Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৯

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৯

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৯
জান্নাতি আক্তার জারা

__” বাহানা করে না রাত, তোমার যখন ইচ্ছা করবে তখন ভালোবেসো। এখন জাস্ট বেড শেয়ার করো।
আরাত কী বলবে ভেবে পেলো না। ধুকপুক বুকে ধীরে ধীরে মলিন মুখে বিছানা এক পাশে বসে পরলো। রুমটা আগের মতোই পরিপাটি করে সাজানো। নেই কোনো ফুল, নেই কোনো ডেকোরেশন করা। আরাত বিছানার একপাশে বসে চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে। তাকবীর আরাতের মনোবল বুঝতে পেয়ে আরাতের সামনে এসে দাঁড়ালো। আরাত চমকে ওঠে সামনে তাকালো। আরাত কে চমকাতে দেখে তাকবীর মুচকি হেঁসে আরাতের ভয় ভাঙ্গাতে নরম সুরে বলল,

___” ভয় পেয়ো না, তোমার অনুমতি ছাড়া কখনো গভীরভাবে স্পর্শ করবো না। বাট ছুঁয়ে দিবো, তোমার কপালে আমার ঠোঁটের ছোঁয়া পরবে, তোমাকে হুটহাট জরিয়ে ধরবো, জাস্ট এতটুকুই। ভালো না হয় তুমি বাসার পড়েই বাসবো।
আরাত তাকবীরের মুখের দিকে তাকালো। তাকবীর নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে পুনরায় বলল,
___” মাথায় থেকে স্কাপ খুলে রাখো!
___” কেনো?
আরাত কে ভীতু কন্ঠে জবাব দিতে দেখে তাকবীর মুচকি হেঁসে পুনরায় আদুরে গলায় বলল,
___” আরে পাগল স্কাপ পড়ে ঘুমাবে?
___” না।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আরাত দ্রুত মাথা ঝাকালো, মাথা ঝাকিয়ে মাথা নিচু করে স্কাপ খুলতে লাগলো। হাত দিয়ে পিন খুলে আশেপাশে তাকালো কোথায় রাখা যায়। সামনে তাকবীর কে হাত মেলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পিন গুলো খুলে খুলে তাকবীরের হাতে রেখে দিলো। এতে তাকবীরের মুখের হাসি গাড়ো হয়ে উঠলো। স্কাপ খুলার সঙ্গে সঙ্গে মাথার হালকা কোকরানো চুলগুলো হাত খোপা দৃশ্যমান হলো। তাকবীর পিন গুলো খুব যত্ন সহকারে বেডসাইডে রেখে দিলো। হাতে একটা সাদা থ্রি পিস তুলে নিয়ে পুনরায় আরাতের সামনে ধরলো, আরাত অবাক চোখে তাকাতেই তাকবীর পুনরায় বলল,

___” চেঞ্জ করে আসো, শাড়ি পড়ে ঘুমাতে পারবে না। তোমার এলোমেলো ঘুমানো আমাকে বেসামাল করে দিতে পারে।
তাকবীরের কথায় আরাত থ্রি পিস নিয়ে বিছানা থেকে নেমে দ্রুত পায়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। আরাতের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তাকবীর দুষ্টু হেঁসে উঠলো, বউ কে অস্বস্তিতে ফেলে দারুণ লাগছে তাঁর। তাকবীর বিছানায় কপালের উপর এক হাত রেখে শুয়ে পরলো। দৃষ্টি তাঁর সিলিং এর দিকে। মনের মধ্যে হাজারো ভাবনা। প্রায় আধা ঘন্টা পার হয়ে গেলো আরাত ওয়াশরুম থেকে বের হলো না। এভাবেই কেটে গেলো আরো কয়েক মিনিট। আরাত ধীরে ধীরে ওয়াশরুমের দরজা খুলে মাথা দিয়ে রুমের ভিতরে উঁকি দিচ্ছে। তাকবীর কে মাথায় হাত রেখে ভাবলো ঘুমিয়ে পড়েছে। আরাত একটা স্বস্তির নিশ্বাস নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। আরাতের শাড়ি চেঞ্জ করা অনেক আগেই হয়ে গেছে। আরাত তাকবীরের ঘুমানোর অপেক্ষায় ছিলো। তাকবীর ঘুমিয়ে পড়লে আরাত এসে চুপিচুপি ঘুমাবে। তাহলে আর তাকবীরের পাশে ঘুমাতে অস্বস্তিকর লাগবে না। আরাত ওয়াশরুমের দরজায় সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তাকবীরের কন্ঠ ভেসে এলো,

