নীতিহীন রাজ পর্ব ১৪
আশিকা আক্তার সোহাগী
কথায় আছে ‘জঙ্গলে মঙ্গল ‘ কারণ এখানে সব রকমের কাজ অনায়াসে করা যায়। কেউ চাইলে প্রার্থনা করতে পারে আবার চাইলে খুন খারাপিও করতে পারে। যদিও গ্রামাঞ্চলের জঙ্গল শুধু প্রাকৃতিক ত্যাগের কাজে লাগে। সেটাও একপ্রকার মঙ্গল।
মানব সৃষ্ট ঝোপঝাড় এই জঙ্গলে পাঁচ মিনিট থেকে হেঁটে চলেছে নিবিড় আর জিয়ানা।পদতলে পিষ্ট হচ্ছে ছোট ছোট নাম না জানা উদ্ভিদ। নিবিড়ের হাতে বেশ কয়েকবার বেতের কাটার খুচা লেগেছে। জিয়ানারও লেগেছে।ক্ষতস্থানে থুথু দিয়ে দুই একবার ঘষা দিয়ে ঠিক করে ফেলেছে।নিবিড়কেও দিতে এসেছিলো। কিন্তু নিবিড় রি*ভালবার বের করে দূরে থাকতে বলেছে।
নিবিড়ের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিস্কার পরিছন্ন থাকা। কারো সাথে হেন্ডশেক পর্যন্ত করে না। সে যত বড় নেতাই হোক। সালাম দিয়ে কাম তামাম। নিবিড়ের এপার্টমেন্টে কেউ ঢুকে বুঝতে পারবে না এখানে একজন ব্যাচেলর থাকে।
জিয়ানা একপ্রকার নেঁচে নেঁচে হেঁটে যাচ্ছে। নিবিড়ের কাছে মনে হচ্ছে ,এটা জঙ্গল না জিয়ানার বাড়ির উঠান। প্রতিটা কোনাকুনি তার চেনা। দুইবার সাবধান করেছে। কাজ হয়নি। মানুষ যে বানর থেকে এসেছে তা এই মুহূর্তে নিবিড়ের বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হচ্ছে জিয়ানাকে দেখে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
এত আনন্দ মানুষের মনে কেমনে আসে? এত চিল লাইফও মানুষের হয়? ভয় ভীতিহীন ,চিন্তা ভাবনা কিংবা পিছুটান ছাড়া একটা মেয়ে ঠিক যেনো খোলা আকাশের ডানা মেলা ফিনিক্স। যার চোখ মুখে আলাদা এক দ্রুতি। আশেপাশের সবাইকে সেই দ্রুতি দিয়ে আলোকিত করার ক্ষমতা আছে। নিবিড়ের চিন্তা ভাঙ্গলো ধপ করে আছাড়ের শব্দে।
দ্রুত এগিয়ে দেখলো ভাঙ্গা ইটে বেজে আছাড় খেয়েছে জিয়ানা। নিবিড় ঝুকে বসে বলে,
“ইত্তরের মরণ চিত্তরে হয় বানর কোথাকার। বারবার সাবধান করলাম যে অন্ধকারে দেখে হাটো?খুব ভালো হয়েছে এখন এখানে পড়ে থাকো। আমি এগুচ্ছি। বাই”
নিবিড় উঠে দাঁড়ালো ঠিকই কিন্তু এগুতে পারলো না কারণ জিয়ানা তার পা টেনে ধরেছে। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে টুকুর টুকুর করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। নিবিড়ের মনে হলো এটা কোন মানুষ না আস্তো একটা খরগোশ। রাগটা গলে গেলেও মুখটা কঠিন করে বলে,
“কি?”
