Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ২৬

জাহানারা পর্ব ২৬

জাহানারা পর্ব ২৬
জান্নাত মুন

আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে ইফান।তার পেন্ট নাভির বেশ কিছুটা নিচে।সে টেনে পেন্টটাকে আরেকটু নিচে নামালো।এখন ইফানের পেন্ট এমন এক পর্যায়ে আছে যে পান থেকে চুন কষলেই খুলে পড়বে।সে এসবে ধার ধারলো না বরং শিশ বাজাতে বাজাতে তার পেশিবহুল বক্ষে হাত বুলাতে লাগলো।তার নজর ডেসিং টেবিলের বড় আয়নাটায়।সেখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে তার জিম করা বডি।সে নিজেকে খুব মনযোগ দিয়ে দেখছে সাথে মুখ দিয়ে আয়েশি উচ্ছ্বাসের শব্দ বের করছে,”উফফ, সসস,আহহ্।”
ইফান নিজের বক্ষ জুড়ে কয়েকবার হাত বুলিয়ে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজালো।অতঃপর ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে আফসোসের স্বরে বললো,

–শালা নিজের ফিগার দেখে নিজেরই নেশা ধরে যাচ্ছে।ইচ্ছে তো করছে নিজেকেই খেয়ে ফেলি।তবু বালের সেরি আমার হটনেসের কদর বুঝলো না।
এটুকু বলে আবারও নিজের ফিটনেস দেহে চেপে চেপে হাত বুলাতে লাগলো।এতে তার ফর্সা দেহে আঙ্গুলের চাপ বসে জায়গাটা লালছে বর্ণ ধারন করছে।তখনই চোখে পড়লো তার বক্ষে গ্রীবাদেশে অনেক গুলো নখের আচর।উক্ত জায়গাগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে ঠোঁট কামরে ধরছে ইফান।কখনো কখনো চোখ বন্ধ করে “উফফ, ইসসস,আহ্” উচ্চারণ করছে।তারপর ইফানের নজরে পড়ে তার কন্ঠনালিতে কিছুটা রক্ত জমে শুকিয়ে গেছে। ইফান সেই জায়গাটাতেও আল্ত করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কয়েকবার বিরবির করলো,
❝ঝাঁঝওয়ালি ঝাঁঝওয়ালি ঝাঁঝওয়ালি❞

পরক্ষণেই কি একটা মনে করে তার মেইন পয়েন্ট চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে নিয়ে উচ্চারণ করলো “উফফ”।এদিকে নোহার মুখ থেকে টপটপ করে দু ফোটা লালা পড়ে গেল।সেই কখন থেকে দরজার পর্দার আড়াল থেকে ইফানকে দেখছে নোহা।সে আসলে ইফানের সাথে দেখা করতে এসেছিলো। তারপর রুমের দরজার কাছে আসতেই ইফান কে এই অবস্থায় দেখে তার পা থেমে যায়।আর তখন থেকে হা করে ইফানের দিকে তাকিয়ে তাকে গিলে খাচ্ছে।নোহার মুখ থেকে লালা পড়তেই মুখ বন্ধ করে খুব কষ্টে শুকনো ঢুক গিললো।এদিকে ইফান এখনো তার হটনেস নিয়েই পড়ে আছে।

❝দেখা শেষ এবার নিজের রুমে যা শালি।❞
ইফানের গলা শুনেই পর্দার আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসলো নোহা,”ডার্লিং তুমি কি করছিলে?”নোহার কথা শুনে একটা ব্রু উচালো ইফান,”সোনায় মালিশ করছিলাম।”দায় সারা উত্তর করলো সে। ইফানের কথা কানে তুললো না নোহা।সে ইফানের খালি গায়ে নজর বুলিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো ইফানের এডামস এপলে।তারপর আসতে আসতে হাতটা নিচে নামাতে লাগলো।ইফান সরু চোখ করে নোহার হাতের দিকে তাকালো।যখন নোহার হাতটা বুকের বা পাশে আনলো তখনই খপ করে হাতটা ধরে নিলো।নোহা ঘোর থেকে বেড়িয়ে এসে একটা ঢোক গিললো।তারপর ইফানের চোখের দিকে তাকাতেই ইফান নোহার হাতটা ঝটকা মেরে দূরে সরিয়ে দিলো।

