love or hate part 11
ইভেলিনা তূর্জ
আদ্রিয়ান এক মূহুর্তের জন্যে এখানেই থমকে গেলো।এ কি কোনো মহাকাশ বিহীন নক্ষত্র।
“নাতো। আমি চিনি না তোমায়।কে তুমি?”
রোজ হাত দিয়ে নিজের দু হাঁটু আঁকড়ে ধরে।কেমন যেনো অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তার পাথর ঘষছে।আদ্রিয়ানকে এক পলক দেখে প্রশ্ন ছুঁড়ে ফের দৃষ্টি ফেললো না আর।আদ্রিয়ানের কাছে ব্যাপারটা বড়ই অদ্ভুত ঠেকলো। আদ্রিয়ান একটু মাথা ঝুঁকে ফের জিজ্ঞেস করলো,
“এই মেয়ে নাম কি তোমার।মাঝরাস্তায় কেনো বসে আছো।কথা কি কানে যাচ্ছে না।”
“র…..রোজ।
“রোজ?Rose?you mean গোলাপ।”-আদ্রিয়ান কিঞ্চিৎ বাঁকা হাসলো।
“ফুল না গোলাপ না।এমনি রোজ।অর্থবিহীন রোজ।”
রোজ ফের মাথা তুলে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে।সারা শরীর ঠান্ডায় জমে কেঁপে উঠছে। ঠোঁট জোড়া লাল হয়ে কাঁপতে থাকে। রোজ রাস্তায় বসেই একটু পিছিয়ে রাস্তায় ক্লিয়ার করতেই।আদ্রিয়ানও সামনে এগিয়ে ছাতা ধরলো।একটা কম বয়সী মেয়ে এভাবে বসে ভিজচ্ছে
তাও আলবার্ট ম্যানশনের বাহিরে।আদ্রিয়ান এক ভ্রু উপরে তুলে পুনরায় জিজ্ঞেস করে,
“আচ্ছা বুঝলাম। তবে তুমি থাকো কোথায়?”
রোজ হাত দিয়ে ইশারা করলো ম্যানশনের দিকে।আদ্রিয়ান বুঝতে পারলো।এই মেয়েটা তাহলে আলবার্ট ম্যানশনে থাকে।তবে এ কে তো আগে কখনো দেখেনি আদ্রিয়ান। নতুন কেউ নাকি।বুঝে উঠতে পারলো না।তবে রোজকে ঠান্ডায় জমে যেতে দেখে আদ্রিয়ান নিজের পড়নের কোর্টটা খুলে রোজের গায়ের উপর দিলো।রোজের দিকে নিজের এক হাত বাড়িয়ে দিলো।আদ্রিয়ানের কি করুণা হলো নাকি মায়া তা জানে না।তবে এভাবে বৃষ্টিতে ভিজতে থাকলে জ্বর এসে যেতে পারে ভেবে নিজের হাতটা রোজের দিকে বাড়ায়।
“আমার হাতটা ধরে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ো।তুমি যেখানে থাকো।আমি সেখানেই যাচ্ছি।ভয় পাওয়ার কারণ নেই।হা’রি আপ”
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
রোজ মাথা নাড়লো।না সূচক।আদ্রিয়ান কিছুটা না, পুরোপুরি হতভম্ব হলো।তার থেকেও বেশি হলো গাড়িতে বসে থাকা আবরার।নিজের বস্ কে একটা অপরিচিতার উপর সহানুভূতি দেখাতে।নিজের টাইম ওয়েস্ট করতে।যার কাছে কি না এক সেকেন্ড ও মহামূল্যবান।আদ্রিয়ান এবার কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে,
“শুনো মেয়ে। বেশি ভিজলে জ্বর এসে যাবে।উঠো বলছি।”
রোজ জ্বর উঠাকে ভিষন ভয় পায়।জ্বর উঠলে বমি পায়।তার ওপরে জিভ ভারি হয়ে মুখটা কেমন করে।এমনিতেই তার এখন সব কিছুই অশান্তি অশান্তি লাগে। আর নতুন করে কিছুর মুখোমুখি হতে চায় না।তবে সে কি করে এই অচেনা লোকটাকে বুঝাবে।তার যে ভিতরে যাওয়া নিষেধ। ভিতরে যে একটা দানব আছে।শরীরের সমস্ত শক্তি ও কেমন ফুঁড়িয়ে এসেছে।কেমন পাথরের মতো ভারী মনে হচ্ছে।কিঞ্চিৎ ভেবে উঠে দাঁড়াতেই গিয়ে পাঁ পিছলিয়ে রোজের।ক্ষত স্থানে আঘাত পুনরায় আঘাত পেতেই শক্তপুক্ত হাত ধরে নিয়ে ব্যালেন্স করে দাঁড় করিয়ে দেয় রোজকে।রোজ আদ্রিয়ানের হাত সরিয়ে পিছিয়ে যায়।আদ্রিয়ান শুকনো ঢুক গিলে হাস্কি স্বরে বলে,
“এ.. সো”
