দাহশয্যা পর্ব ৭৯ (২)
Raiha Zubair Ripti
ইয়াসিন দিনাজপুর থেকে বাতাসি কে ঢাকা নিয়ে আসার নাম করে বের হলেও ইয়াসিন বাতাসি কে নিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম । বাতাসি বুঝলো না তাকে কেনো বাড়িতে নিয়ে আসা হলো? যে বাড়িতে কখনো তাকে আপন করে নেওয়ার ইতিহাস নেই!আসার সময় তো ইয়াসমিন বেগম পইপই করে বলে দিয়েছে সে যদি বাতাসি কে ডিভোর্স দেয় তাহলে ইয়াসমিন বেগম জীবনে ইয়াসিন কে আর ছেলে বলে স্বীকার করবে না। ইয়াসিন ভীষণ আশ্চর্যান্বিত হয়েছিল মায়ের এহেন কথা শুনে। ইয়াসিনের দিকটা কেনো কেউ বুঝছে না? এই মেয়েকে নিয়ে সে লোক সমাজে চলবে কি করে? লোকে বলবে না তার বউ কালো? তখন ইয়াসিনের খারাপ লাগবে না? বাতাসি কে তো সে ভালোবেসে বিয়ে করে নি যে অপমান সহ্য করতে তার জন্য। তার সব ভাই ব্রাদারের বউ গুলো যথেষ্ট রূপবতী। আর তার বউ এমন যার কোনো রূপ নেই। গায়ের রং কালো, একগুচ্ছ ক্ষতবিক্ষত আত্মসম্মান,আর চিরদিনের অপছন্দের বোঝা। সবারই নিজের জীবন সঙ্গী চয়েস করার অধিকার আছে। তাহলে ইয়াসিন কেনো পারবে না? ইয়াসিনের বেলায় কেন এত বৈষম্য? যারা বলছে মেনে নিতে তাদের বউ দেখতে এমন হলে তারা মেনে নিত? না নিত না। ইয়াসিন কে তারা মানিয়ে নিতে বলছে। বিকজ অফ বিয়েটা হয়ে গেছে সেজন্য! ডিভোর্স দিলে তো ইয়াসিন মুক্ত বাতাসিও মুক্ত। তাহলে কেনো ডিভোর্সের কথা উঠলে সবাই মানিয়ে নিতে বলে? কেনো মানে না এই তিক্ত সত্য টা?
বাতাসি হুট করে ইয়াসিন কে চট্রগ্রাম আনতে দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“ এইখানে নিয়ে আসলেন ক্যান? ”
ইয়াসিন বলল-
“ অনেক দিন হলো নিজের বাড়িতে আসো না। সেজন্য বেড়াতে নিয়ে আসলাম। কয়েকদিন থাকো এখানে। আমি পরে এসে নিয়ে যাব। ”
ইয়াসিন বাতাসির মায়ের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে সেদিনই চলে গেল ঢাকা। যাওয়ার আগে বাতাসি জিজ্ঞেস করেছিল-
“ আপনি সত্যি আসবেন তো আমারে নিতে? ”
ইয়াসিন পিছু ফিরলো। তবে উত্তর দিলো না। শুধু বলল-
“ বাসায় যাও,সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আর আসতে হবে না। ”
বাতাসি ঠাই দাঁড়িয়ে তার যাওয়া দেখলো। ইয়াসিন আর পিছু ফিরলো না। সেই যে চলে গেল এক সপ্তাহে আর কোনো যোগাযোগ তাদের হলো না। কোনো ফোন আসলো না। বাতাসির মা বাতাসি কে ঠিকমতো খেতে দেয় না।
সারাদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে এক বেলা কি দু’বেলার খাবারের প্লেটে থাকে পচা, বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত খাবার। যেটা কুকুরকে দিলে ফিরেও তাকায় না।
এরচেয়ে ইয়াসিন তার মায়ের কাছে রাখতো বাতাসি কে। কাজের লোক হিসেবেই না হয় রাখতো। এতো বিরক্তের কারন,এত বোঝা কেনো তুই বাতাসি সকলের কাছে? সবাই তোকে দূরছাই দূরছাই করে,আর তুই বাড়ির সেই পোষা কুকুরের মতো তাদের সাথেই ঘেঁষিস। ঘেঁষবিই না বা কেনো বল তো? পোষা কুকুর যেমন সামান্য খাবার আর নিরাপত্তার আশায় একটা বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকে,মালিক গালি দিলে চুপ করে শোনে,
লাথি দিলেও ফিরে আসে,তেমনই বাতাসি তুইও একটু খাবার আর আশ্রয়ের জন্য সেই পোষা কুকুরের মতোই থাকিস তাদের দোরগোড়ায়।