___” উঁকি দিয়ে দেখতে হবে না। বিছানায় শুয়ে থেকে আমাকে দেখো আমি মাইন্ড করবো না। আফটার অল আমাকে দেখার পুরো অধিকার তোমার রয়েছে।
আরাত ভেবাচেকা খেয়ে গেলো, সঙ্গে উঁকি দেওয়ার জন্য লজ্জাও পেলো। চুপচাপ ধীর পায়ে তাকবীরের বিপরীত পাশে এসে, বিছানায় বসে মাথার ওড়না ঠিকঠাক করতে লাগলো। আরাত কে ওড়না ঠিক করতে দেখে তাকবীর পুনরায় আরাত কে অস্বস্তিতে ফেলতে বলল,

___” আমি পরপুরুষ না, তোমার হাসবেন্ড, আমার সামনে ওড়না ঠিক করতে হবে না বরং খুলে রাখলেই বেশি পারফেক্ট দেখায়।
তাকবীরের কথা আরাতের কারে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরাত চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে কম্বল পুরো শরীরে জরিয়ে নিয়ে ধপাস করে বিছানায় শুয়ে পরলো। তাকবীর কপাল থেকে হাত সরিয়ে আরাত কে চোখমুখ কম্বোটার দিয়ে ঢাকতে দেখে মুচকি হাঁসলো। তাকবীর রুমের ডিম লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে আরাতের দিকে তাকিয়ে রইলো। এভাবেই কেটে গেলো কিছু মুহূর্ত। আরাত কম্বলের নিচে থেকে মুখ বের করে তাকবীরের দিকে তাকালো। তাকবীর কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরাত সাহস করে তাকবীর কে বলে উঠলো,

___” ঘুমাননি?
আরাত কে প্রশ্ন করতে দেখে তাকবীর মুচকি হেঁসে উওর করলো,
___” পাশে হুর রেখে ঘুমাবো কিভাবে?
আরাত অবাক হয়ে তাকবীর কে দেখতে লাগলো। তাকবীর আরাতের দিকে তাকিয়ে আছে। আরাত তাকবীরের দিক হয়ে শুয়ে পরলো। কম্বলের মধ্যে থেকে শুধু মুখটা বের করে নিস্তব্ধ রুমে ধীর কন্ঠে জানতে চাইলো,
___” আমি আপনার চোখে এতটা মূল্যবান?
আরাত বলতে দেরি তাকবীর উওর দিতে দেরি করলো না। আরাতের গালে এক হাত ছুয়ে দিয়ে মায়াবী কন্ঠে বলে উঠলো,

___”তুমি আমার দুনিয়া এবং আখিরাতে শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।
আরাত চোখ বন্ধ করে নিলো, চোখ দিয়ে একফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো। জানা নেই এটা আনন্দের পানি নাকি আফসোসের পানি। কেউ সবসময় থাকবো বলে হারিয়ে যায়, আবার কেউ একবারও না বলে সারাজীবন পাশে থেকে যায়। কেনো যেন ভুল মানুষ কে হারিয়ে ফেলে আফসোস হচ্ছে না। মনের মধ্যে কোথাও একটা শান্তি অনুভব হচ্ছে। আরাতের চোখের পানি তাকবীরের হাতে পরতেই,তাকবীর আরাতের কাছাকাছি এসে দু-হাতের মধ্যে আরাতের মুখটা নিয়ে আদুরে গলায় বলল,

___” উহুম একদম কান্না না, আমার জীবনের সবচেয়ে দামি উপহার তুমি, যেটা আমি টাকা দিয়ে নয়,ভাগ্য করে পেয়েছি। তোমার চোখে পানি না আমার জন্য ভালোবাসা দেখতে চাই রাত?
আরাত চোখ মেলে তাকালো, ডিম লাইটে তাকবীরের মুখটা মায়াবী লাগছে। আরাত গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেকে সামলে নিলো। গম্ভীর তাকবীরের মুখে আজকে এতএত কথা শুনে আরাত বারবার অবাক হচ্ছে। নিজের মধ্যেও আজকে অনেক সাহস অনুভব করছে। তাকবীর কে কিছু জিজ্ঞেস করতে আগের মতো আনইজি লাগছে না। আজকে যেন নতুন তাকবীর কে দেখছে, যে তাকবীরের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে, মজা করা যাবে। আরাত একটু একটু করে নিজের মধ্যে চঞ্চলতা ফিরে এনে তাকবীর কে পুনরায় বলে উঠলো,