“নখ উঠে গেছে মনে হচ্ছে। আপনার ফোনের লাইটটা একটু ওপেন করু… ”
শেষ করতে পারলো না জিয়ানা। নিবিড় নিজের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলল।
অনেক গুলা পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আশেপাশেই আছে কেউ। জিয়ানাকে পাজকোলে তুলে নিয়ে কিছুটা কাছেই একটা পুরাতন ইটের ভাঙ্গা দেয়ালের পাশে দাঁড় করিয়ে দিলো।আর নিজে সামনে আড়াল করে দাঁড়ালো।ঘটনা এতটা তড়িৎ গতিতে ঘটলো ,জিয়ানা কিছু বুঝে উঠার আগেই।একপাশে একটা বিশাল গাছ যেটা কোন একটা ঝড়ে ভেঙে পড়েছিলো। মাটির সন্নিকটে থেকে অনেকটা পচে গেছে। তবে গুড়ির দিকটা বেশ শক্তপোক্ত আর ভেতর টা ফাপা।
নিবিড় একহাতে জিয়ানাকে সাপোর্ট দিয়ে সেই গাছের আড়ালে চলে গেলো।ফুটস্টেপ খুবই নিকটে। সাথে ধারালো অস্ত্রের ছোট ছোট গাছ কাটার ঘ্যাচাং ঘ্যাঁচ শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।সেখান থেকে স্পষ্ট এক ফ্যাচফ্যাচে গলার আওয়ায় ভেসে এলো
“ওইদিকে দেখ আমি এইনে দেখি।”
নিবিড় জিয়ানাকে আর একটু নিজের দিকে চেপে ধরলো। দুইজনের শরীর এখন সমান্তরাল ভাবে চিপকে আছে। নিবিড়ের উত্তপ্ত নিশ্বাস জিয়ানার কপালে পড়ছে।নিবিড় ভাব্লেশহীন হলেও এই প্রথম সত্যি সত্যি জিয়ানার মেরুদন্ডে একটা শীতল শিহরণ বয়ে গেলো যেনো।মস্তিষ্কের এই এক জঘন্য গোলকধাঁধা জিয়ানার পছন্দ না।সেদিন জেনির কাছে শোনেছিলো ঠিক যেমন ,আজ ঠিক তেমনই মনে হচ্ছে। প্রথম কোন পুরুষের এত নৈকট্যে মিথ্যা এই শীহরণের কোন মর্ম খোঁজে পেলো না ।আচমকাই ঈষৎ কেপে উঠে দুই হাতের তর্জনী আঙুল দিয়ে নিবিড়ের বুকে ঠেলে বৃথায় সড়ানোর চেষ্টা করে।নিবিড় সেটা লক্ষ্য করে কয়েক ইঞ্চি সরে এলো।
ছোট রামদা টাইপ একটা দেশি অস্ত্র হাতে সেখানে উপস্থিত হলো সাল্লু গুন্ডা। ঘ্যাচাং করে নিবিড় আর জিয়ানার পাশে অবস্থিত একটা ছোট গাছ কেটে দা টা নিবিড়ের দিকে ধরলো।নিবিড়ের এক হাত তখন জিয়ানার পাশে গাছ টাতে আরেক হাত কোমড়ে।কিন্তু তাদেরকে অবাক করে দিয়ে সাল্লু চিল্লিয়ে বলে উঠলো,
“এই দিক ক্লিয়ার। ”
বলে জিয়ানার দিকে দুই আঙুল কপালে ঠেকিয়ে দিয়ে সালাম দিয়ে চলে গেলো।
নিবিড়ের মাথায় হঠাৎ রক্ত ছলকে উঠলো যেনো।গাছ থেকে হাতটা সরিয়ে জিয়ানার গ্রিবাদেশ চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো ,
“কি করেছিস এই মাস্তানের সাথে?বল? কি দিয়েছিস যে তোকে এত ছাড় দিচ্ছে। বয়-ইটার। নোংরা মেয়ে মানুষ কোথাকার। ”
নিবিড়ের এমন রুপ এই প্রথম জিয়ানা দেখলো। এমন রুক্ষ কঠিন দৃষ্টি হইতো কোন শত্রুকে পরাস্ত করতে সক্ষম। প্রচন্ড চাপে যখন জিয়ানার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এলো। হাত পায়ের শক্তি মনে হচ্ছে কেউ শুষে নিচ্ছে।হাত চাইলেও উঠছে না উপরে।তবুও বহু কষ্টে ডান পা উঠিয়ে সজোরে নিবিড়ের হাটুতে আঘাত করলো।আঘাতে নিবিড়ের হুশ এলে ,ফট করে ছেড়ে দেয় জিয়ানাকে।
ছাড়া পেয়ে জিয়ানা কাশতে লাগলো অনবরত। জিয়ানার কাশি দেখে নিবিড় যেই কাছে গেলো জিয়ানা সোজা হয়ে নিবিড়ের নাকে একটা ঘুষি মেরে দিলো।কিন্তু নিবিড় অল্প সরে যাওয়াই ঘুষিটা নাকে না লেগে লাগলো ঠোঁটে। জিয়ানা ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মতো আবার প্রহার করতে গেলে নিবিড় জিয়ানার দুই হাত একসাথে আটকে ফেলে।
“অযথা ক্যাচাল করতে আসবেন না কাবলিওয়ালা। আমি ঠিক ওই জাতের মেয়ে না। মার খেয়ে ফুপিয়ে কেঁদে নাখরাবাজি করবো।জায়গা মতো মেরে ডিম ফাটিয়ে দিবো।”
এই পর্যায়ে নিবিড়ের রাগ পড়ে প্রচন্ড হাঁসি পায়। তবু্ও চেহারা কঠিন রেখে একহাত দিয়ে জিয়ানার দুইগাল চেপে ধরে বলে,
“এমন নিষ্পাপ চেহারা কিন্তু মুখের ভাষা এত খারাপ কেন?”
মুখে চাপ পড়ায় ঠোঁট গুলো পাউট হয়ে গেছে। সেই অবস্থায় জিয়ানা বলে,
“পেটও তো সুন্দর কিন্তু ভেতরে গু থাকে।বাহির দেখে ভেতর জাষ্টিফাই করতে যাবেন না।ছাড়ুন খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু?”
