তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬৪
তাবাস্সুম খাতুন
আচমকা কেউ একজন হুহংকার ছেড়ে বললো,
“কুত্তার বাচ্চা। বুকের পাটা থাকলে বাহির কর। কেন বন্ধী করে রাখছিস এই কারাগারে?”
নিশান পিছে ঘুরলো। ফ্ল্যাশ মারলো বাম পাশের একটা কারাগারের দিকে। সেখানে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। চুলগুলো ঘাড় সমান লম্বা। মুখ ভর্তি দাঁড়ি। চোখ দুটো রক্তের মতো লাল। পরনে একটা ছেঁড়া শার্ট প্যান্ট, কারাগর ধরে দাঁতে দাঁত চেপে লোকটা কথাগুলো বললো। নিশান এগিয়ে আসলো খুবই শান্ত সরে বললো,
“চু চু চু তুই কাকে কুত্তার বাচ্চা বলছিস? ভেবে দেখ তোর স্থান কোথায়? আর আমার স্থান কোথায়?”
লোকটা যেন তেরে যাওয়ার মতো করে বললো,
“আমি মানুষ আর তুই জানোয়ার এইটাই তোর আসল স্থান।”
নিশান ঘাড় কাত করলো। হঠাৎ কারাগরের মধ্যে এক হাত ঢুকিয়ে লোকটার মাথা চেপে ধরে জোরে বাড়ি মারলো এই লোহার কারাগারে। লোকটা ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো। মাথা ফেঁটে রক্ত বেড়িয়ে আসলো নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“এইটা আমার রাজ্যে। শুধু আমার। এইখানে আমার শাসন চলে। এইখানের রাজা আমি, আর তুই সামান্য কীট। আমার পায়ের নখের ও যোগ্যতা রাখিস না। ভুলে যাস না এই খান দুই বছর আগে তোর আসল পরিচয় কি ছিলো? নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে লজ্জা লাগছে না?আমার তো তোকে দেখলেই থুথু ফেলাতে ইচ্ছা করে। আবার আমাকে বলিস আমি জানোয়ার। কুত্তার বাচ্চা..”
লোকটা দাঁত কেলিয়ে হেসে জবাব দিলো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“মাফিয়া ছিলাম। বড়ো মাফিয়া আমার কথাই সবাই উঠতো বসতো। এই ইতালি আমার সাম্রাজ্য ছিলো। নারী পাচার করতাম বাচ্চা পাচার করতাম। নেশা অবৈধ জিনিষ অস্ত্র সবকিছু পাচার করতাম। মাফিয়ার রাজা ফারহান দরিয়াস এইটাই আমার পরিচয়।”
নিশান নিজের হাত নিয়ে আসলো। পকেট থেকে একটা টিসু বাহির করে হাত মুছতে মুছতে বললো,
“কালো বাজারের মাফিয়া ফারহান দরিয়াস। তবে তার এত ক্ষমতা এত ঐশ্চর্য সবকিছু এখন আমার দখলে। মূলত সে নিজেও এই TN টিমের লিডার তানভীর চৌধুরী নিশানের দখলে আছে। ভাগ্য কোথায় কাকে কখন নিয়ে যাই।”
বলে চলে গেলো। পেছন থেকে ফারহান বললো,
“শালা কি মনে করেছিস? আমি জানিনা কিছু? জানি জানি সব জানি। এইটা তোর পাপের সাম্রাজ্য। পাপ দিয়ে ঢেকে রেখেছিস এই রোম শহর। তোর গোপন সুড়ঙ্গের রুমে অবৈধ ব্যবসা চলে আমি সব জানি।”
নিশান যেতে যেতে একটা বাক্য উচ্চসরে বললো,
“আমার পাপের সাম্রাজ্য তুই আছিস তাতে আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় কর।”
বলেই বেড়িয়ে গেলো। ফারহান বসে পড়লো ফ্লোরে। পুরো দুই বছর পরে নিশানের সাথে তার দেখা হলো।এইখানে শুধু ফারহান আটকে নেই আছে অনেকে। তবে কেউ নিশানের সাথে কথা বললো না সাহস দেখিয়ে শুধু ফারহান ছাড়া। নিশান নিজের গোপন সুরঙ্গে ফিরলো আদিল নিজের ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। নিশানকে দেখে উঠতে নিলেই নিশান হাত উঁচিয়ে বসতে বললো। আদিল প্রশ্ন করলো,
“কোন সমস্যা হয়েছে বস?”
