প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩১
ইনান হাওলাদার
আজ অফ ডে থাকায় তূর্য সারাদিন বাড়িতে। বেলা বারোটা নাগাদ গোসল করে দরজায় খিল দিয়েছে আর বলেছে কাউকে ডিস্টার্ব না করতে। যখন ঘুম থেকে উঠবে তখন দুপুরের খাবার খাবে।সেই কথা মত কেউ আর তার ঘরের সামনে যায়ও নি। কেউ বলতে বাড়ির তিন সদস্যই তার রুমে যায়,এক পারভিন বেগম,দুই আহি আর তিন তাহি। শান্ত – প্রান্তও যায় তবে খুব কম। আগে থেকে নোটিশ দেওয়ায় তাহি আর যায়নি। আহি বাড়ি থাকলে অর্থাৎ ভার্সিটি না গেলে অবশ্য কোনো নোটিশে কাজ হতো না,নোটিশ দেওয়ায় আরো বেশি করে যেত।
দুপুর দুইটার পরেও তূর্য দরজা খুলছে না দেখে পারভিন বেগম একবার গিয়ে কড়া নেড়েছিলেন । কোনো সাড়া না পেয়ে দ্বিতীয় বার আর শব্দ করেননি।
আধঘন্টা পর আরেকবার চেইক করতেই দেখেন উঠেছে।তাই ট্রেতে করে দুপুরের খাবার সাজিয়ে ছেলের রুমে ঢুকেছেন তিনি।টেবিলের উপর খাবার রেখে বিছানা গুছিয়ে বসতেই তূর্য ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে। খাবার আর মাকে দেখে বলল,
” ডাইনিংয়ে খেতাম! ক’ষ্ট করে আনতে গেলে কেন ”
” ছেলে – মেয়ের কাজ করতে মায়েদের কষ্ট হয় বুঝি ?”
মায়ের কথার বিপরীতে শুধু একটু মুচকি হাসলো তূর্য। তারপর কাউচে বসে ঊরুর উপর প্লেট নিয়ে খাবার খেতে আরম্ভ করলো। পারভিন বেগম ছেলের সামনেই খাটে বসে আছেন।
তূর্যের খাওয়া প্রায় মাঝপথে।তখন পারভিন বেগম বললেন,
” আমার মনে হয় এবার সবাইকে সবটা জানানো দরকার ”
” কোন বিষয়ে ?” গালে থাকা খাবার চিবোতে চিবোতে বলল তূর্য।
” তোর আর আহির। তোর মেজো মাও কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে । একে একে বাড়ির সবাই বুঝতে পারবে। তারা নিজে থেকে জানলে স’মস্যা আরো বাড়বে।তার থেকে ভালো তুমি নিজে জানিয়ে দেও,আব্বা ”
” জানুক , নো প্রবলেম। এখানে লু’কোচুরির কি আছে? আমি তো আর লু’কোচুরি করে কিছু করছি না ”
ছেলের গা ছাড়া কথা শুনে একটু রেগে সন্দিহান কন্ঠে পারভিন বেগম উল্টে প্রশ্ন করলেন,
” তুই লু’কোচুরি করছিস না ? ”
তূর্যের কা’ট’কা’ট উত্তর,
” নাহ ”
” যাকে ভালোবাসিস তার সামনেই প্রকাশ করছিস না , এতটাই গো’পন করে রেখেছিস।আবার বলছিস লু’কোচুরি করছি না। ”
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো তূর্য।খাবারের শেষ লোকমা গালে তুলে ধীরে সুস্থে চিবিয়ে হাত ধুতে ধুতে বলল,
” ফার্স্ট অফ অল,আমি ওকে ভালোবাসি না,ভালোবাসলে বলে দিতাম।অ্যান্ড সেকেন্ড , তুমি যখন সবটা বুঝতে পেরে জানতে এসেছিলে আমি অ’স্বীকার করেছিলাম? করিনি ! মেজো মা জানতে আসুক ,আমি সেখানেও অ’স্বীকার করতে যাবো না। ” একটু থেমে ফের বলল সে,
” মেজো মা কেন? বাড়ির কারো সামনেই অ’স্বীকার করব না। ”
” তাহলে সবাইকে জানিয়ে দে। নাহলে বল আমি জানায় ”
” সময় হলে আমিই জানাবো ”
” এখনো সময় হলে ? ”
” হ্যাঁ! ”
কিছুক্ষণের নীরবতা।মা – ছেলে দুজনেই নিশ্চুপ। পারভিন বেগম ছেলের মন পড়ার চে’ষ্টা করছেন। কিন্তু তার ছেলে এতটাই শ’ক্ত খোলসে আবৃত তিনি মা হয়েও সময় সময় ব্যর্থ হয়ে পড়েন।যেমনটা এখন হচ্ছেন। তূর্য কি আসলেই এই সম্পর্কটা নিয়ে সিরিয়াস? নাকি মোহ?পারভীন বেগম কখনো কখনো ভেবে কোনো কূল – কিনারা পান না ।যদিও মোহ এত বছর ধরে থাকার কথা নয়।
নীরবতা ভা’ঙলো তূর্য। গ’ম্ভীর ভারি কন্ঠে বলল,
” তোমার কি মনে হয়? বাড়ির সবাইকে জানিয়ে দিলাম আর তারা ঘটা করে আমাদের বিয়ে দিয়ে দিবে? কোনো বাঁধা আসবে না? সবটাকে এত পানি পানি মনে করো না ,আম্মু। ”
ছেলের কথায় পারভিন বেগম কিছু বলতে যাচ্ছিলেন।কিন্তু তার আগেই তূর্য ফের বলে ওঠে,
” কেউ কিছু না করলেও তোমার স্বামি আর দেবর বিনা বাধায় আমাকে মেয়ে দিবেন না । আর তখন শুধু আমার অপিনিয়ন চাইবে না,তোমাদের মেয়েরটাও চাইবে।
ওকে দিয়ে আমার কোনো বি’শ্বাস নেই,আম্মু। বাপ – চাচার এক ধ’মক খেলেই কাজ সারা!সেকেন্ডের ব্যবধানে মত ঘুরিয়ে ফেলবে। আগে দেখি সে আমার জন্য কতটা পা’গল হতে পারে। দ্যান ….”
