My Husband part 25+26
সামহা সামি
” আনেয়া কাঁপা কাঁপা হাতে, প্রহেলের গলার কাছে অংশ খামচে ধরে! আনেয়া দিরে দিরে উত্তেজিত হয়ে উঠছে,তা দেখে প্রহেল, তৃপ্তিময় চোখে তাকায়, কপালে আসা চুল গুলো ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়! বিছানায় আনেয়াকে সুয়ে নিজের শরীরের বাড়,আনেয়ার ছোট শরীরটা উপর ছেড়ে দেয়,গলায় মুখ ডুবিয়ে কিস করতে থাকে! বেসামাল হয়ে আনেয়াও প্রহেলের গুছানো চুল গুলো এলোমেলো হাতে, চুল খামচে ধরে আছে? প্রহেল গলা থেকে মুখ তুলে কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিস’ফিস করে বলে?
__ ব্যাথায়, ব্যাথা পেলেও কিন্তু কোথাও না কোথাও একটা সুখ সুখ, অনুভূতি হয়,তাই সুখের কাধারে এই ব্যাথা টুকুও নিও মাই লেডি?
বলে ডুবে যেতে থাকে, প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর উত্তাবে ,এখানে নেই কোনো,মোহরের লেনা’দেনা ,নেই কোনো দোটানা আছে বলতে কেবল অসীম এক’বুক ভালোবাসা! সাগর রিহান, বাসা থেকে বেরিয়ে লংরাইডে, বেরিয়েছে! দিনের ব্যস্ত শহরে রাত নেমে এলে,রাতের দৃশ্যটা চোখ ধাঁধানো সুন্দরজো নিয়ে ফুটে ওঠে,যেনো সে বলতে চায়!
‘দিন তোমাদের হোক, এই ব্যস্ত কোলাহল গর্জে উঠা শহর তোমাদের হোক দিন শেষে এই শান্তিপূর্ণ ঘন্নো আঁধার রাত,আমার নামে হয়ে থাকুক?
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
আজ বাহিরে প্রচন্ড গতিতে বাতাস বইছে,হয়তো যেকোনো সময় বৃষ্টি নামবে,বলতে বলতে কেমন,ঝির’ঝির করে ফোঁটা পড়ছে,সাগর রিহান বাইকের স্প্রিট বারিয়ে দেয়,একটা সময় ঝর’ঝর করে বৃষ্টি পড়ছে,সাগরের আজ কেনো জানি,এই মুহূর্তে একটা গান গাইতে ইচ্ছে হলো, ইচ্ছে কে প্রাধান্য দিয়ে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠে?
” তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে?
” তুমি বৃষ্টি হয়ে নামলে?
” আর কমলো চিন্তা আমার?
” আমি তোমার কাছেই রাখবো?
” আজ মনের কথা হাজার?
রিহান যেনো আজ’একটু অবাক হলো,গান শুনে,কেনো না,সাগর কখনো এই টাইপের গান বলেনি,তাহলে আজ,রিহান বাইকের স্প্রিট সাগরের কাছাকাছি এনে, প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে?
_” প্রমে পড়েছিস কারো?
সাগর ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে, নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, স্মিত হেসে বলে?
__” হঠাৎ এই প্রশ্ন?
__ তাহলে মুরগীর বাপের কন্ঠে এমন রোমান্টিক গান?
সাগর ভাব নিয়ে বলে!
__ মুরগীর বাপ সব পারে তবে,এটা সিউর হয়ে থাকো,রিহু বেবি কে ছেড়ে,সাগর নতুন, কান্না আম্মার কাছে যাবে না?
___” তুই কান্না আম্মা কোথায় ফেলি?
___” ওমা সে কি কথা রিহু বেবি,তোমার পাছার নিচ থেকেই তো পেলাম?
” রিহানের সিরিয়াস মুখটা,কেমন মুহূর্তে , বিরক্তিতে বড়ে গেলো,আর কিছু বলে না,বাইক চালাতে মনোযোগ দেয়? অন্ধকার বিলাসবহুল বারান্দায় ইজি চেয়ারে, ধোঁয়া উঠা গরম, কফির মগে, কিছুক্ষণ পর পর চুমুক দিচ্ছে! বাহিরের বৃষ্টির মাঝে কোথাও যেনো,আজ নিজেকে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে হলো তাঁর,মগে পড়ে থাকা অবশিষ্ট কফি টুকু এক চুমুকে শেষ করে আন’মনে সুধায়?