আদ্রিয়ান সোজা হাঁটা দিলো আলবার্ট ম্যানশনের দিকে।রোজ গুটিগুটি পায়ে পিছন পিছন হাঁটতে লাগলো।আদ্রিয়ান রোজকে নিয়ে পাঁ রাখলো আলবার্ট ম্যানশনে।রোজ আদ্রিয়ানের পিছন থেকে সরে ডাইনিং স্পেস এ চোখ বোলাতে থাকে ইউভান আছে কি না।না ইউভান কোথাও নেই।অথচ আদ্রিয়ান কে এখানে কেনো এসেছে সেদিকে মন না দিয়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটা দিলো।রোজ তো নিজের মধ্যেই ছিলো না।আশেপাশের কোনো কিছুই তার মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে নি।কেমন নিস্তেজ ভঙ্গিমায় রুমে যেতে থাকে পড়নে যে আদ্রিয়ানের ব্ল্যাক সুট তাও খেয়াল নেই তার।রোজকে আসতে দেখে মোনা রান্নারুম থেকে বেরিয়ে আসতেই, আদ্রিয়ান মোনাকে আঙুলের ইশারা করে নিজের দিকে আসতে ব’লে।মোনা আদ্রিয়ানকে দেখে কুর্নিশ করতেই আদ্রিয়ান পুরুষালীর হাস্কি স্বরে ব’লে,
“WHO is she “?
মোনা একবার পিছনে ফিরে রোজের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আদ্রিয়ানের প্রশ্নের জবাব দেয়।
“umm..New Maid”
আদ্রিয়ানের ঠোঁটের ফাঁক গলে শব্দ বেরিয়ে আসে,
“মে’ইড।ওহহ রিয়েলি? ”
কপালে পড়ে থাকা লম্বা চুলগুলো একপাশ করে হনহনিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে গিয়ে বসে পড়লো আদ্রিয়ান শাহ। Shah group of industries C.E.O.তুখোর বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিত্যে।বয়স ত্রিশের ঘর পেরিয়ে একত্রিশে দাঁড়িয়েছে।
R.C group of industries এর রাইভাল।প্রায় কয়েকবছর ধরেই এই দুই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে দন্ধ চলে আসছে।তবে সরকারিভাবে একটা যৌথ প্রজেক্ট দেয়া হ’য়েছে সেটার ডিল নিয়েই আর. সি এর চেয়ারম্যান মিসেস এ্যাশ আদ্রিয়ান শাহকে বিশেষ সুবিধার্তে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বেড রুমের একেকটা জিনিসপত্র ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।পুরো রুমের কাঁচের জিনিসপত্র ভাংচুর করে বেডের উপর বসে আছে ইউভান। ষাড়ের মতো নাকের পাটা ফুলিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে বড় বড় শ্বাস টানছে।শ্বাস টানছে আর তার বুক তিব্র বেগে উঠানামা করছে।হাত বেয়ে অনবরত টাটকা র’ক্ত গড়িয়ে পড়ছে।হাতের তালু মাঝবরাবর বেশ্অর্ধেক কে’টে গিয়েছে। নতুন কিছু না।এ-সব ইউভানের নিত্যেদিনের কাজ।বেড ফুল সাউন্ড প্রুফ হওয়ায় বাহিরে শব্দ পৌঁছাতে পারে না।রুমের মধ্যে যতই ঝড়হাওয়া বয়ে যাক না কেনো তা কুনাক্ষরে শুনতে পায় না কেউ।তবে রুমের মধ্যে তুষারও ছিলো।কালো কেবিনেটের পাশে গাঁ হেলিয়ে ইউভানের দিকে দৃষ্টি ফেলে দাঁড়িয়ে আছে।তুষার থামালো না ইউভানকে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেবিনেটের ড্রয়ার থেকে ব্যান্ডেজ হাতে নিতেই একটা ছবি চোখে পড়ে নীল শাড়ি পড়া রমনী।
ছবিটাতে লাল মার্কার পেন দিয়ে বড় করে ক্রস দেয়া।তুষার ছবিটা হাতে নিয়ে আবার রেখে দিলো।ইউভান কাউকে মারবে বলে সিদ্ধান্ত নিলে এভাবেই তার ছবিতে ক্রস দিয়ে রাখে।তুষার এগিয়ে এসে ইউভানের পাশে বসলো।ইউভানের র’ক্তমাখা হাতটাতে ব্যান্ডেজ করতে করতে মৃদু হেসে উঠে,
“খু*ন করতে গিয়ে বিয়ে করে নিলি?”
