Home The Silent Manor The Silent Manor part 64

The Silent Manor part 64

The Silent Manor part 64
Dayna Imrose lucky

মায়ার হাতের মেহেদীর নকশা দেখছে তাঁর দাদী।উনিও বাকিদের মতন এসে বললেন “তোর হাত যত রাঙা হইবো, তোর স্বামীও তোরে ততটাই ভালোবাসব।” বলে উনি একগাল হাসলেন।মায়া জয়ন্তন এর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে ঠোঁটে হাঁসি আঁকে।

মীর দূর থেকে পায়চারি করতে করতে দেখছে মায়াকে।কি যেন কি ভেবে বিন্দু বিন্দু হাসছে। মায়ার মেহেদীর নকশা দেখবে। কিন্তু সবার মাঝে থেকে যেতেও পারছে মায়ার কাছে।বড়রা সবাই উপস্থিত। আমজাদ একটু পর পর মায়াকে দেখছেন। আত্মীয়র সাথে কথা বলার সময়টুকুও সে মায়ার অজান্তেই যেন তাঁকে দিচ্ছে।মীর দেখল আমজাদ কে। ঘুরে ঘুরে সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে।কোন উদ্দেশ্যে তাকাচ্ছে নিজেও জানে না।মায়া একবার দেখল মীর কে।সে চাওয়াতে মীর নজর সরিয়ে নিল।মায়া ভাবছে মীর অন্য মেয়েদের সাথে কথা না বলে চুপচাপ কি করে আছে!বাড়ি ভর্তি এত সুন্দরী মেয়েরা!সে বিশ্বাস করে মীর মেয়ে ঘেঁষা পুরুষ। কিন্তু আজ তাঁর বিশ্বাস এর স্থানটা যেন ভেঙ্গে গেল কিছুটা।মীর কে তাঁর ভাবনার সাথে মেলাতে পারছে না।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

মেহেদী শুকাতে শুরু করেছে।হাতে টান লাগছে।মায়া হাতের দিকে তাকাল।ডান হাতের মাঝে ম’ লেখা। অর্থাৎ মীর।তখন মনে পড়ল নকশা শুরু করার খানিকটা আগ মুহুর্তের কথা। মেয়েটি জিজ্ঞেস করেছিল ‘আপনার হবু স্বামীর নাম কি? মায়া বেখেয়ালি ভাবে জবাব দিয়েছিল ‘মীর।’ মায়া বিপাকে পড়ল যেন। ইতিমধ্যে হাতে রং বসে গেছে।কেউ যদি দেখে ফেলে!তবে কি হবে! যদি এই অক্ষর আদ্রিয়ান দেখে, নির্ঘাত মায়াকে সন্দেহ করবে।
মায়া পালঙ্ক ছেড়ে নেমে এল। তৃষ্ণা জিজ্ঞেস করল “কোথায় যাচ্ছিস?
“আসছি।” বলে সবার মাঝ থেকে দৌড়ে উদ্ভ্রান্তের মতন নিজের ঘরে চলে গেল মায়া। মায়াকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যেতে দেখল মীর। তাঁর কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগল। বৈঠকখানার সবার দিকে চেয়ে সেও চলে যায় মায়ার পিছু পিছু।

মায়া বাথরুমে প্রবেশ করল।হাতের মেহেদী ধুয়ে ফেলেছে।সাবান দিয়ে হাত ঘষতে শুরু করল।ঘরে ঢোকার সময় তখন দরজাটা হাট করে খোলা রেখে এসেছে।মীর দরজা খোলা পেয়ে মায়ার ঘরে সরাসরি ঢুকে গেল। মায়াকে খুঁজল।ঘরে নেই। বারান্দায় ও নেই। বাথরুমে থাকতে পারে সে-ই ভাবনা মীর এর মাথা থেকে বেরিয়ে গেল।সে পুনরায় ঘর থেকে বের হতেই মায়া বের হয়।মীর এর সামনে পড়ল।মীর ভ্রু কুঁচকে নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল মায়ার দিকে।মায়া মনে মনে স্পষ্ট করে বলল ‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যে হয়।’ ভেজা হাত দুখানা ধীরে ধীরে পেছনে নিয়ে বলল “আপনি এখানে?

