Home কিশোরী কন্যা কিশোরী কন্যা পর্ব ৫

কিশোরী কন্যা পর্ব ৫

কিশোরী কন্যা পর্ব ৫
হামিদা আক্তার ইভা

তখন রাত ১১টা ছাড়িয়েছে।তাহসিন ওয়াশরুমে বসে বসে বউয়ের কাপড় আর বিছানার চাদর ধুচ্ছে।ঘরের বারান্দায় দুইটা দড়ি আছে,সেখানেই ছড়িয়ে দিবে ভাবলো।সব ধুয়ে পরিষ্কার করে গোসল সেরে বের হলো সে।তারপর বেলকনিতে গিয়ে শাড়ি আর চাদর ছড়িয়ে দিয়ে দরজা আঁটকে ঘরে এলো।দেখল ময়ূরী বিছানার এক কোণায় গুঁটিয়ে শুয়ে আছে।ঘুমিয়ে গেছে বোধহয়।সে ঘরের লাইট বন্ধ করে ডিম লাইট জালিয়ে দিলো।আপছা আলোয় ঘরটা ঘিরে আছে।সে ধীর কদমে এগিয়ে গিয়ে বিছানায় অন্যপাশে শুয়ে পড়ল।চোখ লেগে আসছে এখন।আজ মেয়েটার সাথে এখনো কথা হয়নি।নিশ্চিত রেগে আছে খুব।সে হিমিকে ম্যাসেজ করে জানতে পারল পুতুল খানিক্ষণ আগেই কান্না কাটি করে ঘুমিয়েছে।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে আড়চোখে ময়ূরীর দিকে তাকালো।মেয়েটার ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।রাত পেরিয়ে ভোর হলো।
ফজরের সময় তাহসিনের ঘুম ভাঙল।আযানের শব্দ কানে ভেসে আসছে।সওদাগর বাড়ির পেছনেই মসজিদ।সে ঘুমঘুম চোখে বুকের কাছে তাকাতেই কিছুটা চমকে উঠল।ময়ূরী এলোমেলো হয়ে ঝাঁপটে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমাচ্ছে।
তাহসিন শুকনো ঢোক গিলে ওকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে হাত মুখ ধুয়ে নামাজে বের হলো।দাদাও গেলেন সাথে।মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর বাড়িতে আসতে আসতে বোরহান সওদাগর বললেন,

“আজই চলে যেতে চাচ্ছ?”
তাহসিন মাথা নাড়িয়ে বলল,
“পুতুল কান্না কাটি করছে ভীষণ।যেতেই হবে।”
“আর ময়ূরী?”
তাহসিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“বউ সে আমার।আমি যেখানে যাব সেও তো সেখানেই যাবে।তা ছাড়া পুতুলকে ও এখনো দেখেনি।”
“বেশ,তাহলে আমার আর কোনো আপত্তি নেই।”
তাহসিন বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে গিয়ে দেখল ময়ূরী মন খারাপ করে বসে আছে বিছানায়।তাহসিনকে দেখেই গায়ের কাপড় তাড়াতাড়ি ঠিক করে অন্যদিকে মুখ ঘুরালো।তাহসিন এগিয়ে এসে বলল,
“ফ্রেশ হয়ে নাও।”

কিছুক্ষণ আগে নুপুর এসে তাকে কাপড় দিয়ে গেছে।সেটা নিয়েই সে ওয়াশরুমে ঢুকলো।তাহসিন বিছানা গুছিয়ে পুরো ঘর ঝাঁড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে দম নিল।পরিষ্কার পরিপাটি জিনিস তার বরাবরই পছন্দ।এলোমেলো হয়ে থাকলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসবে।
ময়ূরী বের হলো গোসল সেরে।এখন শরীরটা হালকা লাগছে।তাহসিন সোফায় বসে ফোনে কিছু করছিল।ময়ূরীকে দেখে বলল,
“শরীর কেমন এখন?”
মেয়েটা লজ্জা পেল এই প্রশ্নে।তাহসিন ভ্রু কুঁচকে রেখেছে।ময়ূরী উত্তর দিচ্ছে না বলে ফের শুধোয়,
“খারাপ লাগছে?”