❝এখানে হাত রাখার রাইট শুধু আমার বুলবুলিরই আছে।❞
ইফান এটুকু বলতেই থেমে যায় অতি পরিচিত মেয়েলি কন্ঠ শুনে ,❝আর সা*উয়ায় হাত মারার অধিকার সব মা*গীরই আছে,তাই তো?❞
ইফান আর নোহা দুজনেই দরজার দিকে তাকালো।তাদের চাউনি দেখে আমি চোয়াল শক্ত করে দাঁত বের করে হেসে দিলাম,❝কি হলো মিস্টার ইফান চৌধুরী,আন্সার মি?নাকি উত্তর নেই আপনার কাছে।❞
আমার কথা বলা শেষ হলেই ইফান দু’হাত মেলিয়ে ধরে নেশালো কন্ঠে ডাকে,
–কাম বেইবি,আমি এতক্ষণ ধরে তোমার জন্যই ওয়েট করছিলাম।
আমি ইফানের কথা শুনে ওর থেকে চোখ সরিয়ে নোহার দিকে তাকালাম।আমার সাথে চোখাচোখি হতেই ঠোঁট গোল করে হাত দিয়ে ফ্লাই কিস দিলো।তারপর ইফানের বাহু জড়িয়ে ধরে নেকামি করে বলে,

–প্রিটি গার্ল এতক্ষণ কোথায় ছিলে তুমি?Do you know তোমাকে কাছে না পেয়ে বেইবি কতটা লোনলি ফিল করছিল।That’s why আমি একটু কোম্পানি দিতে আসলাম।
নোহা বাক্যটা শেষ করেই ইফানের পেশিবহুল বাহুতে শব্দ করে কিস করে দিলো।আমি নোহার থেকে চোখ সরিয়ে কিস করা জায়গায় ইফানের বাহুতে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।ইফানের দৃষ্টি প্রথম থেকেই আমার উপর ছিলো।এখনো আমার উপরই।সে ভাবে তাকিয়ে থেকেই এক হাত দিয়ে নোহার মাথায় ধাক্কা মেরে তার থেকে দূরে সরিয়ে দিলো।এতে নোহা একটুও বিরক্ত বা রাগ করলো না।বরং মুখে হাত দিয়ে হাই তুলে ইফানের বাহুতে হালকা থাপড়ে দিয়ে বললো,

–ডার্লিং Enjoy tonight.আমি মাহি হটির কাছে যাচ্ছি।
বাক্য শেষ করেই নোহা ইফানকে চোখ মারলো।ইফান ঠোঁট বাকিয়ে নোহার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে তাকালো।তারপর নোহা যাওয়ার সময় সে তার কাধ দিয়ে আমাকে হালকা ধাক্কা মেরে আবার চোখ মারলো,
–Enjoy সুইটহার্ট, টা টা।
নোহা হেসে হেসে হেলেদুলে রুম থেকে চলে গেলো।আমি ঘার বাকিয়ে তার প্রস্থান দেখলাম। তারপর সামনে ঘার ঘোরাতেই ইফানের বুকে বারি খাই।ইফান আমাকে ঝাপটিয়ে ধরে তার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো।তার এক হাত আমার সরু কোমরে। আরেক হাত আমার চুল ভেদ করে ঘারে।ইফান তার থুতনি আমার মাথায় ঠেকিয়ে হাস্কি টোনে বলে,

–জান এতক্ষণ বাইরে কি করছিলে?
–তোর মতো নষ্টামি,,,
ইফান আমার মাথায় চুমু দিচ্ছিল।কিন্তু আমার বাক্যটা শুনেই থেমে গেল।তার এতক্ষনের নরম চেহারা মূহুর্তেই শক্ত হয়ে আসলো।হঠাৎই কোনো পূর্বাভাস না দিয়েই আমাকে দেয়ালের সাথে ঠাস করে চেপে ধরলো।ধাক্কাটা এত জোরে ছিলো যে মূহুর্তেই মাথাটা ঘুরে উঠলো।শুধু মাথা না পিঠেও সমান ভাবে আঘাত লেগেছে। ফলে না চাইতেও ব্যথায় চোখের কোণে পানি জমে উঠলো।আমি ব্যথার চোটে চোখ বন্ধ করে ফেলেছি।এদিকে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ইফান হুংকার ছাড়লো,