নিবিড় ছাড়লো না বরং আরও একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে জিয়ানার নেকের দিকে মুখ এগিয়ে নিয়ে লম্বা একটা শ্বাস টেনে নিলো।জিয়ানার এখন নিবিড়কে মোটেও সুবিধার লাগছে না।জিয়ানাকে ছেড়ে বলে উঠলো ,
“তুমি কি পার্ফিউম ইউজড করো?কচি ডাবের শাঁসের মতো চমৎকার একটা ফ্রেশ গন্ধ বের হয় তোমার শরীর থেকে। ”
“ফাজলামি হচ্ছে। আপনি আমার সাথে ইতরামি শুরু করছে না? জিয়ানাকে এখনো চিনেন নাই।মরণ কামড় দিবো একদম।”
“আমিও মরণ বিণ বাজাবো ”
“ভন্ড পুরুষ ”
“ভন্ডি মহিলা”
“গুন্ডা ”
“গুন্ডি”
“রেপিষ্ট”
“জিয়ানা?”
“কি জিয়ানা কি হুম? অস্বীকার করতে পারবেন?”
“ঠিক আছে আজ তাহলে তোমাকে রেপ করেই রেপিষ্ট হবো। দেখি কোন বা*লের আদালত আমার বিচার করে। ” বলে জিয়ানার আবার কাছে যেতেই জিয়ানা হাত আর পা দিয়ে পজিশন নিয়ে দাঁড়ালো। মারামারি শুরু করবে এমন ভাব।
নিবিড় জিয়ানার দাঁড়ানো দেখে হোঁ হোঁ করে হেঁসে উঠে। জিয়ানা এমন হাঁসি দেখে সত্যি ঘাবড়ে যায় কিছুটা। তারপর ভাবলো না ,বাবা সাইকো আর ছাগলের কোন ভরসা নাই। ফটাফট কেটে পর জিয়ানা। যতই মারকুটে হিরোইন হোস ব্যাটার কাছে রি*ভালবার আছে। একগুলিতেই ভব লীলা সাঙ্গ হয়ে যাবি।সাবধানে ,ভেবে চিন্তে কথাও বলতে হবে। স্যাডিস্টরা কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে সেটা স্বাভাবিক মানুষের ধারণার বহির্ভূত।
ঘন জঙ্গলের গাছের ফাঁকে ফাঁকে ফকফকে আকাশের অল্প আলো মাটিতে পড়ছে। যেখানে আলো পড়ছে সেখানটাই কিছুটা স্পষ্ট।বাকিটা নিগুঢ় অন্ধকার। সন্ধ্যা নেমেছে বেশ কিছুক্ষণ হয়। জিয়ানা আগে আগে শান্ত ভাবে হেঁটে যাচ্ছে।এই মেয়েটা ষোড়শী কন্যাদের মতো চপলা ,ছটফটে , সর্বাঙ্গে চঞ্চলতা তড়িৎ গতিতে বয়। কিন্তু চোখ দুটো অন্য কথা বলে। গভীরভাবে তাকালে বুঝা যায় চোখ দিয়ে মেপে নিচ্ছে সামনের বস্তুটাকে।একটু আগে যেমন ছটফটে ছিলো এখন হঠাৎ সব যেনো মিলিয়ে গেছে। নিবিড় একটু গতি বাড়িয়ে সাথে সাথে হেঁটে জিজ্ঞেস করলো ,
“মনে মনে কি কুমতলব কষছো? এত শান্ত কেনো?”