ময়ূরী মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো।ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছে চুল গুলো পিঠে ছড়িয়ে দিয়ে চুপটি করে বিছানায় বসল।এখন বেশ বেলা হয়েছে।দরজার ওপাশ থেকে আফিয়া আর নুপুর ডাকছে তাদের।তাহসিন দরজা খুলে দিতেই আফিয়া মুচকি হেসে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,
“নতুন বউকে বুঝি ছাড়তে ইচ্ছে করে না?ঘরের দরজা কখন লাগিয়েছ, হুম?”
তাহসিন দরজার সাথে হ্যালান দিয়ে আড়চোখে নববধূর লজ্জা রাঙা বদন খানায় চোখ বুলিয়ে শুধোয়,
“পারলে তো কলিজায় ঢুকিয়ে রাখি বড় ভাবি।একটা মাত্র বউ আমার।”
“বাবাহ,আমার তো ভীষণ হিংসা হচ্ছে।বিয়ের ২৪ ঘণ্টাও এখনো হয়নি দেবর জি।এরই মধ্যে বউ আঁচলে তোমায় বেঁধে ফেলেছে?কী জাদু করল তোমায় শুনি?”
তাহসিন ঠোঁট বাঁকিয়ে আলতো হাসলো।আফিয়া ময়ূরীর গায়ে অন্য শাড়ি দেখে বলল,
“এমাহ,আমি না তোমায় নীল শাড়ি দিয়ে গেলাম?এটা এলো কোত্থেকে?”
ময়ূরী বলল,

“কাল রাতে গোসল করে ওটা পড়েছিলাম।সকালে গোসল শেষে এটা পড়েছি।”
আফিয়া অদ্ভুত ভাবে ঠোঁট কামড়ে হেসে তাহসিনের
দিকে তাকাল।তাহসিন খানিক্ষণ পর ভাবির দৃষ্টির মানে বুঝে খুঁকখুঁক করে কেঁশে উঠল।কিছু না করেও চোর হওয়ার যে ব্যাপারটা।
আফিয়া হালকা শব্দ করে হেসে ময়ূরীকে নিয়ে ঘরের বাইরে যেতে যেতে বলল,
“স্বামীকে তো প্রথম দিনেই পাগল বানিয়ে ফেলেছ তুমি।সোনায় বাঁধা কপাল তোমার।”
ওরা ঘর থেকে বেরোলে তাহসিন কপাল চাপড়ে বিড়বিড় করল।মাথা মোটা মেয়ে একটা।সে ফোন নিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে ঘর থেকে বেরোলো।রজনী বেগম পান নিয়ে বসেছেন সকাল সকাল।আফিয়া ময়ূরীকে নিয়ে রান্নাঘরে আসতেই রজনী বেগম নতুন বউকে দেখে হাসলেন।আড়চোখে ভেজা চুল দেখে মুচকি হেসে বললেন,
“জামাই ভালোবাসে নাই ঠিক মতো?”

ময়ূরী মাথা নিচু করে রেখেছে।কাল থেকে এসব কথা শুনতে শুনতে বিরক্ত সে।তবুও যেন কেও পিছু ছাড়ছে না।দাদি শাশুড়ি হিসেবে রজনী বেগম বেশ মজা করেন।হঠাৎ পেছনে তাহসিনকে দেখে অবাক হয়ে বললেন,
“কী ভাই?বউরে ছাড়া কী ভালো লাগে না?”
তাহসিন দুপা এগিয়ে এসে বলল,
“তুমি আমার বউকে লজ্জা দিচ্ছ কেন?”
“ওমাহ,লজ্জা দিমু কেন?আমারে রাইখা নতুন বউ নিয়া কাইল রাইতে আছিলা আমার কী হিংসা হয় না?সক্কাল সক্কাল তোমার বউ গোসল কইরা নতুন রূপ নিয়া হাজির হইছে।আমার তো মেলা জ্বলতাছে ভাই।”
এবার যেন তাহসিনও বেশ লজ্জা পেল।বউকে বাঁচাতে এসে নিজেই ফেঁসে গেছে।সে আমতা আমতা করে বলল,
“যাইহোক,ওকে ঘরে নিয়ে যাচ্ছি আমি।”
তাহসিন ময়ূরীর হাত ধরার আগেই রজনী বেগম সামনে এসে দাঁড়ালেন।তাহসিনকে তীক্ষ্ণ চোখে পর্যবেক্ষণ করে বললেন,

