নীতিহীন রাজ পর্ব ৬১
আশিকা আক্তার সোহাগী
“যতনে রতন মিলে
কিছু নহে যত্ন বিনে”
এই সংসারের পা থাকে মাথা পর্যন্ত আমি যত্ন করেছি। কিন্তু রতন মিলেনি বোন।এই সংসার কখনোই আমার ছিলো না। এখানে নিজ ইচ্ছায় একবেলা ভাত খাওয়ার সুযোগ ছিলো না।কর্তৃত্বের যাতা কলে পিষ্ঠ হয়ে আমি আজ এই পর্যন্ত এসেছি।প্রথমে শ্বাশুড়ি তারপর স্বামী আর ছেলেদের এবং সবশেষে নাতীদের। আজ আমি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত।আমার মুক্তি নেই এই আজাব থেকে।ইদানীং মনে হয় এইদের পাপের ইমারত ভেঙে পড়তে বেশি দেরি নেই।আজ সকালে নিবিড় মেহেদীর মা*রামারিতে আমি নিশ্চিত হয়ে গেছি এটা।
বৃদ্ধার কথা শেষ হতেই জিয়ানা সাইড টেবিল থেকে টিস্যু এনে হাতে দিয়ে বলে,
-আশায় বাসা বাঁধতে হয় নানু।আচ্ছা সুখ কি জানে ওর বাবা মায়ের বিয়ে হয়নি?
মাথা দিয়ে হ্যাঁ বুঝায়।জিয়ানার বুক মুচড়ে উঠে।চোখের পাতা কেপে উঠে।এবং সেই সাথে সে রিয়ালাইজ করে বাবা মা নেই এই কথাটার চেয়ে বাবা মার বিয়ে বহির্ভূত জন্ম কথাটার ধার লক্ষকোটি গুন বেশি।উপমহাদেশের কোন সামাজিক মানুষ এই বোধ নিয়ে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে পারে না।জিয়ানার এই মুহূর্তেই নিবিড়কে প্রচন্ড ,প্রচন্ড ভালোবাসতে মন চাচ্ছে।পৃথিবীর সেরা ভালোবাসায় মুড়িয়ে দিতে ইচ্ছা হচ্ছে।
নিজের অনুভূতিকে দলামলা করে নিজের কাছেই রেখে প্রশ্ন করে ,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
-আমার মাথায় হাজার হাজার প্রশ্ন নানু।কোনটা ছেড়ে কোনটা করবো বুঝতে পারছি না।আচ্ছা স্বপ্না মা তো এখনো বেশ সুন্দরী তারমানে তখন আরও বেশি ছিলো।মামুর তবে এত আপত্তি কেনো ছিলো বিয়ের?
-স্বপ্না রাস্তায় দাঁড়িয়ে মামুনের গায়ে থুথু ছিটিয়ে দিয়েছিলো।তারপর থেকে ভালোবাসা অভিশাপে পরিনত হয়েছে।নিবিড়কে যেমন দেখছো তেজি ,জেদি আর বদমেজাজি। মামুন ঠিক এমন ছিলো। সাথে প্রচন্ড অহংকার। যে মেয়ে রাস্তায় তাকে থুথু দিয়েছে সেই মেয়েকে সে নিজের নামের সাথে জোরা লাগাবে না। সারাজীবন রক্ষিতা করে রেখে নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিবে।
বিয়ে করাতে না পেরে মাজাহারের আব্বা একটা নকল রেজিষ্টি প্রেপার বানিয়ে স্বপ্নার বাবার কাছে পাঠায়।আর স্বপ্না যেনো তার পরিবারকে সত্যি বলতে না পারে তাই নানা অযুহাত আর টহল দিয়ে স্বপ্নাকে নিজ পরিবারের থেকে দূরে রাখে।তখন স্বপ্নার মানুষিক সমস্যা এত বেশি বেড়ে যায় প্রায় আত্মহননের পথ বেছে নিতো।পাহারা আরও বাড়িয়ে দেয় তবুও মুক্তি দেয়নি ছোট খোকা।রেবেকা দুইবার পালাতে সাহায্য করায় রেবেকাকেও নিষ্ঠুর ভাবে প্রহার করে মামুন।আমি যদি বউদের পক্ষে দাঁড়াতাম তবে মাজাহারের আব্বা আমাকে তালাকের ভয় দেখাতো।বুড়া বয়সে এসে নিজেরস সংসারের মায়ায় এমন ভাবে পড়েছিলাম যে সকল অন্যায় মুখ বুঝে সয়ে গেছি।
জিয়ানা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
-সুখ কিভাবে জেনেছে?
