দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৫
আনায়া আফরিন
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়েছে।মেহের এসেছে বহুদিন পর।বিয়ের পর তার এ বাড়ির কারোর সাথে আর যোগাযোগ ছিলো না।মামির সাথে একটু কথা হয়েছে কেবল।রুদ্ভিকা,ফারাজ,অধরা সকলেই এসেছে।লিভিং রুমে সকলেই বসে আছে।অনুপস্থিত কেবল দুইজন।আদিল-আনায়া।আনায়া বলেছে সে পরে আসছে।আদিলও একই উত্তর দিয়েছে।সবিতা বেগম আর মিতালি বেগম সকলকে নাস্তা দিয়ে গিয়েছেন।ইরফান সাহেব তাদের সাথে দেখা করে নামাজ পড়তে গিয়েছেন।সবিতা বেগম আর মিতালি বেগম আপাতত রান্নাঘরে।লিভিং রুমে এরিদ এদিক-ওদিক চোখ বুলাচ্ছে।হয়তো কিছু খুজছে।আফরিন ব্যাপারটা লক্ষ্য করলো।ভাইয়ের কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো-
“কাকে খুজছো?”
এরিদ একটু হকচকিয়ে গেলো।আফরিনের দিকে ভ্রু কুচকে বললো-
“আমি কাকে খুজবো?এমনিই দেখছিলাম আরকি!”
আফরিন-“আমাকে অবুঝ মনে করিও না!আমি কিন্তু সব বুঝিইইইই ভাইয়া।”
এরিদ-“বেশি বুঝিস তুই।পে*কে গিয়েছিস অনেক!”
আফরিন-“দেখলে মাই কিছু বললামই না আর তুমি বুঝে গেলে আমি কি ভাবছি তার মানে আমি যা ভেবেছিতুমি তাই ভাবছিলে!”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
এরিদ কিছু বললো না।আফরিন মেহেরকে জিজ্ঞাসা করলো-
“ভাবি রুদ্ভিকা কোথায়?”
মেহের উত্তর দিলো-
“হয়তো উপরে আছে।বা ছাদে।”
আফরিন-“আচ্ছা আমি একটু ওর কাছে যাই!”
মেহের-“সাবধানে যেও”
আফরিন মুচকি হেসে ছাদের দিকে গেলো।মেহের হয়তো ছাদেই।যাওয়ার পথেই সে যখন বের হলো তখন অপর ফ্ল্যাটের দিকে তাকালো।অবাক লাগলো তার বড্ড।রোগী আর রোগীর ভাই কেউই এখন পর্যন্ত বের হয়নি।আফরিন ছাদে গিয়ে দেখলো রুদ্ভিকা একা দাঁড়িয়ে আছে।আফরিন পিছন দিক দিয়ে ডাকলো।রুদ্ভিকা পিছনে ফিরলো।আফরিনকে দেখে হেসে বললো-
“আরেহ আফরিন আপু?কেমন আছো?কখন এলে?”
আফরিনও মুখে হাসি বজায় রেখে বললো-
“এইতো আছি।কিছুক্ষণ আগেই এসেছি।তোমাদের তো কারোর খবরই নেই!”
রুদ্ভিকা-“আমি এমনিই একটু বাতাসের জন্য ছাদে এসেছিলাম।”
আফরিন-“তুমি বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছো শান্তিতে।আর নিচে তোমাকে দেখার জন্য একজনের দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে”
রুদ্ভিকা ভ্রু কুচকে বললো-
“বুঝলাম না”
আফরিন প্রসঙ্গ বদলাতে বললো-
“আরেহ আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো,চলো নিচে যাই!”
রুদ্ভিকা-“আরেকটু থাকি হ্যাঁ?”
আফরিন-“আমি সঙ্গে থাকি?”
রুদ্ভিকা-“অবশ্যই”
তারপর নিস্তব্ধতা।বাতাস বইছে ঠান্ডা।রুদ্ভিকা হঠাৎ করেই জিজ্ঞাসা করলো-
“ঠিক আছো তুমি?”
আফরিন চোখ নামালো।মেয়েটা কি বিচক্ষণ।তার চোখ কি পড়তে পারছে রুদ্ভিকা?আফরিন চোখ নামিয়ে রাখলো।কিছু বললো না।গলা কাপছে তার।রুদ্ভিকা বললো-
“প্রিয় মানুষের আসল রুপের মুখোমুখি হওয়া ঠিক নয়।সব সময় মেনে নেওয়া যায় না।কিছু সত্য গোপন থাকলেই বোধহয় ভালো হয় মানুষের জন্য।তাই না?”