“রাইত তো তোমার কাছেই আছিলো।মন কী ভরে নাই?এহন ওরে ঘরে নিয়া যাওয়া যাইবো না।আজকে ওয় বাড়ির সবার লাইগা রানবো।”
“ও কোনো রান্না করবে না দাদি।বাড়িতে কী মানুষের অভাব পড়েছে?ওর শরীর ভালো না,ওকে ঘরে যেতে দাও।”
আফিয়া বুঝল দাদি এখন লাগাম ছাড়া কথা শুরু করবেন।সে সুযোগ বুঝে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো সবজি আনতে।ময়ূরী এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে।দাদি বললেন,
“আমরাও এই দিন পার কইরা আইছি ভাই।তুমি যাও,কিছু হইবো না।”
ময়ূরী এবার সাহস করে বলল,
“আমি তো রান্না করতে পারি না।”
রজনী বেগম চোখ কপালে উঠিয়ে পিছু ফিরলেন।
“রানতে পারো না?গ্রামের মাইয়া হইয়া কাম শিখো নাই?”
“আম্মা তো আমাকে রান্না করতে দেয়নি কখনো।আমি আমার ছোট ভাইকে রাখতাম আর আম্মা কাজ করতো।”
“এহন এডি কইয়া লাভ নাই বউ।বিয়া হইছে কাম কাইজ শিখো।”
তাহসিন বুঝলো দাদি ছাড়ার পাত্রী নন।সে তার পরনের কালো শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে বলল,
“ঠিক আছে মানলাম তোমার কথা।ও রান্না করবে,এবার তুমি বের হও এখান থেকে।”
“তুমি কি করবা এই জায়গায়?”

তাহসিন ময়ূরীর নিকট এগিয়ে এসে বলল,
“আমি তো আগেই বলেছি দাদি,ওর শরীরটা ভালো না।এখন যেহেতু রান্না করতেই হবে তাহলে আমি হেল্প করছি।”
রজনী বেগম খুশি হলেন দুজনের মোহাব্বত দেখে।তিনি মুচকি হেসে প্রস্থান করতেই তাহসিন ময়ূরীর দিকে তাকাল।মেয়েটার মুখ শুকনো শুকনো।রান্না ঘরে গরুর মাংস আগে থেকেই কেটে রাখা হয়েছে।মসলা যা দরকার সব রেডি করে রাখা।তাহসিন বাইরে গিয়ে ছোট একটা টুল এনে রাখলো পাশে।ময়ূরীকে সেখানে বসিয়ে দক্ষ হাতে রান্নার কাজ চালালো।ময়ূরী ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে সব দেখল।লোকটা যে রান্নাও জানে এটা সে ভাবতেই পারেনি।লোকটা আজ কালো রঙের শার্ট আর কালো ট্রাউজার পড়েছে।শ্যাম বর্ণের হলেও নজর আঁটকে যায়।
তাহসিন কাজে ব্যস্ত।ময়ূরী মাথার ঘোমটা ভালো করে টেনে বলল,

“আপনি রান্না কিভাবে শিখেছেন?”
তাহসিন কাজের ফাঁকেই বলল,
“আমি সব পারি।”
“আমার কাজ আপনি কেন করছেন?”
“কারণ আমার বউ অসুস্থ।”
মেয়েটা লজ্জা পেল একটু।লোকটা সেই তখন থেকে বউ বউ শুরু করেছে।ময়ূরীকে তাহসিন একটা কাজও করতে দিলো না।সে নিজেই রান্না বসিয়ে দিয়ে বড় একটা গোল বাটিতে পানি নিয়ে সেখানে শসা,টমেটো,লেবু আর কাঁচা মরিচ নিয়ে মেঝেতে ময়ূরীর সামনে বসলো।পাশে দুইটা কাঁচের ছোট সাইজের প্লেট রেখে শসা ছিলতে ছিলতে বলল,

“অবাক হচ্ছো আমাকে দেখে?ঢাকায় আদনান,পুতুল আর আমি একাই থাকি।পুতুল আমার হাতের রান্না ছাড়া খেতে পারে না বলে কাজের বুয়া রান্না ছাড়া বাকি কাজ গুলো করে চলে যায়।রান্নাটা বহুবছর আগেই শিখেছিলাম হোস্টেলে থাকতে।আম্মা বলে আমার হাতের রান্না নাকি ভীষণ মজা।শোনো মেয়ে,আজ রান্না করেছি বলে সব সময় রান্না করতে পারব না।আমার অফিস আছে,ব্যস্ত থাকি তাই সংসার তোমাকেই সামলাতে হবে বুঝলে?”
ময়ূরী মন দিয়ে তাহসিনের কথা শুনছিল।কী সুন্দর করে কথা বলে লোকটা।শ্যাম বর্ণের এই পুরুষ সব দিকেই পারফেক্ট মনে হলো তার।সে মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিলে তাহসিন আলতো হাসলো।একটা শসা কেটে ভালো করে ধুয়ে ময়ূরীর হাতে দিয়ে বলল,