___” আমাকে ভালোবাসেন বীর ভাইয়া?
আরাতের কথায় তাকবীর আরাতের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” যদি বলি ভালোবাসি, তুমিও কী আমাকে ভালোবাসবে?
আরাত উওর করতে পারলো না। চুপচাপ তাকবীর কে দেখতে লাগলো। তাকবীর আরাত কে বেশি জুলুম করলো না। ভালোবাসা একদিনে হয়ে যায় না, সময় প্রয়োজন তাকবীরের বিশ্বাস পবিত্র বন্ধনের যখন বেঁধে গেছে। আসতে আসতে নিজের যত্ন ভালোবাসা দিয়ে নতুন করে ভালোবাসতে শিখাবে।হাবীব রাতেই তালুকদার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে এসেছে। বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে বোনের রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। হাবীবের জানা আছে হানিয়া এখনো ঘুমাইনি বা আজকে রাতে মনে হয় না ঘুমাবে। হাবীব হানিয়ার রুমের সামনে এসে ডাকলো বার দুয়েক। হানিয়ার সাড়াশব্দ না পেয়ে হাবীব দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করলো। যানা নেই যাঁদের মনে কষ্ট থাকে তাঁরা সবসময় একা অন্ধকারে থাকতে ভালোবাসে কেনো। হাবীব অন্ধকার রুমে লাইট জ্বালিয়ে দিলো। হানিয়া কে এই শীতে খালি মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখে হাবীব চমকে উঠলো। বড়বড় পা ফেলে রাগী গলায় হানিয়া কে ধমকে বলে উঠলো,

___” হানিয়া, তুই কী পাগল হয়ে গেছিস, এই শীতে মেঝেতে কেনো শুয়ে আছিস উঠ বলছি?
হাবীব হানিয়া কে ধরে ওঠালো, হানিয়া মুখে বিরক্ত নিয়ে হাবীবের থেকে দূরে সরে হিসহিসিয়ে বলল,
___” কী সমস্যা ভাইয়া, আমাকে শান্তি মতো একা থাকতেও দিবে না। আমি শান্তি চাই প্লিজ, রুম থেকে বের হও তুমি।
হাবীব নরম কাটলো, বোনের দিকে তাকিয়ে অসহায় মুখে বলে,
___” প্লিজ বোন এমন করিস না। নিজেকে কষ্ট দিচ্ছিস কেনো, আমার দিকে তাকা, দেখ আমি তোকে এমন ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিবো। যে তোকে যত্নে রাখবে, ভালোবাসবে।

___” না আমার কাউকে চাইনা, আমি বিয়ে করবো না। আমি চাইনা কেউ আমাকে পছন্দ করুক বা ভালোবাসুক। আমার কাউকেই চাইনা, কাউকেই না।
হাবীব হানিয়া কে জরিয়ে ধরলো, বোন কে আগলিয়ে নিয়ে শান্ত করতে বলল,
___” এমন পাগলামি করিস না, তুই তো আমার সোনা বোন তাই-না। তুই তো সবকিছু বুঝিস, ব্রো আরাত কে ভালো না বাসলে আমি তোর সঙ্গেই যেভাবেই হোক বিয়ে টা দিতাম কিন্তু..!
___” আমাকে কেনো ভালোবাসলো না ভাইয়া, আমি কী দেখতে অসুন্দর। আমি কী তাকবীর কে ভালো রাখতে পারতাম না। কেনো একটা বার আমাকে ভালোবেসে দেখলো না। আমি কোনো কমতি রাখতাম না আমার ভালোবাসায়।
হাবীব এবার রেগে গেলো। এতদিন মনমরা হয়ে থাকলেও আজকে একদম ভেঙ্গে পড়ছে মেয়েটা। কিছু না বললে এভাবে কষ্ট পেতেই থাকবে। হাবীব রাগী গলায় বলল,

___” এমন রিয়েক্ট করছিস কেনো, তুই তো ব্রো কে বলেছিস আরাত কে যেন হারাতে না দেয়। এতদিন পড়ে আজকে এমন পাগলামির কারণ কী?
___”খোদা আমারে ভাগ্য দিলো না, তবে মন ভরে মায়া দিয়ে দিছে।
হানিয়ার কথায় হাবীব চুপচাপ হানিয়া কে দেখতে লাগলো। হানিয়া মলিন হেঁসে মেঝেতে চোখ নিবদ্ধ রেখে পুনরায় বলে উঠলো,

___” হ্যাঁ খোদা আমারে এতএত মায়া দিয়ে দিছে, মায়ার গৈরবে তাঁকে আমি অন্য কারো সঙ্গে মেনে নিতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার তাতে কী, থাকুক সে সুখে আমি নাহয় কষ্ট পেলাম। যতদিন বেঁচে থাকলাম গেলাম তাঁকে একপক্ষীয় ভালোবেসে, এতে যদি মানুষ আমাকে দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট নারী হিসেবে আখ্যা করে আমি মেনে নিতে রাজি।

