Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ২৯

জাহানারা পর্ব ২৯

জাহানারা পর্ব ২৯
জান্নাত মুন

বাইরে ভালোই গরম পড়েছে।আমি ঠিক আর্টস বিল্ডিং এর সামনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছি। হাতে পানির বোতল, কপাল ঘামে ভিজে গেছে। পরীক্ষা শেষ সবাই ভিড় করছে—কেউ ক্যাফেটেরিয়ার দিকে যাচ্ছে, কেউ টিএসসি’র দিকে হাঁটছে, আবার কেউ গাছতলায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে।আমি হাত ঘড়িটায় একবার নজর বুলালাম।ঘড়ির কাটা তিনটা বেজে দশে। আমার এক্সাম শেষ হয়েছে তিনটার সময়।আমি বোতল থেকে পানি নিয়ে ফেইসটা ধুয়ে নিলাম।গরমে আমার ফর্সা চেহারা লাল হয়ে উঠেছে। তখনই পিছন থেকে দুজন পুরুষের গলার স্বর কানে আসে।আমি শাড়ির আচল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে সেদিকে তাকালাম।

–ভাবি আমরা এদিকে। একটু কষ্ট করে দাড়ান আমরা আসছি।
ঝড়ের বেগে আমার সামনে উপস্থিত আলাল দুলাল।এরা ইফানের লোক।আমি বাসা থেকে বের হলেই জোকের মতো পিছনে পড়ে থাকে।আলাল ঝটপট আমার মাথায় ছাতা ধরলো।দুলালের হাতে বিশাল বড় ব্যাগ।সেখানে সব ধরনের শুকনো খাবার আছে,যা আমার জন্য প্রতিদিনই নিয়ে আসে।যদিও কখনো খাই না তবুও নিয়ে ঘুরে।সেখান থেকে পানির বোতল টা বের করে আমার সামনে ধরলো,
–নেন ভাবি একটু পানি খেয়ে নেন।নিশ্চয়ই আপনার পানি পিপাসা পেয়েছে।
এমনিতেই গরমের চোটে মাথা গরম হয়ে আছে,তার উপর এই আপদগুলোর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। গত দশ মিনিটে কয়বার যে এই কথা বলে ফেলেছে তার কোনো হিসাব নেই। আমি হাতের বোতলটা দুলালের দিকে ছুড়ে দিতেই ক্যাচ করে নিলো।আমি দাঁত পিষে বললাম,

–আমি না করেছিলাম না,আমার থেকে দূরে থাকবে।তাহলে বারবার বিরক্ত করার কারণ কি।ভালোই ভালোই বলছি আরেকবার আমার পিছু নিলে তোদের একদিন কি আমার একদিন।
আমি দুলাল কে একচোট বকে,কড়া চোখে আলালের দিকে তাকালাম।আমি তাকানোর সাথে সাথে আলাল তার কাতলা কাতলা দাঁতগুলো বের করে দিলো।আমি তাকেও চিবিয়ে চিবিয়ে বললাম,
–তোকেও কি আলাদা ভাবে বুঝাতে হবে?
আমার কথা শুনে আলালের মুখ চুপসে গেছে। সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছাতাটা আমার মাথা থেকে সরিয়ে নিলো।দুলাল ছেলেটা অসহায় মুখ নিয়ে বললো,

–ভাবি দয়া করে এমন করবেন না।ভাই এতদিন হাসপাতালে ছিলো তাই ফাঁকি দিয়েছিলাম।কোন শালা এই কথা লাগায়া দিছে ভাইয়ের কাছে।ভাই আমাদের আজ আচ্ছা মতো ঝেরেছে,,,,
–সেটা তোদের ব্যাপার। আমি যাতে আমার আশেপাশে তোদের না দেখি।
দুলালকে মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে বললাম।আমার কথা শুনে ওরা দুই ভাই একে অপরের দিকে চোখাচোখি করলো।অতঃপর আলাল একটা ঢুক গিলে মিনমিন করে বললো,
–কিন্তু ভাই,,,,
–তর ভাইকে আমি চু*দি__

