Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ২৫

জাহানারা পর্ব ২৫

জাহানারা পর্ব ২৫
জান্নাত মুন

লোকটার শরীর থেকে অতি পরিচিত ক্লোনের গন্ধ বারবার নাকে এসে বাড়ি খাচ্ছে। আমি বিরক্তিতে নাকমুখ কুঁচকে ফেললাম। রাগে কটমট করে মুখ খোলার আগেই ইফানের মাদকীয় কন্ঠ ধ্বনি কানে আসে,
–“বুলবুলি।”
আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে খানিকটা সময় চুপ করে রইলাম কি বলে তা শুনার জন্য। এতদিন পর আমাকে কাছে পেয়ে উন্মাদ হয়ে গেছে ইফান। আমার দেহের স্প’র্শকাতর জায়গা গুলোতে তার হাতের বিচরণ চালাতে মগ্ন সে। কাঁধ থেকে চুলগুলো কে সরিয়ে সেখানে মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে। তারপর সেখানে শব্দ করে অসংখ্য চুম্বন এঁকে ভরিয়ে দিচ্ছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই কাঁধের সেই অংশ সিক্ত হয়ে উঠেছে। আমি দাঁতে দাঁত পিষে কটমট আওয়াজ করে বললাম,

–“এখনো এক পা কবরে ঝুলে আছে, তবুও আপনার কু”রকুরানি কমে না ?”
এতদিন পর আমার কন্ঠ শুনে সাথে সাথে আমাকে আরেকটু তার সাথে মিশিয়ে নিলো লোকটা। তারপর কোনো বাকবিনতাহীন আমার ভেজা সেঁতসেঁতে কাঁধে জোরে দাঁত বসিয়ে দিলো। ব্যথায় কুঁকড়ে চেচিয়ে উঠলাম,
–“ওওওও, শালা ন*ডির পুত। তুই ম’রলি না কেন?”
আমার চেঁচানোতে বেশ মজা পেল ইফান। তাই ঠোঁট কামরে একটু হেঁসে দিয়ে কানের কাছে নাক ঘষে জোরে জোরে আমার শরীরের ঘ্রাণ নিলো। আমি অনুভব করতে পারছি তার চাপা হাসি। আমার রাগ বেড়েই চলছে। আর ইফানও সেটাই চাইছে আমি রেগে তার সাথে চেচামেচি করি। আমাকে খেপিয়ে কি মজা পায় আমিও বুঝে উঠতে পারি না? ইফান আমার কানের লতিতে শব্দ করে একটা চুমু খেল। একটু থেমে আবারও আচমকা সেখানে দাঁত বসিয়ে দিলো। এবার আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারলাম না। চেচিয়ে উঠে পিছনে হাত বাড়িয়ে ওর পশ্চাতে খামচে ধরলাম,
–“গো’লামের ঘরে গোলাম। আরেকবার কামড় দিলে তর মা*ঙ্গে পারা মে’রে ধরবো।”

আমি অ’শ্রাব্য ভাষায় গা’লি দিয়ে তার পশ্চাতে খামচে ধরা হাতটায় আরও চাপ বসালাম। দাঁতে দাঁত পিষে নিজের সব বল প্রয়োগ করতে লাগলাম। এতে ইফান বাঁধা দিলো না। তার একটা হাত আমার শাড়ির ফাঁকে উন্মুক্ত উদরে। সেখানে বারবার তার ধারালো নখর দিয়ে আচর কেটে দিচ্ছে। অন্যদিকে আমার গলায় পেচিয়ে রাখা তার অপর হাতটা সরিয়ে নিলো। তার শক্ত হাতের বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে ঝটপট ওর দিকে তাকাবো তার আগেই সে আমার পয়োধর জোরে চাপ প্রয়োগ করতেই আমি তার পশ্চাতে আরও জোরে খামচে ধরলাম। সে চাপা হেসে আমার বক্ষে আরও চাপ প্রয়োগ করে ঘারে জিহ্বা দিয়ে লোহন করতে থাকলো। একদিকে আমার তল পেটে নখের আচরে জ্বলছে আর এদিকে বক্ষে চাপ প্রয়োগের ফলে ব্যথায় শরীর অবশ হয়ে আসছে। এতে ওর পিছন থেকে হাত টায় জোর কমে এসেছে।আমি বেশি ব্যথা পাচ্ছি বিষয়টা বুঝতে পেরে ইফানের হাতগুলোও থামলো। অতঃপর আমার কানের কাছে তার সিগারেটে পোড়া করকরে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি স্বরে বললো,

