হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৬
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
পিচঢালা কালো রাস্তার বুকে যানবাহন ছুটে চলছে নিজ গন্তব্যে। সবার আপন তাড়া। কারও পিছু মোড়বার ফুরসত নেই। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে থামলো একটা চকচকে কালো বাইক। বাইক পার্ক করে হন্তদন্ত হয়ে ভার্সিটির ভিতরে ঢুকলো সাইফুল। চোখে মুখে তার বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। একটু পথ যেতেই কাঙ্ক্ষিত মুখগুলো দেখে হাসি ফুটলো মুখে। রবি, কৃশান, অভি সকলের দৃষ্টি তার উপরেই নিবদ্ধ। সবার হাতেই স্থান পেয়েছে একটা করে সিগারেট। সে এগিয়ে আসতেই অভি প্রশ্ন ছুড়লো,
“ কিরে আজকে এতো লেইট কেন? ”
“ আর বলিস না বা*ল, বড়ো ভাইয়া আর ভাবী সারাক্ষন ঝগড়া লেগে থাকে। ঘুমানোর আগে, ঘুম থেকে উঠে সবসময় শুধু এদের ঝগড়াই দেখি। জীবনটাই বেদনা। ”
“ ঝগড়ার কারণ? ”
“ কারণ আর কী! এখনকার মেয়েরা তো জানিসই চাহিদার শেষ নেই। সবকিছু এদের হাতের মুঠোয় এনে দিলেও শান্তি নেই। আবার ভাইয়াকে একটুও মানে না সারাক্ষন মুখে মুখে তর্ক করে।”
“ আঙ্কেল আন্টি কিছু বলে না? ”
“ মানলে তো! ”
“ একটা মেরে সব ঝামেলা খতম করে দিলেই হয়! ”
এতক্ষনে মুখ খুলল কৃশান। বাতাসে ধোঁয়া উড়িয়ে গা ছাড়া ভাব নিয়ে উত্তর করলো। তার কথায় দীর্ঘশ্বাস ফেললো সাইফুল। বলল,
“ দিলেও কাজ হয় না রে মামা, আরও বেশি কপকপ শুরু করে। পরে ভাইয়ার সাথেই উল্টো রাগ দেখায়। ”
“ একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করলেই হতো। ”
কৃশানের সাথে ঘাসের ওপর বসতে বসতে বলল রবি।
“ এখনকার কোন মেয়েটা ভালো? সবগুলোর একই অবস্থা। যেখানে তাকাবি সেখানেই অশান্তি। কৃশানের কথাই ঠিক কখনো বিয়েই করবো না। বিয়ে মানেই প্যারা! ”
কৃশানের কাধে হালকা ধাক্কা মেরে জবাব দিলো সাইফুল। সকলেই তার কথায় সম্মতি প্রদান করল। তবে কৃশানের সেদিকে খেয়াল নেই। তার অক্ষিপটে ভাসছে হুমায়রাকে আঘাত করার সেই ভীবৎস দৃশ্য। কই, এতো কিছুর পরেও তো মুখ ফুটে একটা কথাও বলেনি মেয়েটা। এই অব্দি একদিনও তো ভালো আচরন পায়নি সে। তাহলে কখনো কিছু বলে না কেন? তাহলে কী ওঁ এসব মেয়েদের থেকে ভিন্ন? সে আনমনে সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লো,
“ আর কোনো মেয়ে যদি তার স্বামীর থেকে আঘাত প্রাপ্ত হয়েও কিছু না বলে তাহলে কী সে এখনকার মেয়েদের থেকে ভিন্ন? ”
সকলের প্রশ্নসূচক দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হলো কৃশানের উপর। তার থেকে এমন প্রশ্ন মোটেও আশা করে নি কেউ। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এমন মেয়ে আজকাল আছে নাকি? থাকলে হয়তো চারদিকে এতো বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটতো না। যেখানে সুখের সাগরে ডুবে থেকেও বউ টিকে না সেখান আঘাত পাওয়ার পরেও শান্ত থাকা? এটাও সম্ভব! তাদের মতে তো কখনোই না। সকলে যেন বেশ মজা পেলো কথাটায়। বলল,
“ এমন মেয়ে আবার আছে নাকি এখন! থাকলেও হয়তো হাতে গণা কয়েকটা। তবে আমাদের মতো গাজা খোরের ভাগ্যে কখনো সেই নারী জুটবে না। ”
হাতের সিগারেট টা শেষ করে ছুঁড়ে ফেললো কৃশান। পরপর আড্ডার সমাপ্তি টেনে বলল,
“ ক্লাসে চল। সবগুলো ক্লাসই তো মিস করলাম, শেষটায় হাজিরা দিয়ে আসি। ”
আর কথা বাড়াল না কেউই। হাতে থাকা সিগারেট শেষ করে রওনা হলো ক্লাসের উদ্দেশ্যে। এতক্ষন সাইফুলের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লাস মিস করেছে তারা। অবশ্য প্রায় প্রতিদিনই ক্লাস মিস দেয়। এটা আর নতুন কী!