তোকে এই পৃথিবী এত তাড়াতাড়ি মৃত্যুর স্বাদ পেতে দিবে নারে বাতাসি। মৃত্যুর আশা তুই করিস না। তোকে এই পৃথিবীতেই থাকতে হবে। আর পৃথিবীতে থাকতে হলে বেঁচে থাকাটা আবশ্যক। তোকে এই মানুষগুলোর লাঞ্ছনা, তিরস্কার, অপমান সহ্য করেই বাঁচতে হবে। কারন তোর কেউ নেই। কেউ নেই তোর। তুই ঐ পোষা কুকুর দের মতো একা। একদম একা।
মেহরিন আজ কলেজে পা রাখতেই অদ্ভুত এক দৃশ্যের সম্মুখীন হলো। সোলেমান তাকে কলেজের সামনে নামিয়ে দিয়ে কাজে চলে গেছে। আজ ঊর্মি আসবে না। গতরাতে নাকি হঠাৎ ব্লিডিং হচ্ছিলো, ইব্রাহিম ভোরের আলো ফুটতেই হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এসব ভাবতে ভাবতেই মেহরিন ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছিলো। তার হাঁটায় একরকম অন্যমনস্কতার ছাপ।
করিডরে পা রাখতেই তার দৃষ্টি থমকে গেলো। দু’জন ছাত্র-ছাত্রী দেয়ালের ধারে দাঁড়িয়ে। মেয়েটির হাতে ছোট্ট একটি লাইটার। মেয়েটা সেটি জ্বালিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির মুখের সিগারেটে ধরিয়ে দিলো। ছেলে টা সিগারেটে একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে দিলো।
মেহরিনের কপালে ভাঁজ পড়ে গেলো। স্থির দাঁড়িয়ে রইলো কিছুক্ষণ। বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অস্বস্তি জমে উঠলো। ঢাকা শহরের স্কুল কলেজ গুলোর স্টুডেন্টরা এমন উশৃংখল কেনো? টিচার রা তাদের শক্ত হাতে শাসন করে না কেনো? মেহরিন তপ্ত শ্বাস ফেলে ক্লাসে চলে গেলো।
প্রথম ক্লাসে জানতে পারলো কলেজে নাকি নিউ টিচার জয়েন করেছে। খুব শীগ্রই সেই টিচার ক্লাস নিবে সামাদ চৌধুরী স্যারের বদলে। তিনি সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট দের আর ক্লাস নিবে না। এই সেই সামাদ চৌধুরী যিনি বায়োলজির টিচার। যার সাথে সামির ছেলেটা অসভ্যতামি করেছিল। আগামীকাল থেকে কলেজে বার্ষিক খেলাধুলা শুরু হবে যা টানা এক সপ্তাহ থাকবে। সেই সাথে প্রথম ইয়ারের স্টুডেন্ট দের নবীন বরণ অনুষ্ঠান ও হবে। অনেক বিশিষ্ট নামি-দামি মানুষ আসবে অতিথি হিসেবে। কলেজের প্রতিটি স্টুডেন্টের থাকাটা বাধ্যতামূলক।
মেহরিনের এসবে তেমন ইন্টারেস্ট নেই। যেহেতু বাধ্যতামূলক থাকা সেহেতু মেহরিন থাকবে। বাকি ক্লাস গুলো শেষ করে মেহরিন বেরিয়ে আসলো।
করিডর দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ দুজন ছেলে এসে দাঁড়ায় তার সামনে। মেহরিন আর মাথা উঁচু করে, না তাকিয়ে সাইড কেটে চলে যেতে নিলে শুনতে পেলো পেছন থেকে একজন ছেলে বলছে-
“ নাম মেহরিন তাবাসসুম। বাড়ি নওগাঁ। অলংকারপুর গ্রামে ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ২য় হয়েছো। অ্যাম আই রাইট? ”
মেহরিন পেছনে ফিরলো। ছেলেটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। মেহরিন শক্ত করে কাঁধের ব্যাগ টা চেপে ধরলো। ছেলেটা সেইসময় পেছন ফিরলো। মেহরিন মুখের দিকে তাকাতেই চিনে ফেললো। এটা তো সেই অভদ্র ছেলে। ক্লাসে টিচারের সাথে অভদ্রতামি করেছিল। মেহরিন উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরলে সামির প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে মেহরিনের সাথে পা চালিয়ে বলল-
“ এই মেহরিন তাবাসসুম শোনো। দাঁড়াও বলছি। শোনো বোরকাওয়ালি শোনো। ”
মেহরিন দাঁড়ালো না। হাঁটতেই থাকলো। সামির এবার মেহরিন কে থামানোর জন্য মেহরিনের নিকাবের পেছনটা টেনে ধরলো। মেহরিন নিকাবে টানা পেতেই হাঁটা থামিয়ে দিলো। ঘুরে দেখলো তার নিকাব টেনে ধরেছে এই ছেলেটা। রাগে তার শরীর রীতিমত কাঁপতে লাগলো। কতবড় সাহস তার নিকাব ধরেছে। মেহরিন ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো সামিরের দিকে। চোখ তার অসম্ভব রাগে লাল হয়ে গেছে।