” তার আগেই যদি বিষয়টা একে একে বাড়ির সবার কানে চলে যায়? তখন ? তখন কি করবি ? ” তূর্যকে থামিয়ে বলে উঠলেন পারভিন বেগম।
” যাবে না ! আর যদি যায়, যাবে। আই ডোন্ট কেয়ার ”
” যদি এমন হয় ,বাড়ির কেউ মেনে নিলো না তখন কি করবি আব্বা?”ক’রুণ সুরে বললেন পারভিন বেগম।
তূর্যের অকপট উত্তর,
” ওকে নিয়ে চলে যাবো । এজন্যে আহিকেও তো আমার হাত ধরার সা’হস থাকতে হবে।দ্যাট’স হোয়াই , এতো অ’পেক্ষা।
যেদিন বুঝবো তোমাদের মেয়ে আমার জন্য শুধু পরিবার নয়, পুরো পৃথিবী ত্যাগ করতে পারবে,সেইদিন সবটা প্রকাশ করবো। সো দ্যাট ,ফ্যামিলি ছাড়ার কথা বললে ওকে দ্বিতীয়বার ভাবতে না হয়। ”
” শুধু মাত্র আহির জন্য পুরো পরিবার ত্যাগ করবি ? ” আ’র্তনাদ করে বললেন পারভিন বেগম।
” তোমরা মেনে নিতে না পারলে ,সেটা তোমাদের ব্য’র্থতা। আমার কিছু করার নেই। বাই দ্যা ওয়ে , আহি শুধুমাত্র না,ও একমাত্র ! দ্যা অনলি ওয়ান ! ”
এরপর আরো কিছুক্ষণ কথা হলো মা – ছেলের।পারভিন বেগম তূর্যকে বোঝানোর নানান চে’ষ্টা করে হার মেনে চলে গেলেন। মা যেতেই তূর্য জানালার ধারে গেল।দুই হাতে পর্দা সরিয়ে জানালার কাঁচ ঠেলতেই ফুরফুর করে বাতাস প্রবেশ করলো । কিছুক্ষণ বিকালের প্রায় ডুবন্ত সূর্যের দিকে চেয়ে রইলো সে। আস্তে আস্তে সূর্যটা ডুবে গেল ,তূর্য সেটা চেয়ে চেয়ে দেখলো। তারপর খালি গলায় সুর তুলে গেয়ে উঠলো ,
” খোলা জানালা দক্ষিণের বাতাসে
ঢেকে যায় পর্দার আড়ালে
কখন তুমি এসে হেসে বলে দেও
আছি তোমার পাশে
বহুদূর পথ ভীষণ আঁকাবাঁকা
চলতে ভীষণ ভ’য়
তুমি এসে বলে দেও আছি আমি পাশে
করো না কিছুতেই ভয় ”
আহির বাড়ি ফিরে একবার তূর্যের রুমে টু মা’রা হয়ে গিয়েছে। আজ তূর্যের ছুটির দিন হওয়ায় আহি ভেবেছিল সে বাড়িতেই থাকবে।কিন্তু নেই, হয়তো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গিয়েছে এই ভেবে দুই বার কলও করেছে ।কিন্তু রিসিভ হয়নি। তূর্য আহির কল রিসিভ করে কয়েকটা ক’ড়া কথা শোনালেও ,সবসময় প্রথমবারের মাথায়ই রিসিভ করে। আজ রিসিভ করেনি দেখে টে’নশন হচ্ছিল তার, পরে জানতে পেরেছে জরুরি কোনো কাজে তূর্যকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। তাই আহি তাকে সারপ্রাইজ দেবে ভেবে পায়েস রান্না করতে এসেছে। যে পায়েস নিয়ে এত কাহিনী হয়ে গেল ,তূর্য ভাইকে সেই পায়েস রান্না করে না খাওয়ালে হয়?