-আমার শ্বাশুড়ি খুব গাল মন্দ করতো ওকে।শরীর যতদিন সুস্থ ছিলো খুব দূরছাই করতো বাচ্চাটাকে।প্রতিবার গালাগালির সময়ই বেজন্মা বলতো।কাছ গেলেই পাপ লাগবে বলে খেকিয়ে উঠতো।কিন্তু নিবিড় বুদ্ধি করে বাড়ির এই একমাত্র মানুষটার কাছেই শুধু বারবার ঘেঁষতো।উনার গালাগালি হাঁসি মুখে সহ্য করে হাদিসের বই নিয়ে সামনে বসে হাদিস পড়তো। তানাহলে সুন্দর সুর করে কুরআন তেলাওয়াত করতো। তাই বাধ্য হয়েই নূর জাহানা বেগমের গালাগালি বন্ধ রাখা লাগতো তখন। প্রতিদিন একই কাজ করতে করতে দুইজনের মাঝে কঠিন মহব্বত গড়ে উঠে।আর সেই মহব্বতের খাতিরে সব দিয়ে দিলো ওকে।এমন কি নিজের ব্যবহৃত শত বছরের ওক কাঠের ফার্নিচার পর্যন্ত নিবিড়ের নামে দিয়ে গেছে।তোমাদের রুমের ফার্নিচার গুলা কিন্তু দুইশো বছরের ঐতিহ্য। সেগুলা সূদুর অষ্ট্রেলিয়া থেকে আনা।
জিয়ানা হা হয়ে গেলো।সে দুইশত বছরের পুরানা খাটে ঘুমিয়েছে ভেবে।অবাক হওয়া মুখ নিয়েই প্রশ্ন করে ,
-সুখ জেনে কোন রিয়েক্টশন দেয়নি?
-আড়ালে কাঁদতো বাচ্চাকালে।নীলুফা কাছে টেনে আদর করে বুঝাতো।আমরাও কেউ ওকে ওভাবে কাছে টেনে নেয়নি।সত্যি বলতে বিয়ে ছাড়া জন্ম বলে আমাদের মেনে নিতে বেশ অনেক বছর সময় লেগেছে।তখন যে একটা গ্যাপ হয়েছে এরপর সেটা মিটেনি।নিবিড় কোনদিন আমাদের সম্মোধন করে কিছু ডাকেনি পর্যন্ত ।কাউকেই না।নীলুফাই ছিলো ওর ধ্যানজ্ঞান।
তবে একের পর সমন্ধ ভেঙে যাওয়াই আমার ভয় হওয়া শুরু করলো। পাত্রপক্ষের সামনে কখনো কখনো নিবিড় আম্মু বলে ডেকে উঠতো।আমি নিবিড়কে আড়ালে নিয়ে শাসাতাম।
মাজাহারের আর তার স্ত্রীর মনে বিষ ছিলো আমি প্রথম থেকেই জানতাম।নানা রকম সমন্ধ মাজাহার আনতো নীলুর জন্য।বেশিরভাগ খোঁজ নিলে দেখা যেতো বিগড়ে উচ্ছন্নে যাওয়া পাত্র।রুপকের সব খুঁজে বের করতো।অপরদিকে বাসায় নানা অঘটন ঘটতেই থাকতো।নীলুর শরীর স্বাস্থ্য খারাপ হতেই থাকলো।ডাক্তার কবিরাজে কোন কাজই হচ্ছিলো না।পড়াশোনা শেষের দিকে হলেও বিয়ে কিছুতেই দিতে পারছিলাম না।ওর বয়সী মেয়েদের তখন দুইটা করে বাচ্চা ছিলো।
এরপর ঘটে সবচেয়ে খারাপ ঘটনা। বাড়ির পাঁচ ছেলেই একসাথে নিখোঁজ হলো।একদিন পাড় হয়ে গেলেও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না।মাজাহারের আব্বা সহ বাড়ির সবাই ভেঙে পড়ে।এই সময় নীলু এসে বলে সেই কবিরাজের আস্থানায় খোঁজ নিতে।একজন সাধারণ কবিরাজ যে এতটা ভয়ংকর হতে পারে কেউ আমরা কল্পনাও করিনি।যতক্ষণে উদ্ধার করা হয় ততক্ষণে রনির জান চলে গেছে।আর নিবিড়ের পরিবর্তন হলো সবচেয়ে বেশি।মেহেদী রাফিন আর জনির সাথে সম্পর্ক রাতারাতি বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিনত হলো।সেদিকে নজর দেয়ার মতো সময় আর সুযোগ কোনটাই তখন ছিলো না আমাদের।
