শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ১৭
রুহানিয়া ইমরোজ
শুক্রবারের সকাল। অফিস ছুটি থাকায় বেঘোরে ঘুমাচ্ছে প্রিমা। মেহরিমা দ্রুত উঠে নাস্তা বানাতে শুরু করেছে। গতরাতে প্রিমা দেরি করে ফিরেছিল বলে তাকে আর ডাকতে যায়নি মেহরিমা। তাছাড়াও সে ভেবে রেখেছে, এরপর থেকে রান্নার দিকটা নিজেই সামলাবে।
লাস্ট পরোটা ভাজছিল মেহরিমা এমন সময় পেছন থেকে বিস্মিত কন্ঠে কেউ একজন বলে উঠল,
–” মেহু? তুই রান্না করছিস?
আচমকা এমনটা হওয়াতে সামান্য চমকে উঠে মেহু।ঘাড় ঘুরাতেই দেখে কন্ঠের মালিক আর কেউ নয় বরং তারই বোন প্রিমা। বুকে হাত রেখে জোরে শ্বাস টেনে মেহরিমা জবাব দেয়,
–” হুঁ আপা..
প্রিমা খুশিতে ডগমগিয়ে বলে উঠে,
–” আমার জন্য সারপ্রাইজ প্ল্যান করছিলি নাকি?
তার খুশিতে এক বালতি জল ঢেলে দিয়ে মেহরিমা চোখমুখ কুঁচকে জবাব দেয়,
–” পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে । তুমি ঘুমাচ্ছো দেখে বাধ্য হয়ে রান্না ঘরে এসেছি। আসার পর ভাবলাম, যে মহিলা সারা বছর হাত পুড়িয়ে রান্না করে আমায় খাওয়ায় তার প্রতি একদিন দয়া দেখানোই যায়। তাই তোমার জন্যও দু’টো পরোটা ভেজেছি।
সহজ স্বীকারোক্তিতে খানিকটা অপমানবোধ করল প্রিমা। তিরিক্ষি কন্ঠে শুধাল,
–” অপমান করলি নাকি?
মেহরিমা মুখ টিপে হেসে জবাব দিল,
–” আমি তো কেবল দয়া দেখিয়েছি….
এবার প্রিমা বুঝে যায় মেহরিমার দুষ্টুমি তাই তেড়ে গিয়ে বলে,
–” ওরেএএ দুষ্টু..
মেহরিমা লাফিয়ে উঠে আত্মসমর্পণ করে বলে,
–” স্যরি আপাআআআ….
প্রিমা ওকে মারে না। কাছে গিয়ে আলতো করে জড়িয়ে ধরে। বোনের সান্নিধ্যে পেয়ে মেহরিমাও বাচ্চাদের মতো গুটিয়ে যায়। প্রিমা আদুরে কন্ঠে বলে,
–” আমার জান বাচ্চাটা কত্ত বড় হয়ে গেছে। একা একা রান্না করতে এসেছে। বোনের জন্য পছন্দের নাস্তা বানাচ্ছে। ইশ্.. দুনিয়ার সব থেকে লাকি মানুষ মনে হচ্ছে নিজেকে।
মেহরিমা অল্প হেসে অস্পষ্ট স্বরে বলে,
–” আম দ্যা লাকিয়েস্ট গার্ল আপা.. তোমাদের মতো বড় বোন পাওয়া ভাগ্যের বিষয়।
প্রিমা আলতো করে মেহরিমার মাথায় চুমু দিয়ে বলে,
–” নো প্রিটি লিটল বেইবি। ইয়্যু ডিজার্ভ ইট। উই প্রাউড অফ ইয়্যু সোনা।
প্রিমার শেষের বলা কথাটা মেহরিমার চোখে জল এনে দেয়। বিমর্ষতায় মুষড়ে পড়া মনে আশা উঁকি দেয়। সে তৎক্ষণাৎ সরে এসে বলে,
–” অনেক আদর হয়েছে। আজকের জন্য এতটুকু এনাফ। এখন খেতে চলোওওও..
