প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৬
রোজ ও রুশা
“নিলয়, তুমি আমার হাত ছাড়ো বলছি!
-কথাটা নিলয়কে উদেশ্য করে বলে তিতির।
” সাহস হয় কি করে ওর দিকে হাত বাড়ানোর ..?
“তুমি কে এই মেয়ের ..?আর ও আমার নাভানকে কেন বাজে কথা বলবে?আমি ছেড়ে দিবো ভাবছো।
” লুক ” তিথির, সে বাজে কথার যোগ্য তাই বলেছে,আর কোনোদিন যদি হাত বাড়াস হেরার দিকে তো হাত কেটে অই লেকের পানিতে ফেলে দিতে এই নিলয় চৌধুরী একটু ও লেট করবে না।
– নিলয় এর হটাৎ আগমনে কেউ প্রস্তুত ছিলো না,নাভান একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে না হাত ছাড়ছে আর না কথা বলছে কেউ কারো সাথে, হেরার চোখ টলমটল করছে,হেরার রক্তচক্ষু নয়নে পানি দেখে নাভান এর বুক টা একটু কাপলো যেনো,সে দেখছে হেরাকে খুটিয়ে,কিন্তু তাতে ছিলো রাগ খুব,সুন্দরি মেয়েরা অহংকারী হয়, এই মেয়ের এতো অহংকা যে শেহতাজ খান নাভান এর সাথে লাগতে আসে, আবার তাকে ছোট করে।হেরা আচমকা রক্তচক্ষুর নিয়ে নাভান এর বুকের বা পাশ টায় নিজের দাত বসিয়ে দেয়,সবাই যেনো অবাকের চড়ম লেভেলে,সবাইকে ভয় আর অবাক হতে দেখলেও দুই জন মানুষ এর মুখবয়ব দুই রকম,নিলয় এর চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে আর নাভান একেবারে নিরলিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে।হেররার মুখে নুনতা স্বাদ আসতে সে ছাড়ে, নাভান চোখ বন্ধ করে জোরে একটা শ্বাস ছেড়ে হেরাকে ধাক্কা দেয়ার আগে নিলয় হেরার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়।নাভান ও কারো দিকে না তাকিয়ে ধুম ধাম পায়ে বের হয়ে যায়, বাইক নিয়ে চলে যায় শাই শাই করে,নেন্সি দূর থেকে দাঁড়িয়ে শুধু দেখে।
“জান” তোমাকে হেরার থেকে দূরে রাখতে নাভান আমায় সাহায্য করবে,সেই পথ আমি করে দিবো,তোমার থেকে অই হেরাকে দূরে রাখার দায়িত্ব আমার।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নেন্সি” অইদিন জরিয়ে ধরার পিক তুলে তা দিয়েছে ক্যাম্পাসের গ্রুপে,আর অই পিক গুলা দেখেই নাভান রাগে হেরার সাথে এমন করেছে।গ্রুপ হেকিং করে সব ডিলেট করে দিয়েছে ও সবাইকে বার্তা পাঠিয়েছে কারো কাছে থাকলে তা যেনো ডিলেট করে দেয়,তা না হলে নাভান একেক টাকে ধরে কঠিন শাস্তি দিবে।ছবিটা এমনি যে বোঝার উপায় নেই ভয়ে জরিয়ে ধরেছিলো,মনে হচ্ছে প্রেমিক প্রেমিকার রুমান্টিক দৃশ্য একজন রাগ করেছে তো আরেকজন রাগ ভাঙাতে বেস্ত ।
— এতোক্ষন যাবত সৃজন, রোজ,অধীর আর রুশা যেনো অন্য গ্রহে ছিলো,চার জোড়া চোখ যেনো বেড়িয়ে আসার উপক্রম, অধীর নিজের মেইন পয়েন্ট দুই হাত দিয়ে ধরে রাখে আর রুশা ফট করে তার চোখ,আর সৃজন তার ঠোট চেপে ধরে আর রোজ ওরনা ঠিক করে শরীর ঢাকে,চারজন চারদিক থেকে ভো দৌড়, রয়েছে শুধু,তিতির আর ঝিনুক,নেন্সিসহ কিছু মেয়ে।
তিতির এর হাত লাল হয়ে গেছে,নিলয় যে তার হাত এমন ভাবে ধরেছে হাত যে ভাঙে নি এটাই বেশি,নেন্সি আগুন চোখে নিলয় আর হেরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে।