ইউভান হাত সরিয়ে নিলো।
“যাহ।এখান থেকে।বের হ আমার রুম থেকে। ”
“একটা সহজ কাজকে কঠিন কেন বানালি? এখন তো মনে হয় না আর মা’রা হবে।”
ইউভান নিজের চুলে হাত ঘষলো।ইউভানতো রোজকে মা’রতেই গিয়েছিলো।তবে প্ল্যান পরিবর্তন করে মৃত্যুেকে বেঁচে থেকেও মরণ যন্ত্রণায় সুইচ’ড করে দিয়েছে।ইউভান নিজের অঁধর কামড়িয়ে ধরে একটা শয়তানি হাসি রেখা টেনে ব’লে,
“একবারে মেরে ফেললে মজাই আসতো না।তাই বাঁচিয়ে রেখেছি।”
“তো বিয়ের কি দরকার ছিলো। নিজের জীবনের সাথে জড়ালি কেনো।এটার কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিলো?”
“যাস্ট সা’ট আপ। ”
“দেখিস জান বের করতে গিয়ে না আবার নিজের জানটাই না বের হয়ে যায়”
ইউভান বাঁকা হাসলো।
“রিক চৌধুরী জান দিতে না জান নিতে শিখেছে। আই উ’ইল কিল হার।স্লো’লি”
তুষার ইউভানের কাঁধে হাত রাখলো।ইউভানকে তো তুষার ছোটো বেলার থেকে চিনে।ইউভান যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে নিজেকে আঘাত করে যাচ্ছে তা বুঝতে বাকি রইলো না।
“ওকে অপেক্ষায় থাকবো।”
ইউভান বেড থেকে ধপ্ করে উঠে পড়লো।নিজের হাতের ব্যান্ডেজটা টেনে খুলতে লাগলো।খুলতেই হাত দিয়ে ফিনকি দিয়ে ব্লিডিং শুরু হতে থাকে। দাঁতে দাঁত পিষে নিজের রিভলবার বের করে ভারী পাঁ ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।তুষার ইউভানের পিছু পিছু যেতে থাকে। ইউভান সিঁড়ি বেয়ে রোজকে বাড়ির ভিতর আনার উদ্দেশ্য নামতেই পাঁ থমকে শেষের সিঁড়িই দাঁড়িয়ে পড়ে।পায়ের র’ক্ত দ্বিগুণ হয়ে টগবগিয়ে মাথায় উঠে তখনি যখন আদ্রিয়ানকে সোফায় বসো থাকতে দেখে তার গ্যান্ড মাদারের সাথে। রাস্তা পরিবর্তন করে ইউভান আদ্রিয়ানের সামনের মুখোমুখি সোফায় গিয়ে বসে পড়ে পায়ের উপর পাঁ তুলে।হঠাৎ ইউভানকে দেখে মিসেস এ্যাশ আর মিস্টার আদ্রিয়ান কিছুটা হকচকিয়ে যায়। আদ্রিয়ান ইউভানকে দেখা মাত্রই টি টেবিলে থেকে ওয়াইনের গ্লাস হাতে নিয়ে তাতে চুমুক বসিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
“Nice to meet you!Mr. Yuvan!”
“Fu*ck your nice to meet you!”