__” যানো রক্তকমনী তুমি চলে যাওয়ার পর,কেউ আর আমার পাশে বসে হাত জরিয়ে জিজ্ঞেস করেনি,আমার অপছন্দের কাজটি আবার করলে! আমি ভালো নেই রক্তকমনী আমি ভালো নেই?
“-_ কেউ শুনলো না ইয়াং এর হাহাকার করে উঠা, আর্তনাদ, ফুঁপিয়ে উঠে ইয়াং ! এতো দিনের নিজেকে একটু একটু করে গোড়ে তুলা ইয়াং,এই মুহূর্তে নিজেকে বড্ড অসহায়, অনুভব হচ্ছে? রুমের ভেতরে ভারকি নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে,বাহিরের প্রবল ঝড়ের সাথে, বন্ধ রুমের ভেতর অবস্থান করা দুটি দেহের আনা’দেনা প্রখর থেকে প্রখর হচ্ছে? ঝড় যেনো শুধু,বাহিরে না ভেতরেও তাঁর বহিঃপ্রকাশ ছড়াচ্ছে? প্রহেল অন্তিম মুহূর্তে আনেয়ার ব্যাথা তুর শরীর টা নিজের সাথে জরিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে?
__ ব্যাথা পেয়েছো বেশি,আরো পাবে প্রতি মুহূর্তে পাবে,লিখবো তোমার হাতে আমি আমার মরণ?
আনেয়া শুনলো চোখ বন্ধ করে শুনলো দ্বিতীয়বারের মতো আবারো প্রহেলের উন্মাদ কন্ঠে নিজের জন্য গাওয়া গান শুনলো?
অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের আলো যেগে উঠলো, চার’পাশে কোয়াশা,তবে কোথাও না কোথাও থেকে একটা ফ্রেশ হাওয়া বেশে আসছে, সবুজ ঘাসের মন মুগ্ধকর ঘ্রান, প্রহেলের চোখে মুখে সূর্যের আলো পড়তে, নড়েচড়ে উঠে,দিরে দিরে চোখ খুলে, তাঁর বুকে আনেয়া গুটি’সুটি হয়ে ঘুমিয়ে আছে, প্রহেল কপালে চুমু খেতে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়,ফ্রেশ হতে ওয়াশ রুমে চলে যায়, উন্মুক্ত জিম করা বডিতে ঠান্ডা পানি পড়তে কেমন জ্বলে উঠছে, প্রহেল মিররে নিজেকে দেখে, সাঁড়া পিঠ জুড়ে আনেয়ার দেওয়া ভালোবাসার চিহ্ন,?
প্রহেল ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে আসে কমড়ে সাদা তাওয়াল পেঁচানো , চুলের পানি ছাড়তে ছাড়তে বিছানায় শুইয়ে থাকা আনেয়ার দিকে এগিয়ে যায়, ব্ল্যাঙ্কেটের ভেতরে ঠান্ডা হাত নিয়ে আনেয়ার, উন্মুক্ত পেটে চেপে ধরে, ঠান্ডা কিছুর ছোঁয়া পেয়ে, নড়েচড়ে উঠে,শরীরটা মৃদু কেঁপে ওঠে! প্রহেল নিজের নাক ঘষে আনেয়ার কানের কাছে মুখ এনে লুবাতুর কন্ঠে বলে?
__ গুড মর্নিং মাই লেডি আর কতো ঘুমাবে?
আনেয়া নড়েচড়ে পাশ ফিরে প্রহেলের হাত বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে?