অপরদিকে পুলিশের হেফাজত থেকে কবিরাজ সহ শয়তানের পূজারীরা কিছুদিন পরেই খালাস পায়।কিন্তু মাজাহার পুত্র হারানোর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সেই গ্রুপের অধিকাংশকেই কোন একটা গোপন জায়গায় বন্দী করে ফেলে।আর সম্পত্তির জন্য মামুনকে চাপ দেয়া শুরু করে। নিবিড় নাবালক থাকায় আইন মতে তার নমিনি একমাত্র মামুনের হওয়ার কথা।কিন্তু মামুন তো আইন মতে নিবিড়ের বাবাই না।তখন মামুনের টনক নড়ে। আর মাজাহারের বুদ্ধিতে স্বপ্নাকে বিয়ের জন্য প্রেসার দেয়।স্বপ্না আবার তখন রুপকের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছিলো।তাই মামুনের অত্যাচার সহ্য করেও বিয়েতে রাজি হয় না।
তাই মাহাজার আর মামুন বুদ্ধি করে আগে রুপককে সরাবে।আর স্বপ্নাকে কালোজাদুর বসে কাঠপুতুল বানিয়ে ফেলে মাজাহারের স্ত্রী।ওদের ইচ্ছা ছিলো নীলুকে মেরে তারপর নিবিড়কেও পথ থেকে সরিয়ে দেয়া।সেই সময় পরিবারের এমন এলোমেলো ঝড় শুরু হয় ,আমি দিশাহারা হয়ে উঠি কাকে ছেড়ে কাকে ধরবো।কাকে আগলিয়ে নিবো।প্রায় প্রতিদিন মাজাহারের স্ত্রী পান থেকে চুন খসলেই নিবিড়কে কঠিন শাস্তি দিতো।নিজেরা না পারলে মামুনকে উস্কাতো।নীলুফার শরীর তখন অনেক বেশি খারাপ থাকায় নিবিড়কে আগলিয়ে রাখতে পারতো না।আর স্বপ্না থাকতো অর্ধ জাগ্রত আর অর্ধ ঘোরে।
অপরদিকে রুপপের চোখ সবই ধরতে পারতো বিধায় প্রতিবাদ করতো। নিবিড়ের ট্রিটমেন্ট করাতো।মাজাহার মামুনকে বুঝালো ,রুপক স্বপ্না না হলে নীলুকে বিয়ে করে সম্পত্তির মালিক হওয়ার প্ল্যান করছে।সাথে পার্টি অফিসেও তার জয় জয়কার অবস্থা।তাই তাদের আব্বাকে ভুল বুঝানো শুরু করলো দুই ভাই মিলে। দল থেকে বাদ দেয়ার পরেও রুপকের সাপোর্টার আরও বেশি হয়ে গেলো।দল ভাগ হওয়ার যোগাড়।বাড়ি আর বাহির দুই জায়গাতেই মামুন মাজাহারের নড়বড়ে অবস্থায় তারা তাদের আব্বাকে নীলুফাকে দিয়ে রুপকের নামে ভুল বুঝালো। আর এর প্রেক্ষিতে রুপককে হ*ত্যা করার পারমিশন দিয়ে দেয়।
রুপককে নিয়ে মাজাহার বন্দী করলো সেই শয়তানের গ্রুপের সাথেই।সেখানে অকথ্য নির্যাতন চালায় রুপকের উপর।রুপক আসলে আলাদা কোন ধর্মের ছিলো না।ওও জানতো না ওর ধর্ম কি। তাই বন্ধুবান্ধবদের সাথে তাদের সব ধর্মই পালন করতো।তবে গরুটা খেতো না।মাজাহার সেই জুলুমটাই ওর উপর করে বন্দী থাকা অবস্থায়।তিনদিন পর পর না জানিয়ে গরুটাই খেতে দিতো।প্রচন্ড ক্ষুধায় যখন ছেলেটা দ্রুত খেয়ে ফেলতো সব ,তখন মাজাহার হাঁসতে হাঁসতে বলতো “গরু খেয়েছিস” খাওয়াটা দশ মিনিটও পেটে রাখতে পারতো না। বমি করে ভাসিয়ে দিতো।
লম্বা সময় কথা বলে থাকমেন বৃদ্ধা।আবার ডুকরে কেঁদে উঠলো।জিয়ানা পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-তুমি এসব কার কাছে শুনেছো?
চোখ থেকে চশমা খুলে সেটা টিস্যু দিয়ে মুছতে মুছতে উত্তর দেয়,
-রুপক প্রায় এসে আমার পায় জড়িয়ে ধরে একা একাই এসব বলতো আগে।ইদানীং আসে না। আমি ওকে না ঘৃণা করতে পারি আর না কাছে টেনে নিতে পারি।
জিয়ানার গা ঘিনঘিন করা শুরু হলো মাজাহারের প্রতি ঘৃণায়।সম্পত্তির লোভে পড়ে মানুষ কতটা অমানুষে পরিনত হতে পারে। ঘৃণা নিয়েই প্রশ্ন করে ,
-তারপর?