আবার ছেলেটাকে থামিয়ে দিলাম এক অশ্রাব্য গালি দিয়ে।তারপর আর কিছু বলতে পারলো না।আস্তে আস্তে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো।আমি ওদের থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর আগেই পেছন থেকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তন্নির গলা কানে আসলো।আমি ভিরের মাঝে দৃষ্টি বুলাতেই চোখ পড়ে তার ক্লান্ত মুখশ্রীতে।আমার সাথে দৃষ্টি মিলতেই ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে দিলো।ওর এই হাসিটা আর ওর চঞ্চলতা আমাকে বারবার মুগ্ধ করে।তার দুপাশে আরও দুজন মেয়ে।তারাও আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড সুমাইয়া আর নাফিয়া । মূলত এতক্ষণ ধরে তাদের জন্যই আমি গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি।তন্নিকে পাঠিয়েছি ওদের কে খোঁজে নিয়ে আসতে।আমার বিয়ের পর থেকে ওদের সাথে একবারও সাক্ষাৎ হয়নি।ফোনে টুকটাক কথা হয়েছে। এই যে আমি পাঁচটা মেসেজ দিলে ওরা দুজন একটা রিপ্লাই দেয়।তাই আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওদের এমন আচরণের কারণ জেনেই ছাড়বো।

–এই নে বান্ধবী।এই দুটো আসামি আমাকে দেখেই রিকশায় উঠে পড়েছিলো।তারপর দৌড়ে ঘার ধরে নামিয়ে আনছি।
সুমাইয়া আর নাফিয়াকে তন্নি আমার সামনে দাড় করিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো।আমি রাগ নিয়ে চোখ সরু করে ওদের দিকে তাকালাম।ওরা দুজন কেমন যেন হাঁপ সাপ করছে।আমি নাফিয়ার বাহুতে থাপ্পড় মেরে বললাম,
–কি সমস্যা তোদের? আমাকে এভাবে এভয়েড করছিস কেন?
নাফিয়া জোর করে হাসার চেষ্টা করে,আমতা আমতা করে বললো,
–ধু ধুর কি যে বলিস,আমরা তোকে এভয়েড করবো কেন?
নাফিয়ার কথায় তৎক্ষনাৎ সম্মতি জানালো সুমাইয়া,”একদম, তোকে আমরা এড়িয়ে চলবো কেন।তুই তো আমাদের বেস্টু।”

আমি তাচ্ছিল্য করে মুখ বাকিয়ে বললাম,”তাই নাকি।এত যখন বেস্টু মনে কর,তাহলে এতদিন খোঁজ খবর নাও নি কেন?আমার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে তোদের কোনো হিসাব আছে?আমি তো দেখছি তন্নি ছাড়া কেউ আমাকে নিয়ে চিন্তা করে না।”
আমার কথা শেষ হতে না হতেই নাফিয়া আর সুমাইয়া বাচ্চাদের মতো কান্না করে দিলো।আমি আর তন্নি ওদের হঠাৎ কান্নার কারণ বুঝতে না পেরে হতবুদ্ধর মতো চেয়ে রইলাম।

ক্লান্ত শরীরটাকে কোনো মতে টেনে রুমের দিকে এগোচ্ছে মাহিন।সারারাত অঘুমে কাটানোর পর সকালে মাত্র এক ঘন্টা ঘুমাতে পেরেছে।তারপরই যা নাটক শুরু হয়েছিলো তা দেখে ঘুম নিজ থেকেই বাই বাই হয়েছে।তারপরও রুমে চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলো,সেখানেও শান্তি পেলো না। দরজা খুলা থাকায় নোহা এসে হাজির হয়।আর কি তার থেকে পালানোর জন্য বাসা থেকে বের হয়ে যায়।তবে বাইরে গিয়েও শান্তি মিললো না।তার লোকে খবর দিয়েছে, পপি মেয়েটা মারা যাওয়ার পর মাঝ নদীতেই ফেলে দেওয়া হয়__ সময়ের স্বল্পতার কারণে।আর লা*শ গিয়ে পড়েছে সি আই ডি’র হাতে।যেখানে মাহিন পই পই করে তার লোকদের কে বলেছিলো,লা*শ যেখানে সেখানে না ফেলতে।কিন্তু ঐ অকর্মাগুলো তাই করলো।আর কি সবগুলোকে মাহিন নিজ হাতে শাস্তি দিয়ে এসেছে।

সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে নিজেকে মনে মনে কয়েকটা খাপছাড়া গালি দিয়ে দিলো,কেন বিডিতে আসতে গেলো।দোতলা ডিঙ্গাতেই মাহিন সতর্কতার চোখ বুলিয়ে নিলো,আসেপাশে নোহা আছে কিনা।ভাবা যায় মাহিনের মতো ক্রিমিনালও নিজের ভার্জিনিটি রক্ষা করতে একটা মেয়ের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মাহিন নিজের রুমের সামনে এসে একটা দম ফেললো।অতঃপর পরিধেয় ওভার কোটটি খুলতে খুলতে রুমে ঢুকতেই পেছন থেকে দরজা লাগানোর আওয়াজে মাহিনের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে কোন আগুন্তকের উপস্থিতি।মাহিন আস্তে আস্তে চোখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকাবে তার আগেই নোহা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,,