আজ রাতের খাবারে শুধু ভর্তা করা হবে । নানান প্রকারের ভর্তা। মারুফা বেগম সেইগুলোই তৈরি করছেন।ইতোমধ্যে কয়েক প্রকারের ভর্তা তৈরি করে ফেলেছেন তিনি,বাকি আরো নানান পদের ভর্তা একে একে তৈরি করছেন ।আহিকে রান্না ঘরে এসে টোপাটুপি করতে দেখে বললেন,
” কি খুঁজছিস আমাকে বল ”
” পায়েস রান্না করবো আম্মু ”
” কি উপলক্ষে ? তোর বাপের বিয়ে নাকি তোর মায়ের ? ”
” এমনিতেই! তূর্য ভাইয়ের জন্য ”
এতক্ষণে মজা করে কথা বললেও তূর্যের নাম শুনে মারুফা বেগম মুখ কালো করে ফেললেন। শিলপাটায় বেটে মাছ ভর্তা করছিলেন তিনি। মেয়ের মুখের কথা শুনে হাত থামিয়ে দিলেন। তারপর গ’ম্ভীর কন্ঠে বললেন,
” কেন? তূর্য খেতে চেয়েছে তোর কাছে ?”
” না,এমনিতেই। এত প্রশ্ন করছো কেন আম্মু ? ”
” তুই যা,আমি রান্না করে দিব ”
” না ,আমি নিজে হাতে রান্না করবো ”
আর বাড়াবাড়ি করলেন না মারুফা বেগম। আহি যতই ছেলে মানুষী করুক তূর্য তো আর অবুঝ নয়। শুধু শুধু এত ভ’য় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি অগত্যা বললেন,
” মাছ বেঁটে খুঁজে দিচ্ছি । তুই বাকি ভর্তাগুলি খেয়ে দেখতো সব ঠিকঠাক হয়েছে কিনা ”
মায়ের কথায় সম্মতি দিলো আহি। মুখে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে একে একে সবগুলো ভর্তা টেস্ট করতে লাগলো।
লম্বা করে একটা টেবিল ও তার দুইপাশে সারি দিয়ে কতগুলো চেয়ার রাখা।তাতে বসে আছে অনেক নবীন ও প্রবীণ ডাক্তার ।একদম সম্মুখে যে চেয়ারটা রাখা সেটাতে বসে আছেন একজন ষাটোর্ধ্ব পুরুষ ডাক্তার। সবার থেকে সিনিয়র তিনি। মাথার চুলগুলো আধ পাকা। বেশভূষা দেখে সঠিক বয়স বোঝা দায়। তিনি একটা কাগজ উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে বললেন,
” উই হ্যাভ অনলি থ্রি মান্থস লেফট। ” বলে একেকবার করে সবার দিকে নজর বুলিয়ে তূর্যের পানে স্থির করে বললেন, “কি করবে বলে ভাবছো ”
” আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু গো, স্যার ” উত্তরটা যেন আগে থেকেই ভেবে রেখেছিল তূর্য,ঠিক সেভাবে উত্তর দিলো।
” ইট’স অ্যা বিগ অপারচুনিটি, মাই বয় ”
” স্য’রি, স্যার ”
” তুমি আরেকটু ভেবে দেখ ইয়াং ম্যান! অনলি থ্রি ইয়ার্সের ব্যাপার । বিবাহিতও নও তাহলে কি সমস্যা ?জুবায়ের,তাহমিদ, আয়রা , সায়মা সবাই যাচ্ছে। এভরিওয়ান উইল গো , মাই বয়।এরকম সুযোগ বারবার আসে না ”
” প্লিজ স্যার চলুন।”
” প্লিজ চলো তূর্য ”
ডক্টর মির্জার কথার সাথে মিলিয়ে কয়েকজন একসাথে বলে উঠলো। তূর্য শুধু তাদের দিকে একটু শক্ত দৃষ্টিতে চাইলো। আয়রা বলল,
” স্যার,এটা আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য বিগ অপরচুনিটি ।তাহলে আপনি …..” বাকিটা শেষ করতে দিলো না তূর্য।তীক্ষ্ণ চোয়াল ,শক্ত করে বলল,
” ক্যারিয়ার যেটুকু গড়েছি ,সেটুকুই এনাফ। ”
