Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৮
তামান্না ইসলাম শিমলা

নতুন একটি দিনের সূচনা, আকাশটা আজ মেঘলা।তনয়া তাসলিমাকে রান্নার কাজে সাহায্য করছে টুকটাক, তাসলিমা করতে দুতে চায়নি তবে তনয়ার জোরাজুরিতে পেরে উঠেনি।
“হয়েছে আর করতে হবে না, তুই বরং তেহরাবকে ডেকে তুল। এখনো ঘুমোচ্ছে এই ছেলে!”
তনয়া দুদিকে মাথা নাড়ে,
“আচ্ছা!”
পা বাড়ায় নিজের ঘরের দিকে, পেটটা প্রচুর ব্যথা করছে তার। ঘরে গিয়ে দেখল তেহরাব বিছানায় নেয়, ওয়াশরুম থেকে শব্দ আসছে। হয়ত উঠে পরেছে, তনয়া কিছু না ভেবে বিছানা গুছিয়ে বসে পরল। ইশ সহ্য করতে পারছে না সে, পেটের নাড়িভুঁড়ি গুলো যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। ফোনের রিংটোনের শব্দ পেয়ে তনয়া বিছানার পাশে কেবিনেটের দিকে তাকায়, তেহরাবেন ফোন বাজছে। ফোনটা হাতে নিল, নিজের বাবার নাম্বার দেখে মুখে হাসি ফুটল। দ্রুত ফোন রিসিভ করল,

“হ্যালো আব্বু, কেমন আছো?”
ওপাশ থেকে ভেসে আসল শফিকের মন্ত্রমুগ্ধ কন্ঠস্বর,
“এইতো মা ভালো, তুই কেমন আছিস? বাড়ির সবাই কেমন আছে?”
তনয়া মুচকি হাসে,
“সবাই ভালো, আম্মু, তানহা ওরা কেমন আছে?”
“সবাই ভালো, জামাই কোথায়? ওকে একটু দে তো, কথা আছে!”
এমন সময় তেহরাব বের হলো ওয়াশরুম থেকে, তোয়ালেতে হাত মুখ মুছে তনয়ার সামনে এসে দাঁড়াতেই তনয়া ফোনটা তার দিকে এগিয়ে দেয়।
“আব্বু কথা বলবে আপনার সাথে।”

তেহরাব কিছু না বলে ফোনটা হাতে নিয়ে বারান্দায় চলে যায়, তনয়া ভ্রু কুঁচকায়। কি এমন কথা আছে যে ওখানে গিয়ে বলতে হবে? মিনিট পাঁচেক বাদে তেহরাব ঘরে ফিরল, তনয়া তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
“খেয়ে দেয়ে তৈরি হো, তোদের বাড়ি যাব!”
তনয়া চমকায়, সাথে সাথে চেহারায় ফুটে উঠে উজ্জ্বলতা৷ যেন কত বছর পর নিজের বাড়িতে যাচ্ছে! তেহরাবকে কেমন গম্ভীর দেখাচ্ছে, কি হলো লোকটার? তনয়ার সাথে কথা না বলে তেহরাব রুম থেকে বেরিয়ে যায়, তনয়া বুঝতে পারে না এই ছেলের মতিগতি। হঠাৎ হলোটা কি?
কিছু না ভেবে নিজেও পা বাড়াল নিচে, তেহরাব খেতে বসেছে, ইউসুফ ফজরের সময় বের হয়েছিল আর আসে নি।
তনয়া গিয়ে তেহরাবের পেছনে দাঁড়াল, তাসলিমা পানি এনে টেবিলে রেখে নিজেও বসে পরল। তনয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি ভ্রু কুঁচকায়,

“দাঁড়িয়ে আছিস কেন? খেতে বস।”
তনয়া মাথা নেড়ে তেহরাবের পাশেই বসে, তেহরাব এক মনে খাবার খাচ্ছে, ভুলেও এদিক ওদিক তাকাচ্ছে না। আর তনয়া? সেতো একটু একটু করে খাচ্ছে আর আড় চোখে তেহরাবকে পর্যবেক্ষণ করছে, হঠাৎ এমন গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারনটা বুঝতে পারল না তনয়া।
খাওয়া শেষ করে হাত ধুতে ধুতে তেহরাব তাসলিমাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“তনয়ার বাবা কল করেছিল, তনয়াকে নিয়ে ওবাড়ি যাব।”
“এখনই?”
তেহেরাব পা বাড়ায়, যেতে যেতে বলে,
“হ্যাঁ!”