–“ছেহ্ বউ ছেহ্। শেখ বাড়ির মেয়ের থেকে এত ছোটলোকি কাজ আশা করি নি। শেষে কিনা স্বামী কে গাড়ি চাপা দিতে চেয়েছিলে।”
ইফানের কথা শুনে আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য নাড়াচাড়া বন্ধ করে দিলাম। মনে মনে আবার পুরাতন প্রশ্নটা উঁকি দিচ্ছে, “আমি তো ভেবেছিলাম ঐটা জাস্ট এক্সিডেন্ট। কিন্তু এখন ওর কথায় মনে হচ্ছে প্ল্যান। ইফান তো শিউর না হয়ে কখনো কিছু বলবে না। কিন্তু এটাও সত্যি আমি ওর এক্সিডেন্ট করাই নি। তাহলে কে করালো? আমি ছাড়া আর কে ওর ক্ষতি করতে চায়? কারই বা এত সাহস ইফান চৌধুরীর সাথে খেলছে?”
ভাবনা থেকে ঝটকা খেয়ে বেড়িয়ে আসলাম। আমার চোখগুলো বড়বড় হয়ে গেছে। ইফান আমাকে তার সাথে আরও শক্ত করে চেপে ধরেছে। আমার থেকে অনেকটা লম্বা হওয়ায় পিছন থেকে কিছুটা ঝুঁকে আছে আমার উপর। ইফান আমার এতটাই সন্নিকটে আছে যার ফলে আমার পশ্চাতে দন্ডায়মান কিছু অনুভব করতে পারছি। এই মূহুর্তে আমি বাক হারা হয়ে পড়েছি। এদিকে আবার ইফানের মাদকীয় কন্ঠ স্বর কানে আসে,

–“জান এসব নিয়ে পড়ে বুঝাপড়া হবে আগে বেডে চল।”
কতটুকু শয়তান মানুষ ভাবা যায়? নিজের জানই এখন ঠিক মতো চলছে না। আর আমাকে এসব কথা বলছে। আমি আচমকা ওকে ধাক্কা মারলাম। হঠাৎ আমার থেকে এটা আশা করে নি ইফান। ফলে ছিটকে পেছনের দেয়ালের সাথে ধাক্কা খায়। এতে কপালের বেন্ডেজ করা জায়গাটা আবারো রক্তে ভিজে উঠে। ইফান বিরক্তিতে তে চোখমুখ কুচকে নিলো। এরই মাঝে আমি এক পা এগিয়ে চেচিয়ে উঠলাম,
–“তোর মতো বে*হায়া,চরিত্র*হীন,লম্প*টকে চামচা দিয়ে মারতে যাব কোন দুঃখে। তুই জানিস তোর মতো কুলা*ঙ্গার কে দিনের পর দিন সহ্য করছি কেন?”
এইটুকু বলে থামলাম। ইফানের ভাব মুর্তি এখনো স্বাভাবিক। আমি আরেক পা এগিয়ে ইফানের সামনে দাঁড়ালাম। তারপর চাপা স্বরে বললাম,

