তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭২
তাবাস্সুম খাতুন
সময় কি কারোর জন্য থেমে থাকে? উহুম সময় তো নদীর স্রোতের মতো বয়ে যেতেই থাকে। সাথে বদলে যাই মানুষের জীবন। জন্ম হয় পৃথিবীতে কত নবজাতক শিশু। আর প্রতিদিন মারা যাই কত মানুষ। কেউ তরুণ কালে তো কেউ বৃদ্ধা হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। দেখতে দেখতে সময়টা আজ এক দুই বছর নয় পুরো নয়টা বছর কেটে গেলো। এই নয় বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। সবার জীবনে অনেক পরিবর্তন আসছে।
নিশান আর সিমি এখনো ইতালির রোম শহরে আছে। তবে নিশান আর কোন রকম খুন খারাবি করে না, সে যে কথা দিয়েছে তার ইশুকে। নিশান আর সিমির কোল আলো করে আবারো জন্ম নিয়েছিল তাঁদের অস্তিত্ব। তাঁদের অংশ তাঁদের ছেলে তাহসিন চৌধুরী ইহান। বয়স এখন সাত বছর পাঁচ মাস।সুখেই কাটছে তাঁদের দিনকাল।
ইতালির সময় এখন বিকাল পাঁচটা বেজে চার মিনিট। সিমি আর তার ছেলে ইহান বাড়ির সামনের গার্ডেনে থাকা টেবিলে বসে আছে। ইহান বই পড়ছে, আর সিমি দেখিয়ে দিচ্ছে। তখনই সিমির ফোনে কল আসলো। সিমি ভ্রু কুঁচকে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো নিশান কল করেছে। সিমি কল রিসিভ করতেই নিশান বলে উঠলো,
“ছেলে কোথায়?”
“বই পড়ছে।”
“ইহান আর তুই রেডি হয়ে গাড়িতে ওঠ।”
সিমি ভ্রু কুঁচকে বললো,
“কেন কি হয়েছে?”
নিশান ধমক দিয়ে বললো,
“তোকে এখন কৈফিয়ত দিতে হবে? দ্রুত রেডি হয়ে গাড়িতে ওঠ।”
বলে কল কেটে দিলো। সিমি ফোন কান থেকে নামিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,
“শালা বিদেশি কুত্তা, জীবনেও ভালো হবে না। আমাকে ধমক না দিলে তো তোর দিন তো রাতে পরিণত হবে না।”
এরপর ইহানের উদ্দেশ্য বললো,
“ইহান রেডি হবে চলো।”
ইহান বিনা বাক্য ব্যায় করে বই খাতা গুছিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য যেতে লাগলো। সিমি নিজেও গেলো। ইহান হয়েছে নিশানের কপিক্যাট সবসময় কথা কম বলে। সিরিয়াস ভাব মুখে বজায় রাখে। আর কোন কথা যদি বলা হয় তো একটা বারের জন্য ও প্রশ্ন করবে না। ইহানের গায়ের রং লাল ফর্সা। নাকটা সরু, চোখ দুটো ছোট ছোট চিকন দুইটা ঠোঁট। নিচের ঠোঁটের মাঝে একটা তিল। চুলগুলো ছোট ছোট। তার পোশাক সবসময় টিশার্ট আর প্যান্ট।
ইহান নিজের রুমে ঢুকে একটা কালো প্যান্ট আর সাদা টিশার্ট পরে নিলো।চুলগুলো সুন্দর করে সেট আপ করে রুম থেকে বেড়িয়ে। ড্রইং রুমের সোফায় বসে তার মাম্মামের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। সিমি প্রায় দশ মিনিট পরে রুম থেকে বেড়িয়ে আসলো। তার পরনে মেহেরুন রঙের লং সালোয়ার কামিজ। চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। কানে সাদা স্টোনের দুইটা টপ।বাম হাতে মেহেরুন রঙের ঘড়ি। মুখে পন্ডস ক্রিম আর ঠোঁটে লাল লিপিস্টিক হাল্কা করে দিয়েছে। উড়নাটা মাথায় কাপড় দেওয়ার মতো করে দিয়ে এক পাশে তুলে দিলো। হাতে একটা ছোট হাত ব্যাগ যেইটাতে ফোন রাখছে। সিমি এসে ইহানকেকে বললো,
“চলো ইহান আমি রেডি।”
ইহান তার মাম্মামের সাথে বাহিরে আসলো। গাড়িতে উঠে বসলো। ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে নিশানের বলে দেওয়া গন্তব্যে যেতে লাগলো। কিছুক্ষণ নিরাবতার মধ্যে সিমি ইহানকে বলে উঠলো,
“তুমি কি আমার সাথে কথা বলতে চাও না নাকি ইহান?”