তেহরাব চলে যায়, তনয়ার আর খাওয়া হয় না। কোনো রকম খেয়ে হাত ধুয়ে নিজেও উপরে চলে আসে। রুমে এসে দেখে তেহরাব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের হাতা গোটাচ্ছে, তনয়া তেহরাবের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের হাত কচলাতে কচলাতে বলে,
“কি হয়েছে আপনার?”
তনয়ার কন্ঠ পেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তেহরাব, আয়নাতে তনয়ার মুখের দিকে তাকায়। কিছু মুহূর্তে অতিবাহিত হয়, অতঃপর তেহরাব ঘুরে দাঁড়ায় তনয়ার দিকে। তনয়ার কোমর ধরে নিজের দিকে নিয়ে আসে,আরেকহাতে আঁকড়ে ধরে তনয়ার চুল। তনয়াকে একটু উঁচু করে নাক ডুবায় গলায়, ছোট্ট ছোট্ট চুমু দেয় কয়েকবার, তনয়া হাসফাস করছে। তেহরাব আরো শক্ত করে নিজের দিকে টেনে নেয় তনয়াকে,কামরে ধরে গলার চামরা। তনয়া আর্তনাদ করে উঠে,

“আহহ, কি করছেন, লাগছে তো!”
তেহরাব তনয়ার গলায় নাক ঘষতে ঘষতে বলে,
“আমার কথা মন দিয়ে শোন!”
তনয়া তেহরাবের শার্ট আঁকড়ে ধরল,
“হুম!”
“পরিক্ষার জন্য তোকে তোর বাবা মা থাকতে বলবে ওবাড়ি, কিন্তু তুই না করে দিবি।”
তনয়া কপাল কুঁচকায়,
“কিহ, কেন? না করব কেন? পরিক্ষা তো ওখান থেকেই দেব, তাহলে…
তনয়া আর কিছু বলার আগে তেহরাব সোজা হয়ে দাঁড়ায়, তনয়ার গালে হাত রেখে চোখে চোখ রাখে।
“আমাকে ছাড়া থাকতে পারবি? তুই পারলেও আমি পারব না, আর আমি নিজে থেকে না ও করতে পারব না। তোর আব্বুকে বলেছি তুই যা চাইবি তাই হবে, এখন তুই বল তুই কি চাস?”
তনয়াকে ভাবুক দেখাল, কিছু সময় ভাবল অতঃপর জবাব দিল,

“ না মানে আমার বাড়ি থেকেই পরিক্ষাটা দেই? আপনি বরং আমার বাড়ি এসে থাকবেন মাঝে মাঝে, একটা মাসই তো।”
তেহরাবের হাতের বাঁধন শক্ত হয়, গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“একটা মাস কি কম মনে হয় তোর কাছে? আমি ওভাবে থাকতে পারব না, তুই এখান থেকেই পরিক্ষা দিবি। তাও যদি তুই চাস তুই ওবাড়ি থাকবি তবে তোর ইচ্ছা, তবে শুনে রাখ পরিক্ষা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমার ছায়াটাও দেখতে পারবি না।”
তনয়ার মুখটা চুপসে গেল, লোকটা সত্যি পাগল। এমন করার কোনো মানে আছে?
“তনয়া, তাকা আমার দিকে। দেখ আমি আর একটা মুহুর্ত তোকে ছাড়া থাকতে পারব না, দুদিনেই তোকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তুই কি চাস আমি আবার নির্ঘুম রাত কাঁটাই? কষ্ট পাই?”
“তো আপনার রেগে থাকার কারনটা এটাই?”
তেহরাব হাসে,