হানিয়া নিজের মনে বিরবির করতেই লাগলো, হাবীব আগেই হানিয়ার জন্য গ্লাসের মধ্যে ঘুমের মেডিসিন মিশিয়ে রেখে ছিল। হাবীব পানির গ্লাসটা হানিয়ার মুখের সামনে ধরতেই হানিয়া ধকধক করে পানিটুকু খেয়ে নিলো। চোখে পানি নেই শুধু হতাশা কেনো তাকবীর তাকে ভালোবাসলো না। হাবীব গতকাল রাতে তালুকদার বাড়ি থেকে ফিরে কাউকে কিছু বলেনি। সকাল বেলা বোন মা-বাবার সামনে আরাত আর তাকবীরের বিয়ের কথা বলে, সঙ্গে এটাও বলে তালুকদার বাড়ি থেকে হাবীবের পুরো ফ্যামিলিকে উপস্থিত থাকতে। তাকবীর আরাতের বিয়ের খবর শোনার পর থেকে হানিয়া পাগলামি শুরু করছে। হাবীব সকাল বেলা বোনকে বুঝিয়ে দুপুরের দিকে তালুকদার বাড়িতে গেয়েছিলো। হাবীবের মা-বাবা কেউ বিয়ে তে আসিনি। হাবীব হানিয়া কে পানি খাওয়ানোর কয়েক মিনিট পড়ে বিরবির করতে করতে হাবীবের শরীরের উপর ঢলে পরলো। হাবীব বোন কে আগলিয়ে নিয়ে বিছানায় ভালোভাবে শুয়ে দিয়ে মাথার কাছে বসলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে উঠলো,
___” আই এম সরি বোন, তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না তবে তোকে কথা দিলাম। তোর জন্য এমন একটা ছেলে খুঁজবো, যে তোকে ভালোবেসে আগলিয়ে রাখবে।

ফজরের আজানের মধুময় সুর ভেসে আসছে। তাকবীর আজনের সুরে বিছানা থেকে উঠে বসলো। আরাত নড়াচড়া করে অন্যপাশ হয়ে শুয়ে পরলো। নতুন ঘর তাঁর সঙ্গে ফার্স্ট টাইম কোনো ছেলের সঙ্গে রুম শেয়ার করা। চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছিল না, পুরো রাত এদিকওদিক নড়াচড়া করে আজানের কিছু মুহূর্ত আগে চোখে ঘুম ধরা দিয়েছিল। তাকবীর তো ঘুমাতেই পারে নাই। একা একা এক রুমে একা বিছানায় থেকে অভ্যাসে পরিনতি হয়ে গেছে। হটাৎ কেউ একজন পাশে থাকাতে চোখে ঘুম ধরা দিচ্ছিল না, তাঁর উপর কেউ একজনটা তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, ভালোবাসার মানুষ। তাকবীর পুরো রাত শুয়ে থেকে আরাতের নড়াচড়া গুলো অনুভব করছিলো। ঘরটা আজকে যেন পরিপূর্ণ লাগছে। যদিও এতদিন একা থেকেও কিছু মনে আসেনি সেখানে হটাৎ অর্ধাঙ্গিনী কে পাশে পেয়ে পরিপূর্ণ লাগছে। এটাই হয়তো পবিত্র বন্ধনের বন্ধন। তাকবীর বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে এসে সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে এলো। বিছানার বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে আরাতের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকালো। মানুষ বলে মেয়েরা ঘুমিয়ে থাকলে নাকি ঘুমন্ত মুখটা মায়াবী দেখায়। কই আরাতের তো লাগছে না। তাকবীর একটু উপর হয়ে আরাতের পুরো মুখ পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো, আরাত এখন গভীর ঘুমে। ঘুমের কারণে ঠোঁট দুটো কিছুটা হা হয়ে আছে। একহাত গালের নিচে থাকায় গালটা কিছুটা লাল হয়ে আছে। তাকবীর আরাত কে পর্যবেক্ষণ করে হেঁসে উঠলো। পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় আরাত কে ডেকে উঠলো,

___” রাত, এই রাত?
আরাত ঘুমের মাঝেই বিরক্তিতে কপালে ভাজ ফেলে পুনরায় নড়াচড়া করে ঘুমিয়ে গেলো। আরাতের কান্ড দেখে তাকবীর মুচকি হাসলো, পুনরায় নরম কন্ঠে উঁচু স্বরে ডেকে উঠলো,
___” রাত ফজরের আজান পড়েছে, নামাজ আদায় করতে হবে, রাত এই রাত?
আরাত এবার নিবু নিবু চোখ মেলে তাকালো, ঘন্টা দেড়েক আগে চোখে ঘুম ধরায় চোখ জ্বালা করছে। আরাত আবছা আলোতে নিজের সামনে হটাৎ কোনো ছেলের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে তারাহুরোয় বিছানায় বসতে বসতে চিৎকার দিতে যাবে। তাকবীর বুঝতে পেয়ে আরাতের মুখ চেপে ধরে দ্রুত,

___” এই পাগল, চিৎকার দিচ্ছ কেনো, আমি
তোমার হাসবেন্ড তাকবীর।
তাকবীর মুখ চেপে ধরায় আরাত মুখে হুহু শব্দ করছিলো। পরমুহূর্তে আমি তোমার হাসবেন্ড কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আরাত শান্ত হয়ে গেলো। তাকবীর আরাত কে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত পায়ে সুইট বোর্ডের কাছে এসে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো। আরাত ভুলেই গিয়েছিল আজকে তাঁর বিয়ে হয়েছে এবং সে তাঁর স্বামীর রুমের কিছুক্ষণ তন্দ্রায় ছিলো। তাকবীর কে লাইট জ্বালাতে দেখে আরাত নিজের দিকে তাকালো, ওড়না কিছুটা এলোমেলো হয়ে আছে। আরাত তাড়াহুড়ো করে ওড়না ঠিক করে নিলো। তাকবীর আরাতের সামনে এসে দাঁড়ালো,