প্রিমাও আর কথা বাড়ায় না। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। কখন কোথায় ডাক পড়ে ঠিক নেই। তাই আর সময় নষ্ট না করে দুবোন গল্প-আড্ডায় নাস্তা শেষ করে। সবকিছু গুছিয়ে উঠতে নিবে এমন সময় হুট করে কলিং বেল বেজে উঠে।
মেহরিমাকে বসতে বলে প্রিমা নিজেই যায় বিষয়টা দেখতে। দরজা খুলতেই নজরে আসে আদিল, ইমা, তাসফি, নিরব এবং উদ্ভ্রান্ত ইফিতির চেহারা৷ প্রিমা চেনে প্রত্যেককে। তাই সৌজন্য হেসে বলে,
–” আরে তেমারা.. এসো। ভেতরে এসো..
সকলেই সুড়সুড় করে ভেতরে প্রবেশ করে। নিজের হযবরল বন্ধুবান্ধবদের অসময়ে বাসায় আসতে দেখে মেহরিমার ভ্রু কুঁচকে যায়। সবচেয়ে বেশি অবাক হয় ইফতিকে দেখে। ছেলেটা দেশে ছিলো না। হুট করে কোত্থেকে আসলো?
মেহরিমা কিছু বলতে নিবে তার আগেই ইফতি বলল,
–” ফোন অফ কেনো তোর? কয়বার কল দিয়েছি?মেসেজ গুলো পড়ে একটুও মায়া হয়নি এই অধমের জন্য? এত কেয়ারলেস কেনো তুই?
ঘটনার আকস্মিকতায় মেহরিমা হকচকিয়ে যায়। প্রিমাও প্রশ্নাত্মক চোখে তাকায়। বাকিরা ভয়ে থিতু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কথাগুলো বলার পর ইফতিও চুপ হয়ে যায়।
প্রিমার সামনে ওভাবে কোয়েশ্চন করা উচিত হয়নি সেটা টের পেতেই মনে মনে কষে দু’টো চড় মারে নিজেকে। সবার অস্বস্তি বুঝতে পেরে প্রিমা তাদের হালকা করতে বলে,
–” রিল্যক্স গাইজ। প্লিজ হ্যাভ আ সিট..
সকলেই বিনাবাক্যে নিরীহ প্রাণীর ন্যায় বসে পড়ে। প্রিমা তাদের সাথে বসতে বসতে বলে,
–” কী খবর তোমাদের? সবকিছু ঠিকঠাক?
সকলেই সমস্বরে সুন্দর মতো জবাব দেয়। তাদের মতিগতি বুঝতে না পেরে প্রিমা পুনরায় বলে,
–” তোমরা আড্ডা দেও তাহলে.. আমি নাস্তার ব্যবস্থা করি।
এবার ইফতি মুখ খুলে। বাঁধা দিয়ে বলে,
–” ন্ না আপু। আমরা কিছু খাবো না। সকালে খেয়ে বেরিয়েছে সবাই। আমরা আসলে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি..
প্রিমা এবার সরু চোখে তাকায় ইফতির দিকে। ভেতরের শার্লক হোমস ভাইবটা লুকিয়ে রেখে বাহিরে ফ্রেন্ডলি ভাব দেখিয়ে বলে,
–” ও আচ্ছা তাই নাকি? বলো কী বলবে..
প্রিমা যে ধুরন্ধর মহিলা সেটা বুঝতে বাকি নেই কারো। এমনকি সাহসী ইফতির নিজেরই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে তার সাথে কথা বলতে গিয়ে।
ছেলেটা কোনোমতে বলল,
–” এক গ্লাস পানি পাওয়া যাবে আপু?