ইহান তার মাম্মামের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বললো,
“তোমার কেন মনে হচ্ছে মাম্মাম আমি তোমার সাথে কথা বলব না।”
সিমি নিজের মতো বললো,
“এইযে আমার সাথে কোন কথা বলছো না একদম চুপচাপ। তুমি তো আমারো ছেলে। সবসময় যে পাপার মতো গম্ভীর হতে হবে এমন তো না। আমার মতো চঞ্চল হও একটু।”
সিমির কথা শুনে ইহান ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ছেড়ে বললো,
“মাম্মাম আমি বেবি না যে বেবিদের মতো চঞ্চল গিরি করে বেড়াবো। আমি বড়ো হয়েছি। ঐসব আমার দ্বারা যাই না।”
ছেলের কথা শুনে সিমি অবাক কন্ঠে বললো,
“তোমার মাত্র সাত বছর বয়স, তুমি এখনো ছোট।”
ইহান মাথায় হাত দিয়ে বললো,
“আমার বয়স সাত বছর পাঁচ মাস। আমি ক্লাস টু তে পরি আমি যথেষ্ট বড়ো মাম্মাম আমাকে ছোট বলবে না।”
সিমি আর কথা বাড়ালো না রাগ নিয়ে শুধু বললো,
“হ্যা তুই আর তোর পাপা আমার থেকে হাজার গুন বড়ো তাই সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকিস। আর আমি দুই বছরের বাচ্চা তাই বেশি কথা বলি।”
ইহান তার মাম্মাম কে কিছু বললো না। তার মাম্মাম যে কেমন সে জানে। তবে তার তো বেশি কথা বলতে ভালো লাগে না প্রয়োজন ব্যাতিত তাই চুপচাপ থাকে। এইটা তার মাম্মাম কে কে বোঝাবে?
তাঁদের নীরবতার মধ্যে গাড়ি এসে থামলো ইয়ারপোর্ট এর সামনে। সিমি আর ইহান গাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলো। সিমি ইহানের হাত ধরলো। এইদিকে ঐদিকে তাকাতেই দেখা মিললো নিশানের,সে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। নিশানের পরনে কালো সুট। বয়স বাড়লেও নিশানের চেহারা যেন আগের মতোই আছে। দিন – দিন মনে হয় আরো সৌন্দর্য লাভ করছে। নিশান সিমির কাছে আসতেই সিমি বলে উঠলো,
“এয়ারপোর্ট কেন এলাম?”
নিশান সিমির হাত ধরে এয়ারপোর্ট এর ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,
“বাংলাদেশ যাবো এইজন্য।”
বাংলাদেশ যাবে? এই কথা শুনে সিমি ভুলে গেলো সে মানুষের ভিড়ে আছে হঠাৎ চিৎকার করে নিশানের হাত জড়িয়ে বললো,
“আহহহ আজ দশ বছর পরে বাড়ি যাবো।”
সিমির চিৎকার শুনে আশেপাশে সবাই তার দিকে তাকালো। নিশান এইবার ধমক দিয়ে বললো,
“স্টুপিড তোর মাথা খারাপ হয়েছে নাকি?”
সিমি দ্রুত নিশানের হাত ছেড়ে দিলো। আশেপাশে মানুষ তাকিয়ে আছে দেখে লজ্জা লাগলো। মাথা নিচু করে নিলো। নিশান গম্ভীর মুখে ভিতরে ঢুকে, এয়ারপোর্ট এর মধ্যে একটা সিটে সিমি আর ইহানকে বসতে বলে তিনজনের পাসফোর্ট নিয়ে চলে গেলো। ইহান চুপচাপ তার মাম্মামের পাশে বসে আছে। সিমির লজ্জা লাগছে বলে মাথা নিচু করে চুপ করে বসে আছে।তাঁদের দুইজনের এইভাবে বসার মধ্যে হঠাৎ এক পুরুষনালীর কণ্ঠ ভেসে আসলো,
“সিমি..
সিমি চোখ উঁচিয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো নীল দাঁড়িয়ে আছে। সিমি অবাক হলো। উঠে দাঁড়ালো। ইহান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। নীল সৌজন্যে মূলক হাসি দিয়ে বললো,
“কেমন আছো তুমি?”
সিমি নিজের অবাক প্রবনতা কাটিয়ে বললো,
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি কেমন আছেন নীল ভাই?”
নীল নিজের মতোই বললো,
“তোমাকে ছাড়া যেমন থাকার কথা।”
সিমির মাথা নিচু হয়ে গেলো, ভাবলো আমাকে ছাড়া থাকা মানে? সে কি বিয়ে করে নি? প্রশ্ন করেই বসলো,
“বিয়ে করেন নি?”
“না।”
সিমি ভ্রু কুঁচকে বললো,
“কেন?”