–“কারণ তোকে আয়োজন করে পুড়ানোর ব্যবস্থা করছি।”
আমি চেঁচিয়ে কথাগুলো বলে নিজের সব রাগ ইফানের উপর ঢেলে দিলাম। আমার রাগে লাল হয়ে যাওয়া চোখের সাথে শান্ত ধূসর বাদামী বর্ণের মণির দৃষ্টির মিলন ঘটে ক্ষীণকাল। সেটার ইতি অবশ্য আমিই টানি। ইফানের প্রতি আমার ঘৃণাত্মক চাহনি সরিয়ে বেলকনি থেকে চলে যেতে লাগলাম। দু পা এগিয়ে যেতেই পছন থেকে হাতে জোরালো টানে ইফানের বক্ষে গিয়ে পড়ি। আমি চেচিয়ে উঠার আগেই ইফান আমাকে রেলিংয়ের সাথে চাপে ধরে। তারপরই আচমকা আমার ওষ্ঠে হামলে পড়ে। তার সিগারেটে পোড়া খরখরে অধর আমার কোমল ওষ্ঠভাজে রাজত্ব চালাতে মগ্ন। তার হাতগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বারবার ঠোঁটের ভাজে ভাজে দাঁত বসিয়ে দিচ্ছে। আমার ওষ্ঠগুলো ব্যথায় জর্জরিত হয়ে গেছে। গত দশ মিনিট ধরে আমি ওর বুকে কিল ঘুষি মেরে যাচ্ছি। তাতেও লোকটা দমছে না। অধিক উত্তেজনার ফলে কপালের বেন্ডেজটা আরও ভিজে উঠছে। ইফান এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে আমাকে দম ফেলারও সুযোগ দিচ্ছে না। এবার আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। নিজেকে ছাড়াতে বারবার বৃথা হয়ে দম পুরোপুরি আটকে নিলাম। আমি শ্বাস ফেলছি না বুঝতে পেরেই আমাকে ছেড়ে দিলো। ওর থেকে ছাড়া পেয়েই হাঁপাতে হাঁপাতে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলাম। ইফান জিহ্বা দিয়ে ঠোঁটের আশপাশের অমৃত সুধাটুকু আহরণ করে নিলো। তারপর হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে অবশিষ্ট তরল টুকু মুচে নিলো। আমি নিজেকে স্বাভাবিক করার আগেই তার কন্ঠ কানে আসে,

–“এটুকুতেই তেজ কমে গেছে সোনা?”
আমি চোখ তুলে ইফানের দিকে তাকালাম। তার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠেছে। ইফান হাত বাড়িয়ে আমার ঠোঁট মুচে দিতে দিতে আবারও বলে উঠে,
–“উফফ এই ভিটামিন টা প্রতিদিন খেলে ১০দিন আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হতো না। শালি তুমি বড়ই খাটাস। একটা দিনও দেখতে গেলে না। তোমার ঠোঁটের এই ভিটামিনটা না খেয়ে যদি এখন মরে যেতাম তাহলে কি হতো?”

–“তুই মরে গেলে আমার কোন বাল পড়ে যেতো?”
আমি চিবিয়ে চিবিয়ে কথাটা বলে আর এক মূহুর্ত দাঁড়ালাম না। তবে হ্যা বেলকনি ত্যাগ করার আগে ইফানের মেইন পয়েন্টে হাঁটু মেরে দিয়ে গটগট করে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলাম। এদিকে ইফান আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ঘাড়ে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
–“উফফ,ঝাঁঝওয়ালির তেজ দেখছি আগের চেয়ে বেড়েছে। আজ মনে হচ্ছে তেজ কমাতে আমাকেই একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে ”

আমি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই চোখ পড়ে মাহিন আর ইমরানের দিকে। দু’জনেই ফর্মাল ড্রেসআপে। মনে হচ্ছে কোথাও বের হবে। ইকবাল চৌধুরী আর ইরহাম চৌধুরী ছাড়া বাকি সকলেই উপস্থিত। আমাকে নিচে নামতে দেখেই সকলের দৃষ্টি এদিকে পড়ে। আমার সাথে এখনো মাহিনের পরিচয় হয় নি। তাই কাকিয়া আমাকে মাহিনের সামনে দাঁড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলো। মাহিন হেসে আমার সাথে নিজের পরিচয় দেয়। আমিও ভদ্রতার খাতিরে মৃদু হেসে নিজের পরিচয় দিলাম। আমাদের কথার মাঝে পেছন থেকে ইমরান বলে,

–“ভাবিজান আমরা এখন একটু বাইরে যাচ্ছি। এসে আড্ডা দিবো কেমন।”
আমি ইমরানের কথায় হেসে জিজ্ঞেস করলাম,”তো দেবররা রাতে কোথায় যাচ্ছে?”
ইমরান মাহিনকে দিখেয়ে বলে,”আপনার দেবরকেই জিজ্ঞেস করেন। এত রাতে আমাকে কেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে।” ইমরানের কথা শুনে মাহিন তার মাথায় গাট্টি মেরে হেসে বলে,”আমি দেবর হলে তুই কে রে।” ইমরান বুকে হাত রেখে আমাকে কুর্নিশ করে উত্তর দেয়,”আমি জাহানারা ভাবির আদরের ছোট ভাই। ” তখন মাহিন আরেকটা গাট্টি মেরে বলে,”তাহলে আমি কে?”