নিশান গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“ফারহান একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে ওর শাস্তিটা আরো একটু কড়া করে দে।”
আদিল মাথা নাড়লো। নিশান নিজের ল্যাপটপ নিলো নিজের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলো। সে নিজের রুমের সিসিটিভি দেখতেই দেখলো সিমি বারবার রুমে এসে একটা কাগজে কি লিখছে আর সেইটা বেলকুনিতে নিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে দুই তিনবার করে পরে একটা কাগজ সে নিজের আলমারির পার্ট খুলে তার শাড়ির ভাজে রেখে দিলো। নিশান সম্পূর্ণ ফুটেজ দেখে রাগে মাথা ফেঁটে যাচ্ছে। ল্যাপটপটা জোরে আছাড় মারলো ফ্লোরে। পাশে থাকা টি টেবিল টা তুলে আছাড় মারলো। সোফা গুলো উল্টিয়ে ফেলে দিলো। নিশানের হঠাৎ রাগের কারন আদিল কিছুই বুঝতে পারলোনা। কিছু জিজ্ঞাসা করতে যাবে তখনই নিশান নিজের ফোন আর গাড়ির চাবি নিয়ে চলে গেলো সেই জায়গা ছেড়ে। সোজা নিজের গাড়িতে বসে চলতে লাগলো ফুল স্প্রিডে। উহুম বাড়ির রাস্তাটে না উল্টো রাস্তা ধরে তার মাথা কাজ করছে না। এই মেয়েকে এত বোঝানোর পরেও কেন অবাধ্য হয় তার কথাতে?
নিশানের গাড়ি এসে থামলো একটা ছোট enoteca’র সামনে। নিশান গাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলো।সোজা তার ভিতরে ঢুকলো। সেখানে আছে এক পাশে বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন,জুস। আবার আরেক পাশে অনেক ছেলে মেয়ে একসাথে নাচ করছে। নিশান গিয়ে একটা চেয়ারে বসলো ওয়েটারকে বললো ওয়াইন দিতে। ওয়েটার দিয়ে গেলো।নিশান এক ঢোকে সম্পূর্ণ শেষ করলো। আবারো দিতে বললো। একে একে ছয় গ্লাস শেষ করলো সে। তবুও খেয়ে যাচ্ছে। তার খাওয়ায় মধ্যে একটা ইতালিয়ান মেয়ে তার পাশে এসে বসলো। ওয়েটারকে ওয়াইন দিতে বললো। ওয়াইন আনতে তাতে এক চুমুক দিয়ে সে হেসে নিশানকে বললো,
“হেই হ্যান্ডসম কি অবস্থা? এইখানে একা কেন? চলো আমার সাথে ডান্স করবে?”
নিশান কোন উত্তর দিলো না। মেয়েটা নিশানের বাহুতে হাত দিতেই নিশান সরে গেলো চেৎ করে উঠে বললো,
“সর ছেমরি তোর ফাকিং হাত দিয়ে আমাকে ছুঁবি না। আমার বউ আছে।”
মেয়েটা অপমান বোধ হলো পরে চুপচাপ সরে গেলো। নিশান আরো এক গ্লাস খেয়ে বিল পরিষদ করে বেড়িয়ে গেলো।নেশা চড়ে গেছে তার। সে গাড়িতে উঠে বসলো গাড়ি চালালো বাড়ির দিকে যেতে লাগলো। সময়টা গিয়ে ঠেকেছে রাত আটটা দশ এর কোটায়। সিমি বাড়িতে এখনো একাই আছে তার টেনশন হচ্ছে নিশান কোথায়? সে কি ঠিক আছে? কই একবারও আসলো না তো? এই বড়ো বাড়িতে থাকতেও তার ভয় লাগছে। সবকিছু নিস্তব্ধ হয়ে আছে। সে ড্রইং রুমের সোফায় বসে আছে। এইসব ভাবনার মধ্যে হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজ তার কানে আসলো। সিমি বুঝতে পারলো এইটা নিশান। সে উঠে দরজার কাছে গেলো। নিশান ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে লক করে দিলো। সে সামনে ঘুরে দেখলো সিমি দাঁড়িয়ে আছে। সিমি নিশানের দিকে লক্ষ্য করলো কেমন অগোছালো দেখাচ্ছে তাকে। চুলগুলো এলোমেলো চোখ দুটো লাল শার্ট এর উপরের দুই একটা বোতাম খোলা। সিমি বললো,
“আপনার এই অবস্থা কেন? কি হয়েছে?”
নিশান স্বাভাবিক ভাবে বললো,
“আমার যা অবস্থা হোক? তোর দেখে লাভ কি?”
নিশানের মুখ থেকে বাজে দুর্গন্ধ সিমির নাকে গেলো সিমি নাক চেপে ধরে বললো,
“আপনি নেশা করেছেন?”
নিশান এইবার সিমির চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“করেছি তাতে তোর কি সমস্যা?”
সিমিও একই ভাবে বললো,
“তাইতো আমার কি সমস্যা?”
সিমির এই কথা যেন নিশানের পছন্দ হলো না। সে সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো। সিমি হাত পা ছোড়াছুরি করতে করতে বললো,
“একি করছেন আপনি? ছাড়েন প্লিজ। উম ব্যাথা লাগছে আমার।”
নিশান কোন কথা শুনলো না সিমিকে নিয়ে নিজের রুমে গেলো। রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে সিমিকে জোরে বেডে ফেলে দিলো। সিমি ব্যাথায় কুঁচকে উঠলো। নিশান আলমারি খুলে সেই জায়গা থেকে একটা বেলেট বাহির করে আনলো। সে সিমির কাছে আসলো সিমি নিশানের হাতে বেলেট দেখে আঁতকে উঠে বললো,
“আমাকে মারবেন না।আমার ব্যাথা লাগবে। আমি তো কিছু করি নি যদি করেও থাকি মাফ চাই। তবুও মারবেন না।”
সিমির আহাজারী নিশানের কানে গেলো না। সে সিমির হাত টেনে ফচফচ করে সিমির হাত কেটে দিতে লাগলো। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে নিশানের মুখে পড়লো। সিমি ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো।নিশান সিমির একটা হাত বেলেট দিয়ে সুন্দর করে নকশা তৈরী করে আরেক হাতের অবস্থাও তাই করলো। সিমি ছটফট করতে লাগলো। নিশান বেডে বসে সিমির কোমরে হাত দিয়ে তাকে টেনে নিজের কোলে আনলো। সিমি কান্না করছে দুই হাত ব্যাথা করছে জ্বলছে অবাস হয়ে আসছে যেন। নিশান সিমির ঘাড় থেকে চুলগুলো সরিয়ে ডিপলি একটা চুমু দিলো তারপর সাথে সাথে বেলেট দিয়ে সেই জায়গা কেটে দিলো।সিমি ব্যাথায় চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে দিলো নিশানের জামা খামচে ধরলো জোরে। নিশান হাতে থাকা বেলেট ফেলে দিলো। সিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে জোরে কামড় দিলো। সিমি কান্না করতে করতে বললো,
“আমার ব্যাথা লাগছে ছেড়ে দেন প্লিজ।”
নিশান কামড়ানো জায়গায় চুমু দিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“আমার অবাধ্য কেন হস জানবাচ্চা? তোর অবাধ্যতা আমি পছন্দ করি না জানবাচ্চা। আমার বাধ্য হয়ে থাকতে পারিস না? কেন আমাকে রাগিয়ে তুলছিস? নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য?আজকেই লাস্ট আমার বাধ্য হয়ে থাকিস জানবাচ্চা তোকে সারাজীবন আগলিয়ে রাখবো কঠিন ভাবে। তবে আজকের রাতে তোর অবাধ্যতার জন্য আদর দিয়ে ব্যাথায় কুঁকড়ে তুলি। যেন তোর মাথায় গেঁথে থাকে এই কথা!”