“তুমি হয়তো বিয়েটা এখনো মানতে পারছো না তাই তো?তোমাকে কখনোই কোনো কিছু নিয়ে চাপ দিব না আমি,তবে আমার মেয়েকে আগলে রাখতে হবে তোমায়।আর তার জন্যই বিয়েতে রাজী হয়েছিলাম।তোমার কাছে আমার কোনো আবদার কিংবা চাওয়া পাওয়া নেই।তুমি শুধু নিজের পড়াশোনা মন দিয়ে করবে আর পুতুলের দেখাশোনা করবে।পারবে না করতে?”
“আপনি তার জন্য বিয়ে করেছেন?”
“হ্যা!”
কেন যেন মেয়েটার খারাপ লাগলো একটু।তাহসিন সব কাজ শেষ করে লম্বা শ্বাস টানলো।সকালে সবাই খেতে বসেছে একসাথে।রমজান সওদাগর বেশ কিছুক্ষণ ময়ূরীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।তিনি আজ ভোর সকালে বাড়িতে ফিরেছেন।ফোনে জানতে পেরেছিলেন আব্বা তাহসিনকে বিয়ে করিয়ে নিয়ে এসেছেন কালকে।তার দৃষ্টি অদ্ভুত।ময়ূরী সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে।উপস্থিত সবাই থাকলেও সেখানে কনক নেই।সে এখনো দরজা খোলেনি বলে নুপুর গেলো তাকে ডাকতে।বাড়ির মহিলারাও আজ সবার সাথেই খেতে বসেছেন।শান্তা বারবার নাক ফুঁসছে ময়ুরীকে দেখে।
ময়ূরী তাহসিনের প্লেটে মাংস দেয়ার পর রমজান সওদাগরের প্লেটে ভাত তুলে দেয়ার সময় তিনি অগোচরে ময়ূরীর হাত স্পর্শ করলেন।মেয়েটা তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নিতেই তিনি মুচকি হেসে বললেন,

“বউ তো মাশাআল্লাহ আব্বা।তাহসিনের সাথে বেশ মানিয়েছে।যেমন রূপে তেমন গুণেও।”
বোরহান সওদাগর বললেন,
“তাই তো বাড়ির বউ করে নিয়ে এসেছি।”
“বক্করের যে আরও একটা মেয়ে আছে সেটা তো আমি জানতাম না আব্বা।একই গ্রামে থেকেও কখনো দেখিনি।”
বোরহান সওদাগর উত্তর দিলেন না আর।একে একে সবার খাওয়া দাওয়ার পর অরুণিমা বেগম ময়ূরীকে খেতে দিয়ে পাশে বসলেন।নরম গলায় বললেন,
“তখন আমাদের সাথে খেলে না কেন?এত করে সবাই বলল।”
ময়ূরী বলল,
“আমার খেতে ইচ্ছে করছিল না।”
“আচ্ছা!আমি খাইয়ে দিব?”
ময়ূরীর চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।মায়ের কথা ভীষণ মনে পড়ছে।এমন করে তো তার আম্মা বলতো।অরুণিমা বেগম নিঃশব্দে প্লেট নিজের কাছে এগিয়ে এনে হাত ধুয়ে ভাত মাখালেন।ময়ূরীর মতো হলো সে আরেকটা মা পেয়েছে।অরুণিমা বেগম ময়ূরীকে খাইয়ে দিয়ে তাহসিনের ঘরে পাঠালেন।তাহসিন ব্যাগ গোছাচ্ছিল।আজ বিকেলেই তারা রওনা হবে।কিছু জিনিস রেখে গেলো কারণ সপ্তা খানিক পর সে আবার আসবে কাজে।কাজ তো এখনো শুরুই হয়নি।
ময়ূরী গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে বিছানার এক কোনায় বসলো।তার নূপুরের শব্দে তাহদিন ভ্রু কুঁচকে কাজ থামিয়ে ময়ূরীর পায়ের দিকে তাকাল।হঠাৎ এগিয়ে এসে ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে নূপুরে হাত দিতেই ময়ূরী চমকে ওঠে বলল,

