জাহানারা পর্ব ৩৩
জান্নাত মুন
ব্যবসায়িক সূত্র ধরে মুক্তার বাবার সাথে বড় আব্বুর পরিচয়। ধীরে ধীরে শেখ পরিবারের সাথে মুক্তার পরিবারের ভালো রিলেশন তৈরি হয়।তবে আমাদের তেমন একটা যোগাযোগ তৈরি হয় নি তখনো।আমার আর মুক্তার ফ্রেন্ডশিপ তৈরি হয় ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর।মুক্তা সবসময় আমার সাথে নিজে থেকে কথা বলতো।তাই একসময় তন্নি,নাফিয়া আর সুমাইয়ার সাথে মুক্তাও আমার ভালো বান্ধবী হয়ে উঠে।
ইফানকে বিডি তে সকলে পাওয়ারফুল ইয়াং বিজনেসম্যান আর মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরীর ছেলে হিসাবে চিনলেও সে প্রকৃতপক্ষে একজন কু*খ্যাত মাফিয়া।বাংলাদেশে জন্ম হলেও তার জীবনের বেশি অর্ধেক সময় দেশের বাইরে কেটেছে।নাবিলা চৌধুরীর দ্বিতীয় সন্তান ইমরান হওয়ার পর নুলক চৌধুরী ইফান কে লন্ডন নিয়ে চলে যায়।তখন ইফানের বয়স চার কি পাঁচ।পঙ্কজ ছিলো ইফানের এক দেড় বছরের ছোট।তখনকার সময়ে লন্ডনের সবচেয়ে বড় মাফিয়া টেরোরিস্ট ছিল পলক কাইসার, মানে নুলক চৌধুরীর হাসবেন্ড।পলকের হাত ধরেই ইফান আর পঙ্কজের আন্ডারওয়ার্ল্ডে হাতেখড়ি হয়।ইফান যখন কুড়ি বছরের তাগড়া যুবক। তখনই সে নিজের আলাদা গ্যাং তৈরি করে ফেলে।তার দক্ষতা,সাহসিকতা আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার জন্য খুব তাড়াতাড়িই আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজের প্রভাব বিস্তার করে।কয়েক বছর যেতে না যেতেই টেরোরিস্ট গ্যাং ব্ল্যাক-ভেনম বিশ্বের সবচেয়ে পাওয়ারফুল গ্যাং হয়ে উঠে।ইফানের নি*কৃষ্টতা এতটা ভয়ংকর যে তাকে ইফান চৌধুরী নয়, কুখ্যাত মাফিয়া মি. ভে-নম নামেই পরিচিত।
নাবিলা চৌধুরী একজন বিজনেস ওমেন। তাই সন্তানদের পর্যান্ত সময় দিতে পারেন নি।এই নিয়ে ইকবাল চৌধুরী সহ রোকেয়া বেগমের সাথে অনেক ঝামেলা তৈরি হয়।ইমরানের যখন পাঁচ বছর বয়স তখন ইফান কে বাড়িতে আনার জন্য ইকবাল চৌধুরী নাবিলা চৌধুরী কে চাপ দেন।নাবিলা চৌধুরী চেয়েছিল ছেলেকে দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষিত করতে।তারপর উপায় না পেয়ে ইফান কে দেশে আনার কথা বলে।তবে অনেক দেরি হয়ে যায়।তখন ইফানের মস্তিষ্ক জুড়ে বিরাজ করতে থাকে র*ক্তের নেশা।ইফান কে বিডি তে আনতে না পেরে সকলে হতাশ হলেও নাবিলা চৌধুরী অজ্ঞাত এক কারণে মনে মনে বেশ খুশি হন।তিনি ভেবে নেন ছেলে লন্ডন থেকেই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে চৌধুরী বিজনেসে হাত লাগাবে।কিন্তু তিনি কল্পনাও করতে পারে নি, ইফান লন্ডনে সুশিক্ষা নয় কুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছিলো।