___ উম আমার ঘুম পাচ্ছে রাতে আপনার জন্য ঠিক করে ঘুমতে পারিনি?
প্রহেল হাসে আর একটু নিজের সাথে জরিয়ে বলে?
__ পড়ে পড়ে ঘুমালে কি,আমার প্রিন্সেস আসবে,তাই প্রিন্সেস কে আনার মিশনে নেমেছি লোড বেশি হবে,তবে চিন্তা নেই?
আনেয়া লজ্জায় প্রহেলের বাহুতে দাঁত বসিয়ে দেয়,চোখ খিচে ব্যাথা’টুকু হজম করে প্রহেল, দুষ্টুমি মাখানো কন্ঠে বলে?
__ আমি গোসল করে আসছি জান, তুমি যদি চাও তো এখন আবার মিশনে নামতে পারি,ইউর চয়েস?
__” আনেয়া বুঝলো এই লোকের সামনে থাকলে এখন তাঁর মরি মরি অবস্থা করে দিবে? উঠে ওয়াশ রুমে চলে যায়,রিহান সাগর,ঘুম থেকে উঠে শেই কখন থেকে প্রহেলের জন্য অপেক্ষা করছে,বেচারা এই সাত সকালে কন’কনে শীতের মধ্যে বসে বসে ফ্রিজ হচ্ছে! সাগর দুই হাত একত্রিত করে বলে?
__” রিহু বেবি তোমার শশুর থুক্কু তোমার বস এখনো আসছে না কেনো?
রিহান আরমোড়া দেওয়া মতো বান করে বলে?
___ কেন না বেবি তোমার ঝুলতে থাকা তিন আন্ডার গোডাউন বানানোর প্রস্তুতি নিয়ে নামছে তাই?
সাগর রিহানের বাঁকা হাসির তিন আন্ডার কথা শুনে,নিচের দিকে দুই হাতে ঢেকে বসে,রিহান হেঁসে গড়াগড়ি খাচ্ছে, প্রহেল সিঁড়ি দিয়ে নামছে,এতো হাঁসি দেখে কপাল কুঁচকে আসে, প্রহেল আসতে রিহান সাগর স্বাভাবিক হয়ে বসলেও সাগরের হাত প্যান্টের নিচে চেপে ধরে, প্রহেল নিচ থেকে উপর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে বলে?
__” সাগর কি সমস্যা তোর নিচে হাত দিয়ে বসে আছিস কেনো?
সাগর থতমত খেয়ে যায়,কি বলবে এখন, জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বোকা বোকা হেঁসে বলে?
_” আসলে বস এমনি তেমন কিছু না ঠিক আছে?
__” আরে মুরগীর বাপ তুই কোথায় ঠিক আছিস,থাক আর লজ্জা পেতে হবে না আমি বলছি,আসলে বস আমাদের মুরগীরের বাপের নিচের তিন আন্ডা নড়ে গেছে?
_” প্রহেল রিহানের কথার মানে না বুঝে জিজ্ঞেস করে?
__” হোয়াট ননসেন্স তিন আন্ডা নড়ে গেছে মানে?
রিহান বুঝানোর সুরে বলে?
“_- মানে বস,মাঝ খানে কলা দুই পাশে ঝুলন্ত কমলা এটার কথাই বলছি আর কি?👀)
প্রহেল কিছু বলবে তাঁর আগে, সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকা আনেয়া কেসে উঠে,রিহান অস্বস্তিতে পড়ে যায়,কি বলতে গিয়ে কি বলে ফেলেছে, তাঁর উপর আবার বসের বউ এখানে ! প্রহেল আনেয়ার কে কাসতে দেখে উঠে গিয়ে, আলেয়াকে ধরে সোফায় বসিয়ে পানি দেয়,ডক’ডক করে পুড়ো পানি শেষ করে রিহানের দিকে তাকায়! রিহান লজ্জা পেয়ে চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেয়? খাবার টেবিলে বসে আছে সবাই,মেড খাবার বেরে দিতে চাইলে আনেয়া নিজে বেরে,দিবে বলে মেড চলে যায়, প্রহেল খাওয়ার মাঝে আনেয়ার দিকে ঝুঁকে এসে বলে?