-তারপর রুপক নিজেও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে।সেখানকার শয়তানবাদিদের সাথে কৌশলে হাত মিলায়। একটা চুক্তি করে তারা নীলুফাকে তার হাতে তুলে দিবে। বিনিময়ে এই পরিবারের ছেলেদের তাদের কে দিয়ে দিতে হবে।প্রয়োজনে পুরা পরিবারকে জ্বলসিয়ে দিবে।রুপক নিজেই আমাকে বলে,
-শয়তানবাদিরা অধিকাংশই বিদেশী ছিলো।এবং তাদের টাকার সাপোর্ট ছিলো অস্বাভাবিক রকম স্ট্রং।যেকোন ব্যাক্তিকে একতুড়িতে কিনে ফেলতে পারতো তারা। তাছাড়া হিপনোটাইজেও দক্ষ ছিলো।
অন্যদিকে মাজাহারকে রেখে পার্টি অফিসে রুপকের পদ মামুনকে দেয়াই মাজাহারের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়।বিরোধীদলের সাথে মিলে নিজ পরিবারকেই হ*ত্যার প্ল্যান করে।আমার পেটে ধরা সন্তানেরা এমন হবে জানলে জন্মের সময় মুখে মধুর জায়গায় লবন দিয়ে মে*রে ফেলতাম।
বলে উম্মে কুলসুম অকুল হয়ে কান্না শুরু করলো। জিয়ানা উঠে যায় বসা থেকে।সে বুঝতে পারছে পরবর্তীতে কি কি হয়েছে।মাথার ভেতর কেমন ভোতা যন্ত্রণা টের পাচ্ছে ক্রমস।মাথা ঘুরিয়ে দেখে সত্তোরের উপর বয়সী বৃদ্ধাকে।কি ভীষণ কষ্ট আর হাহাকার ময় দগদগে আঘাত এদের প্রত্যেকের হৃদয়ে।আহা অর্থ সম্পদ। যেই সম্পত্তি জীবনের সুখ শান্তি আর স্বস্তি কেড়ে নেয় ,সেই সম্পত্তির মুখে আগুন।এই সম্পত্তি না থাকলে তার মা ,স্বামীর জীবন আজ আর চার পাঁচ জনের মতো সহজ স্বাভাবিক হতো।
উম্মে কুলসুম নিজেকে ধাতস্থ করে আবার বলা শুরু করে ,
-ঘটনার দিন হঠাৎ করেই বাসার গার্ড বদলে গেলো।আমি ওতে মাথা ঘামাইনি।কারণ মাজাহার নিজেই বলেছে আগের গুলা ফাকি দিচ্ছে তাই নতুন সব চাকরি দেয়া হয়েছে।সকালের নাস্তার পর আবার দেখি ড্রামে ড্রামে তরল জাতীয় কিছু জিনিস এনে গার্ডেন এরিয়ায় রাখা হচ্ছে।সেদিন মাজাহারের আব্বার শরীর খুব একটা ভালো ছিলো না। তাই আমি উনাকে এসব কিছু জিজ্ঞেস করিনি।এরপর সারাদিন স্বাভাবিক। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ সারাবাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলো। ল্যান্ডফোনের লাইন কাটা। দরজা জানালা সব বন্ধ বাহির থেকে আলো আসার কোন রাস্তা নেই।মোবাইলের তেমন প্রচলন ছিলো না। পুরুষদের হাতে বাটন ফোন ছিলো শুধু। আমি মাজাহারের আব্বার ফোনের লাইট জ্বালিয়ে বাহিরে বের হয়ে যা দেখি তাতে আমার রক্ত হিম হয়ে যায়।নিচে লাল আলখাল্লার পড়া একদল আর মুখে কালো কাপড় বাঁধা আরেকদলের মাঝে রক্তারক্তি যুদ্ধ চলছে।আমার হাত কেপে ফোন ছিটকে পড়ে যায় নিচে।
বৃদ্ধা এবার এখানেও কাপা শুরু করলো। জিয়ানা গিয়ে আগলে নেয় নিজের দুই হাতে।উনার কম্পন বাহিরেও ছিটকে বেড়িয়ে আসছে।জিয়ানা আস্তে করে বলে,
-নানু থাক বলতে হবে না।আমি বুঝে গেছি।তুমি শান্ত হও।
কাপা গলায় বলে,
