Home প্রাণসঞ্জীবনী প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩২

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩২

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩২
রাত্রি মনি

শহরের এক কোণে ছোট্ট, নিরিবিলি এক ক্যাফে। ভেতরে হালকা সোনালী আলো, জানালার বাইরে বৃষ্টিভেজা বিকেলের নরম হাওয়া। দু’কাপ কফি টেবিলে রাখা, কিন্তু দুজনের কারও হাতেই ধরা হয়নি এখনো।
ক্যাথি আর মাহিন মুখোমুখি বসে আছে। দুজনের চোখেই এক ধরনের অস্থিরতা, যেন হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ধাক্কা সামলাতে পারছে না কেউই।
ক্যাথি গরম কফির কাপের দিকে একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে চোখ তুলে মাহিনের দিকে তাকায়।

“এখন বলুন, কী হচ্ছে আসলে?”
মাহিন দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে সমস্ত ঘটনা খুলে বলতে শুরু করে।
“সেদিন রিম আর রিশাব ছদ্মবেশে এয়ারপোর্টে গিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল ওদের বাংলাদেশ ফেরার। আমি ইচ্ছা করেই ওদের সাথে যাইনি কারণ আমরা একসাথে থাকলে সহজেই ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ভেবেছিলাম আলাদা আলাদা গেলে নিরাপদ হবে।”
মাহিনের গলা ভারী হয়ে আসে। তার চোখে এখনও সেই দিনের আতঙ্ক লেগে আছে।

“কিন্তু যখন আমি পরে এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম, চারপাশে শুধু রক্তাক্ত লাশ বারুদের গন্ধে ভরে গেছে বাতাস। ভেতরে এক অদ্ভুত শুনশান নীরবতা। আমি আড়ালে লুকিয়ে পড়ি তারপর দেখতে পাই, কিছু কালো পোশাকধারী লোক মিলে আহত অবস্থায় স্যার’কে গাড়িতে তুলছে।”
ক্যাথি স্তব্ধ হয়ে যায়। এক মুহূর্তের জন্য যেন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে তার। এতদিন ধরে সে ভেবেছিল রিম আর রিশাব হয়তো বাংলাদেশ ফিরে গেছে। হয়তো ওদের বিয়েও হয়ে গেছে। কিন্তু রিশাব যে বিপদের মধ্যে আছে, এই কল্পনাও সে করেনি কখনও।
তার বুক ধক করে ওঠে। নিজের প্রতি ভীষণ রাগে ভরে যায় তার ভেতরটা। মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে অপরাধবোধ।

‘আমি কেন, কেন এতদিন একবারও রিশাবের খোঁজ নিলাম না? যে মানুষটা আমার জন্য এত কিছু করেছে আমি-ই তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলাম!’
চোখে জল চিকচিক করে ওঠে, কিন্তু সে দমিয়ে রাখে। ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে বলে ওঠে
‘না যেভাবেই হোক রিশাবকে বাঁচাতে হবে। রিমকেও। যেভাবেই হোক উদ্ধার করতে হবে ওদের।’
সে হঠাৎ গলায় তীব্রতা নিয়ে মাহিনের দিকে ঝুঁকে বলে
“তুমি কেন আমাকে আগে বলনি?”

মাহিন বিস্মিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছু বলার আগেই ক্যাথির নিজের মনে পড়ে যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দায় তো আসলে তারই। ফোন নাম্বার বদলে ফেলার পর থেকে নিজেই তো অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।
ক্যাথি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঠোঁটের কোণে জোর করে একটুখানি হাসি টেনে আনে।
“চিন্তা করো না। রিশাব আর রিমকে আমরা উদ্ধার করবই। আমার মনে হচ্ছে যারা এতদিন রিমকে আটকে রেখেছিল, তারাই এবার রিশাবকে নিয়ে গেছে। রিশাব একবার বলেছিল, তাদের লোকেশন ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে। মানে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছ এটা কোনো সাধারণ মানুষের কাজ নয় এর পেছনে কোনো গ্যাংয়ের হাত রয়েছে!”
সে দৃঢ় কন্ঠে বলে,
“আর এরা কোনো সাধারণ গ্যাংস্টার নয় মাহিন। এরা কু*খ্যাত মাফিয়া যাদের কথায় দেশের সরকার পর্যন্ত ওঠে বসে। তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক থাকতে হবে। তবেই রিম আর রিশাবকে ওদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।”

ক্যালাব্রিয়া, পেন্টহাউজ
জেইন ধীরে ধীরে রিমকে নিজের বুক থেকে তুলে ধরে। কপালে আলতো চুমু দিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“এখন তো এসব ঝাল খাবার খেতে পারবে না তুমি। অন্য কিছু খাবে? আমি বরং এক কাজ করি, তোমার জন্য হেলদি কিছু বানিয়ে আনছি। তাহলে শরীরও ভালো থাকবে।”
জেইন উঠতে নিলে রিম তার শার্টের কোনা আঁকড়ে ধরে ফেলে। চোখ ছোট ছোট করে জেদি সুরে ফিসফিস করে বলে,

“না, আমি আইসক্রিম খাবো।”
জেইন আবার বিছানায় বসে পড়ে। তার গালে হাত বুলিয়ে নরম আদুরে গলায় বোঝায়,
“না সোনা, এখন তোমার জ্বর। এই অবস্থায় আইসক্রিম একদম খাওয়া যাবে না। তাহলে জ্বর আরও বাড়বে। আমি কিছু হেলদি খাবার নিয়ে আসছি, তুমি সেটাই খাবে।”
রিম মুখ ফুলিয়ে ফেলে। চোখের কোনে জল টলমল করে ওঠে। হঠাৎ সে জেদি ভঙ্গিতে জেইনের উরুতে নখ বসিয়ে খামচে ধরে। শ্বাসরোধী এক জেদি কণ্ঠে বলে,