সামির বাঁকা হাসলো সেই চোখ দেখে। ব্যাস মেহরিনের রাগের মাত্রা সেই হাসি দেখে আরো তীব্র হলো। নিজেকে যথেষ্ট শান্ত রেখে ঠান্ডা গলায় বলল-
“ এটা কোন ধরনের অভদ্রতা? আমার নিকাব ধরেছেন কেনো? ছাড়ুন। ”
“ কথা আছে আমার তোমার সাথে। ”
“ আমি আপনাকে চিনি না। আমরা পূর্বপরিচিত ও না। আপনার সাথে আমার কোনো কথা থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে না। ভালো ভাবে বলছি নিকাব টা ছাড়ুন। ”
সামির ছাড়ছে না দেখে মেহরিন ঝাড়া দিয়ে নিকাব ছাড়িয়ে নিলো।
“ আছে আছে ইম্পরট্যান্ট কথা আছে। আর চেনাচিনি হয়ে যাবে চিল। এখন শোনো। ”
“ কি কথা বলতে চান বলুন। আমি শুনছি। ”
“ না এখানে বলা যাবে না। কথাটা সিক্রেট। গোপনে বলতে হবে। ছাঁদে চলো। ”
“ ছাঁদে যাব মানে? ছাঁদে কেন যাব আমি? পথ ছাড়ুন। আমাকে যেতে দিন। ”
“ আমার কথা শেষ হবে তারপর যাবে । নিকাব সরাও মুখ থেকে। ”
মেহরিনের কপালে দু ভাজ পড়লো এ কথা শুনে।
“ নিকাব সরাবো মানে? ”
“ বাংলা বুঝো না? নিকাব সরাও ফেস দেখবো তোমার। আমি দেখি নি তোমাকে। সেদিন তৃষ্ণা বাড়িয়েছো। আজ আমাকে দেখতেই হবে তোমার চেহারা…কি হলো সরাও নিকাব। ”
কথাটা বলে সামির মেহরিনের নিকাব ধরতে নিলে মেহরিন এবার আর ডানে বামে না তাকিয়ে সোজা সামিরের গালে সজোরে একটা চ’ড় বসিয়ে দিলো। রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল-
“ আপনি অভদ্র সেটা প্রথম দিনই টের পেয়েছি। কিন্তু আপনি যে এতটা অভদ্র + অসভ্য সেটা এখন জানলাম। এই ভুল টা যেন দ্বিতীয় বার করতে না দেখি। আপনার এসব নোংরা বিহেভিয়ার আমি একদমই টলারেট করবো না বলে রাখছি। হাত একদম কে’টে রেখে দিব আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করলে। ”
করিডরে থাকা ছেলে মেয়ে গুলো হা করে তাকিয়ে আছে। তারা বিশ্বাস ই করতে পারছে না দু’দিন ধরে আসা একটা মেয়ে সামিরের গালে চড় মেরেছে! মেহরিন চলে গেল। সামির গালে হাত দিয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো। সামির কে মেরেছে এই মেয়ে! এত দেমাগ এই মেয়ের! দেখে নিবে। এর ফেস তো সামির দেখেই ছাড়বে। আর সেটাও ভীষণ বাজে ভাবে।
সামির আশেপাশে তাকালো রাগী চোখে। সবাই ভয় পেয়ে চলে গেলো ।
মেহরিন রাগে কাঁপতে কাঁপতে কলেজের গেটের কাছে আসলো। সে কিছুতেই রাগ কন্ট্রোল করতে পারছে না। এই প্রথমবার সে কারো গালে চ’ড় বসালো। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন সে কখনই হয় নি। বিরক্তির সহিত সামনে তাকাতেই দেখলো সোলেমান দাঁড়িয়ে আছে গাড়িতে হেলান দিয়ে। মুখে মাস্ক। মেহরিন কোনো কথা না বলে সোজা গাড়িতে গিয়ে বসলো। সোলেমান একটু না বেশ অনেকটাই অবাক হলো। কারন মেহরিন এগিয়ে এসে সর্বপ্রথম আগে তাকে সালাম দেয়। আজ সালাম তো দূর ফিরেও তাকালো না। সোজা গাড়িতে গিয়ে বসলো!
সোলেমান গাড়িতে বসে বলল-
“ আর ইউ ওকে? ”
মেহরিনের শরীর ঘামছে। গরমে হাসফাস করতে লাগলো। এক টানে মুখের উপর থেকে নিকাব টা সরালো। ফর্সা মুখটা মাত্রাতিরিক্ত রাগে লাল হয়ে গেছে। চোখ জ্বলছে। সোলেমানের স্বাভাবিক লাগলো না মেহরিন কে। পানির বোতল এগিয়ে দিলো। মেহরিন মুখে পানি ঝাপটা দিয়ে পানি খেলো। তারপর সিটে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করলো। না শান্তি পাচ্ছে না। ঘটনাটা বারবার চোখের সামনে ভাসছে। চোখ মেলে তাকালো মেহরিন সোলেমানের দিকে। দেখলো সোলেমান তাকিয়ে আছে তার দিকে। মেহরিন গম্ভীর গলায় বলল-