–বান্দির বাচ্চা, আরেকবার এই বাক্য উচ্চারণ করলে গলায় পারা মেরে ধরবো।তোর দিকে যে তাকায় তার চোখ উপড়ে ফেলি আমি ইফান চৌধুরী। আর তর কলিজা কত বড় এই কথা বলিস।আবার মনে করিয়ে দিতে হবে কে আমি?
আমার চোখের ঘন কালো পাপড়িগুলো ভিজে উঠেছে।এটা শরীরের ব্যথায় নয়, মনের ব্যথায়।ইফানের শেষ বাক্যটা আবারও আমার হৃদয়ে ঝড় তুলে দিয়েছে, “আমি ওকে ঘৃণা করি। ভীষণ রকম ঘৃণা। যার মূল্য তাকে দিতে হবে।আমি জাহানারা তোমাকে জীবনের এমন এক জায়গায় এনে ফেলবো ইফান চৌধুরী পালাবার কোনো পথ খুঁজে পাবে না।” আমার শান্ত চেহারা ভেজা চোখ নজরে পড়তেই ইফানের হৃৎস্পন্দন গতি হারাল।আমার দুই বাহুতে চেপে ধরা হাতও শীতল হয়ে আসলো।ইফান নিজের রাগকে কনট্রোল করতে চোখ বন্ধ করে নিলো।তারপর, পরপর কয়েকটা ঢুক গিলে আমার শান্ত চেহারার দিকে তাকালো।মূহুর্তেই আমাকে আবার ঝাপটে ধরে তার নগ্ন বুকে মিশিয়ে নিলো।ইফানের মাত্রা অতিরিক্ত হৃৎস্পন্দন আমারে কানে আসছে।সে উন্মাদের মতো আমার সারা মুখে গলায় ঘারে চুম্বন একে দিতে দিতে হিসহিসালো,
–কলিজা খুব লেগেছে? ট্রাস্ট মি জান, আমি তোমায় হার্ট করতে চাইনি,,,

ঘড়ির কাটা সারে বারোটার ঘরে।গত দশ মিনিট ধরে আমাকে ইফান তার বুকের সাথে মিশিয়ে ধরে এলোপাতাড়ি চুমু একে দিচ্ছে। আমি এতক্ষণে একবারেও তাকে বাঁধা দিলাম না।অবশেষে ইফানই আমাকে ছেড়ে দিলো।আমি ওর চোখের মণির দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে আমার কপালের সাথে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বললো,
–বেইব এখনো ব্যথা করছে?
আমি ইফানের চোখে চোখ রাখলাম।কিছুক্ষণ তাকে দেখে নিলাম।কপালের ব্যন্ডেজের সাদা গজটা রক্তে লাল হয়ে আছে।আমি কোনো ইঙ্গিত না দিয়েই ইফানের বাহুতে জোরে কামড়ে ধরলাম, যেখানে একটু আগে নোহা কিস দিয়ে গেছে।আমার হঠাৎ আক্রমণেও ইফান আমাকে তার থেকে ছাড়ালোও না।বরং স্বাভাবিক নয়নে আমার কান্ড দেখছে।কিছুক্ষণ পরই আমার কামড়ে ধরা জায়গায় রক্ত বেরিয়ে এসেছে।এটা বুঝতে পেরে ছেড়ে দিই।আবার ইফানের দিকে তাকাতেই দৃষ্টি মিলন হয়।ইফান ঘার বাকিয়ে তার রক্তাক্ত হাতের দিকে এক বার দৃষ্টি বুলিয়ে মুচকি হেসে দিলো।বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে আমার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা রক্তটা যত্ন নিয়ে মুচে দিলো।তারপর আমার দুগাল তার দিকে উঁচিয়ে ধরে কপালে শব্দ করে একটা চুমু একে দিয়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,