আমি ইমরানের আগেই উত্তর দিলাম, “তোমরা দুজনেই আমার ছোট ভাই। এবার ঠিক আছে?”
আমার কথা শুনে মাহিন আর ইমরান দুজনেই বুকে হাত ধরে কুর্নিশ করে এক সাথে বলে,”জি মাতা এবার ঠিক আছে ।” আমার সাথে ইমরানের আর বাড়ির সকলের ভালো সম্পর্ক এটা আগে থেকেই সহ্য করতে পারে না নাবিলা চৌধুরী। এখন মাহিনের সাথেও ভাব জমে যাচ্ছে এটাও সহ্য করতে পারলো না। তাই পেছন থেকে মাহিন কে ডেকে উঠলেন,”মাহি বেটা কোথায় যাচ্ছ ইমরান কে নিয়ে বললে না তো?”
নাবিলা চৌধুরীর গলা শুনে মাহিন তাকে হালকা করে কাঁধে জড়িয়ে ধরে বলে,”আরে বড় মা টেনশন করো না এত। এক্টুয়ালি আমি আসায় আমার কিছু ফ্রেন্ড রেস্টুরেন্টে দেখা করতে আসছে। আর এত বছর পর দেশে আসায় তেমন কিছু চিনে উঠতে পারছি না। তাই ইমরান কে নিয়ে যাচ্ছি।”

কথা শেষ করে হাত ঘড়িটায় একবার চোখ বুলিয়ে বলে,”এতক্ষণে হয় ত এসে পড়ছে ওরা। আর দেরি করা যাবে না আসছি।ইমরান চল।” তারপর যাওয়ার আগে আরেকবার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,” সম্মানিত বড় ভাবিজান এসে আমরা সবাই মিলে গল্প স্বল্প করবো এখন আসছি। টাটা।”
আমি নাবিলা চৌধুরীকে একবার আড় চোখে দেখে মৃদু হেসে মাহিনদের সম্মতি দিলাম। ওরা আর সময় ব্যয় করলো না ঝটপট চৌধুরী ম্যানশনের সদর দরজা দিয়ে বেড়িয়ে গেল। এদিকে আমাকে দেখে চোখ উল্টিয়ে সোফায় গিয়ে নুলক চৌধুরীর সাথে বসলো নাবিলা চৌধুরী।আমিও চোখ উল্টে উনার সামনের সোফায় দাদির সাথে বসলাম।আমি বসতেই দাদি ফিসফিস করে বলে,”কিরে নাত বউ সন্ধ্যার পর থেকে তোকে আর আমার নাতিটাকে নিচে দেখলাম না।ঘরে কি দুইজনে প্রেম করছিলি।”

দাদির কথা শুনে উনার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলাম।দাদিও হেসে দিলো,”এত দিন পর জামাইরে কাছে পাইছ। কেমন আদর করলো?” দাদির কথায় আমি আরও শব্দ করে হেসে দিলাম। আমার হাসির শব্দে সকলে আমার দিকে তাকলো। আমি সেসবে পাত্তা না দিয়ে দাদির মতো করে ফিসফিস করে বললাম,”তোমার নাতিই শুধু আদর করে নি। আমিও তাকে আদর করে দিয়ে আসলাম। এখন মনে হয় সে সান্ডার তেল লাগাচ্ছে।” কথা শেষ করে আরও শব্দ করে হাসতে লাগলাম। আমাদের হাসির কারণ বাকিরা না বুঝলেও দাদি মুখে আচল টেনে হাসতে লাগলো। এদিকে হঠাৎ করে আমার কানের কাছে ফিসফিস করে কেউ বলে উঠলো,

–“what is সান্ডার তেল?”
আমি দ্রুত পাশে ফিরতেই দেখি নোহা আমার সাথে বসে আমার দিকে ঝুঁকে আছে। এই মেয়েটা কি জ্বীন নাকি? হঠাৎ কখন এসে এখানে বসে পড়লো বুঝতেই পারলাম না। আমার থেকে উত্তর না পেয়ে নোহা আবার প্রশ্ন করলো,”বল না প্রিটি গার্ল। সান্ডার তেল কি?” নোহা এমন ভাবে ফিসফিস করে কথা বলছে। যা কিচেন থেকে পলি আর কাকিয়াও শুনে ফেলেছে। পলি ঠোঁট টিপে হাসছে। কাকিয়া গলা খাঁকারি দিয়ে আবার সবজি কাটায় মন দিয়েছে। এদিকে নাবিলা চৌধুরী নোহার বেহায়া কথা শুনে নুলক চৌধুরীর দিকে তাকালো। নুলক চৌধুরী চোখ পাকিয়ে মেয়েকে শাসাচ্ছে। যদিও নোহাকে কেও কখনো শাসন করে না। নোহার বাবা অনেক বড় বিজনেস ম্যান। সাথে নামকরা টেরোরিস্টও। উনার একমাত্র মেয়ে নোহা। তাই উনার আদরের মেয়ের সাথে গলা উঁচিয়ে কেউ কখনো কথা বলে না। এমন কি নুলক চৌধুরীও না।

নোহা আমার থেকে উত্তর না পেয়ে সরাসরি তার মা’কেই জিজ্ঞেস করে বসলো,”ওহ্ মম টেল মি।” নকুল চৌধুরী আর এখানে এক মূহুর্ত বসলো না। উঠে চলে গেলেন।এই মেয়েকে একটুও ভারসা করেন না তিনি। হইতো একটু পরে এটাও জিজ্ঞেস করে বসবে, সান্ডার তেল দিয়ে কি করে? উনি চলে যেতেই নাবিলা চৌধুরীও চলে গেলেন।কারণ উনিও খুব ভালো করে জানে এই মেয়ের লজ্জা শরম বলতে কিছুই নেই। যেকোনো সময় নাবিলা চৌধুরী কেও জিজ্ঞেস করে বসতে পারে। নোহা কারো থেকে উত্তর না পেয়ে হতাশ হলো।তবে হাল ছাড়লো না মেয়েটা।

–“প্রিটি গার্ল তুমি কি বেইবির সাথে রুমে এতক্ষণ রোমান্স করছিলে?”
নোহার কথা আবারও কিচেন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কাকিয়া অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছেন এই বেহায়া মেয়ের কথা শুনে। এদিকে পলি বড়দের সামনে দাড়িয়ে থাকতে না পেরে ইতির জন্য দুধ রুমে নিয়ে যাবে বাহানা নিয়ে চলে গেল। আমি এখনো নোহার দিকে হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে আছি। কি বলবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই নোহা আরেক কথা ছেড়ে বসলো,”প্রিটি গার্ল,আমারও রোমান্স করতে ইচ্ছে করছে।”
❝বেহায়া*চু*দা❞
আমি আর এখানে বসলাম না। উঠে দাড়াতে দাড়াতে নোহাকে একটা গালি দিয়ে ইতির রুমের দিকে যেতে লাগলাম।

ঘড়ির কাটা রাত সারে এগারোটার ঘরে। অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমটাতে একটা মোম বাতি জ্বালানো। নোংরা মেঝের উপর বি’ধস্ত অবস্থায় পড়ে আছে এক কিশোরী। বস্রহীন দেহে শত শত আ’ঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান মোমবাতির হলদেটে আভায়। দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটুকু শরীরে কি পরিমাণ অমানবিক নি”র্যাতন করা হয়েছে। মেয়েটার তেমন জ্ঞান না থাকলেও বারবার শরীর ঝাঁকনি দিয়ে উঠছে। সাথে করুন গলায় অপরিসীম যন্ত্রণায় গোঙ্গানোর আওয়াজ যে কারো শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু বিধস্ত মেয়েটার সামনে যে চারটা পশু বসে বসে মদ গিলছে তাদের খারাপ লাগা তো দূর, মেয়েটার গোঙানির আওয়াজে নরপি*শাচের মতো আনন্দ উল্লাস করছে। চারজন নি*কৃষ্ট লোকেরই শরীরের উপরের অংশ উদাম।একটা লোক শেষ বারের মতো মদের গ্লাসে একটা শেষ চুমুক দিয়ে হেলেদুলে মেয়েটার কাছে গেলো। বাকি তিনজন মদ গিলতে গিলতে উচ্চ স্বরে হেসে দিলো।তাদের মধ্যে একজন বলে উঠলো,
–“কিরে ভাই সারাদিনই তো মজা নিলে। এখন আবার?”

ঐ লোকটা বিধস্ত মেয়েটার উপর আবারও অমানবিক নির্যাতন চালাতে চালাতে মাতাল স্বরে বলে,”কি করবো ভাই, এত কচি মাল খালি খেতেই ইচ্ছে করছে।”লোকটার কথা শুনে বাকি তিনজন আবারও উচ্চস্বরে হেসে দিলো। আরও বেশ কিছুটা সময় পর এই ময়লায় স্তুপ পড়া রুমটার দরজায় বারবার কারাঘাত করে কেউ। বেশ বিরক্ত নিয়ে মেয়েটার উপর নি’র্যাতন চলানোরত লোকটা উঠে আসলো। বি*ধস্ত মেয়েটার গো’ঙ্গানির আওয়াজ এখন আর হচ্ছে না। হয়তো সম্পূর্ণ ভাবে জ্ঞান হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।নির্যা*তনকারী লোকটা পেন্ট ঠিক করতে করতে অশ্রাব্য একটা গালি দিলো,

–“কোন মা*দার*চুদের কুর*কুরানি ভাসছে রে।”
তারপর বাকি তিনজনের থেকে একজন বকতে বকতে পুরান কাঠের দরজাটা খুলে দিলো।তখুনি তাড়াহুড়ো করে একটা লোক ভেতরে প্রবেশ করলো।মাতাল গুলোকে কিছু বলার আগেই চোখ পড়ে বি’ধস্ত কিশোরীর উপর। লোকটা ভ’য়াতুর ঢুক গিলে বললো,
–“ভাই তোরা এটা কি করলি? বস বলেছিলো মেয়েটাকে বাইরে চালান দিবে। আর তোরা এর এই অবস্থা করলি। এখন বস আমাদের বাচিয়ে রাখলেই হয়।”
অপর একটা মাতাল কটাক্ষ করে বলে উঠে,”শালা তুইও তো মজা নিছিস এখন সাধু সাজছিস।” কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি লেগে মা’রামারি অব্ধি চলে যায়। তাদের চেচামেচি শুনে আরও দুজন ছুটে আসে। তাদেরকে থামিয়ে একজন আতংক নিয়ে বলে,
–“ওরে বাইন*চো*দের দল। তরে পাঠায়সি সবাই কে নিয়ে গাড়িতে তুলতে। আর তোরা এখানে মা’রামারি শুরু করছস।”

সাথে সাথেই সকলে ঝামেলা থামিয়ে দিলো। একজন আতংক নিয়ে বলে উঠে,”এখান থেকে সরে যাবো মানে।” যে লোকটা প্রথমে এসেছিল সেই লোকটা ভয়ে বলে উঠে,”হাই সর্বনাশ। আমি তো ভুলেই গেছি তোদের আসল কথা বলতে।” চারজন মাতালই এখন হুশে এসে গেছে। একজন বলে, “কি হয়েছে তাড়াতাড়ি বল।” লোকটার কথা শুনে আরেকজন বলে,”আরে ভাই তাড়াতাড়ি কর বস কল করেছে কিছুক্ষণ আগেই। তিনি এখানে আসছিল তবে মাঝ রাস্তায় বসের এক ইনফরমার খবর দিয়েছে।আমাদের আস্তানার খবর পেয়ে গেছে ঐ শালা পুলিশ অফিসার টা। আর ঐ মা*দার*চু*দ সি আই ডি কে ইনফর্ম করে দিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আর সি আই ডি এখানে চলে আসবে।তাড়াতাড়ি মেয়েটারে নিয়ে গাড়িতে তুল।”

লোকটার কথা শুনে সকলের কলিজার পানি শুকিয়ে গেল।মূহুর্তেই সকলে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে মেয়েটা সহ গাড়িতে উঠে বসলো। এই স্থানটা একটা পোড়া বাড়ি। তাই এখানে কেউ ভয়ে আসে না।এই সুযোগটাই ব্যবহার করে তাদের ঘাটি বানিয়েছিলো।যেহেতু লোকালয় থেকে অনেক দূরে তাই এটাই তাদের অপকর্মের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ছিলো।সকলে গাড়িতে উঠতেই গাড়ি জোড়ে ছেড়ে দেয়।একটু আগে মেয়েটার উপর যে লোকটা নি*কৃষ্ট নি*র্যাতন চালিয়েছে, সেই লোকটা বলে,
–“আমার মনে হচ্ছে ঐ শালা পুলিশ অফিসারটায় হবে। ইসস কত বড় মিস করে ফেলেছিলাম সেই দিন।আরেকটুর জন্যই পায়ে না লেগে গুলিটা বুকে লাগতো।ঐ হারামিটার জন্য একটু শান্তি করে মেয়েটার সাথে মজাও করতে পারলাম না।”

মাতাল লোকগুলোর গাড়িটা এই এরিয়া থেকে বেড়িয়ে যেতেই সেই রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি প্রবেশ করে।তারপর পোড়াবাড়ির সামনে এসে গাড়িটি থামে।সেখান থেকে একে একে নেমে যায় দুজন মেয়ে তিনজন ছেলে অফিসার।সকলের ফর্মাল ড্রেসআপে থাকলেও একজন সিনিয়র পুরুষ অফিসার সিভিল ড্রেসে। উনার সারা মুখ মাস্ক দিয়ে আবৃত। এমনকি মাথাও একটা ক্যাপ দিয়ে ঢাকা।সকলে ভালো করে সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো প্রুফ পায়নি।অবশেষে উপায়ান্তর না পেয়ে সকলে গাড়ির সামনে এসে দাড়াল। মাস্ক পড়া লোকটা অতি রাগ, বিরক্তি নিয়ে গাড়িতে একটা পাঞ্চ বসিয়ে মুখ দিয়ে আওয়াজ করে,

❝শীট শীট শীট❞
তারপর একজন লেডি অফিসার এসে বলে, “বস ওরা তো মেয়েটাকে নিয়ে পালালো।আই থিংক এই মেয়েটাকেও দেশের বাইরে চালান করে দিবে।”
মেয়ে অফিসারের বিপরীতে কিছু বলার আগেই আরেকটি পুলিশের গাড়িও হাজির হয় এখানে।সেখান থেকে কিছু পুলিশ নেমে আসে। তাদের মধ্যে একজন সিভিল ড্রেসে।তিনি পুলিশ অফিসার রাকিব।হালকা কুড়িয়ে কুড়িয়ে এসে মাস্ক পড়া লোকটাকে স্যালুট জানিয়ে বলে,”বস ওরা কি আবার পালিয়েছে?”পুলিশ অফিসারের কথা শুনে নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে মাস্ক পরিহিত লোকটা। কিছুক্ষণ নিজের রাগকে কন্ট্রোলে এনে গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,”পালিয়ে যাবে কোথায় ওরা।একদিন না একদিন সি আই ডি র হাতে ধরা পড়তেই হবে।সেদিই এই চক্রের মাস্টার মাইন্ডদেরকে ফাঁ*শির কাটগুরাতে তুলবো। সেদিন দেখবো তারা কিভাবে নিজেদের কে বাঁচায়।”
অতঃপর সকলে নিজেদের গাড়ির দিকে রওনা হলো।পুলিশ অফিসার রাকিব গাড়িতে যখন উঠতে যাবে তখনই পেছন থেকে মাস্ক পরহিত লোকটা বলে,

জাহানারা পর্ব ২৪

–“তুমি ছুটিতে ছিলে,,তাহলে আজকের মিশনে আসতে গেল কেন?”
গম্ভীর কন্ঠ কানে পৌঁছাতেই রাকিব পিছনে তাকিয়ে আবারও মাস্ক পরহিত লোকটাকে স্যালুট জানিয়ে মৃদু হেসে উত্তর করলো,”কারণ আজকের মিশনে আপনিও এসেছিলেন। আর আমি বেঁচে থাকতে আপনাকে একা ছাড়বো না কখনো।” পুলিশ অফিসার রাকিবের কথা শুনে মৃদু হাসলো মাস্ক পরিহিত লোকটা।তা তার চোখ দেখেই বুঝে গেল রাকিব। তাই তার ঠোঁটের হাসিটাও আরও প্রশস্ত হলো। অতঃপর সি আই ডি অফিসারদের গাড়ির পেছনে পুলিশের গাড়িটাও এক সাথে বেড়িয়ে গেলো এই নির্জন এরিয়া থেকে।”পেছনে পড়ে রইল অভিশপ্ত পোড়াবাড়ি— যার প্রতিটি কোণে মিশে আছে পাপের ছায়া, অমানবিক নির্যা*তনের দাগ আর নিষ্ঠু*রভাবে নির্যা*তিতদের হাহাকার।”

জাহানারা পর্ব ২৬