আফরিন এবার কম্পিত গলায় বললো-
“হয়তো।তবে আমি কখনোই চাইনি সত্যের আড়ালে থাকা মিথ্যেটা এতো জ*ঘ*ন্য হোক।আমি এই মিথ্যের মুখোমুখি হয়ে মানুষ চিনেছি তবে…..”
রুদ্ভিকা-“তবে?”
আফরিন-“কিছু না”
রুদ্ভিকা-“শুনো দুঃখদের মবে চাপিয়ে রাখতে নেই।সঠিক মানুষ পেলে উগড়ে দিয়ো।দুঃখের ভার অনেক সময় নিজের সহ্য সীমার চেয়ে বেশি হয়।তাই নিজের মানুষদের বলে একটু কমিও”
আফরিন-“আমার এখন মানুষকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়!”
রুদ্ভিকা-“এই পৃথিবীত তোমাকে দুঃখ দেওয়ার এবং তোমার জন্য দুঃখ মুছে দেওয়ার মতো মানুষ আছে।তুমি দুঃখ দেওয়ার মানুষের সাথে পরিত।আশেপাশে দেখো মুছে দেওয়ার কতো মানুষ আছে।এই যেমন ধরো তোমার ভাই-রাই!”
আফরিন-“আমার ভাইদের সাথে কারো তুলনা হয়না।ওরা অতুলনীয়!”
রুদ্ভিকা মুচক হাসে।আফরিন জিজ্ঞাসা করে-
“তোমার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ কি সত্যিই বাতাস?”
রুদ্ভিকা একটু চুপ রইলো।আফরিন আবার জিজ্ঞাসা করতেই বললো-
“না বাতাস নয়”
আফরিন-“তবে?”
রুদ্ভিকা-“আমি ছোট থেকে শ্যামবর্ণের হওয়ায় বহু জায়গায় অবহেলা পেয়েছি।বন্ধুমহলে আমি নিজেকে সবার শেষে দেখেছি।কেউ কখনো আমার প্রশংসা করেনি।রুপের।বরং খুত দেখিয়েছে।তারপর দেখে বুঝলাম আমি এসব মানতে পারবো না তাই নিজেকে সরয়ে নিলাম।অতঃপর বেশি মানুষের সামনে থাকতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করিনা।কখন কে না কে জাজ করে ফেলে।সবসময় তো আর সইতে পারার মানসিকতা থাকে না”
আফরিন রুদ্ভিকার দিকে তাকালো।মেয়েটা যে মনে এসব পুষে রাখে তা তাকে দেখলে বোঝা যায় না।আফরিন বললো-
“রুদু তুমি কি জানো তোমার এই রুপেই কেউ একজন তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসে”
রুদ্ভিকা তাচ্ছিল্যের সুরে বললো-
“অসম্ভব।”
আফরিন-“কোনো একদিন প্রমাণস্বরুপ দেখাবো”
রুদ্ভিকা স্তব্ধ রইলো।আফরিন আবারও বললো-
“এই রাত হচ্ছে কিন্তু।চলো নিচে যাই!”
রুদ্ভিকা-“চলো”
রুদ্ভিকা আর আফরিন লিভিং রুমে আসে।।মেহের তাদেরকে দেখে বলে-
“রুদ্ভি কোথায় ছিলি তুই?”
রুদ্ভিকা ছোট্ট করে বলে-
“ছাদে”
তারপর এরিক,ফারাজকে জিজ্ঞাসা করে কেমন আছে।অধরাও উপস্থিত ছিলো।মুনতাহাকে রুদ্ভিকা কোলে নেয়।আজ মুনতাহাকে ফুলপরি লাগছে।নাদুস নুদুস বাচ্চাটার মুখে যেনো সৃষ্টকর্তা এক আকাশ সমান মায়া দিয়েছে।রুদ্ভিকা তাকে কোলে তুলে নিতেই সে ছোটাছুটি শুরু করলো।অধরা মৃদু ধমক দিয়ে বললো-
“মুনতাহা এমন করছো কেন?রুদু ফুপির কোলে থাকো।”
মেহের হকচকিয়ে গেলো।মৃদু স্বরে বললো-
“ফুপি?”
অধরা হেসে বললো-
“রুদ্ভিকা ওকে এ নামে ডাকয়ে বলেছে।”
মেহের-“ওহ”
অধরা বললো-
“এতো বছর পর তোকে দেখে অনেক ভালো লাগছে”
মেহের-“তোকে হঠাৎ এভাবে দেখে আমার যে কী আনন্দ লাগছে।তোর হারিয়ে যাওয়াতে জানিস আমরা কতো কষ্ট পেয়েছি!”