“যদি বলি হ্যাঁ তবে কি করবি?”
তনয়া চোখ নামিয়ে নেয, ছেলেটার দৃষ্টিতে এমন কিছুতো আছে যা তাকে পাগল করে তুলে। এই শান্ত দৃষ্টি তাকে অশান্ত বানিয়ে ফেল, তনয়া মাথা নিচু করেই বলে,
“ঠিক আছে আমি এখান থেকেই পরিক্ষা দেব।”
তেহরাব তনয়ার কপালে চুমু খায়, এই নাহলে তার বউ! হঠাৎ তেহরাবের নজরে পরে তনয়ার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন,ভ্রু জোরা কুঁচকে যায় তার।
“এটা কে দিয়েছে?”
তনয়া নিজের গলার দিকে তাকায়, তেহরাবের দিকে তাকিয়ে বলে,

“হলুদের দিন শিহাব ভাই এসেছিল, বলল ফুপি নাকি পাঠিয়ে দিয়েছে।”
তেহরাবের চেহারায় ফুটে উঠল বিরক্তি, চেইনটা নিজ হাতে খুলে তনয়ার হাতে দিল,
“এটা আর পরবি না, সামনের মাসে আমি কিনে দেব সেটা পরে থাকবি। রেখে দে এটা!”
তনয়া হা করে তাকিয়ে রইল তনয়ার দিকে, তা দেখে তেহরাব ধমকালো,
“মগার মতো দাঁড়িয়ে না থেকে জলদি তৈরি হয়েনে!”
তনয়া কিছু না বলে চেইনটা আলমারিতে রেখে দেয়, সেখান থেকে একটা নীল রঙের থ্রিপিস বের করে ওয়াশরুমে চলে যায়। কিছুসময় পরে বেরিয়ে আসে তৈরি হয়ে, চুলটা আঁচড়ে তেহরাবের সামনে এসে দাঁড়ায়।
“চলুন!”
তেহরাব কাউচে বসে ফোন টিপছিল, তনয়ার কথায় তার দিকে তাকায়। সাজগোছ বিহীনও তনয়াকে অপরূপ লাগছে,কিছু একটা ভেবে তেহরাব বিড়বিড়ালো,

“ এই মেয়ে সুস্থ কবে হবে?”
“কি হলো চলুন।”
তেহরাবের ধ্যান ভাঙে, ফোনটা পকেটে ভরে উঠে দাঁড়ায়।
“তোর ফোনটা কোথায়?”
তনয়া এদিক ওদিক তাকাল, দেখল ওয়ার্ড্রোবের উপরে, ফোনটা এনে বলল,
“এইযে!”
তেহরাব দেখল পুরোনো মডেলের একটি স্মার্টফোন, গ্লাসফাটা। তেহরাব ফোনটা নিজের হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখল,

“এটার যা অবস্থা, এক কাজ কর আমার ফোনটা তুই রাখ। আমি আরেকটা কিনে নেব, চিন্তা করিস না এটাও চারপাঁচদিন আগেই কিনেছি। আর যদি চাস তাহলে নতুন ফোনই কিনে দেব!”
তনয়া খপ করে নিজের ফোনটা তেহরাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়,
“নাহ নাহ তার কোনো প্রয়োজন নেই, এটাই চলবে আমার।”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকাল, ফোনটা ছিনিয়ে নিল আবার,
“বাল চলবে, বেশি কথা বলবি না। এটা নে!”
তেহরাব পকেট থেকে নিজের ফোনটা ✆ তনয়ার হাতে ধরিয়ে দিল,

