তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫৩
নওরিন মুনতাহা হিয়া
____ হঠাৎ আদ্রিয়ানের কণ্ঠে এমন মিথ্যা অযুহাত শুনে অবাক হয়ে যায় মেঘ। চোখ বড় বড় করে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়! কিন্তু আদ্রিয়ান যথেষ্ট শান্ত তার ঠোঁটের কোণায় মৃদু হাসি। কথাগুলো জিয়ার কতটুকু বিশ্বাস হয়েছে তা তার মুখের আদলে ফুটে উঠল না! জিয়া সন্দেহ প্রবল তীক্ষ চোখে ‚ আদ্রিয়ানের কথা বলার ধরণ পর্যবেক্ষণ করল। কিন্তু তার সন্দেহ আর বাড়ায় না! কারণ নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ফারহানের প্রপোজের ঘটনা সে নিজ চোখে দেখেছে। মেঘ ফারহানকে ভালোবাসে! তাছাড়া আদ্রিয়ান বাংলাদেশে থাকা তার বিবাহিত স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়াবে না। এই কথা বলেছে! যদিও আদ্রিয়ানের কথা এখনও জিয়ার বিশ্বাস হয়না।
চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা জিয়ার প্রতিটা পদক্ষেপ আদ্রিয়ান পর্যবেক্ষণ করে। পরিস্থিতি নিজ আয়ত্তে নিয়ে আসার জন্য পুনরায় সে প্রশ্ন করে
“জিয়া‚ তুমি এখানে কি করছ? এতো সকালে?”
আদ্রিয়ানের প্রশ্নে জিয়ার হুঁশ ফিরে! জিয়া উত্তর দেয়
“কেন আদ্রিয়ান? আমি কি এই বাসায় আসতে পারি না?”
“অবশ্যই আসতে পার? চল ড্রয়িং রুমে বসে কথা বলি! তুমি কি সকালের নাস্তা করেছ জিয়া?”
মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ _ বোধক সম্মতি দিয়ে বলে উঠে
“হুম‚ সকালের নাস্তা করে বাসা থেকে বের হয়েছি।”
হঠাৎ জিয়ার উপর আদ্রিয়ানের যত্নশীল হয়ে যাওয়ার বিষয়টা নজর এড়ায় না মেঘের। রাগে দাঁত কটমট করে তাকয় সে পাশে থাকা আদ্রিয়ানের দিকে? সাহস কতো বড়ো? নিজের বউয়ের সামনে অন্য মেয়ের প্রতি কেয়ার দেখাচ্ছে? রাগে ‚ হিংসায় মেঘের শরীর জ্বলে উঠে! আড়চোখে আদ্রিয়ান তাকায় মেঘের দিকে? রাগে জ্বল জ্বল করে উঠা মেঘের দুই চোখ দিয়ে যেন ভস্ম করে দিবে তাকে। ভয়ে শুকন ঢুক গিলল আদ্রিয়ান! এই মুহূর্তে রান্নাঘরে থাকা নিরাপদ নয়‚ তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে! আদ্রিয়ান ভয়ে কণ্ঠ তাড়াহুড়ো করে বলে উঠে
“মেঘ‚ তুমি নাস্তা টেবিলে দাও! আমি আর জিয়া ড্রয়িং রুমে গেলাম। ”
আদ্রিয়ান আর কথা বাড়ায় না দ্রুত বড় বড় পা ফেলে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে যায়। পিছনে জিয়াও যায়! কিন্তু হঠাৎ রান্নাঘরের দরজায় গিয়ে জিয়া পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে বলে উঠে
“মেঘ‚ পাউরুটি আবার পুরিয়ে ফেল না। সাবধানে নিয়ে এসো। আদ্রিয়ান কিন্তু পোড়া খাবার খেতে পারে না‚ ওর কষ্ট হবে।”
জিয়ার বলা এই সাধারণ কথায় যেন‚ মেঘ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। “আদ্রিয়ান পোড়া খাবার খেতে পারবে না, ওর কষ্ট হবে” মাই ফুট! মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। তার স্বামীর কোন খাবার খাবে? তা কি এখন জিয়া ঠিক করে দিবে? যতসব আদিখ্যেতা? পাউরুটির বদলে ইচ্ছা করছে এই দুইজনকে ওভেনে দিয়ে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলতে! মেঘ দাঁত কটমট করে বলে উঠে
“ডোন্ট ওরি জিয়া! পাউরুটি পুড়বে না কিন্তু অন্যকিছু ঠিকই পুড়বে! আবার খুনও হতে পারে?”
রাগী রাগী কণ্ঠে বলা মেঘের কথার মানে বুঝল আদ্রিয়ান সামান্য ভয় পেল! কিন্তু কোন কথার মানে জিয়ার বোধগম্য হল না। জিয়া প্রশ্ন করে
___ মেঘ, তুমি কি বললে? পাউরুটি! খুন? মানে?
জিয়ার প্রশ্নের উত্তরে মেঘ কোন কথা বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ান দ্রুত বলে উঠে
___ জিয়া তুমি কেন মেঘের কথা শুনছ? ও এখন ডক্টরি নিয়ে পড়াশোনা করছে তাই পোড়া! খুন এইসব উদ্ভট শব্দ মাথায় আসে। তুমি চল এখান থেকে।
দ্রুত জিয়ার হাত ধরে রান্নাঘর থেকে বের করে নিয়ে যায় আদ্রিয়ান। মেঘ তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে! রাগে, জেদে পাশে থাকা টেবিলে শব্দ করে ঘুষি দেয়, হাতে মৃদু ব্যাথায়ও পায়। কিন্তু শরীরে থাকা রাগের চেয়ে ব্যাথার পরিমাণ খুবই সামান্য! এরপর ওভেনে থেকে পাউরুটি বের করে খাবারের প্লেটে সাজিয়ে রাখে। সিদ্ধ ডিম আর পাউরুটি হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আসে।
ড্রয়িং রুমের ছোফায় আরাম করে বসে গল্প করছে আদ্রিয়ান আর জিয়া। তারা দুইজন হাসপাতালের বিষয়ে কথা বলছে! জিয়ার সুইসাইড সহ আরও বিভিন্ন কারণে হাসপাতাল থেকে রিজাইন করেছিল আদ্রিয়ান। তাই হাসপাতালের বিষয়ে কথা বলতে এসেছে। তবে জিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আদ্রিয়ানের সাথে দেখা করা। বারবার আদ্রিয়ানের দুই চোখ রান্নাঘরে থাকা মেঘকে দেখার চেষ্টা করছে। তাদের দুইজনের কথা বলার মাঝে মেঘ উপস্থিত হয় আর বলে
___ আদ্রিয়ান স্যার, খাবার রেডি হয়ে গেছে। টেবিলে আসুন।___.
আদ্রিয়ান মেঘের দিকে তাকায়।মুখ ভেংচি কাটে মেঘ! জিয়া বলে
___ আদ্রিয়ান তুমি খাবার খেতে যাও। আমি ছোফায় বসে অপেক্ষা করব।___
ছোফায় ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আদ্রিয়ান। খাবার টেবিলে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায়। মেঘ সৌজন্যে বোধ দেখিয়ে বলে
___ জিয়া ম্যাম। আপনিও চলুন খাবার খাবেন! সবাই একসাথে নাস্তা করি __.
মেঘের কথায় জিয়া রাজি হতে পারল না। সকালের নাস্তা খেয়ে এখন তার আর কোন খুদা লাগেনি! জিয়া বলল
__ না মেঘ। আমার এখন আর খুদা নাই। সকালে নাস্তা করে বাড়ি থেকে বের হয়েছি।
___ সামান্য নাস্তা হলেও।
___ সরি মেঘ। বাট এখন সম্ভব হবে না। আমার পেটে একটুও জায়গায় অবশিষ্ট নাই। তোমরা যাও নাস্তা কর।
মেঘ আর জোর করল না খাবার খেতে টেবিলে চলে গেল। জিয়া ছোফায় বসে পাশে থাকা রিমোট দিয়ে টিভি ছেড়ে দিয়ে ইংলিশ মুভি দেখা শুরু করে দিল! টেবিলে বসে আদ্রিয়ান পাউরুটি হাতে নিয়ে খুব মনোযোগ সহকারে দেখছে! নাক দিয়ে শুকে নেয়। রাগে, প্রতিশোধে যদি মেঘ কোন পুড়া, নষ্ট পাউরুটি খেতে দেয় তখন? আবার খাবারে ইদুঁর মারার বিষ মিশিয়ে দিতে পারে। আদ্রিয়ান তাই সর্তকার সহিত পাউরুটি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
__ খাবার টেবিলে উপস্থিত হয় মেঘ। পাউরুটির দিকে তীক্ষ দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেঘ অবাক হয়। কিছুক্ষণ পর ঘটনার মানে বুবল, এগিয়ে এসে পাএে থাকা পাউরুটি আদ্রিয়ানের প্লেটে দিয়ে বলে
___ পাউরুটি পোড়া বা নষ্ট নয়! মেঘ কোন মানুষকে পোড়া রুটি খায়িয়ে কষ্ট দিতে পারবে না! নাটক বাদ দিয়ে খাবার খাওয়া শুরু করেন।
মেঘের কাঠকাঠ গলায় বলা কথা শুনে আদ্রিয়ান। তবে পাউরুটির মধ্যে কোন সমস্যা নাই এই কথা শুনে খুশি হয়। দ্রুত মুখে নিতে খেতে শুরু করে। চেয়ার টেনে বসে নিজের প্লেটে খাবার নিয়ে মেঘ বলে
___ রান্নাঘরে ইদুঁর মারার বিষ ছিল না। তাই পাউরুটিতে দেয়নি! কিন্তু এরপর থেকে দেখছি মানুষ মারার বিষ কিনে নিয়ে আসতে। কারণ ইদুঁরের চেয়ে মানুষের উপগ্রপ বাড়ছে আমার জীবনে।
হঠাৎ মেঘের এমন কথা আদ্রিয়ান কেশে উঠে! তার গলায় খাবার আটকে যায়। মেঘ রাগী চোখে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে। শুকন পাউরুটি গলায় আটকে যাওয়ায় দ্রুত গ্লাস থেকে পানি ভরে ঢকঢক করে খায় আদ্রিয়ান। এরপর করুন চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে বলে
___ বউ, রাগ কেন করছ? তুমি আমার না লক্ষী বউ।
আদ্রিয়ানের মন গলান কথায় রাগ শান্ত হয় না মেঘের! মেঘ বলে
___ বেশি কথা না বলে চুপচাপ খাবার খান। না হলে কিন্তু এই টেবিলে খাবারও থাকবে না আর এই দুনিয়ায় আপনিও থাকবেন না।
আদ্রিয়ান আর কথা বাড়ায় না চুপচাপ খাবার খেতে শুরু করে দেয়। জিয়া ফুল ভলিউমে টিভিতে মুভি দেখছ৷ সে কিছুই শুনতে পায়নি। টেবিলে বসে সকালের নাস্তা করছে মেঘ আর আদ্রিয়ান। প্রায়ই পিটপিট করে আড়চোখে তাকায় মেঘের দিকে! কিন্তু মেঘের সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খাবার খাচ্ছে। হঠাৎ মাথায় এক দুষ্ট বুদ্ধি চলে আসে আদ্রিয়ানের। টেবিলের নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে পা এগিয়ে দিয়ে আঙ্গুল রাখে মেঘের পায়ের উপর! এরপর আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দেয়! মেঘ সবই বুঝতে পায়। সিদ্ধ ডিমে কামড় বসায় আর আঙ্গুল দিয়ে মেঘের পায়ের পাতার আশেপাশে ছুঁয়ে দিচ্ছে আদ্রিয়ান। কিন্তু মেঘকে শান্ত থাকতে দেখে, তার সাহস একটু বাড়ে।
পায়ের আঙুল যখন দিয়ে যখন ধীরে ধীরে একটু উপরে উঠতে যাবে। তখন হঠাৎ পা দিয়ে শক্ত করে চাপা মেঘ! আকস্মিক এমন আক্রমণে ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে আদ্রিয়ান খুব জোরে লেগেছে তার পায়ে। তার কণ্ঠ থেকে বের হয়ে আসে মৃদু আত্মানাথ
___ আহ্.
টিভির স্কিনে তখন এডভারটাইজ চলছিল যার জন্য জিয়া সাউন্ড কমিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানের মুখ থেকে নিসৃত মৃদু আত্মানাথ তার কানে পৌঁছায়! জিয়া পিছনে ফিরে তাকিয়ে বিচলিত কণ্ঠে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান কি হয়েছে তোমার? কোথায় ব্যাথা পেয়েছ তুমি?.
জিয়ার কথার উত্তরে আদ্রিয়ান কোন কথা বলতে পারল না। খাবার প্লেট থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কিলার টাইপের লুক দিয়ে বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান স্যার! সত্যি কি হয়েছে আপনার? খাবার কি গলায় আটকে গেছে?
দুইজনের প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পেল না আদ্রিয়ান! ব্যাথাত্তুক দৃষ্টি নিয়ে দাঁত কটমট করে তাকায় মেঘের দিকে এরপর মিথ্যা বলে উঠে
__ পাউরুটি খুব শক্ত ছিল। গলায় আটাকে গিয়েছিল। তাই গিলতে কষ্ট হচ্ছে।
আদ্রিয়ানের কথা শুনে জিয়া বলে উঠে
___ আদ্রিয়ান পাউরুটি আসতে চিবিয়ে খাও। আর গলায় ভাঁজলে বেশি করে পানি খাবে।
জিয়ার কথা মেঘ রিপিট করে বলে উঠে
___ অবশ্যই আদ্রিয়ান স্যার। খাবার ধীরসুস্থে খাওয়া উচিত.
দুই নারীর কথায় সম্মতি দিয়ে আদ্রিয়ান মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে
___ হুম এখন থেকে অবশ্যই ধীরে সুস্থে খাব খাবার.
প্লেটে থাকা খাবার খায় আর মিটমিট করে হাসতে থাকে মেঘ। আদ্রিয়ান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে পুনরায় খাবার খাওয়া শুরু করে দেয়। আজ মেঘের থেকে দূরে থাকতে হবে না হলে ওর কপালে বিপদ আছে। জান বাঁচান ফরজ।
ড্রয়িং রুমে বসে ফুল ভলিউমে টিভিতে ইংলিশ মুভি দেখছে জিয়া। তার সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন টিভির উপর। সকালের নাস্তা শেষ করে আদ্রিয়ান ড্রয়িং রুমের ছোফায় বসে জিয়ার থেকে সামান্য দুরত্ব বজায় রেখে! টেবিলে এটো থালা বাসন গুছিয়ে রাখছিল মেঘ। আদ্রিয়ান সমস্ত কর্মকাণ্ড আড়চোখে দেখল সে, রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে তবুও মুখে তা প্রকাশ করল না। পাশে আদ্রিয়ানকে বসতে দেখে জিয়া টিভি বন্ধ করে দিল এরপর বলে
—- আদ্রিয়ান। হাসপাতালে তুমি দীর্ঘদিন ধরে যাও না? কবে জয়েন করবে তুমি?
জিয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ান শান্ত আর গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে
—- হাসপাতাল জয়েন করার কোন পরিকল্পনা এখন নাই। আর একমাস পর বাংলাদেশে ফিরে যাব। মেডিক্যালে ক্লাসের জন্য এখন যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ফিরে যাবে আদ্রিয়ান? কিন্তু হঠাৎ কেন? তবে কি সত্যি আদ্রিয়ান বিবাহিত! তার বউয়ের সাথে দেখা করতে যাবে? কিন্তু জিয়া তা হতে দিবে না। জিয়া ছাড়া অন্য কোন নারী আদ্রিয়ানের সংস্পর্শে আসতে পারবে না, অসম্ভব! তার ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পেতে জিয়া খুন অবধি করতে পারে। আদ্রিয়ান শুধুমাএ জিয়ার৷ অন্য কারো নয়। জিয়ার মুখে তার মনের হিংস্রতা আর জেদ প্রকাশ পায়, যা আদ্রিয়ানের নজর এড়ায় না। জিয়া ঠিক কতটা সাইকো তা আদ্রিয়ান যানে!
যতদিন না জিয়ার কোন পারমানেন্ট ব্যাবস্থা করতে পারছে! ততদিন মেঘের পরিচয় তার লুকিয়ে রাখতে হবে। জিয়ার যদি একবার জানতে পারে, মেঘই আদ্রিয়ানের বউ। তবে এর পরিমাণ ভয়ংকর হবে। জিয়া রাগে, জেদে হয়ত মেঘকে খুন করে ফেলতে পারে। তাছাড়া এখন যে মেডিক্যাল কলেজে মেঘ পড়াশোনা করছে তার অন্যতম শেয়ার হোল্ডার হল ইরফান সাহেব! মেঘের পড়াশোনা মাএ শুরু, এখন যদি জিয়া কাগজপএ সংঘটিত কোন ঝামেলা কর৷ তখন? অথবা ইরফান সাহেবের কথায় যদি মেঘকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করে! মেঘের ডক্টরি কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে। ____ কিন্তু চিরকাল জিয়ার থেকে এই সত্য লুকিয়ে রাখা যাবে না? খুব শীঘ্রই জিয়ার কোন ব্যাবস্থা করতে হবে? মামা বাসায় ফিরলে তার সাথে কথা বলতে হবে।
মুখ গম্ভীর করে কপালে চিন্তার ভাজঁ নিয়ে বসে আছে আদ্রিয়ান। থালা বাসন গুছিয়ে রান্নাঘরে রেখে এসেছে মেঘ। জিয়া বলে
—- আদ্রিয়ান, তুমি কি সত্যি হাসপাতালে জয়েন করবে না? বাংলাদেশে হঠাৎ করে কেন যাবে তুমি?
—- জিয়া, হাসপাতালে জয়েন আমি এখন করতে চাই না। দীর্ঘ নয় বছর কেরিয়ার আর ডক্টরির পিছনে শেষ করলাম! এখন দেশ বা পরিবারের মানুষের সাথে সময় কাটাতে চাই. তাই বাংলাদেশে ফিরে যাব।
আদ্রিয়ানের কথা রান্নাঘর থেকে সব শুনল মেঘ। যদি বাংলাদেশে ফিরে যায় আদ্রিয়ান, তবে মেঘও কি সাথে যাবে? কিন্তু মেঘের পড়াশোনার কি হবে? হঠাৎ আদ্রিয়ানের এমন সিদ্ধান্তের মানে কি? জিয়া এইবার মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সংকোচ দূর করতে প্রশ্ন করে উঠে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৫২
___ আদ্রিয়ান। বাংলাদেশে কি তোমার বউয়ের সাথে দেখা করতে যাবে তুমি? তার সাথে নতুন করে সংসার শুরু করবে?
আদ্রিয়ান একপলক রান্নাঘরে থাকা মেঘের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে
___ হুম বউয়ের সাথে সংসার করার জন্য বাংলাদেশে যাব। এখন আমার বউকে তার মযার্দা দেওয়া উচিত।
জিয়া কোন শব্দ করল না তার মনে থাকা রাগ, বিরক্তি প্রকাশ না করে শুধু বলল
__ ওহ্ ___.