___” আরেকটু হলেই বাড়িতে আমার দুর্নাম রটিয়ে যেত, যাইহোক নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ো।
কথাটা বলে তাকবীর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আরাত তাকবীরের কথা বুঝতে না পেয়ে বেশ অবাক চোখে তাকবীরের যাওয়া দেখলো। কীসের দুর্নাম হতো কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আরাত বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে পা বাড়ালো। আরাতের ভাবনাতেই নেই আজকে তাঁদের বাসর রাত ছিলো। যদি মনে থাকতো তাহলে হয়তো তাকবীরের কথার অর্থ খুব সহজেই বুঝে যেত। তাকবীর মসজিদে নামাজ আদায় করার জন্য রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে সদর দরজার কাছে দাঁড়াতেই আনাস সিড়ি থেকে তাকবীর কে দাঁড়াতে বলল।

তাকবীর আনাস কে মাথায় টুপি পরতে পরতে সিড়ি বেয়ে নামতে দেখে আনাস এর পা থেকে মাথা অব্দি পরক করলো। আনাস এর মাথার চুল এখনো আধভেজা। আনাস এতক্ষণে তাকবীরের কাছে এসেছে। তাকবীর গলা খাঁকারি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। আনাস তাকবীর কে চলো বলে পিছু পিছু মসজিদের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গেলো। বাড়ির বড়রা আসতে আসতে উঠে লাগলো, আদিবা তালুকদার এবং রাবেয়া তালুকদার নামাজ আদায় করে সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করতে কিচেন রুমে এসে ব্যস্ত হতে লাগলো। নাস্তা বলতে শুধু সবার জন্য চা কফি বানাতে লাগলেন, কারণ সকাল সকাল মেহমানরা বাড়ি থেকে বিদায় নিবে। এজন্য মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করবে। ভোরের আলো কিছুটা ফুটে উঠেছে মাএ, তাকবীর আর আনাস দুইভাই কে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেলো। রাবেয়া তালুকদার আনাস কে ডেকে উঠলেন,

___” আনাস কফি দিবো তোমাদের?
আনাস তাকবীর দুজনেই থেমে গেলো। আনাস তাকবীরের দিকে তাকাতেই তাকবীর রুমের দিকে যেতে ছোট করে বলল,
___” নো, বাট মাংস খিচুড়ির মধ্যে মিক্সড করার আগে আলেদা ভাবে বাটিতে কয়েক পিস রেখে দিবেন।
রাবেয়া তালুকদার ছেলের যাওয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আনাস এর দিকে রাখলেন,
___” আলেদা মাংস কেনো রাখতে বলল?
আনাস রাবেয়া তালুকদারের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টো বলল,
___”আই ডোন্ট নো।
___” আচ্ছা ঠিক আছে তোমার কফি লাগবে?
___” হ্যাঁ বড়মা দুইটা কফি প্লিজ।
আনাস এর কথায় রাবেয়া তালুকদার মুচকি হাসলেন। আনাস কিছুটা লজ্জা পেলো, কিন্ত প্রকাশ করলো না। রাবেয়া তালুকদার কিচেন রুমের ভিতরে এসে দু’টো কফি বানিয়ে এনে আনাস কে দিতে দিতে পুনরায় হাসি মুখে বললেন,

___” বৌমা কী ওঠে পড়েছে বাবা?
আনাস লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে কফি হাতে নিতে নিতে ছোট করে বলল,
___” হুম।
___” আইরা কে নিচে নামতে হবে না, অনেক
ঠান্ডা পড়ে গেছে।
রাবেয়া তালুকদার এবার সিরিয়াস মনে কথাটা বললেন, আনাস খুশি হয়ে রাবেয়া তালুকদার কে বলল,
___” ধন্যবাদ বড়মা।
কথাটা বলেই আনাস নিজের রুমের দিকে চলে গেলো। রাবেয়া তালুকদার পাগল ছেলে বলে কিচেন রুমের দিকে যেতে নিতেই দেখনেন আলভী শীতের পোষাক পড়ে কাঁপতে কাঁপতে তালুকদার বাড়িতে প্রবেশ করছে।
___” এত সকালে বিছানা থেকে উঠেছো কেনো?
আলভী রাবেয়া তালুকদার কে দেখে হাসি মুখে বলল,