“এখন চল, ফেরার পথে ধামরাই যাব।”
দুজনেই পা বাড়াল, যেতে প্রশ্ন করল,
“ধামরাই কেন?”
তেহরাব জবাব দিল,
“বউ কিনতে!”
তনয়া দাঁড়িয়ে যায়, থতমত খেয়ে গিয়েছে সে,
“কি বললেন?”
তেহরাব খপ করে শ্বাস ছেড়ে তনয়ার হাতে ধরে নিয়ে যেতে যেতে বলে,
“বউয়ের জন্য শপিং করতে যাব, তোর কোনো সমস্যা?”
দুজনেই চলে আসে বাড়ির বাইরে, বাইকটা নিয়ে তনয়ার সামনে আসে।
”উঠ জলদি।”
তনয়া উঠে বসে, হাত রাখে কোমরে। তেহরাব হাসে, মেয়ের দেখি সুবুদ্ধি হয়েছে।

নিজের সামনে হরেকরকম খাবার দেখে এমনিতেই খিদে পালিয়ে গিয়েছে তেহরাবের, এসব সে খাবে কি করে। চেহারা সুরত দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার শশুড় বাড়ির মানুষ আস্ত মরিচের গোডাউন। শফিক আর তেহরাব খেতে বসেছে, তেহরাবের গলা দিয়ে এ খাবার নামছে না। এক লোকমা খেয়েই তার অবস্থা যায় যায়, এদিকে তনয়াও নিজের রুমে বসে আছে।
শাশুড়িকে কি করে বলবে সে এসব খেতে পারছে না, তেহরাবকে খেতে না দেখে শফিক নিজের খাওয়া থামিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“খাচ্ছো না কেন তেহরাব?”
“ ইয়ে মানে আপনার বউ এত মিষ্টি রান্না করেছে যে টকের কারনে খেতে পারছি না।”
তেহরাবের কথা শুনে তানিয়া ও শফিক দুজনেই তব্দা খায়, কি বলল তেহরাব? তানিয়া আর শফিক একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করল, তানিয়া কিছু না বুঝে জিজ্ঞেস করলেন,
“ঠিক বুঝলাম না, রান্না কি মজা হয়নি বাবা? “

“মজা সেই মজা হইছে, এত ঝাল খেলে আমাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না! “
মনে মনে কথাটি বললেও মুখে বলল বিপরীত কথা, মুচকি হেসে বলল,
“আরেহ কি যে বলেন,, রান্না খুব ভালো হয়েছে।”
“তাহলে খাচ্ছ না কেন?”
শফিকের কথায় তেহরাব খাবার মুখে দিয়ে বলে,
“খাচ্ছি তো, এইযে খাচ্ছি।”
উপায় না পেয়ে কোনোরকম খেয়ে হাত ধুয়ে উঠে পরল তেহরাব, চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছে তার। বাপের জন্মে এমন ঝাল সে খায়নি, কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে রীতিমতো!
“কিছুই তো খেলে না, এত কষ্ট করে রান্না করেছি!”
তেহরাব কিছু বলে না, নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। বিয়ের দিনতো এমন ঝাল দেয়নি রান্নায়, আজ কি বুঝে এত ঝাল রেঁধেছে কে জানে। তেহরাবের এ অবস্থা দেখে দূর থেকে হাসছে তানহা, তার তো সেই মজা লাগছে। শালা তাকে পাত্তা দেয়নি, প্রতিশোধ নেবে না? তাই তো তেহরাবের খাবারে এক্সট্রা করে মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে দিয়েছিল, যাক এখন একটু শান্তি লাগছে।
তেহরাবে নাক থেকে পানি পরছে, এই মুহূর্তে মিষ্টি কিছু না পেলে সে মরেই যাবে। তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“মিষ্টি কিছু পাওয়া যাবে?”