মিসেস এ্যাশ ইউভান ঘুমিয়ে আছে ব’লে আর ডেকে উঠাননি।তার ওপরে।ইউভান দু চোখে আদ্রিয়ান শাহ কে দেখতে পারে না।সাপে নেউল সম্পর্ক। তিনি শাহ গ্রুপের সাথে ডিল করতে যাচ্ছেন তা শুনলে ইউভান কখনোই রাজি হতো না।ভেবেই তিনি কিছু জানায় নি ইউভানকে।ইউভানকে রাগে গজগজ করতে দেখে তিনি জোরপূর্বক ঠোঁটের কোণে মৃদু হেসে ইউভানকে শান্ত করার উদ্দেশ্য ব’লে,
“রিক।ভদ্রভাবে কথা বলো।ইট’স ভেরি ইম্পরট্যান্ট ফর আ’স”
আদ্রিয়ান ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিয়ে হাতের দু আঙুল নাড়ালো।
“উহু।I never mind… আপনার নাতীর যে ঘাড়ের দু- একটা রগ কাটা তা তো আমি জানি।”
আদ্রিয়ান বাক্যে শেষ করার আগেই ইউভান রড ওয়াইনের বোতল থেকে ওয়াইন ডেলে পুরোটা আদ্রিয়ানের উপর ছুঁড়ে ফেলে। আদ্রিয়ান সোফা ছেড়ে লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে চোয়াল শক্ত করে চিৎকার করে ব’লে,
“What the hell is this….ইউ ফা’কিং ব্লাডি বিচ্”
ইউভান বজ্রের মতো ছুটে আদ্রিয়ানের সামনে এসেই তার মাথায় গা’ন পয়েন্ট করে। মিসেস এ্যাশ ভয়ে দু পা পিছিয়ে যায়। তিনি এমনিতে হার্টের রোগী, তার ব্যাক পে’ইন শুরু হয়ে যায়।ইউভান আদ্রিয়ানের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে,
“ইউ আর অ্যা ফা’কিং অ্যাস’হোল।গেট আউট ফ্রম মাই হাউস।আই সে’ইড গেট লস্ট।”
আদ্রিয়ান উচ্চশব্দে হেসে উঠে।আচমকা নিজের ফরমাল প্যান্ট থেকে সাইলেন্সসার যুক্ত পিস্তল বের করে ইউভানের কপালে ধরে।দুই মেরুর দুই জীব মুখোমুখি বন্দুক তাক করে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।দুজনের চোখ রক্তিমবর্ণ ধারণ করে আছে।যেনো চোখের মণি মূহুর্তেই গলে বের হয়ে আসবে।আদ্রিয়ান টেবিলের উপর থেকে ডিলের কাগজটা ইউভানের মুখের সামনে ধরে।
“ডিলে সাইন করা শেষ। এবার না হয় একসাথে পার্টি এ’নজয় করা যাক।দুদিন পর দেখা হচ্ছে বিজনেস পার্টি তে।ঘুম হারাম করে দেয়ার জন্যে দুঃখিত”
আদ্রিয়ান দু আঙুল কপালে ঘষতে ঘষতে বেরিয়ে যেতে থাকে। ইউভান আদ্রিয়ানের দিকে সু’ট করার আগেই মিসেস এ্যাশ তার বন্দুক হাত থেকে নিয়ে নেয়।ইউভান তার গ্র্যান্ডমাদারের দিকে ঘাড় কাত করে তাকায়।মিসেস এ্যাশ অসুস্থ মানুষ ইউভান তাকে কিছু বলতেও পারছে না।ভিতরের আগ্নেয়গিরি উত্তাল লাভা নিয়ন্ত্রণ কঠোর চেষ্টা চালাতে গিয়ে তার ঘাড় গলার শিরা গুলো টান টান হয়ে ফুলে উঠেছে।কপালের শিরা গুলো ভাসমান হয়ে গিয়েছে। এসির নিচে বসেও অঝোরে ঘেমে একাকার হয়ে গিয়েছে। চিৎকার করে মোনাকে ডেকে আই’স ব্যাগ নিয়ে আসতে ব’লে।মোনা আই’স ব্যাগ নিয়ে আসলে মাথায় চেপে ধরে গরম মাথাটা ঠান্ডা করতে থাকে। নাহলে এখনি ফেটে যেতে পারে।মিসেস এ্যাশ নাতীর এমন আচরণে বিরক্ত হয়ে ভাবলেশহীন ভঙ্গিমায় মাথা নাড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস টেনে উপরে যেতে থাকে।