–সারাদিন কোথায় ছিলে হানি।তোমাকে দেখতে না পেয়ে,,,,
–সে*ক্স ওঠে গিয়েছিলো তাই তো?
মাঝ পথে নোহাকে থামিয়ে তার মুখের কথা কেড়ে নিলো মাহিন।এতে নোহা গাল ফুলিয়ে মাহিনের সামনে গিয়ে দাড়ালো।নোহার মুখের কথা কেড়ে নেওয়ার বিষয় টা তার একটুও ভালো লাগেনি।এ নিয়ে নোহা কিছু বলতে যাবে তার আগেই মাহিন হাত জোর করে কাদুকাদু গলায় বললো,
–আমাকে ছেড়ে দে নারে মা,আমি এক নাদান বালক।
নোহা নিজের ঠোঁট কামরে ধরে মাহিনের এডামস অ্যাপল হাত বাড়াতে যাবে তার আগেই নিজের ইজ্জত হাতে নিয়ে উল্টো দিকে ছুট লাগায় মাহিন।
–ও আব্বা ও আম্মা আমাকে বাঁচাও,,,,,,

টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আছি চার বান্ধবী। আমার পাশে তন্নি আর আমাদের সামনে চোরের মতো বসে আছে সুমাইয়া আর নাফিয়া।ওদের কান্না থেমেছে আরও পাঁচ মিনিট আগে।এখন মাথা নিচু করে বসে আছে।মেয়ে দুটো কিছু তো একটা লুকচ্ছে আমার থেকে,কিন্তু সেটা কি?আমি আর তন্নি চোখাচোখি করলাম। তন্নি ইশারা করলো ওদের কে জেরা করতে।আমি গলা খাঁকারি দিয়ে বলতে শুরু করলাম,
–তোরা দুটো কি লুকিয়ে যাচ্ছিস আমার থেকে?
সুমাইয়া চোরের মতো আমাকে একবার দেখে,আমতা আমতা করে উত্তর দিলো,
–ক কই কি লুকচ্ছি?
সুমাইয়ার কথার পাশে নাফিয়াও জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে বুঝালো,”তারা কিছু লুকিয়ে যাচ্ছে না।” ওদের কথা শুনে আমার বিন্দু মাত্রও বিশ্বাস হচ্ছে না।ওদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা করে আমার সামনে ধরা পরেছে। তাই এমন চোরের মতো আচরণ করছে।আমার এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে টেবিলে সজোরে থাপ্পড় মারলাম।রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম,

–দেখ শেষ বারের মতো জিজ্ঞেস করছি,কি লুকিয়ে রেখেছিস আমার থেকে।না হলে কিন্তু আমাকে চিনিস কিভাবে কথা বের করতে হয় তা খুব ভাল,,,,,
–এই বান্ধবী ঐটা মুক্তা না?
আমার বাক্য সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তন্নির কন্ঠ কানে আসে।সে সামনের আরেকটি টেবিলে বসে থাকা মুক্তাকে দেখাচ্ছে।আমরা তন্নির দৃষ্টি অনুসরণ করে সেদিকে তাকাই।মূহুর্তে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে। নিজের চোখই বিশ্বাস হতে চাইছে না এটা মুক্তা।মুক্তা সামনের আরেকটি টেবিলে একটা ছেলের সাথে বসে আছে।শুধু বসে নেই, জনসম্মুখে একে অপরকে কিস করছে।সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ছেলেটাকে আমি চিনি।এই সেই ছেলে, ইফানের বন্ধু হাসান।যার সাথে মুক্তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো।পরে শেষ পর্যন্ত হয়নি।কিন্তু সেদিন তো মুক্তার সাথে ওর মামাতো ভাই মুস্তাকিমের বিয়ে হয়েছিলো।তাহলে এই নোংরা চরিত্রের ছেলেটার সাথে কি করছে,যে কিনা ইফানের কথায় বিয়ে না করেই চলে গিয়েছিল।আমি আর কিছু না ভেবেই আচমকা উঠে দাঁড়ালাম।মুক্তার চোখে এখনো আমি পড়িনি।আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে গদগদ করে ওদের দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাকে যেতে দেখে সুমাইয়া আর নাফিয়া এতক্ষণ ধরে আটকে রাখা চাপা শ্বাসটা যেন ছাড়লো।তারপর সুমাইয়া আর নাফিয়া একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট নাড়িয়ে ইশারায় বুঝালো,
–আল্লাহ আজকে বাঁচিয়ে দিয়েছে,,,,,