“কাবলিওয়ালা আপনি আমার একজীবনের ক্ষতি করে দিয়েছেন আজ।আমার বিশ বছরের একটা অ্যাসেট নষ্ট করে দিয়েছেন।আই উইল নেভার ফরগিভ ইউ।”
“ওই ছোকড়ার সাথে তোমার এমন সহজ আচরণে আমি অন্য কিছু ভেবে নিয়েছি।তোমার ভাগ্য ভালো অল্পে বেঁচে গেছো। “নিচ থেকে একটা মরা ডাল উঠিয়ে বলে নিবিড়।
“শারীরিক আঘাতের কথা বলিনি। আমি আজ একটা খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। এই অভিজ্ঞতাটা ভালো হওয়ার কথা ছিলো। যেই অনুভূতির কথা আমি আমার ডায়েরিতে নোট করতে পারতাম কিংবা সুন্দর একটা সারমর্ম থাকতো। বাট ইউ রুইন্ড ইট এন্ড স্টোল মাই ফাষ্ট ফিলিংক্স। ”
নিবিড় বোকা হয়ে গেলো।বলে কি এই মেয়ে।নিবিড় কেনো তার অনুভূতিতে আঘাত হানতে যাবে?পরক্ষণেই ফট করে ঘাড় ঘুরিয়ে জিয়ানার কব্জি টেনে নিজের দিকে নিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
“মানে? তুমি কি অন্য কিছু মিন করছো? আমি তোমার অনুভূতি ধ্বংস করবো কেনো? এইসব কিচাইন গাওয়া না থামালে এই জঙ্গলে মেরে পুতে যাবো।”
“কিচাইন কি?আপনি মারবেন আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকবো?ব্যাটা চোর। আমার শিহরণ ফিরিয়ে দে।”
“এই তুমি তুই কাকে বললা?” বলে কোমড়ের পিস্তল বের করে জিয়ানার কপালে তাক করে ধরে বলে ,
“সব সহ্য করতে পারি কিন্তু অপবাদ আর একটা গালি ছাড়া। খাড়া পুতে ফেলবো জিয়ানা। নিবিড় কারো ধার ধারে না।সবাইকে ইয়ে করে ছেড়ে দেয়।”
আবার রি*ভালবার বের করা দেখে জিয়ানার এইবার জিয়াউলের উপর রাগ হলো। অযথা ট্রেনিং ফেনিং এর কি মানে যখন এমন এক মেশিন দেখলেই দমে যেতে হয়। ওর চেয়ে একটা লাইসেন্স ওয়ালা এমন মেশিন নিয়ে ঘুরা ভালো। কথা ঘুরানোর জন্য বলে,
“আপনার ফোনটা একটু দেন আব্বুকে মেসেজ দিবো। প্লিজ। ফাষ্ট এন্ড লাষ্ট রিকুয়েষ্ট। ”
নিবিড় কোন কথা ছাড়া নিজের ফোন আনলক করে বাড়িয়ে দেয়।মেসেজ সেন্ড করে ফোন নিবিড়কে ব্যাক করে জিজ্ঞেস করলো ,
“এখানে কি ভুলে এসেছিলেন? আর রি*ভালবার থাকতে পালালেন কেন?”
“ভুলে না ,একটা কাজে এসেছিলাম। আর একটা রি*ভালবার মানেই কি আমি বাংলা সিনেমার হিরোর মতো দশ বারোজনের সাথে পাঙ্গা নিয়ে সবাইকে গুলি করে খুলি উড়িয়ে দিবো? সিলিন্ডারে ৬টা গুলি লোড থাকে। একজনকে শুট করলে বাকিরা এসে আমার কল্লা ছাড়িয়ে নিবে।”
কিছুক্ষণ চুপচাপ হাটার পর নিবিড় জিজ্ঞেস করলো ,
“একা একটা মেয়ে হয়ে তিনজন পুরুষের সাথে পারলা কিভাবে?”
“একসাথে লড়াই করবো কেন?আমাকে কি পাগলা কু*ত্তাই কামড়াইছে? আগে সাল্লু মানে আসলামকে পটাইছি। আসলাম কিন্তু মেধাবী স্টুডেন্ট ছিলো।টাকা পয়সার জন্য সমুদ্রের কাছে আসলে তাকে দিয়ে নানা অপকর্ম করিয়ে আস্তে আস্তে একেবারে মস্তান বানিয়ে ফেলেছে।গ্রামে এক বৃদ্ধা দাদি আছে আসলামের।তার ভরনপোষণ করতে হয়। তাই লেখাপড়া ছেড়ে ফুলটাইম মাস্তানি করে। অবশ্য আমাকে কথা দিয়েছে আস্তেধীরে এই লাইন থেকে কেটে পড়বে।আর আমিও তার দাদিকে প্রতি মাসে কিছু খরচ দিবো ভাবছি। ”
তারপর আবার বলে,
“আসলাম আমার সাথে এক্টিং করেছে তবে পেদানি গুলা সত্যি ।আমার হাত খুলে দেয়ার পর আগে কয়েকটা চর থাপ্প*ড় খেয়েছে।তারপর বুড়ো গুন্ডা ঘরে ঢুকার সময় খাটের স্ট্যান্ড খুলে ঘাড়ে একটা দেই ,সাথে সাথেই বেহেড হয়। তার কিছুক্ষন পর ব্ল্যাক মাম্বা এলে তার সাথে একটু কসরত করতে হয়। দেখুন ” বলে হুডির হাত গুটিয়ে নিজের হাতের বাহু দেখালো। যেখানে লাল হয়ে ফুলে আছে। নিবিড় এমন উন্মুক্ত বাহু দেখে নজর ফেরায়।
“কি এলেম তোমার। তা প্রতি ডেরায় ডেরায় গিয়ে এমন মাস্তানদের জ্ঞান দিলেই তো পারো।” ব্যাঙ্গ করে নিবিড় বলে উঠলো।
“সেটা পারবো কিন্তু আপনাদের মতো রাজনীতিবিদদের ভাত বন্ধ হয়ে যাবে না?”