“আমি তোমাদের ছাড়বো না।
__মি: চৌধুরী আপনার সাহস হয় কি করে আমায় কু প্রস্তাব দেয়ার?
-রাগে MLA অ্যাডভোকেট কাজল খান কথাটা বলে।লোকটি এবার তার চোখ বুলায় MLA কাজল (সংক্ষিপ্ত নাম) এর উপর। দেখে তো মনে হচ্ছে ২৭/২৮ বছর এর মতো লাগে,এই যে খবর পাঠিকাদের মতো কেমন শাড়ি পরেছে,শাড়ির কুচিগুলা কতো সুন্দর করে দেয়া।কেউ দেখে বলবে তার ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে আছে, মাথার চুলগুলো কেমন খোপা করে রেখেছে মুখে নেই বয়সের ছাপ,লোকটি মুখে হাশি রেখে বলে।
” কি খায় MLA কাজল, যে বয়স এর ছাপ বোঝা যায় না,ফিগার ও তো।
-লোকটির কথা শেষ হবার আগে গালে থাপ্পড় পরে সজোরে একটা, কর্কশ কন্ঠে বলে।
“যা বলেছিস অতটুকুতে থাক,তা না হলে জিভ টেনে কুকুর কে খাওয়াতে টাইম লাগবে না এই অ্যাডভোকেট MLA কাজল এর।
” সুন্দরী তোমার হাতে থাপ্পড় ও আমার নেশা লাগে!দাও আরেক টা।
বলে গাল বাড়িয়ে দেয় লোকটি। থাপ্পড় খায় নি মনে হচ্ছে গালে আদর করে দিয়েছে, তাই তো গাল বাড়িয়ে দিয়ে লোকটি বলে কথাটা!
কাজল এর রাগ তর তর করে বাড়তে থাকে।জেদি গলায় বলে কাজল!
“বাচার ইচ্ছা নেই তোর?তোর আজরাইল ছুটিতে গেছে, এই কয়দিন এই দুনিয়ার নিশ্বাস নিয়ে নে ভালো করে, জাস্ট আমার ছেলের কানে গেলে, তোর আজরাইল সেদিন আসবে।Don’t forget
“উফফ, তোমার ছেলে বলো কেনো?আমাদের বলবে। আমি তো রাজি নাভান কে নিজের ছেলের পরিচয় দিতে, কিন্তু অই অধীর কে পারবো না কারন-
– এবার যেনো কাজল এর রাগ বেড়ে যায় মুহুর্তে,সে জানে, এই লোক কি বলবে, এক পলক দেড়ি না করে, লোকটার শার্ট এর কলার চেপে ধরে বলে উঠে।
– আর একটা কথা বের হলে, কসম উপর আল্লাহর তোর নিশ্বাস বন্ধ করে দিবো,অধীর আমার ছেলে দুনিয়ার সবাই যানে অধীর আমার নাড়ী ছেড়া ধন,আমার দুই চাঁদ,যাদের আলোতে আমি বেচে আছি, তোর মুখ থেকে আমি আমার ছেলে নিয়ে একটা কথা ও শুনতে চাই না।
“হা,হা,হা!