__” জান ফাঁক করো আমি টুকাছি, ছোট্ট করে দিবো?
আনেয়া চোখ বড়ো বড়ো করে বলে?
___ নাউজুবিল্লাহ পাশে লোক আছে, নির্লজ্জ লোক?
__ আজব আমি কি খারাপ কিছু বলছি নাকি, তুমি হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি?
নিজের করা কাজে নিজেই থতমত খেয়ে যায় আনেয়া, বারান্দার গ্ৰিলে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে আছে ইয়াং কাল রাতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পারেনি? সূর্যের আলো চোখে পড়ায় বিধায় উঠে বসে! ফ্রেশ হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে তাঁর এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে! নাজমা বেগম ফুরফুরে মেজাজে কাজ করছে,এতো সোনার টুকরো একটা মেয়ের জামাই পেলে জিবনে আর কি লাগে,আজ বাহিরে প্রচন্ড কুয়াশা পড়েছে,আলো তেমন একটা নেই বললেই চলে,ঢাকা শহরে বসেও ইউরোপ কান্ট্রির ডিউ পাওয়া যাচ্ছে ,সাগর রিহান বাইকের উপড়ে চরে বসে, অফিস যাবে, তাঁর পর প্রহেলের সাথে কোন জায়গায় নাকি যাবে,সাগর বাইকে উঠে বাইকে স্টার্ট করে কাঁপতে কাঁপতে বলে?
মাঘ মাসিয়া শীত পড়ে?
সরসরেয়া হাওয়া চলে?
তিন দিন থাকি গাঁও না ধুং
৯টার আগে ঘুম থাকি না উঠুন?
ঠান্ডা গা ধুবু?
উম ঠান্ডা হাত ঠ্যাং ধুবু?
বোকা বোকা চোখে তাকিয়ে আছে রিহান কথা টা তিতা হলেও বাস্তব এই শীতের মধ্যে হাত ধুতে গেলে আইজ হয়ে বেরিয়ে আসে , প্রহেল অফিসের ড্রেস পরে একবারে রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে,আনেয়া আমতা আমতা করে বলে?
__” বলছি কি একটু আগে আগে অফিস থেকে আসলে ভালো হয় না?
প্রহেল চোখ মারে, ঠোঁট কামড়ে বলে?
_” খাওয়ানোর খুব তাড়া দেখছি,জান?
“_ অসভ্য লোক আপনি জান?
“_ শুধু গেলে তো আর হবে না আমার সিক্রেট মিষ্টি টা খাইয়ে দেও,
আনেয়া ভাবুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে?
“_ সিক্রেট মিষ্টি আবার কি?
“_ কাছে আসো আমি দেখিয়ে দিচ্ছি?
বলেই নিজে দু’কদম হেঁটে আনেয়ার সামনে গিয়ে গারের পিছন থেকে ধরে, কম্পিত ঠোঁট ঠোঁট চেপে ধরে,
হঠাৎ আক্রমণে কিছু বুঝে উঠতে পারে না,পর মুহূর্তে নিজেও রেসপন্স করতে থাকে,বেশ সময় নিয়ে কিস করে ছেঁড়ে দেয় প্রহেল ঠোঁট মুছে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলে?
My Husband part 23+24
‘_ আপাতত এতটুকু জান বাকি ড্রোজ রাতে দিবো, নিজেকে একটু ফিট করে নেউ আসছি আমি?
বলেই বেরিয়ে যায়, প্রহেল গাড়ি চালাতে চালাতে বেশ অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছে একটা গাড়ি তাকে ফলো করছে, প্রহেল ফোন বের করে কাউকে কিছু টাইপিং করে সিন করছে ,একটি নির্জন জায়গায় আসতে হঠাৎ পিছন থেকে সেই গাড়িটি উল্টে খাদে পড়ে দাউ’দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে?