“বাকওয়াস। ”
“ইউ টু ”
সাদা মোজাইকের ফ্লোরে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে একটা আইপ্যাড। কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম হাতের পিঠ দিয়ে মুছে রাগে হিসহিসিয়ে মামুন ইসলাম বললেন ,
“অনলাইন প্রতিটা নিউজ পোর্টাল এখন ঘটা করে এই নিউজড প্রচার করবে আশরাফ। আমার নমিনেশন ক্যান্সেল হয়ে যাবে। দল থেকে বহিষ্কার করে দিতে পারে।”
“শান্ত হোন স্যার। আপনার বিপি হাই হয়ে যাবে। ”
“বিপি দিয়ে কি হবে আশরাফ? দশ বছরে একটা মানুষ কি আমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? সরকারি প্রতিটা অনুদান আর সাহায্য পাই টু পাই বিলিয়ে দিয়েছি।এলাকার প্রতিটা রাস্তা পাকা করে দিয়েছি।সব জলে গেলো আশরাফ। ভালো রুপ এরা দেখেছে এবার যে আসল রুপে ফিরতে হচ্ছে। ” মামুন ইসলাম এইবার বেশ শান্ত হয়ে গেলেন।
“স্যার আমি প্রতিটা অফিসেই যোগাযোগ করেছি।পার্টিতেও কথা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ চেষ্টায় আছে যেনো নিউজ ভাইরাল না হয়। আর কিছুক্ষণের মাঝেই জানাবে কে দিয়েছে এই ইনফরমেশন।”
“কসম আশরাফ এইবার একেবারে গুড়া সহ উগলিয়ে ফেলবো।”
টুং করে একটা মেসেজ আসলো আশরাফের ফোনে।ভিডিও এসেছে মুলত। ভিডিও ওপেন করে মামুন ইসলামের সামনে ধরলো।
একজন দীর্ঘদেহী লোক মাস্ক পড়া হেঁটে অফিসে ঢুকলো। লাল মার্ক করে ভিডিও আর টেক্সট পাঠিয়েছে। “এই লোক দিয়েছে ইনফরমেশন। খুব সকালে অফিসে এসে দরজার নিচে ফাইল রেখে গেছে।”
মামুন ইসলাম নিজ হাতে নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে বলে উঠলো ,
“নরকের যন্ত্রণার জন্য রেডি হও জিয়াউল হক। ”
তারপর আশরাফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“রাফিনের বিয়ে সামনের শুকবার ফেলো।এই ঝামেলা মিটিয়ে বাকি কাজে হাত দিবো। আপাতত মুরগী আর একটু আহার খেয়ে শক্ত হোক।”
নিবিড় জিয়ানা জঙ্গল পাড় হয়ে ভাঙ্গা ইটের রাস্তায় উঠে এসেছে।সাভারের বাহিরের এলাকা। একেবারে গ্রাম এটা।নিবিড় নিজের লোকেশন দেখে নিলো। বাজারটা এখান থেকে কিছুটা দূরেই।গুগলে দেখাচ্ছে ২কিলোমিটার দূরত্ব।
হঠাৎ নিবিড়ের মনে হলো লাষ্ট পাঁচ বছরে এত কথা বলেনি যত কথা এই একঘন্টা সে জিয়ানার সাথে বলেছে। এবং বেশ ফুরফুরে লাগছে। এই যে মেয়েটা চুপচাপ হাঁটছে সেটা তার বিশেষ পছন্দ হচ্ছে না।
সুনসান নীরবতা চারপাশ। আশেপাশের দুই একটা ঘর আছে কিন্তু সাড়াশব্দ নেই। আকাশে চেয়ে দেখে অর্ধ-চন্দ্র আর মেঘের লুকোচুরি খেলা।হঠাৎ হঠাৎ মৃদ্যু বাতাস বয়ছে। হাঁটার গতির সাথে জানা অজানা ফুলের সুভাস নাকে ধাক্কা খাচ্ছে। এমন রোমাঞ্চকর সন্ধ্যা নিবিড়ের জীবনে কি কখনো এসেছে?