দুপুর গড়িয়ে বিকেলের আগমন ঘটলো ধরণীতে। মসজিদের মাইকে আযান পড়তেই একসাথে আসরের নামাজ আদায় করে নিত্যদিনের মতোই বাগানের দিকে হাঁটা দিলো হুমায়রা ও ইকরা। তাদের সঙ্গী হিসেবে বিদ্যমান আছে মিঠু। সামনে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে আর পিছনে কথা বলতে বলতে এগোচ্ছে দুই বান্ধবী। হুমায়রার মনটা এখন বেশ ফুরফুরে। তখন কাঁদতে কাঁদতে চোখ লেগে এসেছিলো। শান্তিময় এক দীর্ঘ ঘুম দিয়েছে। সেই ঘুমের সাথেই সকল দুঃখের রেশ কেটে গেছে।
“ দেখ ইকরা ঐ গাছে ফুল ফুটেছে! ”
আঙুল তাক করে ছোটো নয়নতারা গাছটাকে দেখিয়ে বলে উঠলো হুমায়রা। হুমায়রা এখানে আসার পরেই গাছটাকে লাগানো হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে সে পানি দিয়েছে গাছটায়। আগে এই কাজগুলো ইকরা করলেও এখন হুমায়রাই করে। এতে আনন্দ খুঁজে পায় মেয়েটা। আর নিজের যত্ন করা গাছের প্রথম ফুল দেখে খুশির অন্ত নেই। তার খুশি দেখে হাসলো ইকরা। গাছটার নিকট এগিয়ে এসে আলতো হাতে ফুলটা ছুঁয়ে দিলো হুমায়রা।
“ মাশাআল্লাহ, কী স্নিগ্ধ লাগছে ফুলটাকে! ”
কথাটা বলে শেষ করলো কী করলো না এর আগেই টান মেরে ফুলটাকে পেরে নিলো ইকরা। মুহূর্তেই খুশি মুখটা চুপসে গেলো হুমায়রার। বিরস মুখে বলল,
“ কী করলি এটা! ”
মনোযোগ সহকারে মেয়েটার মলিন মুখখানা দেখলো ইকরা। পরপর কিছু না বলেই কানের দিকটায় হুমায়রার হিজাবের ফাঁকে গেঁথে দিলো ফুলটা। বলল,
“ মাশাআল্লাহ এ যেন জীবন্ত নয়নতারা দেখছি আমি! ”
“ এটা কেন করলি তুই? প্রথম ফুল ছিলো এটা। গাছের ফুল গাছেই সুন্দর। ”
“ উহু, গাছের ফুল আমার ভাবীর কানে সুন্দর। আর এমনিতেও রাতের মধ্যে তো এটা ঝরেই যাবে। ”
“ তাও ”
“ বেশি না ভেবে চল ঐদিকে যাই। মিঠু ওখানে চলে গেছে। ”
হুমায়রার হাত ধরে বাড়ির পিছন দিকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো ইকরা। মিঠু সেখানে বসেই ঘাস খাচ্ছে।
আড্ডা থেকে শুরু করে একেবারে খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে আজ বেশ বেলা করেই বাড়ি ফিরল কৃশান। রুমে ঢুকে এক পল খালি রুমটায় চোখ বুলিয়ে হাঁটা দিলো বারান্দার উদ্দেশ্যে। সেখানে এসে মিঠুকে না দেখে ভ্রু বেঁকে গেলো। ভার্সিটিতে যাওয়ার আগে ও ফিরে এসে মিঠুকে কোলে নেওয়া তার নিত্যদিনের স্বভাব। তবে আজকাল যখনি মিঠুকে খুঁজতে যায় তখনি তাকে হুমায়রার কোলে পাওয়া যায়। বেশ বিরক্ত হলো ছেলেটা। মিঠুটাও ঐ মেয়েটার একেবারে সঙ্গী হয়ে বসেছে! বারান্দা ছেড়ে রুমে আসতে নিবে তখনি কানে এলো কারও রিনরিনে হাসির সুর। পা জোড়া আপনা আপনিই থেমে গেলো তার। ললাটে ভাসমান বিরক্তির ভাঁজ শিথিল হলো ওমনিই। হৃদ কোটরে উঁকি দিলো হাসির মালকিনকে দেখার অবাধ্য বাসনা। হাসির শব্দ অনুসরণ করে থাই গ্লাসের কাছটায় গেলো সে। সেখান থেকে বাড়ির পিছনের দিক তাকাতেই চোখের সামনে ধরা দিলো এক মনোরম দৃশ্য। ইকরা মাটিতে পড়ে আছে,তার দিক তাকিয়ে খিলখিল করে হাসছে হুমায়রা।