দু বছর আগে এতগুলো বছর পর হঠাৎই বিডি তে ব্যাক করে ইফান চৌধুরী। সেদিন চব্বিশ ঘণ্টা সকল নিউজ চ্যানেলে একটাই নিউজ দিচ্ছিল,
❝ব্রেকিং নিউজ,ফ্রান্সের সবচেয়ে পাওয়ারফুল ইয়াং বিজনেসম্যান, ইকবাল চৌধুরীর বড় ছেলে ইফান চৌধুরী বহু বছর পর দেশে ফিরেছেন।❞
ইফানের হঠাৎ বিডি বেক করায় চৌধুরী বাড়ির সকলেই অবাক হয়ে যায়। সকলে কত বার বুঝিয়েছে দেশে ফিরতে কিন্তু সে আসেনি। উপায়ান্তর না পেয়ে তারাই দেশের বাইরে গিয়ে ইফানের সাথে দেখা করে আসতো।
সেদিন ইফান আসায় ঢাকায় বসুন্ধরার একটি ফাইভ-স্টার হোটেলে পার্টির এরেইন্জ করে তার বন্ধু বান্ধবরা। সেখানে ইফানের ফ্রেন্ড হাসান, তার গার্লফ্রেন্ড হিসেবে পার্টি তে আসে মুক্তা। মুক্তা আর হাসান নামেই রিলেশনে ছিলো। কারণ ওরা যার কাছে সুযোগ পেতো তার সাথেই রাত কাটাতো। সেদিন ড্যাশিং লুকে ইফানকে দেখে Bar এ উপস্থিত মেয়েরা পাগল হয়ে যায় একবার সেই সুদর্শন পুরুষটার সাথে কথা বলতে। মুক্তা একপাশে দাঁড়িয়ে ইফানকে গিলে খাচ্ছিল। ইফানের শরীর ঘেষে কিছু মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। কেউ ইফানের বাহু জড়িয়ে ধরেছিলো তো কেউ ইফানের মুখে ওয়াইনের গ্লাস তুলে ধরছিলো। ইফান মেয়েদের সাথে এনজয় করছিলো। তখনই মুক্তা বিকিনি পড়ে হট লুকে ইফানকে সিডিউস করতে চায়। তবে ইফানের এটেনশন না পেয়ে বেহায়ার মতো বাকি মেয়েদের সাথেই ইফানের সাথে ডলাডলি শুরু করে। ইফান ব্রু কুঁচকে মুক্তার দিকে তাকায়। মুক্তা হেসে ঠোঁট কমড়ে ইফানকে তার সাথে ই*ন্টিমেট হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। ইফান মুক্তাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার স্কেন করে নেয়।তারপর জিহ্ব দিয়ে গাল ঠেলে বাঁকা হেসে বলে,
–“Do you think, তুমি আমার বেড পার্টনার হওয়ার যোগ্য?”
ইফানের কথা শুনে বাকি মেয়েরা ফিক করে হেসে দেয়। এতে মুক্তা অপমান বোধ করে। কারণ এখানকার মেয়েরা ওর থেকে বেশি সুন্দরী, স্মার্ট আর বড়লোক। মুক্তার কালো হয়ে যাওয়া চেহারা দেখে ইফান বেশ মজা পেল।সে আগের ন্যায় জিহ্ব দিয়ে গাল ঠেলে বাঁকা হেসে বললো,
–“একটা চান্স পেতে পার,,”
ইফানের কথা শুনে নুইয়ে রাখা মাথা উপরে তুললো মুক্তা। সে খুশিতে গদগদ করতে থাকে। ইফান আবার ঠোঁট বাঁকালো,
–“But there’s one condition.”
মূহুর্তেই মুক্তার হাসি মুখ নিভে গেলে। সে ইফানের দিকে তাকিয়ে দ্বিধা নিয়ে বললো,
–“কি কন্ডিশন?”