একমাত্র কবিতা আওড়ানো ছাড়া তার লাইফে ভালো কিছু নেই।সুদূর অতীত হাতরেও দুই একটা সুখ স্মৃতি মনে পড়ে না।মিহি চাঁদের আলোয় ক্লান্তশ্রান্ত জিয়ানার মুখ চিকচিক করছে।ছোট নাক তেলতেলে হয়ে আরও ছোট দেখাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ঘুরে নিবিড়কে যখন পর্যবেক্ষণ করে বাদামী নেত্র ছোট হয়ে যায়। হুডির টুপি দিয়ে কপাল পর্যন্ত ঢাকা। হুডির পকেটে হাত ঢুকিয়ে একদম ছেলেদের ভংগিতে হেটে চলেছে।মেয়েটার হাইট ভালো। নিবিড়ের কান পর্যন্ত। সামনের এই অদ্ভুত মানবী আর তার জীবনের কি বিস্তার ফারাক। হঠাৎ বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“চাঁদের কোন ক্ষয় নাই ,
তবু বারবার জন্মায়
আমি কেনো ভুলক্রমে ,
একবারই জন্মাই”
খুব কাছাকাছি হওয়াই জিয়ানার পা থেমে গেলো নিবিড়ের কবিতার শব্দে। ভারিক্কি ভরাট গলায় ভাষণ শুনেছে কয়েকবার কিন্তু এমন করুন সুরে কবিতার আবৃত্তি সেটাও সুখনীল নিবিড়ের মুখে এযেনো অতি আশ্চর্যের ব্যাপার।নেতা ফেতার সাথে কবর ,কুখ্যাত জিনিস ,কুকর্ম এসব যায়। কিন্তু কবিতা। জিয়ানার কাটা ঠোঁট অল্প হা হয়ে গেছে।
তার এখন সত্যি বিশ্বাস হচ্ছে হিউম্যান বিহেভিয়ার ইজ আ কমপ্লিট মিস্টিরি। এক অঙ্গে বহু রুপ।
দুইজন যখন দুই ভাবনায় বিভোর হঠাৎ অদূরে হটকারিতায় সচেতন হলো তারা।নিবিড় দেখলো ছোটখাটো একটা মুদির দোকান সামনে অনেক গুলো মানুষের জটলা।
নিবিড় আর জিয়ানা সেদিকে গেলো।কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বুঝতে পারলো এখানে একটা মেয়েকে ধর্ষণের বিচার হচ্ছে।জিয়ানা উকিঁঝুঁকি মেরে দেখলো দোকানের ভেতরে কিছু মহিলা মাথায় ঘোমটা দিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। এখানে ভিক্টিম কে বুঝতে পারলো না। আর ধর্ষক সবার মাঝখানে মাথানিচু করে বসা।
নিবিড় স্থির চোখে সব পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।সবার মাঝে এই লোকের মাথা তালগাছের মতো দেখাচ্ছে। একহারা পেটানো শরীরে আলাদা এক ব্যাক্তিত্ব। গ্রে কালার পলো শার্ট আর জিন্স প্যান্টে যথেষ্ট সুদর্শন। গ্রামের সাধারণ মাটি রঙা মানুষ গুলোর মাঝে যেনো ঝলঝলে এক নক্ষত্র। সবার পেছনে আর অন্ধকারে হওয়াই কেউ তাদের এখনো লক্ষ্য করেনি।
দশ মিনিট দাঁড়ানোর পর জিয়ানা ফিসফিসিয়ে বলল ,
“কাবলিওয়ালা চলুন।আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। এখানে মনে হচ্ছে প্রেম ভালোবাসার ব্যাপার। ”
নিবিড় হাত উচিয়ে জিয়ানাকে থামতে বলে। তারপর কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে ভিড়ে ঢুকে যায়।
জিয়ানাও কিছুটা এগিয়ে গেলো।
মুরুব্বি গোছের এক লোক বললেন,
“একবার যেহেতু নষ্ট করছেই ,এই মাইয়ার তো আর বিয়া হইতো না।তাই সাজা শাস্তি না দিয়ে বিয়া পড়ায়ে দেওয়াই ভালো। কি কন আফনেরা?”
উপস্থিত সবাই একযোগে হই হই করে উঠলো। কিন্তু দোকানের পাশে এক মধ্যবয়সী মহিলা আর্তনাদ করে উঠলেন। কিসব একাধারে জপে মাটিতে হাত দিয়ে জোরে জোরে প্রহার করতে লাগলো।মাঝেমধ্যে শুধু “আল্লাহ গো ,সতীন গো ” এইটুকুই বুঝা যাচ্ছে।জিয়ানা দুই ঠোঁট টিপে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে।তার পেটে হাঁসির দলা ক্রমশ বড় হচ্ছে। হাঁসি হঠাৎ মিলিয়ে গেলো মধ্যমণি পুরুষের গমগমে স্বরের ধমকে।
“এখানে কি ফাজলামি করতে বসেছেন আপনারা? একটা পঞ্চাশোর্ধ লোক ধর্ষণ করেছে একটা কিশোরী মেয়েকে। তাকে শাস্তি না দিয়ে উপহার দিচ্ছেন। আর নির্যাতিতাকে আরও নির্যাতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন? ”
ইগোতে লাগলো মনে হয় মাতাব্বর টাইপ লোকটার। ফট করে দাঁড়িয়ে আঙুল তুলে জিজ্ঞেস করলো ,
“এই তুমি কেডা? আমাদের গেরামের ঝামেলায় অন্য মানুষ কেমনে আইলো? কে কোথায় আছোস এই পোলারে এক্ষুনি সরা।”
জিয়ানার সাইডে কিছু বাচ্চা কাঠের বেঞ্চে বসা তাদের একজনকে পেছন থেকে মাথায় চর দিয়ে সরে দাঁড়ালো। চর খেয়ে বাচ্চা ছেলেটে উঠে দাঁড়ানোর সাথে সাথেই জিয়ানা টুপ করে বসে গেলো।অনেক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে থেকে পা লেগে গেছে। এইদিকে বাচ্চাটা আবার বসতে গিয়ে দেখে জায়গা নাই। জিয়ানার দিকে ভ্রু কুচকে চেয়ে আছে। কিন্তু জিয়ানা একবার আড়চোখে বাচ্চাটাকে পরখ করে গভীর মনোযোগ দিলো নিবিড়ের দিকে।
আজকে কাবলির দরকার ছিলো। কাবলি ছাড়া লোকটাকে খান্দানী নেতা লাগছে না। কাবলির হাতা পোর্ট করে হাতের মাসল বের করে রেখে ,তর্জনী দিয়ে নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা বলবে সব মানুষ এমনিতেই হা হয়ে থাকবে। আজ এই টিপসটা দিবে সে।
“আমি কে সেটা জানার প্রয়োজন নেই আপনাদের।একজন ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত সর্বোচ্চ। কিন্তু আপনারা উল্টো কাজ করছেন।ভিক্টিমকে জিজ্ঞেস করেছেন যে কি চায়?”