___” আহিন কই বড়মা?
___” নিজের রুমে।
আলভী রাবেয়া তালুকদার কে আর কিছু না বলে আলভীর রুমে চলে গেলো। আর রাবেয়া তালুকদার রান্না ঘরে। আনাস কফি হাতে রুমে প্রবেশ করে দেখে আইরা বিছানায় কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে আছে। আনাস মুচকি হাসলো, কফি দুটা বেডসাইডের উপর রেখে আইরার পাশে বসলো। আইরা আনাস এর উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে কম্বলের মধ্যে থেকে শুধু মুখটা বের করলো। আনাস বসে থেকেই দুহাত আইরার দুপাশে রেখে মুখের কাছাকাছি মুখ এনে মুচকি হেঁসে বলল,

___” কী উঠবি না?
আনাস এর কথায় আইরা মুচকি হেঁসেই মাথা নাড়ালো,
___” হুম।
___” বড়মা তোকে উঠতে বারণ করেছে।
আইরা অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
___” কেনো?
আনাস দুষ্টু হেঁসে আইরার নাক টেনে বলল,
___” তাঁর বৌমার নিচে নামা বারণ, তাঁর বৌমা শুধু রুমে তাঁদের ছেলে কে গভীর ভাবে সেবা যত্ন করবে।
___” উঁহু মিথ্যাবাদী।

আইরা লজ্জায় মুখ ঘুড়িয়ে অন্য পাশে রাখলো। আনাস আইরার লজ্জা পাওয়াতে হেঁসে উঠলো, আনাস কে হাসতে দেখে আইরা আরো বেশি লজ্জা পেলো মুখটা নিমেষেই লাল হয়ে গেলো। আনাস হাসতে হাসতে আইরা কে দু-হাতে জরিয়ে ধরে বসে দিলো। পুনরায় কম্বল দিয়ে শরীর টা ভালোভাবে মুড়িয়ে দিয়ে বেডসাইড থেকে কফি তুলে নিয়ে আইরার সামনে ধরলো। আইরার মাথার আধভেজা চুল এলোমেলো ভাবে পিঠে পড়ে আছে। আইরা হাঁসি মুখে কফি খেতে লাগলো। আনাস আইরার দিকে তাকিয়ে নিজের কফিতে চুমুক বসাতে বাসাতে আইরার এলোমেলো চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দিচ্ছে। দুটো মন এক হয়েছে, তাঁদের ভালোবাসাটা দু’জনের তরফ থেকেই ছিলো। দুজন দুজনের পরিপূর্ণতা হয়ে গেছে। আইরা একা থাকলে হয়তো কম্বোটারের মধ্যে চুপটি করে বসে কফিতে চুমুক দিতে দিতে উপন্যাসে মগ্ন হয়ে যেত, কিন্তু এখন ভাবনাটা ভাবতেই মনে হবে দুজনের মধ্যে কোনো বাঁধা চলবে না, সেটা হোক কোনো পরিস্থিতি উপন্যাস বা মানুষ। দুজন শুধুই একাত্রে হয়ে বাঁচবে।

তাকবীর রুমে প্রবেশ করতেই দেখলো আরাত জায়নামাজ গুছিয়ে রাখছে। তাকবীরের কাছে মুহূর্তটা সত্যিই সুন্দর, এই-যে আরাত মাথায় কাপড় দিয়ে নামাজ শেষে মুখে তসবিহ গুনছে এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর কী হতে পারে। তাকবীর চুপচাপ মুগ্ধ হয়ে আরাত কে দেখছে। আরাত জায়নামাজ রেখে পিছনে ঘুরতেই তাকবীর কে মুগ্ধ চোখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আরাত এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো। তাকবীর ধীর পায়ে আরাতের কাছে এসে দাঁড়ালো। আরাত পুনরায় কিছু না বলে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে তো হাতের আঙ্গুল ফোটাচ্ছে, তাকবীর মুচকি হাঁসলো এতে। মুচকি হেঁসে আরাতের দুগাল দু’হাতে ধরে কপালে গারোকরে চুমু রেখে দিলো। আরাত নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে দুচোখ বন্ধ করে নিলো। হাত কাঁপতে লাগলো। তাকবীরের এতএত পরিবর্তন যেন আরাত কে অবাকের চূড়ান্ত সীমানায় নিয়ে যাচ্ছে। তাকবীর কপালে ঠোঁটের ছোঁয়া দিয়ে আরাতের মুখের দিকে মাশাল্লাহ বলে তাকালো। আরাতের হাত কাঁপছে চোখ বন্ধ, ঠোঁট ধীকে ধীকে কেঁপে উঠছে। তাকবীর নিজেকে পাগল পাগল অনুভব করছে,আরাত কে দ্রুত ছেড়ে দিয়ে বিছানার কাছে এসে ফোন নিয়ে ফোন স্ক্রল করতে লাগলো, ফোন স্ক্রল করতে করতে আরাতের দিকে আরচোখে দেখলো এক পলক। আরাত চোখ মেলে তাকালো। তাকবীর কে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,