নিজ কক্ষে খাটের উপর বসে হাত – পা ছড়িয়ে দাপাদাপি করছে আহি। একটু আগে মায়ের তৈরি সব ভর্তা টেস্ট করে দেখতে গিয়ে ভুলক্রমে কাঁচা মরিচ ভর্তা মুখে দিয়ে ফেলে।একটু গালে দিলে হয় ,এক খাবলা ধরে গালে পুরেছে ।এখন সারা ঠোঁ’ট আর গাল জ্বলে যাচ্ছে। গোলাপি অধর জোড়া র’ক্তিম রূপ ধারণ করেছে। বাড়ির তিন গিন্নি বরফ আর টক দই হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।কিন্তু আহি তাদের কাউকে সেগুলো ঠোঁ’টে লাগাতে দিবে না। গাল আর ঠোঁট এতটাই জ্বলছে ঠিক মতো কথাও বলতে পারছে না সে। শুধু একবার বলেছে,
” তূর্য ভাইয়ের জন্য পায়েস রান্না করতে গিয়ে এমনটা হয়েছে , উনিই আমার ঝাল সেরে দিবেন ” সে জিদ ধরে বসে আছে।কেউ জোর করতে আসলে হাত – পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে তাদের হাতের বাটি ফেলে দিচ্ছে। তবে এমন জিদ ধরে থাকার কারণও আছে বটে। সে যখন ভর্তাগুলো টেস্ট করছিল ,তখন তূর্য বাড়িতে ফেরে।তূর্য যখন ড্রয়িং রুমের মাঝ বরাবর তখন আহি দৌঁড়ে গিয়ে কি যেন বলে।আর তূর্য জোরে একটা ধ’মক দিয়ে গড়গড় করে সিঁড়ি বেঁয়ে চলে যায়।আহিও একটা মুখ ঝামটি মে’রে আবার ভর্তা টেস্ট করতে কিচেনে চলে আসে। মনে মনে তূর্যকে ব’কতে ব’কতে ভর্তা গালে দিতেই চেঁচিয়ে ওঠে।
আহির জিদের কাছে ব্যর্থ হয়ে পারভিন বেগম একবার তূর্যকে ডাকতেও যান।কিন্তু ছেলের মুখ দেখে বুঝতে পারেন কোনো একটা সমস্যা হয়েছে।মোবাইলেও চেঁ’চামেচি করে কথা বলছে। তাই আহির ঘটনা না বলেই তিনি আবার চলে আসেন।
” হোয়াট হ্যাপেন্ড? ও এভাবে কান্না করছে কেন ?” দরজার কাছ থেকে বলে ওঠে তূর্য। তার গলা শুনে একসাথে পিছু ফিরে তাকান বাড়ির তিন মহিলা।মারুফা বেগম সকল কাহিনী খুলে বলে রা’গে রা’গে চলে যান। তূর্য ছোট মায়ের হাত থেকে বরফ আর দইয়ের বাটি নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আহির দিকে এগিয়ে যায়। আহিও কান্না ভেজা চোখে তূর্যের দিকে তাকিয়ে আছে। তার বিশ্বাস ছিল তূর্য ভাই আসবেন। তূর্য গিয়ে আহির পাশে বসে। পারভিন বেগম লতা বেগমকে নিয়ে চলে যান। যাওয়ার আগে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে যান।মায়ের কান্ডে বি’রক্ত হয় তুর্য। সে কি রোমান্স করতে এসেছে ,যে দরজা বন্ধ করতে হবে ?
তূর্য আহির থুতনি ধরে নিজের দিকে ফেরাতে ফেরাতে রাশ’ভারি কন্ঠে ,
” এদিকে ঘোর ” বলে দুই আঙুলের সাহায্যে একটা বরফের টুকরো উঠিয়ে আহির ফোলা ফোলা ঠোঁটে দিবে তার আগেই আহি তূর্যের হাতে থাবা দিয়ে বরফ ফেলে দিয়ে বলে ওঠে,
” আপনার জন্য জ্ব’লছে আপনিই সারিয়ে দিবেন ”
” আমিই তো দিচ্ছি! অ’ন্ধ হয়ে গেছিস? ” বলে আরেক টুকরো বরফ হাতে তুলে নেয়।এবারেও আহি একই কাজ করে একই কথা বলল। তূর্য এক রাম ধ’মক দিয়ে বলল,
” তোকে বলেছিলাম আমি পায়েস খাবো? নাকি তোকে বলেছিলাম গিয়ে মরিচ ভর্তা খা ? ” কয়েক সেকেন্ড শক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে সে ফের বলল,
” ওকেই,ফাইন! তাও আমি মেনে নিয়েছি।তাহলে এখন কি প্রবলেম ? বরফ দিতে দিচ্ছিস না কেন ?”