প্রিমা নড়ল না। চোখ দিয়ে ইশারা করলো মেহরিমা কে। সে উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি আনলো। ইফতি এক ঢোকে সাবাড় করল সবটা। এরপর বুকে সাহস জুটিয়ে বলতে শুরু করল,
–” ক’দিন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি জানি ওটা মেহুকে এবং আপনাদের কতটা এফেক্ট করেছে। আমি ওসময় থাকলে হয়তো পরিস্থিতি এতদূর গড়াতে দিতাম না। সে যাকগে যা হয়েছে তা নিয়ে ভেবে বর্তমান নষ্ট করা উচিত নয়।
এতটুকু বলে থামলো ইফতি। প্রিমা গম্ভীর মুখে চেয়ে আছে তার দিকে। ইফতি ঢোক গিলে বলল,
–” মেহু যতোটা প্রাণোচ্ছল ঠিক ততটাই চাপা। কষ্ট গুলো আড়াল রাখতে পছন্দ করে। আমি জানি ও প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে নিজের সাথে। সেই সাথে এটা ও জানি যে, মেহু কখনো কোনোকিছু শেয়ার করবে না আমাদের সাথে।
কথাটুকু বলে আবারও থামলো ইফতি। প্রিমার দৃষ্টি নরম হয়ে এসেছে ততক্ষণে। এই প্রথম ফারজানা এবং তার পর কেউ মেহুকে বুঝলো। ওদিকে মেহু থমথমে মুখে চেয়ে আছে ইফতির দিকে। উপস্থিত সকলের চোখেই অদ্ভুত ভয় মিশ্রিত শাঙ্কা।
ইফতি পুনরায় বলতে শুরু করল,
–” মাত্র পরীক্ষা শেষ হলো আমাদের। সত্যি বলতে সবাই ভীষণ ফ্রাস্ট্রেটেড ফিল করছে। যেহেতু বেশ ক’দিন ছুটি আছে তাই সবকিছু বিবেচনা করে আমরা একটা ট্যুর দেওয়ার প্ল্যান করেছি।
প্রিমা নিশ্চুপ থাকে কতক্ষণ এরপর একবার মেহুর দিকে তাকায়। মেয়েটা ভাবলেশহীন চোখে চেয়ে আছে। যেনো সে জানে প্রিমার উত্তর। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রিমা বলে উঠে,
–” মেহু বড় হয়েছে। নিজের ভালোমন্দ বুঝে। তাই সিধান্তটা মেহুর উপর ছেড়ে দিলাম। সে যদি রাজি হয় তাহলে প্রত্যেকে নিজেদের এনআইডি কার্ড এবং গার্ডিয়েন এর নম্বর সাবমিট করবে আমার কাছে।
সকলে বিস্মিত চোখে তাকায়। প্রিমা এত সহজে রাজি হয়ে যাবে কেউ বুঝেনি। মেহরিমা নিজেও অবাক হয় ভীষণ। ইফতি মিছে হাসির রেখা টেনে বলে,
–” ওরে রাজি করানো কোনো ব্যপার না আপু। আপনি সম্মতি দিয়ে দিয়েছেন ওটাই আসল। এবার তাহলে উঠি আপু? আমি সবার থেকে তথ্য কালেক্ট করে আপনাকে মেইল করে দিব৷
প্রিমা সৌজন্য হাসে। ওরা আরও কিছুক্ষণ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। এত স্মুথলি সবকিছু হয়ে যেতে দেখে খুশিতে লাফিয়ে উঠে তাজরিয়ান।
সবার কথা শেষ হওয়ায় কান থেকে হেডফোন খুলে রেখে দেয়। ওটার প্রয়োজন ফুরিয়েছে এখন। পকেট থেকে ফোন বের করে ইফতিকে কল দিয়ে বলে,
–” গুড লাক.. এভাবে সব মেনে চললেই তোমার পরিবার দেউলিয়া হওয়া থেকে বেঁচে যাবে। তবে যদি কোনোরকম চালাকি..