___” আমি আমার রুমে যাবো!
___” হুম তোমার রুমেই আছো।
তাকবীর ফোন স্ক্রল করতে করতে ভাবনাশীল উত্তর দিলো, আরাত তাকবীর কে বুঝাতে পুনরায় বলল,
___” আমার রুম মানে, আমার রুম!
___” হ্যাঁ আমিও তো বলছি তোমার রুম।
তাকবীরের উওরে আরাত মন ভার করে বলল,
___” তালুকদার বাড়িতে যে রুম আমার ওটার কথা বলছি আমি।
তাকবীর ফোন বিছানার উপর রেখে দিয়ে হাতে হাত ভাজ করে দাঁড়ালো,
___” এটা কী তোমার চৌধুরী বাড়ি মনে হচ্ছে?
আরাত অন্যদিকে তাকিয়ে মন ভার করে উওর করলো,

___” না।
___” তাহলে?
___” তালুকদার বাড়ি।
___” গুড, তালুকদার বাড়িতে তুমি কার রুমে বর্তমান অবস্থান করছো?
আরাতের বিরক্ত লাগলো এবার, মুখে বিরক্ত নিয়ে ভার কন্ঠে বলল,
___” আপনার রুমে।
___” আমি তোমার কে?
আরাত এবার তাকবীরের দিকে তাকালো, কী বলবে ভাই নাকি হাসবেন্ড, হাসবেন্ড বলতে তো লজ্জা লাগবে, আবার ভাই বললে কী ভাববে কে জানে। আরাত কে ভাবতে দেখে তাকবীর দ্রুত বলে উঠলো,

___” অ্যানসার মি?
আরাত মাথা নিচু করে গম্ভীর গলায় বলল,
___” হাসবেন্ড।
আরাত কে মাথা নিচু করে উওর করতে দেখে তাকবীর আরাতের অজান্তেই হাসলো, আরাত কে রাগাতে মন চাচ্ছে, তাকবীর হাসি আটকে পুনরায় গম্ভীর হয়ে বলল,
___” বিয়ের পর মেয়েদের বাড়ি কোথায় হয়?
___” শশুর বাড়ি।
___” মেয়েদের রুম হয় কোনটা?
___” হাজবেন্ডের রুম।
___” তুমি কার রুমে আছো?
___” আপনার।
তাকবীর আরাত কে রাগাতে গিয়ে নিজেই ক্লান্ত হয়ে গেলো। এতক্ষণ ঘুরিয়ে পেচিয়ে কাকে কী বুঝচ্ছিল। তাকবীর বিছানায় বসতে বসতে ক্লান্ত কন্ঠে বলল,

___” যাও তুমি তোমার বাবার বাড়িতে যাও।
আরাত অবাক চোখে চেয়ে বলল,
___” বাবার বাড়ি মানে?
___” বিয়ের আগে তোমার যে রুম ছিলো, আজকে থেকে ওই রুম তোমার বাবার বাড়ি।
___” ওও।
আরাত রুম থেকে বের হয়ে গেলো। তাকবীর আরাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। আরাত রুম থেকে বের হয়ে সয়তানি হাসি দিলো। আলভী আহিনের রুমে এসে কাঁপতে কাঁপতে আহিনের পাশে শুয়ে পরলো। আহিনের ঘুমের ঘোরে ঠান্ডা হাতের ছোঁয়া পেয়েই ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে তাকাতেই মুখের সামনে আলভী কে দাঁত বের করে হাসতে দেখলো। আহিন কিছু না বুঝে বিরক্ত হয়ে বলল,

___” কী হয়েছে রে বলদ?
আলভীর মুখের হাসি গায়েব হয়ে গেলো। মন ভার করে আহিন কে বলে,
___” আজকে স্কুলে যাবো না, আম্মুর চোখ ফাঁকি দিয়ে তোর রুমে ঘাপটি মেরে থাকবো, আম্মু আমাকে খুঁজলে বলবি না।
আহিন আলভীর কথায় বিরক্ত হয়ে পুনরায় চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লো। সকাল সাড়ে আটটা বেজে গেছে। খাবার টেবিলে আজকে অনেকেই, রুপোলী বেগম মিম, তিশা সন্ধ্যা মায়া খিচুড়ি খাচ্ছে। সকালের খাবার খেয়ে তাঁরা যে যার যার বাড়ির উদ্দেশ্য চলে যাবে। আনহা শেখ টেবিল ফাঁকা দেখে আদিবা তালুকদার কে বললেন আনাস আইরা, তাকবীর আরাত কে ডেকে দিতে। ঠিক তখনই রশ্মি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো। আদিবা তালুকদার রশ্মি কে বললেন, আরাত আইরা দের ডাকতে। রশ্মি আরাতের রুম পার হয়ে আনাস এর সামনে এসে আনাস আইরা কে নিচে নামতে বলল,পুনরায় তাকবীরের রুমের সামনে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে আরাত কে ডাকতে লাগলো, তাকবীর তখন নিজের বেলকনিতে ছিলো, রশ্মির ডাকে দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই, রশ্মি তাকবীর কে দেখে বলল,