আমি মুক্তার সামনে দাঁড়াতেই, তারা নিজেদের চুমাচুমির কাজ থামিয়ে দিলো।আমাকে দেখেই মুক্তার ঠোঁট প্রসারিত হলো।বৃদ্ধাঙ্গুের সাহায্যে নিজের ঠোঁট মুছতে মুছতে আমাকে জড়িয়ে ধরতে নিলো।তৎক্ষনাৎ আমি হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিই।এতে মুক্তা কোনো কিছু মনে করলো না।বরং হেসে আমাকে বললো,
–আরে বন্ধু এতদিন পর কোথা থেকে নামলি।ইফানের সাথে বিয়ের পর তো, তোর আর দেখাই মিল্লো না।হুম বুঝছি বুঝছি সারাদিন রাত খাট কাপাতে ব্যস্ত থাক।
এতক্ষণ শান্ত থাকলেও এবার মুক্তার কথা শুনে রাগে শরীর জ্বলতে শুরু করলো।তবে আমার রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর আগেই মুক্তা আরেক দফা কু ইঙ্গিত পূর্ণ বাক্য ছাড়লো,

–কিরে জাহানারা, আমি তো তর বান্ধবী ছিলাম। কই একবারও তো জানালি না, ইফানকে যে তুই বিয়ে করে নিলি।যাই হোক ইফানের মতো এত ভালো ফারফরমার কে কেই বা হাত ছাড়া করে।
আমি শুধু দেখছি মুক্তাকে।কই বিয়ের আগে তো এমন ছিলো না।আর এই ক মাসে এত পরিবর্তন নাকি আমিই চিন্তে পারি নি।মুক্তা একবার হাসানকে দেখে আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
–জানিস দোস্ত ইফানের বেডে যাওয়ার সুযোগ আমারো একবার হয়েছিলো।উফফফ, ওর মতো সুখ আমাকে আর কেউই দিতে পারে নি।
আমি রাগে হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিলাম।মুক্তা হাসান কে ইশারায় দেখিয়ে বললো,
–দোস্ত হাসান ইফানের মতো সুখ না দিতে পারলেও আমার ওকে দিয়ে কোনো মতে চলে যায়।আর মুস্তাকিম ভাই তো গোল দেওয়ার আগেই আউট হয়ে যায়।তাই তো আ,,,,,,,,,,

মুক্তাকে বাকি কথা আর শেষ করতে দিলাম না।তার আগেই আমার শক্ত হাতের চাপাঘাত ওর গালে পড়ে।আমার হঠাৎ আক্রমণে তাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে নিলে হাসান ধরে নেয়।মূহুর্তে ক্যাফেটেরিয়ায় উপস্থিত সকলের দৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু আমি হই।সুমাইয়া আর নাফিয়া আমার এই রুপ দেখে ভয়ে আঁতকে উঠে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরলো।তন্নি আমার দিকে তাকিয়ে আছে,বুঝার চেষ্টা করছে আমি হঠাৎ এমন করলাম কেন? আমার হাতের চর খেয়ে মুক্তার চোখ ক্রোধে লাল বর্ণ ধারন করলো।হাসান মুক্তাকে আগলে ধরে আমার উপর চেচিয়ে উঠলো,
–ইফান দেখছি খাট কাঁপিয়েও তর তেজ কমাতে পারে নি।আমার কাছে রাতে আসিস।তর সব তেজ ক,,,,
তৎক্ষনাৎ হাসানের গালেও আমার হাতের থাপ্পড় পড়লো।আমার চাপাঘাতটা এতটা শক্ত ছিলো যে তাল সামলাতে না পেরে হাসান মুক্তাকে নিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লো।আমার এমন সাহসে সকলের চোখ কপালে উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।এখানে সকলে হাসানকে সম্মান করে চলে।সে ছাত্রলীগের একজন নেতা।উপস্থিত কয়েকজন চুপিসারে ফোনে ভিডিও ধারণ করছে।সে সবে আমার কোনো হুশ নেই।এদিকে মুক্তা আমার উপর চেচিয়ে উঠার আগেই,আমি অত্যাধিক মাত্রায় ক্রোধিত হয়ে, অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে হুংকার ছাড়লাম,