আহি এবারেও একই কথা বলল। তূর্য কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে দাঁত দাঁত পি’ষে বলল,
” এখন কী চাইছিস তুই? দই দিতে দিবি না,বরফ দিতে দিবি না,তাহলে কিভাবে তোর ঝাল সারাবো আমি? কি’স করে ? টেল মি ! কি’স করে সারাবো? তাছাড়া তো আর কোনো ওয়ে দেখছি না। ”
তূর্যের কথায় চোখ কপালে ওঠার যোগাড় আহির। সে তো এসব কিছু বলেনি। আর সত্যিই তো দই,বরফ কিছু লাগাতে না দিলে তূর্য ভাই ঝাল ছাড়াবেনই বা কি করে ! তূর্য এবার আঙুলের মাথায় দই নিয়ে আহির ঠোঁটে দিতে আরম্ভ করলো।এবারে ত্যা’ড়ামি করলে ঠাটিয়ে একটা থাবা দিবে ভেবে রেখেছিল সে। কিন্তু আহি আর কিছু করেনি, ভদ্র মেয়ের মতো চুপচাপ বসে আছে।
দই লাগানো শেষে এক টুকরো বরফ তুলে ফের ডলতে আরম্ভ করলো তূর্য। পুরোটা সময়ে তার দৃষ্টি অন্যত্র! ওই ফিনফিনে পাতলা র’ক্তাভাব অধর পানে চেয়ে থাকার সাহস তার নেই।এমনিতেই থেকে থেকে ভিতরটা কেঁপে উঠছে। দিন দিন সকল ধৈর্য যেন ফুরিয়ে আসছে তার। নিজের উপর আর বিশ্বাস করতে পারে না। থেকে থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আর কতকাল সময় গুণে যেতে হবে ? কত ধৈর্য ধরতে হবে তার ? কবে তৃষ্ণার্ত হৃদয়টা একটু জলের দেখা পাবে? কবে?
অনেকক্ষণ পার হওয়ার পর আহি বলল,
” তূর্য ভাই?একটা সত্যি কথা বলবেন? ”
” আই হে’ইট লাইজ ”
“আপনার মনে কি আমার জন্য সত্যিই কোনো ফিলিংস নেই? ”
কোনো উত্তর দিলো না তূর্য। হাত থামিয়ে শুধু এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ আহির চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো।তারপর পুনরায় কাজে মনোযোগী হলো। আহি ফের বললো,
” কি হলো কথা বলছেন না কেন?”
” এত কথা বলিস না ,দিতে প্রবলেম হচ্ছে ”
” আর দিতে হবে না।আপনি বলুন ”
” কী?”
” একটু আগে যেটা বললাম!” বলেই কথাটায় জোর দিতে আহি ফের বলল,” সত্যি কথা বলবেন ”
” আমি কথায় না,কাজে বিশ্বাসী ”
” কখনো কাজেও তো প্রকাশ করেন না ”
” সময় হলে করবো ! ”
” কবে সময় হবে আপনার ?” হ’তাশ গলায় বলল আহি।
” বলেছি ভালোবাসি ? তাহলে কি প্রকাশ করবো?” আহির দিক থেকে চোখ নামিয়ে বলল তূর্য।
” তাহলে ভালোবাসেন না ?”
তূর্য ঠোঁট চেপে রাখল কিছুক্ষণ, তারপর বলল,
” সেটাও তো বলিনি !”
” তাহলে কিছু তো বলুন ” বি’রক্তি নিয়ে এক নিঃশ্বাসে বলল আহি।
” কিছু ”
” কি , ‘ কিছু ‘ ?” ভ্রু কুঁচকে বলল আহি।
” মাত্রই তো ‘ কিছু ‘ বলতে বললি ” তূর্য চোখ ঘুরিয়ে হেসে আহির দিকে তাকাল , চোখে দু’ষ্টুমি স্পষ্ট।
তূর্য ভাই দু’ষ্টুমিও করতে পারেন।পেট ফেটে হাসি আসছে আহির। কিন্তু যেভাবেই হোক হাসি আটকে রাখতে হবে। তূর্য আহির মুখ দেখে বেশ বুঝতে পারছে তার সামনে থাকা রমণী নিজের হাসি আটকে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করছে।আহির কান্ডে তূর্য মুচকি হাসলো সে।সেটা অবশ্য আহির দৃষ্টি এড়ায়নি।সে বললো,
” আপনি হাসছেন তূর্য ভাই ?”
” মনে হচ্ছে হাসিনি কখনো ? ফটোর ফটোর করতে শুরু করেছিস, আই থিঙ্ক এখন আর জ্ব’লছে না ”
বলে বরফের টুকরো দইয়ের পিরিজের উপর রাখলো তূর্য। তারপর সেটাকে নিয়ে দরজার দিকে অগ্রসর হলো ।আহি পিছু ডেকে বললো,
” তূর্য ভাই,একটা কথা বলবো ?”