তানিয়া দ্রুত ছানার সন্দেশ ও পায়েশ বের করে তেহরাবের সামনে দেয়। দ্রুত খেয়ে নেয় তেহরাব। আরেকটু হলে মরেই যেত, হঠাৎ তেহরাবের নজর পরল দরজার দিকে দাঁড়িয়ে থাকা তানহার দিকে। তেহরাবকে দেখে দ্রুত দৌড় লাগাল সে, তেহরাব খপ করে শ্বাস ছাড়ল। তার আর বুঝতে বাকি নেয় এসবের মানে, তানহায় এসব করেছে। তানহা যে তাকে পছন্দ করে সেটা প্রথম থেকেই বুঝতে পেরেছিল তেহরাব। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করে,
“শালী তুমি কামেও শালী নামেও শালী, বান্দর পুলাপান।”
তেহরাব খাবার টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াল, পা বাড়ায় তনয়ার রুমে। তনয়া বইখাতা গোছাচ্ছে, তেহরাব একটা ভ্যান ঠিক করেছে, বই, গাইড, সাপ্লিমেন্ট সব মিলিয়ে অনেক অনেক বই। এসব হাতে করে নেওয়া সম্ভব নয়, এবাড়ি এসেই তনয়ার মা তনয়াকে রেখে দিতে চেয়েছিল তবে তনয়া সেদিকটা ম্যানেজ করে মানিয়ে নিয়েছে।
মেয়েই যদি থাকতে না চায় তাদের আর কি করার, তাই তারাও আর বাঁধা দেয়নি।
তেহরাব ঘরে এসে দেখে তনয়ার বই বাঁধা শেষ, পাশেই তানহা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আপেল খাচ্ছে। তেহরাব ভেতরে এসে বিছানায় বসল, তানহার দিকে তাকিয়ে বলল,

“তুই তো ভালো খারাপ, শালী কি বানিয়েছি সত্যি সত্যি শালীগিরি শুরু করেছিস?”
তেহরাবের কথায় ভরকে যায় তানহা, তেহরাবে ভাই কি তবে জেনো গিয়েছে? তনয়া ভ্রু কুঁচকে তেহরাবের দিকে তাকায়,
“কি হলো এভাবে কথা বলছেন কেন? তানহা আবার কি করল?”
তেহরাব ঠোঁট নাড়িয়ে বিরক্তিতে কিছু বিড়বিড়ালো, অতঃপর তানহাকে ধমকে উঠল,
“ তোর ব্যবস্থা আমি করছি দাঁড়া, তোকে দপ্তরির সাথে বিয়ে দেব শালী। আমাকে ঝাল খাওয়ানো তাই না? আমার বউয়ের বোন না হলে কানের নিচে মারতাম। কত্ত বড় সাহস!”
তানহা শুঁকনো ঢোঁক গিলে, এভাবে কট খেয়ে গেল?
মাথা চুলকে বোকা বোকা হেসে দৌড় লাগাল ঘর থেকে, তনয়া হতভম্ব। কি হলো এখানে?
“দরজা লাগিয়ে এখানে আস।”
তেহরাবের কথা মতো তনয়া দরজা লাগিয়ে তেহরাবের সামনে আসে, তেহরাব তনয়ার হাত ধরে তাকে আরো কাছে নিয়ে আসে!

“একটা চুমু দে।”
তনয়া চোখ মুখ কুঁচকায়,
“ কি হলো দে।”
তনয়া হাত মোচড়ামুচড়ি করে বলে,
“আরেহ ছাড়ুর কেউ এসে পরবে।”
তেহরাব বিরক্ত হয়, তনয়াকে একটানে বিছানায় ফেলে বলে,
“কোন দিক দিয়ে আসবে? দরজা, জানালা নাকি ঘরের ফুটো দিয়ে?”
তনয়া হ্যাবলাকান্তের ন্যায় তেহরাবের মুখের দিকে তাকায়, তাকায় দরজার দিকে। আসলেই তো, দরজা জানালা তো বন্ধ, আসবে কোথা দিয়ে? তনয়া আমতা আমতা করে বলে,
“ না মানে, এখন ছাড়ুন। খিদে পেয়েছে আমার, খেতে যাব।”
“উহু!”
“উহু মানে?”