এইবার কিছু এক্সট্রা মন্ডল গজিয়ে উঠলো। তারা সমসুরে প্রায় চিল্লিয়েই বলে উঠলো ,
“ওই মিয়া কথা কানে যায় না আপনার। সব জায়গায় এত উস্তাদি মা*রাইতে আইসেন না।যান ভাগেন। আমাদের ঝামেলা আমরা সামলামো। ”
নিবিড় রাগে হাত শক্ত করে মুঠো করে ফেললো।জিয়ানা বুঝতে পারলো অহেতুক আর একটা ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে। তাই বেশ জোরেশোরেই বলে উঠলো ,
“আরেহ আরেহ কাকে কি বলছেন। উনি সাভার ইউপি চেয়ারম্যানে মামুন ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র সুখনীল নিবিড়। সব জায়গায় তো উনারই উস্তাদি মা*রানো চলে। ”
জনসভা হঠাৎ একেবারে চুপ হয়ে গেলো।আর নিবিড় জিয়ানার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকায়।জিয়ানা সেই তাকানো কে উপেক্ষা করে চমৎকার হাঁসি উপহার দেয়।
এতক্ষণে মুরুব্বি কেশে বলে উঠলো ,
“আরেহ তুমি আগে পরিচয় দিবা না। তা দাঁড়িয়ে কেন? এই কেউ চেয়ার দে তাত্তাড়ি।”
নিবিড় হাত দিয়ে থামিয়ে বলে,
“ওইসব লাগবে না। এই বা*ষ্টার্কে সর্বোচ্চ কঠিন শাস্তি দেন। যেনো সমাজে আর কেউ ধর্ষণ করতে চাইলে এর শাস্তির কথা মনে পড়ে। আর একটা কথা একজন মানুষ যখন বিচার করে তখন তিনি তার সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই যদি বিচার কাজ ইনসাফের সাথে করতে পারেন তবে করবেন ,নাহলে এইসব প্রহসন করবেন না।”
নিবিড় পা বাড়ালো এখান থেকে চলে আসবে কিন্তু থামলো বৃদ্ধের কথায়।
“তাইলে তুমি একটা মিমাংসা করে দিয়ে যাও।এই বাপ মরা মাইয়ার কি গতি হইবো। ”
জিয়ানা উঁকি দিয়ে দেখলো একটা চৌদ্দ পনের বছরের কালো চিকন বাচ্চা মেয়ে। পুরো মুখ ওড়না দিয়ে ঢেকে রেখেছে। জিয়ানা আর চুপ করে থাকতে পারলো না। দাঁড়িয়ে বলে উঠলো ,
“দেখুন কেমন আপনাদের সমাজ। অপরাধি মাথা উচিয়ে বসে আছে আর নির্যাতিতা নিজের মুখ ঢেকে লুকিয়ে রেখেছে। লজ্জা কার পাওয়ার কথা আর কে পাচ্ছে। নেতা মশাই দ্বায়িত্ব নিবে এই মেয়ের। উনার বাবা অনেক দয়ালু মানুষ। আমরা এই মেয়েকে আমাদের সাথে নিয়ে যাবো।কিন্তু এই জানোয়ার বুড়োটার মিডিলস্ট্যান্ড অকেজো করে দেন। জনসম্মুখে হাত পা কেটে দেন। তবেই না সঠিক বিচার হবে।”
নিবিড় রাগে লাল হয়ে উঠা জিয়ানাকে দেখলো।কি সুন্দর তার উপর দ্বায়িত্ব দিয়ে ভাষণ দিচ্ছে।
“দেখুন পুলিশে দিলে দুইদিন পর তার পরিবার ঠিকই ছাড়িয়ে আনবে। আমিও ওর সাথে একমত। গনপিটুনি দিয়ে একে মাটিতে মিশিয়ে দেন। আপনারাই শুরু করুন প্রথম। অন্য কোন সাজা না সরাসরি মৃত্যুই ধর্ষণের একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি। ” বলে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আবার বলে
“যাবে আমাদের সাথে নুর ম্যানসনে?”