রাহা রিক দুজনের একজনকেও তিনি আজ পর্যন্ত নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন নি।মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয়।এদের জন্যেও আবার নিজের জন্যেও।কতদিন আগলে রাখতে পারবেন জানেন না।তিনি মরে গেলে যে কি হবে এদের ভাবলেও গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায় যেনো।শরীরটা দিন দিন অবনতির দিকেই যেতে থাকে। এই বুঝি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বসে থাকবেন।তবে খুব ভয় হয়।তার অনুপস্থিতে যদি ইউভান তার বাবার পাপের সাম্রাজ্যেতে হাত লাগায়।ধ্বংসের খেলা নতুন করে শুরু করে।সব তেজ নিজের বাপ থেকেই পেয়েছে। কার্বন কপি বললেও ভুল হবে না।ঠিক এই ভয়ে তো মিসেস এ্যাশ মরে গিয়েও শান্তি পাবেন না।বুড়ো বয়সে এসেও কোম্পানিটা নিজের একা হাতে সামলাতে হচ্ছে তার।বেড রুমে গিয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করে শুয়ে পড়লেন।একটু রিলেক্স হওয়া দরকার। কিছুক্ষণ পর পায়ের কাছে কারোর স্পর্শ পেয়ে নিভু নিভু চোখে তাকালেন পায়ের দিকে।দেখলেন রাহা, ইনায়া রাহা চৌধুরী। গুনেগুনে ইউভান থেকে নয় বছরের ছোট্ট। বাচ্চাদের মতো তার পায়ের কাছে মাথা হেলিয়ে শুয়ে আছে। মিসেস এ্যাশ নিভু স্বরে ব’লেন।
“দুদিন কোথায় ছিলে?বাড়ির মেয়ে দুদিন ধরে বাড়িতে নেই।ফোন বন্ধ।এগুলো কেমন তামাশা করো তোমরা আমার সাথে।যাও এখন বিরক্ত করো না।”
রাহা পিয়ার্সিং করা ভ্রু কুচকিয়ে মিসেস এ্যাশের পায়ে চু’মু খেয়ে নেয়।কোনো জবাব দেয় না।দিবে কি করে। বন্ধুদের নিয়ে যে শহরের বাহিরে ঘুরতে গিয়েছিলো।
বাহিরে ঝড় হাওয়ার বইছে।আলো আঁধারের মাঝে বেলকনিতে নিস্তব্ধ হয়ে বসে আসে রোজ।ভিজা কাপড় বদলিয়ে রুমের বেলকনিতে এসে বাহিরের ঝড় আবহাওয়ার দিকে নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে আছে।কিছু ঝড় আকাশ বেয়ে নামে না।মানুষের মনের ভিতরেও বাসা বাঁধে যে।বেলকনিতে হাঁটু ভাজ করে মাথা হেলিয়ে বসে নিসঃশব্দে গুন গুন করতে থাকে। একটু প্রশান্তির খুঁজে। চুল গুলো ছড়িয়ে পড়ে আছে।কাঁপা কাঁপা গলায় সুর তোলে,
“এলোমেলো হয়ে যায় এমন।”
“কেনো আজ বুঝিনা”
“দাবানল যেনো ছড়ালো”
“পার করে সীমানা ”
“সপ্নের মতো হানা দেয়,এ মনের কামনা।”
নিজেকে দেখে লাগে আজ অচেনা অচেনা……
আকষ্মিক হাতে টেনে ধরে রোজকে দাঁড় করিয়ে দেয়ালে ঠেলে দেয় একটা ঠান্ডা হাতের স্পর্শ। বাহিরের বিদুৎ চমকে নীল আলো বেলকনিতে এসে পড়তেই রোজ ভয় কুঁকড়ে উঠে। ইউভান রোজের দু হাত চেপে ধরে আইস ব্যাগটা বাহিরো ছুঁড়ে মারে।রোজ ইউভানকে সরাতে চাইলে ইউভান আরও শক্ত করে জোরপূর্বক রোজের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়।রোজ ইউভানের বুকে ধাক্কা মেরে সরে যেতে ব’লে,
love or hate part 10
“আপনি আমার রুমে ডুকলেন কি করে।”
ইউভানতো কোনো প্রতিউত্তর করলোই না উল্টো রোজকে হেঁচকা টানে নিজের সাথে মিশিয়ে ওষ্ঠদ্বয় মিলিয়ে দেয়।রোজ মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজের হাত ইউভান থেকে ছাড়িয়ে নিয়েই,
সপাটে চড় বসিয়ে দেয় ইউভানের বা গালে…….