ইফতি রুদ্ধ কন্ঠে বলে,
–” ক্ কিচ্ছু করব না স্যার। আপনি যেমনটা বলবেন তেমনই করব। প্লিজ আমার বাবার বিজনেসটা..
তাজরিয়ান তাকে আশ্বস্ত করে কল রেখে দেয়। বাঁকা হেসে বলে,
–” ওই লোভনীয় ঠোঁট দুটো সামলে রেখো প্রিয়,
নিজ সম্পত্তি দখল করতে আসছে তোমার হিরো।
শুক্রবারের সকালটা নিজের জন্য বরাদ্দ রাখে শান। অর্ধবেলা পর্যন্ত কোনো কাজে বেরোয় না। বাসায় সময় দেয়। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে আরশিয়ান। তাদের সামনাসামনি সোফায় বসে আছে ইশতিরাজ। গল্প করছে আফিয়া চৌধুরীর সাথে।
সারা সপ্তাহ লাপাত্তা থাকলেও শুক্রবারের দিনটা সে বাসাতেই কাটায়। যথারীতি আজকেও তাই করছে।
রাজ সারা সপ্তাহের রিক্যাপ বলছিল মা’কে।
আফিয়া চৌধুরীও ধৈর্য নিয়ে হাসিমুখে শুনছিলেন ছেলের বর্ণনা। কথার ফাঁকে হুট করে ইশতিরাজ বলে বসে,
–” জানো? এক মস্ত বড় ঝগড়ুটে মহিলার কেইস নিতে হয়েছে আমায়। ভদ্রমহিলা দু চোখে দেখতে পারেন না আমাকে। মাঝেমধ্যে এমন ভাবে অপমান করে বসেন যে আমার সম্মানের পোস্টমর্টেম হয়ে যায় রীতিমতো।
আফিয়া চৌধুরী শব্দ করে হাসেন। ওদিকে শানের ভ্রু কুঁচকে যায় কথা গুলো শুনে। মাথা উঁচিয়ে কৌতূহলী কন্ঠে শুধায়,
–” তুই কী মিস ফারজানার কথা বলছিস?
ইশতিরাজ মৃদু রাগ দেখিয়ে বলে,
–” জ্বি নেতা সাহেব.. যত্রতত্র আমার সম্মান ধরে টানাটানি করা যার নিত্য দিনের কাজ তারই কথা বলতেছি আমি।
[ পেইজের রিচ একেবারে ডাউনে। কাইন্ডলি একটু রেসপন্স কইরেন। ধন্যবাদ ]
আরশিয়ান ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
–” ফেমাস বয় যখন ফুঁস বয়। আহা..কী চমৎকার পরিবর্তন..
ইশতিরাজ এবার সত্যি সত্যি ক্ষেপে যায়। আফিয়া চৌধুরী হেসেই খুন। আরশিয়ান তার ক্ষ্যাপাটে দৃষ্টি দেখে পুনরায় মজার ছলে বলে,
–” ইজ্জতে সিরিয়াস ইনজুরি হয়েছে নাকি ব্রো?
কিছু একটা ভেবে ইশতিরাজ শান্ত হয়। আরশিয়ান কে খোঁচা মেরে বলে,
–” জানো মা.. তোমার কচি খোকা এক বোকা মেয়ে কে পটিয়ে বিয়ে করে ফেলেছে। তাদের এক হালি ছানাপোনা এখন পেন্ডিংয়ে। এই আসলো বলে…
আফিয়া চৌধুরী চোখ বড় বড় করে বললেন,
–” এসব কী শুনছি আশু? বউমা প্রেগন্যান্ট?