“ইশশ,কী করছেন আপনি?পায়ে হাত দিচ্ছেন কেন?”
তাহসিন গম্ভীর হয়ে নূপুর খুলতে খুলতে বলল,
“বিয়ের আগে কী করেছো না করেছো সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই।এসব নূপুর টুপুর এখন থেকে পড়া বন্ধ।শব্দ হয় এমন নুপুর মুসলিম মেয়েদের জন্য হারাম তুমি জানো না?”
“আব্বা দিয়েছিল।”
“যত্ন করে রেখে দাও।তবে কখনো পায়ে জড়াবে না।আর যদি পড়তে ইচ্ছে হয় তাহলে আমার সামনে পড়ে থাকবে।ঘরের বাইরে এসব পড়ে বের হবে না।”
তাহসিন নুপুর জোড়া খুলে নিজের ব্যাগে ভরে রাখল।তাহসিনকে ব্যাগ গোছাতে দেখে ময়ূরী জিজ্ঞেস করল,
“আপনি কোথাও যাচ্ছেন?”
“আমরা যাচ্ছি।তোমার মেয়ের সাথে দেখা করবে না তুমি?”
ময়ূরী ফট করে তাহসিনের দিকে তাকাল।তার মানে তারা আজ ঢাকা যাচ্ছে?

“আপনাকে একটা কথা বলবো?”
“হুম?”
ময়ূরী শুকনো ঢোক গিলে শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“আপনার প্রথম স্ত্রী কোথায়?”
“মারা গেছে।”
তাহসিনের এত সহজ উত্তর শুনে বুকটা আরও তীব্র ভাবে কামড়ে ধরলো।এই বিয়েটা কিছুতেই মানতে ইচ্ছে করছে না।যেখানে তার স্বামী এর আগেও অন্য এক নারীতে মত্ত ছিল সেখানে সে কী করে সহ্য করবে এসব?তাও আবার আগের পক্ষের মেয়েকে নিজের মেয়ের মতন মানুষ করতে হবে।তার বয়সটাই কত?সে এক বাচ্চা হয়ে অন্য এক বাচ্চার দায়ীত্বই বা কী করে নিবে?আব্বাই বা কী করে পারল এক বাচ্চার বাবার সাথে তাকে বিয়ে দিতে?
ময়ূরী কখনোই এত শান্ত স্বভাবের মেয়ে নয়।গত কাল থেকে একদম চুপ হয়ে গেছে।প্রয়োজন ছাড়া একটা কথাও বলছে না।সব বিষের মতো বিষাক্ত লাগছে তার কাছে।

দক্ষিণ পাশের জানালা ভেদ করে বাতাস এসে বারি খাচ্ছে ঘরের পর্দায়।চেয়ারম্যান বাড়ির দুতলার দক্ষিণ পাশের শেষের ঘরে এক অষ্টাদশী বসে আছে দেয়াল ঘেঁষে।চোখ মুখ ফুলে একাকার।ভালোবাসায় এত কষ্ট,আর সহ্য হচ্ছে না।মনে হচ্ছে নিজের রুহুটা নিজের হাতে ছিঁ’ড়ে ফেলতে। “মিসবাহ তাহসিন সওদাগর” শ্যাম বর্ণের এক সাধারণ পুরুষ।ঐ শ্যাম বর্ণের পুরুষটার প্রতি সে ভীষণ দুর্বল।মন প্রাণ উজাড় করে সে ভালোবেসেছে তাকে।কিন্তু…কিন্তু লোকটা যে তার হলো না।যার নামে তিন কবুল পড়ার কথা ছিল তার নামে অন্য এক নারী কবুল পড়েছে।গত কাল রাতে তারই বাড়িতে তাদের বাসর হয়েছে।হয়তো মিলনও হয়েছে।তার সখের পুরুষ অন্য এক নারীতে মত্ত হয়েছে।
কনক হুহু করে কেঁদে উঠল।বুকের ভেতরটা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে।কেন সে তার হলো না?সে বুক চাপড়ে বিড়বিড় করে বলল,