___” ভাইয়া, কাকিমনি আপনাদের নিচে আসতে বলল,
___” ওকে।
রশ্মি নিচে যাওয়ার পরপর আনাস আর আইরা রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে গেলো। তাকবীর আরাতের রুমের সামনে দু সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে দরজা নক না করে রুমের ভেতরে ঢুকে গেলো। আরাত কে বিছানায় কম্বল দিয়ে শরীর ঢেকে ঘুমাতে দেখে তাকবীর রুম থেকে বের হয়ে গেলো। খাবার টেবিলে যে যার যার মতো খাবার খেয়ে উঠে পরলো। আনাস আরাত কে দেখতে না পেয়ে তাকবীর কে বলল,
___” ভাইয়া বুড়ী কই?
তাকবীর খেতে খেতে প্লেটের দিকে চোখ রেখেই উত্তর করলো,
___” নিজের রুমে।
___” বুড়ী খাবে না?
___” ঘুমাচ্ছে ঘুমাতে দে।
আনাস আর কথা বলল না, চুপচাপ খাবার খেতে লাগলো। রাবেয়া তালুকদার মাংসের বাটি এনে তাকবীরের সামনে দিতেই যাবে। তাকবীর বাঁধা দিয়ে বলল,

___” আম্মু রাত এর জন্য রেখে দিন।
আনাস আইরা রাবেয়া তালুকদার সবাই বেশ অবাক চোখে তাকবীর কে পর্যবেক্ষণ করলো। কিন্তু না তাকবীর নিজের মতো করে খাবার খেয়ে যাচ্ছে, কয়েক জোড়া চোখ তাঁর উপর নিবন্ধ হওয়ক সেদিকে তাঁর কোনো খেয়াল নেই। তালুকদার বাড়ি বর্তমান ফাঁকা, মায়া সন্ধ্যা এক সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্য চলে গেছে। রুপোলী বেগম মিম তিশা খাবার খেয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্য বেরিয়ে গেছে। রশ্মি নিজের বিছানায় চুপটি করে শুয়ে থেকে ফোন স্ক্রল করছিল, আগের থেকে মনটা এখন খানিকটা ফুরফুরে থাকে। মাহিরের নাম্বার থেকে কিছুক্ষণ আগে একটা মেসেজ এসেছিল। রশ্মি ফোন স্ক্রল করলেও মনের মধ্যে শুধু মাহিরের মেসেজের লাইন গুলো নিয়ে ভাবছে,

___”কিছু বছর পর যখন পেছনে ফিরে তাকাবেন, তখন বুঝবেন অতীতে যা হয়েছিল সব ভালোই হয়েছিল।
কিছুক্ষণ পড়ে দ্বিতীয় মেসেজ আসে,
___”শুনেন কথা এটা না যে আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না। বিন্দাস জীবন কাটাতে পারবো, বাট আপনাকে ছাড়া কাটাতে চাইনা আমি।
রশ্মি মেসেজ গুলো পড়ে, কেনো জানি না। নেই কেনো বিরক্ত নেই কেনো ভালো লাগা। মায়া নিজের বাড়িতে প্রবেশ করে কোনোদিকে না তাকিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে মায়ার বাবা খালেক চেয়ারম্যানের গম্ভীর ডাকে মায়া থেমে গেল। মাথা ঘুরে ড্রয়িং রুমের সোফার দিকে তাকাতেই দেখলো মায়ার বাবা বসে আছেন পাশেই ফারজানা বেগম বসা। মায়া বাবার ডাকে কাছে এসে বলল,

___” হ্যাঁ আব্বু বলেন?
খালেক চেয়ারম্যান মুখে গম্ভীর্য বজায় রেখে বললেন,
___” তোমার আম্মুর ফোনে ফেক আইডি দিয়ে একটা ছেলে বিরক্ত করছিল, আমি তাঁর সব ডিটেলস বের করেছি। ছেলেটা আতিফ শেখের বড় মেয়ের বিয়ে তে দেখছিলাম। ছেলেটার সঙ্গে তোমার কী কোনোভাবে যোগাযোগ চলে?
মায়া বাবার কথায় ভয় পেলো, ভয় ভয় কন্ঠে কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বলল,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৮

___” না আব্বু, আমাদের শুধু আরিশা আপুর বিয়েতে দেখা হয়েছিলো।
___” আচ্ছা ঠিক আছে রুমে যাও।
মায়া নিশ্বাস নিয়ে রুমে চলে গেলো। খালেক চেয়ারম্যান মেয়ের যাওয়ার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে ফারজানা বেগমের দিকে রাখলেন। ফারজানা বেগম মাথা নিচু করে স্বামীর সামনে বসে আছেন।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪০