Home My Husband My Husband part 23+24

My Husband part 23+24

My Husband part 23+24
সামহা সামি

পুড়ো রুম জুড়ে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে; দুটো মানুষের ভারী শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে, দীর্ঘ ২৫মিনিট ২৫সেকেন্ড,সময় ধরে! আনেয়ার ঠোঁটে রাজত্ব চালিয়ে ছেড়ে দেয় , ছাড়া পেয়ে আনেয়া বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিচ্ছে,যার ধরুন আনেয়ার উঠা নামা,বুক প্রহেল কে, বড্ড কাছে টানছে! প্রহেল শুকনো ঢুক গিলে! আনেয়ার মাথায় চুমু খেতে বলে?

“_: আমাকে অবিশ্বাস করো না জান কোন পরিস্থিতিতে! তুমি ছাড়া গোটা একটা দুনিয়া আমার জন্য অভিশাপ্ত?
“পূর্ব আকাশে সূর্যটা লাজুক হাসি নিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। রাতের অন্ধকার ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল।“নরম রোদের ছোঁয়ায় সকালটা ধীরে ধীরে জেগে উঠল। শিশির ভেজা ঘাসে আলো ঝিলমিল করছিল। পাখিদের ডাক যেন নতুন দিনের গল্প শোনাচ্ছিল? সকাল ৪:৩০ ,বসার ঘরে সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়ছে, রফিক সাহেব এটা তাঁর নিত্যদিনের কাজ! নাজমা বেগম উরনাতে হাত মুছতে মুছতে, রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে! রফিক সাহেব স্ত্রীর দিকে আর চোখে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নেয়! নাজমা বেগম ইনিয়ে বিনিয়ে বলে?

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“_ শুনছেন নতুন জামাই বাড়িতে আসছে, ভালো মন্দ কিছু তো রান্না করা লাগবে! ফ্রিজে পড়ে থাকা বাষি কিছু তো আর খাওয়া তে পারবো না?
রফিক সাহেব চশমা টা আর একটু ঠেলে, বিরত ভঙ্গিতে বলে?
‘_ ওই ছেলে আমার বাড়িতে মানে! ওই ছেলের জামাই আদর বেড় করবো আমি! ডাকো ওই অপদার্থ ছেলেকে?
নাজমা বেগম মুখ খুলবে তখনি বসার ঘরে আগমন ঘটে প্রহেল: চুল ছুঁয়ে পানি পড়ছে,পরণে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট,ব্যাক টি সার্ট, জিম করা সুঠাম দেহে আসটে পিসটে লেগে আছে সার্ট, এক হাতের সাহায্যে চুল থেকে পানি ছাড়তে ছাড়তে,সোফার উপর বসে! পাশ থেকে আপেল নিয়ে,ছোট করে ব্রাইট দিয়ে চিবুতে চিবুতে বলে?

__” রিল্যাক্স শশুর আব্বু,এই বয়সে এতো পেনিক হলে চলবে! আম্মু কিচনে যা আছে তাই রান্না করুন?
নাজমা বেগম কট’মট দৃষ্টিতে রফিক সাহেবের দিকে তাকিয়ে কিচেনে চলে যায়? সাগর আর’মোড়া দিয়ে রিহানের উপর ‘ হাত-পা তুলে দেয়, ঘুমের মধ্যে ভেগাত ঘটায়,রিহান ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে!
___মুরগীর বাপ,তোর রুমে গিয়ে ঘুমা বাপ,গায়ে অন্তত হাত পা তুলে দিছ না বাল?

”রিহু বেবি তোমাকে ছাড়া আমার একা বিছানায় ঘুম আসে না! কাছে আসো আর একটু জরা’জরি করে ঘুমাই?
রিহান বিরক্ত হয়ে,অন্য পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সাগর তো সাগরি! ভোরের দিকে সাগর ঘুমে ঢুলুঢুলু হয়ে রিহানের ব্ল্যাঙ্কেটের ভেতরে ঢুকে ছিল!এটা তাঁর নিত্যদিনের কাজ রিহান ঘুমতেই,রিহানের রুমে চলে আসে”প্রথম প্রথম রিহান রাগলেও এখন সে এই হতচ্ছাড়ার কাজে অভ্যস্ত হয়ে গেছে! গোটা কত দিন পেড়িয়ে আজ ইয়াং বের হয়েছে, ওভার কুট দিয়ে পুড়ো শরীর ঢাকা,চোখ দুটো ছাড়া ,আর কিছু দেখা যায় না, তাঁর এখান থেকে শরহ কিছু টা নয় বেশ দুরে! ফোন বেজে উঠায় পকেট থেকে ফোন বের করে রিসিভ করে বলে!

_-‘ সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে এবার আর কোন ঝামেলা যেনো না হয়,আমি কাল আসবো, আর আশে’পাশে সব জায়গায় আমাদের লোক লাগিয়ে দেও!
‘_ ইয়েস বস!
ফোন কেটে দেয় ইয়াং, শত্রু শত্রু খেলা এবার পিছ থেকে নয় সামনে থেকে খেলবে সে! বিদঘুটে চেহারা বানিয়ে হাসে ইয়াং! রফিক সাহেব তেরি খি মেজাজে প্রহেল কে বলে!
__”দুনিয়াতে কি আর মেয়ে পাউনি , বেয়াদব ছেলে,আমার মেয়ের থেকে দূরে থাকবে ?
প্রহেল ক্ষুদ্র হাসে ,এই হাসিতে মায়া নেই,নেই কোনো আবেগ,কেমন কটাক্ষ হাসি, দ্বিতীয়বারের মতো আপেলে ব্রাইট দিয়ে বলে?

__”মেয়েকে জামাই ছাড়া রাখলে নানা ডাক শুনতে পারবেন কি-না সন্দেহ শশুর আব্বু! তাঁর চেয়ে ও বড় কথা আপনার মেয়েটা না আমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না? সো আপনার এই ইচ্ছে টা অপর্ণয় রয়ে গেল, সো সেড তাই না?
রফিক সাহেব তেতে উঠলেন, প্রহেল হেলেদুলে রুমে চলে যায়! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছে আনেয়া! যার কারনে পেটের কাছ থেকে কিছু টা কাপড় সরে যায়! প্রহেল রুমে ঢুকার সাথে সাথে তাঁর ছোট ফ্লাওয়ারছর ! এমন মোহনীয় রুপ দেখে থমকে যায় “তাঁর নিঃশ্বাসের গতি ক্রমাগন্ত বেড়ে চলেছে! হাত দিয়ে বুক ঘষতে ঘষতে আনেয়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ গুঁজে দেয়! হঠাৎ স্পর্শে কেঁপে উঠে আনেয়া! উন্মাদনা একটা অনুভুতি হচ্ছে তাঁর, প্রহেল ঘাড়ে নাক ঘষে বলে!

‘_শাড়ি পড়েছো ফ্লাওয়ার!
_-হুম –
_” আমার জন্য নাকি কোনো কারণে?
গেলো, গেলো ,সব গেলো এতক্ষনে পরিচিত অনুভূতি সরে একটা তিরিক্ষি মেজাজে পরিনিত হলো, আনেয়া প্রহেলের বুকে,হাতের কনুই দিয়ে গুঁতা মেরে বলে?
“আপনার জন্য কোন দুঃখে শাড়ি পড়তে যাবো! পাশের বাড়ির রহিম আজ আসবে উনাকে দেখাতে পড়েছি সুন্দর লাগছে না, অসহ্য লোক ।
প্রহেল হাসে সে তো একটু বাজিয়ে দেখতে চেয়েছিলো আর এই মেয়ে তো এক ছক্কাই তুরি মেরে দিল! ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল সেট করছে রিহান,সাগর উঁকি ঝুঁকি দিয়ে রুমে ঢুকে! রিহান কে নতুন জামাইয়ের মত রেডি হতে দেখে সাগর ভ্রু যুগল কুঁচকে বলে?

“_ রিহু বেবি তুমি কি শশুর বাড়ি যাচ্ছো নাকি হানিমুনে যাচ্ছো?
রিহান চুলে হাত চালিয়ে উত্তর দেয়?
“_ মুরগীর বাপ তোর বাল ফালাতে যাচ্ছি,নিচে চল আকামা!সাগর বুতা মুখ করে নিচে নেমে আসে, তাঁর ভালো কাজের দাম নেই এই কথা সে এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে! প্রহেল আনেয়াকে ছেড়ে দু’কদম পিছিয়ে,বুকে হাত গুযে,পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে,আজ আনেয়া কালো পাড়ের জর্জেট শাড়ি পড়েছে,আদ ভেজা কমড় প্রজন্ত চুল, ঠোঁটে লাল টকটকে লিপস্টিক ,দু’হাত বড়তি রেশমী কালো চুরি! প্রহেল শুকনো ঢুক গিলে আমতা আমতা করে বলে!

“_ তুমি কি ঠিক করেই নিছো,আমাকে ঠিক থাকতে দিবে না?
আনেয়া শাড়ি ঠিক করতে করতে উত্তর দেয়!
“_ আমি তো দেখতে পাচ্ছি আপনি ঠিকই আছেন, অসুস্থ,তো মনে হচ্ছে না!
__”কাছে না আসলে চেক করবে কি ভাবে জান,আমার ভেতরে সব পুড়ে যাচ্ছে?
_”আপনি একটু কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থাকেন আমি আরো গরম পানি নিয়ে আসছি!
প্রহেল মুখ খানা চুপসে যাওয়া মত উপক্রম,ইনিয়ে’বিনিয়ে বলে!

_ পানি না মাই লেডি তুমি হলেই চলবে বিকজ ইউ আর মাই সেলফ ,কাছে আসো একটু লেডি?
আনেয়া হুড়মুড়িয়ে পিছনে চলে যায়, তারা হুরো কন্ঠে বলে?
এই না আমি এখন নিচে যাবো দেখি সরুন?
প্রহেল কাঁদো কাঁদো গলায় বলে।
“_ মাই লেডি একটা তোমার ওই লাল টকটকে ঠোঁটে একটা চুমু খাবো?
!এই না একদমি না দেখি,যেতে দেন.?
“_ মুখ পুড়া শশুরের মেয়ে একটা চুমু খাবো বেশি না! দিয়ে যা বউ,একটা চুমু?
_আনেয়া রুম থেকে বের হতে নিবে কিন্তু প্রহেল তা দেখে পিছন থেকে আনেয়ার হাত খপ করে চেপে ধরে, চোখ মেরে কিছু বলতে না দিয়ে, ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে! দিরে দিরে আনেয়ার শরীরের সম্পূর্ণ ভার নিজের উপর নিতে থাকে!

আনেয়া ছোটার জন্য মুচরামুছি করতে দেখে, ঠোঁট কামড় বসিয়ে ছেড়ে দেয়! আনেয়া ছাড়া পেয়ে, কামড় দেওয়া জায়গায় হাত দিতে রাগি চোখে তাকিয়ে, ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে?
_অসভ্য লোক, কামড়াকামড়ি ছাড়া কিছু করতে পারেন না! বিরক্তিকর লোক,আমার থেকে দূরে থাকবেন?
“গড়’গড় করে কথা গুলো বলে থামে আনেয়া! ঠোঁটের কোন থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে! তা দেখে প্রহেলের মূখটা চুপসে যায়! আমতা আমতা করে বলে?

“ছোট ফ্লাওয়ার আমি ইচ্ছে করে করিনি তো! আসলে কি ভাবে যে এটা হলো আমি সত্যি বলছি জানি না?
প্রহেলের ইনোসেন্ট ফেস দেখে! আনেয়া রাগে কট’মট দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়? রিহান,সাগর, অনেক রকমের মিষ্টি,ফল ও চকলেট আইসক্রিম নিয়ে,আনেয়াদের বাড়ির সামনে,গাড়ি পার্কিং করে নেমে আসে! কয় একজন গার্ড মিলে, ওদের সাথে আনা জিনিস বাসার ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে! রিহান সাগর,বাড়ির আশেপাশে চোখ বুলাচ্ছে! প্রহেলের বাড়ির মত এতো বড় না হলেও, মোটামুটি বড়,এক সাইডে, নানান রকমের ফুল লাগানো,সাগরের মুড়িয়ে মুড়িয়ে, হাঁটা দেখে,রিহান কপট রাগ দেখিয়ে বলে?