“ গাড়ি স্টার্ট কেনো দিচ্ছেন না ? কোনো সমস্যা? ”
সোলেমান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল-
“ কলেজে কিছু হয়েছে? কেউ কিছু বলেছে? ”
মেহরিন নিশ্চুপ। সোলেমান ফের বলল-
“ আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি মেহরিন। উত্তর দাও। ”
“ আমার ভালো লাগছে না। মাথা ব্যথা করছে। ”
সোলেমান বেশ বুঝলো মেহরিন এড়িয়ে গেছে কথাটা। সোলেমান মেহরিন কে নিবাসে নামিয়ে দিয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল কে কল করে বলল- কলেজের সিসিটিভির ফুটেজ পাঠাতে। তার বউয়ের রাগের কারন তাকে জানতে হবে। প্রিন্সিপাল ঘন্টাখানেকর মধ্যে পাঠালো আজকের ফুটেজ টা। সোলেমান গাড়িতে বসেই ল্যাপটপে পেনড্রাইভ টা ঢুকিয়ে দেখতে লাগলো। মেহরিন ক্লাসে ঢোকার আগে দেখেছে একটা ছেলেকে সিগারেট খেতে আর একটা মেয়ে সেই সিগারেট লাইটার দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। এটার জন্য কি তার বউ রেগে আছে? সোলেমান ছুটির সময়কার ফুটেজ দেখতে লাগলো। মেহরিন হেঁটে যাচ্ছিল করিডর দিয়ে। এমন সময় দুটো ছেলেকে তার সামনে দাঁড়াতে দেখে সোলেমানের কপাল কুঁচকে আসলো। সামনে এসে দাঁড়ালো কেনো? কে এই ছেলে দুটো। মেহরিন পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে কিন্তু দুজনের মধ্যে থাকা একটা ছেলে মেহরিনের পিছু নিলো। তাদের কথোপকথন সব শুনলো সোলেমান। যখন ছেলেটা মেহরিনের নিকাব ধরে টান দিয়েছে তখন সোলেমানের শরীর রাগে কিড়মিড় করতে লাগলো। বিশ্রী ভাষায় বকা দিলো সোলেমান- ব্লা’ডি বিচ। তারপর যখন ফের মুখ দেখার জন্য নিকাব ধরতে গেলো আর মেহরিন চ’ড় মেরে দিলো তখন সোলেমানের মুখে কিঞ্চিৎ হাসি দেখা গেলো। বিরবির করে বলল- “ মাই লেডি সাব্বাশ । ”
তবে এই চড় অব্দি বিষয় টা থেমে থাকলে তো চলবে না। সোলেমান কিছু করবে না এ আবার হয় নাকি? এত শখ নওয়াজ সোলেমান সুলতানের বউয়ের মুখ দেখার। ওয়াও ১০০ হাতের কলিজা দেখছি এই ছেলের! ওকে ফাইন,সোলেমান মেপে দেখতে চায় এই কলিজা টা। আর দেখতে চায় হাতের মাপ টা। ঠিক কত ইঞ্চি। যেই হাত এত সহজে মেহরিনের নিকাব অব্দি চলে গেলো।
সোলেমান প্রিন্সিপাল কে ছেলেটার ছবি পাঠিয়ে বলল-
“ ছেলেটার সম্পর্কে এ টু জেট তথ্য আমার চাই। আর সেটাও ১০ মিনিটের মধ্যে। ”
প্রিন্সিপাল সব তথ্য পাঠিয়ে দিলো। নাম সামির,পিতার নাম মোহাম্মদ মহসিন আলী। সোলেমানের চিনতে একটুও অসুবিধে হলে না এই মহসিন আলী কে। তার ছেলে এই সামির!
সোলেমান কাউকে একটা ফোন করলো। সামিরের ছবিটা পাঠিয়ে দিয়ে বলল-
“ মহসিন আলীর এই ছেলেটাকে আমার চাই। আর সেটা আজ রাতের মধ্যেই। কিভাবে আনবে আমি তা জানি না। বাট আমার তাকে লাগবে। ”
বাশার সুলতান ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলো। মহসিন আলীর ছেলে আবার কি করলো? ভাইস্তা যখন বলেছে তখন তো ধরে আনতেই হবে। বাশার সুলতান লোক পাঠালো এই ছেলেকে ধরে আনার জন্য।
সামির আজ প্রচণ্ড রাগ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রেমা তখন ছাঁদে ছিলো। জামাকাপড় শুকাতে দিতে গিয়েছিল। আকস্মিক নিচ থেকে সামিরের গলার আওয়াজ শুনে তড়িঘড়ি করে নিচে নামে। সামির প্রেমা কে দেখে রেগে বলল-
“ কোথায় ছিলে? আসতে এত সময় লাগে? পানি দাও। ”
