না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮ (৪)
মাইশা জান্নাত নূরা
নির্ঝর অনুর দিকে তাকাতেই দেখলো অনু নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বারান্দার বেলকনির রেলিং ধরে দৃষ্টি ড্রয়িংরুমে দিকেই স্থির হয়তো। নির্ঝর অনুর পাশে এসে দাঁড়ালো পর্যাপ্ত পরিমাণ দূরত্ব রেখে। অতঃপর নির্ঝর জানতে চাইলো….
—”এখানে দাঁড়িয়ে গেলেন যে? আর ঘুরে দেখবেন না? আপনার দেখার জন্য আসল চমক তো ছাদে অপেক্ষা করছে।”
অনু নির্ঝরের দিকে না তাকিয়েই বললো….
—”মি*থ্যা ও মি*থ্যা*বাদীদের আমি ঘৃ*ণা করি।”
নির্ঝর কিছু বলতে নিবে তার পূর্বেই অনু স্থান ত্যগ করার উদ্দেশ্যে উল্টোদিকে পা বাড়াতে নিতেই ওর মাথা ঘুরে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে নির্ঝর অনুর দু’কাঁধ ধরে ওকে পরে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে নিলো। অনু নির্ঝরের দিকে একপলক তাকিয়েই দু’চোখ বুঁজে নিজ শরীরের ভার নির্ঝরের উপরেই ছেড়ে দিলো। নির্ঝরের চোখেমুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠলো। নির্ঝর অনুকে ডাকতে ডাকতে বললো….
—”অনু! অনু শুনছেন! কি হলো আপনার? অনু!”
নির্ঝরের বুঝতে বাকি রইলো না অনু সেন্সলেস হয়ে গিয়েছে। নির্ঝর আর কোনো সংকোচ না করে অনুকে পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে সেখানেই একটা রুমে ওকে শুইয়ে দিলো। নির্ঝরের স্মরণ হলো ইলমা আর তেজ বাহিরে যাওয়ার সময় ইলমা ওকে বলেছিলো যে, ‘অনু শরীর ভালো না। সকালে খুব জ্বরও এসেছিলো ওর।’ নির্ঝর অনুর কপালের উপর হাত রাখার সাথে সাথেই তা সরিয়ে নিয়ে বললো….
—”এ’কি জ্বরে তো ওনার শরীর মনে হচ্ছে পুড়ে যাচ্ছে। কি করবো এখন আমি? তেজ ভাইকে কল করবো! না, না ওরা তো গেলোই একটু আগে। যে কাজে গিয়েছে সেই কাজটা শেষ হয়েছে বলে মনে হয় না। তাই আমাকেই কিছু করতে হবে। আমি বরং জ্বলপট্টি দিয়ে দেই আর ডাক্তার আঙ্কেলকে কল করে আসার জন্য বলে দেই।”
এই বলে নির্ঝর রুম থেকে বেড়িয়ে বাটি ও পরিষ্কার নরম কাপড় নেওয়ার জন্য সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে থেমে গিয়ে বললো…..
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
—”ডাক্তার আঙ্কেল আসার পর যদি জিজ্ঞেস করেন অনু কে? ওনার সাথে আমার সম্পর্ক কি? এই ফাঁকা বাড়িতে আমরা দু’জন একা কি করছিলাম? তখন কি বলবো?”
এগুলো ভাবতে ভাবতেই নির্ঝর দাঁত দিয়ে ওর নখ কাঁ*টতে কাঁ*টতে আবারও বললো…..
—”সে তখনই ভেবে দেখবো কি বলা যাবে ওনাকে। এখন এসব ভেবে পেনিকে পরা যাবে না। আগে অনুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে আমাকে ঘরোয়া পদ্ধতি ওনার উপর প্রয়োগ করতে হবে।”
নির্ঝর সরাসরি রান্নাঘরে এসে বাটি ও পরিষ্কার কাপড় নিয়ে আবারও অনুর কাছে চলে এলো। অনুর মাথার পাশে বসে বেডসাইড টেবিলের উপর রাখা পানির বোতল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বাটিতে ঢেলে নিয়ে অনুর মাথায় জলপট্টি দিয়ে দিতে শুরু করলো। পরপরই নির্ঝর কল করে ওদের পারিবারিক ডাক্তারকে আসতেও বলে দিলো।
ইলমা তেজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো….