–নডির সেরি কোথাকার। বারো বেডাইনের সাথে সা*উয়া মেলায়া ধরস__ আবার আমার মুখের উপর কথা বলার দূর্সাহস দেখাস।তর এক রানে পারা মেরে ধরে আরেক রান টাইন্না ছিড়ে ফেলে দিবো।
আমার কথার পাছে হাসান রাগে তেরে আসতে নিলে,তাকে উপস্থিত সিনিয়র ভাইরা আটকায়। সেভাবেই আমাকে হুমকি দিলো,
–বান্দির বাচ্চা তোকে তো,,,
তৎক্ষনাৎ আরেকজন ছাত্রলীগ সিনিয়র নেতা হাসানের গালে ঠাস করে চর মারলো।তারপর হাসানের উদ্দেশ্য বললো,

–মুখ সামলে কথা বলুন হাসান ভাই।ভুলে যাবেন না, সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটি মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরীর পুত্রবধু।আর ইফান ভাইকে তো চিনেনই।তার সম্পর্কে নিশ্চয়ই আমাকে কিছু বলতে হবে না।
আমি আর এখানে এক মূহুর্ত দাড়ালাম না।আমি বেড়িয়ে যেতেই তন্নিও বেড়িয়ে আসলো।ক্যাফেটেরিয়ায় উপস্থিত থেকে যারা চুপি সারে ভিডিও ধারণ করে নিয়েছিলো, তাদের প্রত্যেকের ফোন থেকে ইফানের লোকেরা ভিডিও ডিলিট করে।আর সকলকে সাবধান করে দেওয়া হয়,এই নিয়ে আর যেন কোনো কথা না উঠে।
আমি তন্নিকে বলে দিয়েছি এখন কথা বলার মুড নেই__ তুই বাড়ি চলে যা।
আমার কথার পাছে তন্নিও আর কিছু বলতে পারলো না।আমি ভার্সিটি প্রাঙ্গণ থেকে বেড়িয়ে যেতেই আলাল দুলাল আবার পিছু নেয়।আমি রাগে রাস্তার মধ্যেই আচ্ছা মতো ধুইয়ে দিয়েছি।তারপর পেছন থেকে বলে যাচ্ছে,,,,,
–ও ভাবি ভাবি গো, এভাবে রাস্তা দিয়ে হেটে বাড়ি যাবেন না।তাহলে আপনার পায়ে ব্যথা আসবে।আর আপনি অসুস্থ হলে ভাই আমাদের কে খেয়ে ফেলবে।
আমি আবার দাঁড়ালাম।কিছুক্ষণ সরু চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আচমকা পায়ের জুতা খুলে তাদের দিকে ছুড়ে দিয়ে, ছাড়লাম এক অশ্লীল গালি,
–শালা মাদা*রচু*দের দল,আরেকবার তোদের গলার আওয়াজ আমার কানে আসলে গলার হাম্মোয়া টেনে ছি*ড়ে ফেলবো,,,,,

ঘড়ির কাটা বিকাল পাঁচটার ঘরে।নাবিলা চৌধুরী আর নুলক চৌধুরী কিছুক্ষণ আগে অফিস থেকে বাসায় ফিরেছে।তাই নিজেদের রুমে ফ্রেশ হচ্ছে।ইকবাল চৌধুরী আর ইরহাম চৌধুরী লাঞ্চ সেরে বেড়িয়ে গেছেন,এখনো আসেনি।পঙ্কজ এখনো ঘর কোণ তাই তাকে কোম্পানি দিচ্ছে মাহিন।মাহিন তো আসলে নোহার হাত থেকে বাঁচার জন্য পঙ্কজের রুমে সেই তখন থেকে বসে আছে।ইফান নিজের রুমেই আছে।সদর দরজায় কলিং বেল বাজায় রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসলো পলি।দরজা খুলতেই ইমরানের ক্লান্ত মুখশ্রী চোখে পড়লো।পলি শাড়ির আচল দিয়ে স্বামীর ঘামে ভেজা কপালটা মুচে দিলো।