–জান রাগ কমেছে। তুমি চাইলে আরেকটা কামড় দিতে পার এখানে,,
ইফান এক আঙ্গুল দিয়ে নিজের বুকের বাম পাশে ইশারা করে দেখালো।আমি একবার সেদিকে তাকায়।তারপর ধীরে ধীরে তার বুকের দু পাশে হাত রেখে জোরে ধাক্কা মেরে দিই।ইফান আচমকা ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে বিছায় গিয়ে পড়ে।আমি তাকে ধাক্কা মেরে এক মূহুর্ত সেখানে আর দাড়ালাম না।এদিকে আমি ওয়াশরুমে চলে যেতেই ইফান নিজের দেহের নিচের দিকে চোখ রাখলো।পায়ের সাথে পা বেজে বিপদ সীমার নিচে নেমে থাকা টাউজার পেন্টা খুলে পায়ের গুরালিতে বাঁধা পেয়ে আটকে আছে।সে নিজের এই অবস্থা দেখে একটা ঢুক গিললো।এতে তার এডামস এপল তরঙ্গায়িত হলো।এদিকে দরজায় পর্দার আড়ালে তখন থেকে লুকিয়ে থাকা নোহা মাথা বের করে বলে উঠলো,
❝টুকি দেখে ফেলেছি ❞

দিয়াবাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদীতে একটি লাইটার শিপ ভিড়তেই, কয়েকজন লোক লাফ দিয়ে মালবাহী ছোট জাহাজটায় উঠে পড়ল।।তারপর আরও দুজন লোক নিচ থেকে একটা বিশাল বড় বস্তু ধরতেই আগে উঠে যাওয়া লোকগুলো টেনে তুলে নিলো।সকলে উঠতেই লাইটার শীপটা ছেড়ে দিলো।লোকগুলো একটা কক্ষে এসে বস্তাটা থেকে বিধস্ত মেয়েটাকে বের করে একপাশে তারা দাড়িয়ে পড়লো।এদিকে মেয়েটার সামনের চেয়ারে আরাম করে বসে আছে একজন লোক।মাথায় একটা ক্যাপ লাগানো।ঠোঁটে সিগারেট ধরা।তার দুপাশে কালো পোশাকধারী আরও দুজন স্বঅস্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে।বসে থাকা লোকটা ভ্রু উচিয়ে একবার মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে নিলো।তারপর ঘারে হাত বুলিয়ে ঠোঁটের সিগারেটটায় শেষ টান দিয়ে পায়ের নিচে ফেলে পিষে দিলো।

–মেয়েটার দায়িত্বে কারা কারা ছিলো?
লোকটার মুখটা এখনো ক্যাপের আড়ালে শুধু ঠোঁটগুলো দৃশ্যমান। হিমশীতল কন্ঠে সকলে কেঁপে উঠলো।দাঁড়িয়ে থাকা দুজন গার্ড বাইরে থেকে ঐ মাতাল চারজনকে নিয়ে আসলো।সামনের বসে থাকা লোকটা উঠে দাড়িয়ে তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,”আমি কি না করেছিলাম মেয়েটাকে টাচ করার জন্য?”শান্ত কন্ঠে হুমকি ছাড়লো লোকটা।চারজনের মধ্যে একজন কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,”বস আসলে,,,”।বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই পরপর গুলির আওয়াজ আসে।তৎক্ষনাৎ লোকটা গগন কাপিয়ে চিৎকার দিয়ে মেঝে লুটিয়ে পড়লো।সকলে একবার রক্তাক্ত দেহটাকে দেখে কাঁপা কাঁপা শরীরে সামনের লোকটার দিকে তাকালো।লোকটার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠেছে।লোকটার হাতের গানটা থেকে এখনো বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধ বের হচ্ছে। লোকটা বন্ধুকটাকে ঠোঁটের কাছে এনে ফু দিয়ে ধোঁয়াটা বাতাসের সাথে মিশিয়ে দিলো।সকলে এখনো ভয়ে ভয়ে লোকটার কর্মকাণ্ড দেখছে।তৎক্ষনাৎ কোনো পূর্বাভাস না দিয়ে আরেকজন মাতালের কপালের মাঝ বরাবর শুট করে দিলো।ঐ লোকটাও চিৎকার দিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।তারপর ছটপট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