মেয়েটা উঠে এসে নিবিড়ের পায়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করে বলে উঠলো ,
“ভাইজান আমারে এই জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তবুও বিয়ে দিয়েন না। ”
জিয়ানা এগিয়ে এসে মেয়েটাকে উঠিয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
“কি নাম তোমার? চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি। ”
দোকানের ভেতর থেকে এক মহিলা বলল,
“আসমা। বাপ নাই। মাও অসুস্থ। নিয়ে যান আফনারা। বাসা বাড়ির কাজ করলেও বাইচ্চা থাকুক। তবু্ও এই নরকে থাকার দরকার নাই। ”
বাজার পর্যন্ত উৎসুক জনতা তাদের এগিয়ে দিলো। নিবিড় বাইকে বসে নিয়ানাকে ইশারা করলো। জিয়ানা নিবিড়ের পেছনে বসে মেয়েটাকে তার পেছনে বসালো।
টানা চল্লিশ মিনিট বাইক চালিয়ে তারা পৌঁছালো নূর ম্যানসনে। নিবিড় ফোন বের করে সাইডে দাঁড়িয়ে কাকে যেনো ফোন দিলো। এইদিকে জিয়ানার হিশু পেয়েছে প্রচুর। এই লোক ভেতরে নিচ্ছে না কেন? বাহিরে দাঁড়িয়ে মশার কামড় খাওয়াচ্ছে।
দুই তিন মিনিট পর হালকা ফিরোজা রঙের শাড়ি পড়া একজন সুশ্রী মধ্যবয়সী নারী বের হয়ে এলেন। চোখ মুছতে মুছতে এসে নিবিড়ের কাছে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো ,
“আব্বু আমার বিশ্বাস হচ্ছে না তুমি আমাকে ফোন দিয়েছো। একটু ভেতরে আসো। আজ অনেক কিছু রান্না হয়েছে। তোমার পছন্দের শামী কাবাবও আছে। ”
অতি আগ্রহ নিয়ে বললেও একদম নিভে গেলেন নিবিড়ের ধমকে।
“আহ চুপ করুন। আমি এখানে খেতে আসিনি। এই মেয়েটা বিপদে পড়েছে। আপনাদের কাছে রাখতে এসেছি। আসছি ”
বলে জিয়ানাকে ইশারা করলো বাইকের দিকে যেতে।জিয়ানা আহম্মক হয়ে দাঁড়িয়েই আছে দেখে কাছে গিয়ে হুডির টুপি ধরে টেনে বাইকের কাছে নিয়ে গেলো।এতক্ষনে ভদ্রমহিলা জিয়ানাকে খেয়াল করলেন। জিয়ানা সালাম দিয়ে একটা হাঁসি দিলো। কিন্তু উনি একদম আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
জিয়ানা টান দিয়ে হুডি নিবিড়ের কাছ থেকে ছাড়িয়ে বলে,
“দেখুন আমার একটু ভেতরে যেতে হবে। মানে ইমার্জেন্সি। ”
“কোন ইমার্জেন্সি নেই। তোমার বাসা এখান থেকে দশ মিনিটের রাস্তা। চলো।”
“আরেহ আমার তো আপানাদের মতো সেলোমেশিন নাই।যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে কাজ খতম করবো।আমাদের চাপ কল সো উই নিড ওয়াশরুম। ”
“মুখের কোন আর্দা পর্দা নাই তোমার না?নাকি লজ্জা শরমের সিস্টেম কাজ করে না? ” নিবিড় শক্তমুখে প্রশ্ন করলো।
“ব্রো সত্যি ইমার্জেন্সি বুঝতে পারছেন না কেন? সকালে একবার গিয়েছি। তারপর সারাদিন আজ ড্রামার মধ্যেই ছিলাম। যাই?”
নীতিহীন রাজ পর্ব ১৩
বলে অপেক্ষা না করে ভদ্রমহিলার দিকে এগিয়ে গেলো জিয়ানা।
নিবিড় সেদিকে একপলক তাকিয়ে ফোন বের করে মক্কুকে টেক্সট করলো কিডন্যাপারের গাড়িটা আটকানোর জন্য। ঘড়িতে সময় দেখলো আটটা বাজতে আরও পাঁচ মিনিট বাকি।বাইকে হেলান দিয়ে সামনের বিলাসবহুল অট্টালিকার দিকে তাকিয়ে ভাবলো মির্জা গালিবের সেই চিরন্তন সত্য কথাটা ,
“সন্ধ্যা কাটে না অথচ বছর কেটে যায়।”