-শুরু যখন করেছি শেষ আজ করবো। আমি কাউকেই কখনোই বলিনি আমার পরিবারের এই নৃশংস দিনের কথা।আমি বলিনি আমার পরিবারের বড় শত্রু আমার পরিবার নিজেই।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠে বেড সাইট টেবিল থেকে পানি নিয়ে পান করে আবার শুরু করেন ,
-সেদিন প্রথমবার নিবিড় আমাকে সম্মোধন করে। পাশ থেকে হাত ধরে টেনে ধরে আমাকে বলে” দিদুন তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে আসো। কুইক। “একপ্রকার টেনেই আমাকে তিনতলার স্টোর রুমের সাইডে পুরাতন জিনিস রাখার সিক্রেট চিপা রুমে এনে বলে”নড়াচড়া করো না। আমি অন্যদের খুঁজে আনছি।”পেছন থেকে স্বপ্না এসে টেনে ধরে বলে” বাবু এখানেই থাকো তোমার খোঁজা লাগবে না। ”
দশ বছরের একটা বাচ্চার কি তেজ আমি সেদিন আমরা দেখেছিলাম।স্বপ্নার হাত ছাড়িয়ে বলে” স্বপ্না আম্মু ছেলেদের বিপদ দেখতে লুকিয়ে থাকা মানায় না।”
বলার পর এক মিনিট দাঁড়ায়নি।আমরাও ওর পেছন পেছন আসি।ততক্ষনে কয়েকজন গার্ডের টর্চ লাইটের আলোতে অন্ধাকারের ঘনত্ব কমেছে।দোতলায় দাঁড়িয়ে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখে বুঝার চেষ্টা করি এটা কি আমার বাড়ি নাকি কারবালার ময়দান।মাজাহারের আব্বা বের হয়ে এলে সাথে নীলুফাও বের হয়ে আসে।এরপর দরজা দিয়ে মামুন হুড়মুড় করে ঢুকে।ইতিমধ্যে দশ বারোজন কাটা গরুর মতো গোঙাচ্ছে আর ছটফট করছে ফ্লোরে পড়ে ।আহাজারিতে সারা বাড়ির দেয়াল চিরে যাওয়ার যোগাড়।মাজাহারের ঘর থেকে জনি দৌঁড়ে বের হয়ে এলে পেছন পেছন মাজাহার আর তার স্ত্রীও বের হয়ে আসে।মেইন দরজায় মামুন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ,সিঁড়ির কাছে মাজাহার তার স্ত্রী আর জনি দাঁড়িয়ে। ভাঙা ডাইনিং এর কাছে নীলুফা আর মাজাহারের আব্বা দাঁড়িয়ে। দোতলায় আমি স্বপ্না নিবিড় আর মেহেদী দাঁড়িয়ে। মাঝখানে অচেনা কতগুলা মানুষ নিজেরা কাটাকাটিতে ব্যাস্ত।ভাগ্যক্রমে সেদিন লতা আর মাইমুনাকে নিয়ে রেবেকা তার ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলো।রাফিন বায়না ধরে সেও যায় সাথে।
রান্নাঘর থেকে কুন্ডলী কুন্ডলী ধোঁয়া বের হতে থাকে।সকালের আনা ড্রাম কয়েকটা দেখি সোফার পাশে উপুড় হয়ে পড়া।একটা থেকে চুয়ে চুয়ে তরল পড়ছে ফ্লোরে।জানালা ভেঙে রুপক ঢুকে ভেতরে। হাতে মাথা ছাড়া দা।রুপকে দেখে মামুনের মাথায় আগুন ধরে যায়।তেড়ে গিয়ে রুপককে ধরার আগেই পেছন থেকে একজন দা দিয়ে মামুনের বাহুতে আঘাত করে। আমার মনে হয়েছে সেই আঘাত সরাসরি আমার মস্তিকে লেগেছে।মামুন গর্জে উঠে ফ্লোরে পড়ে যায়। আর চিল্লিয়ে বলতে থাকে,
-রুপক সব তোর প্ল্যান তাই না? সব শেষ করতে এসেছিস?প্রতিশোধ নিতে এসেছিস?
রুপক এসে মামুনের বুকে এলোপাতাড়ি লা*ত্থি দিতে থাকে।আর বলতে থাকে,
-তোরা দুই ভাই মিলে এসবের প্ল্যান করে সব দোষ আমার ঘাড়ে ফেলতে চাচ্ছিস তাই না?