লোকটি এবার উচ্চস্বরে হেসে উঠে, যেনো,সে খুব মজা পেয়েছে মনে হচ্ছে,
নিলয় রাগে ঘরের জিনিস সব ভেঙে ফেলছে সে, তখন হেরাকে টেনে আনে ডক্টর এর কাছে,হাত বেন্ডেজ করিয়ে বাইক দিয়ে বাসায় অব্দি ছেড়ে আসে হেরাকে। ততক্ষণে নিলয় ক্যাম্পাসের গ্রুপে নাভান আর হেরার জরিয়ে ধরা পিক দেখিয়েছে,কতো জনে পিকচার এর কমেন্টে এসে কতো কথা বলেছে, নিলয় এর জানা মতে তার লোকেরা তো করবে না এই কাজ, তাহলে কে এই কাজ করেছে,এখন পুরু ক্যাম্পাস এর সবাই হেরাকে নিয়ে কথা বলছে,যা নিলয় এর রাগ বাড়ানোর সবচেয়ে বড় কারন,নিলয় আজ ক্যাম্পাসে আসতো না,কিন্তু যখন ফোন হাতে নেয় তখন তার রাগ ৪৪০ ভল্টেজে উঠে পরে। সেই মুহূর্তে বাইক নিয়ে শাই শাই করে চলে আসে নিলয়,আর এসেই যা দেখে, পরের কাহিনিতো আপনারা জানেন,কিন্তু এই মুহূর্তে নিলয় এর রাগ করার কারন টা ভিন্ন,কিচ্ছুক্ষন আগের কথা।
নাভান তাকে ফোন দেয়।তাদের কথোপকথন ছিলো-
কাউকে ভাঙতে।
একটা কামড়ই যথেষ্ট,বলতে হবে তোর সো কল্ড প্রেমিকার শক্তি আছে? একেবারে হার্টে লেগেছেরে।
বেশ মজার ছলে বলে নাভান,এতেই যেনো নিলয় এর পাছায় আগুন ধরে।আরে ভাই কেউ আঘাত করলে যে তাকে আঘাত করতে হবে ব্যাপার টা এমন না,জবাব টা এমন করে দাও,না হাসতে পারবে না কাদতে,ডিরেক্ট মাথায় না, পাছায় আগুন ধরবে। নিলয় দাতে দাত চেপে বলে।
“চুপ কর। তোর মুখে ওর নাম মানায় না।”
-নাভান হাসে! বলে!
“মানায় না?
তাহলে সে আমার এত কাছে এলো কেন?
তোর অধিকার যদি এত শক্ত হতো,
ও অন্যের বুকে দাঁত বসাত না।”
“চুপ! তোর হাত থেকে বাচার জন্য এমন করেছে ও,তা না হলে তোর দিকে ফিরে ও তাকাতো না।(নিলয়)
” তোর দিকে ফিরে তাকায় না বলে আমার দিকে তাকাবে না!!,এক দেখায় ডিরেক্ট বুকের বা পাশের কামড় দিতে হলো? (নাভান)
“তুই ইচ্ছা করে আগুন লাগাচ্ছিস!”নাভান!( নিলয়)
“আগুন আগেই লেগেছিল।
আমি শুধু দেখিয়ে দিলাম—
কার বুকটা বেশি জ্বলছে।”আমার ” খত” করা বুক নাকি তোর সুন্দর ফ্রেস বুকে?(নাভান)
নিলয় হেসে জবাব দেয়-
বুদ্ধি কি হাটুতে নেমে যাচ্ছে নাকি?
“ভেবে দেখ, শহেতাজ খান নাভান—
কামড়টা তোর শরীরে ছিল,
কিন্তু দাগটা পড়েছে
তোর অহংকারে।” তা কি খেয়াল করেছে শেহতাজ খান নাভান!