“না… আমি আইসক্রিম খাবো। আমাকে আইসক্রিম এনে দিন। নইলে আমি এখান থেকে চলে যাবো।”
নখের আঁচড়ে জেইনের শরীরটা কেঁপে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা সহ্য করে, শুষ্ক ঢোক গিলে ফেলে। ঠোঁট সামান্য ফাঁক করে নিঃশ্বাস টেনে নিয়ে হঠাৎ রিমের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ঠোঁটে ছোট্ট করে, বিদ্যুত গতিতে গভীর একটা চুমু বসিয়ে দেয়। রিম চমকে ওঠে। জেইন নাকে নাক ঘষে, ধীর, গভীর গলায় বলে,
“ঠিক আছে আমি তোমার জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসছি। তোমার ফেব্রিট চকলেট ফ্লেভার। তাই তো?”
রিমের চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। সে জিভ দিয়ে নিজের শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে দ্রুত মাথা নাড়ায়।চোখে লুকোনো খুশির ঝিলিক খেলে যায়।
জেইন মুচকি হেসে তার দিকে আরও ঝুঁকে আসে। ঠোঁট কামড়ে একদম নেশাভরা, কামুক গলায় ফিসফিস করে বলে,

“আমারও ফেব্রিট। বাট, ডার্ক চকলেট।”
জেইন তার দিকে এমন কামুক ক্ষুধার্ত চোখে তাকায়, যেন সে আইসক্রিম নয় রিমকেই খেতে চাইছে।
তার শেষ শব্দের ভেতরে লুকোনো তীব্র কামনা রিমের কানে গলে ঢুকে যায়। সে ভ্রু কুঁচকে তাকায়, কথার ভেতরে লুকোনো ইঙ্গিতটা বুঝতে পারে না। তবুও বুকের ভেতর কেমন অজানা কাঁপন জাগতে থাকে। কিন্তু মনে মনে ভীষণ খুশি হয়। আইসক্রিম তো তার প্রিয় খাবার।যদি কেউ তাকে এই আইসক্রিম দেয়, সে সারাদিন অন্য কোনো খাবারের কথা ভাববে না শুধু আইসক্রিম খেয়ে খুশিতে তুষ্ট থাকবে। এমনকি ১০২ বা ৪ ডিগ্রি জ্বর থাকলেও, সে নির্দ্বিধায় আইসক্রিম খেতে পারবে। আইসক্রিম তার এতটাই পছন্দের!
জেইন রুমের ডাবল ডোর ফ্রিজ খুলে দুই বক্স Frozen Haute Chocolate Sundae বের করে। ফ্রিজের একপাশ পুরোপুরি মসৃণ চকলেট আইসক্রিম দিয়ে সাজানো, আর অন্য পাশে বিভিন্ন ধরনের দামি চকলেট, খোসা ছাড়ানো নাটস এবং তাজা ফলমূল।

সে এগুলো আগেই প্রস্তুত করে রেখেছিল। কারণ ভালো করেই জানে, রিমের এগুলো কতো প্রিয় খাবার।
জেইন দুই বক্স আইসক্রিম হাতে ধরে ধীরে ধীরে রিমের সামনে রাখে। রিম লোভ সামলাতে পারে না। চোখ বড় করে তাকিয়ে সে এক বক্স হাতে তুলে দ্রুত খোলার চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্বল হাতে বক্স খুলতে পারে না। সে মুখে বিরক্তি নিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে ফেলে।

জেইন ছোট ছোট চোখ দিয়ে রিমের প্রতিটি কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখে। মনে মনে ভাবছে, যদি মেয়েটা সুস্থ থাকতো, কখনোই এমন বাচ্চামো রূপ দেখতে পেত না সে। অসুস্থতার কারণে রিম কতটা নির্ভরশীল, কোমল আর মিষ্টি হয়ে উঠেছে।সুস্থ থাকলে রিম কখনো এতটা কোমল হতো না, এতটা ভরসা রেখে তার কাছে থাকতো না।
জেইনের মনে একটা অদ্ভুত তৃষ্ণা জেগে ওঠে ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে সর্বক্ষণ নিজের বুকের সাথে পিষে রাখতে। সে মাথা নিচু করে রিমের হাত থেকে আইসক্রিমের বক্সটা ধীরে ধীরে নিজের হাতে তুলে নেয়। তারপর সাবধানে বক্স খুলে রিমের সামনে ধরে রাখে। রিম দ্রুত সেটা হাতে নিয়ে স্পুন দিয়ে খেতে শুরু করে। এমন ভাবে খাচ্ছে যেন ছোট বাচ্চাকে বহুদিন পর তার প্রিয় জিনিসটা খেতে দেওয়া হয়েছে। রিম স্পুন দিয়ে একের পর এক আইসক্রিম খেতে থাকে। আবার মাঝে মাঝে জিভ দিয়ে স্পুনের ওপর থেকে একটু চেটে নেয়। জেইন একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে শুষ্ক ঢোক গিলে নেয়, চোখে গভীর নেশার ঝিলিক। রিমের ঠোঁটের কোনায় কিছুটা আইসক্রিম লেগে আছে, জেইনের চোখ তখনো নেশার আলোয় চকচক করছে, মিশ্রিত কামনায় ভরা। সে মনে মনে চায় রিমকে আরও কাছে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে রাখুক, প্রতিটি মুহূর্তে তার ঠোঁটের স্বাদ নিজের মধ্যে ভরিয়ে নিতে।

রিম প্রায় বক্সের অর্ধেক আইসক্রিম শেষ করে ফেলেছে। হঠাৎ সে থেমে ভ্রু কুঁচকে জেইনের দিকে তাকায়। জেইন তার দিকে একদৃষ্টে, লোভনীয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিমের শরীর একটু কম্পন অনুভব করে। কিন্তু সে একটু বিরক্ত হয় এভাবে এতক্ষণ নজর দিয়ে থাকলে খাওয়া যায় না কি? সে মুখ কুঁচকে নিয়ে এক স্পুন আইসক্রিম তুলে জেইনের সামনে ধরে, চোখ-মুখ দ্বিগুণ কুঁচকে অনিচ্ছায় বলে,
“আপনি খাবেন?”