এরপর যা ঘটে তা দেখে আমি দুনিয়াতে ছিলাম না। নিবিড় প্রথম বারের মতো আব্বু বলে চিৎকার করে ছুটে যায় মামুনের দিকে।পরিবারের একটা মানুষও যখন নিজের জায়গা থেকে নড়তে পারছে না,তখন নিবিড় সব পাড় করে মামুনের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে চিল্লাতে থাকে। এরমাঝে মাজাহার ফ্লোর থেকে বড় চা*কু তুলে সোজা তার আব্বার বুকে গেথে দেয়।আর মাজাহারের স্ত্রী গিয়ে নীলুর চুল ধরে রান্না ঘরের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
কি হচ্ছে কেনো হচ্ছে আমার বোধ হওয়ার আগে আমি ঢলে পড়ি ফ্লোরে। তবে নিভু নিভু চোখে দেখি নিবিড় অদূরে পড়ে থাকা একটা দা নিয়ে রুপকের ডান হাতে কুপ দিয়েছে।এদিকে মুখোশ পড়া লোক সব ফ্লোরে পড়ে গেছে। আলখাল্লা পড়া লোকেরা কি সব ভাষায় কথা বলে ইশারা করে স্বপ্নার দিকে।আর স্বপ্না কাঠপুতুলের মতো হাটা শুরু করে সেই ধোঁয়ার দিকে।মাজাহারের আব্বা রুপককে চিল্লিয়ে বলছিলো যা আমার কানে স্পষ্ট আজো বাজে,
-রুপ আমার পরিবারটাকে বাঁচা বাবা। আমার বংশকে নির্বংশের হাত থেকে বাঁচা বাবা।আমি ভুল করেছি ,আমার পাপের শাস্তি দেখ আমি পাচ্ছি। আমার নাতিদের দায়িত্ব তোর উপর দিয়ে গেলাম।মাফ করে দিস রুপ…
আমি হামাগুড়ি দিয়ে কিভাবে যেনো উনার কাছে পৌঁছায়। উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে বলে,
-মাফ করে দিয়ো কুসু। আমি সবচেয়ে বেশি তোমার সাথে অন্যায় করেছি।দেখো নিজ সন্তানের হাতে প্রান যাচ্ছে এর চেয়ে আর কি কঠিন শাস্তি হতে পারে? আজ তোমার ছেলেদের হাতে আমার পরিবার শেষ হবে কুসু।এরজন্যই কি সারাজীবন খেটে আসলাম? যদি তোমরা বেঁচে থাকো তবে বাহিরের শত্রুদের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না। কারণ বংশের পুরুষহীন হয়ে যাওয়াই সবাই লুটপাট শুরু করবে।রুপকে ছেলের পরিচয় দিয়ো কুসু।আমার রক্তকে শেষ হতে দিয়ো না।ভাইরা সব ওঁত পেতে আছে একটা সুযোগের।
এরপর দুইটা হেচকি তারপর সব চুপ।আমি কেনো জানি সেদিন কাঁদতে পারিনি জিয়ানা।কেনো জানো? আসলে আমি কার কার জন্য কাঁদবো? কোন কোন কষ্টের শোক পালন করবো?
পরের দৃশ্য আরও নৃশংস। মাজাহার যেনো একজন পিচাশ।যাকে সামনে পাচ্ছে কাতিল করে যাচ্ছে।যেনো কচু কাটা করছে সব।আমার মামুন অশান্ত জেদি রাগী ছিলো। কিন্তু মাজাহার চিরকাল ঠান্ডা মাথার মানুষ ছিলো।আমি চিনতে পারছিলাম না আমার ছেলেকে।রান্নাঘরে নীলুফার আহাজারি শুনে রুপক সেদিকে পা বাড়ায়।কিন্তু মাজাহার তাকে বাঁধা দেয়। আমার সারাশরীর র*ক্তে ভিজা।আমি যেনো অথর্ব একজন পঙ্গু আর বোবা মানুষ।
রপক মাজাহারের সাথে পেরে উঠছিলো না।পেছন থেকে আলখাল্লা পড়া একজন এসে মাজাহারকে আঘাত করে। এরমাঝে জনি আর মেহেদীকে দুইজন আটকে ফেলেছে।তারা যে কালোজাদুর দল সেটা তাদের শরীর দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো। স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা স্বাস্থ্যবান এক একজন।
আমি নিস্পৃহ হয়ে চারপাশ দেখি।সাদা মোজাইকের ফ্লোর যেনো লাল গালিচা।রক্তের গন্ধে নূর ম্যানসন যেনো যুদ্ধের ময়দান।রুপক রান্নাঘর থেকে নীলুফাকে ধরে ভাঙা জানালা দিয়ে বের করে বাহিরে নিয়ে যায়।তার নিজের হাত একটা ঝুলছে কোনরকম শরীরের সাথে।