প্রেমা পাশে তাকালো। সামিরের হাতের কাছেই জগ আর গ্লাস। চাইলেই নিয়ে খেতে পারতো। কিন্তু না নবাবজাদার তো প্রেমা কে খাটাতে হবে। প্রেমা তো ওদের বাপ ভাইদের দাসী। প্রেমা বিরক্তির সহিত বলল-
“ পানি তো আমার পাশেই আছে,চাইলেই তো নিয়ে নিতে পারো। আমাকে তো এভাবে ডাকার প্রয়োজন ছিলো না। ”
একে তো মেহরিনের হাতে চড় খেয়েছে সামির,তার উপর প্রেমার এমন কথায় মনে হলো শরীরে যেন কেউ গরম তেল ঢেলে দিলো। বসা থেকে উঠে পানির জগ টা থাবা দিয়ে ধরে ফ্লোরে ছুঁড়ে মারলো। কাঁচের জগ টা সাথে সাথে কয়েক টুকরোয় বিভক্ত হলো। কিছু টুকরো গিয়ে ছিটকে পড়লো প্রেমার পায়ে। সাথে সাথে পায়ের চামড়া ভেদ করে বিঁধে গেল। গলগল করে র’ক্ত পড়তে লাগলো। ব্যথায় মৃদু শব্দ করে পা চেপে বসে পড়লো প্রেমা। এই ছিন্নভিন্ন শরীরে এত রক্ত আছে এখনো! সামির প্রেমা কে কাতরাতে দেখে বিরক্তের সহিত বলল-
“ একদম নাটক করবে না নাটকবাজ মহিলা। আমার সামনে থেকে সরো। তা না হলে এই গ্লাস আমি তোমার মাথায় ভাঙবো। ”
প্রেমা ফ্লোরে থাকা কাঁচের অংশ গুলো উঠাতে লাগলো। যাহ্ উঠাতে গিয়েও হাত কে’টে গেল! পৃথিবীর সব খারাপ ঘটনা বোধহয় প্রেমার জন্যই লিখে রাখা হয়েছে। যা প্রেমা তুই সুখ ডিজার্ভ করিস না। সুখরা বোধহয় তোকে দেখে নাক ছিটকায়। প্রেমা কাঁচের অংশ গুলো ময়লার ঝুড়ি তে ফেলে খোঁড়াতে খোঁড়াতে চলে আসলো রুমে। ছিটকে এসে কাঁচের টুকরো গুলো পায়ে পড়ায় একদম গভীর ভাবে গেঁথে গেছে। চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে প্রেমার। এই চোটেও যদি এখনও তোর চোখ দিয়ে জল পড়ে প্রেমা তাহলে হয় কি করে? এর চেয়েও তো গভীর চোট তুই পেয়েছিস জীবনে। প্রেমা এক এক করে পায়ের ভেতর থেকে কাঁচের অংশ গুলো বের করলো। এমন এক বাড়ি যেখানে ফাস্টএইড বক্স রাখা হয় না। হাত পুড়লে কেটে গেলে প্রেমা কে হয় কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতে হয় না হলে টুথপেষ্ট মাখিয়ে রাখতে হয়। প্রেমা পা টা ঠান্ডা জল দিয়ে ধুলো। তারপরও রক্ত বের হচ্ছে। কি আশ্চর্য এই শরীরে এত রক্ত এখনও কি করে থাকতে পারে? শুকিয়ে যাওয়ার কথা তো। প্রেমা ধীর পায়ে বিছানায় বসে পড়নের ওড়নার এক প্রান্ত ছিঁড়ে পায়ের তিন জায়গায় বেঁধে নিলো। এখনই হাঁটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে তাহলে একটু পর প্রেমা কি করবে? শেখর বাড়িতে আসলে এই পা নিয়ে হাঁটবে কি করে? এখনও রাতের রান্না হয় নি। প্রেমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো। না এই পা নিয়ে বসে থাকা যাবে না। তীব্র ব্যথা হওয়ার আগেই সব কাজকর্ম শেষ করতে হবে। প্রেমা আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান্না ঘরে এসে রাতের রান্না করতে লাগলো।
সামির রেগে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে ধানমন্ডি লেকে। দু’জন ফ্রেন্ড কে কল করে আসতে বললো। মেহরিন তাবাসসুম কে সে কিছুতেই ছাড়বে না। এই সামিরের গায়ে হাত তুলে রাজউক কলেজে সে টিকতে পারবে? সামির টিকতে দিবে? একদমই টিকতে দিবে না। খুব বাজে অবস্থা করে ছাড়বে মেহরিনের। আর সেটাও কলেজের সকলের সামনে। সামির বেঞ্চে বসলো। আজ তেমন কেউ নেই লেকে। ভালোই হয়েছে। বন্ধু দের বলেছে ওয়াইন আনতে। খেতে পারবে। কথা গুলো ভেবে একটু স্বস্তি পেলো সামির। ঠিক সেই সময় ক’জন ছেলে এসে সামির কে ঘিরে ধরলো। হাত পা ধরে চ্যাং-দোলা করে গাড়িতে উঠালো। ঘটনা টা এত তাড়াতাড়ি হলো যে সামির তৎক্ষনাৎ বুঝতেই পারলো না। যখন বুঝলো তখন আর কিছুই করতে পারলো না।