ইফান ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে মুক্তার খুব কাছে এসে দাঁড়ায়। অতঃপর মুক্তার কানে ফিসফিস করে হাস্কি স্বরে বললো,
–“তোমার ভার্সিটির সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে, আই মিন জাহানারা সুইটহার্ট কে আমার বেডে এনে দিতে হবে।”
ইফানের কথা শুনে মুক্তার চোখ কপালে উঠার উপক্রম হয়। যে ছেলে ছোট থেকে বিদেশে বড় হয়েছে, সেই ছেলে জাহানারার মতো গ্রামের সাধারণ মেয়েকে চিনলো কি করে? আর জানলোই কি করে সে জাহানারাকে চেনে?
সেদিন ইফানের মতো হট বয়কে কাছে পাওয়ার লোভে শর্তে রাজি হয়। এর পর থেকে মুক্তা বহুবার চেষ্টা করেছে আমাকে ইফানের কাছে নিয়ে যেতে।তবে আমার গোপ্ত বডি গার্ডদের জন্য বারবার ব্যর্থ হয়। অবশেষে প্ল্যান করে ওর বিয়েতে নিয়ে যায় আমাকে। আব্বুর কাছে বাইনা ধরে তার কাছে রাখে।সেদিন রাতে ওর গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষে কথা ছিলো আমাকে ইফানের হাতে তুলে দেওয়া। কিন্তু সে সেটা করেনি। বরং আমার বদলে সে ইফানের বেডে চলে যায়। ইফান আমার বদলে মুক্তাকে দেখে খ্যাপে যায়। ফলে এক থাবায় মুক্তার গলা চেপে ধরে। মুক্তা সেদিন ইফানকে পাল্টা শর্ত দেয় তার পাওনা আগে মিটিয়ে দিতে। ইফান ক্রুর হেসে বলে,
–“তোর কি মনে হয় ওকে আমি তুলে আনতে পারতাম না? ফা*কিং বি*চ গার্ল, ওকে তুলে আনতে আমার এক সেকেন্ডও টাইম লাগবে না।বাট,,,”
ইফানের মুখের কথা কেড়ে নিলো মুক্তা,
–“বাট তুমি সেটা করতে চাইছ না। কিন্তু কেন চাইছ না আই ডোন্ট নো। তবে এখন তোমার আমাকে প্রয়োজন। সো তুমি তোমার কথা রাখ।”
ইফান বাঁকা হেসে মুক্তার ঘাড়ে আচমকা ইনজেকশন বসিয়ে দেয়। মুক্তা মূহুর্তেই হেলে পড়ে মেঝেতে। অতঃপর ইফানের নির্দেশে দুজন গার্ড মুক্তাকে নিয়ে যায়।
গোডাউন কাঁপিয়ে চিৎকার করছে মুক্তা আর হাসান। চার দেয়ালে তাদের চিৎকারের আওয়াজ বারবার ঝংকার তুলছে। জ্বলন্ত অগ্নিয় শিখার উপর বসানো বিশাল আকারের কড়াই দুটোর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পানি ফুটছে। তার উপরে উল্টো ভাবে ঝুলে আছে ব*স্রহীন মুক্তা আর হাসান। ফুটন্ত পানির উপরে কিছুক্ষণ পরপর দুটো গার্ড তেল ঢালছে। কারণ পানি এবং তেল একে অপরের সাথে মিশে না।ফুটন্ত পানি হঠাৎ গরম হয়ে থাকা তেলের সাথে সংস্পর্শে এলে তাপের কারণে পানি মুহূর্তে বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এই বাষ্প খুব দ্রুত প্রসারিত হয় এবং তেলকে চারপাশে ছিটকে দেয়।তখন তেল ছিটকে মুক্ত আর হাসানের মাথা-দেহের বিভিন্ন স্থানে পড়ে ছেৎ ছেৎ করে ঝলসে যাচ্ছে।