তেহরাব তনয়ার অধরজোড়া আঁকড়ে ধরে, তনয়া জমে যায়। এই ছেলেটার চুমু খাওয়ার রোগ আছে নিশ্চয়, বলা নেই কওয়া নেই শুধু চুমু আর চুমু।
কিছু সময় পর অধর ছাড়ল তেহরাব, তনয়ার নাকের ডগায় ঠোঁট ছুঁয়িয়ে বলল,
“জান একটা কথা বলি?”
তেহরাব ঠোঁট কামড়ে কথাটা বলে, তনয়া মাথা নাড়ল যার অর্থ বলুন।
তেহরাব নিজের ঠোঁট কামড়ে তনয়ার কপাল থেকে আঙুল স্লাইড করতে করতে তনয়া বুকের মাঝখানে এসে থামে,
“তোরটা মানে তোর মনটা একটু ছোট্ট তবে সমস্যা নাই আমি মানিয়ে নেব!”
তনয়া ভ্রু কুঁচকাল, তার মন ছোট? কি করেছে সে যে তেহরাব এই কথা বলল?
“ আমার মন ছোট কি করে? আপনি কখনো দেখেছেন আমি কোনো খারাপ কাজ বা ছোটলোকি কাজ করেছি?”
তেহরাবের হাসি পাচ্ছে, নিজের হাসি আটকে তনয়ার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে,
“মন ছোট হতে কাজ ছোট হতে হয় না, দেখলেই বোঝা যায়!”
তনয়া আবারো কপাল কুঁচকাল, রাগ হচ্ছে তার।

“আপনি দেখলেন কি করে আমার মন ছোট? সড়ুন তো!”
তেহরাব নিজের আঙুল গোল গোল ঘোরাতে ঘোরাতে হাস্কি স্বরে বলে,
“ দেখছি তো, এইযে দেখছি, তুই দেখিস নি? তাহলে দেখাই?”
তনয়ার টনক নড়ে, তেহরাবের কথার মানে সে এতসময়ে বুঝতে পারল। শ্বাস আটকে আসছে তার, এই লোকটা তো মারাত্মক নির্লজ্জ।। চোখ বড় বড় করে তেহরাবের দিকে তাকায়, তেহরাবের আঙুলটা শক্ত করে ধরে ফেলে। চিৎকার করে বলে,

“ছিহ আপনি এতটা খারাপ, অসভ্য, নির্লজ্জ, বেহায়া লোক একটা!”
তেহরাব শব্দ করে হেসে উঠে, তনয়ার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলে,
“বউয়ের সামনে নির্লজ্জ না হলে কার সামনে হব? আমি কিন্তু একদম লয়াল পার্সন, বউয়েন মন ব্যতিত কারো মনের দিকে তাকাই না।”
তনয়া তেহরাবের মুখে হাত রাখে, ঠোঁট উল্টে বলে,
“ইশ চুপ করুন!”
তেহরাব নিজের মুখ থেকে তনয়ার হাত সড়িয়ে নিজেও ঠোঁট উল্টায়,
“থাক জান কষ্ট পাস না, মন ছোট হোক বা বড়, তার মালিক তো আমিই। আমি মানিয়ে নেব বললাম তো!”
তনয়া আর নিতর পারল না তেহরাবের লাগামহীন কথা, কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে তার। তেহরাবকে শক্ত হাতে ধাক্কা মেরে সড়িয়ে দিল, বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল । তেহরাব তো হাসতে হাসতে বিছানায় লুটোপুটি খাচ্ছে, কোল বালিশ জড়িয়ে ধরে ঠোঁট উল্টে আফসোসের স্বরে বলে,

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৭

“ বউ তো বুঝল না, তুই-ই আয়, বুকে আয়।”
তেহরাব বালিশটাকে জড়িয়ে ধরল, হুট করে একটা লাথি মেরে বালিশটা বিছানা থেকে ফেলে দিল। উঠে বসল নিজেও, সিরিয়াস ভঙ্গিতে নিচে পরে থাকা বালিশটির দিকে তাকাল,
“তোর সাহস তো কম নয়, একটা বালিশ হয়ে তুই আমার বউয়ের জায়গা নিতে চাইছিস। তেহরাবের বুক শুধু তার তনয়ার, তুই কোন ক্ষেতের মুলা? অসভ্য বালিশ, কোনো মান সম্মান নেই।”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২৯