—”চলুন, ঐ সাইডটাতে বসি। নিরিবিলি থাকে সবসময়।”
তেজ নাহিদের দিকে তাকিয়ে থেকেই বললো….
—”হুম চলুন।”
অতঃপর ওরা দু’জন সেখানে গিয়ে বসলো। তেজ শান্ত কন্ঠে বললো….
—”ভিতরে যে ছেলেটাকে দেখলাম ওনার সাথে আপনি ফ্রী কেমন?”
ইলমা ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”ফ্রী মানে?”
—”মানে কাজের সময় কথাবার্তা কেমন বলা হয়!”
ইলমা নাক ছিঁটকে বললো….
—”উনি কাজ ছাড়া কিছুই বুঝেন না। প্রয়োজনের বেশি দু’টো কথা মুখ দিয়ে বের করেন না। ওনার সাথে ফ্রী হওয়া এ জন্মে হয়তো কারোর পক্ষেই সম্ভব না।”
নাহিদের সম্পর্কে এরূপ কথাগুলো শুনে তেজের ভিতরটা কিছুটা শান্ত হলো। সবকিছুর পরেও এখানে একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যাচ্ছে। ইলমা আবারও বললো….
—”হঠাৎ ওনার বিষয়ে জানার আগ্রহ কেনো জাগলো আপনার জানতে পারি কি?”
তেজ বললো….
—”এমনিই, জানতে চাইলাম। কোনো কারণ নেই।”
—”যাই হোক এখন আসল কথায় আসি।”
—”হুম বলুন। অনুর ব্যপারেই তো কিছু বলতে চেয়েছিলেন।”
—”হুম।”
ইলমা একটু থেমে শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো….
—”অনু আর ৫ জন মেয়ের মতো স্বাভাবিক মেয়ে না তেজ।”
তেজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”স্বাভাবিক না মানে?”
ইলমা অনুর অতীত সম্পর্কে তেজকে অবগত করলো। সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে তেজ যেনো পুরোপুরি ভাবে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। তেজ বললো….
—”এতোটুকু মেয়ে! তাঁর অতীত কিনা এতো ভ*য়ং*কর!”
ইলমা বললো….
—”হুম, যখনই ওর নিজের অতীতের কথা, নিজের মায়ের কথা, নিজের বাবাকে মা*রার কথা স্মরণ হয় তখনই ও কেমন যেনো হয়ে যায়। অনুর হাতে, পায়ে শরীরের এমন অনেক জায়গায় ধাঁ*রা*লো কিছু দিয়ে কাঁ*টার, দাঁত দিয়ে বসানো কাঁ*মড়ের দাগ আছে। অনু আজ সকালেও যখন অস্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলো অতীতকে স্মরণ করে তখন আমি নিজে দেখেছি ও নিজের হাতে নিজেই কাঁ*ম*ড় দিতে নিয়েছিলো। ও বারবার বলছিলো, এমন করলে নাকি ওর শান্তি অনুভব হয়, ভিতরের য*ন্ত্রণা গুলো কমে যায়। এখন আপনিই বলুন ওর জন্য করণীয় কি!”
তেজ চিন্তিত মুখশ্রী নিয়ে বললো….
—”আমাদের যতোদ্রুত সম্ভব অনুকে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে হবে।”
—”সাইকিয়াট্রিস্ট তো মানুষের মানসিক বিভিন্ন সমস্যা হলে তার জন্য চিকিৎসা করেন তাই না?”
—”হুম। আমার একজন বন্ধুই সাইকিয়াট্রিস্ট। তাই ওকে দেখাতে গেলে আলাদা করে এপেয়ন্টমেন্ট নিতে হবে না। আমি আজই ওর সাথে কথা বলে দেখবো। যদি ও দেশে থেকে থাকে তাহলে দুই-এক’এর মধ্যেই অনুকে দেখানো যাবে।”
—”আচ্ছা ঠিক আছে। আর শুনুন।”
—”হুম বলুন।”
—”আমি আপনাকে না জানিয়েই একটা বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। কিন্তু চিন্তা করে দেখতে গেলে আমার একার পক্ষে সেই কাজটা করা সম্ভব হবে না।”
—”কি সিদ্ধান্ত?”