সিমি কেঁপে উঠলো কান্না করতে করতে বললো,
“আমাকে যেতে দিন। আমার কষ্ট হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে। ছেড়ে দিন প্লিজ।”
সিমিকে আর কিছু বলতে না দিয়েই নিশান আচমকা সিমির ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নিলো।সিমি নিজের মধ্যে নেই তার কষ্ট হচ্ছে এইদিকে দম বন্ধ করার পরিস্থিতি। সে নিশানের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইছে তার হাতে শক্তি নেই আর অবাস হয়ে আছে। আর নিশানের দেহের কাছে সে চুনিপুটি ছাড়া আর কিছুই নয়।নিশান দশ মিনিট পরে সিমিকে ছেড়ে দিলো। সিমি ছাড়া পেতেই জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো। নিশান সিমির ঘাড়ে কামড় দিলো।গলায় ঠোঁট ছুঁয়ালো। সিমির সারা মুখে চুমুতে ভরিয়ে দিলো। সিমি বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে নিশান সিমিকে বেডে শুয়ে দিলো তার শরীরের সম্পূর্ণ ভর সিমির উপরে ছেড়ে দিলো। ধীরে ধীরে তারা সমুদ্রের অতল গহবরে ডুবে যেতে লাগলো। রাত বাড়তে লাগলো আর রুমের ভিতরে দুই কপোত কপোতী আরো বেশি গভীরে যেতে লাগলো।
“আমার মনে হচ্ছে না মেয়েটাকে আমি এইভাবে বাহির করতে পারবো।”
আরার কথা শেষ হতেই তার পার্সোনাল এসিস্টেন্ট বললো,
“ঠিক বলেছেন ম্যাম। আমাদের কিছু করা লাগবে।”
“কি করবো ওকে বাড়ি থেকে তুলে আনবো?”
“হ্যা আনা যাবে।”
“কিভাবে?”
“নিশান যখন বাড়ি থাকবেনা। তখন আনতে হবে।”
আরা একটু হাসি মুখ করে বললো,
“Yes ও যখন থাকবে না তখন আমি বডিগার্ড সামলাবো আর তুই সিসিটিভ। আহ কি সুন্দর প্ল্যান কাজে লেগে পড়তে হবে। তুই কিছু ইনফরমেশন কালেকশন কর। আর আমি ভাবতে লাগছি বডিগার্ড কিভাবে সামাল দেবো।”
“ওকে ম্যাম।”
বলে এসিস্টেন্টটি নিজের মতো কাজ করতে লাগলো। সাথে আরা ও।
রাত একটা বেজে দুই মিনিট নিশান সিমিকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমের ভিতরে ঢুকলো। ঝর্ণার নিচে দার করিয়ে সিমির উপরে পানি ছাড়তেই সিমি ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকে নিলো নিশানকে জোরে আঁকড়ে ধরলো। নিশান কিছু বললো না সিমিকে গোসল করিয়ে নিজেও গোসল করে নিলো। এরপর ওকে কোলে করে রুমে আনলো সোফার উপরে বসিয়ে আলমারি থেকে নিজের একটা শার্ট এনে সিমিকে পরিয়ে দিলো। নিজেও একটা টাউজার আর টিশার্ট পরে নিলো। বেডের উপরে থাকা বিছানার চাদর তুলে অন্য একটা বিছিয়ে দিলো। সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে বেডে নিয়ে শুয়ে পড়লো লাইট অফ করে দিলো। সিমির হুস নেই তার হাতের আর ঘাড়ের কাটা জায়গার ব্যাথা বাড়ছে। সাথে পুরো শরীর ব্যাথায় টনটন করছে। চোখ খুলে তাকানোর মতো শক্তি তার নেই। নিশান সিমিকে নিজের বুকের মাঝে নিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বললো,
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬৩ (২)
“ঘুমিয়ে পড় জানবাচ্চা। তোকে এইভাবে ব্যাথায় জর্জরিত করতে চাইনি আমি। তবে তুই আমাকে বাধ্য করেছিস। এখন ঘুমা আমার বুকে নিশ্চিন্তে।”
নিশানের কথাগুলো সিমির কানে গেলো না। সে নিশানের বুকে বিড়াল ছানার মতো গটো হয়ে শুয়ে কাঁপতে লাগলো। নিশান শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমের রাজ্যে হারাতে লাগলো।