সূর্যের লাল আলোয় লোহিত প্রকৃতির মাঝে প্রাণখোলা হাসিতে মত্ত এই হুমায়রাকে বড্ডো মায়াবী লাগছে। যেই মায়ায় মুহূর্তের জন্য আটকে রইলো স্বয়ং কৃশান মির্জাও। কী স্নিগ্ধ লাগছে মেয়েটাকে! মেরুন রঙের হিজাবের মধ্যে থাকা গোলগাল মুখ খানার সৌন্দর্য হাসির কারণে আরও বেড়ে গেছে। কানে গুঁজা নয়নতারা যেন সেই অমায়িক সৌন্দর্যের জীবন্ত প্রতীক। মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সেদিকে তাকিয়ে রইলো ছেলেটা। চোখ যেন আজ টেনে হিচরেও সরানো দায় হয়ে উঠেছে। সহসা মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগলো, সকলের ওমন ঘটনার পরেও এতো হাসিখুশি কিভাবে আছে মেয়েটা? বাড়ির কাউকে কিছু বলেও নি- নয়তো সে বাড়িতে পা রাখা মাত্রই টর্নেডো বইতো তার উপর দিয়ে। তাহলে কী এই মেয়েটা আসলেই আলাদা? পরক্ষনেই নিজেকে সুধরে নিলো। ধেৎ, এই মেয়ে যেমনি হোক এতে আমার কী! প্রথম প্রথম এমন ভালো আচরন করছে, পরে আবার একটু সুযোগ দিলেই মাথায় চড়ে বসবে। মাইয়া মানুষের বিশ্বাস নাই। এদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারলেই ভালো। আর দাঁড়ালো না সে। তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো।
হুমায়রাকে এভাবে হাসতে দেখে পড়া থেকে উঠতে ভুলে গেছে ইকরা। সবসময় হুমায়রার মুচকি হাসি দেখেই অভ্যস্ত সে। আজ প্রথম এমন প্রাণখোলা হাসি দেখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল। শুধু সে নয় মিঠুরও একই অবস্থা। তাকে ধরার জন্যে দৌঁড় দিয়েই মূলত হুচট খেয়ে পড়েছে ইকরা। এখন দৌঁড় থামিয়ে একেবারে শান্ত হয়ে হুমায়রার হাসি দেখছে সে। এর মাঝেই হাসি থামিয়ে ইকরার নিকট এগিয়ে এলো হুমায়রা। ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“ কিরে উঠবি না? ”
ইকরার অপেক্ষা না করে নিজেই তাকে টেনে তুললো। ঘাসের উপরে পড়ায় তেমন ময়লা হয়নি জামাকাপড়। তবুও জামা ঝাড়তে ঝাড়তে জিজ্ঞেস করলো,
“ দেখে চলবি না! পড়লি কিভাবে? ”
“ ভাগ্যিস পড়েছিলাম! নয়তো আজকে এতো সুন্দর হাসিটা মিস করে ফেলতাম! ”
“ ধুর, যা তা বকিস তুই! ব্যাথা পেয়েছিস কোথাও। ”
“ না, এবার তোর আদরের মিঠুকে তুই- ই ধর ওঁকে আমি আর কখনোই কোলে নিচ্ছি না। বেয়াদব খরগোশ একটা! একেবারে মাহাজনের মতো। শুধু তোর হাসির জন্য এটাকে আজকে মাফ করে দিলাম। ”
“ আম্মু ৫০০ টাকা দাও। ”
শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে ড্রয়িং রুমে বসে থাকা মায়ের উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়ল কৃশান। চোখ ছোটো ছোটো করে তাকালেন ইয়াসমিন বেগম। কর্কশ কন্ঠে বললেন,
“ কালকেই তো দুই হাজার টাকা নিলি। আজকে আবার কিসের টাকা! ”
“ ঐটা শেষ হয়ে গেছে। ”
“ তো? শেষ কী আমি করেছি! ”