“খোদা,তুমি কোন পাপের শাস্তি দিলা আমারে?এই বুকে ছুরি মারতে তোমার কষ্ট হয় নাই আল্লাহ?তোমার বান্দি এই দুঃখ কেমনে সইবে বলো?যারে মন প্রাণ দিয়ে চাইলাম তারে কেন আমার বানাইলা না?কেন আমার হইলো না সে?এত কষ্ট কেন দিলা মাবুদ?এই কষ্ট কেমন করে সইবো বলো?”
এক তরফা ভালোবাসা গুলো বোধহয় এমনই।তবে কনক তো নিজের ভালোবাসাটুকু প্রকাশ করার সুযোগটুকুও পেল না।নিয়তি এতটাই নিষ্ঠুর?হ্যা,কিছু মানুষের ভাগ্য এমনই হয়।এইযে বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছে,রুহু ছিঁ’ড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে এসব কীসের জন্য?ভালোবাসার জন্য! আজ যদি তাহসিনের প্রতি তার অনুভূতি না থাকতো তাহলে এত কষ্ট হতো না,বুকে ব্যথায় ছটফট করতো না।সে তো চেয়েছিল তার বউ হতে,তার মেয়ের মা হতে কিন্তু কিছুই তো হলো না।রঙিন স্বপ্ন গুলো হঠাৎ করেই অন্ধকারে তলিয়ে গেলো।ভালোবাসাটুকু হৃদ গহীনের এক কোনায় চাপা পড়ে গেলো।এই অনুভূতির কথা আদৌ তাহসিন কখনো জানতে পারবে?কখনো কি জানতে পারবে তার প্রেমে এক অষ্টাদশী পাগল হয়েছিল।ভালোবেসেছিল তাকে।হয়তো কখনোই জানবে না।জানবে না এক অষ্টাদশী আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে চেয়েও পায়নি।
এত দুঃখ খোদা না দিলেও পারতো।বুকে যে বড্ড ব্যথা হয়।ভালোবেসেও না পাওয়ার হাহাকার ভীষণ ভয়ংকর।
কনক পালঙ্কে হ্যালান দিয়ে বসে রইলো।চুপটি করে বসে রইলো।আফিয়া দরজায় শব্দ করতেই সে নিঃশব্দে দরজা খুলে দিয়ে বিছানার এক কোনায় গিয়ে বসলো।আফিয়া খাবার এনেছে তার জন্য।কনকের এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে মেয়েটার খারাপ লাগলো।নিজেই ওয়াশরুম থেকে হাত ধুইয়ে এসে ভাত মাখাতে মাখাতে বলল,

“কষ্ট হচ্ছে কনক?”
কনক চোখে পানি রেখেও মুচকি হেসে মাথা নাড়লো।আফিয়া বলল,
“ভালোবাসা নিয়ে কখনো আফসোস করতে নেই।তোর ভাই যখন আমাকে বিয়ে করলো তখন আমার বয়স সবে ১৬।কিশোরী বয়সের প্রথম পুরুষ ছিলেন তিনি।বিয়ের পর মন প্রাণ দিয়ে স্বামীকেই ভালোবেসেছি।বিনিময়ে কী পেয়েছি বল?আল্লাহ আমায় রূপ দিলো,গুণ দিলো,সব কিছুই দিলো কিন্তু কোল আলো করে একটা সন্তান দিলো না।সন্তান নেই বলে স্বামী আরেকটা বিয়ে করলেন।তার বাসর ঘর সাজিয়েছি নিজ হাতে,প্রত্যেকদিন সকালে তার বউকে ভেজা চুলে দেখেছি।স্বামীকে অন্য এক নারীর সাথে ভাগ করে নিয়েছি।আমার তো সংসার হয়েও হলো না।
এই মেয়ে,তোর তো মিলন হয়নি।আমার তো মিলন হয়েছিল।মধুর মতো একটা সংসার হয়েছিল।দুজন দুজনকে ভালোবেসেছিলাম।আমার বুঝি দুঃখ হয় না?কষ্ট হয় না আমার?আমি তো দেখি না আমার জন্য কারোর পড়ান পোড়ে।কীসের এত দুঃখ তোর?”
কনক ভাবির কথা শুনে কথা বলতেই ভুলে গেলো।এই দুঃখের সান্ত্বনা হয়?কী বলেই বা সান্ত্বনা দিবে সে?আফিয়া শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে কনকের মুখের সামনে খাবার ধরে বলল,
“হা কর।”
কনক বহু কষ্টে ভাত গিলে কাতর কণ্ঠে বলে,
“আমাদের জন্য ভালোবাসা পাপ কেন ভাবি?নাকি আমরা ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যই না।”
আফিয়া কোনো উত্তর দিতে পারল না।কনককে খাইয়ে চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।কনক বসে রইলো একা একান্তে নিজের ঘরে।অভাগী অনেক রকম হয়।আর কিছু অভাগী আফিয়া কিংবা কনক নামকও হয়।