নিবাসের বাগানে দাঁড়িয়ে সোলেমান ইয়াসিন কে বকে চলছে। ইয়াসিনের আসার কথা ছিলো বাতাসি কে নিয়ে, কিন্তু বাতাসি কোথায়? একেই সোলেমান ফাহাদের হ’ত্যার ঘটনায় চাচা জড়িত বলে রাগে তার শরীর কিড়মিড় করে সবসময় সেখানে ইয়াসিন আবার এমন করছে শুনে আরো রাগ হচ্ছে। সোলেমান কফির মগ ফেলে দিয়ে বলল-
“ সমস্যা কি তোর? তোর মা আমাকে বলেছে বাতাসি কে দেখে রাখতে। আমি তাকে বলেছি আমি দেখবো বাতাসি কে। সেখানে তুই কি করে বাতাসি কে চট্টগ্রাম রেখে আসলি? কমনসেন্স নেই মাথায় তোর? খালার কানে কথা টা গেলে তার খারাপ লাগবে না? ”
ইয়াসিন বিরক্ত হলো সোলেমানের উপর। তবে বুঝতে দিলো না। শুধু বলল-
“ এমনি রেখে আসছি ভাই,কদিন নিজ বাড়িতে থাকুক। পরে গিয়ে নিয়ে আসবো। ”
“ সেই পরে টা কবে? ”
“ বউ তো আমার ভাই,আমাকেই ভাবতে দেন। আপনি প্লিজ এই বিষয়ে কথা বইলেন না। আপনার লাইগাই আমার এই অবস্থা। আপনার কথাতেই আমি চট্টগ্রাম গেছি বইলা আমার জীবন টা এভাবে শেষ হইলো। আপনি দায়ী এর জন্য। আমার বিষয় আমার বউ আমি কি করমু না করমু সেটা আমার বিষয়। যখন মন চাইবো তখন নিয়া আসমু। ”
সোলেমান জাস্ট স্পিচলেস হয়ে গেলো ইয়াসিনের এই ধারার কথা শুনে। সোলেমান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আঙুল দেখিয়ে বলল-
“ যা যা দূর হ। বাড়ি যা। আমার চোখের সামনে থেকে সর। আগামী এক সপ্তাহ যেন আমার চোখের সামনে তোকে না দেখি। ভুলেও আসবি না বলে রাখলাম। বাতাসি কে তুই ডিভোর্স দিবি তাই তো? যা দিয়ে দে। ঐ মেয়েটাও মুক্তি পাবে তোর থেকে। ওর পেছনে সামনে আমি নওয়াজ সোলেমান সুলতান আছি। যা ছেড়ে দে। ”
ইয়াসিন চলে গেল। সোলেমান হাত ঘড়িতে সময় দেখে বেরিয়ে গেল গোডাউনের উদ্দেশ্যে।
সামির কে চেয়ারে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এক চুল পরিমান ও নড়তে পারছে না। বারবার চিৎকার করে বলছে -কেনো ধরে নিয়ে এসেছে তাকে? আর কারা তারা? তার বাপ ভাই কিন্তু ছেড়ে দিবে না তাদের। ”
সোলেমান গোডাউনে পা রাখতেই শুনতে পেলো চিৎকার-চেঁচামেচি। বিরক্তির সহিত বলল-
“ ও এখনো চিৎকার করছে কি করে? ”
বাশার সুলতান এগিয়ে আসলো।
“ ছেলেটা কি করেছে? একেই তো সাপে নেউলে সম্পর্ক আমাদের। এখন এটার সাথে কিছু করলে তো সব দোষ আমাদের উপরে এসে পড়বে। ”
“ তো? ”
“ তো মানে? আমাদের জেল হাজত হবে না? ”
“ তোমার নিশ্চয়ই হবে। এখন সরো সামনে থেকে। তুলে এনে পূজো করছিলে নাকি তার? কথা ছিলো আমি গোডাউনে আসলে ওর আর্তনাদ শুনতে পাবো। কিন্তু না এসে শুনতে হচ্ছে ও ওর বাপ ভাইদের নিয়ে থ্রেট দিচ্ছে! একদম জানপ মে’রে রেখে দিব কু’ত্তার বাচ্চা কে। শরীরে আ’গুন ধরিয়ে দিছে আমার। ”
সোলেমান ভেতরে চলে গেলো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন কালো পোশাকধারী লোক সোলেমান কে সালাম দিলো। সোলেমান জবাব না দিয়ে সোজা সামিরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সামির তার সামনে কাউকে এসে দাঁড়াতে দেখে মাথা তুলে সোলেমান সুলতান কে দেখে চমকে উঠলো। এটা তো তার বাপ ভাইদের শত্রু। এটা কেনো তাকে তুলে নিয়ে এসেছে?
সোলেমান চেয়ারে পা তুলে বসলো। তারপর গম্ভীর শক্ত গলায় বলল-
“ তোর খুব শখ আমার বউয়ের মুখ দেখার? ”
সামির বুঝলো না। সে কখন তার বউয়ের মুখ দেখতে চাইলো?