পিছু ঘুরলো তূর্য।আহির দিকে সরু দৃষ্টিতে কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো,
” হুম,বল ”
” একটা কথা ” বলে উচ্চশব্দে হাসি শুরু করলো।ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রুম হতে বেরিয়ে গেল সে। বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠলো তূর্যের। এরকম হাসি বেশিক্ষণ দেখা সম্ভব নয়।বুকে ব্যথা ওঠে,অসম্ভব রকমের ব্যথা।
মোবাইলের মাঝখান তর্জনী ও বৃদ্ধা আঙুলের মাথার সাহায্যে চেপে ধরে চাকার মতো মোবাইল খানা ঘোরাচ্ছে আর রুমে পায়চারি করছে মেহেদী। আজ চারদিন হয়ে গেল তাও তারিন তাকে আহির নম্বর দেয়নি। সে একটু আগে একবার তারিনের নম্বরে কলও করেছে কিন্তু তারিন রিসিভ করেনি। সেও দ্বিতীয়বার আর কল করেনি। বলতে গেলে সে তারিনের একজন টিচার । তাকে তো সম্মান করা উচিত। কাল কোচিংয়ে এক্সাম আছে।একটা অক্ষর ভুল যাক শুধু খেলা তখন দেখাবে।কল রিসিভ না করা? বে’য়াদব মেয়ে একটা!
কিছুক্ষণ বাদে তারিন নিজে কল ব্যাক করলো অন্য একটা নম্বর দিয়ে। অজানা নম্বর হওয়ায় মেহেদী প্রথমে রিসিভ করলো ,তারপর তারিনের গলা পেয়ে কেটে দিয়ে নিজে কল ব্যাক করলো।তারিন সুন্দর করে একটা সালাম দিল ,মেহেদী তার সালামের উত্তর দিলো কি দিলো না বোঝা গেল না। ধম’কিয়ে বললো,
” এই মেয়ে ? তোমাকে আহির নাম্বার দিতে বলেছিলাম ? ”
” জ্বি,আমি সেদিন বাড়ি ফিরে আপনাকে কল করেছিলাম ভাইয়া।আপনার ফোন বন্ধ ছিল। আর পরের দিন তো আহি গিয়েছিল এইজন্যে আর দেইনি ”
” আহি আসলে নাম্বার দেওয়ার দরকার নেই বলেছিলাম সেটা ? ”
” জ্বি না ”
” তাহলে দেও নি কেন ? এখনই দেও দ্রুত ”
তারিন কেবল অর্ধের নম্বর বলেছে এর মধ্যে ওর আম্মু এসে স’ন্দিহান কন্ঠে বললেন,
” এত রাতে কার সাথে কথা কস তারিন? ”
” ক্যামিস্ট্রি ভাইয়া ”
” কি ভাইয়া ? ”
” সকালের ব্যাচের ভাইয়া ”
” দেখি কেমন ভাইয়া ” বলে তারিনের থেকে মোবাইলটা এক প্রকার কেড়ে নিয়ে তারিনের মা বা’জখায় গলায় বলতে শুরু করলেন,
” হ্যালো? ক্যাডা তুই ? কোন জা’উরা পোলা ? আমার মাইয়ারে ডিসটাপ করস? এত বড় স্ফরদা! আরেকবার যদি ফোন করে জ্বা’লাস কলিজা টাইনা বার করুম । কলডা খালি কাইটা লই তোর আব্বারে কল লাগামু। জা’নোয়ার তো ….”
বাকিটা শোনার সাহস আর হলো না মেহেদির। সে কলটা কেটে মোবাইল খানা চেলে সোফার উপর ফেলে দিলো। টি – শার্ট উচুঁ করে বুকে থু থু দিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
” ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন ”
ভার্সিটি থেকে বাড়ি ফেরার সময় তারিন আর আহি দুইজনে দুইটা লিপস্টিক কিনেছে।কালারটা অনেক সুন্দর।আহি বাড়ি ফিরে গোসল সেরে লিপস্টিকটা ঠোঁটে দিলে কেমন দেখা যাবে সেটা ট্রায়াল দিয়ে দেখছিল।আসলেই কালারটা দেখতে যেমন সুন্দর, ঠোঁটে দিয়ে আরো বেশি সুন্দর লাগছে। এই প্রথমবার বাড়ির লোক ছাড়া কিছু কিনেছে সে। কিন্তু সাহস করে কাউকে বলেনি।তবে কিনে যখন ঠ’কেনি ,তখন সবাইকে দেখানো যায়।এটা ভেবে বাইরে যেতে গিয়েও আবার পা থামালো সে।মনে হলো সবার প্রথম তূর্য ভাইকে দেখানো উচিত।তাহলে তো শুধু লিপস্টিক দিলে চলবে না। একটু সুন্দর করে চুল বাঁধতে হবে।যেই ভাবা সেই কাজ। সে সুন্দর করে চুলগুলোকে গুছিয়ে হাতের মুঠোয় নিয়ে উচুঁ করে একটা ঝুঁটি করলো। তারপর ঠোঁ’টে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে তূর্যের রুমে কড়া নাড়ল। কড়া নাড়ল বলতে দরজায় টোকা দিতে দিতে রুমে প্রবেশ করলো।তূর্যও সদ্য গোসল সেরে বেরিয়েছে। আহিকে দেখে বলল,
” কি হয়েছে? এখন আবার আদা বাটা খেয়ে এসেছিস নাকি ?”