–ইসসস আপনার কি অবস্থা হয়েছে গরমে।আপনি রুমে যান, আমি লেবুর শরবত বানিয়ে আনছি।
ইমরান দু পা এগিয়ে ভেতরে আসলো।তারপরই পলির কোমর জড়িয়ে ধরলো,
–আগে চুমু খাই তার পর শরবত খাব।
মূহুর্তেই পলির গাল লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো।ইমরানকে সরাতে সরাতে মিনমিন করে বললো,
–ইসসস ছাড়ুন বলছি।এখানে সবাই দেখে ফেলবে তো,,,
ইমরান আসেপাশে একবার চোখ ঘুরালো।কিন্তু আসেপাশে কাউকে নজরে পড়লো না,
–কে দেখবে সোনা। এখানে তো কেউই নেই।
পলি মাথাটা হালকা ঘুরিয়ে দেখলো,সত্যিই লিভিং রুম বর্তমানে ফাঁকা হয়ে আছে।ইমরান নিজের প্রেয়সীর লজ্জা মিশ্রিত মুখটা উপরে তুললো।পলি বুঝতে পারছে তার স্বামী এখন চুমু না খেয়ে তাকে ছাড়বে না।তাই চোখ বন্ধ করে নিলো।ইমরান মুচকি হেসে প্রেয়সীর ঠোঁটে চুমু এঁকে দেওয়ার জন্য মুখ এগিয়ে নিলো।ওদের ওষ্ঠের দূরত্ব যখন নেনো সেন্টিমিটার তখনই ঝড়ের গতিতে আমি প্রবেশ করলাম।আমার মাথায় এখন আগুন ধরে আছে।আসে পাশে কে বা কারা আছে তা একবার চেয়েও দেখলাম না।আমি চিৎকার দিয়ে ইফানকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে দিতে সদর দরজা ফেরিয়ে এলাম।

❝ইফাইন্না গোলামের পুত, তুই কই আছস বেরিয়ে আই।❞
আমার আচমকা আগমনে পলি আর ইমরান দুদিকে ছিটকে পড়লো।আমি তাদের মাঝখান দিয়ে ভেতরে চলে গেলাম।ওরা দু’জন এখনো বুঝে উঠতে পারছে না কি হয়েছে।এদিকে সিঁড়ির আরেকটু কাছে গিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম,
–হা*রামির বাচ্চা কোন মাইনকার চিপায় লুকিয়ে আছিস,বেড়িয়ে আয়।
আমার চেঁচামেচি শুনে মূহুর্তের মধ্যে ড্রয়িং রুমে সকলে হাজির হলো।আমি এখনো ইফান কে গালিগালাজ করে ডাকছি।ইফান ঘুমিয়ে ছিলো,আমার চিৎকার শুনে আচমকা চোখ মেলে।তারপর কোনো দিক না ভেবেই দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে।নাবিলা চৌধুরী আমাকে ধমকাচ্ছেন আমি কেন অসভ্যের মতো উশৃঙ্খল ভাষায় গালিগালাজ করছি।আমি কারো কথায় কান দিলাম না।ইফান ছুটে এসে আমার দুগাল তার দু’হাতের মধ্যে নিয়ে উদগ্রীব হয়ে বললো,

–কি হয়েছে জান?শরীর খারাপ, কেউ কিছু বলেছে কি?
বলতে বলতে আমার মুখ হাত শরীরে দৃষ্টি বুলাতে লাগলো,
–কি হয়েছে জান আমায় একবার বল, তোকে কেউ স্পষ্ট করেছে।জাস্ট একবার নামটা বল, আল্লার কসম এখনই ঐ শোউরের বাচ্চার কইলজা কুত্তা দিয়া খাইয়ে আসবাম।বল আমায়,,,
আমাকে নিয়ে ইফানের এত উতলা হওয়ার কারণ দেখার চেষ্টা করলাম না।বরং আমার শরীর থেকে ওর হাতটা ঝাড়া মেরে ফেলে দিলাম।অতঃপর আর এক মূহুর্ত ব্যায় করলাম না।পুরো লিভিং রুম ভর্তি মানুষের সামনে ওর গালে সজোরে চর বসালাম।হঠাৎ আমার এমন কান্ডে পুরো লিভিং রুমে উপস্থিত সকলে স্তব্ধ হয়ে গেলো।আচমকা হামলায় প্রস্তুত না থাকায় ইফানের ঘার আরেক পাশে ঘুরে গেছে। কি হয়ে গেলো__বিষয়টা বুঝতে ইফানের বেশ কিছুটা সময় লেগেছে।যখন মস্তিষ্ক আবার সচল হয়ে উঠলো তখন গালে হাত বুলিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো।মূহুর্তের মধ্যে ওর ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা হাসিটা ফুটে উঠলো।ইফান আবার আমার গালে হাত দিয়ে কানের কাছে হিসহিসিয়ে বললো,