“ আমার কি খেয়েদেয়ে কাজ নেই আপনার বউয়ের মুখ দেখতে চাইবো? আর আমাকে তুলে এনেছেন কেনো? খুলে দিন বাঁধন সাহস থাকলে।”
সোলেমান হো হো করে হাসলো। এই পুচকু ছেলেকে সোলেমান ভয় পায়? ওকে ফাইন, সোলেমান গার্ড দের বললো বাঁধন খুলে দিতে। তারা তাই করলো। বাঁধন খুলে দিলে সামির যেন বাঘ থেকে সিংহ হয়ে গেল। সোলেমান গলা চেপে ধরে দেওয়ালের সাথে লাগিয়ে বলল-
“ তোর মতো চুনোপুঁটি কে বেঁধে শায়েস্তা করবো না আমি। মুক্ত রেখেই করবো। বল কোথা থেকে শুরু করবো? আমার বউয়ের চলার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য নাকি নিকাব টেনে ধরার জন্য? নাকি টানা দশ মিনিট আমার বউয়ের সামনে থাকার জন্য, নাকি আমার বউয়ের মুখ দেখতে চাওয়ার নিষিদ্ধ আবদার করার জন্য? বল বল কোনটার হিসাব আগে নিব? ”
সামির ভ্রু কুঁচকালো। মেহরিন তাবাসসুম সোলেমান সুলতানের বউ! আগে জানলে তো তাহলে আজ মুখ টা দেখেই ছাড়তো। ইশ! কত বড় সুযোগ হাতছাড়া করে ফেললো সামির।
সোলেমান গলা ছেড়ে সামিরের ডান হাত ধরে বলল-
“ এই হাত দিয়ে ধরেছিলি নিকাব টা তাই না? চাচা নিয়ে আসো তো ওটা। ”
বাশার সুলতান ব্লেন্ডার টা নিয়ে আসলো। একজন এসে সুইচে লাগিয়ে দিলো তাড় টা। সোলেমান শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে আসলো। সামিরের চোখ মুখে ভয় নেই। তবে রাগ স্পষ্ট। হুংকার দিয়ে বলল-
“ আমি যদি বাই এনি চান্স এখান থেকে জীবিত ফিরি তাহলে আপনার খবর আছে। ”
যদিও সোলেমান জীবিত ছাড়তো না তবে এখন জীবিত ছাড়বে সে সামির কে। দেখবে ওর বাপ ভাই ওর কোন বা’ল ছিঁড়তে পারে।
“ তোকে সামির আমি জীবিত ছাড়বো। যা দেখি তোর বাপ ভাই আমার কি করতে পারে। এখন তোর তো আমি কিছু করে নেই। বউয়ের কাজ বউ করেছে। এখন স্বামী হিসেবে আমার দায়িত্ব আমি পালন করবো। ”
কথাটা বলেই সোলেমান ব্লেন্ডারে সামিরের বাম হাত টা চেপে ধরে সুইচ অন করে দিলো। সাথে সাথে সামিরের হাত টা ছিন্নভিন্ন হতে লাগলো। সামির আকাশ-পাতাল এক করে চিৎকার করতে লাগলো। মনে হচ্ছে তার হাতটা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ব্লেন্ডারের জগ টা র’ক্তে হাতের মাংসে ভরে গেলো। হাতের মাংস গুলো কিমার মতো হয়ে গেছে। হাতে আর অবশিষ্ট নেই মাংস, যা আছে তা হলো হাড়। সেই হাড় গুলোও এবার ব্লেন্ডারের ব্লেটে ভাঙতে লাগলো। সামির ছটফট করতে লাগলো। কিন্তু সোলেমানের বলিষ্ঠ দেহের শক্তির কাছে তা তুচ্ছ হয়ে গেলো। সোলেমান বাম হাতের হাড়গোড় ভেঙ্গে খ্যান্ত হলো না। সে এবার ডান হাতের দিকে চোখ বাড়ালো। সামির বুঝতে পেরে ডান হাত পেছনে লুকালো। সোলেমান ডান হাত টেনে সেটাও ব্লেন্ডারে চেপে ধরলো। এবার এই হাত টা বাম হাতের চেয়েও বেশি ব্লেন্ড হতে লাগলো। এই হাত দিয়েই তো ধরেছিল নিকাব। হাতের আঙুলে একটা হাড় ও সোলেমান রাখে নি। আঙুল সব হাত থেকে আলাদা হয়ে গেছে। এরচেয়ে সহজ একটা মৃত্যু দিলে হয়তো সামির মু’ক্তি পেয়ে যেত। কিন্তু সোলেমান তা দিবে না। মৃত্যু কখনই সাজা হতে পারে না। সামির পাগলের মতো ছটফট করছে। সোলেমান পুরো হাত টা ক্ষয় করে তারপরই ছাড়লো। সামির ফ্লোরে বসে পড়লো। দু হাতের যন্ত্রণায় পাগলের মতো কাতরাতে লাগলো। র’ক্তে ফ্লোর ভিজে গেছে। সোলেমান ব্লেন্ডারে থাকা হাতের কিমা হাড়গোড় গুলো দেখে বলল-
“ না খাইয়ে রাখবি। যখন ক্ষিদে লাগবে খাবারের জন্য আহাজারি করবে তখন ওর এই হাতের মাংস দিয়ে পকোড়া বানিয়ে সেটা খেতে দিবি। নিজের শরীরের মাংস নিজে খাবে ক্ষুধা মিটাতে। এখন চেয়ারে বেঁধে রাখ। ”
সোলেমান ওয়াশরুমে গিয়ে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ভালো করে ধুলো। শার্টে র’ক্তের দাগ দেখে সেটা খুলে ফেলে পুড়িয়ে ফেললো। গার্ড এসে নতুন সেম ডিজাইনের একটা শার্ট দিলো। সোলেমান সেটা গায়ে জড়িয়ে চলে গেলো।
এজওয়ান শুনেছে ভাইজান কাউকে গোডাউনে ধরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু কেনো নিয়ে এসেছে তা জানে না। এজওয়ান ভাবলো এবারও হয়তো ছেলেটার টুনটুনি কাটা হবে। সেই কথা ভেবেই এজওয়ান আসে গোডাউনে। তবে ছেলেটার এমন বাজে অবস্থা দেখে এগিয়ে গিয়ে প্যান্ট চেক করে বলল-