“আমি এখানে।”
“দেখতেই পাচ্ছি আপনি এখানে।কেন এসেছেন? হুটহাট মেয়েদের ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েন, ভদ্রতা বলতে কিছুই নেই দেখছি।” কথাগুলো বলতে গিয়ে মায়া বারবার ঢোক গিলল। তোতলাতে তোতলাতে শেষ করল কথাগুলো।
মীর মায়ার দিকে এক পা এগিয়ে গেল।মায়া তা দেখে দু পা পেছনে সরল।মীর থেমে বলল “তোমার মেহেদীর রং দেখতে এসেছি।”
“মেহেদীর রং হয় খয়েরি।আর ছেলেদের মেহেদীর রং দেখা পাপ।তাও আরেক জনের বউয়ের।’
“বাহ্, নিজেকে আর এক জনের বউ বলে দাবি করলেও ফেললে।”
“তো! আপনি যান এই ঘর থেকে।”

“থাকতে আসিনি,যেতেই এসেছি। তাঁর আগে তোমার হাতের মেহেদীর রংটা দেখে যাই।”
মায়া বা হাতটি এগিয়ে দিয়ে বলল “এই দেখুন।”
মীর বলল “ডান হাত দেখি।”
“আপনি ভারী বেয়াদব তো”
“শোনো মেয়ে, আদবকায়দা ঠিক করো,নয় বিয়ের পর স্বামীর উথাল পাতাল মার খাবে।”
মায়া আর কথা বাড়াতে চাইল না।ঘরের দরজার দিকে তাকাল।খোলা রাখা। কেউ চলে আসবে হয়ত এখুনি।সে মীর কে এড়িয়ে খাটের এক পাশে বসল।মীর তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। “কি হল, দেখাবে না!”
“না।”
“জোর করে দেখব। তখন আ’ঘাত পেতে পারো,তাই এখুনি দেখাও।”

মায়া যেন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ল।ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য মনস্থির করল। ভাবতে না ভাবতেই বসা থেকে বিদ্যুৎগতিতে উঠে যেতেই মীর বলিষ্ঠ হাতে তাঁকে ধরে পুনরায় খাটে বসিয়ে দিল।মায়া ধব করে খাটে বসে পড়ে। শরীর যেন তাঁর দুলে উঠল।মীর মায়ার অপেক্ষায় না থেকে তাঁর ডান হাতটা নিজের দিকে টেনে নিল।মায়া ইচ্ছে করে হাতটি শক্ত করে মুষ্টি বদ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু তারপরেও মীর এর শক্তির সাথে পেড়ে উঠল না।সে মুষ্টি খুলে দেখল।মায়ার হাতে মাঝখানে ম’ লেখা। মেহেদীর রংটাও বেশ গাঢ়।
মায়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল।চোখ বন্ধ করে ফেলল।মীর হাতটি ছেড়ে বলল “তারমানে এই ব্যাপার, আমার নামের প্রথম অক্ষর লিখে রেখেছো দেখছি। বিয়ে অন্য একজনের সাথে আর নাম লিখে রেখেছো আমার!”
মায়া চোখ মেলে বলল “দেখুন, আমার হবু স্বামীর আর একটা নাম আছে ম’ দিয়ে। শুধু আপনার নামই ম দিয়ে নয়।বোকা পুরুষ।”

মীর মায়ার দিকে নুইয়ে বলল “তুমি বোকা মেয়ে। সরাসরি মীর লিখলেই হত।”
মায়া কিছু বলল না।মীর ফের বলল “মেহেদীর রং বেশ গাঢ়।লোকে বলে মেহেদীর রং যত গাঢ় হয়,তত নাকি স্বামী আদর করে, সোহাগ করে। তোমাকেও বোধহয় করবে।”
“অ’সভ্য।” মায়া মিনমিনিয়ে বলল।মীর শুনে মায়াকে খাটে ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে দিয়ে বলল “আজ তোমাকে অ’সভ্যর অর্থ বোঝাব।দেখো কেমন লাগে।”
“আপনাকে অ’সভ্য বললেই এর অর্থ বোঝানোর জন্য ব্যাকুল হন কেন? অদ্ভুত পুরুষ তো আপনি। মেয়েদের সম্মান করতে জানেন না।”