নীল মুচকি হেসে বললো,
“তোমাকে পাই নি তাই।”
“আল্লাহ আপনি কি পাগল? আমাকে পান নি ঠিকাছে, তবে অনেক মেয়ে আছে তো যারা আমার থেকে ভালো সুন্দর।”
“তোমার জন্য পাগল হয়েছি তাই কোন সমস্যা আমার নেই। আর বললে অনেক মেয়ে! হ্যা অনেক মেয়েই পাবো তবে তোমাকে তো আর পাবো না।”
সিমি কিছু বলবে এর মধ্যে ইহান দাঁড়িয়ে তার মায়ের হাত ধরে তার মাম্মাম কে বললো,
“মাম্মাম ইনি কে? তুমি কেন কথা বলছো তার সাথে?”
ইহানের কথা নীলের কানে যেতেই। নীল তাকালো ইহানের দিকে। অবাক হলো কারন ইহানের মুখটা একদম নিশানের মতো। বুঝতে পারলো এইটা নিশান আর সিমির ছেলে। বুকের কোথাও যেন ভাঙা চোরার শব্দ হতে লাগলো। তবুও মুখে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে একটু নিচু হয়ে ইহানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমি তোমার এক আঙ্কেল হয়। তোমার মাম্মাম আমাকে চেনে তাই কথা বলছে।”
সিমি এইবার ইহানকে ধমক দিয়ে বললো,
“বড়োদের মধ্যে কথা বলতে নেই তুমি কি জানো না ইহান।”
ইহান গোমড়া মুখ করে মাথা নিচু করে রাখলো। নীল সিমির দিকে তাকিয়ে বললো,
“বকছো কেন? ছোট মানুষ।”
নীলের কথা যেন ইহানের সয্য হলো না তাই সে বললো,
“দেখেন আপনি মাম্মামের যেই হোন তাতে আমার কিছু যাই আসে না। তবে আমাকে ছোট বলার রাইট আমি আমার বাবা – মাকেই দেই না সেখানে আপনি কোথাকার কে যে আমাকে ছোট বলবেন? আমি কি এইখানে দাঁড়িয়ে ফিডার খাচ্ছি আপনার সামনে?”
ইহানের কথা শুনে সিমি কিছু বলবে তখনই নীল হেসে বললো,
“না একদম না তুমি অনেক বড়ো হয়ে গেছো। বিয়ের বয়স হয়েছে, ইস আজ বিয়েটা করলে আমার মেয়ের হাত তোমার হাতে তুলে দিতাম।”
নীলের কথা যেন ইহানের মোট সয্য হচ্ছে না সে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বললো,
“আমার বিয়ের বয়স হয়েছে কিনা? সেইটা দেখার জন্য আমার বাবা – মা আছে,আপনার চিন্তা না করলেও চলবে। আর রইলো আপনার মেয়ে!আমার ঠেকা পড়া দায় পড়িনি আপনার মেয়েকে বিয়ের জন্য লাফ দিয়ে নাচার।”
ইহানের এমন কথা সিমি কখনো শোনেনি। নীল হাসলো সিমিকে বললো,
“একদম নিশানের কপিক্যাট দেখছি।”
সিমি লজ্জায় কিছু বলতে পারলোনা। নীল আবারো ইহানকে বললো,
“নাম কি তোমার?”
ইহান আগের মতোই বললো,
“সেইটা শুনে আপনার কাজ কি?”
“কাজ তো অনেক, যদি আমার পরিবারে কোন মেয়ে হয় তাহলে তোমার হাতে তুলে দেবো এইজন্য।”
“আইসে মেয়ে দেওয়ার জন্য, আমাকে কি স্টোকার মনে হচ্ছে? চাইলেন আর দিয়ে দিলেন।”
“আরে না আমি বলছি জ…
নীলের বাকি কথা থেমে গেলো কারোর কণ্ঠস্বর কানে যেতেই,
“সমস্যা কি তোর? আমার বউ এর কাছে কি করতে আসছিস?”
নিশানের কণ্ঠ শুনে সিমি ভয় পেয়ে গেলো। নীল আর ইহান তাকালো নিশানের দিকে। নিশান ভ্রু কুঁচকে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসলো। নীলের হাসি মুখটা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেলো। নিশান এসে নীলকে বললো,
“এইখানে কি করিস তুই?”
নীল এইবার গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“এয়ারপোর্ট কি তোর বাপের কেনা? ”
নিশান ও একই ভঙ্গিতে বললো,
“এয়ারপোর্ট আমার বাপের না হলেও ইশু আমার পার্সোনাল মানে পুরোটাই আমার যার ভাগ ওর জন্ম দাতা বাবা – মায়ের ও নেই।”
নীল নিশানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“পার্সোনাল হলে পার্সোনাল ভাবে সেভ কর, আমাকে না ধমকিয়ে।”
নিশানের মেজাজ গরম হলো। নীলের বুকে এক ধাক্কা দিয়ে বললো,
“আমার জিনিষ আমি কিভাবে রাখবো কিনা রাখবো না। তোর থেকে সাজেসশন নিতে হবে? তুই আমার কি বাল হয়ে পড়েছিস?”