–জাস্ট এটার জন্যই এত উতলা হয়েছিলে সোনা।তুমি জানো, হঠাৎ তোমার চিৎকার শুনে আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তোমার কিছু হয়ে গেছে। এক মূহুর্তের জন্য মনে হয়েছিলো এই বুঝি বেইমান হৃদয়টার স্পন্দন চিরতরের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।
❝I hate you.❞
আমি ঘৃনায় ইফানের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর করলাম।আমার উত্তরে আবারো তার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসির রেখা ফুটে উঠেছে।সকলের দৃষ্টি আমাদের দিকে নিবদ্ধ। ইফান সে সবে পরোয়া করলো না।বরং এভাবেই আমার গাল ধরে শব্দ করে কানের লতিতে গাঢ় চুম্বন এঁকে দিলো।পরক্ষণেই আমার মতো করে সংক্ষিপ্ত প্রতিত্তোর করলো,
❝I just fu*ck you.❞
আমি চোখমুখ কুচকে ইফানকে ধাক্কা মারলাম।এবারো ইফান এটার জন্য প্রস্তুত ছিলো না।তাই ছিটকে আমার থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলো।এদিকে সবাই নিরব দর্শকদের মতো দাড়িয়ে থাকলেও নাবিল চৌধুরী পারলো না।ছুটে এসে আমার কাঁধে ধাক্কা মেরে উনার দিকে ঘুরিয়ে নিলেন।তারপর আমাকে চর মারার জন্য হাত উঁচিয়ে, বাড়ি কাঁপিয়ে হুংকার ছাড়লেন,

❝জাহানারা❞
আমি আচমকা চোখ বন্ধ করে নিলাম।কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেও যখন নিজের শরীরে বিন্দু মাত্র স্পর্শ অনুভব করলাম না,তখন আস্তে আস্তে চোখ খুলি।ইফান নাবিলা চৌধুরীর তোলা হাতটা ধরে আছে।ইফানের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।ক্রোধে চোখ দুটো লাল বর্ণ ধারণ করেছে।নাবিলা চৌধুরী জ্বলজ্বল করা নয়নে নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন।ইফান নিজের মায়ের চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলো না।অতঃপর নাবিলা চৌধুরীর দিকে না তাকিয়েই শক্ত গলায় বললো,
–ফারদার এরকম ভুল করবে না মম।আজ তোমার জায়গায় অন্যকেউ হলে এতক্ষণে সেই হাতটাই ভেঙে গুড়িয়ে দিতাম।রিমেম্বার“আমার বউয়ের গায়ে হাত তোলা তো দূরের কথা, ওর সাথে গলা উঁচু করে কথা বলাটাও একেবারেই নট অ্যালাউড।”

আমি ইফানের দিকে অনুভূতিহীন ভাবে তাকিয়ে আছি।ইফান নিজের কথা শেষ করে আচমকা আমাকে তার কাঁধে তুলে নিলো।আমি চিৎকার করে করে ওর পিঠে কিল ঘুষি দিতে লাগলাম।ইফান এসবে তোয়াক্কা না করে আমাকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে নিজের রুমে চলে গেল।
এদিকে ব্যথাতুর চাউনিতে পলকহীনভাবে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছে নাবিলা চৌধুরী। এটাই হয়তো জীবনের প্রথম বার ইফান তার মার সাথে এতটা রূঢ় আচরণ করেছে।নুলক চৌধুরী একবার বোনকে, আরেকবার আমাদের প্রস্থান দেখে কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেলেন।মনিরা বেগম ভয়ে ভয়ে নাবিলা চৌধুরীর কাঁধ হাত রাখে__তৎক্ষনাৎ চোখের পলক পড়তেই হুশে চলে আসেন।
–ভাবি ইফানের কথায় কি,,,,,,