“আমি মীর মেয়েদের খুব ভালো করেই সম্মান করতে জানি।যাও, বোঝালাম না অ’সভ্যর অর্থ।আজও ছেড়ে দিলাম। কিন্তু এরপর আর ছাড়ব না।” বলে মায়ার উপর থেকে উঠে বসে।
“এরপর তো আমি দূর দেশেই চলে যাব,তখন আর চাইলেও আমাকে পাবেন না।”
“আমি সেই দূর দেশে যাব তোমাকে অ’সভ্যর অর্থ বোঝাতে।আমি ছেড়ে দেওয়ার ছেলে নই।”
“আপনি বদমাইশ লোক।”
মীর হাঁফ ছেড়ে বলল “তুমি মেয়ে আমাকে যত গা’লি দিলে,আমি জীবনে তত ভাতও খাইনি।”
মীর মায়ার ঘরে ছেড়ে যেতে থমকে দাঁড়ায়। ঘুরে মায়ার দিকে চেয়ে বলল “ভারী শাড়ি বদলে নাও।”
“আপনি বলার কে?’

মীর দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। চোয়াল শক্ত করে বলল “আজকাল তুমি মুখে মুখে কথা বলা শিখেছো।যাক গে, বিয়ের কণের সাথে রাগ না দেখালাম।” থেমে পথ ঘুরে যেতে ফের দাঁড়িয়ে মায়াকে সতর্ক সংকেত আঙ্গুল দেখিয়ে বলল “মোহিনী আসবে তোমার বিয়েতে,ও যেন তোমার হাতে আমার নামের অক্ষর না দেখে। এমনিতেই বেচারী আমাকে সন্দেহ করে।পড়ে প্রেম শুরু হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যাবে।”
মায়া শুনে মুখে ভেংচি কাটলো।মীর মায়ার ঘর থেকে বেরিয়ে দেখল দরজার পাশে বুলবুল কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।মীর হঠাৎ আসায় ও কিছুটা চমকে উঠল। দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলল “আজও কিছু দেখিনি।”
মীর বুলবুল কে বোকা বানাতে বলল “কিন্তু আজই সব হয়ে গেছে,যা তুমি ভাবছো!”

“সত্যি? বুলবুল আশ্চর্য চোখে প্রশ্ন ছুঁড়ল।
“হুঁ সত্যি।”
“কিন্তু দরজা তো খোলা ছিল।”
মীর বুলবুল এর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল “বাথরুমে বসে” বলে মীর জ্যাকেট টা ঠিক করতে করতে সোজা হেঁটে চলে গেল। বুলবুল শুধু হা হয়ে রইল।

রাত বাড়ছে।রাত বাড়ার সাথে সাথে কো’লাহল কেটে নিস্তব্ধতা বেড়ে যাচ্ছে।এমন নিস্তব্ধতা ঘিরে আহির,মীর বাড়ির বাইরে বের হয়েছে।আহির সিগারেট টানছে।তখন গৌরীর সাথে সম্পুর্ন আলাপ শেষ করার আগেই বুলবুল হাজির হয়েছিল। তাৎক্ষণিক আহির কে নিচে ডেকেছিল।আহির বুলবুল কে বলেছিল ‘তুমি যাও আমি আসছি’ বুলবুল নাকোচ করে জানায় ‘আমার সাথেই চলুন, সরদার ডাকছে।’ বুলবুল বাধ্যর মত দাঁড়িয়ে থাকায় আহির গৌরী কে ছেড়ে আমজাদ এর সাথে দেখা করতে চলে যায়। আমজাদ জিজ্ঞেস করছিল মিলন হ’ত্যার ত’দন্ত কতদূর?আহির যতটুকু জানতে পেরেছিল সবটা খুলে বলে।

মীর রাস্তার পাশে একটা গাছের গোড়ায় বসে আছে।আহির কে উদাসীন দেখে জিজ্ঞেস করল “কি ভাবিস এত? গৌরীর প্রেমে পড়েছিস নিশ্চয়ই।তো,ওকে বলছিস না কেন?”
“কিছু অনূভুতি কখনো মাটি দিতে হয়।আমিও চেষ্টা করছি নিজের অনূভুতিকে মাটি দিতে।”
“হঠাৎ এরকম সিদ্ধান্ত? মীর বিমর্ষ মুখে বলল।
“কখনো কখনো সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়।”
“জানি না তোর সিদ্ধান্ত বদলানোর কারণ কি! তবে, গৌরী কে ভালো না বাসার মত কিছু দেখছি না। এলোমেলো জীবন মেয়েটার।মা অসুস্থ,আজ আছে হয়ত কাল নাও থাকতে পারে।বাবা নেই।এতিম। এরকম মেয়ের দায়িত্ব নিলে উপরওয়ালাও খুশি হবেন।”
আহির সিগারেটে শেষ দু টান দিয়ে ফেলে দিল। নির্বিঘ্নে বলল “জীবনের গণ্ডি কখনো কখনো এমন জায়গায় এসে থামে,তখন যেন থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়।আর সামনে এগোতে মন চায় না। ইচ্ছে করলেও কোন অজানা বাঁধা যেন আটকে দেয় পথ।”