আহি ভেবেছিল কোথায় তূর্য ভাই তাকে দেখে হা হয়ে তাকিয়ে থাকবেন।দুই একটা প্রশংসা করবেন।সেই ভেবেই তো তাড়াতাড়ি করে তেনার তুমি এলো।আর উনি প্রশংসা তো দূরে থাক ভালো করে চেয়েও দেখলেন না ! আবার আদা বাটা খাওয়াচ্ছেন!রসকষহীন লোক একটা।
তূর্য না দেখলে কি হবে? তবে আহি তূর্যকে ভালো করে দেখলো , লোকটার পরনে শুধু একটা অফ হোয়াইট টাওয়াল। বুকের উপর ছিটে ছিটে পানির কণা। চুল বেয়ে টপাটপ আরো পানি বেয়ে বুক – পিঠে গড়িয়ে পড়ছে। কিছু কিছু পানির ফোঁটা বাবল হয়ে উন্মুক্ত বুকে পড়ে আছে।আহির ইচ্ছা করলো গুণে গুণে প্রত্যেকটি বাবলকে আঙুলের ডগা দিয়ে ফাটিয়ে ফেলতে।কিন্তু সাহসে কুলালো না। সে শুধু এক ধ্যানে তূর্যের বলিষ্ঠ দেহে স্থান পাওয়া পানির বিন্দু গুলো দেখাচ্ছে।আচ্ছা,সে যে তূর্য ভাইকে শুধুমাত্র তোয়ালে পরিহিত অবস্থায় দেখছে এতে কি তার লজ্জা পাওয়া উচিত? না,না! লজ্জা পাওয়ার কি আছে? তূর্য ভাই তো পুরুষ মানুষ।পুরুষ মানুষকে এভাবে দেখলে কি সমস্যা!
” হাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কেন এসেছিস বলে বিদেয় হ।আমি চেইঞ্জ করব ” বলে কাউচের উপর বসলো তূর্য।
ধ্যান ভাঙলো আহির। সে কয়েকবার ঘনঘন চোখের পলক ফেলে বলল,
” তূর্য ভাই আপনি কখনো ভালো করে চুল মুছেন না। ”
” তাই ?” ভ্রু কুঁচকে সুধালো তূর্য।
” হ্যাঁ !আরো এখন শীত কাল আসছে,ঠান্ডা লেগে যাবে ”
” তাহলে তুই মুছিয়ে দে ” বলে উঠে দাঁড়ালো তূর্য।
তূর্য মাথা মুছে দিতে বলেছে ,বিষয়টা আহির খুব ভালো লাগলো। তূর্যের টুকিটাকি কাজ করতে তার খুব ভালো লাগে। আর চুল মুছে দেওয়া ব্যাপারটা তো খুবই রোমান্টিক। সে দৌঁড়ে গিয়ে বেলকনি থেকে তোয়ালে এনে তূর্যের মুখোমুখি হলো। এখন সমস্যা হলো ,দুই পা উঁচু করেও তাকে ভালো করে নাগাল পাচ্ছে না।আর তূর্যও খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছে।মাথা একটুও নোয়াচ্ছে না,পারলে আরেকটু উঁচু করছে। শুধু চোখ ছোট ছোট করে আহির কান্ড দেখছে। আহি কয়েকবার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে পরে বলল,
” মাথাটা নিচু করুন তো,তূর্য ভাই ”
” পারবো না ! ”
” কেন? কথা না বলে নিচু হন তো ”
” তোর সামনে নত হতে যাবো কোন দুঃখে !”
