Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৬

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৬

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৬
সুহাসিনী

সময় বিকাল সাড়ে তিন এর ঘরে।
রাহি দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়েছিলো। প্রেম যে সেই সকালে বের হয়েছে এখনও কোনো খবর নেই । রাহির কাছে একটা ফোনও নেই যে কল করবে।তার শ্বশুরও বাসায় নেই।থাকলে নাহ্ হয় একটু আড্ডা দেওয়া যেতো। উনার সাথে রাহির খুব ভালোই জমে।উনাকে রাহি বিয়ের অনেক আগে থেকেই চিনে। উনার মাধ্যমেই প্রেমকে চেনা তার।
তার শাশুড়ি তো তার সাথে ভালো করে কথায় বলে না। তার এখন খুব বোরিং লাগছে।কি করবে কি করবে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ শাড়ি পড়ার কথা মাথায় আসলো। যেই ভাবা সেই কাজ।রাহি বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটা শাড়ি বের করে সুন্দর করে পড়ে নিলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে সুন্দর করে সেজে নিলো।
সাজ কমপ্লিট এখন কি করবে?একটা ফোনও নেই যে ফটো তুলবে।তাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে নতুন বউ এর মতো লজ্জা পাওয়ার ভান করে একটা গানের লাইন গাইলো,

একটুসখানি দেখো,
একখান কথা রাখো..
ভালোবাইসা একবার তুমি
বউ কইয়া ডাকো,
বউ কইয়া ডাকো…
রাহির গানের গলা অতোটাও খারাপ নাহ্। নিজে গান গেয়ে আবার নিজেই লজ্জা পেয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। তখনই পেছন থেকে একটা পুরুষালি খালি গলার গান ভেসে এলো,
ও বউ…..
কেনো আমার কাছে আসো না…??
ও বউ…
তুমি আমায় কি ভালোবাসো না..??
ও বউ….

রাহি তৎক্ষণাৎ মুখ থেকে হাত সরিয়ে আয়নায় দেখলো তার এমপি সাহেব কেমন যেনো ঘোর লাগা দৃষ্টিতে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
এবার রাহি সত্যি সত্যিই খুব লজ্জা পেলো। প্রেম এগিয়ে এসে পেছন থেকে রাহিকে নিজের সাথে জরিয়ে ধরলো। নেশালো কন্ঠে বললো,
প্রেম:”এখনও বড় হচ্ছো না কেনো বউ?আমি যে আর নিজেকে সামলাতে পারছি না।বার বার আমাকে মারতে কেনো শাড়ি পড়ো বউ?”
রাহি:”আমার খুব একা একা লাগছিল তাই শাড়ি পড়েছি এমপি সাহেব।আপনার যদি আমার শাড়ি পড়া ভালো না লাগে তাহলে আর পড়বো না।”
প্রেম:”হ্যাঁ আমরা ভালো লাগে না।নিজেকে সামলাতে পারি না। যেদিন বড় হবে ওইদিন শাড়ি পড়বে তার আগে না। মনে থাকবে?”

রাহি উপর নিচ মাথা নাড়ালো। মানে তার মনে থাকবে।
প্রেম:”গুড গার্ল।একটা আবদার করলে রাখবি বউ?”
রাহি:”কি আবদার এমপি সাহেব?আপনার আবদার যদি আমার মরণও হয় তাহলে তাই মঞ্জুর।”
প্রেম:”উহু,তোর ভালোবাসা চাই আমি।একটা চুমু খেতে দিবি প্লীজ?”
রাহি ছিটকে দূরে সরে গেলো।দু হাতে নিজের ঠোঁট চেপে ধরে দু পাশে মাথা নাড়তে লাগলো অনবরত।তার মানে সে দিবে না।