–আমার কথা না শুনার ফল কি হতে পারে জানতি না!
বাকি দুজন লোকের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বাক্যটা বলে সকলের ভয়ার্ত চেহারা দেখে ক্রুর হাসলো।অত:পর আবার বলতে আরম্ভ করলো,”এটাই শেষ বার বলছি।আমার কথার বাইরে গেলে তোদের কলিজা ছিড়ে ফেলবো।বুঝতে পেরেছিস।” সকলে এক সাথে উপর নিচ মাথা ঝাঁকাতে লাগলো।লোকটার হাসিটা আরও চওড়া হলো।তারপর ইশারা করে বাকি দু’জনকে আর লা*শ দুটো কে এখান থেকে নিয়ে যেতে ।তৎক্ষনাৎ দুটো গার্ড তাদের কে রুম থেকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল।লোকটা মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটাকে একবার দেখে আবার চেয়ারে গিয়ে বসলো।অতঃপর ঠোঁটে আরেকটা সিগারেট জ্বালিয়ে সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডদের বললো,

–মেয়েটাকে ভালো ট্রিটমেন্ট দাও।যাতে মিয়ানমার পৌঁছানোর আগেই সুস্থ হয়ে উঠে।
–বস বাকি মেয়েদেরকে কি বর্ডার দিয়ে নিয়ে যাবো নাকি নদীপথেই?
–মেয়েদের নিয়ে ভুলেও স্থলপথে উঠবে না।বুড়িগঙ্গা, মেঘনা,নাফ নদী দিয়ে একেবারে মিয়ানমার পৌঁছে সেখানেই ক্লাইন্ডদের হাতে তুলে দিবো।মনে রাখবে সি আই ডি টিম কু*ত্তার মতো আমাদের পিছে পড়ে আছে।একবার ধরতে পারলে সব শেষ।
–জ্বি বস,,

সামনের গার্ড দুটো বেড়িয়ে যেতেই লোকটা সিগারেটে আরেকটা টান দিলো।পরপরই ফোনকল বেজে উঠলো।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গার্ড ফোনটা চেয়ারে বসে থাকা লোকটার হাতে দিলো।ফোনটার স্কিনে ইমরান সেইভ করে রাখা নাম্বার টা দেখেই বিরক্তি তে চোখ কুঁচকালো। তারপর সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে ফোন রিসিভ করে বললো,
–হ্যালো!!
ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ঝটপট উত্তর করলো ইমরান,
–আরে ভাই, রেস্টুরেন্টে আমাদের ফেলে কোথায় গায়েব হয়ে গেলি।
–আমার একটা দরকারী কাজ ছিলো তাই তোদের না জানিয়েই বেড়িয়ে পড়তে হয়েছে।
মাহিনের কথায় বিরক্ততে ইমরান বলল,

–এতই যখন দরকারী কাজ ছিলো তাহলে আমাকে বাসা থেকে রাত বিরেতে বাইরে নিয়ে আসলি কেন।তর না হয় বউ নাই। আমার তো একটা ফুলটুসি বউ আছে নাকি,,
এরই মাঝে টুট টুট করে কলটা কেটে গেল।মাহিনের এমন কাজে বেশ বিরক্ত হলো ইমরান।সেই কখন থেকে ইমরান আর মাহিনের বন্ধুরা রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছে মাহিনের জন্য। ইমরান ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে বাকিদের জানালো মাহিন আর আসবে না।ইমরান গাড়িতে উঠতে উঠতে চাপা রাগ নিয়ে বলতে লাগলো,
–ধুর ধুর ধুর।এতক্ষণে বউয়ের সাথে প্রেম করে ঘুমিয়ে পড়তাম। শালা সব আমাকে বেক্কল পইছে।