“মিলনকে হ’ত্যা কে করেছে? জানতে পেরেছিস?’ মীর হঠাৎ প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলল।
“হুঁ। প্রায়ই জেনেছি। পুরোপুরি জানা বাকি।”
“পুরোপুরি জেনে ফেল।”
“এত তাড়া কিসের? আহির মীর এর পাশে গিয়ে প্রশ্ন করল।
“বারে,মায়ার বিয়ে – এরপর আমরাও চলে যাব,তুই একা একা পড়ে থাকবি এই গ্রামে!তার থেকে যত দ্রুত সম্ভব কে’স সমাধান কর। এরপর গৌরী কে নিয়ে শহরে চলে যা।”
“গৌরী ছেলেদের বিশ্বাস করে না।”
“কারণ?’
“কোন এক পুরুষের দ্বারা তীব্র আ’ঘাত পেয়েছিল।তাই ও চুপসে গেছে।”
“কে সে?
“ওর বাবা। ওঁর মায়ের সাথে ছলনা করেছে। ওদের জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে।”
“তাই বলে সব পুরুষ তো এক নয়। ওকে বুঝিয়ে বল।”
“আমি ওকে ভালোবাসি ও হয়ত বুঝতে পেরেছে‌। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারিনি এখনো।বললে হয়ত প্রত্যাখ্যান করবে।”

“আগেই কেন খা’রাপটা ভেবে নিচ্ছিস!ও তোকে পছন্দ করে।”
“জানি না। নারীদের মন বোঝা বড় দায়।”
“চল‌। আজকে রাতেই ওকে সবটা বল।”
আহির কোন কারণে চুপচাপ।মীর কে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারছে না যেন।মীর উঠে দাঁড়াল।আহির এর আশেপাশে পায়চারি করতে করতে বলল “তোকে এর আগে এতটা নিশ্চুপ থাকতে দেখিনি। কিছু হয়েছে?’
আহির কিছু বলছে না। শুধু তাকিয়ে আছে আকাশের খণ্ডিত চাঁদটার দিকে। মৃদু আলো দিচ্ছে। চারপাশ বেশ আলোকিত। উজ্জ্বল আলোয় চারপাশ ঝলমল করছে।দূরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে প্রকৃতি ভিন্ন রুপ নিল।মীর বলল

“ভালোবাসার মানুষও ঠিক আকাশের চাঁদ এর মত।চাইলেও যেন ছোঁয়া যায় না।”
আহির শালটা ঠিক করে পড়ল। “চল বাড়ির ভেতরে বসে কথা বলি।”
“গৌরী-দের বাড়ি চল।আমি তোর হয়ে ওকে প্রেম নিবেদন করব।”
“আমার প্রেম তুই কেন নিবেদন করবি?আমিও করতে পারি।”
“তো চল।” মীর বলে আহির কে নিয়ে চাঁদনী রাতের আলো ধরে গৌরীদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।যেতে চাইছে না আহির।মীর জোর খাটাচ্ছে।

গৌরী ঘরের সমস্ত কাজ শেষ করে সদর দরজা লাগাতে যাবে ঠিক তখনই চোখ পড়ে উঠোনের দিকে।সাদা পাঞ্জাবিটা ফুটে আছে অন্ধকারের মাঝেও।চোখ তুলে মীর ও আহির কে দেখল। তাঁদের দেখেও অগ্রাহ্য করে গৌরী দরজা লাগাতে যাবে তখন মীর ছুটে গেল ঘরের সামনে। ব্যস্ত কন্ঠে বলল “তোমার সাথে কথা আছে।একটু বাইরে আসবে! পাঁচ মিনিট। এরপর চলে যাব।” গৌরী আর মীর এর মুখের উপর দরজা দিল না।ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ঘরের ভেতরে দেখে বাইরে বের হল।মীর বলল “আহির তোমার সাথে কথা বলবে, রাস্তায় অপেক্ষা করছে।” আহির রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে উসখুস করছে। চারদিকে তাকাল সতর্কতার সাথে। কোথাও কেউ নেই। গৌরী এসে তাঁর পেছনে দাঁড়াল।আহির তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে নীরব কণ্ঠে বলল “তখন তোমার সাথে আলাপ সম্পূর্ন হল না।” থেমে যায় এতটুকু বলে। বিরতি নিয়ে নিয়ে কথা বলছে। গৌরী বলল “মা ঘুমাচ্ছে। জেগে ওঠে আমাকে না দেখলে বাইরে বের হবেন। দ্রুত বলুন।আর কিছু জানার আছে!”