“ তোমার ছেলে শেষ করা আর তুমি শেষ করা একই কথা। এখন কথা না বাড়িয়ে টাকা দাও তো! ”
ভেজা চুলগুলো হাত দিয়ে ঝাড়তে ঝাড়তে বিরক্তি নিয়ে বলল কৃশান। ছেলের কথায় ইয়াসমিন বেগম কিছু বলতে নিবেন। এর আগেই শুনা গেলো জলিল মির্জার গম্ভীর স্বর,
“ কোনো টাকা নেই। আর কতো বাপের টাকায় ফুর্তি করবে তুমি? বিয়ে হয়েছে তোমার। এখন থেকে নিজের সংসারের ভার নিজে নিতে শিখো। আমরা কোনো টাকা দিচ্ছি না তোমায়। ”
বিয়ের কথাটা শুনতেই মেজাজ গরম হলো কৃশানের। রাগ সংবরণ করতে হাত দিয়ে ঘাড় ডললো। স্বামীর কথায় সায় জানিয়ে ইয়াসমিন বেগমও বললেন,
“ হ্যাঁ, সেটাই তো। এখন থেকে তোমার বউয়ের খরচ তোমাকেই দেখতে হবে। ”
“ বিয়ে, বউ, সংসার! এই শব্দগুলো আরেকবার আমার সামনে বলবে তো ভালো হবে না বলে দিলাম। আমি কী ইচ্ছে করে বিয়ে করেছি নাকি ঐ মেয়েকে! তোমরা বিয়ে করিয়ে এনেছো তোমরাই দেখভাল করবে। আমাকে এসবে জড়াবে না বলে দিলাম। ”
চেঁচিয়ে উঠল কৃশান। রাগে কপালের রগ ফুলে উঠেছে ছেলেটার। তার হুংকারে যেন কেঁপে উঠেছে ঘরের সবগুলোর আসবাবপত্রও। পরপরই আবারও ভেসে আসলো জলিল মির্জার চড়া কণ্ঠ,
“ আচ্ছা তাহলে তোমার দেখভালও আমরা করবো না। আজ থেকে তুমি নিজের টাকায় চলবে। ”
কথাটা কর্নপাত হতেই সামনে থাকা কেদারায় সজোরে লাথি বসালো কৃশান। বলল,
“ ঐ মেয়ের জন্য একটা যদি আমার লাইফে ঝামেলা হয় তাহলে ওঁকে একেবারে মেরে ফেলবো আমি। খুন করবো একদম। ”
বাক্য সম্পূর্ণ হতে না হতেই একটা শক্ত হাতের চড় পড়লো তার গালে। ইয়াসমিন বেগম চেয়েও স্বামীকে থামাতে পারলেন না। রাগে শরীর কাঁপছে জলিল মির্জার। তিনি বিদেশে থাকায় ছেলের এমন আচরন কখনো চোখে পড়েনি।শুধু একটু আধটু শুনেছেন স্ত্রীর থেকে। আজকে নিজ চোখে এমন বিগাড়ানো আচরন দেখে নিজেকে সামলাতে পারলেন না তিনি। ছোটোবেলা থেকে কখনো ফুলের টোকাও না দেওয়া ছেলের গায়ে হাত তুলে বসলেন। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন,
“ তোমার সাহস কী করে হয় আমার সামনে এমন আচরন করার!
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৫
পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে কৃশান। মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না তার। অতিরিক্ত রাগে লাল বর্ণ ধারণ চেহারা। এখন সে এখানে থাকা মানেই রিস্ক। তাই নাজমিন বেগম স্বামীকে ইশারা করে বললেন কৃশানের বাবাকে সামলাতে। নিজে গিয়ে কৃশানের হাতে হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। টাকাটা ছুঁড়ে ফেলে ধুপধাপ পায়ে স্থান ত্যাগ করলো কৃশান। দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এতক্ষন পুরো ঘটনা দেখেছে হুমায়রা ও ইকরা। কৃশানকে আসতে দেখেই সরে দাঁড়ালো দুই বান্ধবী। যাওযার সময় মানুষটার রক্ত চক্ষু এক পলের জন্য নিক্ষিপ্ত হলো হুমায়রার পানে। সেই চাহনি দিয়েই যেন ভস্ম করে দিবে মেয়েটাকে।