রাত একটা চৌধুরী বাড়ির সকলে গভীর ঘুমেে বিভোর। লিভিং রুম সহ পুরো ম্যানশন অন্ধকারাচ্ছন্ন।ইমরান গাড়ি পার্কিং লটে রেখে এসে বাড়ির মেইন ডোর খুললো। ভেতরে সব অন্ধকারে ছেয়ে আছে।বিরক্তিতে নাক ছিটকালো ইমরান।তারপর আবার সদর দরজা লাগালো বিরবির করতে করতে,
–ধুর ধুর আজকেও বউটাকে একটু আদর করতে পারবো না।এই জীবনটায় তেজ পাতা।
ইফান আর পঙ্কির এক্সিডেন্ট হওয়ায় পারিবারিক বিজনেস তাকে আর ইরহাম চৌধুরীকেই সামলাতে হচ্ছে। সাথে ইকবাল চৌধুরীর রাজনৈতিক কাজেও তাকে সামলাতে হয়।যেহেতু ইফান নেই তাই সব কাজ একা সামলাতে হচ্ছে। এই ব্যস্ততার মধ্যে পলিকে একদমই সময় দিতে পারে না ইমরান।এই নিয়ে পলি কদিন ধরে মন খারাপ করে রেখেছে। অথচ মুখ ফুটে কখনো কিছু বলে না ইমরান কে।ইমরান তার প্রেয়সীর চেহারা দেখেই বুঝে যায় তার মনের কথা।এদিকে ইমরান সদর দরজা লাগিয়ে দিলো।এখন আর লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন মনে করলো না।অন্ধকারেই হাতরে হাতরে কয়েক পা এগোতেই পিছন থেকে কেউ একটা ঝাপটে ধরলো।ইমরান চেঁচিয়ে উঠলো,

–এই কে, কে রে চোর চোর,,
তখনই ইমরানের কানে আসলো একটা মেয়েলি কন্ঠ,
–মাহি বেবি আমি,,
কন্ঠ শুনেই বুঝতে বাকি রইলো না এটা কে।ইমরান দাঁত কিরমির করে তার কোমর থেকে নোহার পেচিয়ে রাখা হাত সরাতে সরাতে বললো,
–ওরে পাগলি আমাকে ছাড়রে।আমি তর মাহি বেবি টেবি না। এবার ছেড়ে দে আমার বাপ।

ঘড়ির কাটা ঘুরতে ঘুরতে তিনটায় এসে থামলো।আমি কম্বল মুড়ি দিয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছি।হঠাৎ তল পেটের শেষাংশে কোনো বস্তুর নড়াচড়ায় ঘুম হালকা কাঁচা হয়ে আসলো।এখনো কারো হাতের বিচরণ আমর তলপেটের শেষাংশে।এতে ভিষণ নেগেটিভ ফিল হচ্ছে।আমি ঘুমের মাঝেই মুচরামুচরি করছি।তখনই কেউ একজন আমার সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হলো।ঘারে কারো তপ্ত শ্বাস পড়ছে।আমি ঘুমের ঘোরেই বিরক্তিকর আওয়াজ বের করছি।
❝বুলবুলি চল কিছুক্ষণ সে*ক্স করি❞

ইফান আমার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি সরে হিসহিসিয়ে বাক্যটা বলে।এদিকে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে ওর লাগামহীন কথা শুনে।আমি হালকা পিটপিট করে চোখ খুললাম।এখনো ইফান কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিচ্ছে তো হাত দিয়ে তল পেটে জোরে জোরে চাপ প্রয়োগ করছে।ঘুমানোর পর থেকে কত বার যে কাঁচা ঘুম ভেঙে গেছে ওর এসব কারণে তার কোনো হিসাব নেই।এখন আর চোখ খুলেও রাখতে পারছি না ঠিক মতো।আমি রাগে শক্ত হাতে পেটিকোটের ভিতর থেকে ওর হাতটা টান মেরে বের করে দিয়ে আবার চোখ বুঝলাম।বিষয়টা একটুও ভালো লাগে নি ইফানের।তাই বাহুতে শক্ত টান মেরে তার দিকে ঘুরিয়ে দিলো আমাকে।আমি তপ্ত শ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বললাম,

জাহানারা পর্ব ২৫

❝কি সমস্যা এভাবে টানাটানি করছেন কেন?❞
ইফান আমার ব্লাউজের দুটো বুতাম টেনেটুনে খুলে সেখানে মুখ ডুবালো।অতঃপর তার সাথে আমাকে আরেকটু চেপে ধরে মাদকীয় হাস্কি স্বরে ফিসফিস করে বললো,
❝হরমোনে নাড়া দিচ্ছে বুলবুলি। ❞

জাহানারা পর্ব ২৭