Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৫+৬

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৫+৬

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৫+৬
sanara

সামিরা ওই মেয়েদের কিছু শুনাতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই রিদ্র ক্লাসে প্রবেশ করলো। সামিরা দ্রুত নিজের সিটে গিয়ে বসল। রিদ্র ভ্রু কুঁচকালো, কিছুটা অবাক হয়ে তাকালো সামিরার দিকে।
রিদ্র ক্লাসে ঢুকতেই সব স্টুডেন্টরা একসাথে বলল, —“Welcome Sir!”
রিদ্র গম্ভীর অথচ স্মার্ট ভঙ্গিতে বলল,
— “Hello my students, আমি আপনাদের নতুন ইংলিশ লেকচারার। আমি গতকালই USA থেকে ফিরেছি। আর একটা বিষয়… আমি আপনাদের প্রিন্সিপালের একমাত্র ছেলে। Thank you.”
এরপর সে সবাইকে নিজেদের পরিচয় দিতে বলল। এক এক করে সবাই পরিচয় দিল, তবে রিদ্র খেয়াল করল—সামিরা এখনো চুপ করে আছে।
রিদ্র সরাসরি তাকিয়ে বলল,

— “Stand up. তোমার নাম কী?”
পুরো ক্লাস অবাক হয়ে তাকালো। কারণ, রিদ্র সবার সঙ্গে “আপনি” করে কথা বললেও সামিরাকে “তুমি”করে বলেছে।
সামিরা ভেতরে ভেতরে রাগে বলল, (“ব্যাটা! আমার পরিচয় জানে না? শালা ডং করছে।”)
রিদ্র নিজের ভুল বুঝে নিল। একটু থেমে আবার বলল, — “Sorry, ভুল হয়ে গেছে। আপনার পরিচয়টা দেবেন প্লিজ?”
সামিরা দাঁড়িয়ে গম্ভীরভাবে বলল,

— “জি, আমার নাম সামিরা নিশাত। ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ি, স্যার।” বলেই সে বসে গেল।
রিদ্র ভ্রু কুঁচকে একবার তাকালো, তারপর ক্লাস শুরু করল।
সামিরা খেয়াল করল আজ রিদ্র কালো স্যুট, স্পাইক করা চুল আর হাতে কালো ব্র্যান্ডেড ঘড়ি পরে এসেছে। ভীষণ স্মার্ট লাগছে দেখতে। কিন্তু নিজেকে সামলে নিল— (“আমার কী? হুহ!”)
কিন্তু ও দেখল, ক্লাসের সব মেয়েরা বই না পড়ে হা করে রিদ্রর দিকে তাকিয়ে আছে। সামিরার মাথায় যেন আগুন ধরে গেল। (“কেন রে? তোরা কি কোনোদিন ছেলেকেই দেখিস নাই নাকি?”)
তারপরই আবার নিজেকে থামালো, (“Wait… wait… আমি কেন রাগব? ওনাকে তো আমি জামাই হিসেবে মানি না।”)
তবে হঠাৎই সামনে তাকিয়ে দেখল—রিদ্র সবার আড়ালে ওকে চোখ টিপ দিলো। সামিরার মুখ হঠাৎই লাল হয়ে গেল।
পাশ থেকে সানিয়া খোঁচা দিয়ে বলল, — “কিরে, তোর মুখ এতো লাল হচ্ছে কেন? হুম?”
সামিরা আমতা আমতা করে বলল,

— “না তো… কোথায়?”
সানিয়া দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
— “মাম্মা, প্রেমে পড়ে গেছিস নাকি? কে সেই ছেলে?”
সামিরা তাড়াতাড়ি বই খুলে বলল,
— “আরে কেউ না, তুই পড়।”
অন্যদিকে রিদ্র ক্লাস নিতে নিতে একটানা সামিরার দিকে তাকিয়ে ছিল। তার লজ্জায় লাল হওয়া মুখ যেন ওর ভেতরে অদ্ভুত একটা অনুভূতি জাগাচ্ছিল।
ক্লাস শেষে রিদ্র বের হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ থেমে সামিরার সামনে গিয়ে বলল,
— “অফিস রুমে এসো… মানে আসেন।”
সবাই চোখ বড় বড় করে তাকালো। সামিরা ঠোঁটে কটাক্ষ হেসে বলল,

— “কেন স্যার?”
রিদ্র বুঝতে পারল, সামিরা ইচ্ছে করেই তাকে “স্যার” ডাকছে। সে এবার গম্ভীর হয়ে শুধু বলল,
— “দরকার আছে। দ্রুত আসুন।” বলেই গটগট করে অফিস রুমে চলে গেল।
অফিসে বসে রিদ্র সামিরার জন্য অপেক্ষা করছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ দরজা খুলে এক মেয়ে ভেতরে ঢুকে ওর গলা জড়িয়ে ধরল।
ঠিক সেই মুহূর্তেই দরজার কাছে এসে দাঁড়াল সামিরা। সবকিছু নিজের চোখে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।
রিদ্র কিছু বলার আগেই সামিরা কাঁপা গলায় বলল,
— “Sorry, আমি আপনাদের ডিস্টার্ব করলাম।” বলেই দ্রুত বেরিয়ে গেল।
রিদ্র চমকে উঠল।

— “সামিরা… শোনো! আমার কথাটা তো শোনো।”
রিদ্র আর এক মুহূর্ত দেরি না করে মেয়েটিকে সরাসরি সজোরে একটা চড় মারল।
(মেয়েটির নাম ছিল সিমি।)
সিমি হতভম্ব হয়ে বলল,
— “রিদ্র! তুমি আমাকে থাপ্পড় মারলে?”
রিদ্র চোখ রাঙিয়ে উত্তর দিল,
— “দেখোনি নাকি? চাইলে আবার দেখাতে পারি।”
বলেই সিমিকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে সামিরাকে খুঁজতে বের হলো।
রিদ্র বাহিরে এসে দেখল…