প্রেম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো।যেই মেয়ে ভালোবাসা নিয়ে এতো গভীর কথা বলতে পারে সেই মেয়ে চুমুর কথা শুনে এভাবে শিং মাছের মতো লাফাচ্ছে কেনো।
প্রেম:”কি হয়েছে বউ।আমার রোমান্টিক মোডের বারোটা বাজাতে এতো পছন্দ করিস কেনো তুই?”
রাহি:”দিবো না আপনাকে চুমু খেতে।আপনি বড়দের মতো চুমু খান।সকালের চুমুর ব্যথা এখনও আমার আছে।আমি আমার সুন্দর ঠোঁট কে কলাগাছ হতে দিতে পারি না এমপি সাহেব।”
প্রেম ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়লো।এই মেয়ে তাকে বুঝবে না এটা সে এক দিনেই বুঝে গেছে ।প্রেম শান্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”এবার আর ওইরকম চুমু দিবো না প্রমিস।আসো কাছে আসো বউ।”
তাদের কথার মধ্যে বা হাত ঢুকাতে পেছন থেকে শান্ত বেসুরো গলায় গেয়ে উঠলো,

কাছে আসো না
আরও কাছে আসো না
ইসস কথা বলো না
কোন কথা বলো না
অভদ্র….

বেচারা আর গাইতে পারলো না। প্রেম ওর দিকে এতক্ষণে তেড়ে এসেছে। শান্ত দৌড় দিতে নিলো কিন্তু তার আগেই প্রেমের হাতে ধরা পড়ে গেলো।প্রেম কটমটিয়ে বললো,
প্রেম:”শালা,তোর কি আর কোনো কাজ নেই? আমার পেছনেই কেনো তোর এতো লাগতে হবে? শান্তিতে বউ এর সাথে একটু কথাও বলতে দিবি না?”
শান্ত:”প্রথমত দেখ ভাই আমি তোর ভবিষ্যৎ বোন জামাই। দ্বিতীয়ত তোর পাছা এতও সুন্দর না যে আমি তো পেছনে লাগতে যাবো । আর তৃতীয়ত তোর বোন আমাকে খবর দিয়ে আনিয়েছে।সে নাকি দেশে আসছে।”
নাহ্ এই ছেলে ভালো হবে না। প্রেম কিছু বলতে নিবে তার আগেই রাহি বললো,
রাহি:”সত্যি আয়শা আপু আসতেছে?কিন্তু বাবা তো বললো কাল আসবে।”
প্রেম:”তুমি আমার বোন কেউ চিনো?”

রাহি:”হ্যাঁ,আমি তো অনেক আগে থেকেই আয়শা আপু কে চিনি।অনেকবার দেখাও হয়েছে।”
শান্ত:”ইশ সবাইকে চিনো তাহলে তোমার এই হতভাগা জামাইটাকে আগে কেনো দেখা দাওনি বোন?”
রাহি:”বাবা বলেছেন উনি খুব রাগী,তাই উনার সাথে দেখা করার চিন্তাও যেনো না করি।”
প্রেম কিছু বলল না। শান্তকে চলে যেতে বলে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা দিলো। শান্ত চলে যেতে নিয়ে আবার থেমে গেলো। রাহিকে উদ্দেশ্য করে বললো,
শান্ত:”যাই বলো রাহি ,তোমাকে কিন্তু শাড়িতে হ্যাব্বি লাগে।”
ঠাস…

শান্তর নাক থেকে রক্ত পড়ছে।রাহি হতবাক।প্রেম শান্তর নাক বরাবর ঘুষি বসিয়েছে।তারপর শান্তর মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিয়েছে।শান্ত শুধু বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।
এখন তার নিজেকে লিয়ন মনে হচ্ছে।কাল লিয়নের সাথে যা ঘটেছিল আজকে সেটার শিকার সে নিজে।তার হাত পা ছড়িয়ে কাদতে ইচ্ছে করলো।কিন্তু এটা করা যাবে না। কারণ তারও তো একটা সম্মান আছে।সে এই বাড়ির ভবিষ্যৎ জামাই।সব চিন্তা করেই নাকের রক্তটা মুছে খুশি মনে নিচে চলে গেলো।
প্রেমের এই সামান্য প্রহার তার কাছে কিছুই না।কত মার খেয়েছে সে প্রেমের হাতে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫

প্রেম এক টানে রাহির শাড়ি খুলে ফেললো।রাহি লজ্জায় ভয়ে হাত দ্বারা নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলো। প্রেম রাহির গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”আর কোনোদিন যদি তোকে শাড়ি পড়তে দেখি তাহলে ওইদিনই হবে তোর শেষ দিন। কথাটা মাথায় রাখিস।”
বলেই রাহিকে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে প্রেম ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। রাহি শুধু নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।তার সাথে কি হলো কিছুই বুঝতে পারল না।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৭