রুপক বাহিরে যাওয়ার পর স্বপ্না বের হয়ে আসে অর্ধনগ্ন হয়ে। কপালে লাল রং মাখা আর হাতে খর্ব ,খোলা এলোমেলো চুল।স্বপ্নাকে এই অবস্থায় দেখে নিবিড় দৌঁড়ে যায় তার কাছে।গিয়ে আম্মু আম্মু করতে থাকে।জড়িয়ে ধরে নিজের মাকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলো।কিন্তু স্বপ্না নিবিড়কে টান দিয়ে ছাড়িয়ে গলায় খর্ব ধরে।
মেহেদিকে মাজাহার টেনে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে গলায় পাড়া দিয়ে ধরে। মামুনের হুংকার বাড়ে।অসার শরীর টেনেও নড়াতে পারে না।চিল্লিয়ে বলতে থাকে,
-আমার সন্তানদের মে*রো না।আমাকে মে*রে ওদের ছেড়ে দাও।স্বপ্না আমাদের ছেলে ওও নিবিড়? আমি তোমাকে ভালোবাসি স্বপ্না। সেই অনেক দিন থেকেই।বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোন সম্পর্ক কি জগতে আছে? আমি তোমাকে যেদিন থেকে ভালোবাসি সেদিন থেকেই বউ মানি।বন্ধুদের কাছে ছোট হওয়ার ভয়ে আমি তোমাকে স্বীকৃতি দিতে চাইনি।তুমি ওকে ছেড়ে দাও।আমাকে মে*রে দাও।ওর জন্মে তো ওর হাত নেই।সব দ্বায় আমার।
মাজাহারের দিকে তাকিয়ে আকুতি মিনতি করতে থাকে।স্বপ্নার খর্ব বসে যায় নিবিড়ের গলায়।নিবিড় নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলো না।এরমাঝে মাজাহার নিজের ছের জন্য চিল্লিয়ে বলছিলো ,
-জনিকে ছাড় না হলে সবাইকে শেষ করে দেবো।
রুপক তখন আবার ভেতরে ঢুকে দেখে সবাই সবাইকে আটকিয়ে দাঁড়িয়ে।আলখাল্লা পড়া লোকটাকে বলে,
-তোদের মামলা বড়দের সাথে বাচ্চাদের ছাড়।
কিন্তু তারা রুপকের কথা না শুনে জনিকে সবার সামনে জ*বাই করে ফেলে।বাচ্চাটার ছটফট আমি নিজের চোখে দেখি।তারপর আমার শরীরে কি যেনও ভর করে। একটা লাশের পাশ থেকে বড় রাম*দা কুড়িয়ে নিয়ে আগানোর আগেই মাজাহারের স্ত্রী আমার রাস্তা আটকায়। সে মা হয়ে নিজের সন্তানের করুন দৃশ্য দেখেও অবিচল ছিলো।কিন্তু চোখ বন্ধ থাকায় বুঝি হিপনোটাইক করা সেও।আমি আর অন্যকিছু ভাবিনি হাতের অস্ত্র দিয়ে সরাসরি আঘাত করি তাকে।তারপর আলখাল্লা পড়া লোকটার দিকে যাওয়ার আগেই মাজাহার মেহেদী আরও চেপে ধরে আহাজারি করে বলতে থাকে,
-আমার কাউকে বাঁচলো না যেহেতু তোরা বেঁচে থেকে কি করবি?
অপরদিকে নিবিড়ের গলা চিরে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।মামুন কোন শক্তিবলে ওই শরীরে এসে স্বপ্নাকে থা*প্পড় দিয়ে ফেলে দিয়ে নিবিড়কে আগলিয়ে নেই বুকে।বাপ বেটা একসাথে লুটে পড়ে ফ্লোরে। মাজাহার মেহেদী ফ্লোরে আছড়ে ফেলে মামুনের কাছে এসে হাতের ছু*রি দিয়ে ইচ্ছা মতো কু*পাতে থাকে। আমি তখন উন্মাদ। আমার মাথায় হাজার হাজার পোকা কিলবিল করছে।ঘোরে হেটে মামুনের কাছে যায়।মাজাহারকে কিলিয়েও ছাড়াতে পারিনি মামুনের উপর থেকে।মামুনের রক্ত বমি শুরু হয়। মেহেদী অখত হওয়াই নিজে এগিয়ে এসে নিবিড়কে টেনে জানালা দিয়ে বাহিরে বের করে।
রুপক মামুনের উপর থেকে মাজাহারকে টান মেরে ছিটকে ফেলে দেয়।মাজাহার ছিটকে পড়ে একটা খাড়া করে রাখা দা এর উপর।