নিশানের ধাক্কা নীলের সয্য হলো না। সেও নিশানকে উল্টো ধাক্কা দিয়ে বললো,
“আমার এত বালের ঠেকা পড়ি নি যে, তোর মতো বালকে আমি সাজেশন দেবো।”
নিশান এইবার নীলের কলার চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“বাল বাল করোস? বাল দেখাও আমারে? ”
নীল ও নিশানের কলার চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“তুই কি বাল রে? যে আমি তোকে বাল দেখাবো?”
নীল আর নিশানের মধ্যে এক প্রকার মারামারি বেড়ে গেলো। নিশান জোরে নীলের গালে একটা ঘুষি মারলো। নীল একটু হেলে পড়লো। আশেপাশে থাকা মানুষ দাঁড়িয়ে পড়লো। নিশান আবার মারতে যেতেই সিমি নিশানকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“প্লিজ মারামারি করবেন না।”
নিশান রাগী দৃষ্টিটে নীলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“তোর বুকের পাটা যদি শক্ত থাকে, তাহলে আয় আমার কাছে। আর নজর দে এইবার আমার ইশুর উপরে।”
নীলকে কথা বলতে না দিয়েই সিমি বলে উঠলো,
“আপনি চলে যান, আমার জীবনে আর কখনো আসবেন নাহ। প্লিজ চলে যান।”
নীল তার শ্যামার কথা ফেলতে পারলোনা। নিশানের দিকে কিলার লুকে তাকিয়ে চলে গেলো। নীল যেতেই নিশান সিমিকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে বললো,
“বাল দেখাতে আসবি না, আমি যেই গিয়েছি অমনি নাগর যোগাড় করছস?”
নিশানের কথা শুনে ইহান বলে উঠলো,
“পাপা মাম্মামের দোষ নেই, ঐ লোকের নজর ভালো না। নিজেই আসছে মাম্মামের সাথে কথা বলতে, আবার আমাকে বিভিন্ন রকম কথা বলে জাস্ট ডিসগাস্টিং।”
নিশান কিছু বললো না। আশেপাশে থাকা মানুষদের সরি বললো। এমনকি পুলিশকেউ বললো একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। পুলিশরাও চলে গেলো। নিশান গম্ভীর মুখ করে ছেলের হাত ধরে প্লেনে উঠতে গেলো। সিমি মাথা নিচু করে হাঁটতে লাগলো। নিজের উপরে রাগ হচ্ছে, কেন কথা বলতে গেলো সে? যদি না বলতো তাহলে এইসব হতো না। তারা গিয়ে প্লেনে নিজেদের সিটে বসলো। ইহান জানালার পাশে বসেছে তার পাশে সিমি আর তার পাশে নিশান। নিশান এখনো গম্ভীর মুখ নিয়ে চুপচাপ ফোন নিয়ে স্ক্রল করতে লাগলো। সিমি এখন ভাবছে কিভাবে নিশানকে মানাবে? এইদিকে ইহান নিজের মতো চুপচাপ সিটে হেলাম দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। প্লেন উড়াল দিলো। রাত এখন। অনেকের কথা অনুযায়ী প্লেনের কিছু লাইট অফ করে দিলো।
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৭১
সিমিদের সামনে থাকা লাইট ও অফ হয়ে গেলো। নিশান এখন ফোন রেখে সিট এ মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। সিমি নিশানের দিকে তাকালো। তার এক বুদ্ধি মাথায় আসলো আদাও কাজ হবে তো? ভেবে পেলো না। তবুও ভয় নিয়ে আস্তে আস্তে মুখটা নিশানের মুখের কাছে আনলো। আচমকা নিশানের ঠোঁটে চুমু দিয়েই সরে ফেললো। দ্রুত চোখ বন্ধ করে নিলো। এইদিকে সিমির এমন কর্মে নিশান নিজেকে শান্ত করে স্লো ভয়েসে বললো,
“পাশে ছেলে আছে, আমাকে কন্ট্রোললেস করলে কিন্তু তুই ছাড় পাবি কিনা সন্দেহ নেই।”
সিমি চোখ খিচে বন্ধ করে আছে। কিছু বললো না। কি বলবে? নিশানের কথা শুনে সে কেঁপে উঠলো শুধু।নিশান ও আর কিছু বললো না। প্লেন উড়াল দিচ্ছে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য।