আরশিয়ান থতমত খেয়ে যায়। ইশতিরাজ নিজেও বুঝে, একটু ওভার বলে ফেলেছে সে। আফিয়া চৌধুরী তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে পুনরায় বলেন,
–” পাপীর দল। চুপ করে থাকিস না.. সত্যিটা বল। আমার বংশধর আসছে? ”
আরশিয়ান বিড়বিড়িয়ে বলে,
–” বংশ বাড়ানোর কাজে অংশগ্রহণ করার আগেই এত বড় তকমা?
ইশতিরাজ চোরা চোখে চেয়ে বলে,
–” ইয়ে মানে আম্মা ওটা তো তোমার কু পুত্র জানে।
আরশিয়ান খেঁকিয়ে উঠে বলে,
–” তোমার সু পুত্রকে সাবধান হতে বলো মা। আমায় বদনাম করার চেষ্টা করলে ওকে জেলে দিব আমি।
ইশতিরাজ মুভ ভেঙিয়ে বলল,
–” যার নাই মান তার আবার বদনাম। বেশি তেড়ি বেড়ি করলে তোর বউয়ের কাছে প্রমাণ সহ বিচার দিব। এরপর থাকিস অনাহারে..
ইশতিরাজের কথার মানে বুঝে আরশিয়ান এবার বিরক্তিকর চোখে চায়। আফিয়া চৌধুরী ওদের থামিয়ে বলে উঠেন,
— ” অনেক হয়েছে। চুপ কর তোরা। আশু? বউমার ছবি দেখা আমাকে..
মায়ের ধমকে দুজনেই চুপ করে যায়। আরশিয়ান বাধ্য হয়ে প্রিমার একটা কালেক্টেড ছবি আফিয়া চৌধুরীকে দেখায়। তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছবিটা দেখে বলেন,
–” মা শা আল্লাহ আব্বুজান। ভারী মিষ্টি দেখতে আমার বউমা।
আরশিয়ানের ভ্রু কুঁচকে আসে। কথাটা বিশেষ পছন্দ হয় না তার। তাই ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলে,
–” ওটা আমার বউ আম্মু। আমি জানি সে সুন্দরী। ইন ফ্যাক্ট আমার চোখে, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সুন্দরী উনি।
ছেলের জেলাসী দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হোন আফিয়া চৌধুরী। ইশতিরাজ তো নির্লজ্জের মতো হেসে উঠে।আফিয়া চৌধুরী মজার ছলে ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন,
–” আর আমি?
আরশিয়ান অকপটে জবাব দেয়,
–” অন্যের বউকে কমপ্লিমেন্ট দেওয়া পাপ আম্মু। আই কান্ট পাস এনি কমেন্ট অন দ্যাট স্টেটমেন্ট।
আফিয়া চৌধুরী চমকে উঠেন ছেলের কথায়। বউ? হ্যাঁ বউ তো। তিনিও তো কারও বউ.. কিন্তু মানুষটা! না আর কিছু ভাবতে চাইলেন না তিনি। ছেলেদের সামনে মিথ্যে হাসি ফুটিয়ে বললেন,
–” যথা আজ্ঞা আমার বউ পাগলা বাপজান।
আরশিয়ান লক্ষ্য করে মায়ের নিশ্চুপতা। অজান্তেই এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে ভেতর থেকে। জরুরি কল আসায় ইশতিরাজ উঠে যায়। আরশিয়ান চুপ চাপ মায়ের কোলে শুয়ে ভাবনার জগতে ডুবে রয়।
আরশিয়ানের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে হুট করে আফিয়া চৌধুরী প্রশ্ন করেন,
শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ১৬
–” পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর তম সত্য কী জানিস?
উত্তরটা ভেবেই আরশিয়ানের বিমর্ষ চেহারায় এক টুকরো হাসির ঝলক দেখা গেল। সুখী কন্ঠে বলল,
–” জানি তো। সে একান্তই আমার.. এটাই পৃথিবীর শুদ্ধতম সুন্দর সত্য। অন্তত আমি তাই জানি। আর তাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।