__”মুরগীর বাপ একটু ভালো করে হাঁট ,কেউ দেখলে কী বলবে?
সাগর মুখ বেঁকিয়ে উঠে,হু মানুষ কি বললো না বললো এতে তাঁর কি! কোনরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বলে?
কি আর বলবে,বলবে দেখ ওই বাড়িতে কি হ্যান্ডসাম, ড্যাসিং ,গোলাপি একটা ছেলে আসছে?
রিহান সাগরের কথা শুনে হেসে দেয়! নিজেকে সামলিয়ে,ফোন আসায় রিসিভ করতে করতে বলে!
-তোকে দেখলে কেউ ড্যাসিং গোলাপি বলবে না আমি গ্যারান্টি! তবে পুয়াদি মুরগীর বাপ বলবে এটা সিউর? বলতে পারি?
সাগর তেতে উঠে, আজব সে কি এতোটাই দেখতে খারাপ নাকি”আজের যূগে তাঁর মত এতো ভালো মানুষ আছে নাকি! আনমনে,কথা গুলো সুধাতে সুধাতে “হাঁটতে থাকে সাগর,।

__”ওরে আমার কোমড় টা গেলো রে কোন হালায় রে?
হাঁটতে ,হাঁটতে কারো সাথে ধাক্কা লাগায় দু’জনেই নিচে পড়ে যায়, অচেনা মেয়েটির চেঁচিয়ে উঠায়,সাগর উঠে কমড়ে হাত বুলাতে বুলাতে বলে?
__”কানা আম্মা দিলেন তো আমার, নিষ্পাপ কমড়টা ভেঙ্গে চুরে, এখন আমার বাচ্চা’গাচ্ছাদের কি হবে! আপনাকে আমি ফাঁসিতে ঝুলাবো?
পড়ে থাকা মেয়েটি কোনরকমে উঠে দাঁড়ায় “ভয় পাওয়ার বদলে উল্টে, কট’মট দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে?

“_ আব্বে চক্ষু’মুইড়া শালা , কথা সামলিয়ে বল, জায়গা মত ভেঙ্গে হাতে ধরিয়ে দিবো শালা?
মেয়েটির কথায় আহাম্মক বনে গেছে সাগর, এই টুকু একটা মেয়ে অথচ কথার কি ধাপ! রিহান কল কেটে এগিয়ে এসে কিছু বলবে, তাঁর আগে মেয়েটি মুখ ঝামটা মেরে চলে যায়! রিহান মেয়েটির যাওয়ার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বলে?
_” মুরগীর বাপ কে’রে এই মেয়ে!
“_নজর দিছ না রিহু বেবি,এই কানা আম্মা শুধু আমার?
বলেই হেঁটে চলে যায়,রিহানের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব! কি হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না! সামি ড্রয়িং রুমে আসতে আনেয়া,হাতে রাখা পোলাওয়ের বাটি টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে?

__ কি হয়েছে সামু ব্লগের নীতিমালার মত নাক ফুলিয়ে আছিস কেনো?
সামি নাক কুঁচকে, বিরক্ত মুখে বলে?
“আপু তোমাদের বাড়িতে চক্ষু’মুইড়া একটা শালা আসছে?
আনেয়া না বুঝে আবারো জিজ্ঞেস করে?
“চক্ষু’মুইড়া এটা আবার কেমন নাম আর এই ‘চক্ষু’মুইড়া টা কে?
“আসসালামু আলাইকুম মেম! আশা করছি আপনি আমার সালাম নিবেন?
কিছু বলার আগে কারো কথা শুনে, দরজার দিকে তাকায়,সাগর কে দেখে বলে?

My Husband part 21+22

“_ ওয়ালাইকুমুস আসলাম ভাইয়া, ভেতরে আসুন?
সামি নামের মেয়েটি আর’চোখে তাকিয়ে ,চলে যায়,সাগর তাঁর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে?
“_ আল্লাহ আপনাকে বাচিয়ে রাখুক,কার কপালে সনি ‘কার কপালে সনি ‘ তা কেউ যানে না!
আনেয়া ভ্যাবলাকান্তের মত তাকিয়ে আছে,এটা কি গান বললো,নাকি কবিতা? প্রহেল রুম থেকে বেরিয়ে নিচে আসে, আনেয়ার ফুলে যাওয়া ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে,চোখ মারে! আনেয়া কট’মট করতে থাকে! প্রহেল চোখের ইশারায় বুঝাতে চাচ্ছে?
“_ মাই লেডি রুমে চলো”সোনা আমার প্রেম প্রেম ফিলিংস আসছে?

My Husband part 25+26