“আমি সবকিছু জেনেই তোমার কাছে দ্বিতীয়বার নিশ্চিত হতে এসেছিলাম। অজানা নেই কিছুই।”
“আর কি জানতে পেরেছেন?
“তুমি মিলন কে হ’ত্যা করেছো।কামার ওসমান আহমেদ এর থেকে ছু’রি বানিয়েছিলে।ছু’রিতে তোমার নামের দুই অক্ষর ছিল।তোমার বাবার দেয়া নাম।মিলন তোমাকে পছন্দ করত। তুমি করতে না।মিলন তোমার জন্য প্রায়শই রাতে তোমাদের বাড়ির সামনে এসে অপেক্ষা করত। পরপর কয়েকবার তোমাকে প্রেম নিবেদন করে।

তুমি প্রতিবারই ওকে প্রত্যাখ্যান করলে ও ক্ষিপ্ত হয়। তোমার উপর প্রতি’শোধ নিতে তোমার সাথে অ’সভ্যতামী করার চেষ্টা পর্যন্ত করে।আর এরপর তুমি কৌশলে ওকে মে’রে ফেলো। সেদিন রাতে রাফিদদের গুদামঘরে তোমার আর ওর ধস্তাধ’স্তির একপর্যায়ে তোমার কণ্ঠস্বর ভেসে যায় বাইরে,আর সে-ই শব্দ পান কামার ওসমান।উনি সবটা দেখে ফেলাতে উনাকেও তুমি মে’রে ফেলার চেষ্টা করো। ভাগ্য বশত উনি কিছুটা সময় বেঁচে ছিলেন। কাতরাতে কাতরাতে বাড়ি অবধি পৌঁছালে উনার ছেলে আকবর কে তোমার নাম বলে দেন।আর এই সবকিছু আকবর আমাকে বলে। আকবর চাইলে তোমার ক্ষ’তি করতে পারত। কিন্তু, ছেড়ে দেয় তোমাকে।”

থেমে আবার বলল “আজ তোমার বাবা তোমাদের সাথে অন্যায় না করলে,হয়ত এতকিছু হত না।বরং সুন্দর একটা জীবন-সংসার হত।”
গৌরীর চোখ ছুঁয়েছে নোনাজলে।গাল বেয়ে পড়তেই মুছে ফেলল।বিষিয়ে ওঠা অন্তরকে দমিয়ে বলল “আমাকে ধর্ষ’ণ করতে চেয়েছিল।ও আরো একটা মেয়ের সাথে অন্যায় করেছে। ওঁর মত পাপীর বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না।তাই মে’রে ফেলেছি। আপনি চাইলে আমাকে পুলি’শের হাতে তুলে দিতে পারেন। আমার কোন আক্ষেপ নেই।”
আহির থ’হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল।মনে হচ্ছে পায়ের নিচের মাটি সরে যেতে চাইছে। এখন তাঁর ঠিক কি বলা উচিত বুঝতে পারছে না।

গৌরী কান্না থামিয়ে বলল “কি ভাবছেন এত, আপনি তো আমার কণ্ঠে স্বীকা’রোক্তি চেয়েছেন।আমি শুধু আপনার সামনে নয়, আদা’লতেও নিজের দো’ষ স্বীকার করতে পারব।”
“তুমি তো পাপী কে মে’রেছো। কিন্তু পাপকে লুকাতে একজন নিরীহ মানুষের প্রাণও নিয়েছো।”
“কথা বাড়াচ্ছেন।আমি বললাম তো,আমি অন্যায় করেছি,শা’স্তি দিন।”
আহির কিছুক্ষণ চুপ থেকে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলল “তুমি তোমার কাছে দোষী হলেও আমার কাছে নিষ্পাপ।আজ তুমি যা করেছো সবটা পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে।তোমার জীবনটা নরক।আমি চাই তোমার এই নরকের নি’কৃষ্ট জীবন থেকে তোমাকে মুক্ত করে সুন্দর একটা জীবন দিতে। আমার হৃদয়রাজ্য ঠাঁই দিতে।”
গৌরী অন্যদিকে চেয়ে বলল “আমি চাই না।আমি এভাবেই ভালো আছি। মায়ের মত আমার জীবনটা হোক আমি চাই না।আজ যদি আমিও ভুল কাউকে বেছে নেই,হয়ত আমার পরবর্তী জীবন হবে মায়ের প্রতিবিম্ব।আমার সন্তান হয়ত আমার মতই খু’নি হবে।”