-তার পর রাগে নিলয় সব ভেঙে ফেলে রাগে শরীর তরতর করে কাপছে, না এখন একটু ড্রিংকস করতে হবে তা না হলে মাথা ঠান্ডা করতে পারবে না সে,সায়েম কে ফোন দিয়ে চলে যায় ক্লাবে।
—গাজীপুরের সৌন্দর্য নীরব কোলাহলহীন, কিন্তু গভীর ও মনমুগ্ধকর।
ঘন শালবনের ছায়া, ভোরের কুয়াশায় মোড়া মাঠ, আর সন্ধ্যায় পাখির ডাক_সব মিলিয়ে গাজীপুর যেন শহরের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো গ্রাম। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সবুজ মাঠে হাঁটলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই গল্প বলছে। বিলে–খালে জলের ঝিলিক, বর্ষায় কাঁচা রাস্তায় মাটির গন্ধ, শীতে রোদে সোনালি ফসল,এই সবই গাজীপুরের আসল রূপ। সব চেয়ে বড় কথা সয়ং শেহতাজ খান নাভানের প্রানের শহর গাজীপুর , ঢাকাতে তারা থাকে বহু বছর, এখন ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা হয়ে গেছে,যার সূত্রে তার মা ঢাকার MLA. তিনি গাজীপুর আসেন না কোনো এক কারনে কিন্তু নাভান ভিলায় নাভান ঠিকি আসে,যখন তার মন ভালো আর খারাপ থাকে অত্যাধিক তখন সে আসে।এখানে এসে তার মন ভালো হয়ে যায়,এই বাড়িটা দুই তলা বিশিষ্ট, সামনে ধানক্ষেত ,দুই দিকে শালবন আর এক সাইডে রাস্তা, শালবন এর ভিতর পাকা সরু রাস্তা,কি যে সুন্দর লাগে,এই যে বসন্তের সময় সব পাতা যখন শুখিয়ে পরবে পাকা রাস্তা ভরে জায় গজারি পাতা( শালগাছ / গজারি গাছ)নাভান তখন বাইক নিয়ে ঘুরে, তার কাছে এই জায়গায় আলাদা একটা শান্তি লাগে।এই যে শিতের সময় আর্মিরা যখন ট্রেনিং এ আসে তখন কি সুন্দর করে তাবু টানায় জায়গায় জায়গায়, আর মাটি কেটে কি সুন্দর ঘর বানায়,না নাভান কি ভাবছে আজ,কেনো তার মাথায় এসব আসছে,নিজের ভাবনাকে দূরে সরিয়ে গিটার হাতে নিয়ে সুর তুলে,বুকের খততে সে কিছু লাগায়নি,যেমন আছে তেমনি রয়েছে।মাংসের ভিতর দাত ডেবে যাওয়ার কারনে ছিদ্র হয়ে গেছে। শাওয়ার নেওয়ার সময় রক্ত ধুয়ে গেছে,তাই আর কিছু লাগায় নি।
এদিকে দুই বাচাল একত্রে বসে থ মেরে আছে।তখন দৌড়ে চলে আসার সময় তাদের হুসে ছিলো না কে কেনো দৌড়াচ্ছে কিন্তু বাসায় এসে শুনে দুইজন বর্তমানে নেশার ঘোরে চলে গেছে,অই মেয়েদের খুজে বের করে ফিটিং দিতে বলেছে নাভান, আর এই দুই আহাম্মক পালিয়ে এসেছে,আর অই মেয়েগুলো ও তো মনে হয় চুন্নির মতো পালিয়েছিলো,,নাভান কে ফোন দিয়ে পায় নি ঝিনুক, অধীর,সৃজন, তারা জানে অধিক রাগে নাভান একা থাকে,রাগ কমলে আবার চলে আসে,,,!তাই তারা নিশ্চিন্ত।
-অই শালা তুই অই মেয়েকে দেখে পালালি কেনো?
সৃজন এর কথার পিষ্টে বলে অধীর,
-আরে, আমার লজ্জা লাগছিলো,মনে হয়েছে আমার পেন্টের উপর দিয়ে শালি লাল-গোলাপি সব দেখে ফেলছে আবার,নিজের মানসসমান দুই বার বিলিন হতে দিতে পারি না তাই দৌড়ে এসে পরছি।( অধীর)
– আর তুই কেনো এলি?
“আরে শালা,অইদিন পাবলিক কেলানি তো খাই নি,যদি অইদিন এর টা শোধ নেয় তাই। অই দের ব্যাটারি রে সুবিধার মনে হয় না (সৃজন)
” এই দের বেটারি টা আবার কে ভা?