এভাবে যেন ছোট বাচ্চা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রিয় জিনিসটা কাউকে দিচ্ছে। জেইন তখনও তার দিকে তাকিয়ে আছে, চোখে কামনার ঝিলিক, মাথা ধীরে ঝাঁকিয়ে না বোঝায়। রিম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, আবার খেতে শুরু করে। কিন্তু আবারও নজর দেয়, দেখে জেইন এখনো সেই একই দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তাই সে এবার নিজেকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে আবার নিজের মতো করে খেতে থাকে।
রিম খাওয়ার মাঝেই আবারও আড়চোখে জেইনের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ধীরে চামচ তার দিকে এগিয়ে দিয়ে, নরম গলায় বলে,

“আপনি চাইলে একটু খেতে পারেন। আমি কিছু বলবো না। বেশি না একটু কিন্তু। খাবেন?”
জেইন এবার তার ঠোঁটের দিকে ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে, শুষ্ক ঢোক গিলে মাথা ধীরে ঝাঁকায়ে ,হ্যাঁ বোঝায়। রিম শান্ত ভঙ্গিতে স্পুন তার মুখের সামনে ধরে।
হঠাৎ, কোনো পূর্বনির্ধারিত ইঙ্গিত ছাড়াই জেইন তার মুখের কাছাকাছি ঝুঁকে আসে। জিভ দিয়ে ধীরে রিমের ঠোঁট স্পর্শ করে। ঠোঁটের কোনে লেগে থাকা আইসক্রিম লোভনীয়ভাবে চেটে ফেলে। রিমের শরীরটা এক ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। চামচ তার হাত থেকে পড়ে যায়। সে বিছানার চাদরের ওপর স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে, হৃদয় কেমন যেন অচেনা উত্তেজনায় ধাক্কা খাচ্ছে।

রিমের চোখ ছানাবড়া সে মূর্তির মত বসে আছে। যেন স্থবির হয়ে গেছে। জেইন তার থমকে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু মুচকি হেসে নেশাক্ত কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,
“ইটস সো সুইট। But I prefer the real taste of your lips.”
সে রিমকে আরও কাছে টেনে আনে। দুই হাতে উরু ধরে নিজে কোলে বসিয়ে নেয়। রিম এখনও স্তব্ধ, শরীরের প্রতিটি কোষে আগুন ছড়াচ্ছে।
জেইন ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে রিমের ঠোঁটের ওপর। ঠোঁটের স্পর্শে রিমের শরীর শিহরণে কেঁপে ওঠে। নিঃশ্বাস আটকে যায়, হৃদয় বেগবান হয়ে ধুকধুক করছে। জেইনের প্রতিটি স্পর্শ যেন তার শরীরের গভীরে প্রবেশ করে, রিমের সম্পূর্ণ মিষ্টভাব এক সঙ্গে ঝরিয়ে নিয়ে যায়।

জেইন ধীরে ধীরে রিমের ঠোঁটে ঠোঁট চাপিয়ে দেয়। একেবারে মিশিয়ে দেয়, যেন তাদের মাঝে আর কোনো ফাঁক বা দূরত্ব নেই। রিমের শরীর অসহ্যভাবে শিরশির করে কেঁপে ওঠে, হৃদয় অবশ হয়ে যায়। জেইন তার ঠোঁটের স্বাদে হারিয়ে যায়, ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে তীব্র কামুকতার সঙ্গে চুমু খেতে থাকে। রিমের লালার স্বাদ আইসক্রিমের মিষ্টির সঙ্গে মিশে তার মুখে ঝরছে, যা তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

সময় অতিক্রম করছে মিনিটের পর মিনিট। কিন্তু জেইনের আশ মেটে না। রিমের শরীর অজানা শিহরণে মুচড়ে ওঠে। প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন আটকে গেছে। সে ছটফট করে ওঠে, চেষ্টা করছে বাঁচার জন্য, কিন্তু জেইন বিরক্ত হয়ে তাকে আরও চেপে ধরে। রিম আর একটুও নড়তে পারে না। সে জেইনের চুল খামচে আঁকড়ে ধরে।
জেইন তার ঠোঁট আরও শক্ত করে ধরে, চুমুর তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এক মুহূর্তে রিমের চোখ দিয়ে জল ঝরে পড়ে। তার শরীরের প্রতিটি কোষ জেইনের নেশায় আবদ্ধ হয়ে গেছে। সে মনে করতে পারে না কোনটা ব্যথা, কোনটা আনন্দ। যেন সমস্ত শক্তি তার শরীর থেকে ঝরে গেছে, অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে।
তবু জেইনের মধ্যে একটুও পরিবর্তন হয় না। সে গভীর কামনায় ডুবে আছে, যেন তাকে কোনো ভয়ংকর নেশা গ্রাস করেছে। থামতে পারছে না, থামতেই চায় না। রিম ফুঁপিয়ে ওঠে, কান্নার ছোট্ট শব্দে জেইন হঠাৎ নিজের হুশ ফিরে পায়। ধীরে ধীরে সে রিমের ঠোঁট ছেড়ে হাঁপাতে থাকে।

রিম নিঃশ্বাস ফিরিয়ে নেয়, চোখের কোনে জল জমে। কিন্তু তার শরীর এখনও শিহরণে কেঁপে যাচ্ছে। জেইনের ছোঁয়া এবং চুমু তাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে, যেন সে কিছুতেই মুক্তি পাবে না।
জেইন হাঁপাতে হাঁপাতে তার দিকে তাকায় চোখ দুটো লালচে, গভীর নেশায় ডুবে আছে। তার নিঃশ্বাস রিমের মুখে গরম ধোঁয়ার মতো লাগছে। সে এক মুহূর্ত রিমকে ছেড়ে দিয়ে আরও শক্ত করে বুকে চেপে ধরে।
রিম কাঁপতে কাঁপতে চোখ মুছতে চায়, কিন্তু হাতগুলো জেইনের শক্ত বাহুতে আটকে আছে। তার গলা শুকিয়ে গেছে, তবু ফুঁপিয়ে ওঠে। প্রতিটি কান্নার শব্দ যেন জেইনের কানে মধুর মতো বাজে।
জেইন আবার ঝুঁকে আসে, তার কপালে, চোখের কোনায় একের পর এক ভেজা চুমু খেতে থাকে। যেন তার প্রতিটি অশ্রু নিজের ঠোঁটে চুরি করে নিতে চাইছে। রিম শ্বাসরুদ্ধ কণ্ঠে বলে ওঠে,

“থামুন… প্লিজ…”
কিন্তু জেইনের আঙুল তার চিবুক ধরে মুখ ওপরে তোলে। রিমের স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছে আদুরে গলায় নরম কাঁপা কন্ঠে বলে,
“সরি সোনা… না বুঝেই কষ্ট দিয়ে ফেলেছি তোমাকে।”
তার দুই হাত দিয়ে রিমের মুখটা জড়িয়ে ধরে কপালে আলতো চুমু খায়। তারপর গলাটা আরো গভীর, ভেজা আদুরে সুরে নামিয়ে আনে
“কি করবো বলো? তোমার ঠোঁট ছুঁলে আমি আর থামতে পারি না। আবার না ছুঁয়েও থাকতে পারি না। মরণ যন্ত্রণা হয় বুকে।”
জেইন তাকে বুকের ভেতর শক্ত করে মিশিয়ে নিয়ে ভেজা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,

“আমার ছোঁয়া কি খুব বেশি খারাপ লাগে তোমার কাছে? যদি লাগে তাহলে বলো, আমি আর কখনো স্পর্শ করবো না তোমাকে, তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে।”
সাথে সাথেই রিম বুকে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ নিজের দাঁত দিয়ে কষিয়ে কামড়ে ধরে জেইনের বুকে । জেইনের ঠোঁট শক্ত হয়ে যায়, চোখ-মুখ খিঁচকে ওঠে। ব্যথার সাথে সাথে অদ্ভুত এক সুখ মিশে শরীর কাঁপিয়ে দেয় তাকে। কিন্তু সেই সুখের আগুনে তার ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। মনে হয়, আগুনটা নেভানোর একমাত্র উপায় হলো এই মেয়েটাকে একেবারে পিষে শেষ করে দেওয়া। কি করবে সে? সে কি পিষে চূর্ণ করে দিবে মেয়েটাকে? যতক্ষণ না মেয়েটাকে পুরোপুরি গ্রাস করছে, আগুনটা নেভার উপায় নেই। কিন্তু সে ঠোঁট কামড়ে জোর করে নিজেকে সামলায়। কারণ সে জানে, রিম অসুস্থ, পুরোপুরি হুশে নেই। জেইন ধীরে ধীরে রিমের মুখটা উঁচু করে তুলে ধরে। জেইনের চোখ লালচে, নেশায় ভরা। সে গভীর কণ্ঠে বলে,

“কামড়ে… রাগ মিটেছে সোনা?”
রিম এক বিন্দুও দেরি না করে আবারও আরও জোরে কামড়ে ধরে। এবার জেইনের দম বন্ধ হয়ে আসে। শিরার ভেতর আগুন দৌড়ে যায়। বুক থেকে কাঁপন ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। আর সহ্য করতে পারে না হঠাৎ রিমকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। কিন্তু রিম হাল ছাড়ে না। জোঁকের মতো আরও শক্ত করে লেগে থাকে। যেন তার শরীর থেকে রক্ত শুষে নিতে চাইছে। জেইন বহু কষ্টে তাকে নিজের থেকে আলাদা করে ফেলে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
“উফ্… এভাবে বারবার কামড়ে নেগেটিভ ফিল দিবে না তো। একদম খেয়ে ফেলবো কিন্তু।”
রিম রাগে কিড়মিড় করে আবারও দাঁত বসিয়ে দেয় সেই একই জায়গায়। এবার জেইনের চোখ লাল হয়ে ওঠে বিরক্তি আর উত্তেজনায়। বুক ওঠানামা করে তীব্র শ্বাসে। এই মেয়ে কি বুঝতে পারছে না? এভাবে যে নিজেরই বিপদ ডেকে আনছে মেয়েটা! এভাবে কি নিজেকে সামলে রাখা সম্ভব! সে গাঢ় হুমকির মতো গভীর সুরে ফিসফিস করে বলে,

“উফ্ তুমি কি বুঝতে পারছো না? আমি যদি একবার সত্যিই কামড়ে ধরি, তাহলে তুমি আর সামলাতে পারবে না। তখন তুমি যতই ছটফট করো, যতই কান্না করো আর যতই আঘাত করো না কেন – আমি কিন্তু এক চুলও ছাড় দিবে না তোমাকে। বরং তোমার প্রতিটা ভাঙন, প্রতিটা যন্ত্রণা উপভোগ করবো আমি। তোমার চিৎকার হবে আমার নেশার খাবার। তোমার দমবন্ধ হওয়া শ্বাসের শব্দে তৃপ্ত হবো আমি। তোমার কাঁপা শরীর শিকারের মতো আমার দখলে থাকবে। তোমাকে চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে শেষ করে দিব, এমন ভাবে যে তোমার শেষ বিন্দু অস্তিত্বও হারিয়ে যাবে কেবল আমার ভেতরে।”

রিম চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে রাগে জ্বলে আবারো কামড়ে ধরে তার বুকে। জেইন এবারে বিরক্ত গলায় বলে,
“আরে বাবা, কি সমস্যা বলবে তো? এমন কামড়াকামড়ি করছো কেন?”
রিম ফুঁসে ওঠে, ঠোঁট ফুলিয়ে, নাক টেনে ফুঁপিয়ে বলে,
“তুই বললি কেন আমাকে আর স্পর্শ করবি না।তাহলে আমাকে কে আদর করবে? শয়তান! থাকবো না তোর কাছে। আমাকে একটুও বোঝে না, খালি কষ্ট দেয়। যা এখান থেকে।”
জেইন পাক্কা এক মিনিট তব্দা খেয়ে বসে থাকে। এই মেয়ে বলে কি? এই মেয়ে নাকি তার আদর চায়! এও সম্ভব? নাকি জ্বরের সাথে সাথে ভুতও ঢুকেছে ওর ভেতরে? যেই মেয়েকে একটু ছুঁলেই ঘৃণায় জ্বলে ওঠে আজ হঠাৎ সেই কিনা তার আদর চাইছে! একেই বলে জ্বরের সাইড ইফেক্ট। ইশ এমন রোগীর ওষুধ তো শুধু চুমুই হওয়া উচিত।
সে রিমের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মনে মনে ভাবে জ্বর শেষ হলে, এই মেয়ের লুতুপুতু মুডও শেষ। তার থেকে তো ভালো যদি বারো মাস-ই জ্বরে ভুগে। তাহলে অন্তত শান্তিতে ঠাস-ঠুস চুমু খেতে পারবে। হেলদি মুড়ে তো চুমুর চিন্তাতেই থাপ্পর খাবে।

সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিমের দিকে তাকায়। সারাদিন এতো চুমু খেতে ইচ্ছে করে কেন মেয়েটাকে? এত্তো কিউট হওয়ার কি দরকার ছিল? একটু কম কিউট হলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত! সে রিমের দিকে তাকিয়ে ঠোট কামড়ে শয়তানি হেসে বলে,
“তাই, আমার ছোঁয়া পেতে চাও? আমার ছোঁয়া, তোমার ভালো লাগে!”
রিম কিছু বলে না। ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট ফুলিয়ে জেইনের দিক থেকে খানিকটা সরে এসে আবার আইসক্রিম খেতে শুরু করে। তার চোখেমুখে অভিমান স্পষ্ট। জেইন এবার তার হাত থেকে বক্সটা কেড়ে নেয়। কড়া গলায় রাগের ভান করে বলে,

“অনেক হয়েছে। আর একদম আইসক্রিম খাবে না। এমনিতেই জ্বর, তারওপর প্রায় দেড় লিটার বক্স শেষ করে ফেলেছো! এতটা খেলে এবার পেট ব্যথা করবে।”
রিম ভ্রু কুঁচকে রাগী গলায় বলে,
“আমার পেট ব্যথা হলে আপনার কি? আমি খাবোই! দিন আমাকে আমার আইসক্রিম। ছুচো কোথাকার! আমার আইসক্রিম যে আপনি খেতে চাইছেন আমি কি বুঝি না? দিন বলছি আমাকে।”
জেইন বিরক্ত হয়ে ওঠে, ঠাণ্ডা চোখে তার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“এই বোকা মেয়ে, আইসক্রিমের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। যা আছে, সবটাই তোমার প্রতি। তোমাকে খেতে চাই। দিবে খেতে?”

রিম চোখ বড় বড় করে তাকায় তাকে খাবে মানে?
তার বুক ধড়ফড় করছে। তার গায়ে কি মধু লেগে আছে নাকি যে তাকে খেতে চাইছে আজব!
হঠাৎই জেদ করে সে আবার আইসক্রিমের বক্সটা কেড়ে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় দু’জনের টানাটানি। কারও হাতেই ঠিকমতো থাকছে না বক্সটা। এক পর্যায়ে ধপাস করে দু’জনেই পড়ে যায় বিছানায়।
রিম পড়ে রয় জেইনের বুকের উপর ঝুঁকে। তার দুই হাত বিছানায় ঠেকিয়ে রেখেছে নিজেকে বাঁচিয়ে, কিন্তু তাতে উল্টো জেইনের শরীরের গরম নিশ্বাস আরও তীব্রভাবে লাগছে তার গালে।

জেইনের চোখ নেশার মতো গভীর। রিমের মুখের সামনে এলোমেলো চুলগুলো ছড়িয়ে আছে। সে ধীরে হাত বাড়িয়ে সেগুলো কানে গুঁজে দেয় খুব যত্নে। চোখ দিয়ে পুরো শরীরটাকে ধীরে ধীরে স্ক্যান করে নিতে থাকে সে।
সাদা ঢিলেঢালা টি-শার্টটা গিয়ে ঠেকেছে রিমের হাঁটুর গোঁড়ায়, আর তার কালো থ্রি-কোয়াটার প্যান্ট টা ছাড়িয়ে গেছে পায়ের পাতার দিকে। এতক্ষণ আইসক্রিম খাওয়ার ফলে স্লিম পেটটা একটু ফুলে উঠেছে, টি-শার্টের ওপর দিয়ে সেটা খুব স্পষ্ট। জেইনের চোখে এক মুহূর্তের জন্য মুচকি হাসি খেলে যায়। মেয়েটাকে অনেক কিউট লাগছে দেখতে।
তার নজর এবার আরো গভীর হয়ে ওঠে। রিমের ফাঁকা গলার হাড়, কাঁধের নিচে নেমে যাওয়া চুল আর হালকা কাঁপতে থাকা ঠোঁট তাকে আরও অস্থির করে তুলছে। সে এক হেঁচকায় রিমকে টেনে নিজের বুকের উপর পুরোপুরি ফেলে দেয়।

রিম হঠাৎ দম আটকে ফেলে। তার বুক গরম হয়ে উঠছে, শরীর শিরশির করছে।
জেইন মুখটা এগিয়ে নিয়ে এল রিমের কানের কাছে। ঠোঁট ছুঁয়ে ছোট্ট একটা চুমু খেলো, যেন বিদ্যুতের মতো ঝড় বয়ে গেল রিমের শরীর জুড়ে। তারপর গলা নামিয়ে নরম অথচ আঠালো স্বরে ফিসফিস করে বলে,
“তোমাকে আমার কাপড় পড়ে, অসহ্য সুন্দর লাগছে এখন। একদম সাদা কালো পেঙ্গুইন… আমার ছোট্ট কিউট পেঙ্গুইন।”
বলেই জেইন হঠাৎ গালে টাইট করে একটা চুমু বসিয়ে দিল। রিম বিরক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ হাত দিয়ে গালটা মুছে ফেলল। হঠাৎই তার মনে হয় সে কি করছে আসলে? এই মনস্টারের এত কাছে কেন চলে যাচ্ছে বারবার? কেন তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি থামছে না?

বিব্রত হয়ে দ্রুত তার বুক থেকে উঠে বসে গেল। আর এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে একটু দূরে সরে আইসক্রিমের বক্সটা টেনে নিয়ে আবার মনোযোগ দিয়ে খেতে শুরু করল।
জেইন ততক্ষণে বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে পড়েছে। গালে হাত দিয়ে অলস ভঙ্গিতে তাকে দেখছে। তার চোখে ভয়ংকর তীব্র এক ক্ষুধা। চোখ দিয়ে রিমকে গিলে খাচ্ছে সে।
রিম স্পষ্টই বুঝতে পারছে। যদিও সে জেইনের দিকে একবারও তাকাচ্ছে না, তবু সেই দৃষ্টির ভার যেন শরীর জুড়েই টের পাচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে কেঁপে উঠছে, স্নায়ুগুলো টান টান হয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎই রিমের মুখ বিকৃত হয়ে গেল। পেটে এক ঝটকায় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো। সে পেট চেপে কুঁকড়ে উঠল। বক্সটা হাত থেকে পড়ে গেল বিছানায়।

তাকে মুচড়ে উঠতে দেখে জেইনের হৃদপিণ্ড থমকে গেল। এক মুহূর্তও দেরি করল না। তড়িঘড়ি করে উঠে তার পাশে এসে বসে পড়ল। রিমের কাঁপতে থাকা গালে হাত রেখে গভীর উৎকণ্ঠায় ঝুঁকে এলো।
“কি হয়েছে, সোনা? পেটে ব্যথা হচ্ছে?”
রিমের চোখে জল চিকচিক করতে থাকে। জেইনের অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। সে পাগলের মতো ছটফট করতে থাকে। কাতর গলায় ফিসফিস করে বলে
“বলেছিলাম, এতোটা খেও না। এগুলো কি পালিয়ে যাচ্ছে? সব তো তোমার জন্যই এনেছি। যখন খুশি খেতে পারবে। এখন কষ্ট হচ্ছে না? এর থেকে বেশি কষ্ট তো আমার হচ্ছে। কি করে বোঝাই তোমাকে?”
সে ধীরে রিমের টি-শার্টের দিকে হাত বাড়ায়, টেনে তুলতে শুরু করে। রিম আঁতকে উঠে তার হাত ধরে থামিয়ে দেয়। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে,

“আপনি একজন মহিলা সার্ভেন্ট ডেকে দিন, প্লিজ।”
জেইনের মস্তিষ্কে রাগ জ্বলে ওঠে। ভ্রু দ্বিগুণ কুঁচকে যায়। দাঁত চেপে ধরে বলে
“কোনো মহিলা সার্ভেন্ট আসবে না। কি সমস্যা আমাকে দেখতে দাও।”
সে আবারো টিশার্টের দিকে হাত বাড়ায়। রিমের হিচকি ধরে ওঠে। নাক টেনে ফুঁপিয়ে বলে
“আপনাকে দেখানো যাবে না। আপনি একজন মহিলা সার্ভেন্ট ডেকে দিন।”
জেইন শ্বাস টেনে নিজেকে সামলায়। বিরক্তি তার ভেতরে ধীরে ধীরে জ্বলে ওঠে।
“তোমার মাঝে এমন কিছু নেই যা আমার দেখার বাকি আছে। দেখতে দাও আমাকে। কি সমস্যা হয়েছে সেটা আমাকে বলো।”
রিমের কান্না আরও বাড়তে থাকে।

“বললাম তো, আপনাকে দেখানো যাবে না।”
জেইন বিছানায় শক্ত হাতে একটি পাঞ্চ মারে। রাগ চেপে ভরা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,
“দেখো, আমার টেনশন বাড়িও না। তোমার যা সমস্যা, এখন থেকে আমাকেই বলতে হবে। আমাদের মাঝে কোনো প্রাইভেসি নেই, বুঝেছো?”
রিম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই চলেছে। এবার জেইন নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। সে রিমকে কোলে তুলতেই বিছানায় নজর আটকে যায়। রিম লজ্জায় তার বুকে নুইয়ে যায়।
জেইন রিমের মুখের দিকে তাকায়। কিছু একটা মনে পড়তেই বিরক্ত কন্ঠে ফিসফিস করে বলে
“শিট। এতো Important একটা তারিখ কি করে ভুলে গেলাম আমি?”
সে কিছুক্ষণ রিমের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থেকে আবার বলে,

“ইডিয়েঠ, তুমি আমাকে আগে বলবে না? এতো নাটক করার কি ছিল? এটাতো খুব নরমাল একটা বিষয়!”
রিম অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। মাথা যেন চক্কর খায়। Important তারিখ মানে! লোকটা তার এসব দিনের বিষয়গুলোও জানে? আর কি কি জানে এই লোকটা তার ব্যাপারে? ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জা! সে তো তার এসব দিনের কথা কারো সাথে শেয়ার করতো না। এসব বিষয় তার কাছে খুব সেনসিটিভ। লজ্জায় সে আর মুখ তুলে তাকাতে পারছে না।

জেইন তাকে বিছানায় বসায়, খুব আস্তে ধীরে। তারপর হাত বাড়ায়, ছোট্ট ড্রয়ারের দিকে একটি চাবি নিয়ে উল্টো পাশে থাকা ড্রয়ার থেকে ‘স্যানিটারি প্যাড’ বের করে আনে। রিম চোখে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে। এই ড্রয়ারে যে এসব ছিল, সে নিজেও জানতো না। ভেবেছিল হয়তো শেষ হয়ে গেছে। তাই তো এত ভয় পাচ্ছিল আর মহিলা সার্ভেন্ট ডাকতে বলছিল। লজ্জায় সে পুরোপুরি মিইয়ে যায়।
জেইন প্যাকেট খুলে সবকিছু ঠিকঠাক করে তার সামনে নিয়ে আসে। রিম চুপচাপ বসে আছে। লজ্জায় কিছু বলতেও পারছে না, তাকাতেও পারছে না।
জেইন তার নড়নচড়ন না দেখে, হাঁটু মুড়ে বসে তার সামনে। অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে

“তুমি কি এখন চেঞ্জ করতে পারবে নাকি আমি চেঞ্জ করিয়ে দেব?”
রিম এক মুহূর্তে বিছানার চাদর খামচে বসে থাকে, শ্বাস আটকে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে, কি! এই লোক চেঞ্জ করিয়ে দিবে মানে? মাথার তাড় সব ছিঁড়ে গেছে না কি?
মাথা ঝাঁকিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে। সে মিনমিনে গলায় ফিসফিস করে বলে
“না, আমি পারবো।”
বিছানা থেকে উঠার চেষ্টা করলে রিম হঠাৎ পড়ে যেতে বসে। জেইন সাথে সাথে তাকে কোলে তুলে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়। রিমকে বেসিনের উপর বসিয়ে রাখে।
তারপর রুমের ড্রয়ার থেকে তার কিছু কম্ফোর্টেবল জামা কাপড় বের করে নিয়ে আবার ওয়াশরুমে ফিরে আসে। রিমের সামনে দাঁড়িয়ে তার টিশার্ট টেনে খুলতে গেলে রিম দ্রুত হাত ধরে থামিয়ে দেয়। ভয়ার্ত গলায় ফিসফিস করে বলে

“কি করছেন?”
জেইন ভ্রু কুঁচকে তাকায়। শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করে
“কেন শাওয়ার নিবে না?”
রিম চোখ বন্ধ করে শ্বাস টেনে নেয়। ছোট্ট গলায় ফিসফিস করে বলে
“হুম। আপনি যান, আমি নিজেই সব করতে পারবো।”
জেইন ভীষণ বিরক্ত হয়ে ফিসফিস করে
“নিজের অবস্থা দেখেছো তুমি? তুমি তো দাঁড়াতেই পারছো না। নিজে নিজে সব কিভাবে করবে? দেখি, আমাকে করতে দাও।”
রিম আবারও আঁতকে উঠে।
“এই না, প্লিজ। আমি বলছি তো পারবো।”
জেইন তার দিকে সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে তাকায়।
“সত্যিই তুমি পারবে তো?”
রিম দ্রুত মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়। জেইন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দেয়ালের দিকে ভর দিয়ে, বুকে দুহাত গুঁজে দাঁড়ায়।

“ঠিক আছে, তুমি করো। আমি দেখছি।”
রিম বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে। দেখছি মানে! সেকি এই লোকের সামনে শাওয়ার নিবে না কি? এ তো দেখি মারাত্বক লেভেলের পাগল। তার ভাবনার মাঝেই জেইনের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে,
“কি হলো, এখনো বসে আছো কেন? বলেছিলাম, তুমি পারবে না।”
সে রিমের দিকে এগিয়ে আসে। রিম আঁতকে উঠে শুষ্ক ঢোক গিলে হাত উঁচিয়ে না বোঝায়
“আমি পারবো তো, আপনি বাইরে যান।”
জেইনের বিরক্তি আজ যেন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজেকে শান্ত করে। তারপর ধীরে, শান্ত কিন্তু গম্ভীর কণ্ঠে বলে
“আমি এখানেই থাকবো। তোমার যদি আবার কোনো সমস্যা হয়? তখন কি হবে? আমি কোনো রিক্স নিতে পারবো না।”
রিম কাঁদো কাঁদো স্বরে ফিসফিস করে বলে

“আমি আপনার সামনে কিভাবে শাওয়ার নিব? কিভাবে চেঞ্জ করবো?”
জেইন ভাবলেশহীন গলায় বলে
“যেভাবে সবসময় করো, সেভাবেই করবে। আমি কি কিছু বলছি?”
রিম এবার জেদ নিয়ে ফিসফিস করে বলে
“না, আমি আপনার সামনে করতে পারবো না। আমার কি লজ্জা নেই।”
জেইন একটু ভাবুক হয়ে বলে
“ওও, আচ্ছা এই ব্যাপার। ঠিক আছে, তুমি ভাববে তোমার সামনে কেউ নেই। আর আমি ভাববো আমি কিছু দেখছি না। প্রবলেম সলভ্!”
রিমের মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। এ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লো সে। সে ফিসফিস করে বলে

“না, আপনি বাইরে যান।”
“বললাম তো, আমি বাইরে যাবো না। যা করার, আমার সামনেই করো।”
“এমন করছেন কেন? যান‌‌ না, প্লিজ।”
“এই মেয়ে বাংলা ভাষা বোঝে না তুমি? আর কতোবার বলবো, আমি যাবো না। যা করার, আমার সামনেই করবে তুমি।”
রিম এবার রাগে ফুঁসে ওঠে। কণ্ঠে জেদ মিশিয়ে বলে,
“এই বিদেশি গরুর বাচ্চা! তুই যাবি এখান থেকে! জানোয়ার!! মেন্টাল কোথাকার! পাবনায় যা তুই! তোর মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন।”
জেইন তার কাছে এসে এক ঝটকায় কোমর চেপে ধরে। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে

“ঠিক বলেছ, আমার চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু সেটা ডাক্তার না, তুমি পারবে। এখন চুপচাপ যা করার, আমার সামনেই করো। নয়তো ভদ্র বাচ্চার মতো বসে থাকো, সব আমিই করিয়ে দিচ্ছি।”
রিম ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। কাঁদতে কাঁদতে বলে
“আপনি এমন কেন? আমার কি কোনো প্রাইভেসি নেই?”
জেইন নেশাগ্রস্থের মতো তার ঘাড়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলে
“না, নেই।”
তার ছোঁয়ায় রিমের পুরো শরীর কেঁপে ওঠে। চোখ শক্ত করে বন্ধ হয়ে যায়, অথচ দু’হাত নিজের অজান্তেই জেইনের বাহু খামচে ধরে থাকে। জেইনের ঠোঁট তার ঘাড়ে ডুবে আছে‌ মুহূর্তে মুহূর্তে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে চামড়ায়। ধীরে ধীরে চুমুর রেখা বেয়ে উঠে আসে গলার পাশ থেকে কানের কাছে। কানের লতিতে দাঁত বসিয়ে নেশাক্ত কামুক গলায় ফিসফিস করে

“সোনা, আমার না , ভেতরে কেমন যেন ঝড় উঠছে… থামাতে পারছি না। তোমাকে একটুখানি আদর করি? প্লিজ সোনা, খুব ইচ্ছে করছে। শুধু একবার হ্যাঁ বলো। বেশি ব্যথা দেবো না, প্রমিস। শুধু একটু চুমু খাবো… আর একটু আদর করবো। করতে দিবে? প্লিইইজ…”
বলেই সে একটুও দেরি না করে রিমের সর্বাঙ্গে হাত বাড়ায়, ধীরে ধীরে, একরাশ উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়ে এলোমেলোভাবে স্পর্শ করতে থাকে। কোমড় শক্ত করে চেপে ধরে, নিচে ঝুঁকে বসে। সর্ব শরীরে ছোট ছোট চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিতে থাকে। প্রতিটি স্পর্শে রিমের শরীর যেন আগুনে ঝলসানো হয় ।
রিম চোখ বন্ধ করে রাখে, শ্বাস অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত ছুটছে। জেইনের প্রতিটি ছোঁয়ায় শরীর শিহরণে কেঁপে ওঠে। চোখ বন্ধ রেখে সে জেইনের বড়বড় সিল্কি চুলগুলো টেনে মুঠি করে ধরে, যেন কিছুটা নিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। চুমু দিতে দিতে জেইন ধীরে ধীরে মুখ তুলে রিমের দিকে তাকায়। চোখের গভীরে আগুন, নেশা।
রিমের বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। টিশার্টের উপর নারীদেহের ভাঁজগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, প্রতিটি নড়াচড়া আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

জেইন উঠে দাঁড়ায়। রিমের দুই হাত একত্র করে উঁচু করে তার এক হাতে দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে ধরে। বুকে মুখ গুঁজে, বড় করে নিঃশ্বাস নিয়ে তার শরীরের ঘ্রাণ শোষণ করতে থাকে। তারপর ছোট ছোট চুমু দিয়ে রিমের শরীরকে স্পর্শ করে, আর রিম অসহ্যভাবে কাঁপতে থাকে।
জেইন এবার সম্পূর্ণ উন্মত্ত হয়ে যায়। বড় বড় করে নিঃশ্বাস নেয়, চোখ দুটো অসম্ভব রকম লাল হয়ে ওঠে, যেন কোনো জ্বালাময় নেশা তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। সে তাড়াহুড়ো করে অধৈর্যের মতো রিমের টিশার্ট টেনে খুলে ফেলে।

রিম চোখ বন্ধ করে ঝড়ের বেগে তাকে জড়িয়ে ধরে, যেন নিজেকে আড়াল করতে চাইছে। কিন্তু জেইনের চোখে তখন অদ্ভুত নেশা, আর বুকে অব্যক্ত ক্ষুধা। সে রিমের ছোট্ট শরীরটিকে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দেয়। প্রতিটি স্পর্শ রিম সহ্য করতে পারে না। শরীরে অজানা শিহরণ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
জেইন সম্পূর্ণ নেশায় ডুবে আছে। লালচে, কামুক চোখে রিমের মুখের দিকে তাকায় । তারপর রিমের চোখের অশ্রু বিন্দু শুষে নেয়। রিমের কাছে প্রতিটি স্পর্শ যেন মরণ যন্ত্রণার মতো এমন অনুভূতি যা সে নিজেই বুঝতে পারছে না।
জেইন ঝুঁকে তার গলায় চুমু খায়। তারপর ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে, ঠোঁট দুটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে। একের পর এক উষ্ণ, অধিকারপূর্ণ ভালোবাসার স্পর্শে রিমকে ভরিয়ে দেয়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে চুমু খেতে থাকে। প্রতিটি চুমু যেন দাবানলের আগুনে জ্বালানো।
শ্বাসে শ্বাসে, স্পর্শে স্পর্শে রিমের শরীর কেঁপে ওঠে প্রতিটি মুহূর্তে নেশা আর ভয়, ব্যথা আর সুখ, সব মিশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি সৃষ্টি করছে।

তার স্পর্শ রিমের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠছে এমন যে মৃত্যুও তার কাছে অনেক সুখকর মনে হচ্ছে। জেইন রিমকে আরও কাছে টেনে তীব্রভাবে চুমু খেতে থাকে। চুমু খেতে খেতেই সে নিজের শার্ট খুলে ফেলে, তারপর রিমকে আরও জড়িয়ে, আরও কাছে টেনে গভীর চুমুর জালে আবদ্ধ করে।
রিমের চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, স্বর বের হচ্ছে না। প্রতিটি স্পর্শে শরীর কেঁপে উঠছে।
জেইন ধীরে ধীরে রিমের প্যান্ট খুলতে চেষ্টা করে। তখনই রিম হঠাৎ তার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,

“আমাহ্… আমার পিরিয়ড।”
এক মুহূর্তে জেইন হঠাৎ সজাগ হয়ে ওঠে। রিমের কাছ থেকে ছিটকে দূরে সরে যায়। তার দিকে তাকাতেই দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নেয়, গলায় শ্বাস আটকে যায়। কেন এমন হচ্ছে তার? এই মেয়ের কাছে আসলেই যেন সে সমগ্র পৃথিবী থেকে ছিটকে অন্য কোনো জগতে চলে যায়। নিজের অস্তিত্ব সব ভুলে যায় মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু থেমে যায়, শুধুই রিম, শুধুই সে।
সে দ্রুত ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে পড়ে। রিম নিচে পড়ে থাকা টিশার্ট দিয়ে নিজেকে আড়াল করে ফেলে। চোখ এখনো খুলে তাকাতে পারছে না। যেন সেই স্পর্শ এখনও লেগে আছে তার সমস্ত দেহে, প্রতিটি অংশে।
সে কিছুক্ষণ সেখানেই স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে, নড়াচড়ার সমস্ত শক্তি যেন হঠাৎ হারিয়ে গেছে। শরীর অচল, মন স্তব্ধ। শুধু হৃদয়ের দ্রুত স্পন্দন এবং চোখের আর্দ্রতা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে কিছুক্ষণ আগের সেই স্পর্শ যেন এখনো জীবন্ত হয়ে আছে।

জেইন রুমে গিয়ে বড় বড় করে শ্বাস টেনে নিতে থাকে। চোখ দুটো অসম্ভব লাল হয়ে আছে। সারা শরীরে যেন আগুন ছড়াচ্ছে। নিজের চুল হাতে মুঠি করে চেপে ধরে। গলায় গর্জনের মতো চিৎকার ফিসফিসিয়ে বের হয়। বুকে হাত রেখে মেঝেতে বসে পড়ে। মুখে ফিসফিস করে বলে,

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩১

“এ কেমন দহনে পুড়াচ্ছো তুমি? আমি যে আর পারছি না। মৃত্যু যন্ত্রণা এর চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।”
সে কিছুক্ষণ সেভাবেই চুল টেনে মাথা নিচু করে বসে থাকে। তারপর হঠাৎ উঠে দ্রুত বেডশিটটা চেঞ্জ করে নেয়। বিছানায় বসে হাঁসফাঁস করতে থাকে। শরীরটা এখনও আগুনের মতো জ্বলছে। তীব্র বিরক্তি তার চোখে ফুটে ওঠে।
তারপর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়, ফ্রিজ থেকে কয়েকটা আইসকিউব বের করে সোজা প্যান্টের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। শরীরটা থরথর করে কেঁপে ওঠে।

প্রাণসঞ্জীবনী পর্ব ৩৩