—”অনু ঢাকায় আসার পর থেকে এতোদিন পর্যন্তও একটা গার্মেন্টসে চাকরি করতো। ওর শারিরীক অবস্থা আর ওর মায়ের শেষ ইচ্ছার কথা চিন্তা করে আমি অনুকে বলেছি ওকে আর চাকরি করতে হবে না। আমি ওকে পড়াশোনা করাবো। অনেকদূর পর্যন্ত পড়বে অনু। অনেক সম্মানের ও ভালো একটা জায়গায় নিজেকে দাঁড় করাবে। কিন্তু!”
—”হুম বুঝেছি। চিন্তার কোনো কারণ নেই। অনুকে নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনাকে আমি মন থেকে সম্মান জানাচ্ছি। সত্যিই অনুর যে বয়স তাতে গার্মেন্টস এর মতো জায়গায় পেটের দায়ে ওর চাকরি করাটা বড্ড বেমানান দেখায়। ওর পড়াশোনা করা উচিত। তাই ওর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ আমি বহন করবো। ঠিক আছে?”
—”আমি আপনার সব টাকা আস্তে আস্তে পরিশোধ করে দিবো।”
—”সে না হয় দিবেন ক্ষন। মানা করলো কে?”
—”হুম, মানা করলেও শুনবো না।”
—”জানি আমি।”
ইলমা হালকা হাসলো। তেজ বললো….
—”আপনার কর্মস্থলে আসলাম অথচ নিজ হাতে এককাপ কফি বানিয়ে খাওয়ালেন না! শুধু মুখেই বসিয়ে রেখেছেন!”
—”কফি খাবেন আপনি! এক্ষুণি বানিয়ে আনছি।”
এই বলে ইলমা উঠতে নিলে তেজ ইলমার হাত ধরে আবার সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিয়ে বললো….
—”আরে না, মজা করছিলাম। বসুন আপনি। আমি অর্ডার করে দিচ্ছি। ঐ ছেলেটাই এসে দিয়ে যাবে।”
—”সমস্যা ছিলো আমার বানিয়ে দিতে।”
তেজ বিরবিরিয়ে বললো….
—”আপনার সমস্যা না থাকলেও আমার আছে।”
ইলমা তেজের বলা কথা স্পষ্ট ভাবে শুনতে না পেয়ে বললো….
—”কিছু বললেন?”
—”কই কিছু বলি নি তো। আমি কফির অর্ডারটা দিয়ে আসছি।”
—”আচ্ছা।”
অতঃপর তেজ চলে গেলো অর্ডার দিতে। তেজ আর ইলমা যেখানে বসেছিলো এতোসময় জায়গাটা এই কফিশপের পারসোনাল এড়িয়া। বারান্দার মতো। সামনে কাঁচের দেওয়াল উঠানো রয়েছে। তার ওপাশে আরো বসার স্থান ও একদম সামনে রিসিপশন।
বিকেলের তেজহীন মিষ্টি একটুকরো রোদ জানালার ফাঁক গলে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। ফলসরূপ সাদা পর্দার গাঁয়ে নরম সোনালি আভার ছোঁয়া লেগেছে। বিছানার উপর পাশাপাশি শুয়ে আছে সারফারাজ ও পিহু। পুরো ঘরটাজুড়ে বিরাজ করা নিস্তব্ধতার মাঝে শুধু ওদের দু’জনের ভাড়ি নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে সেকেন্ড পরপর।
পিহু এক পাশ ফিরে শুয়ে আছে। ওড়নাটা অগোছালোভাবে নিজের গায়ে জড়িয়ে রেখেছে। শ্যমরঙা মুখটা হালকা লালচে বর্ন ধারণ করেছে। লজ্জায় চোখ তুলে পাশ ফিরে সারফারাজের দিকে তাকানোর সাহসই পাচ্ছে না যেনো পিহু। আঙুল দিয়ে বিছানার চাদর হালকা ভাঁজ করে তা খুঁটে যাচ্ছে কেবল।
সারফারাজ এক কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে আধশোয়া হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিজের বউয়ের দিকে। ওর ঠোঁটে তৃপ্ত হাসির রেখা ফুটে রয়েছে। কারণ আজ সারফারাজ পরিপূর্ণ ভাবে ওর ভালোবাসার মানুষটিকে পেয়ে গিয়েছে। কিয়ৎক্ষণ পর সারফারাজ নরম স্বরে বললো…..
—“কি গো বউ, আমার সাথে কথা বলবে না? চুপচাপ আর কতোক্ষণ থাকবে?”