অধির এর কথায় সৃজন বলে।
-সালা, টুকুমুকু দের -বেটারি, অই ভার্জিনিটি ধর্ষন মহিলা। আবার কে?
থেমে আবার বলে।
-অই লাল- গোলাপি টা আবার কে?
-আরে ভাই অই লাইভ টেলিকাস্ট মহিলা,নজর চুন্নি।
“তোর কপাল ভালো, যে শুধু সে একা লাইভ দেখেছে? ভাই আর যাই বলিস মাইয়া গুলা সেই সুন্দরী কিন্তু।
” এবার অধীর ও ভাবে, মেয়েটা তখন ডেব ডেব করে তাকিয়ে ছিলো কি কিউট লাগছিলো,আর গাল গুলা কি টসটসে, উফফ দেখেই একটা টান চুমু খেতে ইচ্ছে করছে”যাকে অধীর এর ভাষায় গালটুস বলে””গালে টান দিয়ে”” নিজের হাতে চুমু খাওয়াকে গালটুস চুমু বলে””এটা সে ছোট বেলায় কতো পিচ্চি বাবুদের খেতো,যে সব বাবুরা কিসি দিলে ভ্যা ভ্যা করে কেদে দেয় তাদের এই পদ্ধতি তে চুমু দিলে মন টা ভালো লাগতো,,
“” চুইংগাম হিরো টা কতো ভালো,আমার হেরা পাখিকে কতো ভালোবাসে,আর অই চকলেট হিরো টা, শুধু শুধু ব্যাথা দেয়,আমি তো অই বেটাকে ছাড়বো না।এই রুশার হেরা পাখিকে কষ্ট দেয়া।
রোজ রুশার কথা কটাক্ষ করে বলে উঠে।
“এতই যদি পারতি তো তখন বললি না কেনো? শালি উলটা দৌড়াতে দৌড়াতে চলে আসলি তাও চোখ ধরে।
-হেরা মনে মনে ভাবে।
” আরে বইন,চোখের ইজ্জত নষ্ট করতে চাই নি তাই এমন করেছি,
এবার রোজকে বলে।
“শালি তুই ও তো কিছু বলিস নি,আর ঠোঁট চেপে আমার পিছু পিছু ছুটেছিলি।
” তো কি করতাম, আবার ঠোঁটের ভার্জিনিটি হাড়াতে চাইতাম নাকি।
“এহহহ” মনে হচ্ছে , চুমুর সাপ্লাই ম্যান”” তোর সামনে ছিলো?
-হ্যাঁ ছিলো তো ”
এবার হেরা যেনো মনোযোগ দেয় কথায়, সে এতোক্ষন ভাবছিলো কিভাবে পারলো নাভান তাকে এমন কথা শুনাতে,অইদিন তো সে ইচ্ছে করে কিছু করে নি, অই শালার পুলিশ এর কুকুর এর জন্য, এমন হয়েছে,হেরার তো ইচ্ছে করছে,পেট মোটা পুলিশ কে ইচ্ছে মতো সায়েস্তা করতে পারলে কুকুর কে তার পিছে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ানি খাওয়াতে,সে তো অই শালা পুলিশ কে দেখে নিবে,শালা একটা কুকুর সামলাতে পারে না,সে পারবে দেশ এর মানুষ সামলাতে।হেরা খাটের উপর পা ভাজ করে বসে,তার পর দুই ভন্ডর দিকে চেয়ে বলে।
-কাহিনি কি বল তো?
“বইন” আর বলিস না,চকলেট হিরোর সাথে যে ছেলেগুলো ছিলো তাদের সাথেই আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত দেখাসাক্ষাৎ হইছিলো অই দিন শপিং মলে।
-কিহহহ!
অবাক হয়ে বলে হেরা!
হ বইন অই বেটাই ছিলো,অই দিন যে কিনা চুমু খেয়ে পালিয়েছিলো!!বেটা আজো পালিয়েছে।আমায় একটা থাপ্পড় ও মারতে দেয় নি। (রোজ)
“এটা তুই নাটক বা সিনেমা পাস নি যে থাপ্পড় মারবি,( হেরা)
” তাহলে কি করবো!(রোজ)
“যেহেতু ” আমাদের ক্যাম্পাসের ছেলে আর অই শেহতাজ খান নাভান এর ছেলেপেলে তাই, সরি বলে মিটমাট করে ফেলবি যেহেতু এটা একটা এক্সিডেন। (হেরা)
–হেরা যে কথা বলেছে তা কি করে করবে দুই ভন্ড,নাকি আবার কোনো গন্ডগোল করবে,দেখা যাক সামনে কি হয়।
“পাপা” তুমি নাভান কে আমার করে দাও পাপা!
মেয়ের কথায় হায়দার চৌধুরি বিব্রতকর অবস্থায় পরে যান,এই একটা মেয়ের জন্য সে কতো কিছু করছে, মেয়েটার সাথে একটা এক্সিডেন হবার পর মেয়েটা একেবারে চেঞ্জ হয়ে গেছে,লন্ডন থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এসেছিলো একবার, আর বিজন্যাস এর খাতিরে নাভান এর সাথে দেখা হয়ে যায়, এর পর থেকে নাভান বলতে মেয়েটা পাগল,এবার তো দেশে একেবারে চলে এসেছে,আর নাভান এর সাথে একই ভার্সিটিতে ভর্তি হলো,নাভান কে আগে থেকে সবটা জানায় হায়দার চৌধুরি, ব্যাবসার খাতিরের জন্য না,তিনি নাভান কে ব্যাসার বাইরে অনেক ভালোবাসে,আর নাভান ও হায়দার চৌধুকে খুব সম্মান করে, আর সেই সম্মান এর খাতিরে নাভান কিছু বলতে পারে না,ক্যাম্পাসে মাঝে মাঝে তিতির এর জন্য বাজে পরিস্থিতিতে পরতে হয়।কিন্তু নাভান খুব সাবধানের সহিত সব সামলে নেয়।
“আমি নাভান কে চাই পাপা?
-হ্যা মা নাভান তো তোমারি?
” না পাপা তাহলে সে আমায় ভালোবাসি বলে না কেনো?
মেয়ের কথায় কি জবাব দিবে হায়দার চৌধুরি,ভালোবাসা যে জোর করে হয় না,সেটা তিনি ভালো করে যানেন,তাই তো নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীর মারা যাবার পর আর বিয়ে করেন নি,এই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বেচে আছেন,তাও মেয়েটা কেমন উন্মাদ এর মতো আচরণ করে,যা পছন্দ তা লাগবেই,মেয়ের কথায় হায়দার চৌধুরি বলে।
“মা” মুখে বললেই ভালোবাসা হয়ে যায় না!!না বলেও ভালোবাসা যায়।আর সেই ভালোবাসার গভীরতা অনেক হয়।
“কিন্তু পাপা, তা বোঝবো কি করে।
প্রেমের বাজিমাত পর্ব ৫
” দেখবে যে তোমার কেয়ার করে কি না,তোমার খেয়াল রাখে কি না,তুমি ব্যাথা পেলে যত্ন করে কি না,
এবার তিথির এর মন খারাপ হয়ে যায়।
“কিন্তু বাবা,আমিও তো আজ ব্যাথা পেয়েছি হাতে কই নাভান তো আমার কেয়ার করে নি।
-অনেক সময় আমাদের হাতে সময় বা পরিস্থিতি এক রকম থাকে না যার জন্য বিশেষ মূহুর্তে ও মাঝে মাঝে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই।তাই বলে ভালোবাসা শেষ হয়ে যায় না মা।–
–মেয়েকে কতোটকু বোঝাতে পেরেছে জানে না হায়দার চৌধুরি। তিথির বাবার কথায় কিছু বলে না সে চুপচাপ চলে যায় নিজের রুমে।
