসেছে। শাড়ি দেখেই মাধবীর মাথা ঘোরানোর অবস্থা। এত ভারি শাড়ি মানুষ কিভাবে পরে সে ভেবে পায় না। মাথার বড় ঘোমটা টা পর্যন্ত মনে হয় ৫কেজি ওজনের হবে। এসব নানান চিন্তা করতে করতে মাধবী চা করে আনে। চা খেতে খেতে আরিয়ান হঠাত বলে

“তোকে আবার স্কুলে ভর্তি করতে হবে মধু”
মাধবী বিস্ফোরিত নয়নে চেয়ে বলে “কিহহহ”
“স্কুলে ভর্তি করবো তোকে”
“আমি কলেজে পড়তাম গাঁধা লোক”
“ঐ যেখানেই পড়তি সেখানেই পড়াবো”
“পড়বো না আমি। আরে ওসব পড়া শোনা ঝামেলার ব্যাপার। এখন আমার বাচ্চাকাচ্চা পড়াশোনা করানোর সময়”
“তাহলে আয় কাজ শুরু করি। বাচ্চাদের পড়াশোনায় দেঁড়ি হচ্ছে”
“চুপ করুন আপনি”
“সে আমাকে যতই চুপ করা। বিয়েটা কোন মতে হতে দে শুধু। তারপর তোকে আবার পড়াশোনায় ঢুকিয়ে দেবো। তখন আর আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসবে না। মন দিয়ে পড়াশোনা সংসার দুটোই করতে পারবি”

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ২৯

“ত্রিমাত্রিক দুনিয়ায় আপনি নিশ্বাস
বহুমাত্রিক দুনিয়ায় খুঁজি আমি বিশ্বাস
দ্বিমাত্রিক প্রেম আপনার যদি হয় সীমাহীন
তবে মাত্রাহীন ভাবে আমিও হবো
আপনার প্রেমের অতল গভীর”

তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ৩১