অধরা-“এখন আর কষ্ট নেই তোর জীবনে মেহের।তুই ভাগ্যবতী অনেক!”
মেহের-“আচ্ছা কোন দিক দিয়ে?”
অধরা তাকালো এরিকের দিকে।পরক্ষণেই মনে পড়লো আদিলের কথা।ভেসে উঠলো আনায়ার ব্যাথাতুর চোখ দুটো।ভেসে উঠলো তার আদিলকে না পাওয়ায় হাহাকার করা রাতগুলো।সব মিলিয়ে দেখলো মেহের জিতেছে।মুচকি হেসে এই সব কথা আড়ালে রেখে বললো-
“এই যে আমার মতো এতো ভালো বন্ধুকে ফিরে পেয়েছিস যে তাই”
মেহের হাসলো।এরিক দেখলো সেই হাসি।সে ধ্যান ধরে তাকিয়েই আছে।ফারাজ জিজ্ঞাসা করলো-
“আনায়া আর আদিল কোথায়?ওরা আসছে না যে?”
বাক্যটা শুনতেই মেহেরের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেলো।এরিক দেখলো।বুঝলো কেন মিলিয়ে গিয়েছে।রুদ্ভিকা বললো-
“আনায়া আপুর শরীর হয়তো খারাপ।তাই সে আসবে পরে বলেছে”
এতোক্ষণ পর হৃদয়হরণীর নিজ থেকে বলা বাক্যে এরিদের হুশ ফিরলো।রুদ্ভিকাকে দেখার পর আর চোখ নামায়নি সে।মেয়েটা জানে না তার এই কাজল দেওয়া চোখগুলো এরিদকে কীভাবে বি*না*শের দেড়গোড়ায় নিয়ে দাড় করায় প্রতিবার।রুদ্ভিকার এবার চোখ পড়লো এরিদের দিকে।চোখাচোখি হতেই রুদ্ভিকা লজ্জা পেলো।তার কেমন যেনো লাগছে।লজ্জা লাগছে বোধহয় খুব।সে দ্রুত সেখান থেকে পালালো।সকলে অবাক হলো যে ওর আবার কী হলো।
আনায়া খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে।সে প্রথমে ভেবেছে তার ডাক্তার সাহেব আজও আসেনি।কিন্তু পরে মা বলে গিয়েছে সবাই এসেছে।বুকে জ্বালা হচ্ছে।কা*টা জায়গাটাতেও চিনচিনে ব্যা*থা করছে।কিন্তু তাকে যে যেতেই হবে।এই চোখ যে ব্যাকুল।মনে যে ঝড় বইছে।আনায়া বহু কষ্টে উঠে দাড়ালো।খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে হাটতে পাশের ফ্লাটের লিভিং রুমে পৌছালো।সে পিছনে দাড়ানোতে কেউই তাকে দেখলো না।তার চোখ নিস্তব্ধ হলো কেবল এক জায়গায়।সামনের সোফায় বসে থাকা পুরুষটার দিকে।হাসছে সে সকলের সাথে।আনায়া বিষণ্ণ সুরে মিনমিনিয়ে বললো-
“যার জন্য কষ্ট করে সমুদ্র পাড়ি দয়ে আসলাম,সেই নৌকার উপর নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছে।আমি হারিয়ে যাচ্ছি অতলে,অথচ তার ডোবার চিন্তাটুকু পর্যন্ত নেই।”
আনায়া দাঁড়িয়ে দেখলো সেই হাসি।নীল চোখজোড়া যতোবার মেহেরের দিকে তাকাচ্ছে চিকচিক করছে।হয়তো ভালোবাসায়।অথচ এই চোখজোড়া দিয়ে কোনদিন এরিক আনায়ার দিকে ঠিকমতো তাকায়-ই নি।আনায়া আবারও একা একাই মনে মনে বলে উঠলো-
“কী ভয়ংকর আপনার এই চোখ জোড়া ডাক্তার সাহেব।সেই যে ডুবেছি আমি আর উঠতে পারিনি।সেই যে আপনাকে হারিয়ে বুকে ব্যাথা পুষেছি,সেইটা এখনো মুছতে পারিনি।যতোবার আপনাক্র ভুলতে চেয়েছি,ততোবারই মনে হয়েছে আমি নিজেকে ধ্বং*স করেছি!”
আনায়া দাড়িয়ে রইলো।হুট করেই এরিকের পাশে বসা পুরুষটার চোখ পড়লো তার দিকে।ফারাজ দেখলো আনায়াকে।আনায়া দেখছে এরিককে।ফারাজ উঠে আনায়ার একটু সামনে গেলো।আলতো করে বললো-
“ঠিক আছো আনায়া?”