“আমাকে ভুল মানুষ ভেবো না। তুমি বলো আমাকে কি করতে হবে,আমি তাই করে দেখাব।যা করলে তুমি আমাকে বিশ্বাস করবে সেটাই করব।তবু তোমার বাবার সাথে আমাকে মিশিয়ে ফেলো না।”
গৌরী হাত উঠিয়ে আহিরকে থামতে বলে।আহির আচমকা কথা থামিয়ে দিল।হা হয়ে রইল সে।
গৌরী বলল “ব্যস।আমি আর কিছু শুনতে চাই না। আপনি চাইলে আমাকে শা’স্তি দিন।নয়ত আমাকে মুক্তি দিন।তবু আমি আর অন্ধকার জীবন চাই না।”

“তুমি একবার আমাকে বিশ্বাস করো, আমি তোমার অন্ধকারতম জীবন আলোকিত করে তুলব।কথা দিলাম।”
গৌরী চোঁখে জল জমিয়ে আহির কে দেখে বলল “আমি আপনাকে চাই না।চলে যান এখান থেকে।আর কখনো আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন না।”
বলে গৌরী চটজলদি ঘরের দিকে চলে যায়।মীর দূর থেকে দেখল গৌরী ছুটে চলে গেছে।আহির হাত বাড়িয়ে গৌরী কে আটকাতে চেয়েছিল।বৃথা গেল।

আহির পথে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছে গৌরীর কথা। তাঁকে পাবে কি পাবে না ভেবে বুকটা ভার হয়ে যাচ্ছে।একটু পর পর চাপ দিয়ে উঠছে বুকের মাঝে। শুধু ভেতরে কু গাইছে। হঠাৎ অজানা ভাবনা উদিত হল মনে।পাশে হাঁটা মীর কে বলল ‘জানিস,খুব কষ্ট হচ্ছে।কেন যেন মনে হচ্ছে কিছু একটা খা’রাপ হতে চলেছে।এমন ভাবনার নাম কি দেয়া যায়”
“অতিরিক্ত বোকা বোকা ভাবনা।আমাদের মনে হঠাৎ হঠাৎ এরকম ভাবনা জাগ্রত হয়।যেই ভাবনার কোন ব্যখ্যা হয় না।যা হবে ভালো হবে।” বলে মীর ঠোঁট চেপে হাসে।
আহির বলল “তারপরও মনে হচ্ছে কিচ্ছুটি ঠিক নেই। গৌরীর প্রত্যাখ্যান আমার সহ্য হচ্ছে না।আমি আহির মির্জা কোনদিন কারো কাছে নত হইনি। কিন্তু আজ হয়েছি।আর সেখানে আমি হেরে গেছি।”

তুই হেরে গেছিস মানে?” তৃষ্ণা জিজ্ঞেস করল মায়াকে। দু’জনে ছাদে বসে আছে তীব্র শীতের মাঝে।মায়া দোলনায় চেপে বসা।দোল খাচ্ছে না। তৃষ্ণা বেঞ্চে বসা। মায়া গভীর শ্বাস ফেলে জবাব দিল “আমি মীর কে খুব ভালোবাসি। তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে আমার এতটুকু ইচ্ছে করছে না। তাঁর উপর মনটা ভীষণ কু গাইছে।কেন জানি মনে হচ্ছে খা’রাপ কিছু হতে চলেছে।”

The Silent Manor part 63

বিরতি নিয়ে আবার বলল “ বেশ ক’দিন ধরে বাজে স্বপ্ন দেখছি।”
“কি দেখছিস?
“আমার হাতে মেহেদী দেয়ার পর হঠাৎ হাত থেকে র’ক্ত ঝড়ছে।আমি বিয়ের সাজে তির্যক কণ্ঠে কাউকে ডাকছি।যেন সে আমার থেকে থেকে খুব দূরে চলে যাচ্ছে। এরকম স্বপ্নের অর্থ কি?

The Silent Manor part 65