গোধূলি লগ্ন ঘনিয়ে এসেছে।বাস ছাড়বে সন্ধ্যা ৭টায়।তাহসিন বাজারে গিয়েছিল একটা বোরকার দোকানে।ছোট বউটার জন্য একটা বোরকা কিনে নিয়ে এসেছে।আদনান তাহসিনের ব্যাগ আর তার ব্যাগ গাড়িতে উঠিয়েছে।রুহুল তাদের বাস স্ট্যান্ডে ছেড়ে দিয়ে আসবে।তাহসিন ময়ূরীর হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হলো।পিছু পিছু প্রায় বাড়ির সবাই আসছে।ওরা গাড়িতে ওঠার আগে রজনী বেগম ময়ূরীর মাথায় হাত রেখে বললেন,
“আমার পুতুলের মা নাই।ওর বাপ ওরে একা মানুষ করছে।তুমি ওরে একটু দেইখা রাইখো বউ।মাইয়াডা মায়ের ভালোবাসা পায় নাই কোনোদিন,আগলাই রাইখো।”
বোরহান সওদাগর বললেন,
“ছাড়ো তো গিন্নি।ওরা আবার সামনে সপ্তায় চলেই আসবে।”
ওরা গাড়িতে উঠতেই চলতে শুরু করলো চার চাকার গাড়ি।ময়ূরী যাওয়ার আগে তার আব্বা আম্মার সাথে দেখা করলো না।কিংবা করার ইচ্ছে হয়নি।
বাস স্ট্যান্ডে এসে রুহুল ওদের গাড়িতে উঠিয়ে দিলো।ঠিক ৭টায় গাড়ি ছাড়ল ঢাকার উদ্দেশ্যে।ময়ূরী আর তাহসিন পাশাপাশি বসেছে।

ঢাকায় পৌঁছাতে রাত ১টা বেজে গেলো।একটা ১১ তলা ভবনের সামনে এসে দাঁড়াল তারা।এই ভবনের ৯ তলায় তাহসিনের ফ্ল্যাট।১০তলায় হিমির বাবার ফ্ল্যাট,তবে সে একাই থাকে বোন ও ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে।
ওরা ৯তলায় এসে দেখল তাহসিনের ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।তাহসিন পাসওয়ার্ড দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো ওদের সাথে নিয়ে।
ড্রয়িংরুমে সোফায় পুতুল আর হিমি বসে আছে।পুতুল গাল ফুলিয়ে একবার বাবার দিকে তাকিয়ে সামনে টিভির দিকে তাকালো।তাহসিন অবাক হয়ে মেয়ের কাণ্ড দেখলো।এত রাতে এই মেয়ে এখনো টিভি দেখছে?আবার বাবাকে দেখেও মুখ ঘুরিয়ে নিলো।বুঝলো,মেয়ে রাগ করেছে।তাহসিন গুটি গুটি পায়ে মেয়ের সামনে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসলো।পুতুল গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে তাকালো।তাহসিন নিজের দুই কান ধরে বলল,

“এইযে আম্মা কান ধরেছি।”
পুতুল উত্তর দিলো না।তাহসিন মেয়ের পায়ে খোঁচা মারলো।
“ও আম্মা,আপনি কথা বলবেন না?”
পুতুল চুপ করে রইলো।
“মা,কথা বলবেন না বাবার সাথে?ও মা?”
হঠাৎ করেই পুতুল বাবার গলা জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠল।তাহসিন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে গালে চুমু এঁকে আদুরে কণ্ঠে বলল,
“কাঁদছেন কেন আম্মা?বাবা এসে গেছি তো!আর যাব না আপনাকে রেখে।”
পুতুল বাবার গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
“তুমি আমাকে রেখে কোথায় গিয়েছিলে?”
“আপনার জন্য নতুন মা আনতে গিয়েছিলাম।”
পুতুল বাবার গলা ছেড়ে দিয়ে বাবার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো।তাহসিন মেয়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো।ময়ূরী চুপ করে দাঁড়িয়ে বাবা মেয়ের ভালোবাসার মুহূর্ত দেখছিল।হঠাৎ তাহসিন পিছু ঘুরে তাকাতেই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।

“এদিকে এসো।”
ময়ূরী এগিয়ে যেতেই তাহসিন মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“উনি আপনার নতুন মা।সালাম দেন?”
পুতুল ঠোঁট উল্টে বাবার দিকে তাকালো।তাহসিন চোখের ইশারায় আবার সালাম দিতে বললে সে সুন্দর করে সালাম দিলো।ময়ূরীর বুকটা হুহু করছে।বাচ্চাটা পুতুলের মতো সুন্দর।ঠোঁট উল্টে কাতর চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।হঠাৎ সে নাক টেনে বলল,
“তোমার মুখ দেখি?”
ময়ূরী নিকাব উঠিয়ে দিতেই পুতুল তাকালো তার নতুন মায়ের দিকে।পুতুলের চোখ আরও কাতর হলো।বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে ঠোঁট উল্টে লুকিয়ে ফেলল নিজেকে।ময়ূরী বুঝলো না বাচ্চাটা এমন কেন করলো।হিমি বলল,
“এত রাত হলো কেন তোদের?”
বলতে বলতে ময়ূরীর দিকে চোখ গেলো।আশ্চর্য হয়ে কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে তাহসিনের দিকে তাকালো।
“ভুলেও বলিস না তুই এই পিচ্চি মেয়েকে বিয়ে করেছিস?”
আদনান পেছন থেকে বাম হাত ঢুকিয়ে বলল,