” তাহলে কাউচে বসে পরুন ”
” পারবো না ”
আহির বলতে ইচ্ছা করলো , ” কেন ? কি সমস্যা ? পা’ছায় ফোঁ’ড়া হয়েছে ? ” কিন্তু সেটা সে বলল না। জা’নের মায়া কার না আছে! শুধু বি’রক্তি নিয়ে বলল,
” আজব ! তাহলে আমি মুছবো কী করে? একটু তো হেল্প করুন ,ভাই ”
আহির মুখ দিয়ে কথা বেরোতে দেরি হলেও তূর্যের তার কোমর ধরে উঁচু করতে দেরি হয়নি। আকস্মিক ঘটনায় আহি প্রথমে চমকে গেলেও এখন বুকের ভিতরে ছ্যাত করে উঠে চিনচিন ব্য’থা করতে শুরু করেছে। পেটের ভিতর মুড়িয়ে উঠছে। হাত পা ঠান্ডা বরফ হয়ে আসছে। মুখ ফুটে কিছু বলবে কি ? জ্বিভ নড়ছে না। আহিকে অসাড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে বাকা হাসলো তূর্য ।সে তো এটাই চাচ্ছিল। স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বলল,
” কি হলো মোছা ? ”
” না..নামিয়ে দ..দিন তূ..তূর্য ভাই ” কোনো রকমে টেনে হিঁচড়ে গাল থেকে কথা বের করলো আহি। তূর্যের চোখ হাসলেও মুখের আদলের কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
সে তার হাত দুটো আরেকটু শক্ত করে বলল,
” হোয়াই ? হেল্প করতে বললি তো ! এখন তো আর নাগাল পেতে প্রবলেম হওয়ার কথা নয় ”
” আল্লাহ! ছা…ড়ুন না , প্লি..জ ” আর্তনাদ করে উঠলো আহি।তূর্য এবার আহিকে পুরোপুরি নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলল,
” এতো সেজে – গুজে সং সেজে আমার রুমে আসার কারণ ? ”
” কো..নো কারণ নে..ই।”
” সত্যি বললে আজকের মত ছেড়ে দিতাম ”
” আ.. আপনার, আপনার কম ..কমপ্লিমেন্ট পেতে ” তূর্যের আবদ্ধ হাতের নিচে মোচড়া মুচরি করতে করতে বলল আহি। তূর্য তার হাতের বাধন আরেকটু শক্ত করতেই আহির হাতের তোয়ালে মেঝেতে পড়ে গেল। তূর্য ফিসফিসিয়ে বলল,
” কেমন কমপ্লিমেন্ট চাই ?বাই দ্যা ওয়ে, কাল কিন্তু বলেছিলাম ‘ আমি কথায় নই,কাজে বিশ্বাসী ‘ ”
” চাই না কমপ্লিমেন্ট! ”
“কিন্তু আমি তো দিবোই। ”
” যেতে দিন না প্লিজ ” বলে কোমর হতে তূর্যের হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করতে লাগলো আহি।
” এতো হায়পার হচ্ছিস কেন ? আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস নে! ”
তূর্য এবার একহাতে আহির কোমর পেঁচিয়ে ধরে নিজের পায়ের উপর আহির পা রেখে সমান তালে হাঁটতে হাঁটতে অন্য হাতের তর্জনী আঙুল দ্বারা আহির সমগ্র মুখ স্লাইড করতে করতে বলল,
” মুখে কী কী মেখেছিস ? ”
আহি চোখ খিঁচে বন্ধ করে মিনমিন করে বলল,
” কিচ্ছু না! শুধু লিপস্টিকই দিয়েছি।”
” এখনই আমাকে লিপস্টিক রিমুভার বানাতে না চাইলে সেটাও দিবি না “বলে আহিকে ছেড়ে দিলো তূর্য। আহি ছাড়া পেয়ে আর এক সেকেন্ড ও দেরি না করে ভোঁ দৌঁড় লাগিয়েছে।
আর তূর্য দুই হাত বুকে বেঁধে ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে আহির যাওয়ার পানে তাঁকিয়ে আছে। ম’রতে ম’রতে দৌঁড়াচ্ছে ,বেচারি! তূর্য কিছুক্ষণ সেভাবেই থেকে নিজের মনে বিড়বিড়ালো,
” ইন ফিউচার তোকে অনেক স্ট্রাগল করতে হবে তূর্য ।ইডিয়ট একটা!”
আহি এক দৌঁড়ে নিজের রুমে। কোনো পিছন ফেরাফেরি নেই । রুমে গিয়েই আগে দরজা লাগিয়ে সেখানে পিঠ ঠেসে দাঁড়িয়ে দুই হাত বুকের উপর রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিতে আরম্ভ করেছে। তূর্য ভাই আস্তে আস্তে কেমন যেন হয়ে যাচ্ছেন। তাকে এত অস্বস্তির মধ্যে ফেলে কি লাভ পান তিনি ? কিভাবে কোমরে হাত দিয়ে স্লাইড করছিলেন। আল্লাহ !
চোখ বন্ধ করে নিয়েছে আহি। মনে পড়লে এখনো সারা গায়ে কাটা দিচ্ছে।দিন দিন অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন । তুর্যের শেষ কথাটা পুনরায় মাথায় আসতেই আহি কিছু একটা ভেবে বিছানার উপর থেকে মোবাইলটা তুলল।তারপর তার আর তারিনের শেষ কনভার্সেশন চেইক করলো। হ্যাঁ,যা ভেবেছিল তাই !
যেখানে আহি কয়েকটা লিপস্টিক রিমুভারের ছবি দিয়ে লিখেছে,
প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৩০
” কোয়ালিটি ভালো ,নিবি ? ”
” অনেক দাম রে! বাপের টাকা
না খেয়ে বিয়ের পর স্বামীর
টাকা দিয়ে কিনব ”
” বিয়ের পর আর লাগবে না আমার,
তখন আমার লিপস্টিক রিমুভার
তো তূর্য ভাই হবেন। ”