সকলে এবার তার দিকে নজর দিলো।মেহেরের চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো।গিয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরলো।চোখে পানিরা ভীড় করছে।কতোদিন প্র আনায়াকে দেখলো সে।অথচ এই আনায়াকে ছাড়া সে এক সপ্তাহর বেশি কোনদিন কাটায়নি।আনায়া আলতো করে মেহেরকে জড়িয়ে ধরলো।মুচকি হাসলো।মেহেরের রঙ আগের থেকে উজ্জ্বল হয়েছে।তাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে।আনায়া বললো-
“তোমাকে সুন্দর লাগছে।সুন্দর হয়ে গিয়েছো”
ফিসফিসিয়ে বললো-
“হওয়ার-ই কথা।মহাপুরুষ পেয়েছো যে”
মেহেরের চোখ থেকে এবার সকলের অগোচরে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো।আনায়ার অভিমান কমেনি আজও।মেয়েটার অভিমান কী আদৌ
কমবে?সে অভিমানী সুরে বললো-
“তুমি কি হ্যাঁ?তোর সাথে আমার তুমির সম্পর্ক?”
আনায়া কিছু বললো না।সামনে এগিয়ে যেতেই হুট করে ব্যাথা বাড়লো।চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে পড়লো।ফারাজ দ্রুত এগিয়ে এলো।আনায়া পড়ে যেতে নিলেই সে ধরে ফেললো অত্যন্ত যত্ন সহকারে।বললো-
“ঠিক আছো তুমি?ব্যা”থা করছে বেশি?”
আনায়া মাথা নেড়ে বুঝালো সে ঠিক আছে।ফারাজ হাতটা ধরে তাকে সোফায় বসালো।মুনতাহা আনায়াকে দেখেই দ্রুত তার কাছে ছুটে গেলো।ছোট্ট হাতটি দিয়ে আনায়ার অপর হাত ধরলো।আদুরে সুরে বললো-
“ফুপ্পি আত্তে হাটো।ব্যাতা পাবে!”
আনায়া তার এমন ভঙ্গি দেখে হেসে উঠলো।সোফায় বসলো।ফারাজ এরিদের পাশে বসলো।আনায়া মুচকি হেসে মুনতাহাকে বললো-
“আমার মুনতাহা আছে না?সে আমাকে বাচিয়ে নিবে মাই জানি।”
মুনতাহা এটা শুনে আনায়ার কোল ঘেষে দাড়ালো।অধরা ধ*ম*ক দিতে গেলেও আনায়া থামিয়ে দিলো।মুনতাহা এই বাড়িতে আসার পর অধরা যখনই কাজে যায় তখন তার খেয়াল আনায়াই রাখে।মেয়েটা যেনো তাদেরই পরিবারের সদস্য হয়ে যাচ্ছে।সকলেই মুনতাহাকে বড্ড ভালোবাসে।আনায়ার তো আপাতত মন খারাপকে পাড়ি দেওয়ার সঙ্গী এই মুনতাহা।মুনতাহাও কীভাবে যেনো আনায়ার প্রতি বড্ড দুর্বল।
সকলে মিলে গল্প করতে করতেই টেবিলের উপর রাখা।ফারাজের মোবাইলে আনায়া নোটিফিকেশন দেখতে পেলো।অজান্তেই তার চোখ পড়লো নোটিফিকেশনটার উপর।কেন জানি তার মনে হলো এই আইডিটা সে দেখেছে।এরিকের পোস্টে তার কমেন্টের রিপ্লাই যে দিয়েছে আনায়ার মনে হলো সে এই আইডি টাই আবার দেখেছে।পরবর্তীতে ভাবলো সেটা ফারাজ কী করে হবে।ফারাজের আইডি তো অন্যটা।নিএজ্র ভুল ধারণা ভেবে সে এটাকে ভুলে গেলো।
দগ্ধ প্রেমানল পর্ব ২৩+২৪
তার চোখ তো আপাতত তার ডাক্তার সাহেবের দিকে।সে আড় চোখে দেখছে।তার ডাক্তার সাহেব যে এখন তার বোনের।তাই তার মনে হলো এখন সে অন্য নারীর।তার দিকে চোখ তুলে তাকালেও কেমন ব্যাপারটা।মেয়েটা এগুলো ভাবতে ভাবতে জানতেই পারলো না ফারাজ নামের একজন যে কখন থেকে তার এই উদাসীনতা লক্ষ্য করছে।তাকেই দেখছে।আমরা অনেক সময় জানতেই পারিনা আমরা কাউকে যেভাবে চাই,অন্যকেউ হয়তো আমাদেরও একই ভাবে চায়!