“ আব্বা ভাইজান টুনটুনি কাটে নাই? ”
“ না হাত কাটছে। ”
“ কি করছিলো এই শুয়োরের বাচ্চা? ”
বাশার সুলতান সবটা সামারি করে বলল। সবটা শুনে এজওয়ানের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেল। কত বড় সাহস সুলতান বাড়ির বউয়ের সাথে এমন ব্যবহার।
“ আব্বা আমি ওর টুনটুনি কাটবো। ”
“ কাটার হলে সোলেমানই কাটতো। তুই আগ বাড়িয়ে কিছু করিস না। ”
“ তাহলে আমি এজওয়ান কিছুই করবো না? না এটা মানতে পারছি না। কিছু তো একটা করতেই হবে। ”
তখনই ছেলেটা যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে পানি চাইলো। এজওয়ানের মাথায় একটা শয়তানি চিন্তা আসলো। এজওয়ান একটা ইনোসেন্ট ফেস নিয়ে বাশার সুলতানের দিকে তাকিয়ে বলল-
-” আব্বা আমার মু’তা ধরছে।
বাশার সুলতান হুট করে এমন এক পরিস্থিতিতে ছেলের মুখে এমন কথা শুনে আশ্চর্য না হয়ে পারলো না। পরক্ষণেই মনে পড়লো এটা এজওয়ান। এটার দ্বারা সব সম্ভব। বাশার সুলতান তপ্ত শ্বাস ফেলে নির্নিমেষ চোখে চেয়ে রইলো এজওয়ানের দিকে। বুক ফেটে তার বলতে ইচ্ছে করলো-
-” আয় বাবা আয়, আমার কোলে উঠে মু’তে দে।
কিন্তু বললো না। তাদের সামনেই হাত-পা বাঁধা চেয়ারে বসানো সামির । হাত দিয়ে এখনও গলগল করে র’ক্ত ঝড়ছে৷ বাশার সুলতান ভাবতে লাগলেন। তাদের বংশের এই ছেলে দুটো সব লেভেল ক্রস করে ফেলা। একটু আগেই সোলেমান দু হাত ব্লেন্ডারে চেপে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। সামির সোলেমানের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছিল৷ সেজন্য সেই হাতটাই সোলেমান নষ্ট করে ফেলেছে৷ এজওয়ান হলে নিশ্চয়ই নিজ হাতে জ’বাই দিয়ে তৃতির সহিত শরীরের প্রতিটি অংশ টুকরে টুকরো মাংসের সাইজে কে’টে খিচুড়ি রেঁধে কু’ত্তাদের খাওয়াতো। কিন্তু সোলেমান তো আর এজওয়ান না। তার এত সময় নেই। সে এক কোপে কাজ শেষ করে সময় বাঁচিয়ে রাখে। এমন ভাবে করবে যে মরবে না তবে শান্তি মতো বাঁচতেও পারবে না।
এজওয়ান বাশার সুলতান কে থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল-
-” কি হলো আব্বা৷ কথা কও। কি করমু? মু’তা ধরছে তো।
-” বে’য়াদব মু’তা কি হু? ভদ্র ভাষায় বলা যায় না প্রস্রাব আসছে।
-” ভদ্র ভাষা ভদ্র লোকদের জন্য আব্বা ৷ আমি তো অভদ্র।
-” এক কোনায় গিয়ে মু’তে আয়।
এদিকে সামিরও পানি পানি করছে। এজওয়ানের মায়া হলো। একটা মানুষ পানির তৃষ্ণায় ধুঁকছে আর এজওয়ান নির্দয় হয়ে সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে! তার মনুষ্যত্ব কি বানের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে নাকি? একজন সোচ্চার নাগরিক হিসেবে তার দায়িত্ব তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি কে সাহায্য করা। সেজন্য এজওয়ান বলল-
-” কোনো কোনায় টোনায় যেতে পারবো না। পেছন ফিরো আমি ওর মুখেই মু’তে দিব। ওর ভীষণ পানি তেষ্টা পেয়েছে। আমি অমানুষ নই,মানুষ। আমি সাহায্য করতে ভালোবাসি। আমার এই সাহায্য মনে থাকবে শালার ব্যাটার। সুলতান বাড়ির দিকে হাত বা’ড়ানোর পরিনতি আসলে কেমন হয়। এতক্ষণ ভাই করেছে এর সাথে এবার আমি করবো আমার উপায়ে। যতদিন বাঁচবে ততদিনই মনে পড়বে ওর এই খা’টাশ মার্কা মুখে এজওয়ান সুলতান মু’তে দিয়েছে।
কথাটা বলেই এজওয়ান চেনটা খুলে যা অকাম করার তা করা শুরু করলো। বাশার সুলতান পেছন ফিরে বলল-
দাহশয্যা পর্ব ৭৯
-” হারামজাদা জা’ইঙ্গা পিন্দস না? যেনে সেনে খালি চেন খুলে আকাম সেরে ফেলস।
এজওয়ান এক নজর বাশার সুলতানের দিকে তাকিয়ে তারপর তার কাজে মনোযোগ দিয়ে বলল-
-” তোমার বউমা জা’ইঙ্গা ধুঁয়ে দেয় না সেজন্য পিন্দি না৷ ধুঁয়ে দিলে অবশ্যই পড়তাম। ”
সামিরের মুখে প্রস্রাব পড়ার সাথে সাথে মুখের ভেতরও তা প্রবেশ করলো। পানির বদলে সামির পেলো এজওয়ান সুলতানের দেওয়া প্রস্রাব। যার কিছু অংশ মুখ দিয়ে পেটে চালান হয়ে গেলো অনায়াসে।