ওদের দেহর আস্তর প্রায় গলে পড়বে পড়বে।ধীরে ধীরে মুক্তার চিৎকার গোঙ্গানি কমে আসে।হাসানের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েও হচ্ছে না।এই মুহূর্তে ওরা দুজন চাইছে তাড়াতাড়ি তাদের দেহ থেকে প্রাণ বেরিয়ে যেতে।কারণ এই তিলেতিলে যন্ত্রণা আর তারা নিতে পারছে না।
ওদের এমন করুন পরিণতি দেখে একেবারে মাহিন স্বাভাবিক না থাকলেও নিজেকে সামলে দৃষ্টি জমিনে নিবদ্ধ রেখেছে। ইনান বারবার ঢুক গিলছে।তারা ইফানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।ইফানের নৃ*শংসতা নতুন না তাদের কাছে। তাদের মাঝে চেয়ারে আয়েশ করে বসে আছে ইফান।সিগারেটে টান দিচ্ছে পায়ের উপর পা তুলে নাচাতে নাচাতে।তার ঠোঁটে তৃপ্তির পৈশাচিক হাসি লেগে আছে।সে খুব মনযোগ দিয়ে মুক্তা আর হাসানের করুন পরিণতি দেখছে।এরই মাঝে হাসানেরও গোঙ্গানি কমে আসে।সে সেভাবেই নিভে আসা গলা নিয়ে বললো,
–“ইফান আমাকে মেরে ফেল। এই যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না। আর আমাদের শাস্তি দিস না। মেরে দে একেবারে।”
ইফান সিগারেটে আরেকটা শেষ টান দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলো।সেখানে আরও অনেক সিগারেটের শেষাংশ পড়ে আছে।সেই কখন থেকে ইফান একটার পর একটা সিগারেটে ঠোঁটে জ্বালিয়ে রেখেছে।
হাসানের গলা নিভে গেছে।এবার বুঝি দমটা বেড়িয়ে যাবে। মুক্তা আরও কিছুক্ষণ আগেই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এই বুঝি দেহ থেকে প্রাণ পাখিটা বেড়িয়ে গেল গেল।ইফান আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে বসলো।অতঃপর চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–“আমার বুলবুলিকে হার্ট করার সময় মনে পড়েনি কার জানে হাত মারছিস?”
এটুকু বলতেই ইফান হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো।ওর চোখ দুটো লাল বর্ণ ধারন করেছে।ক্রোধিত নয়নে ওদের নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে রাগে রিরি করতে করতে বললো,
–“আমার লেডির দিকে যে তাকাই তার চোখ দুটোই উ*গরে ফেলি।সে যেই চু*দির ভাই’ই হোক। আর সেই জায়গায় তো তোরা ওকে কাঁদিয়ে ছাড়লি!!”