কাকিয়াকে বাকি কথা সম্পন্ন করতে দিলো না নাবিলা চৌধুরী। কারো দিকে না তাকিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।দাদি দীর্ঘ শ্বাস ছাড়েন,ইতি উনাকে ধরে উনার রুমের দিকে নিয়ে যায়।ইমরান আর মাহিন এখনো স্বাভাবিক হতে পারছে না।কারণ এই প্রথম ইফান কাউকে ছাড় দিয়েছে।ইমরানও বেশিক্ষণ এখানে থাকতে পারলো না।পলি তাকে রুমের দিকে নিয়ে যায়।সবাই চলে যাওয়ার পর ড্রয়িং রুমে মাহিন আর নোহা ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব নেই। নোহা দোতলার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসছে।হঠাৎ মাহিনের চোখে পড়ে নোহার হাস্যজ্জল চেহারা। এমন সিরিয়াস মূহুর্তে নোহাকে হাসতে দেখে আবারও পাগল উপাধি দিয়ে দিয়েছে মাহিন।তখনই নোহার চোখ পড়ে মাহিনের দিকে।নোহা তৎক্ষনাৎ ঠোঁটের কোণ কামড়ে ধরে মাহিনকে মিডল ফিঙ্গার দেখালো।মাহিন আবহাওয়া সুবিধার না দেখে__নোহার দিকে তাকিয়ে কপালে হাত ধরে বললো,
❝আসসালামু আলাইকুম ❞
অতঃপর আর এক মূহুর্ত দাঁড়ালো না,এক দৌড়ে নোহার সামনে থেকে কেটে পড়লো।

ইফান রুমে এসেই আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে।আমি ওর থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকালাম।ইফান দুই আঙ্গুল দিয়ে আমার গাল চেপে তার দিকে ফিরালো। তারপর মাদকীয় কন্ঠে বললো,
–জান হঠাৎ এরকম রেগে আছ কেন?ভার্সিটি তে কিছু হয়েছে?
আমি উত্তর করলাম না।ইফান আমাকে বলার সুযোগ দিয়ে আবার নিজেই বলতে লাগলো,
–আমার ঝাঁঝওয়ালির ঝাঁঝ হঠাৎ কেন বেড়ে গেলো।টেল মি হোয়াই?
আমি এখনো ওর দিকে তাকালাম না। ইফান শান্ত ভাবে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো।তারপর আমার গালে চুম্বন দিতে নিলেই, তাকে ধাক্কা মেরে আমার থেকে সরিয়ে দিয়ে চেচিয়ে উঠলাম,

❝ন*ডির পুত তুই আমাকে ধরবি না,তোকে দেখলেই সা*উয়া’য় জ্বলন ধরে__❞
আমার বাক্য শেষ হতেই সে কপাল কুঁচকালো।অতঃপর নাক ছিটকে বললো__❝কি সাংঘাতিক কথাবার্তা বউ, আমি তো এখনো আমার স্পেশাল পেট্রোলই ঢাললাম না,তাহলে তোমার ঐখানে আগুন লাগলো কিভাবে।❞
আমি হুংকার ছাড়লাম__❝আরেকটা বাজে কথা বললে তোকে মেরেই ফেলবো।❞
রাগে আমার চোখ দু’টো লাল বর্ণ ধারণ করেছে।আমি নিজেকে কোনো ভাবেই রাইট সেন্সে ধরে রাখতে পারছি না।ইফানও বুঝতে পারছে না হঠাৎ আমার এত রেগে থাকার কারণ।কয়েক মূহুর্ত আমাদের মাঝে নিরবতা বিরাজ করে।ইফান খুব মনযোগ দিয়ে আমাকে দেখে কাছে এগিয়ে আসে।তারপর আমার উপর ঝুঁকে হিসহিসিয়ে বলে,,
❝নাও মেরে ফেল__❞

সংক্ষিপ্ত বাক্যটা শেষ করে আমার ঠোঁটে ডুব দিতে নিবে ঠিক তখনই আমি চোখ বন্ধ করে ইফানকে পুনরায় ধাক্কা মেরে নিজের থেকে সরিয়ে দিলাম।ইফান নিজেকে ঠিক করার আগেই আমার মাথার খোপা থেকে স্টিলের কাঠি ব্যান্টটা খুলে ওর বুকের বাম পাশে ঢুকিয়ে দিলাম। মূহুর্তের মধ্যেই ওর বুক ছিড়ে তাজা রক্তের স্রোত বইয়ে সারা বুক রক্তে রঞ্জিত হলো।ইফান নিজের রক্তাক্ত বুকে একবার চোখ বুলিয়ে আবার আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকালো। ধীরে ধীরে ইফান আমার কাছে এগিয়ে আসে।তারপর কানের কাছে তার সিগারেটে পোড়া খরখরে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি স্বরে গাইলো গানের দু’টো লাইন,

জাহানারা পর্ব ২৮

❝_____চাইলে আস্কারা পাক
বেঁচে থাকার কারণ,
,,,,,,, আজকে হাতছাড়া যাক,,,,,,
ব্যস্ততার বারণ,
,,,,,, লিখবো তোমার হাতে,,,,,
আমি আমার মরণ_______❞

জাহানারা পর্ব ৩০