“তাতে তোর কী?”
হিমি চোখ রাঙিয়ে তাকালো।দাঁত চিবিয়ে বলল,
“তোকে কিছু বলেছি আমি?হারামি কথা কম বলবি।”
“কথা বলছিস না বলেই বকবক করছি।তুই আমার সাথে আগে কথা না বলে ওকে নিয়ে পড়েছিস কেন?”
“তোর সাথে কী কথা বলব?আজব!”
তাহসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুতুলকে কোলে তুলে নিলো।ময়ূরীকে তার সাথে ঘরে যেতে বলে আদনানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ঝগড়া না করে ফ্রেশ হো খবিশ।”
ওরা ঘরে যেতেই হিমি চোখ ছোট ছোট করে আদনানের দিকে তাকিয়ে রইলো।আদনান দুষ্টু হেসে কাছে এগিয়ে এসে বলল,

“জানু,আমায় মিস করছিলে তুমি?”
হিমি রাগে লম্বা শ্বাস টেনে আদনানের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“তুই আমার ছোট ভাইয়ের মতো।এসব জাউরামি ছেড়ে ভালো হয়ে যা।”
হিমি রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ালে আদনান বলে ওঠে,
“হিমি!”
হিমি দাঁড়ায় তবে পিছু ফিরে তাকায় না।আদনান শুকনো ঢোক গিলে বলে,
“আমি ভালোবাসি তোকে।”
হিমি সামনে পা বাড়াল আবার।রান্না ঘরের সামনে গিয়ে দেয়াল ধরে পিছু ঘুরে আদনানের কমল চোখের দিকে তাকাকিয়ে বলল,
“ভালোবাসা সবার জন্য নয়।”

আদনান মুখ বাঁকিয়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলো।এই একই কথা হিমি হাজারবার বলেছে আদনানকে।কিন্তু আদনান মানতে নারাজ।ভালোবাসি মানে ভালোবাসি,এখানে আবার বয়স আসবে কেন?এটাই হচ্ছে তার কথা।
তাহসিন প্রথমে ময়ূরীকে ফ্রেশ করিয়ে নিজে ফ্রেশ হয়ে এলো ওয়াশরুম থেকে।পুতুল কুটুর কুটুর চোখে নতুন মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।কোমর সমান চুল গুলো বেননী গাঁথা তার।ময়ূরীর মুখ ভার।পুতুল ঠোঁট উল্টে বাবার দিকে তাকালো।তাহসিন ঠোঁট চেপে ময়ূরীর দিকে তাকিয়ে আছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে।সে বুঝতে পারছে ময়ূরীর মন খারাপের কারণ।তাহসিন হালকা গলা পরিষ্কার করে পুতুলকে বলল,
“আম্মা,গিয়ে দেখেন তো আপনার মনি কী করে?”
পুতুল মাথা নাড়িয়ে গুটি গুটি পায়ে প্রস্থান করতেই তাহসিন ময়ূরীর একটু নিকটে এগিয়ে এলো।মেয়েটার চিবুক উঁচিয়ে নিজের মুখোমুখি করে বলল,

“আপনার কী আমাকে পছন্দ হয়নি?মুখটা কালকে থেকে ভার করে রেখেছেন কেন?”
ময়ূরী এবারও চুপ রইলো।তাহসিনের রাগ হচ্ছে এবার।কালকে থেকে মেয়েটা মুখে তালা লাগিয়েছে,খোলার নামই নেই।সে হাত বাড়িয়ে ময়ূরীর কোমর ধরে কাছে টানতেই মেয়েটা চমকে ওঠে বলল,
“ইশশ,কী করছেন?”
তাহসিন ময়ূরীর কানের কাছে একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,

কিশোরী কন্যা পর্ব ৪

“একটা মাত্র বউ আমার।বউকে আদর দিয়ে মন খারাপ ভালো করে দিব।”
তাহসিন মুখ এগিয়ে ময়ূরীর ঘাড়ে রাখতেই দরজার সামনে থেকে আদনান চিৎকার করে বলল,
“নাউযুবিল্লাহ,তওবা তওবা!ইয়া আল্লাহ,কসম ভাই আমি কিছু দেখি নাই।”

কিশোরী কন্যা পর্ব ৬