পিহু কোনো উত্তর দিলো। সারফারাজের কন্ঠে যতোবারই ও বউ ডাকটা শুনে ততোবারই লজ্জা ও ভালোলাগার মিশ্রণে কুঁকড়ে যায়। পিহুর কানের ডগা পর্যন্ত এই মূহূর্তে হালকা লালচে বর্ন ধারণ করেছে। সারফারাজ পিহুর দিকে ঝুঁকে এসে খুব আলতো করে আঙুল ছুঁইয়ে দিলো পিহুর থুতনিতে। অতঃপর বললো……
—“এইভাবে লজ্জা পেলে যে তোমাকে কতোটা সুন্দর লাগে তা আমার চোখ দিয়ে নিজেকে না দেখা পর্যন্ত বুঝবে না তুমি বউ।”
পিহু সঙ্গে সঙ্গে ওর মুখ ঢেকে ফেললো ওড়নার আঁচল দ্বারা। ক্ষীণ প্রতিবাদী কন্ঠে বললো…
—“আপনি-আপনি একদমই ভালো না।”
সারফারাজ হেসে ফেললো। তৃপ্তি ভরা কন্ঠে বললো….
—“একটু মন্দ হয়ে লস হয় নি একদমই।”
—”লাভ হলো কিভাবে?”
—”এই যে তোমার লজ্জায় রাঙানো লাল টুকটুকে মুখটা দেখার সৌভাগ্য হলো। এটা বুঝি লাভের কাতারে পড়ে না?”
পিহু এবার লজ্জাভাব হালকা কাটিয়ে মুখের উপর থেকে ওড়নাটা একটু সরিয়ে সারফারাজের দিকে তাকিয়ে বললো……
—“আমি-আমি তখন আপনাকে কিছু বলতে চেয়েছিলাম।”
কথাটা বলেই আবার চোখ নামিয়ে নিলো পিহু।
সারফারাজ পিহুর হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে তাতে ঠোঁট ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে বললো…..
—“এখন বলো। আমি শুনছি।”
পিহু ঢোক গিল*লো একবার। সারফারাজ এর প্রতিটি ঠোঁটের ছোঁয়া ওর শরীরে শিহরণ তুলছে। পিহু বললো…..
—“আপনি তো জানেন নীরা আর নির্বাণের কথা।
সেদিনের পর আপনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় নীরার বিষয়ে ভাবার সময় পান নি হয়তো।”
—”সময় পাই নি কে বললো! নীরা আমার ছোট বোন। ওর সাথে যে এতো বড় অ*ন্যায় করেছিলো তাকে মাটি খুঁড়ে হলেও বের করে এনে আমার বোনের সামনে দাঁড় করাবো আমি। বুঝলে!”
এই কথাগুলো বলার সময় সারফারাজের মুখশ্রী জুড়ে খানিকটা কঠোরতার ছাপ ফুটে উঠতে দেখতে পেলো পিহু। পিহু বললো….
—”তা আমি জানি। কিন্তু আমার মাথায় এখন অন্য চিন্তা ঢুকেছে এমপি সাহেব।”
—”কি চিন্তা?”
—”মা, চাচীরা নীরার বিয়ের বিষয়ে চিন্তা করছেন। আমাকে বললেন আমি যেনো নীরাকে বুঝিয়ে বলি। আমি আপাতত অনেক কিছু বলে তাঁদের শান্ত করেছি ঠিকই। কিন্তু খুব বেশিদিন তো এই বিষয়টাকে চাপিয়ে রাখা সম্ভব না। কারণ নীরার তো বিয়ের বয়স হয়েছেই। তাই মা-চাচীদের ওকে নিয়ে চিন্তা করাটাও অস্বাভাবিক নয়।”
পিহু একটু থেমে আবারও বললো….
—”যদি নীরা একা হতো তাহলে আমি সত্যিই ওকে বুঝাতাম বিয়ে করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু আসল চিন্তার বিষয় তো নির্বাণকে নিয়ে। এক কা*পুরুষের করা কু*কর্মের ফল ঐ নিষ্পাপ বাচ্চাটা কতোদিন ভোগ করবে বলুন! নীরাও দেশে এসেছে অনেকদিনই হলো। মা ও সন্তান একে-অপরের থেকে দূরে থেকে কতোদিন ভালো থাকতে পারে! নীরার দিকে একটু গভীর ভাবে লক্ষ্য করলেই আপনি নির্বাণকে ছেড়ে থাকার কষ্টটা ওর চোখে-মুখে স্পষ্ট ফুটে থাকতে দেখতে পারবেন।”
পিহু একবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো….