রিদ্র দেখতে পেলো সামিরা কলেজের কদমফুল গাছের নিচে একা বসে আছে। মুখটা গম্ভীর, চোখে অভিমান স্পষ্ট।
রিদ্র চারপাশে একবার তাকিয়ে সামিরার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
সামিরা বুঝতে পারল, কেউ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাতেই দেখল—রিদ্র। সাথে সাথেই সে চোখ ফিরিয়ে নিলো।
রিদ্র বুঝতে পারল, তার স্নিগ্ধপরী রেগে আছে।
তাই রিদ্র বলল,

— “সামিরা, ওই মেয়েটাকে আমি জড়িয়ে ধরি নাই। হঠাৎ করেই এসে জড়িয়ে ধরেছে।”
সামিরা বিরক্ত স্বরে বলল,
— “তো?”
রিদ্র আবার নরম স্বরে বলল, — *“আরে, শোনো তো…”*
সামিরা এবার রেগে উঠে বলল,
— “কি শুনবো?”
রিদ্র চারপাশে তাকিয়ে নিজের কান ধরে সামিরার সামনে বসে পড়ল। বাচ্চাদের মতো ভঙ্গিতে বলল,
— “সরি… আমি সত্যি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখনই সিমি এসে জড়িয়ে ধরল।”
সামিরা চোখ কুঁচকে বলল,
— “সিমি কে?”
রিদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— “আমার কলেজ লাইফের ক্লাসমেট। সে আমাকে তখন থেকেই ভালোবাসে। কিন্তু আমি… আমি তাকে কখনো ভালোবাসিনি। কসম আল্লাহর।”
সামিরা কোনো উত্তর দিল না। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। রিদ্র কিছু বলার আগেই সামিরা ঠাণ্ডা গলায় বলল, — “দেরি হচ্ছে। ফিজিক্স ক্লাস আছে।”
বলেই ক্লাসরুমের দিকে চলে গেল। রিদ্র কানে হাত রেখেই সামিরার চলে যাওয়া পেছন থেকে দেখল।
ক্লাসে ঢুকে সামিরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ঠিক তখন ফিজিক্স স্যার ঢুকে পড়লেন।
কিছুক্ষণ পর সানিয়া সামিরার কানে ফিসফিস করে বলল,
— “কিরে, আজ টাকলা স্যার কতক্ষণ ধরে ক্লাস নিচ্ছে, যাচ্ছেই না। আর এতো রেগে আছেন কেনো উনি?”
সামিরা দুষ্টু হেসে বলল,

— “মনে হয় দাম্পত্য জীবনে ভালো নেই তাই।”
সানিয়া হেসে মাথা নাড়ল, — “ঠিক বলেছিস।”
ঠিক তখনই স্যারের কর্কশ গলা শোনা গেল, — “এই মেয়ে, তোমরা দুজন দাঁড়াও!”
সানিয়া অবাক হয়ে বলল, — “আমরা স্যার?”
— “হ্যাঁ, তোমরাই। দাঁড়াও!”
ভয়ে ভয়ে সামিরা আর সানিয়া দাঁড়িয়ে পড়ল।
স্যার রেগে গিয়ে বললেন, — “এত কথা বল কেন? এতক্ষণ ধরে কি পড়াচ্ছি, বলো তো?”
সানিয়া আমতা আমতা করে উত্তর দিলো, — “যে চ্যাপ্টার আপনি পড়াচ্ছেন।”
স্যার হতবাক হয়ে গেলেন। সামিরা এই দৃশ্য দেখে হেসে ফেলল।
স্যার তাকিয়ে গর্জে উঠলেন, — “তুমি হাসছো কেনো?”
সামিরা গুটিয়ে গিয়ে বলল, — “না মানে… এমনি।”
স্যার আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বেল বাজল। তিনি রেগে তাকিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
সানিয়া আর সামিরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠল।

— “চল, ক্যান্টিনে যাই। খিদে পেয়েছে।”সানিয়া বলল।
সামিরা শুধু বলিল,
— “হুম।”
ঠিক তখনই সামনে থেকে এক ছেলে এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিল।
— “হ্যালো, আমি ইফতি। তুমি?”
সামিরা হাত না মিলিয়েই বলল, — “আমি সামিরা নিশাত।”
ইফতি মুচকি হেসে বলল, — “সুন্দর নাম।”
সামিরা ছোট্ট করে বলল, — “থ্যাঙ্কস।”
ইফতি আবার বলল,
— “আমরা ফ্রেন্ড হতে পারি?”
সানিয়া হেসে উত্তর দিল, — “হ্যা অবশ্যই।”
সামিরা একটু ইতস্তত করে মাথা নেড়ে বলল,
— “হুম।”
ইফতি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৩+৪

— “চলো, আজকে আমি ট্রিট দিচ্ছি।”
সানিয়া খুশি হয়ে বলল, — “ঠিক আছে, চলো।”
সামিরা হালকা বিরক্ত হলেও রাজি হলো, — “চল, খিদে লেগেছে।”
কিন্তু হঠাৎ সামিরার চোখ পড়ল ক্লাসের বাইরে। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে রিদ্র। চোখ লাল, রাগে টগবগ করছে।
এক সেকেন্ড দাঁড়াল না, ঘুরে বাসার পথে চলে গেল।
সামিরা চুপচাপ তাকিয়ে রইল। কিছু বলল না।
রিদ্র বাসায় এসে…

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৭+৮