আমার শরীরের তখন তাদের পিতার র*ক্ত শুকিয়ে গেছে। কিন্তু আবার নতুন করে মামুনের র*ক্তে ভিজতে শুরু করলো।সবশেষে দরজা খুলে পার্টির কিছু ছেলেপেলে এসে পৌঁছায়।ফ্লোরে তখন র*ক্ত আর ড্রাম থেকে চুয়ে পড়া ক্যামিকেলে টাকনু সমান তরলের স্রোত।মামুনকে সোজা করে দেখি মুখ গলে যাচ্ছে।রুপক চিল্লিয়ে বলতে থাকে এগুলা এসিড। আম্মা সরে আসুন।আমি সরে আসি কি করে?আমি তো আমার পুত্র আর স্বামীর সাথে লাশ হয়ে গেছি।আমার আত্মা ঘরের ছাদ পর্যন্ত উঠে থমকে আছে।
রুপক আর পার্টির ছেলেরা মিলে আলখাল্লা পড়া সবাইকে একে একে শেষ করলো।
এরপর জীবনের নাটক আরও কঠিন।রুপক নিজের পরিচয় বলি দিলো নিজ হাতে।ড্রাম ভর্তি এসিড নিজ মুখে ছিটিয়ে দেয়।মামুনকে রুপক আর রুপকে মামুন পরিচয় দিয়ে দুইজন দুই এম্বুলেন্সে উঠে যায়।আর আমাকে আর স্বপ্নাকে রুমে এনে দরজা ভেতর থেকে আটকিয়ে রাখে।আমি সেদিন রাগে কষ্টে স্বপ্নাকে ইচ্ছা মতো চ*র থা*প্পড় দেই।স্বপ্না আগের মতোই অবিচল স্তব্ধ ছিলো।
এরপর বাহিরে কি হয়েছে আমি জানি না।কতদিন বা মাস বছর গেছে কিভাবে আমি বুঝতে পারিনি।একদিন শুধু মনে হলো আমার নীলুফা কোথায়? কে যেনো বলল,
-জন্মের সময়ই যদি নীলুফাকে কবিরাজের হাতে দিয়ে দিতেন তবে আর এত গুলা মানুষের প্রাণ যেতো না।অভিশাপ লেগেছে।আমার দূর্বল মন যে যা বলে সেটাই মেনে নিয়েছিলো তখন।আমি নিজ থেকে নীলুর খোঁজ নেয়নি।তবে ওর জুয়েলারি আর এফডিআর সব স্বপ্নার মাধ্যমে পৌঁছে দেই।
নিবিড় প্রায় দুইবছর কোমায় ছিলো হাসপাতালে।নিবিড় আসার আগে রুপ ফিরে আসে মামুন হয়ে।আমি সেই যে একবার দেখেছিলাম সেই যে চেহারা আর তাকানোর সাহস হয়নি।নিজেকে শক্ত করে সাংবাদিকদের সামনে মাসখানেক পর আমি প্রেস ব্রিফিং করি।সব দোষ বিরোধী দলের উপর দিয়ে ,পাশে মামুন রুপি রুপ কে নিয়ে।অগনিত কাটা ছেড়া সংসারকে আবার জোড়া দেয়ার চেষ্টা করি।আমার স্বামীর শেষ আদেশ মেনে এখনো চলছি।কিন্তু নূর ম্যনাসনে আর থাকা যাচ্ছিলো না।সবারই চোখে শুধু সেদিনের দৃশ্য ভেসে উঠতো।তাই রুপ এসেই আগে এই ম্যানসনের কাজে হাত দেয়।
জিয়ানা মাথা নিচু করে রেখেছে।তার পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব হচ্ছে না কিচ্ছু।এখানে কে দোষী? কে নিরপরাধ? কে কাকে বাঁচিয়ে কে খু*নি হলো? এত এত কমপ্লেক্সিসিটি কেনো?
এতক্ষণে কুলসুমকে একটু স্বাভাবিক লাগছে।কিন্তু অস্বাভাবিক হয়ে গেছে জিয়ানা।তার মাথার যন্ত্রণা সমানুপাতিক হারে বাড়ছে। তীব্র যন্ত্রনার মাঝেই দরজায় নক হয়।জিয়ানা ভোতা মাথা নিয়েই উঠে যায় দরজার দিকে।
মাইমুনা কঠিন মুখে দাঁড়িয়ে আছে দরজায়। হাতে ফোন জিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে ,
নীতিহীন রাজ পর্ব ৬০
-দেখো?
জিয়ানা অনিচ্ছা স্বত্তেও ফোন হাতে নিয়ে দেখে রুহানী আর নিবিড় বেশ ঘনিষ্ঠ ভাবে বসে আছে।রুহানী খোলামেলা পোশাক পরিহিত। জিয়ানা বিরস বদনে ফোন ফেরত দেয় মাইমুনাকে।মাইমুনা বলে,
-এই বাড়ির ছেলেদের এটা কমন সমস্যা। ঘরে বউ রেখে বাহিরে ফুর্তি করা।এমপির মেয়ের বাংলোতে তারা।রুহানী না কি যেনো নাম তার ব্যাক্তিগত আইডি দিয়ে এই ছবি আপলোড দিয়েছে।
জিয়ানা বের হয়ে যায় ঘর থেকে।প্রচন্ড মাথা ব্যাথা আর নিজের মাঝের ঝড় থামানোর একমাত্র ওষুধ জিয়াউলের মোটিভেশন।