—”আমি তাই নীরাকে আশ্বাস দিয়েছিলাম নির্বাণকে দেশে আনবো। আর ওকে দেশে আনার পর এ বাড়িতেই রাখবো। কিন্তু সেটা কিভাবে করবো, বাড়ির সবাইকে কিভাবে মেনেজ করবো আমি তা বুঝে উঠতে পারছি না এমপি সাহেব।”
সারফারাজ শোয়া থেকে উঠে বসলো। পিহুও উঠলো। সারফারাজ বেডসাইড টেবিলের উপর থেকে নিজের ফোনটা নিয়ে সরাসরি নীরাকে কল করে বললো…..
—”রুমে আয় এক্ষুণি।”
ওপাশ থেকে জবাব পেয়ে সারফারাজ কল কাটতেই পিহু বললো…..
—”নীরাকে আসতে বললেন?”
—”হুম।”
—”ওও আচ্ছা।”
পরপরই পিহু অবাক চোখে সারফারাজের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”কিহ সত্যি?”
—”হুম, কি হয়েছে?”
—”আরে আমার অবস্থা দেখেছেন আপনি? রুমের অবস্থা দেখেছেন? এখুনি নীরা চলে এসে এমন অবস্থা দেখলে কি ভাববে?”
সারফারাজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”ঠিকই তো আছে। শুধু তোমার চুলগুলো হালকা এলোমেলো হয়ে আছে।”
পিহু চটজলদী বিছানা থেকে নেমে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালো। চিরুনিটা হাতে নিয়ে চুলগুলো চিরুনি করতে করতে বললো….
—”এটাকে একটু বলে? আমায় লজ্জায় ফেলা ছাড়া আর কোনো কাজ আপনার নেই।”
সারফারাজ এতোক্ষণে পিহুর কথার মানে বুঝতে পেরে বাঁকা হেসে বিছানা থেকে নেমে পিহুর কাছে এসে পিছন থেকে ওর পেট জড়িয়ে ধরলো দু’হাতে। পিহু বললো….
—”আরে কি করছেন? ছাড়ুন আমাকে। চুলটা চিরুনি করে নিতে দিন। অগোছালো ভাবটা একটু গোছালো হবে এতে।”
—”আসল লজ্জায় তো পরে পড়তে হবে তোমায়।”
—”মানে?”
—”বাসরের পর গোসল করতে হয়। ফরজ গোসল যাকে বলে। পরে যখন দু’জনে একসাথে গোসল করে নিচে যাবো তখন কি কারোর বোঝার বাকি থাকবে ভেবেছো?”
পিহু পারছে না তো এবার লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে। তখুনি দরজায় নক পড়লো। সারফারাজ পিহুকে ছেড়ে দিলো। পিহু ওর চুলগুলো হাতখোপা করে নিয়ে ওড়না দিয়ে মাথা সহ শরীরটা ভালো ভাবে ঢেকে নিলো। সারফারাজ বিছানায় গিয়ে বসলো। পিহু দরজা খুলতেই নীরাকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো…..
—”ভিতরে এসো নীরা।”
নীরা চোখ ছোট ছোট করে পিহুকে একবার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে নিয়ে ফিসফিস করে বললো….
—”কি ব্যপার ভাবী! একটু কেমন কেমন যেনো দেখাচ্ছে তোমাকে। সব ঠিকঠাক তো?”
পিহু নীরার কাঁধে আলতো করে হাত দিয়ে বা*রি মে*রে বললো….
—”বেশি পেঁকো না তুমি। ভিতরে এসো।”
নীরা হাসলো কেবল। অতঃপর রুমের ভিতরে প্রবেশ করে বললো….
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৮ (৩)
—”বড় ভাইয়া ডাকলে যে! বিশেষ কোনো দরকার?”
সারফারাজ বললো….
—”পিহু, দরজাটা বন্ধ করে দাও।”
পিহু সারফারাজের কথানুযায়ী দরজা বন্ধ করে দিলো। অতঃপর নীরাকে নিয়ে পিহু বিছানায় এসে বসলো।