আরও কিছু বলতে যাবে তক্ষুনি ফোন বেজে উঠলো।ইনান ঝটপট ফোনটা ইফানের হাতে তুলে দিলো।ইম্পর্ট্যান্ট কাজের মাঝে ব্যঘাত ঘটায় বড্ড বিরক্ত হয়েছে সে।চরম বিরক্তি নিয়ে ফোন কানে ধরতেই ওপাশ থেকে কি বললো তা ইফান ছাড়া বাকিরা শুনতে পেলো না।তবে তার শক্ত চোয়াল আরও শক্ত হয়ে গেলো।ইফান ফোনটা কান থেকে নামাতেই ইনান নিয়ে নিলো।তারপর ইফান রাগে গজগজ করতে করতে বললো,
–“শালা কু*ত্তার বিচির মতো এইটুকু কলিজা নিয়ে ঘুরিস।ইচ্ছে তো করছে দুনিয়াতেই তোদের কে সাতটা জাহান্নাম ভ্রমণ করাতে।হারা*মির দল সব, একটা দেখানোর আগেই পটল তুলছিস,,,,,”
ইফান আর কিছু বলতে পারলো না।অধিক মাত্রায় রেগে থাকায় হাত পা কাপছে। তাই এটুকু বলেই পিছনে পেন্টে গুঁজে থাকা লোড করা রিভলবারটায় হাত চালালো।প্রথমে ওদের কপালের মাঝে শুট করে।তারপর দড়িতে।তৎক্ষনাৎ ফুটন্ত তেল,পানিতে ওরা পড়তেই কড়াইয়ের চারপাশে ছেৎ ছেৎ শব্দ করে তেল ছিটকে পড়ে।সঙ্গে সঙ্গে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিন, ইনান গার্ডগুলো সহ এক পা পিছিয়ে গেলো।ইফান আবার আরাম করে চেয়ারে গা ছেড়ে বসে পড়লো। অতঃপর ঠোঁটের ফাঁকে সিগারেটের শলাকা ধরতেই ইনান এসে দিয়াশলাই এর সাহায্যে জ্বলিয়ে দিলো।
সারা গোডাউন জুড়ে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে।ইফান চোখ বন্ধ করে চেয়ারে মাথা হেলিয়ে রেখেছে। ঠোঁট থেকে সিগারেটের শলাকা সরিয়ে উপর দিকে মুখ ভর্তি ধোঁয়া কুন্ডলী ছাড়লো। অতঃপর বিরবির করে বললো,
❝___তোমার তপ্ত হৃদয়ে দগ্ধ হতে করেছি কবুল
তুমি নীল, নীলাঞ্জনা…
আমার হৃদয়ে ফোটা শরৎ-এর কাশফুল___❞
কিছুক্ষণ আগে, উত্তরার হাইওয়ে তে এসে ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়ে ইফানের ব্ল্যাক মার্সিডিজটি।রাগে কখন থেকে ইফান গজগজ করছে।বিডি যাতায়াত মন্ত্রীর পশ্চাতে বাঁশ ঢুকাবে বলতে বলতে হাজার টা গা*লি দিয়ে দিয়েছে সে।ফ্রন্ট সিটে বসে আছে ইনান ও মাহিন,আর বেক সিটে ইফান।জ্যাম ভাঙতেই ইনান ড্রাইভিং স্টার্ট করেছে।মাহিন ইফানের মাইন্ড ঘুরাতে বললো,
–ভাই ঐ দিন দেশে ফিরেই খোঁজ নিয়ে ঐ শালা আধা বুইড়াকে খুঁজে বের করেছিলাম।যে ঐদিন ফ্যাক্টরিতে আমাদের মাল জ্বালিয়ে দিয়েছিলো।কিন্তু শালা মুখ খুলেনি।তাই বুড়িগঙ্গাতেই মে*রে ফেলে এসেছিলাম।
ইফান ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,
–আমার ঝাঁঝওয়ালি না হলে আর কে এক্সিডেন্ট করাতে চেয়েছিল খুঁজ নিয়েছিস?
–জি ভাই।তবে কে বা কারা এই কাজ করেছে জানতে পারি নি এখনো।কিন্তু,,,,,
–কিন্তু কি??
ঝটপট ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মাহিনের দিকে তাকিয়ে ওর মুখের কথা কেড়ে নিলো ইফান।মাহিন চিন্তিত স্বরে বললো,
–সেদিন তোমাদের এক্সিডেন্ট করানোর আগে সেই গাড়িটা ইমরানকেও অনেকক্ষণ ফলো করেছিলো উত্তরা থেকে মাউনা যাওয়ার পথে।
ঘড়ির কাটা রাত দশটার ঘরে।সন্ধ্যা থেকে নোহার জ্বালায় অতিষ্ঠ আমি।শেখ বাড়িতে আসার পর ভাইয়াকে দেখতে না পেয়ে বকবক করেই চলেছে।তখন ড্রয়িং রুমে বসে চা খাচ্ছিল মাহবুব শেখ আর মজিদ শেখ।নোহা জিতু ভাইকে দেখতে না পেয়ে তাদের সাথে বকবক শুরু করে দেয়।এমনিতেই ওর পোষাক দেখে বাড়ির কেউই উপরে চোখ তুলে তাকাতে পারছে না।আর সে বড় আব্বু কে গিয়ে জিগ্যেস করে বসেছে,
–আংকল জিতু বেইবির নুনু টা ইফান বেইবির মতো বড় কিভাবে হলো।কোন তেল ইউজ করে ও??
লজ্জার ছুটে সকলেই ঐ স্থান ত্যাগ করেছে তৎক্ষনাৎ। এই মেয়ে কি লেভেলের বলদ আর বেহায়া হলে এমন অদ্ভুত কথা জিগ্যেস করতে পারে ভাবা যায়?তারপরও থেমে থাকে নি সে।নিজের সাথে কাপড়চোপড় না আনায় একবারও জিগ্যেস করলো না আমাদের কে নতুন কাপড় দিতে পড়ার জন্য। সে সোজা ভাইয়ার রুমে গিয়ে ওর আন্ডারপ্যান্ট আর টি-শার্ট পড়ে নিয়েছে। এদিকে আমি জুই আর জিয়াদ সারা বাড়ি খুঁজে না পেয়ে পাগল পাগল অবস্থা।দিনকাল ভালো না।গ্রামে পথেঘাটে ভগাটে গা*ঞ্জাখুর ঘুরে বেড়ায়।এই মেয়ে যে মাথা মোটা একবার ধরলে সবশেষ।যদিও ওর আধও কোনো ইজ্জত আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ?
আমরা যখন খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত তখনি রুম থেকে ভাইয়ার চিৎকার চেচামেচি আসতে থাকে।আমরা অবাক হয়ে যায়।কারণ ভাইয়া মাত্রই অফিস থেকে সরাসরি এখানে চলে এসেছে।এদিকে আমরা রুমে গিয়ে দেখি নোহা ফ্লোরে গালে হাত দিয়ে বসে আছে।আমাকে দেখতেই কাঁদু কাঁদু কন্ঠে জিতু ভাইয়ের নামে নালিশ করে,
–প্রিটি গার্ল, হানি আমাকে হামি না দিয়ে মেরে দিয়েছে এ্যা এ্যা এ্যা,,,,,,,
আমি চোয়াল শক্ত করে ওর দিকে তাকিয়ে। কতবড় নির্লজ্জ হলে এখনো এমন কথা বলে ভাবা যায়? আমি আর জুই ওর সাথে জোর জবরদস্তি করে আমাদের রুমে নিয়ে আসি।সে কিছুতেই আসতে চাইছিল না।তার এক কথা আজ তার হানির সাথে বেটিং করবে।
নোহাকে রুমে এনে একটা ধমক দিতেই মেয়েটা চুপসে যায়।তারপর তখন ভাইয়া কেন এভাবে রিয়েক্ট করলো জানতে চাইলে বলে,সে যে ভাইয়ার জাঙ্গিয়া পড়ে কতটা প্রিটি লাগছিলো তাই দেখাতে টি-শার্ট উপরে তুলে নিয়েছিলো।আর তখনই ওর গালে ভাইয়ার চাপাঘাত পড়ে।
চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছাতেই ইফান চিৎকার চেচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলছে।তখন ইমরান কল করে বলে, ভাই ভাবি বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে বিকালে।আমি বাড়ি আসতেই পলি সেটা জানিয়েছে।
এখন ইফান এক এক করে সকলকে কথা শুনিয়ে দিচ্ছে। নাবিলা চৌধুরী আজ অফিসের কাজ করে একটু লেইট করে ফিরেছে। এসেই দেখে তার ছেলে সব দামি দামি জিনিস ভেঙে ড্রয়িং রুম তচনচ করে দিয়েছে।ফলে ছেলের প্রতি এক ফোটা রাগও হয় নি বরং আমার প্রতি রাগ আরও বেড়ে গেছে। ইফান রুমে চলে আসতেই লিভিং রুমে আরেক দফা ভূমিকম্প চালান তিনি।আর সবার সামনে আমার নামে হুমকি দিয়ে গেছে, আমাকে উনি দেখে নিবেন।
ঘড়ির কাটা রাত দুটো ছুঁই ছুঁই।বেডের মাঝখানে আমি আর আমার দুপাশে জুই আর নোহা। এই নোহাকে গেস্ট রুম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়েটা আমার সাথে আটার মতো লেগে আছে এমন ভাবে যে তার কাজই এটা আমাকে এক মূহুর্তের জন্য চোখের আড়াল না করা।এমনকি ওয়াশরুমে ঢুকেছিলাম__নিজের রুমে কখনো ডোর লক করে যাই না। আজও তাই।আর সেই সুযোগে টয়লেটেও উঁকি মারতো!!!
আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এক কথায় নোহার বকবক শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি।এদিকে হতাশ নোহা আমাদের ঘুমিয়ে পড়তে দেখে অবশেষে নিজেও ঘুমিয়ে পড়েছে।
হঠাৎ ফোনের কর্কশ আওয়াজ বেজে উঠায় তাড়াতাড়ি বেড সাইট থেকে হাতরে হাতরে ফোনটা চোখের সামনে ধরলাম। ফোনের স্কিনে জ্বলজ্বল করছে সেইভ করা নাম ❝চো*দনবাজ❞।এই নিয়ে কতবার যে চো*দনবাজ, ইফানের সেইভ করা নাম্বার থেকে কল এসেছে বলার বাইরে। আসার পর থেকে ইফানের দেওয়া একটা কলও রিসিভ করি নি।আমি ভালো করে বুঝতে পারলাম কল রিসিভ না করলে এভাবেই জ্বালাবে।আর ফোন বন্ধ করে দিলে হয়তো মাঝ রাতেই শেখ বাড়িতে এসে হানা দিবে।আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে ফোন রিসিভ করে কানে ধরলাম।তৎক্ষনাৎ ওপাশ থেকে ইফানের কন্ঠ স্বর কানে আসে,
–হ্যালো,বউ!!!
–না তর মা*গী,,,,
আমি রাগে চোয়াল শক্ত করে প্রতিত্তোর করলাম। ঘুমে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও মস্তিষ্ক সজাগ রেখে ওর কথা শুনতে লাগলাম।আমার ঝাঁঝালো উত্তর পেয়ে ইফান মুখ দিয়ে সসস আওয়াজ বের করে পুরুষালী মাদকীয় কন্ঠে বললো,
–বউ পুকুরের খুঁজে সাপ বারবার উঁকি মারছে।
–কিহহ???
ইফানের কথার আগামাথা বুঝতে না পরে সংক্ষিপ্ত উত্তর করলাম।ইফান একটা শুকনো ঢুক গিলে বললো,
–ইয়ে মানে ছোট ভাই তোমার খুঁজ করছে,,,
ইফানের কথার মানে বুঝতে পেরে চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো।আমি দাঁতে দাঁত পিষে যাচ্ছি। ফোনের ওপারে ইফান সেই শব্দ শুনতে পেয়ে ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে হাসছে।অতঃপর একই হাস্কি টোনে বললো,
জাহানারা পর্ব ৩২
–বউ তোমার পা দুটো কে খুব মিস করছি,,,
মাঝ রাতে ইফানের হেয়ালি কথাবার্তা শুনে রাগে নিজের কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে করছে।আমি একই ভাবে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে উত্তর করলাম,
–কেন লাত্থি খেতে মন চাইছে ?
— উফফ না সোনা,কাঁধ দুটো খুব ব্যথা করছে।
